FlashBack Media
ইতিহাস-ঐতিহ্যের আশ্চর্য-অলৌকিক কাহিনীর সঙ্গে সমাজ-সংস্কৃতি ও আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া দৃশ্য তুলে ধরি
বহরমপুর শহরে রামনবমীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
26/03/2026
১২৭৮ বঙ্গাব্দ,ইংরেজি 1871 সালের বৈশাখ মাসের 17 তারিখ শনিবার পুষ্পবসন্ত যোগে, মাহেন্দ্রক্ষণে, সীতা নবমীতে প্রভুর শুভ আবির্ভাব।
প্রভুর আবির্ভাবের স্থান মুর্শিদাবাদ ডাহাপাড়া।
টানা ৮ দিন ধরে চলবে এই মহৎ উৎসব,সঙ্গে কীর্তন প্রসাদ বিতরণ,মেলা আর আলোর রোশনাই ।
সুপ্রাচীন কাল থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত এই পৃথিবীতে যে সমস্ত মহামানবের অভ্যুদয় হয়েছে শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু তাদের মধ্যে সমপর্যায়ভুক্ত।
তার ভিতরে সত্য সনাতন হিন্দু ধর্মের সুনির্মল আদর্শ এমনই অভিনব রূপে বিকশিত হয়ে উঠেছিল যা একান্তই দুর্লভ।
১২৭৮ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি 1871মে বৈশাখ মাসের 17 তারিখ শনিবার পুষ্পবসন্ত যোগে, মাহেন্দ্রক্ষণে, সীতা নবমীতে প্রভুর শুভ আবির্ভাব।
প্রভুর আবির্ভাবের স্থান মুর্শিদাবাদ ডাহাপাড়া। তাঁর পিতার নাম ছিল দীননাথ ন্যায়রত্ন ও মাতার নাম ছিল বামাদেবী । ন্যায়রত্নজী বঙ্গাধিকারি বজেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সভাপণ্ডিত ছিলেন।
বাল্যকাল থেকেই বিশুদ্ধ ভাগবত ধর্মের ভাব লক্ষণগুলি প্রকট হয়ে উঠেছিল।
প্রভুর নীরবে নিভৃত ছিল তার সাধনা, মানবের কল্যান চিন্তায় ছিল তার তপস্যা।
অস্পৃশ্যতা বর্জন হিন্দু সমাজের উন্নয়ন ও শুদ্ধি প্রভৃতি আন্দোলনে বহু সহায়তা তিনি করেছিলেন।
ডোম,বুনা,বাগদি প্রভৃতি সমাজে উপেক্ষিত ঘৃণিত অস্পৃশ্যদের মধ্যে স্বয়ং তিনি বসবাস করতেন এবং তাদের উন্নয়ন সাধন করেছিলেন।
ক্রমশ তিনি নদীয়ার সেই গৌর নিত্যানন্দের মত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হরিনামের প্রচার আরম্ভ করেন।
তাহার সত্যনিষ্ঠা, স্বজাতিপ্রেম, দীন নারায়ণের সেবা, সংযম, ব্রহ্মচর্য, ক্ষমা, দয়া প্রভৃতি গুণগুলি ছাত্ররা যদি আদর্শরূপে গ্রহণ করতে পারে তাহলে তারা প্রকৃত মনুষ্যত্বের অধিকারী হবে।
প্রভুর আবির্ভাব ভূমি মুর্শিদাবাদ প্রকৃতির বিচিত্র লীলাদৃশ্যে পরিপূর্ণ। এককালে এই স্থান দেশের সর্ব শ্রেষ্ঠ নগরী ছিল। এই স্থানে এলে ঐশ্বর্য ও মাধুর্যকে পাশাপাশি দেখে বিস্ময় মুগ্ধ হতে হয়। সেসময় মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত ডাহাপাড়া ঢাকাবাসীদের উপনিবেশ রূপে পরিণত হয়েছিল। ঢাকাপাড়া থেকে ডাহাপাড়া নামের উৎপত্তি হয়েছে।
বর্তমানে এখানে প্রভুর একটি আশ্রম রয়েছে।রোজ প্রভু জগতবন্ধুর পূজা হয়
তাঁর জীবনের শেষ ২০ বছর মহাগম্ভীরা লীলাতে কাটিয়েছিলেন - ধ্যান ও সান্নিধ্যের প্রায় একটানা রাজ্য যখন তিনি নিজেকে বাইরে থেকে আলাদা করে রেখে একটি ছোট্ট কুটিররে আবদ্ধ করে রেখেছিলেন। তিনি এই মানব রূপটি ১৯২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রেখেছিলেন। শ্রী কুঞ্জজাদ ব্রহ্মচারী প্রতিষ্ঠিত আশ্রমটি আশেপাশের মনোরম পরিবেশে স্থাপন করা হয়েছে। প্রভু জগদ্ধবন্ধুর চিত্রের পূজা এবং বার্ষিক জন্ম বার্ষিকী সেখানে সমস্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করা হচ্ছে।
