MISA DUNYA
NO 4 SHYAMPUR
ঈদে মিলাদুন্নবী(ﷺ)পালনের দালিলিক আলোচনাঃ
✓১ নং দলিল:-
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন- “হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা, যখন আমি আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনায়ন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম।
(পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত)।
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো-
(১) অন্যান্য নবীগণ (আঃ) থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন।
(২) সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
(৩)মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজী(ﷺ)র আগমনী বা মিলাদ এর মাহফিল ছিল। (নবীগণ পৃথিবীতে আসার পূর্বেই আলামে আরওয়াহতে এই মাহফিল হয়েছিল)
নবীজীর আগমন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন।
✓২ নং দলিল:-
পবিত্র হাদীছ শরীফ এর মধ্যে এসেছে,
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّرَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الاِثْنَيْنِ فَقَالَ “ فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ ” .
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐদিন আমার উপর (কুরআন) নাযিল হয়েছে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৪০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস)
নবী (ﷺ) নিজের জন্মদিনে আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায়ার্থে রোজা রাখতেন ।
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল নবীজির জন্মদিন পালন করা নিঃসন্দেহে জায়েজ । কারণ তিনি নিজেই পালন করেছেন ।
কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বর্তমানে যেভাবে জন্মদিন পালন করা হয় সেটা এ হাদীসের সঙ্গে মেলে না, এর উত্তর আমি শেষে আলোচনা করব ।
বিশ্বনবী (ﷺ) সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ, আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সব থেকে বড় উপহার বা এহসান ।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআন শরীফের মধ্যে বলেন,
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
আল্লাহ ঈমানদারদের উপর অনুগ্রহ (এহসান) করেছেন যে, তাদের মাঝে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে (মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে) নবী পাঠিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন। তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও কাজের কথা শিক্ষা দেন। বস্তুতঃ তারা পূর্বে ছিল পথভ্রষ্ট। (সূরা আল ইমরান ১৬৪)
আল্লাহতালা পৃথিবীতে নবী (ﷺ) কে পাঠিয়েছেন এটা আল্লাহর বড় উপহার বা এহসান বা অনুগ্রহ ।
আর আল্লাহর এই বড় অনুগ্রহ মানুষ লাভ করেছে ১২ রবিউল আওয়ালে । তাই যারা আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা এই দিনে খুশি হয়ে থাকেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করে থাকেন এবং নবী (ﷺ) র আগমনের খুশি প্রকাশ করেন ।
✓৩ নং দলিল:-
হযরত হাস্সান ইবনে সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু মিম্বরে দাঁড়িয়ে কবিতার মাধ্যমে মীলাদুন্নবী (ﷺ) পাঠ করেছেন। দীর্ঘ কবিতার একাংশ নিন্মরূপ-
وَاَجْمَلَ مِنْکَ لَمْ تَرَقَطُّ عَیْنِیْ وَاَکْمَلَ مِنْکَ لَمْ تَلِدِ النِّسَآءُ
