Enroot Rasapunja Abacus
Enroot Rasapunja ABACUS inside waiting room
18/08/2025
গৌড়েশ্বর শশাঙ্ক: বাংলার হারানো গৌরবের গল্প !
আজ থেকে চৌদ্দশো বছর আগে… গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়েছিল এক অদম্য রাজ্য—গৌড়। আর তার সিংহাসনে বসেছিলেন এমন এক শাসক, যার নাম শোনামাত্রই শত্রুরা কেঁপে উঠত—রাজা শশাঙ্ক।
৬ষ্ঠ–৭ম শতাব্দীর প্রান্তে, যখন বাংলা ছিন্নভিন্ন ছোট ছোট প্রভুদের হাতে বিভক্ত, তখন শশাঙ্ক কেবল একজন রাজপুত্র নন—তিনি ছিলেন ঐক্যের স্বপ্নদ্রষ্টা। মগধ, উড়িষ্যা, কামরূপ—সব প্রান্তেই তাঁর দাপট ছড়িয়ে পড়েছিল।
বাণভট্টের হর্ষচরিত, চীনা পরিব্রাজক ও বৌদ্ধ ভিক্ষু হিউয়েন সাং-এর বর্ণনা…প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া মুদ্রা ও সীল—সবই সাক্ষ্য দেয় তাঁর শাসনের। রাজধানী কর্ণসুবর্ণ—যেখানে রাজদরবারে প্রতিদিন জ্বলে উঠত রাজদণ্ডের শপথ।
কিন্তু শশাঙ্ক শুধু শাসনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি—তিনি ছিলেন এক দুর্দান্ত যোদ্ধা। হর্ষবর্ধনের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, মগধ দখল, এমনকি কামরূপের শক্তিশালী ভাস্কারবর্মণের সঙ্গেও জোট ও সংঘাত— এইসব কৌশলেই তিনি গৌড়কে উত্তর ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন।
তবে ইতিহাসে তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে আছে বিতর্কও। হিউয়েন সাং-এর লেখা বলে, শশাঙ্ক বৌদ্ধবিরোধী ছিলেন—এমনকি বুদ্ধগয়ার পবিত্র গাছ পর্যন্ত কেটে ফেলেছিলেন… কিন্তু আধুনিক ইতিহাসবিদেরা বলেন—এই অভিযোগ অনেকটা পক্ষপাতের ফল, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ সবসময় এই চিত্রকে সমর্থন করে না।
শশাঙ্কের মৃত্যু যেন ছিল গৌড়ের জন্য এক অকাল সন্ধ্যা। তাঁর পুত্র মানব খুব অল্প সময়ের জন্য সিংহাসনে বসেন…তারপরই গৌড় ভেঙে যায়, শত্রুর হাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে।
তবুও, রাজা শশাঙ্ক বাংলা ইতিহাসের প্রথম মহানায়কদের একজন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন—ঐক্য আর দৃঢ়তার জোরে ছোট রাজ্যও উত্তর ভারতের রাজনীতিকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।
কর্ণসুবর্ণের ধূলোমাটি আজও যেন ফিসফিস করে বলে—আমি গৌড়রাজ শশাঙ্ক… বাংলার প্রথম সিংহাসনের অধিপতি।
©Manas Bangla
সংগৃহীত
#রাজা_শশাঙ্ক #বাংলার_প্রথম_সম্রাট #গৌড়েশ্বর #কর্ণসুবর্ণ #বাংলার_ইতিহাস #হারানো_গৌরব #প্রাচীন_বাংলা #বাংলার_গৌরব #গৌড়ের_গল্প #ইতিহাস_চর্চা
27/07/2025
02/08/2024
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ —
অরিদ্রা নক্ষত্রের রাতে শিব স্বয়ং জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ বলতে শিবের বারোটি বিশেষ মন্দির ও সেই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গগুলিকে বোঝায়। মন্দিরগুলি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। হিন্দুদের কাছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ শিবের পবিত্রতম মন্দির।
শিব পুরাণ অনুযায়ী দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ —
১. সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ —
সৌরাষ্ট্রদেশে বিশদেহতিরম্যে জ্যোতির্ময়ং চন্দ্রকলাবতংসম্ ।
ভক্তিপ্রদানায় কৃপাবতীর্ণং তং সোমনাথং শরণং প্রপদ্যে ॥
অর্থাৎ- যিনি দয়া পূর্বক সৌরাষ্ট্রপ্রদেশে অবতীর্ণ হয়েছেন, চন্দ্র যাঁর মস্তক ভূষণ, সেই জ্যোতির্লিঙ্গ স্বরূপ ভগবান সোমনাথের আমি শরণাগত হলাম।