কারবালা রাস্তা সম্পর্কে আপনাদের মতামত মন্তব্য করে জানান
মন্তব্যে # ট্যাগ দিতে ভুলবেন না
৪৫০ বছর প্রাচীন গাছের গল্প
24/03/2026
শাস্ত্রমতে দেবী মহাশক্তি বঙ্গদেশে কালিকা বা কালী রূপে ভক্তদের পাশে থাকেন। সেই শক্তিসাধনার অঙ্গ হিসেবেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কালী মন্দির। তার মধ্যে জাগ্রত মন্দিরের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমনই এক জাগ্রত কালীমন্দির হল বীরভূমের আকালিপুরের শ্রীশ্রী গুহ্যকালিকা দেবীর মন্দির।
মহারাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান বলে পরিচিত নলহাটির ভদ্রপুরের সংলগ্ন গ্রাম আকালিপুর। কথিত আছে, ১৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং মহারাজ নন্দকুমার। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কুন্ডলাকৃতি সর্পের উপরে আসীন, সর্পের অলঙ্কারে ভূষিতা, বরাভয়দায়িনী দ্বিভূজা জগন্মাতা শ্রীশ্রী গুহ্যকালিকা দেবীর মূর্তি। কালো পাথরে নির্মিত দেবীমূর্তির প্রসন্নরূপ মনকে মোহিত করে। মূর্তিটি তান্ত্রিক উপাসনা পদ্ধতি অনুযায়ী "যন্ত্র" বা "মন্ডলের" উপর প্রতিষ্ঠিত বলে জানতে পারা যায়।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, মন্দির নির্মাণকালে আকস্মিকভাবে তাতে বিশাল ফাটল ধরে এবং রাত্রিকালে দেবী স্বপ্নাদেশে বলেন যেহেতু তিনি শ্মশানবাসিনী অতএব তাঁর জন্য দেবালয়ের প্রয়োজন নেই। বাস্তবিকরূপে এখনও মন্দিরের উত্তর দিকের দেওয়ালে এক বিরাট ফাটল দেখা যায় যা উপরোক্ত ঘটনার সাক্ষ্য দেয় বলে স্থানীয় মানুষেরা বিশ্বাস করেন।
মাঘ মাসের রটন্তী চতুর্দ্দশীতে মহাসমারোহে দেবীর পূজা সাধিত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তেরা সমবেত হন। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রাহ্মণী নদীতে স্নান করে আকালি মায়ের পূজা দিলে সকল মনস্কামনা পূর্ণ হয়।
মা গুহ্যকালী, আকালিপুর, বীরভূম: কথিত আছে ইনি জরাসন্ধের ইষ্টমাতৃকা ছিলেন।
★ মহাভারতে পৌণ্ড্রক বাসুদেবের সঙ্গে বা জরাসন্ধের সঙ্গে আর্যাবর্তের সঙ্ঘাতের সংবাদ পাওয়া যায়। পুণ্ড্র বাসুদেব নিয়ে আগে এই পেজেই লিখেছি। তন্ত্রধর্মীয় সভ্যতার প্রতিভূ হিসেবে জরাসন্ধের কাহিনী পাঠ করা যায়, তিনি শৈশবে জরা নামক অরণ্যদেবীর আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলেই জরাসন্ধ নাম। এই জরা পরে রাক্ষসী প্রভৃতি আখ্যা পেলেও আদতে ইনি মগধের স্থানীয় ভৈরবী অথবা লৌকিক মাতৃকা। এবং জরা নামটি সম্ভবত বৃদ্ধা মাতার সমার্থক, এখনও যেমন আমরা স্থানীয় চণ্ডী বা কালীর আগে পরে বুড়ি, বুড়ো শব্দের ব্যবহার দেখি।
জরাসন্ধ নরবলির মাধ্যমে উপাস্য মাতৃকাকে তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধে পরাজিত রাজাদের বন্দী করেছিলেন আমরা জানি। জরাসন্ধ তন্ত্রসাধনা করতেন সন্দেহ নেই।
