KM Habibullah
ইসলাম। সাহিত্য। সংস্কৃতি। দাওয়াত। বিনোদন।
13/06/2026
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: গৌরবময় ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এক সময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও আস্থাভাজন ব্যাংক ছিল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি সফল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর সুনাম ছিল। দেশের লাখো গ্রাহক, প্রবাসী বাংলাদেশি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছে এটি ছিল আস্থার প্রতীক।
দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স আহরণ, শিল্প ও ব্যবসায় অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার প্রসারে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করেছে।
কিন্তু গত এক দশকে ব্যাংকটির পরিচালনা, মালিকানা ও ঋণ বিতরণ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে যে রাজনৈতিক প্রভাব, গোষ্ঠীগত স্বার্থ এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকটির সুনাম ও আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে বহু গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানেও যখন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে, তখন সাধারণ গ্রাহক ও দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেন আবার কোনো বিতর্ক, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী লুটেরাদের নিয়ন্ত্রণে না যায়। ব্যাংকটি পরিচালিত হোক পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে।
আমরা চাই ইসলামী ব্যাংককে আবার তার আগের শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হোক। এর জন্য বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হোক। গ্রাহকদের চাহিদা, আস্থা ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নেওয়া হোক।
কারণ ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, লাখো গ্রাহক এবং
06/06/2026
👍
28/05/2026
প্রযুক্তির আগামীর রূপ: কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও থ্রিডি ইন্টারনেটের জাদুকরী দুনিয়া:
আমরা যারা বর্তমান যুগের প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত, তারা মনে করি মোবাইল বা কম্পিউটার বোধহয় এখন গতির চূড়ায় পৌঁছে গেছে। চোখের পলকে মেসেজ চলে যাচ্ছে, ক্লিক করলেই ভিডিও চালু হচ্ছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের এমন এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার সামনে আমাদের আজকের এই আধুনিক মোবাইল-কম্পিউটারকে আদিম যুগের পাথরের যন্ত্রের মতো মনে হবে।
বিজ্ঞানের এই নতুন জাদুর নাম ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিং’ এবং এর সাথে যুক্ত হতে যাওয়া অতি-মানবীয় গতির ইন্টারনেট। কেমন হতে যাচ্ছে সেই দুনিয়া? চলুন কিছু সহজ উপমা দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি।
কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বিস্ময়কর গতি: কিছু বাস্তব উপমা:
আমাদের আজকের কম্পিউটারগুলো কাজ করে মূলত শূন্য (০) আর এক (১) দিয়ে। তারা একটা একটা করে হিসাব মেলায়। ধরুন, আপনাকে একটা বিশাল গোলকধাঁধায় ছেড়ে দেওয়া হলো আর বলা হলো বাইরে বের হওয়ার রাস্তাটি খুঁজে বের করতে। আমাদের আজকের সুপারকম্পিউটার কী করবে? সে একে একে প্রতিটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখবে কোন রাস্তাটা খোলা। একটা ভুল হলে আবার ফিরে এসে অন্য রাস্তায় যাবে। এভাবে কোটি কোটি রাস্তা পরীক্ষা করতে তার বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
আর আগামীর কোয়ান্টাম কম্পিউটার কী করবে জানেন? সে গোলকধাঁধার মুখে দাঁড়িয়ে একসাথে কোটি কোটি অবয়ব তৈরি করবে এবং এক সেকেন্ডে সব কটি রাস্তা দিয়ে একসাথে হেঁটে এক নিমেষে সঠিক পথটি বের করে ফেলবে! কারণ সে একই সময়ে শূন্য এবং এক—দুটি অবস্থাতেই থাকতে পারে।
আরেকটি উপমা দেওয়া যাক। ধরুন, পৃথিবীর কোনো লাইব্রেরিতে একটি মাত্র বইয়ের কোনো একটা পাতায় একটা বিশেষ শব্দ লেখা আছে, যা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। আজকের কম্পিউটার করবে কি, প্রতিটি লাইব্রেরির প্রতিটি বইয়ের প্রতিটি পাতা একটা একটা করে উল্টে দেখবে। আর কোয়ান্টাম কম্পিউটার পৃথিবীর সব লাইব্রেরির সব বইয়ের সব পাতা এক সেকেন্ডে একসাথে খুলে ফেলবে এবং চোখের পলকে শব্দটা আপনার সামনে এনে হাজির করবে। আজকের সুপারকম্পিউটারের যে হিসাব মেলাতে দশ হাজার বছর লাগবে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তা করবে মাত্র কয়েক মিনিটে!
আগামীর দ্রুতগতির ইন্টারনেট কেমন হবে?
