StepsForward
This is spiritual & motivational page,
Trainer: Aparna Das Biswas Come to know our hindu relegation
14/12/2025
যেদিন পঞ্চতপা করব, সেদিন আমার বুক ধরফর করতে লাগল, খালি ভয় হতে লাগলো। কি করে আগুনের ভেতর সেঁধুব!!
পঞ্চতপা সাধনারতা সারদা। পঞ্চাগ্নির মধ্যে উদয়াস্ত বসে সাধনা অতি প্রাচীন। ভাগবতে, মনুসংহিতা ও কুমারসম্ভবকাব্যে পঞ্চতপা সাধনার উল্লেখ আছে। পার্বতী মহাদেবকে স্বামিরূপে পাওয়ার জন্য পঞ্চতপা করেছিলেন। শ্রীশ্রীমায়ের পঞ্চতপা অনুষ্ঠানের আমরা দুটি কারণ জেনেছি। প্রথম, ঠাকুরের দেহত্যাগের পর মায়ের মনে তীব্র বৈরাগ্য এল। তিনি জগৎ ছেড়ে চলে যেতে চাইছিলেন। তাঁর মনের অবস্থা দেখে এক নেপালি সন্ন্যাসিনী কাশীতে পরামর্শ দেন, "মাঈ, পঞ্চতপা করো।" তিনি ভাবলেন, এই বাইরের আগুন ভিতরের আগুনকে প্রশমিত করবে। দ্বিতীয় কারণ মা নিজেই বলেছিলেন, "এসব করা লোকের জন্য। নইলে লোকে বলবে, 'কই সাধারণের মতো খায় দায় আছে।” পঞ্চতপা ব্ৰতানুষ্ঠান প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীমায়ের শ্রীমুখনিঃসৃত দুটি বিবরণ পাওয়া যায়।
প্রথম বিবরণ:
কি দিনই সব গেছে-কি বলব তোমাদের! তারপর পূর্ণিমার রাত্রিতে যখন ঠাকুরকে গঙ্গায় মিশে যেতে দেখলুম, সেই থেকে শরীর রাখব ঠিক করলুম। ঠাকুরের কথা অমনি মনে পড়ে গেল-তিনি বলেছেন— 'তোমার মরা হবে না-তোমায় থাকতে হবে-আমি আর কজনকে দেখিছি? তোমার কাছে ঢের আসবে-তাদের ভার তোমার ওপর'-এই সব মনে হতে লাগলো, আর সারা রাত ঘুম হলো না। সকালে মেয়ে যোগেনকে (যোগীন মা-ঠাকুর ও মায়ের স্ত্রীভক্ত) পঞ্চতপার উদ্যোগ করতে বললুম। গোলাপ আর মেয়ে যোগেন বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাড়ীর ছাতের উপরে মাটি ফেলে খুঁটে যোগাড় করলে।
তারপর যেদিন পঞ্চতপা করবো, সে দিন যখন এলো, আমার বুক ধড়ফড় করতে লাগল-খালি ভয় হতে লাগল, কি করে আগুনের ভেতর সেধুব। বুঝে দেখ কি ব্যাপার। পাঁচ হাত অন্তর অন্তর করে চারটে খুঁটের আগুনের বেড় মোটা করে গোল করে রাখা হয়েছে-দাউ দাউ করে জ্বলছে, আর মাথার ওপর ঠিক দুপুরের সূর্যি দারুণ গরমকাল-গঙ্গায় নেয়ে এসে কি করে আগুনের ভেতর ঢুকব, তা-ই ভাবছি-মেয়ে যোগেন সাহস দিয়ে বললে-'মা, ঢুকে পড়-ভয় কি?' তার সাহস পেয়ে ঠাকুরকে স্মরণ করে ঢুকলুম-মাঝখানে গিয়ে বসলুম-সন্ধ্যে পর্য্যন্ত রইলুম-এই পাঁচ পাঁচ দিন করলুম। শরীরটা পোড়া কাঠ হয়ে গেল, তবে গিয়ে মনের আগুন নিবল।
দ্বিতীয় বিবরণ:
