PostBardhaman
Bengali news website
প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে যুবক ধৃত বর্ধমানে
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশ। ধৃতের নাম কর্ণবীর দে ওরফে কর্ণবীর। বর্ধমান শহরের অনিতা সিনেমা লেনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে সে থাকে। শনিবার তাকে বর্ধমান শহর থেকে ধরা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বাদামতলায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ওই যুবতী। কিছুদিন আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে তাঁর আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। সেটি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক কর্ণবীর ছড়িয়েছে বলে তাঁর ধারণা হয়। কারণ, ছবিটি প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়িতে তোলা। সে তাঁকে আপত্তিকর ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। বিষয়টি জানিয়ে এবছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নামে সাইবার থানা। কর্ণবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। যদিও সে তদন্তে সহযোগিতা করেনি। সাইবার থানায় হাজিরই হয়নি। এরপর কয়েকবার তার অ্যাপার্টমেন্টের ঠিকানায় পুলিশ যায়। কিন্তু, তার হদিশ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ফের একটি আবেদন জমা পড়ে থানায়। তাতে সমাজমাধ্যমে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর কথা বলা হয়। যুবতী বিষয়টি থানায় জানান। শনিবার যুবতী ও তাঁর বাবা সাইবার থানায় এসে আপত্তিকর ছবি এবং সেটির অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তথ্য দেয়। এরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
গলসিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সহবাস, ধৃত ১
নিজস্ব সংবাদদাতা: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহিত মহিলার সঙ্গে সহবাসের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে গলসি থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ আসরাফউদ্দিন। গলসি থানার রামপুর গ্রামে তার বাড়ি। শনিবার রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে পাঁচদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের দু’দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান থানার বাজেপ্রতাপপুর মালিরবাগান এলাকায় ওই মহিলার শ্বশুরবাড়ি। বছর ১৪ আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তাঁর দু’টি ছেলে–মেয়ে আছে। বছর তিনেক আগে তাঁর সঙ্গে আসরাফউদ্দিনের পরিচয় হয়। দু’জনের মধ্যে ফোনে হামেশাই কথাবার্তা হতো। পরে দু’জনের মধ্যে ভাব–ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আসরাফউদ্দিন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় মহিলাকে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে আসরাফউদ্দিনের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সহবাস করেন মহিলা। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আসরাফউদ্দিনকে জানান মহিলা। মহিলাকে বিয়ে করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করে অভিযুক্ত। শেষমেশ দুই সন্তানকে রেখে দিয়ে মহিলাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রেমিক আসরাফউদ্দিনকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করান মহিলা। এরপরই স্বরূপ বেরিয়ে আসে আসরাফউদ্দিনের। মহিলাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে সে। মহিলা বার বার তাকে বিয়ে করার কথা বলেন। প্রেমিকের সাড়া না পেয়ে শেষমেশ শনিবার সন্ধ্যায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে থানা। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার।
শক্তিগড়ে কিশোরীর শ্লীলতাহানি, মুির্শদাবাদ থেকে যুবক ধৃত
নিজস্ব সংবাদদাতা: কিশোরীর শ্লীলতাহানি ও তাঁর আপত্তিকর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে শক্তিগড় থানার পুলিশ। ধৃতের নাম রাহুল মল্লিক। মুির্শদাবাদের শক্তিপুর থানার বালিহরপাড়ায় তার বাড়ি। রবিবার ভোররাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর ব্যবহৃত ডিভাইস উদ্ধারের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু, তা সফল হয়নি। ধৃতকে এদিনই বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্য আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের প্রধানকে নিের্দশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ধৃতকে সোমবার পকসো আদালতে পেশের