এই বিশাল প্রসেসিং ক্ষমতার সাথে যখন যুক্ত হবে আগামীর ইন্টারনেট, তখন ডেটা ডাউনলোডের স্পিড বলে আলাদা কোনো শব্দই থাকবে না। আমরা এখন জিবি (GB) বা এমবি (MB) হিসাব করি। তখন আসবে ‘টেরাবিট’ বা তার চেয়েও বড় হিসাব।
এর গতি কেমন হবে? ধরুন, আজকের ইন্টারনেটে একটা হাই-কোয়ালিটি সিনেমা ডাউনলোড করতে কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে। আর আগামীর ইন্টারনেটে আপনি ক্লিক করার আগেই, শুধু আঙুল ছোঁয়ানোর সাথে সাথে পৃথিবীর সমস্ত সিনেমা একসাথে আপনার ডিভাইসে চলে আসবে। ডেটা আদান-প্রদান হবে আলোর গতিতে, কোনো ধরনের ল্যাগ বা বাফারিং ছাড়াই।
থ্রিডি এবং দূরের বিষয়কে বাস্তবের মতো ছোঁয়া:
এই গতি আর কোয়ান্টাম ক্ষমতা মানুষের অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে। আমরা এখন স্ক্রিনে বা ডিসপ্লেতে ছবি বা ভিডিও দেখি যা টু-ডাইমেনশনাল বা চ্যাপ্টা। কিন্তু আগামী দিনে মানুষ দূরের জিনিসকে একদম নিজের সামনে বাস্তবের মতো দেখতে ও অনুভব করতে পারবে।
ধরুন, আপনি কাতার বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসে আছেন, আর আপনার প্রিয় কোনো মানুষটি আছে বাংলাদেশে নিজের ঘরে। আগামীর থ্রিডি হোলোগ্রাম ইন্টারনেটের কল্যাণে আপনি যখন তার সাথে কথা বলবেন, তখন মনে হবে না যে আপনি মোবাইলের স্ক্রিনে তাকে দেখছেন। আপনার মনে হবে, সেই মানুষটি হুবহু রক্ত-মাংসের মানুষের মতো আপনার ঘরের সোফায় আপনার পাশে এসে বসে আছে। আপনি তার অবয়ব ত্রিমাত্রিক (3D) রূপে চারপাশ থেকে দেখতে পাবেন।
শুধু মানুষ নয়, কোনো একটা ফুটবল ম্যাচ বা মহাকাশের কোনো গ্রহ-নক্ষত্রকে আপনি নিজের ঘরের ভেতর থ্রিডি আকারে ভাসতে দেখবেন। আপনি চাইলে সেই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় হেঁটে বেড়াতে পারবেন, মনে হবে আপনি আসলেই সেই জায়গায় উপস্থিত আছেন। দূরের কোনো ডাক্তার হাজার মাইল দূরে বসে নিখুঁতভাবে থ্রিডি প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর অপারেশন করে ফেলবেন, মনে হবে তিনি রোগীর পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আগামী দিনে মানুষের কল্পনাকে হার মানাতে চলেছে। আমরা এক অদ্ভূত কিন্তু রোমাঞ্চকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে দূরত্ব বা সময় আর কোনো বাধাই থাকবে না।
27/05/2026
প্রবাসের ঈদ: উৎসবের মাঝে এক চিলতে হাহাকার:
★
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই উচ্ছ্বাস। আমাদের শৈশবের ঈদ মানে ছিল ফজরের আজানের সাথে সাথে নতুন জামা পরে ঈদগাহে যাওয়া, আর নামাজের শেষে বন্ধুদের সাথে খুনসুটি। গ্রাম বা শহরের অলিগলি, পথেঘাটে কোরবানির পশুর আনাগোনা, খোলা জায়গায় পশু যবেহ, এরপর পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে হইচই করে গোস্ত কাটাকাটি—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। ঈদের দিন থেকে শুরু করে কয়েকদিন পর্যন্ত টিফিন ক্যারিয়ার ভরে এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গোস্ত বিলানোর দৃশ্যগুলো কেবল খাবার আদান-প্রদান নয়, বরং একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরে বাচ্চাদের নতুন পোশাকে পাড়া মাতিয়ে বেড়ানোর দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসলে আজও মনটা আনচান করে ওঠে। ঈদের সেই আবহ, সেই আন্তরিকতা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
★
কিন্তু প্রবাস জীবন যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। এখানে ঈদ আসে ক্যালেন্ডারের পাতায়, কিন্তু হৃদয়ে তা অনুভূত হয় না। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যখন আধুনিকতার নামে কোরবানির দৃশ্যগুলোকে সম্পূর্ণ আড়াল করে ফেলা হয়, তখন মনে হয় উৎসবের মূল আমেজটাই যেন হারিয়ে গেল। এখানে কোরবানি হয়, কিন্তু তা যান্ত্রিক। কসাইখানায় পশু দেওয়া হলো, নির্দিষ্ট সময়ে মাংস বুঝে নেওয়া হলো—এতে পরিচ্ছন্নতা থাকতে পারে, শৃঙ্খলা থাকতে পারে, কিন্তু সেই প্রাণের ছোঁয়া কি আর পাওয়া যায়?
★
আর প্রবাসীদের কষ্টের কথা যদি বলি, তা তো অনেক গভীরে। এখানে আমরা প্রায় সময় নতুন কাপড়, জুতা—এসব কেনা তো দূরের কথা, নিজের ইচ্ছাকেও বিসর্জন দেই। অথচ দেশে মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন যখন ফোনে জিজ্ঞেস করেন, "কী করলি? নতুন কাপড় কিনলি?" তখন না চাইতেও মিথ্যে বলতে হয়। বলতে হয়, "হ্যাঁ, নতুন পাঞ্জাবি-জুতা সব কেনা হয়েছে।" খুব ভোরে উঠে হয়তো সেমাইও রান্না করা হয় না, কিন্তু ফোনে হাসিমুখে বলতে হয়, "খুব ভালো সেমাই খেয়েছি।" নিজের কষ্টগুলো লুকিয়ে প্রিয়জনদের মিথ্যা আনন্দ দেওয়াটাই প্রবাসীদের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
★
প্রবাসীদের ঈদ কাটানোর ধরনটাও বড় অদ্ভুত। ঈদের নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে প্রিয়জনদের সাথে দীর্ঘ একটা টেলিফোন কল করা—ব্যাস, এটুকুই! এরপরের সময়টা কাটে নিস্তব্ধতায় আর ঘুমের ঘোরে। আর যাদের ঈদের দিনও ডিউটি থাকে, তাদের অবস্থা তো আরও করুণ। তারা ঈদের আনন্দ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। যান্ত্রিক সভ্যতার এই চাকায় পিষ্ট হয়ে মানুষ যখন আবেগ প্রকাশের জায়গাটাও হারিয়ে ফেলে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই কি তবে জীবন?