একদিন মা বলিলেন, "ঠাকুর চলে যাবার কিছুকাল পর থেকে প্রায়ই দেখতুম দাড়িটাড়িওয়ালা এক সন্ন্যাসী আমাকে পঞ্চতপা করবার কথা বলতেন। প্রথম প্রথম আমি তেমন খেয়াল করিনি। পঞ্চতপা কি, তাও তত জানতুম না। তিনি ক্রমেই পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। তারপর যোগেনকে (যোগেন-মা) পঞ্চতপার কথা জিজ্ঞাসা করায় যোগেন বললে, 'বেশ তো, মা, আমিও করব।' পরে পঞ্চতপার যোগাড় করা হলো। তখন বেলুড়ে নীলাম্বরবাবুর বাড়িতে। চারিদিকে ঘুঁটের আগুন, উপরে সূর্যের প্রখর তেজ। প্রাতে স্নান করে কাছে গিয়ে দেখি আগুন গমগম করে জ্বলছে। প্রাণে বড়ই ভয় হলো, কি করে ওর ভিতর যাব, আর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে বসে থাকব। পরে ঠাকুরের নাম করে ঢুকে দেখি, আগুনের কোন তেজ নেই। এভাবে সাতদিন' কাজ করি। কিন্তু বাবা, শরীরের বর্ণ যেন কালো ছাই হয়ে গিছল। এর পর আর সে সন্ন্যাসীকে দেখি নাই।"
🙏জয় মা🙏
।। সংগৃহীত ।।
28/11/2025
যেকোনো অবস্থায় সমস্ত চাওয়া-পাওয়া পরিত্যাগ করে ঈশ্বরের ভজনা করাই যেন আমাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। বাড়ি, গাড়ি, অর্থ, মানুষের আসা-যাওয়া-সবই আছে, কিন্তু সেগুলিকে যদি আমি আঁকড়ে ধরি, তবে সংসারকে ধরা হলো। তখন এই সবকিছুর থেকে সৃষ্ট ফলাফল আমাকে সুখ বা দুঃখ দেবে, চাহিদা তৈরি করবে মনে এবং ক্রমশই আমি ঈশ্বরের আরাধনা থেকে দূরে সরতে থাকব। ঈশ্বরকে দু-হাতে আঁকড়ে ধরলে কিন্তু এই জগৎসংসারের কষ্ট, তাপ আর বিচলিত করে না। বেদান্তের পঞ্চদশীতে উল্লিখিত-ঈশ্বরসৃষ্টি আমাদের কষ্ট দেয় না, জীবসৃষ্টি আমাদের কষ্ট দেয়। ব্যাপারটা কেমন একটু দেখা যাক। ঈশ্বরসৃষ্টি কী? এই জগৎ, এই শরীর। তাহলে এই জগতে তো কত কষ্ট, এই শরীর তো কত পীড়া সহ্য করে-তাহলে ঈশ্বর কষ্ট দেন না, বলি কী করে? বেদান্তমতে বিচার করলে, ঈশ্বরসৃষ্ট এই জগৎ, শরীর বা বিভিন্ন শারীরিক অবস্থা সকলের জন্যই এক। রোগ-পীড়ার মধ্য দিয়ে সকলকেই যেতে হয়। কিন্তু কষ্ট আসে আমাদের অজ্ঞানতা থেকে-আর এই অজ্ঞানতা থেকেই আমরা মনে করি, আমি শরীর এবং এই শরীরের কষ্ট আমারই কষ্ট; আমি মন এবং এই মনের কষ্ট আমারই কষ্ট।
সেজন্য শাস্ত্র বলছেন, এই জীবসৃষ্টি অর্থাৎ 'আমি-আমার' রূপ অজ্ঞানজনিত কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের ঈশ্বরাভিমুখী হতেই হবে, এছাড়া আর অন্য কোনো পথ নেই।
স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ মহারাজ🪷
27/11/2025
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
26/11/2025
মানব সভ্যতায় সনাতন ধর্মের অবদান :
১. বর্ণ ও লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার।
-কারণ, পৃথিবীর আদিগ্রন্থ হলো ঋগ্বেদ, আর এই ঋগ্বেদ সনাতন ধর্মের ঋষিদের দ্বারা রচিত, আর লিখতে তো বর্ণ লেগেছে, তাই না ?
