Krishna bhakti

Krishna bhakti

Share

AGURUDA YouTube চ্যানেল শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মীয় গান, এক নাম কীর্তন, নীলা কীর্তন,

movie, songs, Bhajans,short films,ধর্মীয় অনুষ্ঠান দিয়ে থাকি।
সাথে থাকার জন্য x"ধন্যবাদx" �

25/09/2025

🥰 হরে কৃষ্ণ 🙏🙏
একদিন বৃন্দাবনে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলো। বজ্রপাত, কালো মেঘ আর ভয়ার্ত ঝড়ে গোপাল-গোপিনী সবাই আতঙ্কিত। তারা দৌড়ে কৃষ্ণের কাছে এল।🌹

ছোট্ট কৃষ্ণ শান্ত গলায় বললেন—
“ভয় পেয়ো না, আমি আছি।”🌹

তারপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে কৃষ্ণ এক হাতে বিশাল গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরলেন। গোটা গ্রাম, গরু, গোপাল, গোপিনী—সবাই সেই পাহাড়ের নিচে আশ্রয় নিল। ঝড়-বৃষ্টি তাদের স্পর্শই করতে পারল না।🌹

সাত দিন ধরে কৃষ্ণ হাসিমুখে পাহাড় ধরে রাখলেন। সবার চোখে তখন আর কেবল দুষ্টু গোপাল নয়, দেখা গেল বিশ্বরক্ষক শ্রীকৃষ্ণ।

ঝড় থেমে গেলে সবাই আনন্দে নাচল আর বলল—
“তুমি আমাদের প্রভু, অথচ বন্ধু হয়েই থেকেছো।”🌹

Photos from Krishna bhakti's post 24/09/2025

হরে কৃষ্ণ " পরমেশ্বর ভগবান শ্রী শ্রী গোবিন্দের সৃষ্টি, আধ্যাত্মিক শক্তি ও সাধনার পদ্ধতি""""""""

(১) শ্রী শ্রী গোবিন্দের সৃষ্টি তত্ত্ব

শাস্ত্র অনুসারে গোবিন্দ নামেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পরম কারণ বলা হয়।

ব্রহ্মসংহিতা (৫.১):
“ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্ গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্॥”

➤ অর্থাৎ, কৃষ্ণ বা গোবিন্দ হলেন চূড়ান্ত ঈশ্বর, যিনি আনন্দময়, চিরন্তন সচ্চিদানন্দময় বিগ্রহ। তিনি অনাদি, তবুও সমস্ত কিছুর আদি কারণ।

শ্রীমদ্‌ভাগবত মহাপুরাণ (১০.৮.১৪):
গোবিন্দ নামের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে—“যিনি গো (গোপ, ইন্দ্রিয়, পৃথিবী, বেদ, গরু) পালন করেন তিনিই গোবিন্দ।”
অর্থাৎ গোবিন্দ হলেন বিশ্বরক্ষক ও সমগ্র সৃষ্টির মূল আশ্রয়।

(২) শ্রী শ্রী গোবিন্দের আধ্যাত্মিক শক্তি

ভগবান গোবিন্দ তাঁর অসীম শক্তি দ্বারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করেন। শাস্ত্রে তিন প্রকার প্রধান শক্তির কথা বলা হয়েছে—

1. অন্তরঙ্গ শক্তি (স্বরূপ শক্তি):

এ শক্তির মাধ্যমে ভগবান তাঁর নিজ আধ্যাত্মিক লীলাজগৎ (বৈকুণ্ঠ, গোলোক বৃন্দাবন) প্রকাশ করেন।

এখানে ভক্তরা চিরন্তন প্রেমসেবায় যুক্ত থাকেন।

2. বহিরঙ্গ শক্তি (মায়া শক্তি):

এ শক্তি দ্বারা জড় জগতের সৃষ্টি, পালন ও লয় ঘটে।

আমরা জন্ম-মৃত্যুর চক্রে এই শক্তির প্রভাবে আবদ্ধ হই।

3. তটস্থ শক্তি (জীবশক্তি):

এ শক্তি থেকেই অসংখ্য জীবাত্মার সৃষ্টি।

জীব আত্মা মায়ার মধ্যে বা আধ্যাত্মিক জগতে অবস্থান করতে পারে—এ তার চেতনার উপর নির্ভরশীল।

🔹 গোবিন্দ হলেন এই তিন শক্তির অধীশ্বর। তিনি ইচ্ছামাত্র বিশ্বজগৎ সৃষ্টি ও লয় করেন—
ভগবদ্গীতা (৯.১০):
“ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূযতে সচরাচরম্।”
➤ অর্থাৎ, আমার অধীনে প্রকৃতি সমগ্র জগতের সৃষ্টি করে।

(৩) শ্রী শ্রী গোবিন্দের সাধনা পদ্ধতি

গোবিন্দকে উপলব্ধি করার প্রধান মাধ্যম হল ভক্তি-সাধনা।

প্রধান সাধনা পদ্ধতি:

1. শ্রবণ ও কীর্তন (শ্রবণ-কিर्तन):

ভগবানের নাম, গুণ, লীলা শ্রবণ করা ও কীর্তন করা।

শ্রীমদ্ভাগবত (১.২.১৭):
“শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্।”

2. স্মরণ (স্মরণ-ধ্যান):

গোবিন্দের নাম ও রূপ সর্বদা হৃদয়ে স্মরণ করা।

3. পূজা ও সেবা:

মন্দির পূজা, আরতি, নৈবেদ্য প্রদান, গরু সেবা ও ব্রজবাসী সেবার মাধ্যমে গোবিন্দকে তুষ্ট করা।

4. জপ:

বিশেষ করে মহামন্ত্র জপ—
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে॥”

5. সৎসঙ্গ ও গুরুভক্তি:

সত্যসঙ্গ গ্রহণ করে আচার্য ও গুরুজনের নির্দেশ অনুসারে ভক্তি পালন।

(৪) সাধনার ফল

চিরন্তন শান্তি ও আনন্দ: গোবিন্দ ভক্তকে সচ্চিদানন্দ-প্রদায়ক শক্তি প্রদান করেন।

মুক্তি: জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি।

গোলোকে প্রবেশ: সর্বশেষে ভক্ত শ্রী শ্রী গোবিন্দের চরণে গিয়ে তাঁর নিত্যলীলায় যোগদান করেন।

সারসংক্ষেপ:
শ্রী শ্রী গোবিন্দ পরমেশ্বর ভগবান, যিনি সমস্ত সৃষ্টির মূল কারণ ও সমস্ত শক্তির অধিপতি। তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি বিশ্বজগৎকে চালিত করে, আর তাঁকে লাভ করার একমাত্র পথ হল ভক্তি-সাধনা। ভক্তি, নাম-জপ, কীর্তন, সেবা ও স্মরণের মাধ্যমে গোবিন্দকে লাভ করা যায়।

🙏Hare krishna👏
🙏Radhe Radhe👏

16/09/2025

শিব ও সতী দেবীর বিবাহের কাহিনী —

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে ব্রহ্মার পুত্র দক্ষ প্রজাপতি, সেই দক্ষের ছিল অসংখ্য কন্যা। তাদের মধ্যে সতী ছিল অন্যতম। রূপে গুণে অতুলনীয়া। ব্রহ্মা দেবের ইচ্ছা ছিল শিবের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন। ব্রহ্মা দেব তার ইচ্ছের কথা দক্ষকে বললেন।

দক্ষ বললেন, হে পিতা, আপনি যখন বলছেন, তাহলে কোনো চিন্তা নেই। কিন্তু পাত্রের গুণ, কুল, বিদ্যা, রূপ এসব তো দেখতে হবে ? বিশেষ করে দাতা গ্রহীতার চরিত্র না দেখে কন্যা সমর্পণ করা যায় না। আপনি শঙ্করের পরিচয় আমার কাছে বলুন।