★
মানুষ তো যন্ত্র নয়। উৎসবের আনন্দটুকু মানুষের সম্পর্কের বাঁধন দৃঢ় করে। কিন্তু প্রবাসে সেই বাঁধনগুলো কেবল ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে আটকে থাকে। দেশে ঈদের সময় আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি যাওয়ার সেই ব্যস্ততা, হইচই আর আনন্দের যে জোয়ার, তার বিপরীতে প্রবাসের ঈদ যেন এক বিষণ্ণ মরুভূমি। প্রবাসীরা প্রতিটি ঈদেই বুকের ভেতর দেশের ফেলে আসা সেই প্রিয় দিনগুলোর জন্য একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে রাখে।
আসলে, পরিচ্ছন্নতা বা আধুনিকতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা যদি মানুষের চিরাচরিত উৎসবের আনন্দকেই মেরে ফেলে, তবে সেই যান্ত্রিক শৃঙ্খলার সার্থকতা কোথায়? আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের আবেগ এবং প্রিয়জনদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোই তো আমাদের মানুষ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখে। প্রবাসের এই নিরানন্দ ঈদ মনে করিয়ে দেয়, ইট-কাঠের এই উন্নয়নের চেয়েও হাজার গুণ বেশি মূল্যবান হলো মানুষের ভালোবাসা আর উৎসবের সেই চিরায়ত আমেজ, যা আজ প্রবাস জীবনে কেবলই একটি দীর্ঘশ্বাস।
★
পরিশেষে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের কোরবানী ও আমাদের ঈদ কবুল করেন। প্রবাসের প্রতিটি মানুষের মনের গহীনে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসগুলো মুছে দিয়ে আমাদের সামনের দিনগুলোকে যেন আরও বেশি আনন্দঘন ও খুশিময় করে তোলেন। সকল প্রবাসী ভাইবোনদের জানাই ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অনেক অনেক ভালোবাসা।
26/05/2026
অসুস্থ গরু চেনার উপায়:
ঔষধ খাইয়ে মোটাতাজাকরণ করা গরু চিনবেন যেভাবে:
রাসায়নিক বা স্টেরয়েড দিয়ে মোটা করা গরুর শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফোলা ফোলা লাগে। এই ধরনের গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যায়, যার কারণে পেছনের অংশ, উরু ও পিঠ অস্বাভাবিক রকমের ফোলা ও তুলতুলে দেখায়।
এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গরুর শরীরের মাংসল অংশে, যেমন রানে বা পিঠে আঙুল দিয়ে একটু জোরে চাপ দিয়ে দেখতে পারেন। যদি চাপ দেওয়া জায়গাটি গর্ত হয়ে বসে যায় এবং সহজে আগের অবস্থায় ফিরে না আসে, তবে বুঝতে হবে গরুর শরীরে কৃত্রিম উপায়ে পানি জমিয়ে রাখা হয়েছে। একটি সুস্থ গরুর মাংস সবসময় টানটান ও শক্ত থাকে, চাপ দিলে সাথে সাথে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তাছাড়া এই ধরনের গরুগুলো ভীষণ অলস আর ক্লান্ত থাকে। এরা ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারে না, এক জায়গায় ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। সুস্থ গরু যেখানে সবসময় চঞ্চল থাকে এবং হাটের কোলাহল দেখে সতর্ক ভাব দেখায়, সেখানে ঔষধ খাওয়া গরুগুলো একদম শান্ত থাকে। রাসায়নিকের প্রভাবে এদের লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মুখ থেকে অনবরত লালা ঝরতে থাকে এবং এদের শ্বাস নিতে বেশ কষ্ট হয়, যা একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়। এমনকি হাটের খড় বা কাঁচা ঘাস মুখে দিলে এরা সাধারণত কোনো আগ্রহ দেখায় না।
সুস্থ গরু চেনার অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়:
একটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কোরবানির উপযুক্ত গরু কিনতে হলে আরও কয়েকটি শারীরিক দিক ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যেমন, সুস্থ গরুর নাকের ওপরের অংশটি সবসময় হালকা ভেজা বা ঘাম ভেজা থাকে। নাক যদি একদম শুকনা বা অতিরিক্ত সর্দিযুক্ত থাকে, তবে বুঝতে হবে গরুর জ্বর বা অন্য কোনো রোগ বালাই আছে। একই সাথে গরুর চোখ দুটি উজ্জ্বল ও সতেজ হতে হবে। চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হয়ে থাকা অসুস্থতার লক্ষণ।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী কোরবানির গরুর বয়স অন্তত দুই বছর হতে হবে। এটি বোঝার জন্য গরুর মুখের নিচের পাটির সামনের দুটি স্থায়ী ও বড় দাঁত উঠেছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। দাঁত ছাড়া বা কেবল দুধের দাঁত থাকা গরু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।
পাশাপাশি গরুর পায়ের খুরগুলো অক্ষত এবং ধারালো আছে কিনা দেখে নেওয়া দরকার। খুরে কোনো পচন বা ক্ষত থাকলে কিংবা হাঁটার সময় গরুটি খুঁড়িয়ে চললে তা পরিহার করা উচিত। সুস্থ গরুর গায়ের চামড়া মসৃণ এবং লোমগুলো চকচকে হয়। চামড়ায় কোনো উকুন, আঠালি বা চর্মরোগ আছে কিনা তাও হাত দিয়ে একটু পরখ করে নেওয়া ভালো। সবশেষে খেয়াল রাখতে হবে পশুর যেন কোনো অঙ্গহানি না থাকে, যেমন শিং ভাঙা, লেজ কাটা বা কান ছেঁড়া গরু কোরবানি দেওয়া যায় না।
হাটে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে কিছুটা সময় নিয়ে গরুটি পর্যবেক্ষণ করলে এবং সম্ভব হলে অভিজ্ঞ কাউকে সাথে রাখলে খুব সহজেই একটি সুস্থ ও ভালো পশু নির্বাচন করা সম্ভব।
25/05/2026
মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর, তবে আয়তন ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ কেন?