২. সময়ের হিসেব আবিষ্কার।
-কারণ, জ্যোতিষ শাস্ত্রে- দণ্ড, পল, ঘণ্টা, বার, সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছরের হিসেব রয়েছে সেই বেদের যুগ থেকে, যার আবিষ্কারক সনাতন ধর্মের মুনি ঋষিরা।
৩. মহাকাশে অবস্থিত গ্রহ নক্ষত্রের আবিষ্কার।
- মুনি ঋষিরা জ্যোতিষশাস্ত্রকে ব্যাখ্যা করার জন্য মহাকাশে পৃথিবীর আশেপাশে অবস্থিত নয়টি গ্রহ এবং ২৭টি নক্ষত্র সম্পর্কে বলে গেছেন, যে বিষয়ে তাদের পূর্বে কারো কোনো ধারণা ই ছিলো না, পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা সেই সব গ্রহ নক্ষত্রের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছে।
৪. সাত বারের নামের আবিষ্কার।
- মুনি ঋষিরা জ্যোতিষ শাস্ত্রকে ব্যাখ্যা করার জন্য সাতটি গ্রহের নাম অনুসারে সাত বারের সাতটি নাম রেখেছিলেন- যা রবি, সোম, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র এবং শনিবার নামে পরিচিত, যে নামগুলোই বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন নামে ব্যবহার হচ্ছে।
৫. বছরকে ১২ মাস এবং ৩৬৫ দিনে ভাগ।
- মুনি ঋষিগণ বছরকে ১২ মাসে এবং ৩৬৫ দিনে এবং মাসকে সাধারণত ৩০ দিনে বিভক্ত করেছিলেন, যার উপর ভিত্তি করে জ্যোতিষ শাস্ত্রের হিসেব নিকেশ গড়ে উঠেছে এবং যার বহু ব্যবহার রামায়ণ মহাভারতে রয়েছে।
৬. জ্যামিতির আবিষ্কার :
-ইউরোপীয় প্রচারণার ফলে অনেকেই এটা জানেন যে জ্যামিতির আবিষ্কারক গ্রীসের ইউক্লিড। কিন্তু ইউক্লিডের জন্মের অন্তত ৮/১০ হাজার বছর আগেই জ্যামিতির জ্ঞান ব্যবহার করে সিন্ধু ও আর্যসভ্যতার মুনি ঋষিগণ যজ্ঞের জন্য চতুর্ভূজ যজ্ঞক্ষেত্রের নির্মান করতেন, শুধু তাই নয় সেই সময় তারা হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর মতো সভ্যতারও সৃষ্টি করেছিলেন, জ্যামিতিরজ্ঞান ছাড়া এটা কিভাবে সম্ভব অমন দালান কোঠা এবং পরিকল্পিত নগর গড়া ? শুধু তাই নয় ভারতে যে প্রাচীন জ্যামিতির ব্যবহার হতো, তার কোনো সীমাবদ্ধতা ছিলো না, কিন্তু ইউক্লিডের জ্যামিতির বহু সীমাবদ্ধতা আছে; যেমন- ইউক্লিডের জ্যামিতির দ্বারা ত্রিভূজ, চতুর্ভূজ বা বৃত্তাকার নয় এমন অসমান বা এবড়োথেবড়ো ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল পরিমাপ করা এবং উপবৃত্ত আঁকা সম্ভব নয়, কিন্তু ভারতীয় জ্যামিতিতে সুতার দ্বারা যে ক্ষেত্রেফল নির্ণয়ের পদ্ধতি ছিলো, তার দ্বারা সকল ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলই শুধু নির্ণয় করাই সম্ভব নয়, উপবৃত্তও আঁকা সম্ভব। এই সব বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় ভারতীয় জ্যামিতি শুধু প্রাচীনই নয়, সম্পূর্ণও বটে ইউক্লিডীয় জ্যামিতির তুলনায়।
