Freedom_Group

Freedom_Group

Share

যে সকল পাঠকপাঠিকা সাদা পাতায় কালো অক্ষরে ঘটনার চেয়ে বেশী কিছু খোঁজেন, তাদের জন্য ফ্রিডমের বই!

17/06/2026

26
বইয়ের নাম - ওপাশে অন্ধকার
লেখক - তন্দ্রা বন্দোপাধ্যায়
দাম - Rs 330/-
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ

তন্দ্রা বন্দোপাধ্যায়, বর্তমান বাংলা সাহিত্যে একটি উজ্জ্বল নাম। তন্দ্রার মায়া কলমে বারংবার মিশে যায় বাস্তব, স্বপ্নবাস্তব এবং পরাবাস্তবের সীমানা। ঝরঝরে গদ্য ভাষায় ঠাস বুননের কাহিনী পড়তে পড়তে পাঠকমন অজান্তেই হারিয়ে যায় এক অসীম সম্ভাবনাময় জগতে। তন্দ্রার সাম্প্রতিকতম এই বইটিতে রয়েছে দুটি উপন্যাস

সেতুর নীচে
অন্ধকারের ওপাশে

প্রাপ্তিস্হান
কলেজ স্ট্রিট - ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - boichitro.in, versoz.com

17/06/2026

কালিদ্রহ নগরীর আকাশটা যেন এক পচাগলা মৃতদেহের মতো। সেখানে সূর্য কখনো ওঠে না, শুধু ধূসর মেঘের আড়ালে এক রুগ্‌ণ আলোর আভাস পাওয়া যায়, যা দিনের বেলাতেও শহরটাকে প্রেতপুরীর মতো দেখায়। আর রাত? রাত এখানে আসে আলকাতরার মতো ঘন অন্ধকার নিয়ে, গিলে খেতে চায় সবকিছু।

শহরের দক্ষিণ প্রান্তের নাম ‘অধঃপতন’। নর্দমার কালো জল আর কসাইখানার রক্ত যেখানে মেশে, ঠিক সেখানেই অয়নের ডেরা। একসময় সে ছিল রাজপ্রাসাদের প্রধান শল্যচিকিৎসক। আর আজ? আজ সে ছায়াজগতের কসাই। যার টাকার দরকার, কিন্তু চেহারা লুকানো প্রয়োজন— খুনী, পলাতক বা বিকৃতকামী— তারা আসে অয়নের কাছে।

অয়ন তার হাতের রক্তমাখা ন্যাকড়াটা দিয়ে ছুরিটা মুছল। টেবিলের ওপর শুয়ে থাকা লোকটার মুখে এখন আর কোনো নাক নেই, শুধু দুটো গর্ত। লোকটা জ্ঞান হারালেও তার শরীরটা ব্যথায় কুঁকড়ে আছে। অয়ন নির্বিকার। সে পাশে রাখা সস্তা মদের বোতলটা গলায় ঢালল। তিতকুটে তরলটা গলায় নামতেই তার হাত কাঁপা বন্ধ হল। এই শহরে বেঁচে থাকতে গেলে স্মৃতি ভুলতে হয়, আর স্মৃতি ভোলাতে মদের চেয়ে ভালো ওষুধ অয়নের জানা নেই।

মৃত‍্যুলিপি
পিনাকী রঞ্জন পাল
মূল‍্য - 280/-
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ

প্রাপ্তিস্থান- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম।�‌অনলাইন- boichitro.in, versoz.com

16/06/2026

সাতটি সাতরকমের ভয়ের, আতঙ্কের গল্প। লেখকের সঙ্গে জনাকীর্ণ দক্ষিণ কলকাতা থেকে ব্রাজিলের গভীর অরণ‍্যে বিচরণ করতে করতে পাঠক উপলব্ধি করবেন আমাদের চারপাশটা আমরা আসলে কতটা কম চিনি। ঝকঝকে দিনের আলা বা গভীর রাতের আঁধার - যেকোনো সময় আমরা দেখে ফেলতে পারি জেনে ফেলতে পারি এমন কিছু যা আমাদের অস্তিত্বের ভিতটাকেই নড়িয়ে দেবে। ভয়ের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে ভাবার সাহস করতে পারলে আপনাকে পড়তে হবে অপসপ্তক।