★
মহাকাশ নিয়ে যাদের সামান্যতম কৌতুহল আছে, তারা প্রায়ই একটি গোলকধাঁধায় পড়েন। বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর। তাহলে যুক্তি অনুযায়ী, মহাবিশ্বের আয়তন বা এর দৃশ্যমান ব্যাসার্ধ তো ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আমরা কেন ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের কথা শুনি? এই অঙ্কটা কেন মিলে না?
★
আসলে মহাবিশ্ব আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতার বাইরের এক অদ্ভুত জায়গা। এর পেছনের কারণগুলো আমরা সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।
মহাবিশ্ব স্থির কোনো মঞ্চ নয়
আমরা যখন বলি আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ভ্রমণ করেছে, তখন আমরা ধরে নিই যে স্থান (Space) স্থির। কিন্তু বাস্তবে মহাবিশ্ব একটি স্থির মঞ্চ নয়; এটি প্রতিনিয়ত প্রসারিত হচ্ছে। কল্পনা করুন, একটি বেলুনের গায়ে দুটি বিন্দু আঁকলেন। আপনি যদি বেলুনটি ফোলাতে থাকেন, তবে বিন্দু দুটির দূরত্ব বাড়তে থাকবে। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। আলো যখন দূর কোনো গ্যালাক্সি থেকে আমাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল, সেই যাত্রা শুরুর মুহূর্ত থেকে মহাবিশ্ব ক্রমাগত বড় হয়েছে।
★
আলো বনাম প্রসারণের লড়াই:
১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে আলো যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন সেই গ্যালাক্সিটি আমাদের থেকে খুব কাছে ছিল। আলো সেই পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দিকে আসছে, আর এই দীর্ঘ সময় ধরে মহাকাশ নিজেই প্রসারিত হয়েছে। আলো যে পথটুকু পাড়ি দিয়েছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের কারণে গন্তব্যস্থানটি আমাদের থেকে আরও দূরে সরে গেছে। আজকের দিনে সেই গ্যালাক্সিটি আমাদের থেকে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ, আলো ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ভ্রমণ করলেও গন্তব্যস্থলটি প্রসারণের কারণে আমাদের থেকে ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সরে গেছে।
৯৩ বিলিয়ন কেন?
আমরা যেহেতু মহাবিশ্বের কেন্দ্রে আছি, (মানে কেন্দ্রে আছি বলে ধরে নিচ্ছি, কারণ এর কিনারা কোন দিকে কত তা আমরা জানি না) তাই আমাদের থেকে সব দিকেই এই একই ঘটনা ঘটছে। আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ব্যাসার্ধ যদি ৪৬.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হয়, তবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের দূরত্ব বা ব্যাস দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। অর্থাৎ, ৯৩ বিলিয়ন কোনো আকাশকুসুম সংখ্যা নয়; এটি ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরে চলা মহাবিশ্বের প্রসারণের হারের একটি গাণিতিক ফলাফল।
★
কেন প্রসারণের হার সরল গুণিতক নয়?