قَدْ وُلِدْتَ مُبَرَّأً مِّنْ کُلِّ عَیْبٍ قَدْ کَاَنَّکَ خُلِقْتَ کَمَا تَشَآءُ
وَضَمَّ الْاِلٰہُ اِسْمَ النَّبِیِّ بِاِسْمِہٖ اِذَا قَالَ فِی الْخَمْسِ الْمُؤَذِّنُ اَشْہَدُ
وَشَقَّ لَہٗ مِنْ اِسْمِہٖ لِیُجِلَّہٗ فَذُوْ الْعَرْشِ مَحْمُوْدٌ وَّہٰذَا مُحَمَّدُ
অর্থাৎ ক. ‘‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আপনার চেয়ে সুন্দর আমার চোখ আর কাউকে দেখেনি। আপনার চেয়ে পরিপূর্ণ কোন সন্তান মহিলারা জন্ম দেয়নি।
খ. আপনি সব দোষত্রুটি হতে মুক্ত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আপনার এ সূরত যেন আপনার ইচ্ছা অনুযায়ীই সৃষ্টি করা হয়েছে।
গ. আল্লাহ্ তাঁর প্রিয় নবীর নাম আযানে নিজের নামের সাথে সংযুক্ত করেছেন। (এর প্রমাণ হলো) যখন মুআয্যিন পাঞ্জেগানা নামাযের জন্য ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’ বলে আযান দেয়। আল্লাহ্ তা‘আলা আবার আপন নাম থেকে তাঁর নাম পৃথক রেখেছেন- তাঁকে অধিক মর্যাদাশীল করার লক্ষ্যে। যেমন- আরশের অধিপতির নাম হলো ‘মাহমূদ’ এবং তাঁর নাম হলো ‘মুহাম্মদ’। [দিওয়ান-ই হাস্সান]
মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর আলোচনা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দিনে সীমিত নয় বরং যেকোনো দিনে করা যাবে । যেহেতু ১২ রবিউল আওয়ালে বিশ্বনবী (ﷺ) জন্মগ্রহণ করেছেন তাই সেই দিনের মানুষ তুলনামূলক বেশি মিলাদুন্নবী করে থাকে ।
✓ ৪ নং দলিল:-
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীস-
عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُمَا کَانَ یُحَدِّثُ ذَاتَ یَوْمٍ فِیْ بَیْتِہٖ وَقَاءِعَ وِلاَدَتِہٖ بِقَوْمٍ فَیَبْشِرُوْنَ وَیَحْمَدُوْنَ اِذْ جَآءَ النَّبِیُّ ﷺ وَقَالَ حَلَّتْ لَکُمْ شَفَاعَتِیْ (اَلتَّنْوِیْرُ فِیْ مَوْلِدِ الْبَشِیْرِ النَّذِیْرِ لِاِبْنِ دَحْیَۃَ)
অর্থাৎ ‘‘একদিন তিনি (হযরত ইবনে আব্বাস) কিছু লোক নিয়ে নিজ ঘরে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম-বৃত্তান্ত আলোচনা করে আনন্দ উৎসব করছিলেন এবং তাঁর প্রশংসাবলী আলোচনাসহ দুরূদ শরীফ পাঠ ও সালাম পেশ করছিলেন। এমন সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত হয়ে এটা দেখে বললেন, ‘‘তোমাদের সকলের জন্য আমার শাফা‘আত অবধারিত হয়ে গেলো।’’
[ইবনে দাহ্ইয়া কৃত আত্-তানভীর ফী মওলেদী বশীরিন নাযীর ৬০৪ হিজরী]
✓৫ নং দলিল:-
👉 হাসান বসরী (রাঃ) বলেন,
ﻗﺎﻝ ﺣﺴﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻋﻨﻪ ﻭﺩﺩﺕ ﻟﻮ ﮐﺎﻥﻟﯽ ﻣﺜﻞ ﺟﺒﻞ ﺍﺣﺪ ﺫﮬﺒﺎ ﻓﺎﻧﻔﻘﺘﻪ ﻋﻠﯽ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﯿﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থাৎ- যদি আমার উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত তাহলে আমি তা রাসূলে পাক (ﷺ)র জন্মদিন উপলক্ষে মাহফিলে খরচ করতাম।
[সূত্রঃ আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১।]
✓৬নং দলিল:-
👉 জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) এর মতামত
قال الحافظ جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي في رسالة “حسن المقصد” : وقد ظهر لي تخريجه على أصل آخر وهو ما أخرجه البيهقي عن أنس أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم عق عن نفسه بعد النبوة ، مع أنه قد ورد أن جده عبد المطلب عق عنه في سابع ولادته ، والعقيقة لا تعاد مرة ثانية ، فيحمل ذلك على أن الذي فعله النبي صلى الله عليه وآله وسلم إظهار للشكر على إيجاد الله إياه رحمة للعالمين ، وتشيع لأمته- لذلك فيستحب لنا أيضا إظهار الشكر بمولده بالاجتماع وإطعام الطعام ونحو ذلك من وجوه القربات وإظهار المسرات-