ব্রহ্মা বললেন, তিনি পঞ্চানন আবার তার সহস্র রূপ। সাধারণত ত্রিনেত্র। কখন কখন শত সহস্রও হয়। শশধরের মতো তার বর্ণ। কখনও নীলবর্ণ আবার কখনও কমলবর্ণও হয়, কখন কি যে ভাবেন বোঝা যায় না, তাঁর বিদ্যা জানতে এমন কেউ নেই সে তা জানতে পারে। চারিবেদ তার সীমা দিতে পারে না। তার গোত্রের কোনো ঠিক নেই। সবার ঈশ্বর তিনি, তিনি সিদ্ধিদাতা, মুক্তিদাতা, তিনি সৃষ্টি করেন আবার তিনি অন্তিম সংহার করেন। দিবানিশি শ্মশানে ঘোরেন।

শিবের চরিত্রের সব কিছু বললাম। আমি মনে করি সতীর উপযুক্ত হবেন।

ব্রহ্মার মুখে পাত্রের এমন পরিচয় পেয়ে দক্ষ বিস্মিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন – শিবের মধ্যে সতীর বর হবার কোনো লক্ষণ নেই। সতীর রূপের তুলনা হয় না। সব ক্রিয়া কাণ্ডের বাইরে শিব। তার হাতে কন্যা দান করা অসম্ভব। আমার কন্যা কখনই শ্মশান বাসী হতে পারবে না।

আমি রাজা আর আমার জামাই ভিখারী ?

দক্ষের কথায় ব্রহ্মা দুঃখিত হয়ে বললেন, সকল জীবের পরম ঈশ্বর শিব, সকল দেবতার থেকে তিনি প্রবীণ, তিনি নির্গুণ হয়েও সগুণ, তার সমান পাত্র জগতে দ্বিতীয় কেউ নেই।

ব্রহ্মার মুখে এমন কথা শুনে দক্ষ বললেন – হে পিতা, আমি আমার সতীকে আপনার হাতেই তুলে দিলাম। তারপর আপনি আপনার ইচ্ছামতো যার হাতে পারো তুলে দিন।

এই কথা বলে দক্ষ সতীকে এনে ব্রহ্মার হাতে তুলে দিলেন। ব্রহ্মা সতীকে নিয়ে হিমালয়ে চলে গেলেন। তারপর তিনি সকল দেবতাদের স্মরণ করতে সবাই উপস্থিত হলেন সেখানে। তারপর গন্ধর্ব, চারণ, সিদ্ধগণ ও সপ্তর্ষিকেও স্মরণ করে আনা হল। সপ্তর্ষি বেদমন্ত্র উচ্চারণ করলেন। ব্রহ্মা শিবের হাতে সতীকে সম্প্রদান করলেন। নৃত্য গীতে সবাই আনন্দ উপভোগ করলেন। দেবতারা শিব-সতীর মাথায় পুষ্পবৃষ্টি করলেন।

সকলকে প্রস্থান করিয়ে ব্রহ্মা আপন পুরীতে চলে গেলেন। দেবতারাও চলে গেলেন। শিবকে পতিরূপে পেয়ে সতীর খুব আনন্দ। একসময় ব্রহ্মা বিষ্ণু সহ সকল দেবতাগণ শিব-সতীকে দর্শনের জন্য গেলেন। দক্ষও গেলেন কন্যা-জামাতাকে দেখতে। সতী সবাইকে দেখে আনন্দিত হলেন এবং সবাইকে সমান সম্মান দিলেন।

সবাই খুশি, কিন্তু দক্ষ অপমানিত বোধ করলেন। তিনি শিবের শ্বশুর আর তাকেও কিনা সমান সম্মান।

দেবী সতী, পরমাত্মা স্বরূপিণী হন, তার দৃষ্টি সবার প্রতি সমান, দক্ষ শিবের তত্ত্ব না জেনে কন্যা জামাতা জ্ঞান করলেন। তাই অপমানিত বোধ করে চলে গেলেন।

একদিন দক্ষ এক মহাযজ্ঞের আয়োজন করলেন, সেখানে সকল দেবতা এসে হাজির হলেন, কেবল শিব ও সতীকে তিনি ডাকলেন না।

মহাযজ্ঞের ধূম আকাশে উঠল, সতী বললেন, কে এই যজ্ঞ করছেন। শিবহীন যজ্ঞ হয়ে কেমন করে, আমার পিতা বড়ই মূর্খ। শিব বললেন, সকল দেবতা যজ্ঞস্থলে উপস্থিত, তাঁরা যজ্ঞাংশ ভক্ষণ করবেন, তাতেই আমি মুগ্ধ।

দেবী বললেন, পিতা-মাতার চরণ দর্শন করতে আমি পিতৃগৃহে যাব। তুমি অনুমতি দাও। বাবা কেন শিবহীন যজ্ঞ করেছেন আমি জানবো। শিব বললেন, সতী বিনা নিমন্ত্রণে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের আমন্ত্রণ নেই। না যাওয়াই ভালো।

দেবী বললেন, মেয়ে বাপের বাড়ি যাবে সেখানে আমন্ত্রণের কি প্রয়োজন ? সতীর উৎসাহ দেখে শিব বললেন, দেবী আমার আদেশ উপেক্ষা কোরো না। বিনা নিমন্ত্রণে গেলে অপমানিত হতে হবে।

শিবের আপত্তি দেখে সতী খুব রেগে গিয়ে বললেন, আমি কেন যাব না ? দেখে নাও আমি কে ? এই কথা বলে দেবী দশমহাবিদ্যা রূপ দেখালেন শিবকে। কালী, তারা, ষোড়শী ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্থা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী ও কমলা।

শিব এই রূপ দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। তার পর দেবী তার নিজরূপে ফিরে আসলে শিব বললেন, আমি তোমাকে চিনতে পারিনি। তুমি যজ্ঞে যাও তবে তাড়াতাড়ি ফিরে এস।

দেবী গেলেন, ব্রহ্মাদি দেবতাগণ সবাই তার চরণ বন্দনা করলেন। কিন্তু দক্ষ অনাহুত সতীকে দেখে রাগে বলতে লাগলেন – শ্মশানবাসী শিবের ভার্য্যা এখানে এসেছে। যজ্ঞস্থল অপবিত্র হল। বিনা নিমন্ত্রণে এল, এর কি কোনো লজ্জা নেই ? দক্ষের এমন কথা শুনে ব্রহ্মা বললেন, তিষ্ঠ পাপিষ্ঠ দক্ষ, শিবের ঘরণী সতীকে তুমি চিনতে পারনি।

দেবী জগৎ-জননী আদ্যাশক্তি, এঁর থেকেই সৃষ্টি ত্রিভুবন। আর শিবকে চিনবে কেমন করে আমিও চিনতে পারিনি তাঁকে।

দধীচি বললেন, হে দক্ষ, ব্রহ্মা তোমার পিতা, তুমি পিতার কথা লঙ্ঘন করো না। তাতে ধর্মাবৃদ্ধি পাবে। শিব রেগে গেলে তোমার যজ্ঞ ধ্বংস হবে।

তাদের কথা শুনে দক্ষ বললেন, যে শ্মশানেমশানে ঘোরে, তাকে হবি দান করতে পারবো না, শিব রেগে গেলে কি ক্ষতি করবে আমার ? আমার আজ্ঞাবহ দেবতাদের আমি হবি দান করব।

দধীচি মুনি রেগে আবার বললেন – ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর সকল দেবতাগণ এরা যতই থাকুক শিব রেগে গেলে এই যজ্ঞ কেউ রক্ষা করতে পারবে না। তার থেকেই সৃষ্টি আর শেষ, যেজন শিব নিন্দা করবে তার জীবন সুখকর হবে না। হে দক্ষ, তুমি রুদ্রের উপর হিংসা করলে, তোমার মঙ্গল হবে না।

