ISMAIL AHMED RUMAN
আমার মত এত সুখী নয়তো কারো জীবন I am Ismail Hossain, currently working at Dhigali Maldives.
02/09/2026
প্রবাসী শ্রমিকের পাসপোর্ট কোনো ব্যবসায়ীর এটিএম কার্ড নয়।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোকে আমি চিনি না। তাঁদের নামও জানি না। কিন্তু তাঁদের স্বপ্নটা বুঝতে খুব বেশি কষ্ট হয় না।
কেউ হয়তো গ্রামের ছোট্ট এক টুকরো জমি বন্ধক রেখেছেন। কেউ স্ত্রীর গয়না বিক্রি করেছেন। কেউ বাবার শেষ সম্বলটুকু নিয়েছেন। কেউ টাকা ধার করেছেন। তারপর পাসপোর্টটি হাতে নিয়ে মনে মনে একটি ছবিই এঁকেছেন - বিদেশে যাবেন, পরিশ্রম করবেন, ঘরে টাকা পাঠাবেন। মায়ের চিকিৎসা হবে, সন্তানের পড়াশোনা চলবে, টিনের ঘরটা একদিন পাকা হবে।
এই মানুষগুলোর স্বপ্নের মাঝখানে যদি কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দাঁড়িয়ে টোলঘরের মতো হাত বাড়িয়ে বলেন - “মালয়েশিয়া যেতে হলে আগে আমাদের পাওনা মেটাও”,
তবে সেটি একজন দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে মুনাফা করার এক নির্মম ব্যবস্থা।
অভিযোগ উঠেছে, এবার মালয়েশিয়ায় সরাসরি কর্মী পাঠানোর জন্য পুরোনো সিন্ডিকেট এবার নতুন নাম ও নতুন কাঠামোয় ফিরে আসছে। বায়রার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এর ফলে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যেতে পারে। আরও ভয়াবহ হলো, এর মধ্যে কর্মীপ্রতি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার বেশি অর্থ মালয়েশিয়ায় চলে যেতে পারে।
ভাবুন তো!
যে মানুষটি এখনো মালয়েশিয়ার মাটিতে পা-ই রাখেননি, প্রথম মাসের বেতন পাননি, একটি রিঙ্গিতও আয় করেননি, তাঁর কাঁধে আগেই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কয়েক লাখ টাকার বোঝা। তিনি কর্মী হিসেবে বিদেশে যাচ্ছেন, নাকি ঋণের শিকল পরে যাচ্ছেন?
Verité Research এর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন নিয়ে গবেষণাও ভয়ংকর এক বাস্তবতা সামনে এনেছে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় কম মজুরির চাকরি পেতে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ নিয়োগ ব্যয় বহন করেছেন এবং জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই ঋণের বোঝায় পড়েছেন। অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয় তাঁদের ঋণনির্ভরতা, শোষণ এমনকি debt bo***ge এর ঝুঁকিও বাড়ায়।
International Labour Organization ও স্পষ্ট করে বলেছে, ন্যায্য ও নৈতিক নিয়োগব্যবস্থার মূলনীতি হলো চাকরি পাওয়ার জন্য দুর্বল অভিবাসী শ্রমিকের ওপর recruitment fee চাপানো উচিত নয়। বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসনের নিয়োগ ব্যয় এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলেও ILO উল্লেখ করেছে।
তাহলে প্রশ্ন করি—
বাংলাদেশের একজন শ্রমিকের বিদেশে যাওয়ার পথ এত ব্যয়বহুল হবে কেন?
তিনি কি অপরাধী যে তাঁকে মুক্তিপণ দিয়ে দেশ ছাড়তে হবে?
একজন নেপালি, শ্রীলঙ্কান কিংবা ফিলিপিনো শ্রমিকের তুলনায় একজন বাংলাদেশিকে কেন শুধু নিজের জন্মভূমির কারণে বেশি মূল্য দিতে হবে?
আরও উদ্বেগের বিষয়, মালয়েশিয়ার এই শ্রমবাজার এর আগেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে বারবার বন্ধ হয়েছে। ২০০৯, ২০১৮ এবং আবার ২০২৪ সালে।
একই ভুল আমরা আর কতবার করব? নাম বদলাবে, এজেন্সি বদলাবে, কাঠামোর নাম বদলাবে। কিন্তু শ্রমিকের পকেট কাটার ব্যবস্থাটি কি একই থাকবে?