বইয়ের নাম - অপসপ্তক
লেখক - ঐষিক মজুমদার
প্রকাশক- ফ্রিডম গ্রুপ
মূল‍্য - 299/-

প্রাপ্তিস্হান
কলেজ স্ট্রিট- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - boichitro.in, versoz.com

16/06/2026

পরের দিন সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি টাইগার রাস্তার একটা বেড়ালের সঙ্গে ঝগড়ায় ব্যস্ত। তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে ওকে কোলে তুলে ধমক দিতেই দেখলাম দিলীপ বোস দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাস্তার উলটোদিকে। হাতে বাজারের ব্যাগ। পানের দোকানের লাল্টু কাকার সঙ্গে কথা বলছেন।
একটা টোটো রাস্তা পার হল বলে জলদি ছুটে যেতে পারলাম না, টোটোটা পেরিয়ে যাওয়ার পর দেখি তিনি বাড়ির উদ্দেশে হাঁটা দিয়েছেন। টাইগারকে কোলে নিয়েই ওর পিছু নিলাম আমি।
“কাকু? ও দিলীপকাকু? এক মিনিট দাঁড়ান। কাকু!”
দিলীপ বোস বোধহয় আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না। চার-মাথার মোড়ে যেতেই একটা অটো একদম আমার গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেল, টাইগার প্রচণ্ড ভয়ে আমার কাঁধ খামচে ধরেছে। একটু ধাতস্থ হতেই দেখলাম দিলীপ বোস নামক সেই ভদ্রলোক আমার সামনে নেই, যেন বেমালুম মিলিয়ে গেছেন। মনে পড়ল, ফলো করার সময় মাঠটা খেয়াল করা হয়নি।
ফেরার পথে মাঠের কাছে গিয়ে আবার হতবাক হয়ে গেলাম। বাড়িটা দাঁড়িয়ে রয়েছে। টাইগারকে কোল থেকে নামিয়ে দিলাম, ও বাড়ি চিনে চলে যাবে।
মাঠটাতে পা রাখতেই আমার সারা শরীর জুড়ে অদ্ভুত একটা শিহরণ খেলে গেল। বাড়িটার চারদিকে অজস্র গাছপালা, কিন্তু আগাছা নয়। ফুলগুলো চিনি না, কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে যত্ন করা হয় নিয়মিত। কিছু ক্যাকটাস গাছও রয়েছে। কতক্ষণ ওইভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম মনে নেই, চটক ভাঙল একটা গলার আওয়াজে।
“আরে! তুই কখন এলি?”
পেছন ঘুরতেই আমার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করল। দিলীপ বোস দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে বাজারের ব্যাগ।
“আপনি আমায় চেনেন?” একটু ঢোঁক গিলে বললাম।
দিলীপ বোসের মুখে অমায়িক হাসি। “চিনি মানে? গরমে কি তোর মাথা কাজ করছে না? আয় ভেতরে আয়।”
ভদ্রলোক বাজারের ব্যাগ হাতে বাড়ির ভেতরে ঢুকলেন। আমি কিন্তু এই ভদ্রলোককে চিনি না, দুদিন আগে ছাড়া কোনওদিনও দেখিনি। এমনকি কাল রাতেও বাবা, মা, বাবাই প্রত্যেকেই আমাকে বলেছে এই নামে পাড়ায় কেউ থাকে না। ঘরে ঢুকতেই গাছগাছালির বুনো ঠান্ডায় আমার গরমে তেঁতেপুড়ে যাওয়া মাথাটা বেশ হালকা হয়ে এল। ছোট্ট একফালি বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসতেই দিলীপ বোস ভেতর থেকে দইয়ের ঘোল ভর্তি একটা গ্লাস নিয়ে এসে আমার হাতে দিলেন। আমতা আমতা করছিলাম, খাওয়া উচিত হবে কি?
আমার উলটোদিকের চেয়ারে বসলেন দিলীপ বোস, কাকু বলাই উচিত মনে হয়। তিনি নিজেও একটা স্টিলের গ্লাস নিয়ে বসলেন।

- দিলীপ বোসকে কেউ চেনেন?