তারপর ব্রহ্মাও অনেক বোঝালেন দক্ষকে, কিন্তু দক্ষ রেগে শিব নিন্দা করতে ছাড়লেন না। বললেন, শিবের চরিত্র আমার জানা আছে, শ্মশানে-মশানে থাকে, ভাঙ ধূতরা খায়, লজ্জাহীন উলঙ্গ, গায়ে তেল নেই, ছাই মাখে, কোন বেশভূষা নেই, মাথা জটা আর তার অনুচররা সকলেই ভূত প্রেতের দল। দক্ষের মুখে এমন শিবের নিন্দা শুনে উপস্থিত সকল দেবতাগণ দুঃখিত হয়ে কানে আঙ্গুল দিলেন।

সতী নিজের কানে পতি নিন্দা শুনে মহারুষ্ট হলেন, তিনি পিতাকে বললেন, আজ পর্যন্ত কেউ শিবের নিন্দা করেনি। তুমি তাই করলে। তুমি যেহেতু মহেশ্বরের বদনাম করলে, তাই তোমার কুল নষ্ট। এইভাবে দক্ষকে ভর্ৎসনা করলেন সতী এবং নিজের প্রাণবায়ু রোধ করে যজ্ঞস্থলে মৃত্যুবরণ করেন।

শিব অন্তর্যামী তাই তিনি কৈলাসে থেকেও সতীর দেহত্যাগের কথা জানতে পারলেন। তিনি মহাক্রুদ্ধ হলেন, তার চোখ দিয়ে আগুন বেরোতে লাগল। শঙ্করের গাত্ররোম থেকে অতি ভয়ঙ্কর এক মহাবীরের সৃষ্টি হল। তার হাজার হাজার হাত, হাজার হাজার চোখ, হাতে শূল, গদা, চক্র বজ্র, দগর করে আছে, সিংহের মতই তার বিক্রম।

শিবরোম জাত সেই বীর শিবকে বললেন, হে মহেশ্বর, আমাকে সৃষ্টি করলেন কেন ? আমাকে কি করতে হবে।

শিব বললেন, যেহেতু তোমার জন্ম আমার ক্রোধ থেকে, তাই তোমার নাম বীরভদ্র। তুমি তাড়াতাড়ি দক্ষের যজ্ঞাগারে যাও, ধ্বংস করে এস যজ্ঞ। তোমার সাহায্যের জন্য যাকে খুশি সৃষ্টি করে নেবে।

রুদ্রের কৃপায় বীরভদ্র নিজের মনে ক্রোধের সৃষ্টি করে দেবী ভদ্রকালীকে সৃজন করলেন। মহেশ্বর তখন দুজনকেই আশীর্বাদ করলেন। তারা সঙ্গে নিলেন অসংখ্য প্রমথগণকে। তারপর তারা যজ্ঞাগারে উপস্থিত হল। হরিদ্বারের কাছে। কংখল নামে এক স্থানে দক্ষের যজ্ঞস্থল, সেই যজ্ঞাগারের উত্তরদ্বারে দাঁড়াল বীরভদ্র আর দক্ষিণদ্বারে দাঁড়াল ভদ্রকালী।

তাদের দেখে দেবতারা বুঝতে পারেন, যজ্ঞস্থল এক্ষুনি ধ্বংস হবে। প্রমুখ ধর্মরাজ ও বীরভদ্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধল। ধর্মরাজকে পরাস্ত করে বীরভদ্র ঢুকলেন যজ্ঞাগারে। সকল দেবতাগণ তাকে বাঁধা, দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভয়ঙ্কর যুদ্ধ বাঁধল, আহত হয়ে দেবতারা পিছু হঠতে বাধ্য হলেন। প্রমথগণ যেখানে যজ্ঞযুদ্ধে গচ্ছিত হচ্ছিল সেখানে গিয়ে উপদ্রব শুরু করল। তখন সেই যজ্ঞের পুরোহিতগণ ভয়ে পালাল এবং তারা নারায়ণের শরণাপন্ন হলেন।

নারায়ণ যুদ্ধ করে বসেছিলেন, পরে তিনি উঠলেন অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মারলেন বীরভদ্রের উপর। বীরভদ্রের গায়ে লেগে সব অস্ত্র মাটিতে পড়ে গেল। বহুক্ষণ যুদ্ধ করলেন নারায়ণ, যত অস্ত্র মারেন, শিবের প্রসাদে সব অস্ত্রই ব্যর্থ করে দেন বীরভদ্র। বীরভদ্রকে দমন করতে না পেরে হরি নাক দিয়ে বীরভদ্রকে ধারণ করে ভূমির উপর ফেলে বাহু আর উরুর দ্বারা শোষণ করতে লাগলেন। তার ফলে বীরভদ্র রক্তবমি করল। সেই রক্তের সনে একটি চক্র বের হল। শ্রীহরি সেই চক্রটি নিয়ে বীরভদ্রকে ছেড়ে দিলেন।

এমন সময় মহেশ্বর ক্রোধান্বিত হয়ে যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলেন। বীরভদ্র তাকে দেখে তার শরণ নিলেন। বীরভদ্রের রক্তমাখা শরীর দেখে মহাদেব ক্রুদ্ধ হন। তিনি নিজে যজ্ঞের মধ্যস্থলে গিয়ে সব লন্ডভন্ড করে দিলেন। রুদ্রের সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি দেখে ভগবান শ্রীহরি ভয় পেয়ে সেই স্থান ছেড়ে কুজাম্রকাননে আশ্রয় নেন। দেবতারা ভয়ে, যেদিকে পারলেন চলে গেলেন।

এইসব দৃশ্য দেখে প্রজাপতি দক্ষ ভাবলেন। শিবকে অপমান করার জন্যই এইসব হল। অপমানিত হয়ে সকল নিমন্ত্রিতগণ চলে গেলেন। পুণ্যের জন্য যজ্ঞ করেছিলাম, পেলাম যা পাবার ছিল।

শিবের অনুচরেরা মহর্ষিগণকে মারতে লাগলেন, তখন মহর্ষিগণ বীরভদ্রের স্তব করলেন। তবুও বীরভদ্র শান্ত হল না। তিনি দক্ষের মাথায় আঘাত করলো এবং সঙ্গে সঙ্গে দক্ষের মাথা ছিন্ন হয়ে গেল।

যারা যজ্ঞ করলেন তারাই মারা গেলেন। তাই সকলেই ভয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন। দ্বারের কাছে ভদ্রকালী ও প্রমথেরা ছিল। যারা পালাতে চেষ্টা করছিল তাদেরকে তারা বধ করেছিল। তখন উপায় না দেখে দেবতাগণ পাখির রূপ ধরে যজ্ঞস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেলেন। ব্রহ্মা মুক্ত রূপ ধরে পালাবার চেষ্টা করলে শিব তাঁকে ধরে ফেলেন। কোন উপায় না দেখে ব্রহ্মা রুদ্রের স্তব-স্তুতি করলেন। শিব তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মাকে বললেন, বল কি চাই‌ ?