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, প্রসারণ যদি চলতেই থাকে, তবে কেন ১৩.৮-এর ৪ বা ৬ গুণ হলো না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের প্রসারণের ভিন্ন ভিন্ন গতির মাঝে। বিগ ব্যাং-এর শুরুতে মহাবিশ্ব অতি দ্রুত প্রসারিত হয়েছিল, মাঝের দিকে প্রসারণের গতি কিছুটা ধীর হয়েছিল, আবার গত ৫-৬ বিলিয়ন বছর ধরে 'ডার্ক এনার্জি'র প্রভাবে মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জটিল প্রক্রিয়ার যোগফলই হচ্ছে আজকের এই ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষের দৃশ্যমান সীমা।
★
উপসংহার:
সহজ কথায়, ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ হলো আমাদের 'দৃশ্যমান' মহাবিশ্বের ব্যাস। মহাবিশ্ব হয়তো এর চেয়েও অনেক অনেক বেশি বিশাল, যা আমাদের কল্পনারও অতীত। কিন্তু আলোর গতির সীমাবদ্ধতা এবং মহাবিশ্বের ক্রমাগত প্রসারণের কারণে এর বাইরের আলো আর কখনোই আমাদের কাছে পৌঁছাবে না। মহাবিশ্বের এই রহস্যময় প্রসারণই আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, প্রকৃতি এবং মহাকাশ আমাদের গাণিতিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়।
★
আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
23/05/2026
ধর্ষণের মতো অপরাধ রুখতে ইসলামী ইনসাফ ও বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা:
★
বর্তমান সময়ে সমাজে জঘন্য অপরাধগুলো যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের মনে কোনো ভয় তৈরি করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলছেন। তবে তথাকথিত প্রগতিশীল বা ইসলামবিদ্বেষী একটি গোষ্ঠী যখনই ইসলামের কঠোর বিচার ব্যবস্থার কথা শুনে, তখনই তাকে 'মধ্যযুগীয় বর্বরতা' বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইসলামের সেই সোনালী যুগের শাসনব্যবস্থা বর্বরতা ছিল না, বরং তা ছিল ইনসাফ ও মানবতার স্বর্ণযুগ।
★
তথাকথিত মধ্যযুগ বনাম ইসলামের স্বর্ণযুগ:
পাশ্চাত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগকে অন্ধকারের যুগ বলা হলেও, ইসলামের ইতিহাসে এই সময়টি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক নিরাপত্তার শ্রেষ্ঠ সময়। যাকে আজ 'মধ্যযুগীয়' বলে অবহেলা বা কটাক্ষ করা হয়, সেই ব্যবস্থার মাধ্যমেই একসময় আরবের মরুভূমি থেকে শুরু করে বিশাল সাম্রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামের সেই স্বর্ণযুগে অপরাধের বিচার হতো অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং তা কার্যকর করা হতো প্রকাশ্যে। ফলশ্রুতিতে, সমাজে অন্যায়ের হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। আজ সমাজে শান্তি ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের সেই আপসহীন ইনসাফ ফিরিয়ে আনা জরুরি।
★
কুরআনের চিরন্তন নির্দেশনা ও প্রকাশ্যে বিচার:
ইসলামে সমাজের শান্তি বিনষ্টকারী এবং চারিত্রিক অবক্ষয় ছড়ানো অপরাধগুলোর জন্য কঠোর ও প্রকাশ্য শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমন সূরা আন-নূরের ২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ
অনুবাদ: "ব্য-ভি-চা-রী নারী ও ব্য-ভি-চা-রী পুরুষ—তাদের প্রত্যেককে একশত করে বে-ত্রা-ঘা-ত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে কোনো দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শা-স্তি প্রত্যক্ষ করে।" (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২)
★
মুফাসসেরীনদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জনসমক্ষে এই ধরনের বিধান কার্যকর করার মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীর জন্য সামাজিক তিরস্কার এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। যখন মানুষ নিজের চোখে এই ভয়াবহ পরিণতি দেখবে, তখন অপরাধ করার চিন্তা করার আগেও তাদের বুক কেঁপে উঠবে।
★
এই বিচার ব্যবস্থার মূল হেকমত ও সামাজিক প্রভাব:
ইসলামের বিচার পদ্ধতি নিষ্ঠুরতা দেখানোর জন্য নয়, বরং সমাজকে নিরাপদ রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে:
★
১. অপরাধ প্রবণতা রোধে মনস্তাত্ত্বিক বাধা:
মানুষ স্বভাবগতভাবেই লোকলজ্জা এবং সামাজিক মর্যাদাহানিকে চরম ভয় পায়। যখন কেউ দেখে যে অন্যায়ের কারণে সমাজের সবার সামনে তাকে অপমানিত ও কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষ সেই অপরাধের দিকে পা বাড়ানোর সাহস হারিয়ে ফেলে। এটি সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল তৈরি করে।
★
২. দয়া প্রদর্শনের নেতিবাচক দিক:
পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আল্লাহর বিধান কার্যকর করতে গিয়ে যেন অপরাধীর প্রতি অতিরিক্ত দয়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত সহানুভূতি দেখানো না হয়। বর্তমান মানব রচিত আইনে অপরাধীদের মানবাধিকারের নামে যে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়, তা মূলত সমাজে অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। অপরাধীর প্রতি অযাচিত নরম মনোভাব প্রকাশ করা প্রকারান্তরে ভুক্তভোগীর প্রতি অন্যায় করার শামিল।
★
৩. বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা:
প্রকাশ্যে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যায়। মানুষ দেখতে পায় যে আইন সবার জন্য সমান এবং প্রভাবশালী বা সাধারণ—সব অপরাধীই তার উপযুক্ত প্রতিফল পাচ্ছে। এতে আইনের শাসন মজবুত হয় এবং গোপনে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।
★
৪. সমাজ কলুষমুক্ত করার একমাত্র উপায়:
ইসলামে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য প্রতিশোধ নেওয়া নয়, বরং সমাজকে নিরাপদ ও কলুষমুক্ত রাখা। অপরাধীকে আড়ালে রেখে বছরের পর বছর মামলা চালানো আর শেষ পর্যন্ত কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে।
তাই আজ নারীদের সম্মান রক্ষা করতে এবং ধ-র্ষ-ণে-র মতো জঘন্য অপরাধ সমাজ থেকে চিরতরে দূর করতে হলে তথাকথিত আধুনিকতার ফাঁকা বুলি বাদ দিতে হবে। ইসলামের স্বর্ণযুগের সেই ইনসাফ, ন্যায়-নীতি এবং কঠোর বিচার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
23/05/2026
জিলহজের প্রথম দশ দিন ও তাকবীরের ফজিলত:
★
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সময়। এই দিনগুলোতে আল্লাহর যিকির, তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ, নফল ইবাদত ও তওবার গুরুত্ব অনেক বেশি। সাহাবায়ে কেরাম রা. এই দিনগুলোতে ঘরে-বাইরে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন।
★
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাতে তারা নির্ধারিত দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করে।" — সূরা আল-হাজ্জ: ২৮
মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে নির্ধারিত দিন দ্বারা জিলহজের প্রথম দশ দিন বোঝানো হয়েছে।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন: "শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।" — সূরা আল-হজর: ১-২
অনেক তাফসীরবিদের মতে, এখানে "দশ রাত" বলতে জিলহজের প্রথম দশ দিন-রাতকে বোঝানো হয়েছে।
এই দশ দিনের আমলের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই, যেসব দিনে নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের আমলের চেয়ে বেশি প্রিয়।"
সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়?"