হাফিজ জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আবুবাকার আস-সূয়ুতী (রহঃ) “হাসানুল মাকসিদ” রেসালার মধ্যে বাইহাকী শরীফ এর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি হাদিস নকল করেন,
হাদীসটি হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রকাশের পর নিজে আকিকা (জন্মদিনের শুকরিয়ার্থে পশু যাবে) করেছিলেন ।
তিনি বলেন আব্দুল মোতালিব নবী (ﷺ) এর জন্মের সপ্তম দিনে, আকিকা করেছিলেন, আকিকা দ্বিতীয় বার করার আর প্রয়োজন ছিল না । বিশ্বনবী (ﷺ) রাহমাতুল্লিল আলামিন হওয়ায়,আল্লাহর সৃষ্টির শুকরিয়া আদায় করেছিলেন । যাতে তা উম্মতের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে । এইজন্যই নবী (ﷺ) মিলাদ বা জন্ম উপলক্ষে মাহফিল করা, খাবার-দাবার করা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দের প্রকাশ ঘটানো ইত্যাদি হলো- মুস্তাহাব ।
“হাসানুল মাকসিদ” (ওয়া হিয়া ফি কিতাবিহিল-হাবী ১/১৯৬)
✓৭ নং দলিল;-
হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী (রহঃ)
তিনি আশরাফ আলী থানবী,রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী,সহ সকল বড় বড় উলামায়ে দেওবন্দীদের পীর ।
তিনি তাঁর কিতাবে বর্ননা করেন —
ﻣﻮﻟﻮﺩ ﺷﺮﻳﻒ ﻛﻮ ﺫﺭﻳﻌﻪ ﺑﺮﻛﻠﺖ ﺳﻤﺠﻪ ﻛﺮ ﻫﺮ ﺳﺎﻝ ﻣﻨﻌﻘﺪ ﻛﺮﺗﺎﻫﻮﻥ
ﺍﻭﺭﻗﻴﺎﻡ ﻛﮯ ﻭﻗﺖ ﺑﮯ ﺣﺪ ﻟﻄﻒ ﻭﻟﺬﺕ ﭘﺎﺗﺎﻫﻮﯼ
অর্থ- মীলাদ শরীফের মাহফিলকে বরকত,লাভের উসিলা মনে করে আমি প্রতি বছর মীলাদ শরীফ এর মজলিস করি এবং মীলাদ মাহফিলে
ক্বিয়াম শরীফ করার সময় আমি অশেষ আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ করি | (ফয়সালায়ে হাফতে মাসায়লা পৃষ্ঠা ৫)
22/09/2023
22/09/2023
ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) পবিত্র কুরআনের আলোকেঃ
মহান আল্লাহ তা‘য়ালা নিয়ামাত প্রাপ্তির পর তার শোকরিয়া আদায়ের জন্য মহান রব কুরআনে বহুবার তাগিদ দিয়েছেন। আর আল্লাহর বড় অনুগ্রহ বা নিয়ামত হলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তাই রাসূল (ﷺ) কে পেয়ে খুশি, আনন্দ, উল্লাস উদ্যাপন করা মহান আল্লাহ তা‘য়ালার নির্দেশ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে-
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ🔺(يونس-٥٨)…
হে হাবিব! আপনি বলে দিন আল্লাহর অনুগ্রহ (ইলম) ও তার রহমত (রহমাতুল্লিল আলামিন) প্রাপ্তিতে তাদের (মু‘মিনদের) খুশি (ঈদ) উদযান করা উচিত এবং আর সেটা হবে তাদের জমাকৃত ধন সম্পদ অপেক্ষা শ্রেয়।’’
🔺(সুরা ইউনুস-৫৮)..
এ আয়াতে আল্লাহর (ফদ্বল) অনুগ্রহ এবং আল্লাহর রহমত (রহমাতাল্লিল আলামিন) পাওয়ার পরে মুমিনদের খুশি মানে ঈদ উদযাপন করার নির্দেশ মহান আল্লাহর। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত তাফসিরকারক ও হাফিজুল হাদিস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (رحمة الله) 🔺(ওফাত. ৯১১হি.) লিখেন-
وَأخرج أَبُو الشَّيْخ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فِي الْآيَة قَالَ: فضل الله الْعلم وَرَحمته مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الله تَعَالَى وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا رَحْمَة للْعَالمين.