ব্রহ্মা বললেন, দক্ষকে বাঁচিয়ে দিন এবং যাঁরা যাঁরা এই যুদ্ধে মারা গেছেন তাঁদের প্রত্যেকের প্রাণ দান করুন।

মহেশ্বর বললেন, এখানে যজ্ঞে যে পশুকে বলি প্রদত্ত করা হয়েছে, সেই পশুর মাথা দক্ষের কাঁধে যুক্ত করে দিলে সে বেঁচে উঠবে, আর হে ব্রহ্মা, তোমার কমণ্ডলুর জল সবার গায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলে সবাই প্রাণ ফিরে পাবে।

শিবের কথা তো ব্রহ্মা ছাগলের মস্তক দক্ষের কাঁধে যোগ করলেন। তারপর তিনি কমণ্ডুলর জল ছড়িয়ে দিলেন চারদিকে, সকলেই বেঁচে উঠলেন। দক্ষ তখন শিবকে বললেন, এই যজ্ঞে আপনাকে নিমন্ত্রণ না করার ফল আমি পেলাম। এই কথা বলে দক্ষ অর্কত্রের সঙ্গে শিবকে হবি দান করলেন।

সকল দেবতারা শিবের স্তব-স্তুতি করলেন, রুদ্রদেব বীরভদ্রকে সংবরণ করলেন।

দক্ষের যজ্ঞস্থল থেকে একে একে সবাই চলে গেলেন, থাকলেন কেবল মহেশ্বর। তিনি দেখলেন প্রাণহীন সতীর দেহ, ছুটে গিয়ে নিজের কোলে তুলে নিলেন সতীর দেহ এবং বিলাপ করলেন। যিনি সৃষ্টি-স্থিতি প্রলয়ের দেবতা, তিনি এক শোকাহত বহুগণ বিনাশ করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরতে তিনি উচ্চস্বরে কাঁদতে থাকেন। সতীকে অনেক করে ডাকতে থাকেন, উত্তর না পেয়ে তিনি অভিমান করেন। পাগলের মতো হয়ে গিয়ে তিনি সতীর দেহ কাঁধে তুলে নিয়ে চলতে লাগলেন পাহাড়, বন, জঙ্গল, মরু, নদ-নদী, নানা দেশ ছুটতে থাকলেন, কখনো নাচছেন, কখনো কাঁদছেন, তার পদভারে ভূতল কাঁদতে লাগল। তার তিনটি চোখের জলের ধারা দিয়ে সৃষ্টি এক সরোবর। যার নাম নেত্র সরোবর।

এক বছর পূর্ণ হল তবুও শিবের পাগলামি কাটল না। বুঝি সৃষ্টি নাশ হয়ে যাবে। সকলের ভয় কে এই ভয়ঙ্কর রুদ্রকে সামলাবে ? সকলেই শ্রীহরিকে স্মরণ করলেন, বললেন, যতক্ষণ সতীর দেহ শিবের কাঁধে থাকবে, ততক্ষণ তিনি শান্ত হবেন না। আমি যাচ্ছি সতীর দেহকে বিনষ্ট করবার জন্য।

এই কথাগুলি বলে শ্রীহরি তাঁর সুদর্শন চক্র শিবের পেছনে পেছনে যেতে লাগলেন। ফলে সতীর অঙ্গ কেটে কেটে পড়তে লাগল সব স্থানে। শিব এর কিছুই জানতে পারলেন না, কারণ তিনি তো তখন পাগলের মতো। সতীর সেই খণ্ডিত অংশগুলি যেখানে পড়ল, সেখানে এক-একটি করে মহাতীর্থ গড়ে উঠল। এভাবে একান্ন পীঠস্থান হল।

শিব দেবীর বাকী অংশ খণ্ডিত করেছিলেন। তার অস্থির মালা করে নিজের গলায় পরে নিলেন, এবং তার ভস্ম নিজের গায়ে মাখলেন। পরমাত্মা শিব সতীর বিরহে সবকিছু ভুলে গেলেন। ব্রহ্মাদি সকল দেবতারা তার কাছে গেলেন।

শ্রীহরি শিবকে বোঝালেন তারপরে বললেন‌ – হে দেব, তোমার সতী হিমালয়ের ঘরে জন্মাবে। পুনরায় তোমার প্রাণপ্রিয়া হবে। হরির কথায় শিব শান্ত হলেন। দেবতারা স্বর্গে ফিরে গেলেন। শিব কৈলাসে গেলেন।


হর হর মহাদেব


(সংগৃহীত)

13/09/2025

Celebrating my 4th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

13/09/2025

📌💥 গীতায় বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময় যদি কেউ কৃষ্ণপাদপদ্ম স্মরণকরতে পারে, সে পরমগতি প্রাপ্ত হয়। তা হলে সারা জীবন পাপকর্ম করেওযদি মরণকালে কৃষ্ণস্মরণ কেউ করে তারও উদ্ধার হবে ?

উত্তর : হ্যাঁ, সেও পরমগতি প্রাপ্ত হবে। কারণ যিনি শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত হলেন,তার সমস্ত পাপ থেকে পরম নিয়ন্তা শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে উদ্ধার করবেন বলে শ্রীঅর্জুনকে
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ॥ (গীতা ১৮/৬৬)
“আমি তাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। এই বিষয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।”কিন্তু বিপদটি হচ্ছে সেইখানে যে, পাপীদের কাছে মৃত্যু যখন উপস্থিত হয়, সাধারণত
শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করবার মানসিকতা তাদের একটুও থাকে না। বিষয় ভোগ চিন্তায় অভ্যস্তব্যক্তির শ্রীকৃষ্ণপাদপদ্মে মতি স্থির হয় না। তার হৃদয়েভোগবাসনা জমা থাকার জন্যজন্ম-জন্মান্তর ধরে পশুপাখি কীটপতঙ্গাদি হয়ে এই জড় জগতে তাকে বদ্ধ থাকতে হয়।শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন, “মৃত্যুর সময়ে আমাদের শেষচিন্তাটি কি হবে তা নির্ভর করছে আমাদের জীবদ্দশায় আমরা কিভাবে কর্ম করছি তারউপর।” (আত্মজ্ঞান লাভের পন্থা, ২০৭ পৃঃ) অর্থাৎ বুঝে নেওয়া উচিত এই যে,
জীবদ্দশায় যদি আমরা ভগবদ্-কর্মে নিয়োজিত না হই, কৃষ্ণভাবনার অনুশীলন না করি,তা হলে অবশ্যম্ভাবী আসন্ন মৃত্যু কখনই আমাদের পরমধামে উন্নীত হতে কৃষ্ণপুরসুযোগ দেবে না। তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি জীবনের প্রথম থেকেই কৃষ্ণভজন করেন।কৌমার আচরেং প্রাজ্ঞঃ। শৈশব থেকেই হরিভজন করা উচিত। সব সময়ই শ্রীকৃষ্ণারস্মরণ করা উচিত এবং কখনই শ্রীকৃষ্ণকে বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়।
🙏 হরে কৃষ্ণ 🙏
#ভক্তিময়ভালবাসা ゚ ゚