তিনি ﷺ বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" — সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৬৯
বেশি বেশি তাকবীর বলার নির্দেশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের চেয়ে মহান ও প্রিয় আর কোনো দিন নেই। তাই তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করো।" — মুসনাদে আহমাদ
★
সাহাবীদের আমল:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু হুরাইরা রা. জিলহজের প্রথম দশ দিনে বাজারে বের হয়ে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। তাদের তাকবীর শুনে লোকেরাও তাকবীর পাঠ করত। — সহীহ বুখারী
এ থেকে বোঝা যায়, শুধু মসজিদে নয়; ঘর, রাস্তা, হাট-বাজার, কর্মস্থলসহ সর্বত্র তাকবীর পাঠ করা উত্তম।
তাকবীরের শব্দ
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
অর্থ: "আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।"
(আরও বিভিন্ন শব্দে তাকবীর বর্ণিত হয়েছে, তবে উপরোক্তটি আমাদের উপমহাদেশে বেশি প্রচলিত।)
তাকবীর কত দিন পড়তে হয়?
তাকবীর মূলত দুই প্রকার:
১. তাকবীরে মুতলাক (যা সবসময় পড়া যায়)
সময়: জিলহজের ১ তারিখ থেকে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
কোথায় পড়বেন: ঘরে, মসজিদে, রাস্তায়, হাটে-বাজারে, সফরে কিংবা কাজের ফাঁকে। সাহাবীগণ এটি উচ্চস্বরে পড়তেন। তবে তা যেন অহংকার বা লোক দেখানো না হয়।
২. তাকবীরে মুকাইয়্যাদ (ফরজ নামাজের পরের তাকবীর)
সময়: অনেক ফকীহের মতে, ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর। প্রতি ফরজ নামাজ শেষে একবার এই তাকবীর পড়া সুন্নত।
★
নারীদের জন্য বিধান
নারীরাও তাকবীর পড়বেন। তবে পরপুরুষের সামনে উচ্চস্বরে নয়, ঘরে বা নিজেদের মাঝে মনে মনে বা নিচু স্বরে পড়তে পারেন।
★
এই দিনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আমল
* বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা
* কুরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজ পড়া
* দান-সদকা করা
* ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখা
* কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
আরাফার রোজার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।" — সহীহ মুসলিম
★
শেষ কথা:
জিলহজের এই দিনগুলো ইবাদতের এক মহিমান্বিত মৌসুম। সাহাবায়ে কেরাম রা. তাকবীরের ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত করে তুলতেন। আসুন, এই দিনগুলোতে আমাদের ঘর, মসজিদ, রাস্তা ও কর্মক্ষেত্র আল্লাহর বড়ত্বের ধ্বনিতে মুখর করে তুলি।
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
22/05/2026
মিডিয়া দখল: আমাদের উদাসীনতা বনাম প্রতিপক্ষের দাবার চাল:
আজকের পৃথিবীতে কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ দখল করার জন্য কামানের গোলার চেয়ে মিডিয়ার ভূমিকা অনেক বেশি কার্যকর। আমরা প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করছি, গুটিকয়েক লোক এবং কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়া হাউস দেশের মানুষের মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বিরুদ্ধে কীভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এসব মিডিয়া বা কন্টেন্টকে যে আমরাই হালে পানি দিচ্ছি, তা হয়তো খেয়ালই করছি না। তাদের প্রতিটি ভিউ, প্রতিটি শেয়ার এবং প্রতিটি রিঅ্যাকশন তাদের অ্যালগরিদমকে শক্তিশালী করছে, আর এই সুযোগেই তারা আরও বেশি মানুষের কাছে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে।
★
সেক্যুলার মিডিয়ার এই একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙার জন্য আমাদের সুপরিকল্পিত লড়াই দরকার। মনে রাখবেন, মিডিয়া একটি ব্যবসায়িক ও আদর্শিক প্রতিষ্ঠান। কোনো মিডিয়া যদি দর্শক না পায়, পাঠক না পায়, তবে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বেশিদিন টাকা ঢালবে না। যখন তারা দেখবে তাদের এই এজেন্ডাভিত্তিক মিডিয়াগুলো মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে, তখন তাদের তহবিল শুকিয়ে আসতে বাধ্য।
★
আমরা কেন এখনো সেই সব মিডিয়াতে সময় নষ্ট করছি যারা প্রতিনিয়ত আমাদের বিশ্বাস ও চেতনাকে আঘাত করে? সময় এসেছে 'আলো+স্টার' বা এই ঘরানার মিডিয়াগুলোকে বয়কট করার। আমাদের হাতে বিকল্প আছে। ইসলামপন্থী অনেক অনলাইন ও অফলাইন পত্রিকা, নিউজ পোর্টাল এবং ম্যাগাজিন রয়েছে যারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দেশের সত্য তুলে ধরছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা।
কীভাবে করবেন? খুবই সহজ, কিন্তু কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ:
★