আমি মনে করি, এবার বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া উচিত।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আমাদের প্রয়োজন, কিন্তু বাংলাদেশের শ্রমিকের আত্মসম্মানের বিনিময়ে নয়।
কোনো গোপন সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লাভের জন্য লাখো সম্ভাব্য প্রবাসী শ্রমিককে জিম্মি রাখা যাবে না। নিয়োগব্যবস্থা হতে হবে প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ ও ডিজিটালি যাচাইযোগ্য। প্রতিটি খরচ প্রকাশ্যে থাকতে হবে। কে কত টাকা নিচ্ছে, কেন নিচ্ছে তার হিসাব থাকতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমি শুনেছি, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে মালয়েশিয়া ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগ যদি বাস্তবে স্বচ্ছভাবে কার্যকর করা যায়, সেটিই প্রমাণ করতে পারে কর্মী পাঠাতে সিন্ডিকেট অপরিহার্য নয়।
কিন্তু আজ শুধু মালয়েশিয়ার কথা বলতে চাই না।
আজ কথা বলতে চাই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের কোটি প্রবাসীর কথা।
সৌদি আরবের মরুভূমির তপ্ত রোদে যিনি কাজ করছেন,
আরব আমিরাতের নির্মাণস্থলে যিনি ঘাম ঝরাচ্ছেন,
কাতার, কুয়েত বা ওমানে যিনি পরিবার ছেড়ে আছেন,
লিবিয়ার কারখানায় যিনি রাতের শিফট করছেন,
সিঙ্গাপুরে যিনি শ্রম দিচ্ছেন, ইতালিতে যিনি রেস্টুরেন্ট বা কারখানায় কাজ করছেন আপনারা শুধু বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নন। আপনারা বাংলাদেশের অর্থনীতির নীরব প্রহরী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রায় ৫.৮৫ বিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪.৫৮ বিলিয়ন এবং মালয়েশিয়া থেকেই প্রায় ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
এই সংখ্যার ভেতরে শুধু ডলার নেই।
এর ভেতরে আছে অসংখ্য ঈদে বাড়ি ফিরতে না পারার কষ্ট।
আছে ভিডিও কলে সন্তানের বড় হয়ে যাওয়া দেখা।
আছে অসুস্থ মায়ের কপালে হাত রাখতে না পারার অসহায়ত্ব।
আছে ছোট্ট একটি ঘরে দশজন মিলে থাকা।
আছে নিজের প্রয়োজন কমিয়ে দেশে টাকা পাঠানো।
আছে নিঃসঙ্গতা, ঘাম, পরিশ্রম এবং অপেক্ষা।
এই অর্থ আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান শক্তিশালী করে, দেশের আমদানি ও বৈদেশিক লেনদেন সামলাতে সাহায্য করে এবং কোটি পরিবারের জীবন সচল রাখে।
অথচ কী নির্মম পরিহাস!
যাঁরা বাংলাদেশের জন্য ডলার আনবেন, দেশ ছাড়ার আগেই তাঁদের কাছ থেকেই আমরা লাখ লাখ টাকা কেড়ে নিতে চাই!
যাঁদের আমরা বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বিদায় জানানো উচিত, তাঁদের জমি বিক্রি করিয়ে দিচ্ছি।
যাঁদের নিরাপদ অভিবাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত, তাঁদের দালালের দরজায় পাঠিয়ে দিচ্ছি।
যাঁদের আমরা ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলি, তাঁদের বিদেশযাত্রাকেই কিছু মানুষের অর্থ উপার্জনের যন্ত্র বানিয়ে ফেলছি।
এ কেমন কৃতজ্ঞতা?
মালয়েশিয়ার দরজা খুলুক। অবশ্যই খুলুক।
কিন্তু সেই দরজার সামনে যেন কোনো সিন্ডিকেটের টোলপ্লাজা না থাকে।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন মানুষ বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সর্বস্ব বিক্রি করবেন না; যেখানে তাঁর যাত্রা শুরু হবে ঋণের শিকল দিয়ে নয়, সম্ভাবনার হাত ধরে।
আর পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের প্রবাসীরা আছেন—
আপনাদের প্রতি ভালোবাসা।
আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা।
আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।
দেশের মানচিত্রের বাইরে থেকেও আপনারা প্রতিদিন বাংলাদেশকে আগলে রাখছেন। এবার বাংলাদেশের দায়িত্ব আপনাদের আগলে রাখা।
আমি প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক প্রতিটি বাংলাদেশি ভাই ও বোনের পক্ষ থেকে বলতে চাই -
আপনার স্বপ্ন কোনো সিন্ডিকেটের সম্পত্তি নয়।
আপনার দারিদ্র্য কারও মুনাফার সুযোগ নয়।
আর বিদেশে গিয়ে আপনার যে ঘাম ঝরবে, সেই ঘামের ওপর কারও আগাম কমিশন নেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই।
02/09/2026
দোয়া প্রার্থনা
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের ৪ ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক সফল মেম্বার পিয়ারু খন্দকার বিগত কিছুদিন যাবত গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শায়িত। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাঁর আশু সুস্থতার জন্য বিনীত প্রার্থনা করছি।
“আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”
“হে মানুষের রব! কষ্ট দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন; আপনিই আরোগ্যদানকারী, আপনার আরোগ্য ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই।”
দেশবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী সকলের কাছে আকুল আবেদন—আপনারা পিয়ারু খন্দকার ভাইয়ের দ্রুত রোগমুক্তির জন্য মন থেকে দোয়া করবেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনেন। আমিন। 🤲
#দোয়া_প্রার্থনা #পিয়ারু_খন্দকার #ডিঙ্গামানিক_ইউনিয়ন
26/08/2026
26/08/2026
আমার পৃথিবী জুড়ে শুধুই আমার রাজকন্যারা।"
ISHRAT JAHAN SABIHA
26/08/2026
Shout out to my newest followers! Excited to have you onboard! Kadir Sikder, ছাত্তার ছৈয়াল, Nurul Amin, Josim Khan, সাকিল ঢালী
Category
Contact the public figure
Telephone
Address
DHIGALI
Male
05140