13/09/2025

আপনারা কোন নরকে যেতে চান❓❓❓❓❓
#২৮ টি নরক ও শাস্তির বিবরণ সম্পর্কে জেনে নিন
হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ ঋগবেদ অনুযায়ী নরক হল চির
অন্ধকারময় তলবিহীন এমন এক স্থান যেখানে সর্বদা মন্দ রাজত্ব
করে। অন্যদিকে অথর্ববেদ অন্ধকারাচ্ছন্ন এক অধিরাজ্যের বর্ণনা
দেয় যেখানে হত্যাকারীদের তাঁদের মৃত্যুর পর আবদ্ধ করে রাখা হয়।
পূরাণ গুলির মধ্যে অগ্নি পূরাণ মাত্র ৪ টি নরকের উল্লেখ করে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল এখানে নরকের ধারণা এক হলেও নরকের রূপ
ভিন্ন ভিন্ন; অপরাধের প্রকার অনুযায়ী শাস্তি এবং শাস্তির প্রকার
অনুযায়ী নরকেরও পৃথক পৃথক নামাঙ্কন ও বর্ণনা করা হয়েছে।)
মনুস্মৃতি ২১ প্রকার নরকের উল্লেখ করে। তবে ভাগবত্ পূরাণ, দেবী-
ভাগবত্ পূরাণ, বিষ্ণু পূরাণ এবং গরুড় পূরাণ এরা প্রত্যেকেই ২৮
ধরনের ভয়ঙ্কর নরকের কথা বলে। তাই এই ২৮ নরককেই মূল নরক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মূখ্য নরক গুলি ছাড়াও সহস্রাধিক অন্যান্য
নরকের কথা স্বীকার করা হয়েছে।
১/ তমিস্রা(অন্ধকার): স্ত্রী, সন্তান সমেত অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে
নিলে — এখানে অপরাধিকে বেঁধে রেখে খাদ্য এবং জল না দিয়ে
ক্ষুধায় মারা হয়। যমদূতেরা তাকে ভর্তসনা ও প্রহার করতে থাকে
যতক্ষন না সে ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে।
২/ অন্ধতমিস্রা(অন্ধত্বের অন্ধকার): বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে
বিবাদ ঘটিয়ে স্ত্রীলোকটিকে ভোগ করলে — পাপী যতক্ষণ না তার চেতনা এবং দৃষ্টিশক্তি হারায় ততক্ষণ
পর্যন্ত তাকে অত্যাচার করা হয় এখানে। এই শাস্তিটির ব্যখ্যা
‘একটি বৃক্ষ কে একেবারে তার শিকড় থেকে ছেদ করার’ সমান রূপে
করা হয়।
৩/ রৌরভা(রুরু নামক হিংস্র জন্তুর নরক): হিংসাপরায়ন হয়ে
শুধুমাত্র নিজেকে ও পরিবারকে ভালো রেখে কিন্তু অন্যান্য সকলের ক্ষতি করলে– নরকে রুরু নামক সর্পসম জীবেরা সেই পাপীর শরীরকে
ছিন্ন ভিন্ন করে।
৪/ মহারৌরভা(অতি হিংস্র): শুধুমাত্র নিজের সুখের খাতিরে অন্যের
পরিবার, আত্মীয় ও সম্পত্তির সর্বনাশ করলে– এই নরকে ক্রাব্যদ
নামক অতীব হিংস্র রুরুগণ অপরাধীর শরীরের মাংস ভক্ষণ করে।
৫/ কুম্ভিপাকম(পাত্রে ঝলসানো): পশু পাখিদের হত্যা করে তাদের পুড়িয়ে আহার্য করলে– যমদুতেরা অপরাধিকে একটি পাত্রে ফুটন্ত
তেলের মধ্যে ততগুলি বছর ঝলসায় যতবছর না সেই সকল প্রাণীর
শরীরে পুনারায় লোম জন্মায়।
৬/ কালসূত্র(সময়ের ধাগা/মৃত্যু): একজন ব্রাহ্মণকে হত্যা করলে,
গুরুজনদের শ্রদ্ধা না করলে– এই নরকের তল সম্পূর্ণ তামার তৈরী যা
সর্বদা নিচে আগুন এবং উপরে সূর্যের তাপে চরম উত্তপ্ত হয়ে থাকে। পাপী এই তলে নিজের ভেতরে যেমন ক্ষুধা, তৃষ্ণায় জ্বলতে থাকে
তেমনি সে শুতে, বসতে, দাঁড়াতে বা দৌড়াতে গেলে বাইরের উত্তপ্ত
আঁচ তাকে রেহাই দেয়না।
৭/ অসিপত্রবন/অসিপত্রকানন(যে বন এর পাতাগুলি তলোয়ার):
পবিত্র বেদ এর ধর্মীয় শিক্ষা কে অগ্রাহ্য বা অবহেলা করে বৈধর্মে
লিপ্ত হলে– পাপী যমদূতের কষাঘাত থেকে পালিয়ে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এই বনের দিকে ধাবিত হয় কিন্তু এখানকার গাছের পাতায়
বিদ্ধ হয়। কষাঘাত ও তলোয়ারের ক্ষতের যন্ত্রনায় সে সাহায্যের
জন্য চিত্কার করে ওঠে কিন্তু তার সেই চেষ্টা বিফলে যায়।
৮ / শুকরামুখা(শুয়োরের মুখে): এই নরক রাজা এবং সরকারি ক্ষেত্রে
জড়িত থাকা বিষেশ ব্যক্তি দের জন্য সংরক্ষিত যারা নির্দোষ কে
শাস্তি এবং ব্রাহ্মণের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়– যমদূতেরা পাপীদের থেঁতলে, নিঙরে মারে যেমন ভাবে ইক্ষুদন্ড থেকে নির্যাস
বের করা হয়। পাপীরা তীব্র যন্ত্রনায় ছটফট করে চিত্কার করে
কাঁদতে থাকে ঠিক যেমন নির্দোষেরা কেঁদে উঠেছিল।
৯/ অন্ধকূপম্(অন্ধকারময় কুয়ো যার মুখটি লুকান): মন্দ উদ্দেশ্য
নিয়ে অন্যের ক্ষতি করলে, কীট পতঙ্গ দের হানি পৌছালে–
অপরাধি এখানে পশু, পাখি, সরিসৃপ, পতঙ্গ, জোঁক, কেঁচো এবং এগুলির ন্যায় অন্যান্য প্রভৃতি জীব দ্বারা আক্রান্ত হয়ে নরকের
যত্র তত্র ছুটতে বাধ্য হয়।
১০/ কৃমিভোজনম্/কৃমিভক্ষ(কৃমিদেরআহার্য হওয়া): নিজের খাবার
অতিথিদের, গুরুজনদের, শিশুদের অথবা ইশ্বরের সাথে ভাগ না করে
স্বার্থপরের মত শুধু নিজে খেলে এবং পঞ্চ যজ্ঞ সম্পন্ন না করে
খেলে; নিজের পিতা, ব্রাহ্মণ বা দেবতাদের ঘৃণার চোখে দেখলে এবং অলংকার নষ্ট করলে– এই নরক 100,000 যোজনা সরোবর যা
কৃমিতে পরিপূর্ণ। পাপী ব্যক্তিকে কৃমিতে পরিণত করা হয় যাকে
অন্য কৃমিদের খেয়ে বাঁচতে হয়। যার ফলস্বরূপ তাকে নিজেই নিজের
শরীরকে 100,000 বছর ধরে গিলে খেতে হয়।
১১/ সন্দংশন্/সন্দম্স(চিম্টার নরক): কোন ব্রাহ্মণ কে সর্বস্বান্ত
করলে বা চরম দারিদ্রিক অবস্থার মধ্যে না থেকেও প্রয়োজন ছাড়া মূল্যবান রত্ন বা সোনা চুরি করলে, ব্রত বা বিশেষ নিয়মের লঙঘন
করলে– এখানে অপরাধীর শরীর উত্তপ্ত লাল লোহার গোলা এবং
চিম্টা দিয়ে ছিন্ন ভিন্ন করা হয়।
১২/ তপ্তসুর্মি/তপ্তমূর্তি(তপ্ত লাল লৌহ মূর্তি): একজন পুরুষ
অথবা নারি যে অপর নারি বা পুরুষ এর সাথে অবৈধ যৌন সম্পর্কে
লিপ্ত হয়– তাকে কষাঘাত করা হয় এবং বিপরীত লিঙ্গের তপ্ত লালাভ একটি লৌহমূর্তি কে আলিঙ্গন করতে বাধ্য করা হয়।
১৩/ বজ্রকন্টক সলমলি(সুতির মত মলিন বৃক্ষ যা ধারণ করে বজ্রের
মত কাঁটা): জন্তু-জানোয়ারদের সাথে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হলে
অথবা মাত্রাতিরিক্ত যৌন ক্রিয়া করে থাকলে– যমদূতেরা পাপী কে
এই বজ্রকন্টক সলমলি বৃক্ষে বেঁধে তার শরীরকে হিঁচড়ে টানতে থাকে
যাতে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত এবং ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়।
১৪/ বৈতরণী(অতিক্রম): বিশ্বাস করা হয় এটি একটি নদী যা নরক
এবং পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। সর্বদা মল, পস্রাব, ঘাম,
রক্ত, পুঁজ, চুল, হাড়, অস্থিমজ্জা, নখ, মাংস, মেদ ইত্যাদিতে
পরিপুষ্ট হয়ে নরক থেকে প্রবাহিত হয়ে আসা এই নদী পৃথিবীর আগে
একটি গন্ডি অবধি সীমাবদ্ধ থাকে। হিংস্র জলজ জন্তুরা এখানে
অপরাধির শরীর থেকে মাংস খুবলে খুবলে ভোজন করে।– ভাগবত্ এবং দেবী ভাগবত্ পূরাণ অনুসারে রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করা
ব্যক্তি, একজন রাজবংশজাত ক্ষত্রিয়, সরকারি পদে নিযুক্ত থাকা
ব্যক্তিরা যারা তাদের কর্তব্যকে অবহেলা করে তা পালন করতে