সোমনাথ শব্দটির অর্থ “চন্দ্র দেবতার রক্ষাকর্তা”। পুরাণ মতে চন্দ্রদেবতা এখানে শিব আরাধনা করেছিলেন। সোমনাথ মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামে পরিচিত। ভারতের গুজরাট রাজ্যের সৌরাষ্ট এর নিকট প্রভাস ক্ষেত্রে অবস্থিত এই মন্দির। আমেদাবাদ থেকে অল্প দূরে ভেরাবল শহর থেকে ৪/৫ কিমি দূরে এই মন্দির অবস্থিত। সারা বিশ্ব ও ভারত জুড়ে অসংখ্য পুণ্যার্থী ও ভক্ত আসেন এই জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন ও পূজা নিবেদন করতে। অতীতে এই শিব মন্দির বারবার বিদেশী শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়। প্রায় পাঁচবার বা তার বেশিবার এই মন্দির পুনর্নির্মিত করা হয়।
২. মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ —
শ্রীশৈলশৃঙ্গে বিবুধাতিসঙ্গে তুলাদ্রিতুঙ্গেহপি মুদা বসন্তম্ ।
তমর্জুনং মল্লিকপূর্বমেকং নমামি সংসারসমুদ্রসেতুম্ ॥
অর্থাৎ- যিনি উচ্চ আদর্শভূত পর্বত থেকেও উচ্চ শ্রীশৈল পর্বতের শিখরে, যে স্থানে দেবতাদের সমাগম হয়, অত্যন্ত আনন্দ সহকারে নিবাস করেন এবং সংসার সাগর পার করবার জন্য যিনি সেতুস্বরূপ, সেই প্রভু মল্লিকার্জুনকে আমি নমস্কার জানাই।
দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীশৈল পর্বতে এই পীঠ অবস্থিত। হরগৌরীর পুত্র কার্ত্তিক, মতান্তরে চন্দ্রগুপ্তের কন্যা এখানে শিব আরাধনা করেছিলেন। এই প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরটি পূর্বমুখী। কেন্দ্রীয় মণ্ডপে অনেকগুলি স্তম্ভ এবং নন্দীকেশ্বরের একটি বিরাট মূর্তি আছে। দক্ষিণ ভারতের সকল হিন্দুদের কাছে এই মন্দির অনেক পবিত্র। সারা বছর ধরে এখানে অনেক অনেক ভক্ত আসেন নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করতে ও বাবা শিবের লিঙ্গে জল অর্পণ করতে। শিবরাত্রি এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
৩. মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ —
অবন্তিকায়াং বিহিতাবতারং মুক্তিপ্রদানায় চ সজ্জনানাম্ ।
অকালমৃত্যুোঃ পরিরক্ষণার্থং বন্দে মহাকালমহাসুরেশম্ ॥
অর্থাৎ- সাধু-সন্তদের মোক্ষ প্রদান করবার জন্য যিনি অবন্তীপুরীতে অবতরণ করেছেন, মহাকাল নামে প্রসিদ্ধ সেই মহাদেবকে আমি অকালমৃত্যু থেকে বাঁচবার জন্য নমস্কার জানাই।
ভারতের মধ্যপ্রদেশে এই ধাম অবস্থিত। অবন্তী নগরীর এক বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ ও রাজা চন্দ্রসেন এখানে শিব উপাসনা করেছিলেন। এখানে সারা বছর অসংখ্য পুণ্যার্থী আসেন এই মন্দিরে পূজা দিতে। এটিই একমাত্র দক্ষিণমুখী মন্দির। মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি ‘দক্ষিণামূর্তি’। এই শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’। এই মূর্তির বিশেষত্ব এই যে ”তান্ত্রিক শিবনেত্র“ প্রথাটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বর মন্দিরে দেখা যায়। ‘ওঙ্কারেশ্বর মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত। গর্ভগৃহের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে যথাক্রমে গনেশ, পার্বতী ও কার্তিকের মূর্তি স্থাপিত আছে। দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি স্থাপিত আছে। মন্দিরের তৃতীয় তলে নাগচন্দ্রেশ্বর মূর্তি আছে। এটি একমাত্র নাগ পঞ্চমীর দিন দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের পাঁচটি তল আছে। তার মধ্যে একটি ভূগর্ভে অবস্থিত। এছাড়া মন্দিরে একটি বিশাল প্রাঙ্গন রয়েছে। হ্রদের দিকে অবস্থিত এই প্রাঙ্গনটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মন্দিরের শিখর বা চূড়াটি শাস্ত্রে উল্লিখিত পবিত্র বস্ত্র দ্বারা ঢাকা থাকে। ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত হয়। মনে করা হয়, দেবতাকে এই কক্ষেই প্রসাদ দেওয়া হয়। এটি মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা। নামন্দিরের গর্ভগৃহে যেখানে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেখানে সিলিং-এ একটি শ্রীযন্ত্র উলটো করে ঝোলানো থাকে।
৪. ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ —
কাবেরিকানর্মদয়োঃ পবিত্রে সমাগমে সজ্জনতারণায় ।