মাত্রাহীণ
লেখক - পারমিতা ঘোষ পাকড়ে
মূল‍্য - 340/-
দ্বিতীয় মুদ্রণ
প্রকাশক- ফ্রিডম গ্রুপ

প্রাপ্তিস্হান
কলেজ স্ট্রিট- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - boichitro.in, versoz.com

15/06/2026

প্রতিচ্ছায়া বইটিতে আছে একটি সম্পূর্ণ উপন্যাস ধূপছায়া, আর দুটি বড়ো গল্প - কানামাছি আর আয়নার মতো।

উত্তরবঙ্গের এক প্রান্তে একটি ছোট্ট জনপদ। আপাত দৃষ্টিতে সেখানে থাকেন দুই বোন যাদের প্রৌঢ়া বলার দিনও পার হয়ে আসছে। পেশাগত জীবনে এবং ব‍্যক্তিগত জীবনে চরম আঘাত পাওয়া শাবরী নিজেকে সামলে নেবার আশায় সেখানে পৌঁছায় দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্র ধরে। কিন্তু যে পৌঁছায় সে কি শাবরী? লোকচক্ষুর প্রায় আড়ালে থাকা ওই বাড়িটির বাসিন্দাদের জীবনে এত কী রহস্য আছে? ও বাড়ির মেয়ে কঙ্কা কোথায়? তার আসল পরিচয় কী? এসবের উত্তর আছে ধূপছায়া উপন্যাসে।

কানামাছি খেলায় যার চোখ বাঁধা হয় আর যার চোখ বাঁধা পড়ে তারা আসলে কারা? কারণ দিতি তো তখন নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে থাকে!

নৈঋতির কি আদতে বেঁচে থাকার কথা ছিল? সুতোয় গিঁট কে দিয়ে দিয়েছিল? কেনই বা দিয়েছিল? কেন ওকে সবাই দেখে, কিন্তু মনে রাখতে পারে না? ও কি আয়না?

বই - প্রতিচ্ছায়া
লেখিকা - তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ
মূল‍্য - 299/-

প্রাপ্তিস্হান
কলেজ স্ট্রিট- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - boichitro.in, versoz.com

15/06/2026

আয়নাবাড়ির পড়শিরা
তিস্তা চক্রবর্তী
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ
15 টি গল্পের সংকলন
মূল্য - 329/-
দ্বিতীয় মুদ্রণ

এ বইয়ের মূল উপজীব্য না বলা কথা। জীবনে চলার পথে আমরা কত কথাই বলি কিন্তু তবু আমরা প্রত্যেকেই বলি না এমন অনেক কথা যেগুলো বলতে নেই বা নিতান্তই বলে ওঠা হয় না। লেখিকার শক্তিশালী কলম সেই না বলা কথাগুলোকেই সাদা পাতায় কালো অক্ষরে গ্রন্থিত করে। ফ্রিডমের পাঠকরা এ বই পড়তে পড়তে নানা রংয়ের নানা মানুষ দেখতে দেখতে শুনতে পাবেন নিজেদের না বলা কথাগুলো, শুনতে পাবেন তিস্তার কলধ্বনি।

প্রাপ্তিস্হান
কলেজ স্ট্রিট- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - boichitro.in, versoz.com

Photos from Freedom_Group's post 14/06/2026

ফ্রিডম গ্রুপ এবং বই প্রকাশে দেরি!!!

ফ্রিডমের বয়েস চার বছর হতে চলল। এই লেখাটি তাদের উদ্দেশ্য যারা ভবিষ্যতে ফ্রিডম গ্রুপের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী!

পান্ডুলিপি জমা পড়ার পরে ফ্রিডম গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বই প্রকাশ করতে নূন্যতম ছমাস, এবং ক্ষেত্রবিশেষে আঠারো মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এটুকু পড়ে যদি আপনার মনে হয় ফ্রিডমের আঠারো মাসে বছর - আপনি আর বাকি লেখাটা পড়বেন না। এই সময়টা কেন লাগে জানেন?

