S M Ruhul Amin
Writter
"মনুষ্য-কীট"
একবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে প্রমাণ করো তুমি যোগ্য প্রেমিক! তুমি মানুষ! জানি পারবে না। কারণ তোমার দানব-উদরে বন্য কুত্তার বুভুক্ষু-ক্ষুধা! তোমার শকুনি চোখে গো-ভাগাড়ের গলিত লাশের ছবি! তোমার অন্তরে ঈর্ষা-দাবানলের লেলিহান শিস! তোমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাসুকির কালবিষ! একবার নিঃস্বার্থ ভালোবেসে প্রমাণ করো তুমি মানবতার দুশমন নও! জানি পারবে না। কারণ তোমার জন্ম হয়েছে পাশবিক কাম-উন্মাদ চৈতন্য হীন প্রাণীর নোংরামি থেকে। যার গন্ধে মানবতার আকাশ-বাতাস পাহাড়-নদী আজ উঠেছে বিষিয়ে! তোমার ভোগবিলাসীতার দানব থাবায় সর্বশান্ত প্রাণীকুল! ফুটপাতে ক্ষুধার্ত শিশুটি বলে খাদ্য চাই, বৃদ্ধ বলে বস্ত্র চাই, পীড়িত বলে ঔষধ চাই, পথচারী বলে ঠাঁই চাই,বেকার বলে কর্ম চাই, মজলুম বলে বিচার চাই, বঞ্চিত বলে অধিকার চাই,এরা সবাই বলে আমরা বাঁচতে চাই, আমরা বাঁচতে চাই!! কই! পেরেছ কি হাজারও হতাশার মুক্তি দিতে এই সমাজের কাজে নিঃস্বার্থে পৌঁছে দিতে কোনো আশার বাণী? জানি পারবে না। কারণ তুমি মানুষ নও। জাগতিক স্বার্থের মোহে লালায়িত মানব অবয়বের মনুষ্য-কীট!!
-----রুহুল আমিন
কবিতা;"অবুঝ কলম"......................................
কী যে কখন লিখি আমি
কিছুই বুঝিনা তার,
সবাই ভাবে খামাখা আমি
পিছে লাগি সবার।
আমি বলি বৃথাই শুধু
করছ মোরে দোষী,
আমি চলি আমার পথে
কারো নাহি পুছি।
আপন সুরে গাহি গান
নিজের তালে নাচি,
অকারণে লাগবো কেন
অন্যের পিছে যাচি?
স্মৃতির পাতায় যা খুঁজে পাই
কলমে লিখে যাই,
তোমরা বন্ধু মিছেই দোষী
করো না গো আর তাই।
--রুহুল আমিন
১৪/১২/২০২১ইং
; "মাটির বিছানা"
যেতে হবে বহুদূর মাঠঘাট পেরিয়ে তেপান্তরের গাঁয়ে।
পৌষের কনকনে শীত কুয়াশায় ঢেকে আছে সূর্য দেবতা।
থেমে নেই ঘড়ির কাটা দিনটাও প্রায় শেষ হয়ে আসছে ।
তড়িঘড়ি বেরিয়ে পড়লাম শহর থেকে গাঁয়ের পথে।
ব্যাগ কাঁধে পায়ে হেঁটে চলেছি ধূলিধূসর মেঠোপথ বেয়ে।
উন্মুক্ত-খোলা প্রান্তরে অবাধে বইছে উত্তরে হিমেল হাওয়া।
রাস্তার দু'ধারে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে সবুজ বৃক্ষরাজি।
শীতল বাতাসে দুলছে লকলকে ফসলের হরিৎ কিশালয়।
মাঝে মধ্যে বইছে ধুম্র কুহেলির আদ্র ঢেউ-তরঙ্গ।
লতা-পাতার চোখ বেয়ে ঝরছে কুয়াশার অশ্রু ধারা।
শিশিরাসিক্ত দুর্বাডগায় যেন সহস্র মুক্তার সমাহার।
দূর আকাশের শূন্যতায় ঝাঁক বেঁধে উড়ছে মুক্ত বলাকা।