৭. শূন্যের আবিষ্কার :
সনাতনী হিন্দু আর্যভট্টই প্রথম শূন্য বা জিরোর আবিষ্কার করেন, যা সমগ্র পৃথিবীতে গাণিতিক হিসেব নিকেশে একটা বিপ্লব আনে।
৮. চিকিৎসা পদ্ধতি :
আমরা সবাই জানি যে- গাছ গাছড়া থেকে আহৃত ভেষজই পৃথিবীর প্রাচীন চিকিতসা পদ্ধতি, এটা সনাতনী মুনি ঋষিদের আবিষ্কার এবং এটা বেদ থেকে উদ্ভূত বলেই এর নাম আয়ুর্বেদ।
৯. চাকা আবিষ্কার :
অনেকেই মনে করে যে চীনারা চাকা আবিষ্কার করেছে। কিন্তু চৈনিক সভ্যতা সৃষ্টির বহু আগে থেকেই ভারতে চাকার ব্যবহার ছিলো কুমারদের মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে এবং ঘোড়ার গাড়ি নির্মাণে। এখানে উল্লেখ্য যে চাকা সম্বলিত ঘোড়ার গাড়ি যা হিন্দুপুরাণে রথ নামে পরিচিত, সেটাই পৃথিবীর প্রথম দ্রুতগামী গাড়ীর কনসেপ্ট, চাকার ধারণা ছাড়া সেটা কিভাবে সম্ভব ছিলো ? তাহলে চাকার আবিষ্কারক কারা, ভারতীয় সনাতনীরা, না চীনারা ?
১০. বই পড় জ্ঞানী হওয়ার ধারণার আবিষ্কার :
সর্বদায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি থিয়োরি হলো- বই পড়লেই জ্ঞানী হওয়া যাবে, এই কনসেপ্টটির আবিষ্কারকও সনাতন ধর্মের মুনি ঋষিরা, যে কারণে তাদের প্রাপ্ত সকল জ্ঞান তারা বইপুস্তকে লিপিবদ্ধ করে গেছেন এবং শিষ্যদেরকে তা শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং এই জ্ঞান যাতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত থাকে সেই শিক্ষা দিতে একজন জ্ঞানের দেবীর কনসেপ্ট সরস্বতীর তত্ত্ব দিয়ে গেছেন এবং সেই সরস্বতীর হাতে জ্ঞানের প্রতীক বই রেখেছেন এটা বোঝানোর জন্য যে বই পড়লেই জ্ঞান পাওয়া যাবে।
১১. পরিশ্রম করে ধনী হওয়ার কনসেপ্ট আবিষ্কার :
পরিশ্রম করলেই যে ধনী হওয়া যায়, সেই ধারণাটাও সনাতনী মুনি ঋষিগণের আবিষ্কার, যে শিক্ষা দেবার জন্য তারা ধনসম্পদের দেবী হিসেবে দেবী লক্ষ্মীর তত্ত্ব দিয়ে গেছেন এবং লক্ষ্মীর সাথে ধান রেখে এটা বুঝিয়েছেন যে পরিশ্রম করলেই ধনী হওয়া যাবে, যেহেতু ধান উৎপাদনই পৃথিবীতে সর্বাধিক কষ্ট এবং পরিশ্রমের কাজ।