1. ফ্রিডম পান্ডুলিপি পড়ার পরে একটা অসম্ভব লম্বা কপি এডিট প্রসেস ফলো করে। সেখানে লেখকের দেওয়া প্রতিটি তথ‍্য মিলিয়ে দেখা হয় সেগুলো বাস্তবসম্মত কিনা। প্রতিটা চরিত্রের আচরণ, কথা বলার ভাষা সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা দেখা হয়। প্রতিটি ঘটনার টাইমলাইন মেলানো হয়। বারবার লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে অনুরোধ করা হয় “এ জায়গাটা এমনই হবে কী? এখানটা কিন্তু মিলছে না।” প্রতিটা বাক‍্যের টেন্স মেলানো হয়।
2. প্রুফ রিডিং করা হয় দুবার। লে আউটের আগে এবং পরে।
3. অলংকরণ এবং প্রচ্ছদ। মাল্টিপল ইটারেশন করা হয় গল্পের সঙ্গে মানানসই ছবি দেবার জন‍্য। যিনি কাজ করেন তিনি পুরো গল্প পড়ে কাজ করেন।

আসলে কী জানেন তো আমাদের প্রথম এবং শেষ দায়বদ্ধতা পাঠকের প্রতি। আমরা আমাদের লেখকদের থেকে তাঁর সেরাটা বার করে আনি। আমরাও আমাদের তরফ থেকে বুক মেকিংয়ের সেরাটা দিই। ফল?

1. সাঁকো - তন্দ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রকাশ - অগাস্ট 2022) - আজও জনপ্রিয়। 2026 র মে মাসে সদ্যপ্রকাশিত প্রতিচ্ছায়া'র সঙ্গে সাঁকোও কিনছেন পাঠক।
2. অতলগ্রাস- মীণাক্ষী সেনশর্ম্মা (প্রকাশ - জুন 2023). 2026 র মার্চ মাসে কলেজ স্ট্রিটে ফ্রিডমের কাউন্টার থেকে কিনছেন পাঠক।
3. সঘন গহন রাত্রি - কল‍্যাণ গুপ্ত (প্রকাশ - ডিসেম্বর 2023). 2026 র কলকাতা বইমেলায় ফ্রিডমের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইগুলোর একটা।
4. অপকল্প - অলৌকিক গল্প সংকলণ (প্রকাশ - ডিসেম্বর 2024). দ্বিতীয় মুদ্রণ শেষ হয়ে তৃতীয় মুদ্রণ আসার পথে।

আজকের যুগে যেখানে অধিকাংশ বই ছ মাস পরে হারিয়ে যায়, সেখানে আমাদের বইগুলো প্রকাশিত হওয়ার ৩/৪ বছর পরেও বিক্রি হতে থাকে, হতেই থাকে। কারণ একটাই, পাঠক জেনে গিয়েছেন যে ফ্রিডম গ্রুপের বই মানেই লেখকের বেস্ট লেখাটা বেস্ট প‍্যাকেজিংয়ে এবং ন‍্যায‍্য মূল‍্যে পাওয়া যায়।

যারা এখনো ফ্রিডম গ্রুপের কোন বই পড়েননি বা চোখে দেখেননি তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা কলেজ স্ট্রিটে আসলে বুক ফার্মের শোরুমে বা ফ্রিডম গ্রুপের কাউন্টারে গিয়ে বই হাতে নিয়ে দেখুন।