(১০৭ الْأَنْبِيَاء الْآيَة )
-‘‘ইমাম আবু শায়খ ইস্পাহানী (رحمة الله) তার তাফসীরে উল্লেখ করেন, সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে আল্লাহর (ফাদ্বল) বা অনুগ্রহ দ্বারা ইলম বা জ্ঞানকে এবং (রহমত) দ্বারা নবীজী (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে হাবিব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ব-জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্ররেণ করেছি।
(সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং-১০৭)।’’
🔺(ইমাম তিরমিযী-মাজমাউল বায়ান,৫/১৭৭-১৭৮পৃ)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুফাস্সির ইমাম সৈয়দ শিহাবুদ্দীন মাহমুদ আলূসী বাগদাদী (رحمة الله) 🔺(ওফাত. ১২৭০হি.) স্বীয় তাফসীরে উল্লেখ করেন-
وأخرج أبو الشيخ عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أن الفضل العلم والرحمة محمد صلّى الله عليه وسلم.
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন নিশ্চয়ই (ফাদ্বলুল্লাহ্) বা অনুগ্রহ হল ইলমে দ্বীন এবং রহমত হলো নবী করিম (ﷺ)।’’
🔺(আল্লাম শিহাব উদ্দিন সৈয়দ মাহদুদ আলুসী-রুহুল মা'আনী,৬/১৩৩পৃ)
ইমাম সৈয়দ মাহমুদ আলূসী (رحمة الله) আরও উল্লেখ করেন-
وأخرج الخطيب، وابن عساكر عنه تفسير الفضل بالنبي عليه الصلاة والسلام.
-‘‘হযরত খতিবে বাগদাদী (رحمة الله) এবং ইমাম ইবনে আসাকীর (رحمة الله) সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন, ফাদ্বল (অনুগ্রহ) দ্বারাও নবী করীম (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে।”
🔺(আল্লামা শিহাব উদ্দিন মাহমুদ আলুসী-রুহুল মা'আনী,৬/১৩৩পৃ)
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! সাহাবীদের তাফসীর হল মারফূ হাদিসের ন্যায়। ইমাম হাকেম নিশাপুরী (ওফাত. ৪০৫হি.) বলেন-
وَتَفْسِيرُ الصَّحَابِيِّ عِنْدَهُمَا مُسْنَدٌ -
‘‘ইমাম বুখারী মুসলিমের নিকট সাহাবীদের তাফসীর মারফূ হাদিসের ন্যায়।’’
🔺(ইমাম হাকেম নিশাপুরী : আল-মুস্তাদরাক : ১/২১১পৃ. কিতাবুল ইলম, হাদিস নং-৪২২, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪১১হি.)
ইমাম নববী আশ্-শাফেয়ী (ওফাত. ৬৭৬হি.) বলেন-
وَأَمَّا قَوْلُ مَنْ قَالَ: تَفْسِيرُ الصَّحَابِيِّ مَرْفُوعٌ -
‘‘সাহাবীদের কোরআনের কোন ব্যাখ্যা মারফূ হাদিসের ন্যায়।’’
🔺(ইমাম নববী : আল-তাক্বরীব ওয়াল তাইসীর : ৩৪পৃ. দারুল কিতাব আরাবী, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪০৫হি.)
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত কাতাদা (رضي الله عنه) ও তাবেয়ী ইমাম মুজাহিদ (رحمة الله) সহ আর ও অনেকে বর্ণনা করেন যে আহলে বায়াতের অন্যতম সদস্য হযরত ইমাম আবু জাফর বাকের (رضي الله عنه) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
عن قتادة رضى الله تعالى عنه ومجاهد وغيرهما قال ابو جعفر الباقر عليه السلام فضل الله رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم .
-“আল্লাহর (ফদ্বল) বা অনুগ্রহ দ্বারা ও রাসূল (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে।”
🔺(ইমাম তিবরিসী, মাজমাউল বায়ান ৪/১৭৭-১৭৮ পৃ.।)
শুধু তাই নয় উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম হাইয়্যান আন্দুলুসী (رحمة الله) 🔺(ওফাত. ৭৪৫হি.) বর্ণনা করেন-
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِيمَا رَوَى الضَّحَّاكُ عَنْهُ: الْفَضْلُ الْعِلْمُ وَالرَّحْمَةُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
“তাবেয়ী ইমাম দাহ্হাক (رحمة الله) সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণনা করেন- উক্ত আয়াতে (ফদ্বল) দ্বারা ইলমকে এবং (রহমত) দ্বারা মুহাম্মদ (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে।”
🔺(ইমাম হাইয়্যান, তাফসীরে বাহারুল মুহিত, ৫/১৭১ পৃ.)
বিশ্ব-বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও তাফসিরকারক ইমাম যওজী (رحمة الله) 🔺(ওফাত.৫৯৭হি.) উক্ত আয়াতে সম্পর্কে লিখেন-
ফাদ্বল দ্বারা ইলম বা জ্ঞানকে এবং রহমত দ্বারা মুহাম্মদ (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে যেমনটি তাবেয়ী ইমাম দাহ্হাক (رحمة الله) তাঁর শায়খ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেছেন।”
🔺(ইমাম যওজী, যা’দুল মাসীর ফি উলূমূত তাফাসীর, ৪/৪০ পৃ.)
উক্ত আয়াতের রহমত এবং (فضل الله) ফাদ্বলুল্লাহ দ্বারাও রাসূল (ﷺ) কে বুঝানো হয়েছে বলে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের তাফসীর দ্বারা প্রমাণ পাওয়া গেল। সুতরাং আলোচ্য আয়াত ও তাঁর তাফসীরের মাধ্যমে বুঝা গেল, মিলাদুন্নবী (ﷺ) বা রাসূল (ﷺ) এর দুনিয়ায় শুভাগমনের কারণে আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে আনন্দ উৎসব বা খুশি উদ্যাপন করার নির্দেশ দিয়েছে তার নামই হল ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)।
মহান রব ইরশাদ করেন-
‘‘যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কুফুরী বশতঃ পরিবর্তন করেছে।’’
🔺(সূরা ইব্রাহিম, আয়াত নং- ২৮)
রাসূল (ﷺ) কে আল্লাহ এ আয়াতে নিয়ামত বলেছেন; আর নিয়ামতকে অস্বীকার করেছেন কারা সে সম্পর্কে ইমাম বুখারী (رحمة الله) উল্লেখ করেছেন- هم كفار أهل مكة -‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন, যারা আল্লাহর নেয়ামত (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে) কুফুরী বশতঃ পরিবর্তন করেছে তারা হলেন মক্কার কুরাইশ গোত্রের কাফের গণ।’’
🔺(বুখারী, আস্-সহিহ, ৬/৮০পৃ. হাদিস নং. ৪৭০০)
সুতরাং যারা কুরআনে ঘোষিত হওয়ার পরও রাসূল (ﷺ) কে আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ স্বীকার করতে চান না, তারা সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! রাসূল (ﷺ) এর দুনিয়ায় আগমনের কারণে ঈদ বা আনন্দ উৎসব করার দলীল উপরের আয়াতে কারিমাগুলোতে আমরা ইতোমধ্যে পেলাম। আর ঈমানদারের জন্য এতটুকু এই দলিলই যথেষ্ট।
━━━━━━━━━━━━━━━━
🌍 তথ্যসূত্রঃ [শহিদুল্লাহ বাহাদুর গ্রন্থসমগ্র এপ্স]
ডাউনলোড লিংকঃ bit.ly/Sohidullah
অথবা, এপ্সটি পেতে প্লে স্টোরে সার্চ করুন।
মিলাদ ও ক্বিয়ামের পক্ষে দেওবন্দী আলেমগণ
* মাওঃ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ)
মাওঃ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলেন-