সদৈব মান্ধাতৃপুরে বসন্ত- মোঙ্কারমীশং শিবমেকমীড়ে ॥
অর্থাৎ- যিনি সৎ ব্যক্তিদের সংসার সাগর পার করানোর উদ্দেশ্যে কাবেরী ও নর্মদার পবিত্র সংগমের কাছে মান্ধাতাপুরে সর্বদা বাস করেন, সেই অদ্বিতীয় কল্যাণময় ভগবান ওঙ্কারেশ্বরের আমি স্তব করি।
ভারতের মধ্যপ্রদেশে নর্মদা তটে এই শিব মন্দির অবস্থিত। রাজা মান্ধাতা এখানে শিব আরাধনা করেছিলেন। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর স্টেশন থেকে ৭৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ পাঁচতলা মন্দিরের গর্ভগৃহে ছোট্ট শিবলিঙ্গ৷ সামান্য উচ্চতা৷ জাতিধর্ম নির্বিশেষে স্পর্শ করে পূজা দেওয়া যায়৷ সারা বছর ধরেই অনেক পুণ্যার্থী আসেন পূজা দিতে।
৫. কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ —
মহাদ্রিপার্শ্বে চ তটে রমন্তং সম্পূজ্যমানং সততং মুনীন্দ্রৈঃ ।
সুরাসুরৈর্যক্ষমহোরগাদ্যৈঃ কেদারমীশং শিবমেকমীড়ে ॥
অর্থাৎ- যিনি মহাগিরি হিমালয়ে কেদার শৃঙ্গের ওপর সর্বদা বসবাস করেন এবং মুনি, ঋষি, দেবতা তথা অসুর, যক্ষ, মহাসর্পাদি দ্বারা পূজিত হন, আমি সেই একমাত্র কল্যাণকর ভগবান কেদারনাথের স্তব পাঠ করি।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে এই মন্দির অবস্থিত। এটি মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত। হরিদ্বার থেকে এই পীঠ যেতে হয়। নরনারায়ণ নামক ঋষি এখানে শিব আরাধনা করেছিলেন। চারধামের অন্যতম কেদারনাথ। এখানকার তীব্র শীতের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি খোলা থাকে। শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য উখি মঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়। এই অঞ্চলের প্রাচীন নাম ছিল কেদারখণ্ড ; তাই এখানে শিবকে কেদারনাথ (অর্থাৎ, কেদারখণ্ডের অধিপতি) নামে পূজা করা হয়।
৬. ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ —
যং ডাকিনীশাকিনিকাসমাজে নিষেব্যমাণং পিশিতাশনৈশ্চ ।
সদৈব ভীমাদিপদপ্রসিদ্ধং তং শঙ্করং- ভক্তহিতং নমামি ॥
অর্থাৎ- ডাকিনী, শাকিনী ও প্রেত দ্বারা যিনি নিত্য পূজিত হন, সেই ভক্তহিতকারী ভগবান ভীমাশঙ্করকে আমি প্রণাম করি।
মহারাষ্ট্রের পুনা জেলার গোরাগাঁও এর কাছে সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় ভীমাশঙ্কর মন্দির অবস্থিত। এখানে ভগবান শিব ভীম নামক এক রাক্ষস কে বধ করবার জন্য প্রকটিত হয়েছিলেন। এই অঞ্চলটি প্রাচীনকালে ডাকিনী দেশ নামে পরিচিত ছিল। গ্রহের বাঁধা কাটানো ও অকাল মৃত্যু রোধ করার অসংখ্য ভক্ত আসেন এখানে। জঙ্গলের মধ্যে ঘন গ্রানাইট পাথরের তৈরি এই মন্দির। এই মন্দিরের লিঙ্গ মাঝারি আকারের।
৭. কাশী বিশ্বনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ —
সানন্দমানন্দবনে বসন্ত- মানন্দকন্দং হতপাপবৃন্দম্ ।
বারাণসীনাথমনাথনাথং শ্রীবিশ্বনাথং শরণং প্রপদ্যে ॥
অর্থাৎ- যিনি স্বয়ং আনন্দকর এবং আনন্দ পূর্বক আনন্দবন কাশী ক্ষেত্রে বাস করেন, যিনি পাপ নাশ করেন, অনাথের নাথে সেই কাশীপতি শ্রীবিশ্বনাথের কাছে আমি শরণ নিলাম।
এখানে ভগবান শিব দেবী উমার সহিত কিছুকাল নিবাস করেছিলেন। এখানে তিনি বিশ্বনাথ। এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাশীতে অবস্থিত। কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরটি শৈবধর্মের প্রধান কেন্দ্রগুলির অন্যতম। অতীতে বহুবার এই মন্দিরটি বিভিন্ন আক্রমণে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পুনর্নির্মিত হয়েছে। বর্তমান মন্দিরটি ইন্ডোরের মহারানি অহল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দেন। মন্দিরের ১৫.৫ মিটার উঁচু চূড়াটি সোনায় মোড়া। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, গঙ্গায় একটি ডুব দিয়ে এই মন্দির দর্শন করলে মোক্ষ লাভ করা সম্ভব।
৮. ত্র্যম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ —
সহ্যাদ্রিশীর্ষে বিমলে বসন্তং গোদাবরীতীরপবিত্রদেশে ।
যদ্দর্শনাৎ পাতকমাশু নাশং প্রয়াধি তং ত্র্যম্বকমীশমীড়ে ॥
অর্থাৎ- যিনি গোদাবরী তটে পবিত্র সহ্যাদি পর্বতের নির্মল শিখরে বাস করেন, যাঁর দর্শন লাভে সত্বর সকল পাপ বিমোচন হয়, আমি সেই ত্র্যম্বকেশ্বরের স্তব পাঠ করি।
মহারাষ্ট্রের নাসিকের কাছে গোদাবরী নদীর উৎসের কাছে অবস্থিত এই শিব মন্দির। মহর্ষি গৌতম এখানে সস্ত্রীক শিব উপাসনা করেছিলেন। এই লিঙ্গমূর্তি তিন ভাগে বিভক্ত এবং অন্য শিবলিঙ্গের চেয়ে আলাদা৷ এই মন্দিরের পুননির্মাণ শ্রী নানা সাহেব পেশোয়া করেন।
৯. বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ —
পূর্বোত্তরে প্রজ্বলিকানিধানে সদা বসন্তং গিরিজাসমেতম্ ।
সুরাসুরারাধিতপাদপদ্মং শ্রীবৈদ্যনাথং তমহং নমামি ॥
অর্থাৎ- যিনি পূর্বোত্তম দিকের বৈদ্যনাথ ধামের ভেতরে সর্বদা গিরিজার সঙ্গে বাস করেন, দেবতা ও অসুরগণ যাঁর চরণ কমল আরাধনা করেন, সেই শ্রীবৈদ্যনাথকে আমি প্রণাম করি।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘরে বৈদ্যনাথ মন্দির অবস্থিত। এটি ভগবান শিবের রাবন কে প্রদত্ত আত্মলিঙ্গ থেকে সৃষ্ট। অসংখ্য পুণ্যার্থী সারা বছর ধরেই এখানে আসেন, শিবলিঙ্গে জল ঢালেন ও পূজা দেন। শ্রাবন মাসে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। এটিই একমাত্র তীর্থ যা একাধারে জ্যোতির্লিঙ্গ ও শক্তিপীঠ।
১০. নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ —
যাম্যে সদঙ্গে নগরেহতিরম্যে বিভূষিতাঙ্গং বিবিডধৈশ্চ ভোগৈঃ ।
সদ্ভক্তিমুক্তিপ্রদমীশমেকং শ্রীনাগনাথং শরণং প্রপদ্যে ॥
অর্থাৎ- যিনি দক্ষিণের রমণীয় নগর সদঙ্গে নানাবিধ ভোগ সহ সুন্দর বসন ভূষণে সজ্জিত হয়ে বিরাজ করেন, যিনি সদ্ ভক্তি ও মুক্তি প্রদান করেন, আমি সেই প্রভু শ্রীনাগনাথের শরণ নিলাম।
ভারতের গুজরাটের দ্বারকার কাছে এই পীঠ অবস্থিত। বৈশ্য সুপ্রিয় এখানে শিব পূজা করেছিলেন। বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যানে এই মন্দির ঐতিহাসিক কাল থেকে ভক্তদের জন্য আকর্ষণের স্থল হয়ে আসছে। শিব উপাসকরা নাগেশ্বর মন্দিরের জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন পরম পবিত্র বলে গণ্য করে।
১১. রামেশ্বরম জ্যোতির্লিঙ্গ —
সুতান্রপর্ণীজলরাশিযোগে নিবধ্য সেতুং বিশিখৈরসংখ্যৈঃ ।
শ্রীরামচন্দ্রেণ সমর্পিতং তং রামেশ্বরাখ্যং নিয়তং নমামি ॥
অর্থাৎ- ভগবান শ্রীরামচন্দ্র তাম্রপর্ণী ও সাগর সঙ্গমে বাণের সাহায্যে সমুদ্রে বাঁধ দিয়ে তার ওপর যাঁকে স্থাপন করেছিলেন, সেই রামেশ্বর দেবকে বিধি নিয়ম অনুসারে প্রণাম করি॥
তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে এই পীঠ অবস্থিত। লঙ্কা আক্রমণের আগে ভগবান রাম এখানে শিব উপাসনা করেছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের শেষ প্রান্তভূমি পক প্রণালীতে একটি দ্বীপের আকারে গড়ে উঠেছে রামেশ্বরম। রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গটি বিশাল। এই মন্দিরে রামেশ্বর স্তম্ভ অবস্থিত। সারা বছর ধরেই অসংখ্য পুণ্যার্থী এখানে পূজা দিতে আসেন।
১২. ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ —
ইলাপুরে রম্যবিশালকেহস্মিন্ সমুল্লসন্তং জগদ্বরেণ্যম্ ।
বন্দে মহোদারতরস্বভাবং ঘৃষ্ণেশ্বরাখ্যং শরণং প্রপদ্যে ॥
অর্থাৎ- যিনি ইলাপুরের সুরম্য মন্দিরে বিরাজ করে সমস্ত জগতের পূজ্য হয়ে রয়েছেন, যাঁর স্বভাব খুবই উদার সেই ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্ময় ভগবান শিবের আমি শরণ নিলাম।
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরাঙ্গাবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং দৌলতাবাদ বা দেবগিরি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ইলোরা গুহার কাছে এই মন্দির অবস্থিত। ঘুষ্ণা নামক এক শিবভক্তের আহ্বানে ভগবান শিব এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে প্রকটিত হয়েছিলেন। মন্দিরটি লাল পাথর দিয়ে তৈরি। এতে পাঁচটি চূড়া দেখা যায়। মন্দিরটির গায়ে অনেক হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি খোদিত আছে।