13/06/2026

কিঞ্চিৎ দ্বিধাগ্রস্ত পদে রাজনন্দিনীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে সমুখের স্বর্ণখচিত আসনে দেহভার ন্যস্ত করেন অর্জুন।
দুই করতলে উদ্বেলিত বক্ষ চেপে ধরে নিজেকে সংবৃত করেন কৃষ্ণা। হে ঈশ্বর শক্তি দাও। জিহ্বাকে শাণিত কর। মস্তিষ্ক সচল থাক তীব্র মাত্রায়। এই রাত্রি যেন বৃথা না যায়।
‘বল দেবী। কী সে প্রয়োজন যার কারণে এই রাত্রে লোকনিন্দার ভয় ত্যাগ করে আমায় আহ্বান করেছ?’ কৌতূহলী স্বরে প্রশ্ন করেন অর্জুন।
‘লোকনিন্দা?’ দ্রৌপদীর শাণিত কণ্ঠস্বরে তীব্র ব্যঙ্গ ঝরে পড়ে।
‘লোকনিন্দা তো এখনও শুরু হয়নি পার্থ। শুরু হবে আগামী কাল থেকে। যখন এক নারী একসঙ্গে বরণ করবে পাঁচ পাঁচজন পুরুষকে। স্তব্ধ হয়ে দেখবে পৃথিবী। তারপর মুখর হবে নিন্দায়।’
‘নিন্দা কীসের সুকেশী? এ মাতৃআজ্ঞা!’
‘মাতৃআজ্ঞা!’ তীব্র শ্লেষে স্ফুরিত হয় দ্রুপদ তনয়ার গোলাপ পাপড়িতুল্য রক্তিম ওষ্ঠ।
‘মাতৃআজ্ঞাই কি শেষ কথা কুমার? আর কিছু নয়?’
‘আমি তোমার কথার মর্মাথ উপলব্ধি করতে পারছি না রাজকন্যা।’
‘উপলব্ধি করতে পারছেন না? না করতে চাইছেন না? পঞ্চভ্রাতা মিলে আমাকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেবার পূর্বে একবার কি উচিত ছিল না যাকে বিবাহ করা হচ্ছে তার সম্মতি নেওয়ার?’
‘সম্মতি! কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বীর্যশুল্কে জয় করেছি তোমাকে দ্রুপদতনয়া।’ দৃঢ়, আত্মপ্রত্যয়ী অর্জুনের কণ্ঠ।
‘অবশ্যই। কিন্তু জয় করেছেন আপনি। শুধুমাত্র আপনি। আপনার বাকি চার ভ্রাতা নন। তাহলে কী হেতু তাদের কাছে লভ্যা আমি? জানতে পারি কি?’ অপূর্ব নয়নমনোহর ভঙ্গিতে ভ্রু উত্থিত করে প্রশ্ন করেন পাঞ্চাল রাজকন্যা।
‘মাতৃআজ্ঞা।’ একই বাক্য দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করার সময় কিঞ্চিৎ দ্বিধান্বিত শোনায় অর্জুনের স্বর।
‘যিনি ঘুর্ণায়মান মৎসের চক্ষু বিদ্ধ করবেন তিনিই দ্রুপদনন্দিনীর বরমাল্য লাভ করবেন-- স্বয়ংবর সভায় এই শর্তই কিন্তু দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মাতৃআজ্ঞার কোন স্থান ছিল না।’
‘মাতৃআজ্ঞা সর্বোপরি। কিন্তু তবু প্রশ্ন করি এই বিবাহে কি তুমি খুশি নও রাজকুমারী?’
প্রদীপ্ত নয়নে অর্জুনের দিকে তাকান কৃষ্ণা। ‘আপনি খুশি? না না। চক্ষু নত করবেন না তৃতীয় পাণ্ডব। বলুন আপনি সন্তুষ্ট তো?’

‌অচেনা মহাভারত
দ্বিতীয় সংস্করণ
লেখিকা - কাকলি ঘোষ
মুল্য – ২৯৯/
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ
প্রাপ্তিস্হান - ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম
অনলাইন - versoz.কম, Boichitro.ইন

13/06/2026

মোহ

৪৮ ঘণ্টা আগে

“মানুষ বড়ো হিংস্র হে, মুস্তাফি!”

“তা যা বলেছেন, স্যার।”

“বডিটার দিকে দেখো, কতই বা বয়স হবে? বড়োজোর পঁয়ত্রিশ?”

“না, স্যার, পঁয়তাল্লিশের কম হবে না।”

“তোমার দেখার চোখটাই নেই, মুস্তাফি, খালি শিখেছ লক-আপে চোর পেটাতে! মৃত্যু এই মহিলার সৌন্দর্য কেড়ে নিতে পারেনি।”

“তা হবে, স্যার; তবে আমি ভাবছিলাম এ-রকম সাধারণ কেসে আপনি নিজে কেন এসেছেন? এমন কেসে তো পুলিশ কমিশনারের আসার কথা...”

“তোমরা কি সব প্রোটোকল বুঝবে, মুস্তাফি? ইনি আমাদের ইয়ে... মন্ত্রীর সাধন-সঙ্গিনী। তাই নিজে এসেছি তোমাদের ওই নায়ককে কেস বুঝিয়ে দিতে। দেখারও ইচ্ছে ছিল, মন্ত্রীসাহেব মজেছিলেন কেন...”

“নায়ক মানে কি যীশু, স্যার?”

“আর কোন অফিসার আছে পুলিশ ফোর্সে, যে আমাকে ওয়েট করাবে?”

“নিশ্চয়ই কোনো কাজে ফেঁসে গেছে...”