প্রসঙ্গত জরাসন্ধ সম্পর্কে বাঙালির ধারণা সম্পূর্ণ নেতিবাচক নয়। মধ্যযুগের শেষে ঢাকার রাজা রাজবল্লভ ছিলেন সবথেকে প্রতিপত্তিশালী বাঙালি। তাঁর সম্পর্কে কৃষ্ণচন্দ্র এই শ্লোকটি পেয়েছিলেন হস্ত চালনা করে (একরকম ouija board): কিবা পৃচ্ছসি রে মূঢ় বারং বার পুনঃ পুনঃ। পূর্বে রাজা জরাসন্ধ ইদানীং রাজবল্লভ। অর্থাৎ রাজা জরাসন্ধ পুনর্জন্ম নিয়েছিলেন বঙ্গদেশে রাজবল্লভ রূপে।
কাকতলীয় ঘটনা, যে রাজবল্লভের সমসাময়িক আরেকজন খ্যাতনামা বাঙালি রাজা নন্দকুমার রাজা জরাসন্ধের উপাস্য মাতৃকা হিসেবে খ্যাত গুহ্যকালীর প্রতিষ্ঠা করেন।
★ রাণী অহল্যা বাঈ এই মূর্তিটি খুঁজে পেয়েছিলেন প্রথম, এবং তিনি চৈত সিংহকে দেন, কথিত আছে। এরপর কাশীর রাজা চৈত সিংহ এই মূর্তিটি গঙ্গাবক্ষে লুকিয়ে রাখেন কারণ ওয়ারেন হেস্টিংস নাকি মূর্তিটি বিলেতে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। রাজা নন্দকুমার মূর্তিটি কাশী থেকে নিয়ে আসেন। একটি বিকল্প কাহিনীতে শোনা যায়, ওয়ারেন হেস্টিংস রাজা চৈত সিংহের ধনসম্পত্তি লুট করার সময় এই বিগ্রহও নিয়ে আসেন, সেটা হেফাজতখানায় থাকে, নন্দকুমার সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন।
নন্দকুমার মাকে নিয়ে আসেন তাঁর জন্মস্থান ভদ্রপুর, বীরভূমে। ব্রাহ্মণী নদীর তীরে শ্মশান, সেই শ্মশানে মা গুহ্যকালীর অধিষ্ঠান হয়। এই মায়ের আরেক নাম আকালী, তিনি কালরহিত, কালের অতীত। তাঁর পূজাস্থলে কালের অভাব, অর্থাৎ আকাল: যেখানে কালস্রোত থমকে যায়। মায়ের নামেই মৌজার নাম আকালিপুর।
★ মায়ের বিগ্রহ জরাসন্ধের সময়ের নয়, সেযুগের মাতৃমূর্তি এমন হত না, কিরকম হত জানতে পাণ্ডু রাজার ঢিবির মাতৃমূর্তি দেখতে পারেন, এই পেজে আগে লিখেছি।
মা গুহ্যকালীর এই বিগ্রহ মধ্যযুগের শেষে নির্মিত। কিন্তু মায়ের সঙ্গে শিবের অনুষঙ্গ নেই, পদতলে শিব নেই, কাজেই অনুমান করা যায় একটি অতি প্রাচীন মূর্তিকল্প থেকেই এই বিগ্রহটি পরবর্তী যুগে নির্মিত। শশাঙ্কপূর্বযুগে শিবের সঙ্গে শক্তির সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি আমরা জানি, আগে অনেকবার লিখেছি। শ্রী শ্রী চণ্ডী গ্রন্থেও শিবের সঙ্গে শক্তির কোনও বিশেষ সম্পর্ক নেই।
★ মায়ের বিগ্রহ কষ্টি পাথরে নির্মিত। মা সর্পবাহনা।
প্রসঙ্গত সর্পমাতৃকা উপাসনার প্রাচীন প্রথা উপমহাদেশে হরপ্পা সভ্যতা থেকে মহাভারত যুগে অনবরত চলেছে, চন্দ্রকেতুগড় গঙ্গারিডাই সভ্যতায় সর্পমাতৃকা মূর্তি পাওয়া গেছে। পালযুগে সমস্ত প্রতিমার মধ্যে সবথেকে বেশি যে মূর্তি পাওয়া যায়, তা হল মনসা বা সর্পমাতৃকা।
অতএব গুহ্যকালী মূর্তিকল্পে এই সুপ্রাচীন সর্পমাতৃকার স্মৃতিও নিহিত।
★ মা সর্পকুণ্ডলীর ওপর যোগাসীন। দেড় ফুট উচ্চ বেদীটি অনেক সময় ঢাকা থাকে। মা এখানে সর্প উপবীত ধারণ করেন। মা দ্বিভুজা, ডান হাতে বরদান করেন এবং বাম হাতে অভয় দান করেন। মা লোলজিহ্ব। মুণ্ডমালিনী, মুণ্ডের সংখ্যা পঞ্চাশ। মূর্তির দন্ত ও চক্ষু মহাশঙ্খ দিয়ে তৈরি।
তন্ত্রে মানুষের মাথার খুলিকে মহাশঙ্খ বলে।
মন্দিরের দক্ষিণে পঞ্চমুণ্ডি আসন আছে।
★ শোনা যায় এই মন্দিরে বর্গি হামলা হয়েছিল। বর্গিরা মন্দিরে হামলা করেছে এমন খুব বেশি জানা যায় না। নবাবী আমলে নন্দকুমার বর্গিদের শত্রু বলেই সম্ভবত আক্রমণ, অথবা জরাসন্ধের সঙ্গে আর্যাবর্তর সুপ্রাচীন সঙ্ঘাতের স্মৃতিকেই কি নাগপুরের চিৎপাবন ব্রাহ্মণরা পুনরায় জাগরিত করেন?