ॐ নমঃ শিবায়
হর হর মহাদেব
(সংগৃহীত)
01/08/2024
কর্ণসুবর্ণ (কানসোনা)
কর্ণসুবর্ণ (কানসোনা) ছিল বাংলার প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের (৬০৬-৬৩৭ খ্রি) রাজধানী। সপ্তম শতকের চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ত 'জিউ জি'-তে 'কিলোনসুফলন' হিসেবে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। তার বিবরণ অনুযায়ী, তিনি তান-মো-লি-তি (তাম্রলিপ্তি, আয়তন ১৭০০ 'লি') থেকে কিলোনসুফলন (কর্ণসুবর্ণ, আয়তন ৪৪৫০ 'লি') পৌঁছান।
আবার এরকম ভাবেও দেখি। কর্ণসুবর্ণ বা কর্ণসুবর্ণা প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজা শশাঙ্কের শাসনামলে গৌড় রাজ্যের রাজধানী ছিলেন, যিনি 7th ম শতাব্দীতে শাসন করেছিলেন। শশাঙ্কের মৃত্যুর পরে এটি সম্ভবত কমরূপের রাজা ভাস্করবর্মণের জয়স্কন্ধ্বর ছিল, সম্ভবত অল্প সময়ের জন্য।
এই রাজধানীর নিকটেই ছিল লো-টো-মো-চিহ্ (রক্তমৃত্তিকা) মঠটি। ১৯৬০-এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রাজবাড়িডাঙ্গার (পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সদর সাব ডিভিশনের কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের নিকটবর্তী যদুপুর গ্রাম) মঠের সাথে লো-তো-মি-ছি (রক্তমৃত্তিকা)-র শনাক্তকরণের জোরালো ভিত্তির বলে এখন যথার্থভাবেই বলা যায় যে, খননকৃত প্রত্নস্থলের নিকটে ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাক্ষসীডাঙ্গার ধ্বংসস্তূপ খননে আনুমানিক সপ্তম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিচিহ্ন পাওয়া গেছে, স্থানীয়ভাবে এটি রাজা কর্ণ-এর প্রাসাদ নামে পরিচিত। তবে নদীপ্রবাহ বা ভাঙ্গনের ফলে অনেক চিহ্ন মুছে গেছে। উৎকীর্ণ লিপিসহ পোড়ামাটির ফলকের (ধর্মচক্র-প্রতীক) আবিষ্কার ও এতে রক্তমৃত্তিকা মহাবিহার নামের উল্লেখ এর শনাক্তকরণের সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বকে দূর করে দিয়েছে। লোকমুখে বলা হয়, পৌরাণিক রাজা মহাভারতে বর্ণিত অঙ্গরাজ কর্ণের রাজত্বের রাজধানী ছিলো এই কর্ণসুবর্ণ।
হিউয়েন-সাং আমাদেরকে কর্ণসুবর্ণের একটি স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। এর সাহায্যে আমরা এর অবস্থান ও মানুষ সম্বন্ধে জানতে পারি। তার মতে, দেশটি ছিল বেশ জনবহুল ও এখানকার মানুষ ছিল বেশ ধনী। এলাকাটি ছিল নিচু ও স্যাঁতসেতে। নিয়মিত চাষাবাস হতো, ফুল ও ফলের প্রাচুর্যতা ছিল এবং এখানকার আবহাওয়া ছিল নাতিশীতোষ্ণ। এখানকার জনগণ উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তারা ছিলেন শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক। তার এ বর্ণনায় দেশটির সমৃদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।
কর্ণসুবর্ণের লিপিতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলে কামরূপের শাসক ভাস্করবর্মণ-এর নিধনপুর দানপত্র থেকে। এ দানপত্রটি কর্ণসুবর্ণের বিজয় ছাউনি (জয়-সরদ-অনবর্থ-স্কন্ধবারাত কর্ণসুবর্ণ-বাসকাত) থেকে প্রদান করা হয়েছিল। এতে প্রতীয়মান হয় যে, স্বল্প সময়ের জন্য গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ কামরূপের শাসক ভাস্করবমর্ণ-এর হাতে চলে গিয়েছিল। সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝিতে কর্ণসুবর্ণ পুনরায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জয়নাগের প্রশাসনিক কেন্দ্রও ছিল। জয়নাগের বপ্য ঘোষবৎ দানপত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া যায় [স্বস্তি কর্ণ(স)উবর্ণকাস্থিতস্য মহারাজাধিরাজহ (জ) পরম ভগবত শ্রী-জয়নাগ(দে)বশ্য]।