অস্বীকার করে তাদের জন্য সংরক্ষিত ঘৃণ্য এই নরক।
১৫/ পুয়োদা(পুঁজ মিশ্রিত জল): শুদ্র পতিগণ বা নিম্ন বর্গীয় মহিলা
যৌনকর্মীর এবং বেশ্যা মহিলার যৌন সঙ্গিরা যারা পরিচ্ছন্নতা বজায় না রেখে পশুর ন্যায় জীবনযাপন করে এবং সভ্য আচরণ করতে
ব্যর্থ হয় তাদের জন্য এই নরক।– পাপীরা পুঁজ, মুত্র, ঘর্ম,
শ্লেষ্মা, লালা এবং অন্যান্য বর্জ্য মিশ্রিত এক সমুদ্রে পতিত হয়।
সেখানে তাদের ঐ নোংরা জল গিলতে বাধ্য করা হয়।
১৬/ প্রাণরোধা(জীবনের রোধ): যে সকল দুশ্চরিত্র ব্রাহ্মণ,
ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য ব্যক্তিগণ কুকুর বা গাধাকে সঙ্গে নিয়ে আত্ম বিনোদনের জন্য জঙ্গলে পশু শিকারের খেলায় উন্মত্ত হয়– নরকে
তাদের কেই শিকার বানিয়ে যমদূতগণ তিরন্দাজির খেলা খেলে থাকে।
১৭/ বিসাশনা(হত্যাপ্রবণ): ভাগবত্ পূরাণ এবং দেবী ভাগবত্ পূরাণ এর
উল্লেখানুযায়ি কোন ব্যক্তি নিজের পদের তুলনায় অধিক
প্রতিপত্তি লাভ করে এবং নিজের সামাজিক অবস্থা বয়ান করতে
গর্বে পশু উত্সর্গ করে তাকে অবশেষে হত্যা করলে– এই নরকে ঐ পাপী ব্যক্তি কে যমদূতেরা অনবরত কষাঘাত করে মারে।
১৮/ লালাভক্ষম(লালা খাদ্য রূপে): ভাগবত্ ও দেবী ভাগবত্ পূরাণ
অনুসারে একজন ব্রাহ্মণ, একজন ক্ষত্রিয়, একজন বৈশ্য স্বামি
নিজের যৌন জ্বালা মেটাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্ত্রী কে নিজের
বীর্য্যরস পান করাতে বাধ্য করলে– সেই অপরাধিকে নরকে বীর্য্যরস
পরিপূর্ণ একটি নদীতে নিক্ষেপ করা হয় যেখানে সে ঐ বীর্য্য পান করতে বাধ্য হয়।
১৯/ সারমেয়দানা(সরমার হিংস্র পুত্রদের নরক): লুন্ঠনকারীরা যারা
সম্পত্তির লোভে অন্যের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিষক্রিয়া ঘটায়;
রাজা এবং অন্যান্য সরকারি ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা যারা
কৌশলে ব্যবসায়ীদের অর্থ তছরূপ করে, যারা জনহত্যা এবং সমগ্র
রাষ্ট্রের ভরাডুবির মত অপরাধে অংশগ্রহণ করে তাদের জন্য এই নরক।– এখানে 720টি হিংস্র বন্য কুকুর(সারমেয় – সরমার পুত্র।
‘সরমা’ হলেন সংসারের সমস্ত কুকুর দের জননি।) তাদের তীক্ষ্ন,
ধারালো দাঁত দিয়ে যমদূত গণের আদেশে অপরাধিদের কুঁড়ে কুঁড়ে খায়
২০/ অভিশ্চি/অভিশ্চিমত(প্রবাহহীন, জলহীন): কোন ব্যক্তি মিথ্যা
শপথ নিলে, ব্যবসায় মিথ্যা কথা বললে– পাপীকে এখানে 100
যোজনা উঁচু একটি পর্বত যার দেওয়াল গুলি থেকে জলপ্রবাহের পরিবর্তে পাথর নির্গত হয় সেখান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। যার ফলে
তার শরীর অনবরত ভাঙতে থাকে তবে খেয়াল রাখা হয় যে সে যেন
মারা না যায়।
২১/ অয়হপান(লৌহ-পান): কোন ব্যক্তি ব্রত পালন করা কালীন বা
একজন ব্রাহ্মণ ব্যক্তি মদ্য পান করলে– এখানে যমদূতেরা পাপীদের
বুকের ওপর দাঁড়িয়ে গলন্ত লোহা গিলতে বাধ্য করে।
২২/ ক্ষারকর্দমা(আম্লিক, লবণাক্ত কাদা): যে ব্যক্তি মিথ্যা
অহংকারের বশে অন্য এমন ব্যক্তি যে তাঁর তুলনায় জন্মে, সাধনায়,
জ্ঞানে, আচরণে, জাতিতে অথবা আধ্যাত্মিক অবস্থানে অনেক বড়
তাকে অসন্মান করে– এই নরকে যমদূতেরা পাপীকে এমনভাবে
নিক্ষেপ করে যাতে সে যেন সরাসরি মাথায় চোট পায় এবং তারপর
তার পাপীর ওপর অত্যাচার চালায়।
২৩/ রাকষগণা-ভোজনা(রাক্ষসদের খাদ্যে পরিণত): যারা জীবন্ত
মানুষের আত্মাহুতি, নরমাংসভক্ষণপ্রথা পালন করে এই নরকে বন্দী
হয় তারা।– তাদের হাতে নিহতরা এখানে রাক্ষস রূপে তাদেরকে
ধারালো ছুরি ও অসি দিয়ে কাটে। তাদের রক্ত-মাংস ঐ রাক্ষসেরা
মহানন্দে ভোজন করে এবং উদ্দম উল্লাসে নাচ-গান করে ঠিক
যেমনভাব পাপীরা তাদের হত্যা করেছিল।
২৪/ শূলপ্রথাম্(তীক্ষ্ন শূল/বাণে বিদ্ধ): কিছু মানুষ নিরীহ পশু বা
পক্ষীদের উদ্ধার করার ভান করে আশ্রয় প্রদান করে কিন্তু তারপর
সুতো, সুঁচ ইত্যাদি ব্যবহার করে তাদের উত্যক্ত করতে শুরু করে বা
তাদেরকে প্রাণহীন খেলনার ন্যায় ব্যবহার করে। একই রকম ভাবে
কিছু মানুষও অন্য মানুষের সঙ্গে এমনই আচরণ করে; প্রথমে ছল
করে তাদের বিশ্বাস কে জিতে নিয়ে পরে তাদের ত্রিশূল বা বল্লম দিয়ে হত্যা করে।– নরকে এই সমস্ত অপরাধকারিদের শরীরকে ক্ষুধা
ও তৃষ্ণায় ক্লান্ত করে ধারালো, সূচাগ্র শূলে বিদ্ধ করা হয়।
ক্ষিপ্র, মাংসভোজি শকুন ও সারস জাতীয় পাখিরা তাদের শরীরের
মাংস ছিড়ে গলা অবধি ভোজন করে।
২৫/ দন্ডসুক(সর্প): বিদ্বেষ এবং উন্মত্ততায় পরিপূর্ণ হয়ে কিছু
মানুষ অন্যদের সাপের ন্যায় হানি করে। — নরকে এদের পঞ্চ বা সপ্ত ফণাধারি বিশাল সর্প জীবন্ত
গলাধঃকরণ করে।
২৬/ অবাত-নিরোধনা(গহ্বরে আবদ্ধ): অন্যদের অন্ধকার কূপ, ফাটল
বা পাহাড়ের গুহার মত স্থানে বন্দি করে রাখলে– পাপিদের এই নরকে
একটি অন্ধকারময় কুয়োর অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয় যার মধ্যে
বিষাক্ত গন্ধ ও ধোঁয়া ভরে উঠে তার শ্বাসরোধ করে।
২৭/ পরয়াবর্তন(ফিরে যাওয়া): গৃহকর্তা যে ক্রূর দৃষ্টিতে নিজের
অতিথি কে/দের স্বাগত জানায় এবং দূর্ব্যবহার করে, এই নরকে
তাকে উচিত্ শিক্ষা প্রদান করা হয়।– কঠোর দৃষ্টিধারি শকুন,
সারস, কাক ও এই প্রজাতির পক্ষিগণ তার দিকে তাক করে এবং
অকস্মাত্ উড়ে এসে তার চোখ দুটো তুলে নিয়ে যায়।
২৮/ সূচিমুখা(সূচবিদ্ধ মুখমন্ডল): একজন সদা সন্দেহকারি ব্যক্তি যে সর্বদা অন্যদের নিজের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার চিন্তায় সন্দেহ
করে; নিজ অর্থবলের অহংকারে পাপ কার্য করে লাভ ও তা জমিয়ে
রাখার মত অপরাধ করে– এই নরকে যমদূতেরা তার সর্বাঙ্গ ধাগা বুনে
সেলাই করে। হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ ঋগবেদ অনুযায়ী নরক হল চির
অন্ধকারময় তলবিহীন এমন এক স্থান যেখানে সর্বদা মন্দ রাজত্ব
করে। অন্যদিকে অথর্ববেদ অন্ধকারাচ্ছন্ন এক অধিরাজ্যের বর্ণনা
দেয় যেখানে হত্যাকারীদের তাঁদের মৃত্যুর পর আবদ্ধ করে রাখা হয়।
পূরাণ গুলির মধ্যে অগ্নি পূরাণ মাত্র ৪ টি নরকের উল্লেখ করে। এ
প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল এখানে নরকের ধারণা এক হলেও নরকের রূপ ভিন্ন ভিন্ন; অপরাধের প্রকার অনুযায়ী শাস্তি এবং শাস্তির প্রকার
অনুযায়ী নরকেরও পৃথক পৃথক নামাঙ্কন ও বর্ণনা করা হয়েছে।)
মনুস্মৃতি ২১ প্রকার নরকের উল্লেখ করে। তবে ভাগবত্ পূরাণ, দেবী-
ভাগবত্ পূরাণ, বিষ্ণু পূরাণ এবং গরুড় পূরাণ এরা প্রত্যেকেই ২৮
ধরনের ভয়ঙ্কর নরকের কথা বলে। তাই এই ২৮ নরককেই মূল নরক
হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মূখ্য নরক গুলি ছাড়াও সহস্রাধিক অন্যান্য নরকের কথা স্বীকার করা হয়েছে।