“থাক, তোমাকে আর চামচাগিরি করতে হবে না।”

“গুড মর্নিং, স্যার।”

যীশু রায়চৌধুরি, বয়স উনত্রিশ বছর, উচ্চতা পাঁচ ফিট নয় ইঞ্চি, ওজন পঁয়ষট্টি কেজি। লালবাজার ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট।

পুলিশ কমিশনার সুরজিৎবাবুচোখ তুলে তাকালেন যীশুর দিকে।

“কী বুঝছ, অফিসার?”

যীশু নিঃশব্দে পুরো ঘরটা দেখছিল। সুরজিৎবাবু জানেন যীশু এমনভাবেই কাজ করে। খুব কম কথার, ঠাণ্ডা মাথার মানুষ যীশু পুরো পরিস্থিতি না বুঝে কোনো কমেন্ট করে না। তিন বছর ধরে এই অফিসারটিকে তিনি চেনেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এর কানেকশন তারিফ করার মতো। এই অল্প বয়সে এমন কয়েকটি কেস এই অফিসারটি সল্‌ভ করেছে, যা ওপরমহলেও প্রচুর প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়াও যীশু একজন শার্পশ্যুটার। নিখুঁত অ্যানাটমির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মোক্ষম জায়গায় আঘাত করে। নিচুতলার অনেক অপরাধী ওর নামে বুকে ক্রস আঁকে। তারা ওর নাম দিয়েছে ‘শয়তান’।

পার্ক সার্কাসের চোদ্দোতলায় এই দু’হাজার স্কোয়ার ফিট ফ্ল্যাটে থাকতেন মিসেস কাশ্যপ। ভদ্রমহিলা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন একসময়। পরে বিয়ে হয়ে কলকাতায় আসেন। কিছুদিনের মধ্যে ডিভোর্স হয়, তারপর বুটিকের বিজনেস শুরু করেন। এই ফ্ল্যাটের গ্রাউন্ড ফ্লোরেই অফিস। বয়স একচল্লিশ বছর, হাইট পাঁচ ফিট পাঁচ ইঞ্চি, শরীরে ঠিক ততটাই মেদ, যাতে আদুরে ভাবটা থাকে, কিন্তু কিছুতেই মোটা বলা যায় না। যথেষ্ট সুন্দরী। বুটিক চালাতে গিয়েই মন্ত্রীর সঙ্গে এঁর যোগাযোগ হয় পাঁচ বছর আগে। তারপর থেকেই তিনি মন্ত্রীর সহচরী।

আপাতত মহিলা তাঁর বেডরুমে শুয়ে আছেন। গলাটা কোনো ধারালো অস্ত্রে ছিন্নভিন্ন।

“বডি পাঠিয়ে দিন, স্যার।” যীশু পুরো ফ্ল্যাটটা ঘুরে এসে বলল।

“কী বুঝলে হে?” সুরজিৎবাবু প্রশ্ন করলেন।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল যীশু।

“যে-ই মেরে থাকুক, যথেষ্ট আক্রোশ ছিল তার ভিকটিমের প্রতি। এরপর কী কী করতে হবে সবই তো আপনি জানেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে, কেয়ারটেকারের সঙ্গে কথা বলি। ভিকটিমের ফোনের কল লগ আর মেসেজ ঘাঁটি, ওঁর পরিচারিকার সঙ্গে কথা বলি; তারপর জানাব আপনাকে।”

“মন্ত্রীমশাই বড়ো আকুল হচ্ছেন, যীশু—”

“কোন আদিম রিপুর কারণে এই খুন, বের করতে হবে, স্যার,” যীশু শান্ত গলায় বলল, “কাম, ক্রোধ, লোভ, মদ, মোহ না মাৎসর্য—”

মৃত‍্যুপ্রহর

কল‍্যাণ গুপ্ত

মূল্য - 349/-

দ্বিতীয় মুদ্রণ

প্রাপ্তিস্হান - ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রু
Versoz.কম, boichitro.ইন

Photos from Freedom_Group's post 12/06/2026

মৃত‍্যুলিপির প্রথম পাঠপ্রতিক্রিয়া

মৃত‍্যুলিপি
পিনাকী রঞ্জন পাল
মূল‍্য - 280/-
প্রকাশক - ফ্রিডম গ্রুপ

প্রাপ্তিস্থান- ফ্রিডম কাউন্টার, বুকফার্ম শো রুম।
‌অনলাইন- boichitro.in, versoz.com

Want your business to be the top-listed Shop in KOLKATA?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Kolkata