হিউয়েন সাং-এর লেখা থেকে আমরা কর্ণসুবর্ণের জনগণের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কেও ধারণা পাই। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মানুষ এখানে বসবাস করত। এখানে বৌদ্ধ ধর্ম যে সমৃদ্ধ অবস্থায় ছিল তার যথেষ্ট প্রমাণ হলো যে, কর্ণসুবর্ণের নিকটই অবস্থিত ছিল বিশাল ও বিখ্যাত মহাবিহারটি। হিউয়েন সাং-এর বিবরণ থেকেই জানা যায় যে, সম্মতীয় স্কুলের বৌদ্ধগণ প্রধানত কর্ণসুবর্ণের দশটি মঠেই বাস করত। বৌদ্ধ মঠ ছাড়াও এখানে পঞ্চাশটি দেব মন্দিরও ছিল। হিউয়েন-সাং-এর মতে কর্ণসুবর্ণের পরিধি ছিল ১০০ মাইল তার ভ্রমণকালে এই স্থান জনাকীর্ণ ছিল।
কর্ণসুবর্ণ প্রত্নস্থল
খননকৃত রাজবাড়িডাঙ্গার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কর্ণসুবর্ণকে একটি নগর কেন্দ্র হিসেবে ইঙ্গিত করে। তবে বেশ কিছু গ্রামীণ বসতি যেমন পাঁচথুপি গোকর্ণ, মহলন্দি, শক্তিপুর প্রভৃতির অস্তিত্ব রাজধানী শহরের চারপাশে বিদ্যমান ছিল। এরা সম্ভবত নগরবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তুর চাহিদা পূরণ করত। সম্ভবত এ অঞ্চলের সাথে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। মালয় উপদ্বীপের ওয়েলেসলী অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত পঞ্চম শতাব্দীর একটি উৎকীর্ণ লিপিতে রক্তমৃত্তিকা থেকে আগত জনৈক মহানাবিক বুদ্ধগুপ্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্য আর একটি তথ্য অনুযায়ী রক্তমৃত্তিকা থেকে মালয় উপদ্বীপে আগত একটি বড় জাহাজের ক্যাপ্টেনের উপস্থিতি বাংলার সাথে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইঙ্গিত দেয়। আর চিরুটি অঞ্চলের ভাগীরথী সংলগ্নতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায় এ কারণে যে সামুদ্রিক বাণিজ্যে এটি একটি চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত।
তাই কর্ণসুবর্ণ একটি সমৃদ্ধশালী রাজনৈতিক-প্রশাসনিক, সামরিক ও ধর্মীয় নগর কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। তবে এর খ্যাতি ছিল ক্ষণস্থায়ী। এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে সপ্তম শতাব্দীর প্রথম পর্যায়ে শশাঙ্কের উত্থাণের মাধ্যমে এবং ঐ শতাব্দী শেষেই আবার বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়। পাল ও সেনদের কোন দলিলেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহরের কোন উল্লেখ খুঁজে পাওয়া যায় না।
শিয়ালদহ থেকে জঙ্গিপুর রোড লাইনে অথবা হাওড়া থেকে আজিমগঞ্জ লাইনে ট্রেনে করে যাওয়া যায় কর্ণসুবর্ণ। কর্নসুবর্ন স্টেশন থেকেই গাড়ি পেয়ে যাবেন।
প্রতিবেদন টি ভালো লাগলে একটা সেয়ার করে বন্ধুদের দেখার সুযোগ করে দেবেন 💞💞 পেজটি প্রথম দেখে থাকলে একটা ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন 🌻🌻
ইসমত শিল্পী
জাফরগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ
২৫/০৭/২০২৪
01/08/2024
১৯১১ সালের ফাইনালে ইংল্যান্ডের ইস্ট ইর্য়কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম কোন ভারতীয় দল হিসেবে শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান।
১১ জন বাঙালি খালি পায়ে অনবদ্য খেলে প্রবল পরাক্রমশালী ইস্ট ইওর্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়েআছে। ইডেন গার্ডেন্সে উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শক সাক্ষী থেকেছিলেন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের৷ পরাধীন ভারতে ঐ সময় সাহেবদের হারিয়ে মোহনবাগানের এই শিল্ড জয়ের ঘটনায় সমগ্র দেশ আলোড়িত হয়। খেলার মাঠে সাহেবদের মুখোমুখি লড়াইয়ে খালি পায়েও যে হারানো সম্ভব সেটাই অবলীলাক্রমে দেখিয়ে দেয় মোহনবাগান৷
সেদিনের সেই হার না মানা অসমসাহসী বাঙালি খেলোয়াড় দের পরিচয়।
হীরালাল মুখার্জ্জী (গোলকিপার)..