১২. দশ দিকের নাম আবিষ্কার :
পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ শুধু এই চারদিকই নয়; ঈশান, অগ্নি, নৈঋত, বায়ু, ঊর্ধ্ব এবং অধঃ সহ যে দশদিকের কথা আমরা জানি- সেসবের নামদাতা আমাদের বেদ রচয়িতা ঋষিগণ। কারণ, তারা জ্যোতিষ শাস্ত্রের অংশ বাস্তুশাস্ত্রকে ব্যাখ্যা করার জন্য এই ১০ দিকের নাম প্রথম ব্যবহার করেছেন, যে নামগুলো বর্তমানে সারা পৃথিবীর লোকজন বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন নামে ব্যবহার করছে।
এছাড়াও- নাচ, গান, ছবি আঁকা, মূর্তি নির্মাণ, কাব্য রচনাসহ সমস্ত প্রকারের শিল্পকলার উদ্ভব সনাতন ধর্ম থেকে, যা সমগ্র পৃথিবীর মানুষ চর্চা করে বা করতে বাধ্য হয়। , একজন সনাতনী বা হিন্দু হিসেবে মানব সভ্যতার সবকিছু যে সনাতনীদের আবিষ্কার বা অবদান, এটা নিয়ে আপনি গর্ব করতেই পারেন।
জয় সনাতন
জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীকৃষ্ণ।
25/11/2025
ভগবানের সামনে সষ্টাঙ্গ প্রণাম করার সঠিক ভঙ্গি হচ্ছে এটা। পুরুষ এবং মহিলার জন্য আলাদা।
প্রণাম মানে: 'প্র' অর্থ সামনে বা আগে, এবং 'নাম' অর্থ বাঁকানো বা প্রসারিত করা। সম্মিলিত পরিভাষায়, এর অর্থ ভগবানের সামনে 'শ্রদ্ধেয়ভাবে নত হওয়া',।
সাষ্টাঙ্গ =সহ+অষ্টাঙ্গ। এটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ আট অঙ্গ দ্বারা প্রণাম।আটটি অঙ্গ হল- মস্তক,হস্ত,বক্ষ, মন,জানু,দৃষ্টি, বাক্য,চরণ।শাস্ত্রমতে চক্ষু দ্বারা দর্শন,মন দ্বারা প্রশংসা,হস্ত জোড় করে মস্তক,বক্ষ,জানু ও চরণ ভূমি লগ্ন করে প্রণাম করাকে অষ্টাঙ্গ /সাষ্টাঙ্গ প্রণাম বলে।
এই মূর্তিটি শ্রী শারদা পরমেশ্বরী দেবস্থানম, শ্রী শৃঙ্গেরী শঙ্কর মঠ গুন্টুর অন্ধ্রপ্রদেশ আছে।
25/11/2025
ঠাকুর উপবাসের সম্বন্ধে বলতেন, "মার পায়ের বিল্বপত্র ভক্ষণ করে কিংবা ...মায়ের প্রসাদী দ্রব্য খেয়ে কিছু খেলে দোষ থাকে না। যদি ঠিক ঠিক বোধ হয় তবে ত ফল হবে। আবার পেট চুঁই চুঁই করছে, তাতে কি আর ধর্ম কর্ম চলে। একে কলিকাল, অন্নগত প্রাণ, অল্প আয়ু। উপবাস করে ওসব করা চলে না, তাতে ঠিক ঠিক মন বসে না। তাই আগে কিছু খেয়ে নিতে হয়।"
--- রামলাল চট্টোপাধ্যায়
🙏জয় ঠাকুর🙏
--- সংগৃহীত।
24/11/2025
স্বামী বিবেকানন্দ শ্রী রামকৃষ্ণের অবতারতত্ত্বের ও উদ্দেশ্য খুব সংক্ষেপে ও গভীর অর্থপূর্ণ একটি শ্লোকে ব্যক্ত করেছেন। এই শ্লোকটি হচ্ছে -