ভাল লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না

10/09/2025

জয়শ্রী রাধে কৃষ্ণ 🙏🏻
একবার এক দুঃখী ভক্ত ভগবানের কাছে নালিশ করছিল, বলছিল ভগবান। তুমি আমার একটুও খেয়াল রাখোনা। আমি তোমার কত বড় একজন ভক্ত, তোমাকে কত সেবা করি, দিনরাত তোমাকে ডাকি, এরপরেও আমার জীবনে বেশি বেশি দুঃখ। কেন?
সমস্যার পাহাড় তো লেগেই আছে। একটা শেষ হতে না হতেই আরেকটা সমস্যা এসে পড়ে। অন্যদের প্রার্থনা তো তুমি শোন, ওরা যা চায় তাও দিচ্ছ। সবার ভাগ্যে সুখ দিচ্ছ, আর আমার বেলায় কেবল দুঃখই দিয়ে যাচ্ছ। কেন?
তখন ভগবান তাকে আদর করে বোঝান, "না পুত্র। তুমি যা ভাবছ, তা নয়। সবার নিজ নিজ দুঃখ চিন্তা আছে। কর্ম গুনে সবাইকে সবার ফল ভোগ করতে হয়।এরকম ভাবাটা তোমার ভুল ধারনা বাবা।
কিন্তু ভক্ততো কোন কিছুই শুনতে নারাজ। সারাক্ষন শুধু এক কথা। দিনের পর দিন এই ভক্তটি ঘ্যান ঘ্যান করেই যাচ্ছিল, আর ভগবান তাঁর অবুঝ ভক্তটিকে বুঝিয়েই যাচ্ছিলেন। এরকম বোঝাতে বোঝাতে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে শ্রীহরি এক উপায় বের করলেন।
শ্রীহরি বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাকে আমি একটা সুযোগ দিচ্ছি নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য। ওই দেখো ওই দূরে আমার মন্দিরের পাশে একটা বড় পুরোনো বৃক্ষ দেখা যাচ্ছে। ওই মন্দিরে যে বা যারা আসে, তারা সকলেই ওই বৃক্ষে নিজের নিজের দুঃখ, কষ্ট, রাজ্যের সমস্যা, যন্ত্রণা, দারিদ্রতা, নানা অসুখ বিসুখ, সব একটা পুটলীতে বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়। তুমিও তাই করো, এতে যদি তোমার সমস্যার সমাধান হয়।
শুনেতো ভক্ত খুশির চোটে লাফিয়ে উঠল। বলল, "বাহ প্রভু, ধন্য তুমি। আমি এখনি যাচ্ছি।
প্রভু তখন বলে উঠলেন, "কিন্তু, তার আগে আমার যে একটি ছোট্ট শর্ত আছে।
ভক্ত বলল, কি শর্ত ভগবান?
ভগবান বললেন, তুমি যখন তোমার দুঃখের পুটলী বেঁধে ওই গাছে ঝুলাবে, তখন ওই গাছে আগে থেকেই ঝুলে থাকা যেকোন একটি পুটলী তোমার সাথে করে নিয়ে আসতে হবে তোমার জন্য।
ভক্ত একটু ভেবে বলল, একটু অদ্ভুত না তোমার শর্তটা? আচ্ছা চলো ঠিক আছে মানলাম, যাও।
তারপর সে তার সমস্ত সমস্যাকে পুটলী বেঁধে গাছের উপরে ঝুলিয়ে দিল। তারপর বলতে লাগল, "যাক্ বাবা, একটা কাজতো হয়ে গেল। এখন আর আমার জীবনে কোন সমস্যা থাকবেনা। কিন্তু ভগবান বললেন যে, ফিরে যাওয়ার সময় সাথে করে একটা পুটলী নিয়ে যেতে। চলো ঠিক আছে নিয়েই নিই, এ আবার এমন কঠিন কি? কিন্তু.... কোনটা নেব? এই ছোট্ট পুটলীটা ঠিক হবে, এটা নিয়ে নিই। এক মুহুর্ত ভেবে কিন্তু এটাতে কি আছে তাতো আমি জানিনা। না না এটা নেবনা, ওইটা নিই..... আরে বাপ্ রে,এটাতে যদি গম্ভীর কোন অসুখ থাকে, তো? না না না না,,, এটা নেবনা। আচ্ছা ওইটা নিই। কিন্তু এটা কার, কি কি কষ্ট আছে এতে, তাওতো জানিনা। বাপ্ রে-
তারপর চিৎকার করে বলল, হে ভগবান এ কোন সমস্যায় ফেলে দিলে তুমি? এত্ত কনফিউশন?
মুহুর্তের মধ্যে ভগবান চলে এলেন। বললেন, কি হলো? পছন্দ হলো? পছন্দ হলে উঠিয়ে নাও একটা, আর ফিরে যাও।
ভক্ত বলল, কি করে নেব ভগবান, অন্যের ভাগ্যে কি কি দুঃখ - কষ্ট আছে, তাইতো জানিনা। আমার নিজের দুঃখের খবর নিজের কাছে আছে বলে এর ভার কতটুকু তাও বুঝতে পারি।কিন্তু না জেনে শুনে অন্যের দুঃখের ভার বইবার সাহস হচ্ছেনা প্রভু। যদি আমার দুঃখের থেকেও তার দুঃখটা ভারী হয়, তখন? অবুঝ ছিলাম প্রভু, তাই নিজেকে সবচেয়ে বেশি দুখী ভেবেছিলাম। এখানেতো দেখছি আমার মত অগনিত মানুষ আছে। আর আমি এটাও জানিনা যে তাদের দুঃখ- কষ্ট কি? না প্রভু, আমি এখন থেকে আর নিরাশ হবনা। যেখানে তুমি আমার সাথে আছ, সেখানে ভয় কি? ধন্যবাদ প্রভু, তুমি আমার অন্তর্চক্ষু খুলে দিয়েছ।
ভগবান বললেন, আমার উপরে সম্পূর্ণ ভরসা রাখ পুত্র, তোমার জীবনে যত ঝড় ঝাপ্টাই আসুকনা কেন, আমিই তোমাকে নিরাপদে পার করিয়ে দেব
কেননা আমার শরণে একবার যে আসে, তার কোন শোক বা দুঃখ কিছুই থাকেনা। সকলি আমি হরন করে নিই।
বিঃদ্রঃ সবার জীবনেই কমবেশী দুঃখ - কষ্ট থাকে। শ্রীহরির নাম নিন আর নিশ্চিন্ত হয়ে সেসব বাধা- বিপত্তিকে সাহস এবং ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করুন।
রাধে রাধে 🙏