উত্তর কলকাতার বাগবাজার অঞ্চলে জন্ম। অবশ্য কিশোর বয়স থেকে বেড়ে ওঠা হাওড়ায়। ফুটবলে হাতেখড়ি "হাওড়া স্পোর্টিং ক্লাব" এ। ১৯০৬ এ মোহনবাগানে যোগদান এবং ক্লাব সচিব "শৈলেন বসু" র নির্দেশে প্রথম গোলকিপার হিসাবে খেলা শুরু।
সুধীর চ্যাটার্জ্জী (রাইট ব্যাক)..
স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র ছিলেন। ঐ দলের একমাত্র "বুট পরিহিত" দেশীয় প্লেয়ার। জীবনের প্রারম্ভে ডায়না স্পোর্টিং ও ডোরিয়ান ক্লাবে খেলতেন। ১৯০৪ সালে যে বছর মোহনবাগান "কুচবিহার কাপ" জয়লাভ করে, সে'বছরই তিনি ক্লাবে যোগদান করেন। সেটিই ছিল দলের প্রথম কোনো বড় প্রতিযোগিতা জয়।
এ ভূতি সুকুল (লেফট ব্যাক)..
১৮৮৯ সালে মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পূর্বপুরুষরা ছিলেন উত্তরপ্রদেশ এর বাসিন্দা। ক্রিকেট ও হকি খেলাতেও যথেষ্ট পারদর্শী ছিলেন। জোরালো হেড ও কড়া ট্যাকল এ বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।
রাজেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (স্টপার)..
দলটির "কনিষ্ঠতম" খেলোয়াড়। ঐ সময় স্কটিশ চার্চ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বয়স মাত্র ২১ বছর।
মনমোহন মুখার্জ্জী (রাইট হাফ)..
মোহনবাগানের রক্ষন ও আক্রমণের অন্যতম সংযোগকারী। দেখতে খানিক দুর্বল হলেও অসীম দম ও ক্ষিপ্রতার অধিকারী ছিলেন।
নীলমাধব মুখার্জ্জী (লেফট হাফ)..
স্কুল ও শ্রীরামপুর কলেজে পড়বার সময় থেকে ফুটবলে আসক্তি। পাসিং ফুটবলের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
শিবদাস ভাদুড়ী (রাইট আউট)..
মোহনবাগানের শিল্ড জয়ের অন্যতম রূপকার। দলের অধিনায়ক ও মাঝমাঠের মূল সংগঠক। ১ গোলে দল পিছিয়ে থাকা অবস্থায় প্রথম গোল শোধ করেন তিনি ও জয়সূচক গোলেরও আসল কারিগর তিনিই।
কানু রায় (লেফট আউট)..
ঢাকায় জন্ম। স্কুল সেখানে হলেও কলেজ কলকাতার "হিন্দু কলেজ"। ক্ষিপ্র গতি, মাপা সেন্টার ও রামধনু শটের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
বিজয়দাস ভাদুড়ী (রাইট ইন)..
উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর অঞ্চলে বিখ্যাত ভাদুড়ী পরিবারে জন্ম। মোহনবাগান ক্লাবের জন্ম ও বিকাশে এই পরিবারের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। ১৯০৮ সালে "ট্রেডস্ কাপ" জয়ী মোহনবাগান দলের সদস্য।
হাবুল সরকার (লেফট ইন)..