"ওঁ স্হাপকায় চ ধর্মস্য, সর্বধর্ম স্বরূপিনে।
অবতার বরিষ্ঠায় রামকৃষ্ণায় তে নমঃ॥"
"যিনি ধর্মের স্থাপক, সর্ব ধর্মের স্বরূপ ও অবতারবরিষ্ঠ সেই 'রামকৃষ্ণ' কে আমি নমস্কার করি।"
কামারপুকুরের গদাই রূপে জন্ম থেকে দক্ষিনেশ্বরের পরমহংস শ্রী রামকৃষ্ণ পর্যন্ত ধর্ম কে পুনঃ সুদৃঢ় ভিত্তিতে স্হাপন করা।
ব্রহ্ম, ঈশ্বর, আত্মা সব সত্য জগতের শরীর, মন, বুদ্ধি অহঙ্কার গুলো এই ব্রহ্মশক্তিতে কাজ করছে, তবে ক্ষনস্হায়ী ইত্যাদি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করাটাই হচ্ছে ধর্মের স্হাপনা।
এখন রামকৃষ্ণ অবতার ১৮৩৬ সালে জন্মেছিলেন আর ১৮৮৬ সালে মাত্র পঞ্চাশ বৎসর বয়সে শরীর ত্যাগ করলেন। তাতে তাঁর সব লীলা ফুরিয়ে গেল - ভাবলে ভুল হবে। কেন না অবতার রা দীর্ঘ কাল কয়েকশত বৎসরের জন্য মুল তত্ত্ব গুলো সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠা করে যান। এ তত্ত্ব গুলি তিনি পুনরায় না আসা পর্যন্ত যাতে ভালভাবে থাকে সেভাবে পাকা ব্যাবস্থা করে যান। তার জন্য তিনি তাঁরই ভিন্ন ভিন্ন অংশ অন্তরঙ্গ শিষ্য দের সঙ্গে আনেন। তাদের মধ্যে সর্ব প্রধান মূল ভিত্তি আর তাঁর মতের বাহক রূপে নরেন্দ্রনাথ কে আনলেন।
ঠাকুরের নিজের কথায় - "মন নির্বিকল্প সমাধি তে লীন হতে হতে সব দেব দেবী কে ছাড়িয়ে অখন্ড সত্তায় চলে গেল। এই অখন্ড সত্তা একটি ছোট শিশুর রূপ ধরে আবার নেমে আসতে আসতে সাতটি ঋষি নির্বিকল্পতে লীন হয়ে বসেছিলেন দেখতে পেলেন। তার মধ্যে একজনকে গলা ধরে এই দেব শিশু টি বলল "আমি যাচ্ছি তোমাকেও আসতে হবে।" সেই ঋষি একটু খুলে মৌনভাবে সন্মতি জানাল। সেই সপ্ত ঋষির একজন, সাক্ষাৎ নর নারায়ন ই - কোলকাতার সিমলা পল্লীতে বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ছেলে "নরেন্দ্র" হয়ে জন্মেছে। ও আমার কাজের জন্য, মা কালীর কাজের আজ এসেছে। ওর এই পৃথিবী তে যে কাজের জন্য এসেছে সেটা ফুৃরিয়ে গেলে আবার সেই সপ্ত ঋষি মন্ডলেই চলে গিয়ে ধ্যানে লীন থাকবে।" - এই হচ্ছে শ্রী রামকৃষ্ণের আর একটা অংশ স্বামী বিবেকানন্দের সারতত্ত্ব।
ঐ শিশু ই হচ্ছে সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম - এ যুগের উপযোগী হয়ে এসেছেন। তবে এবার অত্যন্ত বিশুদ্ধ সত্ত্ব প্রধান হয়ে এসেছেন। অর্থাৎ এবার অস্ত্র, শস্ত্র, যুদ্ধ্, বিগ্রহ এসব করবেন না। এবার ধর্মস্হাপন করাবেন তাঁর ঐ প্রধান অস্ত্র বা যন্ত্র স্বামী বিবেকানন্দ কে দিয়ে।