নিের্দশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শক্তিগড় থানা এলাকায় বছর ১৬–র ওই কিশোরীর বাড়ি। বছর খানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কিশোরীর সঙ্গে রাহুলের পরিচয় হয়। ক্রমে দু’জনের মধ্যে ভাব–ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবছরের ২১ জানুয়ারি রাহুল কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে শক্তিগড়ে আসে। কিশোরীকে তারই ঠাকুমার বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানে কিশোরীর আপত্তিকর ছবি তার মোবাইলে তোলে সে। কিশোরী তার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত তাকে ভয় দেখায়। সমাজমাধ্যমে তার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তা ছড়িয়েও দেয় সে। এরপর কিশোরীর পরিবারের তরফে ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তোলবাজির অভিযোগ, মেমারিতে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তোলবাজির অভিযোগে তৃণমূলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতের গফ্ফর মল্লিক। মেমারি থানার বাড়ারি গ্রামে তার বাড়ি। শনিবার রাতে মেমারি থানার নুদিপুর মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে রবিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তোলাবাজির টাকা উদ্ধার করতে এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতকে সাতদিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতের চারদিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে মেমারি থানার গোরাপুরের বাসিন্দা মিঠুন হাজরা এবছরের ২৬ মে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ২০২১ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যায় তিনি ঘুষকেরপাড় বাজারে ডিম আনতে যান। সেসময় মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ আহমেদের নিের্দশে গফ্ফর মল্লিকের নেতৃত্বে কয়েকজন অতির্কতে তাঁর উপর হামলা চালায়। তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। পরে তাঁর বাবা আহমেদের কাছে যান। গুলি করে মেরে দিলেও কিছু করার থাকবে না বলে তাঁর বাবাকে জানায় আহমেদ। ২৬ এপ্রিল বিকেলে তিনি টাকা ফেরত চাইতে যান। ফের তাকে মারধর করা হয়। ভয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। অভিযুক্তরা এলাকায় আরও অনেকের কাছ থেকে এভাবে টাকা নিয়েছে বলে দাবি মিঠুনের।
অধ্যাপিকা খুনের মোটিভ নিয়ে ধন্দে দিল্লি পুলিশ
নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাদামতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে। কিন্তু, খুনের মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয় পুলিশের কাছে। দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকে রামপ্রসাদ। বর্ধমান থেকে এত দূরে অধ্যাপিকাকে কেন খুন করতে গেল সে? এর পিছনে কি শুধুই দেবস্মিতার দাদুর কয়েক কোটি টাকার বাড়ি হাতানোর পরিকল্পনাই ছিল? নাকি, অধ্যাপিকা খুনের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। দেবস্মিতার বোন ও দাদা রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই দেবস্মিতাকে খুন করতে পারলেই যে কয়েক কোটি টাকার বাড়ি হাতানো যাবে তা কিন্তু নয়। সেকারণে সম্পত্তি হাতানোর পরিকল্পনার বিষয়টি তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণাও এলেও অধ্যাপিকাকে খুনের পিছনে অন্য কী কারণ থাকতে পারে তা ভাবনার মধ্যে রয়েছে পুলিশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাল্যকাল অভাবের মধ্যে কেটেছে রামপ্রসাদের। তার বাবা অরবিন্দ স্টেডিয়ামে গাের্ডর কাজ করেন। অভাবের মধ্যে বড় হওয়া রামপ্রসাদ চিরকালই ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখত। প্রথমে সে গাড়ির ব্যবসা শুরু করে। দু’–তিনটি গাড়ি কেনে সে। একটি গাড়ি সে নিজে চালাত। বাকি দু’টি গাড়ি ভাড়ায় খাটাত সে। গাড়ি ব্যবসায় তার লোকসান হয়। তবে, বিনয়ী আচরণের হলেও রামপ্রসাদ বরাবরই কিছুটা বেপরোয়া। গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের সুবাধে তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসারের পরিচয় ছিল। গাড়ির ব্যবসায় সেই প্রভাব খাটাত সে। গাড়িতে পুলিশের বোর্ড ঝুলিয়ে ভাড়া নিয়ে যেত রামপ্রসাদ। গাড়ি ব্যবসায় লোকসানের পর সে ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসায় নামে। শহরের তিনকোনিয়া এলাকায় পুরসভার অফিসের পাশে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান খোলে সে। সেই ব্যবসাতেও তার লোকসান হয়। বাধ্য হয়ে সে ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান বিক্রি করে দেয়। দোকান বিক্রিতেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজনের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়ে তাদের সে দোকান বিক্রি করেনি। দোকান বন্ধ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পুরাতন মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্সের সরঞ্জাম এনে বিক্রি শুরু করে। সেই ব্যবসাও কিছুদিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, সংসারে কিছুটা অভাব দেখা দেয়।
মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসার সুবাধে মাঝে মধেই সে দিল্লি যেত। সেখান থেকে মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জাম কিনে এনে বিক্রি করত সে। দিল্লিতে হামেশাই যাতায়াতের সুবাধে সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি এবং পথঘাট তার অনেকটাই চেনা। দিল্লিতে যাওয়ার সময় সে দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে আগে গিয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। তবে, যেভাবে অপারেশন সেরে দিল্লি থেকে সে পালিয়ে এসেছে তা থেকে পুলিশ নিশ্চিত, পরিকল্পনা করে সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিচিত হওয়ায় অধ্যাপিকা তাকে আবাসনের দরজা খুলে দিয়েছিলেন বলে অনুমান তদন্তকারীদের। বাড়ি হাতানোর পাশাপাশি ঘটনার পিছনে অর্থ এবং সোনার গয়না আত্মসাতের বিষয়টি রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দিল্লির অধ্যাপিকা খুনে বর্ধমান থেকে ধৃত দম্পতি
নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাদামতলা থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের নাবালক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। বর্ধমান শহরের বাদামতলায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে তারা। তাদের ছেলে শহরের একটি নামী বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে। রবিবার সকালে ভাড়া বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর টানা কয়েক ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দিল্লি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনে জড়িত থাকার কথা তারা স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি। তাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খুনে ব্যবহৃত লোহার ভারী বস্তু ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে তল্লাশি চালানো হয়। অধ্যাপিকাকে খুনের পিছনে বাড়ি হাতানোরা পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান। যদিও কেবলমাত্র বাড়ি হাতানোর জন্যই এই খুন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা ধৃত দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে, অধ্যাপিকার দিল্লির ফ্ল্যাটে যে ধৃতদের যাতায়াত ছিল। সেব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ। অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙা ছিল না। খুনি অধ্যাপিকার পরিচিত হওয়ায় তাদের দরজা খুলে অধ্যাপিকা যে ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন প্রাথমিক তদন্তের পরই সেব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হয় পুলিশ। ধৃতদের বর্ধমান থানার লকআপে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আজ, সোমবার ধৃতদের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বছর ৪৫–র দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁর স্বামী বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। ঘটনার দিন দুপুরে দীর্ঘক্ষণ দেবস্মিতার ফোন না পেয়ে তাঁর বোন দেবারতি ফ্ল্যাটে যান। ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন দেবারতি। দেবস্মিতার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাতেরা শিরা কাটা ছিল। মৃতদেহ দেখার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, মাথায় ভারী কিছু দিয়ে দেবস্মিতাকে আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাতের শিরা কাটা হয়।
খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। ফ্ল্যাটের এবং আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এক দম্পতি ও তাদের নাবালক ছেলেকে মুখ ঢাকা অবস্থায় ফ্ল্যাটে উঠতে দেখা যায়। আধঘণ্টা পর মুখ ঢাকা অবস্থাতেই তিনজনকে নামতে দেখা যায়। এছাড়াও কল ডাম্পিং এবং মোবাইল টাওয়ারের বিশ্লেষণ করে দিল্লি পুলিশ। এরপর পুলিশ একটি ভাড়া গাড়ির সন্ধান পায়। সেই গাড়িটিতে চেপেই তিনজন দেবস্মিতার অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছেছিল বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। গাড়ির সূত্র ধরে আরও কিছু তথ্য উঠে আসে। পাওয়া সব তথ্য বিশ্লেষণ করে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুনে রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রীর জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় দিল্লি পুলিশ। এরপরই দিল্লি পুলিশের একটি টিম দু’দিন আগে বর্ধমানে এসে রামপ্রসাদের সম্পের্ক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। ভাড়াবাড়ির আশপাশের এলাকার লোকের সঙ্গে কথা বলে দম্পতির সম্পের্ক বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। ঘটনার সময় যে তারা বাড়িতে ছিল না, এব্যাপারেও নিশ্চিত হয় পুলিশ। তারপর তাদের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন থেকে ঘটনার সময় এলাকায় উপস্থিতির বিষয়ে তথ্য মেলার পরই খুনে রামপ্রসাদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জেনেছে, মাঝে মধ্যেই দিল্লিতে যেত রামপ্রসাদ। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাকে দিল্লি যেতে হতো। এর আগেও সে কয়েকবার দিল্লিতে গিয়ে দেবস্মিতার সঙ্গে দেখা করেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেবস্মিতার দুই দুই বোন ছাড়াও দাদা রয়েছেন। বর্ধমানের বাড়িটি তাঁর মাতৃকুলের। দেবস্মিতা মাঝে মধ্যে দাদুর বাড়ি দেখভাল করতে আসতেন। সেকারণে বাড়ি হাতাতে দেবস্মিতাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
বর্ধমান শহরের তেজগঞ্জ এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে আবগারি দপ্তর। ধৃতেরন নাম সুশোভন অধিকারী। তেজগঞ্জ এলাকাতেই তার বাড়ি। মদ উদ্ধার হওয়ার দিনই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এক্সাইজ অ্যাক্টের ১৫, ১৬, ১৮(১) ও ৪৬(সি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। আইনজীবী কমল দত্ত জামিনের সওয়ালে বলেন, ধৃতকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সে ঘরের চাবি স্বরাজ ঘোষকে ১০দিনের জন্য ব্যবহার করতে দেয়। সেখানে সংসদ সদস্য থাকবেন বলে তাঁকে জানানো হয়। তিনি প্রথমে ঘরের চাবি দিতে অস্বীকার করেন। পরে চাপের মুখে তিনি ঘরের চাবি দিতে বাধ্য হন। তাঁর ঘরে যে মদ মজুত করা হয়েছে তা ধৃতের জানা ছিল না। তদন্তকারী সংস্থা এব্যাপারে স্বরাজকে অভিযুক্ত করেনি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। ধৃতকে দু’টি ভিন্ন ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়। একটিতে তাঁকে সাক্ষী করা হয়েছে। অপরটিতে অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে অভিযুক্ত তদন্তকারী সংস্থার কাছে হাজির হন। তারপরও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোের্টর নিের্দশিকা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতার পরও কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর ১ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা ও আগাম অনুমতি ছাড়া রাজ্য না ছাড়ার শের্ত ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেছেন সিজেএম বিনোদ মাহাত। পাশাপাশি আবগারি দপ্তরের তদন্তকারী অফিসারকে গ্রেফতারির ক্ষেত্রে নিের্দশিকা না মানা এবং দু’টি পৃথক ধারায় নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছেন বিচারক। দু’দিনের মধ্যে তাঁকে কেন তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে না, সেব্যাপারে তাঁর বক্তব্য লিখিতভাবে জানানোর জন্য নিের্দশ দিয়েছেন সিজেএম। ঘটনায় সংসদ সদস্যের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের মুখে সংসদ সদস্যের থাকার কথা বলে নেওয়া ঘরে কী উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ মদ মজুত করা হয়েছিল তা নিয়েও নানা চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের জন্য আবগারি দপ্তর মদ বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্বাভাবিকভাবেই লাইসেন্সবিহীন একটি ঘরে মদ মজুতের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তেজগঞ্জের একটি ঘরে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে আবগারি দপ্তর। উদ্ধার হওয়া মদের মূল্য আনুমানিক ২৭ লক্ষ টাকা বলে আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। মদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর বাড়ির মালিককে নোটিশ পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি নোটিশ পেয়ে হাজির হওয়ার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
17/03/2026
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Burdwan
713104