ফিরছে নীড়ের ঠিকানায় বুঝি এখনি সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসবে।
আমি এসে পৌঁছালাম শিমুলতলী গ্রামের কাছে।
এক সময় এখানে ঘন ঝোপঝাড়-বনজঙ্গলে আঁটা ছিল।
সময়ের বিবর্তনে আজ গড়ে উঠেছে মানুষের বসতি।
বয়োজ্যেষ্ঠরা বলতেন প্রায় রাতে এখানে ভূত দ্যাখা যেত।
কখনো কখনো বেরিয়ে আসত হিংস্র জন্তু জানোয়ারও।
আজ এখানে আগের মতো তেমন ভিতি না থাকলেও।
রাত হলে বেশ গা ছমছম করে পথচারী মানুষদের।
দ্রত হেঁটে এ স্থান ত্যাগ করাই মঙ্গল হবে আমার জন্য।
এই ভেবে আরো একটু জোর কদমে হাঁটতে লাগলাম।
এরই মাঝে গোধূলি সায়াহ্নে মাথা গুঁজলো শ্রান্ত দিবাকর।
সান্ধ্য প্রহরী পক্ষিরা কলরোলে জানিয়ে দিল সাঁঝের বার্তা।
ক্রোমোশ অন্ধকার হতে লাগল চতুর্দিকে। নির্জন প্রকৃতি
কোথাও নেই কোনো মানুষের সমাগম আমি একা পথচারী।
দেখতে দেখতে ঘন কালো আঁধারে ঢেকে গেল চারিধার।
চিচি গানের লাহোর তুললো ঝোপের ঝিঁঝি পোকার দল।
বাঁশ পাতার ফাঁকে জ্বলছে মিটমিট জোনাকির আলো।
স্বদলবলে হুক্কাহুয়া হাঁক জুড়ে বেরিয়ে আসছে ধূর্ত শিয়াল।
ছমছমে পরিবেশ খরগোশের মতো দুরুদুরু কাঁপছে বুক।
শিহরিত সর্বাঙ্গ তনু-মন দেহের প্রতিটি শিরা-উপশিরা।
হঠাৎ কানে ভেসে এল নুপুরের ছন্দ কে যেন আসছে।
কোনো মায়াবতি পরী কিম্বা হবে কোনো ভূতপ্রেত।
থমকে দাঁড়িয়ে গেল চরণ যুগোল প্রায় অর্ধমুর্ছা চৈতন্য।
কিয়াৎক্ষণ ঘোর মৌনতায় চাইতে লাগলাম এদিক ওদিক।
ততক্ষণে মাধুরি প্রায় আমার সন্যিকোটেই এসে গেছে। মাধুরি আমাদের পাশের গ্রাম শান্তি পুরের মেয়ে।
এদিক দিয়ে গেলে শান্তিপুর রেখেই আসে আমাদের গাঁ।
কৈশোরে তাঁর সাথে আমার কয়েকবার দেখাও হয়েছে।
তবে কখনো কোনদিন কথা হয়নি একান্ত কাছ থেকে।
গত হয়েেছে কিছু বছর আজ সে সুন্দরী ষোড়শী তরণী।
একি পথ ধরে বাড়ি ফিরছিলাম দুজনে একটু আগেপিছে।
আমি তাঁকে না দেখলেও সে আমায় দেখেছিল দূর থেকে।
সেটা ভর করে সানন্দেই হাঁটছিল কিছু পথ ফাঁকা রেখে।
হয়ত তার মনেও ভিতির দানা বেঁধেছিল নারী-সতীত্বের।
ঘুটঘুটে অন্ধকার সামনে দাঁড়িয়ে আগন্তুক সুন্দরী নারী।
পূর্ণিমা চাঁদের মতো ঝলকানি চেহারা মায়ামৃগ নয়ন।
গোলাপি দুটি ওষ্ঠপুট এলিয়ে আছে একরাশ কেশরাজি।
পরনে নীল রঙের কামিস বক্ষে জড়ানো লাল ওড়না।
আমার থেকে একটু দুরত্বে সে থামিয়ে নিল নিজেকে।
বুকে সাহস নিয়ে মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করেই বসলাম।
"কে তুমি নারী? আর এই অন্ধকারে এখানেই বা কেন?"