06/09/2025

🌺প্রশ্ন : #শ্রীমদ_ভাগবত_এর_অর্থ_কি?...........
🌿উত্তর: শ্রী- মানে রাধা ,
মদ-মানে রাধাপ্রেমের বিভরতা, এই থেকে শ্রীমদ ।
ভাগবত মানে...... ভা---ভক্তি
ভক্তি কখন হয়, যখন ভগবানে সাথে সম্বন্ধ হয়। যাতে কোন চাওয়া পাওয়া থাকে না।
অনেক সময় ভক্ত বড় মালা আনল ভগবানের জন্য, আর সামনে দিল বিরাট চাহিদার তালিকা। এটা তো ভক্তি নয়।

🌺একজন বৈষ্ণবকে একজন ভক্ত প্রশ্ন
করল, ভক্তি কোথা থেকে শুরু হয়।
বৈষ্ণব বললেন, তোমার ঘরে কয়জন
সদস্য ?
ভক্ত বললেন, আমি, আমার
স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে।

🌺বৈষ্ণব বললেন- কেন গোপাল কোথায় ?
যখন তোমার ঘরে সদস্য চার জন না হয়ে
পাঁচ জন হবে। সেদিন তোমার ভক্তি
শুরু। কিছু কিনলে গোপালের জন্য
কিছু কিনবে। ছেলের জন্মদিন,ওকেও কিছু দেবে। সবার জন্য নতুন জামা
ওর জন্যও নতুন জামা আনবে। এটা প্রেম।
ভগবানকে নিজের করে নেওয়া এটাই ভক্তি।

🌺গোপীদের মাখনে কি ছিল, যা তোমার মাখনে
নেই। তুমি বলতে পার স্বাদে ভাল ছিল। তা নয় , মাখনে ছিল প্রেম।

🌿ভাগবত মানে......
গ---জ্ঞান
জ্ঞান মানে কোন লেখাপড়ার জ্ঞান নয়।
জ্ঞান মানে আত্মপরিচয়। আমি কে ?
আমি কৃষ্ণের নিত্যদাস। এটাই হল মূল জ্ঞান।

🌺একবার সিদ্ধার্থ, মানে গৌতম বুদ্ধ
যাচ্ছেন রথ করে। এক খুবই জরা জীর্ণ
বৃদ্ধকে দেখে বলল; সারথি এ কে ?
কেমন যেন দেখতে।
সারথি বলল,,, রাজকুমার এটা বৃদ্ধ অবস্থা যে
অবস্থায় আমরা একদিন আসব।
যেতে যেতে এক মৃত দেহকে দেখে সারথি
বলল,,,, এটা হল জীবনের চিরন্তন সত্য।
সিদ্ধার্থ বললেন আমি কে তা এখনও খোঁজা হল না। খুজিতে চলল সিদ্ধার্থ হলেন গৌতম বুদ্ধ।

🌿ভাগবত মানে....
ব--- বৈরাগ্য
"সংসার ছেড়ে চলে যাওয়া বৈরাগ্য নয়"
বৈরাগ্য হল শত কষ্টের মধ্যে মুখে হাসি
থাকা। "সংসারে থেকে মনটা গোবিন্দচরনে রাখা, এটাই বৈরাগ্য" ।

🌿ভাগবত মানে.....
ত ----- ত্যাগ
কি ত্যাগ করতে হবে? হরিবিমুখ জনকে ত্যাগ
করতে হবে। যার মুখে গোবিন্দ নাম নেই, সে জনকে ত্যাগ করতে হবে।

🌿"শ্রীমদ ভাগবত" হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্ত বিগ্রহ।🌿

জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভুনিত্যানন্দ🌿🌿🌿🌿
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ!

30/08/2025

🪔🌿 * #ভক্তির_শাস্ত্রসম্মত_বাণী* 🌿 🪔
ভক্তির মহিমা অসীম, যা কেবল শাস্ত্রে নয়, রাধাকৃষ্ণের অনন্ত প্রেমলীলার মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ে প্রকাশিত হয়। 💖

🌿 শ্রীমতী রাধার প্রেম 🌿
শ্রীমতী রাধিকা হলেন ভক্তির মূর্ত প্রতীক। তাঁর প্রেম ভগবান শ্রীকৃষ্ণকেও আবদ্ধ করে রাখে। যেমন চাঁদের আলোয় সমুদ্র পূর্ণ হয়, তেমনই রাধার প্রেমে কৃষ্ণ পূর্ণতা লাভ করেন। তাই ভক্তি মানে—রাধার মত নিঃস্বার্থ প্রেম, যেখানে কেবল কৃষ্ণের আনন্দই প্রধান। 🌸

🔱 শাস্ত্রের বাণী 🔱
শ্রীমদ্ভাগবতে (১১.১৪.২১) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
“আমি কেবল ভক্তির দ্বারাই লাভযোগ্য।”
এখানে ভগবান স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, যোগ, তপস্যা, ধন, বিদ্যা—সবই সীমাবদ্ধ; কিন্তু প্রেমভক্তি অপরিমেয়। কেবল একান্ত হৃদয়ের ভক্তিই ভগবানের চরণে পৌঁছে দেয়।

🌼 ভক্তির পথ 🌼
ভক্তি মানে কেবল নামজপ বা আচার নয়, ভক্তি মানে হৃদয়ের প্রেমস্রোতকে ভগবানের দিকে প্রবাহিত করা। 🌺
যিনি সর্বস্ব ত্যাগ করে কৃষ্ণের আনন্দকে নিজের আনন্দ ভাবেন, তিনিই প্রকৃত ভক্ত।

✨ চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন:
👉 “ভক্তির মূল হল কৃষ্ণনাম-সংকীর্তন।”
এই হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রই আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার স্বাদ আস্বাদন করায়।

🌸 আমাদের কর্তব্য 🌸
➡️ প্রতিদিন কৃষ্ণনাম জপ করা।
➡️ রাধাকৃষ্ণের লীলাকথা শ্রবণ করা।
➡️ ভক্ত-সঙ্গ করা।
➡️ কৃষ্ণসেবা ও প্রসাদ গ্রহণ করা।

🕉️ মহামন্ত্র জপ করুন:
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে ॥

🌺🙏 রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলায় অন্তর নিমগ্ন হোন, ভক্তিপথে অটল থাকুন। তাঁদের কৃপায়ই আমাদের জীবনের পরম সাফল্য। 🙏🌺

✨ জয় শ্রী রাধে! জয় শ্রীকৃষ্ণ! ✨

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Egra?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Sarrang
Egra
721443