১. পড়ুন ও শেয়ার করুন: আলেম-ওলামা এবং চিন্তাশীল ইসলামপন্থী লেখকদের লেখা নিয়মিত পড়ুন। ভালো লাগলে তা শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার তাদের রিচ বাড়িয়ে দেবে বহুগুণ।
★
২. বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা: কোনো ইসলামপন্থী মিডিয়া বা পত্রিকা বা ভালো কোনো লেখকের বই বা কন্টেন্টকে সাধ্যমতো আর্থিক সহযোগিতা করুন বা বিজ্ঞাপন দিন। মনে রাখবেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো সত্য মিডিয়া বন্ধ না হয়ে যায়।
★
৩. উপহার দিন: কাউকে বই বা পত্রিকার সাবস্ক্রিপশন উপহার দিন। এতে মানুষের পড়ার অভ্যাস বাড়বে এবং আদর্শিক চিন্তা ছড়িয়ে পড়বে।
★
৪. নিজে লিখুন: চুপ করে থাকবেন না। আপনার যেটুকু মেধা ও জ্ঞান আছে তা দিয়েই লিখতে শুরু করুন। আজ প্রতিটি মানুষ নিজেই একটি মিডিয়া। নিজের ওয়ালে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লিখুন। আপনার একটি জোরালো লেখা হয়তো হাজার মানুষের চিন্তার খোরাক জোগাবে।
★
আমরা যখন আমাদের সময়, অর্থ এবং মনোযোগ ইসলামপন্থী মিডিয়া ও লেখকদের দিকে সরিয়ে নেব, তখন স্বাভাবিকভাবেই ওইসব সেক্যুলার মিডিয়ার পড়ার সময় ও দর্শক কমে যাবে। যখন চাহিদা কমবে, তখন তাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এটিই হলো মিডিয়া যুদ্ধে জয়ী হওয়ার কৌশল।
★
আসুন, সচেতন হই। মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসি। নিজের দেশের ও ইসলামের স্বপক্ষের শক্তিকে শক্তিশালী করি। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্তই পারে এই মিডিয়া সন্ত্রাসকে রুখে দিতে।
21/05/2026
সাম্প্রতিক সময়ে ধ-র্ষণ, নি-র্যাতন ও নারীর প্রতি সহিং-সতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক সামনে এসেছে। কেউ বলছেন, ইসলামী আইন কার্যকর থাকলে এই ধরনের অপরাধ অনেক কমে যেত। আবার কিছু আলেম ও ইসলামপ্রিয় মানুষের মুখেও এমন কথা শোনা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর বহু সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রেও কঠোর আইন দিয়ে এসব অপরাধ কমানো গেছে, নারীরা নিরাপদে চলাফেরা করছে। এমনকি কেউ কেউ এমন ধারণাও দিচ্ছেন যে, আল্লাহর আইন ও মানুষের তৈরি সেক্যুলার আইন অপরাধ দমনে প্রায় সমান কার্যকর, পার্থক্য শুধু আমরা মুসলিম হিসেবে আল্লাহর আনুগত্যের কারণে ইসলামী আইন চাই।
এই কথাগুলো শুনতে হয়তো “মধ্যপন্থী” মনে হতে পারে, কিন্তু একজন মুসলিমের আকীদা ও বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ আল্লাহর বিধানের সাথে মানুষের বানানো ব্যবস্থাকে “সমান কার্যকর” বলা শুধু যুক্তিগত ভুল নয়, ঈমানি দৃষ্টিকোণ থেকেও ভয়ংকর চিন্তা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
“তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিধান কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য ফয়সালার ক্ষেত্রে আল্লাহর চেয়ে উত্তম আর কে?”
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৫০)
একজন মুসলিম বিশ্বাস করে, মানুষ সীমাবদ্ধ, কিন্তু আল্লাহ সীমাহীন জ্ঞানের অধিকারী। মানুষ আইন বানায় নিজের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রবণতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ভিত্তিতে। তাই মানুষের আইন যুগে যুগে বদলায়। আজ যা বৈধ, কাল তা অবৈধ হয়। আজ যা অপরাধ, কাল তা “ব্যক্তিস্বাধীনতা” হয়ে যায়।
কিন্তু আল্লাহর আইন এমন এক সত্তার পক্ষ থেকে এসেছে যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, মানুষের প্রবৃত্তি, দুর্বলতা, কামনা, সমাজ, পরিবার ও সভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সবকিছু জানেন। তাই ইসলামী শরীয়াহ শুধু শাস্তির আইন নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সভ্যতা-ব্যবস্থা।
আজ অনেকেই শুধু শাস্তির দিকে তাকিয়ে ইসলামী আইনকে বিচার করেন। অথচ ইসলামী ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এটি অপরাধ ঘটার আগেই তার পথগুলো বন্ধ করে দেয়।
ইসলাম শুধু বলে না “অপরাধ করলে শাস্তি হবে”। ইসলাম আগে সমাজকে এমনভাবে গড়ে তোলে যাতে অপরাধ জন্ম নেওয়ার পরিবেশই কমে যায়।
যেমন:
• অশ্লী-লতা ও প-র্ণোগ্রাফির বিস্তার বন্ধ করা
• নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা ও পর্দার বিধান
• অবাধ মেলামেশা নিরুৎসাহিত করা
• পরিবারব্যবস্থা শক্তিশালী করা
• বিবাহকে সহজ করা
• আল্লাহভীতি ও আখিরাতের জবাবদিহিতা সৃষ্টি করা
এগুলো কেবল ধর্মীয় আচার নয়, এগুলো সামাজিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।
আজ পৃথিবীর বহু দেশে কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা আছে, হাজার হাজার সিসিটিভি আছে, উন্নত আদালত আছে, কিন্তু তারপরও ধ-র্ষণ, যৌ-ন হয়রানি, শিশু নি-র্যাতন, পারিবারিক ভাঙন, মাদক, আত্মহ-ত্যা, মানসিক অবসাদ ভয়াবহ হারে বাড়ছে। কেন?