আমার কথায় সে যেন নিজের নিরাপত্তার আভাস পেল।
সে নিজের পরিচয় দিয়ে আমার পরিচয় জানতে চাইল।
নিমিষেই দুর হলো দুজনার পথের সকল ভয়ভীতি।
সহাস্যে বললাম হয়েছে চলো এবার নির্ভয়ে বাড়ি ফিরি।
সানন্দে গল্পে মেতে হাঁটতে লাগলাম দুজনে বাড়ির পথে।
শীতের তীব্রতাও যেন অনেকখানিই বেড়ে গেছে।
মাঝে মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠছে মাধুরি আমায় লক্ষ্য করে
বললো"শুনুন, আপনার ব্যাগে কোনো গরম বসন আছে?
পরশু থেকে একটু একটু জ্বর হচ্ছিল ঔষধও খেয়েছি।
বিশেষ উপকার না পেয়ে বাড়িতে যাচ্ছি মায়ের কাছে।
অনেকদিন মাকে দেখিনা তাই হয়ত এমন হচ্ছে কি না।"
তাৎক্ষণিক ব্যাগ খুলে কম্বলটি তার গায়ে পেচিয়ে দিলাম।
গতকাল সেটি কিনেছিলাম ছোট্ট বোনটিকে দেবো বলে।
মনটা ভারি হয়ে এল আমার মাধুরির গায়ের জ্বর দেখে।
দুজন দুজনার পারিবারিক কুশলাদি জানতে লাগলাম।
বিভিন্ন আলাপনের মাঝে অজান্তেই ফুরিয়ে এল পথরেখা।
এসে পৌঁছালাম শান্তিপুরে মাধুরিদের সদরদরজায়।
বাড়ির কাউকে ডাকার আগেই সে আমার হাতটা ধরে।
কম্পিত কণ্ঠে মৃদু স্বরে বললো "অন্ধকার রাত নির্জন পথ।
একটা যুবতী মেয়কে একা পেয়ও যে শালীনতা রাখলেন।
আমি অজান্তেই মনথেকে আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
কাল একবার আসবেন আমাদের বাড়িতে? একান্তে বসে দুটো কথা বলবো আর মন ভরে আপনাকে দেখবো।"
বললাম"হ্যাঁ গো রানি আমি ঠিকই আসবো আজ থেকে তোমায় না দেখে থাকতে আমার যে খুব কষ্ট হবে মাধুরি। "
আলাপন শেষে আমায় বললো "সাবধানে যাবেন।"
এই বলে মাধুরি বাড়ির ভিতর প্রবেশ করল আমি চললাম বাড়ির পথে।
সারারাত যেন চোখের পাতায় ভেসে আসছে মাধুরির স্মৃতি।
চোখের পাতায় নেই একটু ঘুম। প্রাতে উঠেই দেখলাম মানুষের গুঞ্জন হাহুতাশ ভরা দীর্ঘশ্বাস!
সবাই বলাবলি করছে "আহারে তিনদিনের জ্বরেই প্রাণ গেল মেয়েটার।"
বিলম্ব না করে দৌড়ে গেলাম মাধুরিদের বাড়িতে।
দেখলাম গত রাতে যে আমাকে ভালোবেসে বাঁচতে চেয়েছিল সারাটি জীবন।
আজ তাঁর নিথর শরীরটা মহাঘুমে শায়িত আছে মাটির বিছানায়।
----রুহুল আমিন
Category
Website
Address
Satkhira Khulna
Satkhira
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when S M Ruhul Amin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.