এভাবে কিয়াম করাকে আমরা অবৈধ বলিনা,বরং কোথাও রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনাকালে দাড়িয়ে যান, আবার কখনো তাঁর দুগ্ধ পানের ঘটনা বলার সময়,আবার কখনো মিরাজুন্নবির আলোকপাত কালে,এমনিভাবে কোনো কোনো খাস মাহফিলে ৩-৪ বারও কিয়াম করে থাকেন।তবে এরুপ মিলাদ কিয়াম করাকে কে নিষেধ করবে?? (অর্থাৎ নিষেধ করা নয়)
— তাবলিগ,পৃঃ ৩৫ (লেখকঃ আশরাফ আলী থানবী (রহঃ))
মাওঃ আশরাফ আলী থানভী কোনো এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন-
প্রচলিত মিলাদ মাহফিলের ব্যাপারে সাধকদের আমলকে আমি ভিত্তিহিন মনে করিনা। শাফেয়ী মাযহাবের মুযতাহিদ বা গভেষক ফিকাহ শাস্ত্রবিদদের অভিমত উহাই। আল্লামা ইমাম শামী (রহঃ) তাঁর প্রণিত কিতাবের মুসাফাহা বা'দাস সালাতঅধ্যায়ে শায়েখ আবু জাকারিয়া মহিউদ্দিন নববি (রহঃ) এর অনুরুপ অভিমত বলে বর্ণনা করেছেন।কাজেই যেসব সুফিয়ায়ে কেরাম বিশুদ্ব পন্থায় মিলাদ মাহফিল করেন , তাদের ব্যাপারে আপত্তিমুলক খারাপ ধারণা না করাই উচিত।
— মাযালিসে হাকিমুল উম্মত(রচনায় মুফতি মুহাম্মদ শফি)
মাওঃ আশরাফ আলী থানবি, মাওঃ রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহঃ), মাওঃ কাসেম নানুতুবি প্রমুখ দেওবন্দি বড় বড় আলেমদের পীর ছিলেন হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কী (রহঃ) যিনি মিলাদ কিয়ামের পক্ষে ছিলেন।যখন অনেকেই তাঁকে বেদাতি বলে ফতোয়া দিতে লাগলেন তখন মাওঃ আশরাফ আলী থানবি নিজের পীর এর পক্ষে কলম ধরলেন।তিনি বলেন-
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কী (রহঃ) আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অবিকল আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর এসব আমল তথা প্রচলিত মিলাদ ও কিয়াম অনুষ্ঠানে যোগদান, বক্তব্য ও লেখনির মাধ্যমে তা সমর্থন করা কোনো ভ্রান্ত আকীদা বা শীয়া ধর্মের অনুকরন ছিলনা। বরং এহেন মহৎ আমলগুলা যেহেতু মূলত বৈধ, তাই তিনি বৈধ কাজকে পুন্যময় মনে করে নিজে করতেন এবং অপরকে করতে উৎসাহ যোগাতেন।
— এমদাদে ফতোয়া
মাওঃ আশরাফ আলী থানভী উক্ত বইয়ের ৩৮ পৃষ্টায় আরো বলেন-
আমাদের আলেমগন প্রচলিত মিলাদ-কিয়াম নিয়ে অনেক ঝগড়া বিভেদে লিপ্ত রয়েছেন।এতদসত্তেও আমরা মিলাদ ও কিয়ামকে বৈধ বা ' পুন্যময় আমল ' মনে করি।যেহেতু ইহা বৈধ পন্থায় আদায় করার সুযোগ আছে সেহেতু এমতাবস্থায় বিরুধী দলের এত বাড়াবাড়ি ঠিক নয়।প্রকৃত পক্ষে মক্কা ও মদিনা শরিফের হক্কানি, রব্বানি উলামা মাশায়েখদের অনুকরনই আমাদের জন্য যতেষ্ট।অর্থাৎ হারামাইন শরিফাইনে মিলাদ,কিয়াম হতো,তাদের অনুকরন ই আমরা করবো।অবশ্য কিয়াম করার সময় নুরনবীর জন্মের খেয়াল না করা উচিত।এ কথাও চির সত্য যে, যদি মিলাদ মজলিসে হুযুরে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উপস্থিত হতে পারেন, এমন বিশ্বাস স্থাপনে কোনো দোষ নেই।কারন জড় জগত স্থান, কাল হতে সম্পুর্ন মুক্ত বিধায় নবী কারিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হওয়া মোটেও অসম্ভব নয় ।
— এমদাদে ফতোয়া
* মাওঃ আব্দুল হাই লখনভী (রহঃ)
মাওঃ আব্দুল হাই লখনভীর দৃষ্টিতে মিলাদঃ
মাওঃ আব্দুল হাই লখনভী ভারতিয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত দেওবন্দি আলেম। তিনি তাঁর মযমুয়ায়ে ফতোয়া কিতাবের ২য় খণ্ড ৩৪৭ পৃষ্টায় লিখেনঃ
মিলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনার সময় যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিকারের ইশকে মুহাব্বাতে লৌকিকতা বিহীন কিয়াম বা দাড়িয়ে যায় তাহলে কিছু বলার নেই।মজলিশের আদব হচ্ছে অন্যান্য ব্যাক্তিগন তার অনুকরনে কিয়াম করবে।ইশক মুহাব্বাত ব্যাতিত ইচ্ছাকৃত দাড়ানো এটা ফরয,ওয়াজিব,সুন্নাত মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাবে শরিয়ত নয়। কেননা এটা হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার যামানা বা কুরুনে ছালাছায় (উত্তম যুগ) ছিলনা। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ' ইয়াহয়া উলুমুদ্দিন' কিতাবে নকল করেছেন যে, হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন - ক্ষেত্র বিশেষে সাহাবায়ে কেরাম রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্য দাড়াতেন্না, কিন্তু হারামাইন শারিফাইনের উলামায়ে কেরাম অর্থাৎ মক্কা ও মদিনা শরিফের আলেমগন মিলাদের সময় কিয়াম করতেন।ইমাম বরজনযী (রহঃ) স্বীয় ' মিলাদুন্নাবী' কিতাবে লিখেছেন - রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনাকালে কিয়াম করা বিচক্ষণ ইমামগন মুস্তাহাব বলেছেন।কতই যে খুশীর সুসংবাদ ঐ ব্যাক্তির জন্য যার একমাত্র উদ্দেশ্য হুযুরে আকরাম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার সন্মানার্থে দাড়ানো।
— মযমুয়ায়ে ফতোয়া, ২য় খণ্ড, ৩৪৭ পৃষ্ঠা
* মাওঃ হুসাইন আহমদ দেওবন্দির দৃষ্টিতে মিলাদ
মাওঃ হুসাইন আহমদ ছিলেন দেওবন্দ মাদ্রাসার একজন প্রখ্যাত শায়খুল হাদীস।তিনি তাঁর ' মাক্তুবাতে শায়খুল ইসলাম' কিতাবে লিখেন- হযর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস র(আদিঃ) হতে বর্ণিত - তিনি বলেন, রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন,নিশ্চই আল্লাহ তা'য়ালা এই জমিনে কিছু ভ্রমনকারী ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। তাঁরা আমার উম্মতের প্রেরিত ছালামগুলো আমার নিকট পৌঁছান।
হযরত আবু হুরাইরা (রাদিঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম ইরশাদ করেন- যে কোনো উম্মত আমার উপর ছালাম প্রদান করে আল্লাহ তা'য়ালা তা আমার রুহে পৌঁছান আর আমি তার ছালামের জবাব দেই।
স্মরণ রাখা উচিৎ, হযরত রাসুলে আকরাম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার রওদ্বা শরিফের সামনে ছালাম পড়া হোক, তা কাছের স্থান থেকে হোক কিংবা দূরবর্তী স্থান থেকে, তা রাসুলে মাকবুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার নিকট পৌঁছে।উপরল্লেখিত হাদীসদ্বয়ে দূর ও নিকট থেকে ছালাম দেওয়ার কোনো বৈশিষ্ট নেই।অর্থাৎ প্রত্যেক স্থান হতে ছালাম তিনির নিকট পৌঁছে।ছালামদাতা যখন ইচ্ছা ছালাম প্রেরন করতে পারবে।দাড়িয়ে বা বসে ছালাম দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হয়নি।হ্যাঁ,রাসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জিকরে বেলাদাত বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা কালে কেহ দাড়িয়ে ছালাতু ছালাম পড়লে ,তাতে দোষের কি আছে?? (মাক্তুবাতে শাইখুল ইসলাম,১ম খণ্ড,৩৩৯ পৃষ্টা)
* আক্বায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ কিতাবে মিলাদের হুকুম
আক্বায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ কিতাবের ১৯ পৃষ্টায় মিলাদের ব্যাপারে নিম্নের ফতোয়া আসেঃ আমরা (দেওবন্দি উলামাগন) মিলাদ মাহফিলে রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করাকে অস্বীকার করিনা, বরং নাজায়েয বস্তু যা উহার সহিত যুক্ত হয়েছে, তাহা অস্বীকার করি।হ্যাঁ, যদি কোনো মিলাদ মাহফিলে মন্দ উপসর্গ বর্জিত হয়, তবে আমরা কি এ কথা কখনো বলতে পারি যে, মিলাদ শরিফের বর্ণনা নাজায়েয ও বেদাত! এহেন মন্দ কথা কোনো মুসলমানের প্রতি কিভাবে ধারণা করা যেতে পারে???