কারণ মানুষের তৈরি আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
একজন ব্যক্তি যদি মনে করে, “কেউ দেখছে না”, তখন তাকে থামাবে কে?
ইসলাম সেখানে মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে। একজন মুমিন জানে, পৃথিবীর আদালত এড়িয়ে গেলেও আল্লাহর আদালত এড়ানো যাবে না। এই অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণই ইসলামী ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি।
আর যারা পশ্চিমা বা সেক্যুলার দেশগুলোর উদাহরণ দেন, তারা সাধারণত শুধুই রাস্তার নিরাপত্তা বা বাহ্যিক শৃঙ্খলা দেখেন। কিন্তু ওই সমাজগুলোর গভীরে যে ভয়াবহ পারিবারিক ও নৈতিক বিপর্যয় চলছে, সেটি অনেকেই দেখতে চান না।
আজ বহু পশ্চিমা দেশে:
• বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্বাভাবিক
• বাবা-মা ছাড়াই সন্তান জন্ম নেওয়া ব্যাপক
• বৃদ্ধ বাবা-মা ওল্ড হোমে নিঃসঙ্গ জীবন কাটান
• অশ্লী-লতা “বিনোদন শিল্প” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
• স্কুল পর্যায় থেকেই যৌ-ন বিকৃতি ছড়ানো হয়
• মাদক ও মানসিক অবসাদ মহামারির মতো ছড়িয়েছে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায়, আত্মহ-ত্যা, ডিপ্রেশন, একাকীত্ব ও মানসিক অশান্তির হার তথাকথিত উন্নত দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি। বস্তুগত উন্নতি মানুষকে শান্তি দিতে পারেনি। কারণ মানুষের আত্মারও খাদ্য আছে। সেই খাদ্যের নাম ঈমান, হায়া, পরিবার, ভালোবাসা ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক।
আজ “স্বাধীনতা”র নামে মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে লজ্জা-শরমকে পশ্চাৎপদতা মনে করা হয়। অথচ ইসলাম হায়াকে ঈমানের অংশ বলেছে। যে সমাজে হায়া উঠে যায়, সেখানে ধীরে ধীরে পশুত্ব স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ইতিহাসও ইসলামী আইনের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী।
খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে এমন নিরাপত্তা ছিল যে একজন নারী একা দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে পারতেন। উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর শাসনামলে জাকাত গ্রহণ করার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, ইতিহাসের দলিল।
কেন এমন হয়েছিল?
কারণ ইসলাম শুধু আদালতের আইন নয়, এটি মানুষের হৃদয়ের আইন। এটি মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়।
তাই একজন মুসলিম কখনো বলতে পারে না যে, “সেক্যুলার আইনও আল্লাহর আইনের মতো সমান কার্যকর।” এটি সঠিক নয়। আল্লাহর আইন শুধু “ভালো” নয়, এটি সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ এটি এসেছে সর্বজ্ঞ, সর্বপ্রজ্ঞাময় রবের পক্ষ থেকে।
হ্যাঁ, কিছু দেশে প্রশাসনিক কঠোরতা বা সামাজিক কাঠামোর কারণে কিছু অপরাধ তুলনামূলক কম হতে পারে। কিন্তু সেটি আল্লাহর বিধানের সমকক্ষ হওয়ার প্রমাণ নয়। বাহ্যিক শৃঙ্খলা আর প্রকৃত মানবিক কল্যাণ এক জিনিস নয়।
ইসলাম এমন সমাজ চায় যেখানে শুধু রাস্তা নিরাপদ হবে না, মানুষের অন্তরও পবিত্র হবে। শুধু নারী নিরাপদ হবে না, পরিবারও টিকে থাকবে। শুধু আইন থাকবে না, নৈতিকতাও থাকবে। শুধু শাস্তি থাকবে না, আল্লাহভীতিও থাকবে।
আমাদের বুঝতে হবে, ধ-র্ষণ, ব্যভি-চার, পারিবারিক ভাঙন, অশ্লী-লতা, মানসিক অশান্তি—এসব আলাদা আলাদা সমস্যা নয়। এগুলো একই নৈতিক পতনের বিভিন্ন রূপ।
এই কারণেই ইসলামী বিধানই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সমাধান।
আল্লাহর আইন মানুষের তৈরি আইনের মতো নয়। এটি কোনো রাজনৈতিক মতবাদ নয়। এটি মানবজাতির জন্য রবের পক্ষ থেকে পাঠানো রহমত, ন্যায়বিচার ও প্রকৃত মুক্তির পথ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
418
Doha