পোশাকি নাম "শ্রীশচন্দ্র সরকার"। যদিও "হাবুল" নামেই অধিক পরিচিত। কলকাতা কর্পোরেশন এর কর্মী ছিলেন ইনি। মানিকতলা অঞ্চলে জন্ম ও বসবাস।
অভিলাষ ঘোষ (স্ট্রাইকার)..
জয়সূচক গোলের নায়ক। ঢাকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ১৯১১ তেই মোহনবাগানে যোগদান। সেমিফাইনালে এঁনার সাথে সংঘর্ষেই "মিডলসেক্স" এর গোলরক্ষক "পিগট" কে আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।
অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ি ও অভিলাষ ঘোষের গোলেই ইংরেজদের হারিয়েছিল বাগান৷ সেদিন ময়দান থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত ব্রিটিশদের হারিয়ে গৌরব ফেরানো ফুটবলারদের মাথায় তুলে নিয়ে যান হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী৷ পরে শিবদাস ভাদুড়িকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘ব্রিটিশরা কবে দেশছাড়া হবে?’ গর্বিত মোহনবাগান অধিনায়ক উত্তরে তখন জানিয়েছিলেন, "মোহনবাগান যেদিন ফের শিল্ড জিতবে সেদিন হয়ত ভারতের মাটিতে ব্রিটিশরাজ অতীতের পাতায় নাম লেখাবে"৷ কাকতালীয় হলেও মোহনবাগান দ্বিতীয়বার শিল্ড জিতেছিল ১৯৪৭ সালে৷ এবং সেটা ছিল ভারতের স্বাধীনতার বছর।
১৯৮৯ সালে মোহনবাগান ক্লাবের জন্ম শতবার্ষিকীতে ১৯১১ সালের ঐতিহাসিক জয়ের স্মরণে ভারত সরকার এক বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ করে ভারতের জাতীয় ক্লাবকে সম্মান জানায়।
লেখা ও ছবি নেট থেকে সংগৃহীত।
01/08/2024
ঘটনাটি অনেকেই জানেন না, পড়ার অনুরোধ রইল🌺🌺
শুনশান রেল স্টেশন, দিনের শেষ ট্রেনটি প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে গেছে। এক বৃদ্ধা বসেই আছেন। জানেন না পরের ট্রেনটি আসবে পরের দিন। এক কুলির নজর গেল সেদিকে।
- মাইজি, তুমি কোথায় যাবে?
- দিল্লি যাব বাবা ছেলের কাছে।
- আজকে তো আর ট্রেন নেই মাইজি।
বৃদ্ধার অসহায় দৃষ্টি। কুলিটির বোধহয় দয়া হল।
- মাজি তোমায় ওয়েটিং রুমে রেখে আসি।
- তাই চল বাবা। কি আর করব!
- তোমার ছেলে বুঝি দিল্লিতে থাকে?
- হ্যাঁ বাবা।
- কি করে?
- রেলে কি যেন একটা কাজ করে!
- নামটা বল দেখি। যোগাযোগ করা যায় কিনা দেখছি।
- ও তো আমার লাল। সবাই ওকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলে ডাকে যে!
তিনি তখন ভারতীয় রেলওয়ের ক্যাবিনেট মিনিস্টার। মুহূর্তের মধ্যে গোটা স্টেশন তোলপাড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে এলো সালুন কার। বৃদ্ধা অবাক। তাঁর ছেলের এত ক্ষমতা!
লাল বাহাদুর কিছুই জানতেন না। সমস্ত আয়োজন করেছিল ভারতীয় রেল।
পরিশেষে একটিই কথা। এমন মা না হলে অমন ছেলে হয়? এই রকম নেতা এখন দুর্লভ, এঁরা ক্ষমতা প্রতিপত্তির জন্য পদে বসেননি, এঁরাই পদকে অলংকৃত করেছেন।
ছেলের দেখা পাওয়ার পর
তিনি ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন - "বেটা , তু রেলমে কেয়া কাম করতে হো? এলোগ পুছা তো ম্যায়নে কুছ নেহি বোলপায়া।"
তার উত্তরে ছেলে বলেছিলেন - "ছোটি সি কাম
30/07/2024
With Sanatani100200 – I just got recognized as one of their rising fans! 🎉
30/07/2024
With Saugata photography – I just got recognized as one of their top fans! 🎉
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Rasapunja
Kolkata
700104
Opening Hours
| Monday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Tuesday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Wednesday | 9am - 12:15pm |
| 6pm - 8pm | |
| Thursday | 9am - 12:29pm |
| 6pm - 8pm | |
| Friday | 9am - 12:29pm |
| 6pm - 8:29pm | |
| Saturday | 9am - 12:30pm |
| 4pm - 8pm | |
| Sunday | 9am - 12:30pm |
| 6pm - 8pm |