উক্ত কিতাবের ৪১ পৃষ্টায় আরো উল্লেখ আছে - মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত আলেম শাইখুল উলামা সেলিম সাহেব বলেন যে, হুযুরে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম কাহিনি বর্ণনার সময় কিয়াম অস্বীকার করা এবং হুযুরের ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম উনার জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করাকে পৌত্তলিক এবং রাফেজীগনের সহিত তুলনা করা আর ইহার সমালোচনা করা একজন ইমানদারের কাজ হতে পারেনা।কেননা পূরবর্তী ইমামগন এই মিলাদের কিয়াম হুযুর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির শান,মান ও মর্যাদার উদ্দেশ্যে মুস্তাহসান মনে করেছেন এবং উহা এমন একটি কাজ,যার দধ্যে খারাপ বা নিন্দনীয় বলতে কিছুই নেই।
— আকায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ, রচনায়- মাওঃ খলিল আহমদ সাহারানপুরী দেওবন্দী
* মাওঃ রশিদ আহমদ গাঙ্গুহীর উস্তাদের দৃষ্টিতে মিলাদ
মাওঃ রশিদ আহমদ উস্তাদ প্রখ্যাত আলেম মাওঃ শাহ আহমদ সাইদ হানাফী তাঁর 'মালফুযাত' এ বলেছেন- মিলাদ শরীফ পাঠ করা এবং রাসুলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তিনির জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা কালে কিয়াম বা দাড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব।
— মাকামাতে সাইদিয়া ওয়া আহমাদিয়া
* দেওবন্দি উলামাদের পীর সাহেবের দৃষ্টিতে মিলাদ
বিশিষ্ট দেওবন্দি উলামাদের (মাওঃ কাসেম নানুতুবী, রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী, মাওঃমাহমুদুল হাসান, মাওঃ আশরাফ আলী থানভী…প্রমুখ) পীর হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মাক্কি (রহঃ) যিনি এই উপমহাদেশে একজন যোগ্য দীনের মুবাল্লেগ হিসেব্দ পরিচিত এবং পীরে কামেল ও আধ্যাত্নিক সাধক ছিলেন,তিনি তাঁর লিখিত কিতাব ফয়সালায়ে হাফত মাস'আলা কিতাবের মধ্যে মিলাদ নিয়ে একটি অধ্যায় লিখেছেন,সেখানে এক যায়গায় তিনি বলেছেন-
আমার নীতি হচ্ছে আমি মিলাদ মাহফিলে যোগদান করি এবং এটাকে বরকতের উছিলা মনে করে আমি নিজেই প্রতি বছর এর আয়োজন করে থাকি এবং কিয়ামে আনন্দ ও তৃপ্তি পেয়ে থাকি।
— ফয়সালায়ে হাফত মাস'আলা
* download full app from the link given below : https://play.google.com/store/apps/developer?id=com.astudio.miladunnabi
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
NO 4 SHYAMPUR
Darrang
784116