তথ্য - শ্রী রামকৃষ্ণ ও তাঁর অবতারলীলা - স্বামী সৎপ্রভানন্দ।
(সংগৃহীত)
17/11/2025
"সাধুনাং দর্শনং পুণ্যাং তীর্থভূতা হি সাধবঃ ৷তীর্থং ফলতি কালেন সদ্যঃ সাধু সমাগমঃ ৷"
——— সাধু দর্শনের ফল পুণ্যাত্মক ৷ তীর্থদর্শনের ফল বিলম্বে ফলে কিন্তু সাধুসঙ্গের ফল সদ্য সদ্য ফলে ৷
"সন্ন্যাসী মানেই সাধু নয়, সংসারী লোকও সাধু হতে পারে । যে ঈশ্বরের চিন্তা করে, সৎ জীবন যাপন করে সেই সাধু । কিন্তু বিধিপূর্বক যে সন্ন্যাস গ্রহণ করে সে সন্ন্যাসী । তাই বলেছেন সন্ন্যাসীরও সাধুসঙ্গ দরকার ৷"
— স্বামী ভূতেশানন্দ, প্রণামিকা বিশেষ সংখ্যা,
পৃ, ১৩৮
🌸🌸🙏🙏🙏🌸🌸
10/11/2025
বেলুড় মঠের সূচনা থেকেই শ্রীশ্রীমা এখানে লীলারতা। শ্রীশ্রীঠাকুরের উদ্দেশ্যে তাঁর মর্মস্পর্শী আকুল প্রার্থনা ও অন্তরে-মথিত ফলশ্রুতি এই বেলুড় মঠ।
তাঁর নিজের কথায়: "আহা !এর জন্যে ঠাকুরের কাছে কত প্রার্থনা করেছি। তবে তো আজ তাঁর কৃপায় মঠ-টঠ যাকিছু। ঠাকুরের শরীর যাবার পর ছেলেরা সংসার ত্যাগ করে কয়েকদিন একটা আশ্রয় করে সব একসঙ্গে জুটল। তারপর একে একে স্বাধীনভাবে বেরিয়ে পড়ে এখানে ওখানে ঘুরতে থাকে। আমার মনে তখন খুব দুঃখ হলো। ঠাকুরের কাছে এই প্রার্থনা করতে লাগলুম, 'ঠাকুর, তুমি এলে, এই কয়েকজনকে নিয়ে লীলা করে আনন্দ করে চলে গেলে, আর অমনি সব শেষ হয়ে গেল?
তাহলে আর এত কষ্ট করে আসার কী দরকার ছিল? কাশী বৃন্দাবনে দেখেছি, অনেক সাধু ভিক্ষা করে খায়, আর গাছ তলায় ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। সেরকম সাধুর তো অভাব নেই। তোমার নাম করে সব ছেড়ে বেরিয়ে আমার ছেলেরা যে দুটি অন্নের জন্য ঘুরে ঘুরে বেড়াবে, তা আমি দেখতে পারব না। আমার প্রার্থনা, তোমার নামে যারা বেরুবে তাদের মোটা ভাত -কাপড়ের অভাব যেন না হয়। ওরা সব তোমাকে আর তোমার সব ভাব ,উপদেশ নিয়ে একত্রে থাকবে।
আর এই সংসারতাপদগ্ধ লোকেরা তাদের কাছে এসে তোমার কথা শুনে শান্তি পাবে। এজন্যই তো তোমার আসা। ওদের ঘুরে ঘুরে বেড়ানো দেখে আমার প্রাণ আকুল হয়ে ওঠে।' তারপর থেকে নরেন ধীরে ধীরে এইসব করল।
জয় ঠাকুর জয় জয় মা🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
।। সংগৃহীত ।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Karimpur