কিন্তু বাংলায় বর্গি হামলা যে সময় হয়েছিল, সেটা মন্দির স্থাপনার যে সময়টি জানা যাচ্ছে (১৭৭০ দশক), তার প্রায় তিন দশক আগে। তবে হতে পারে ইতিহাসে কুখ্যাত ওই ফাঁসির ঘটনার সঙ্গে এই মন্দির স্থাপনার কাহিনী পরবর্তী কালে মিশে গেছিল, বাস্তবে হয়ত নন্দকুমার মন্দির স্থাপন ফাঁসির অনেক আগেই করেছিলেন।
মন্দিরে মায়ের অধিষ্ঠান হয়েছিল একটি শনিবার, ১১৭৮ বঙ্গাব্দের ১১ই মাঘ, ইংরেজি ১৭৭২ সালের ২৫শে জানুয়ারি।
প্রসঙ্গত নন্দকুমার একজন দীক্ষিত বৈষ্ণব ছিলেন, মালিহাটির রাধারমণ ঠাকুর তাঁকে দীক্ষা দেন। কিন্তু সভামধ্যে বৈষ্ণব হলেও অন্তরে শাক্ত ছিলেন নন্দকুমার, যা কৌলধর্মের প্রাচীন প্রথা, তিনি গোপনে শক্তি সাধনা করতেন। গুহ্য সাধনা করতেন বলেই গুহ্যকালীর শরণ নিয়েছিলেন।
★ মন্দিরের চূড়া নন্দকুমার শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করেন নি। এ সম্পর্কে একাধিক কাহিনী প্ৰচলিত। মা স্বয়ং নন্দকুমারকে স্বপ্ন দিয়ে চূড়া নির্মাণে নিষেধ করেন, অথবা নন্দকুমারের ফাঁসির পরে চূড়া আর নির্মিত হয়নি, অথবা ফাঁসির পরে চূড়াটি বজ্রপাতে ভেঙে গেছিল।
তবে মন্দিরের চূড়া ২০০৪ সালে নবনির্মিত হয়েছে।
★ তন্ত্রসার গ্রন্থে মা গুহ্যকালীর ধ্যানমন্ত্র এরকম। তাঁর গাত্রবর্ণ গাঢ় মেঘের ন্যায়; তিনি লোলজিহ্ব ও দ্বিভূজা; পঞ্চাশ নরমুণ্ডের মালা ধারণ করেন, মায়ের কটিতে ক্ষুদ্র কৃষ্ণবস্ত্র। মায়ের স্কন্ধে নাগযজ্ঞোপবীত। মায়ের মস্তকে জটা ও অর্ধচন্দ্র। কর্ণে শবদেহরূপী অলংকার। মা চতুর্দিকে নাগফণাবেষ্টিতা ও নাগাসনে উপবিষ্টা। বামকঙ্কণে তক্ষক সর্পরাজ ও দক্ষিণকঙ্কণে অনন্ত নাগরাজ। মা নবরত্নভূষিতা। তিনি অট্টহাস্যকারিণী, মহাভীমা, সাধকের অভিষ্ট ফলপ্রদায়িনী।
★ বীরভূমের নলহাটি আজিমগঞ্জ শাখায় লোহাপুর স্টেশন থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ভদ্রপুর গ্রাম। তারাপীঠ থেকেও বাসে আসা যায়। তবে নলহাটি স্টেশন থেকে বহরমপুরের দিকে যাওয়ার বাসে চেপে বারো কিলোমিটার দূরে নগড়া মোড়ে নেমে টোটো চেপে গুহ্যকালী মন্দির মাত্র চার কিলোমিটার।
★ মন্দিরে তন্ত্রমতে পুজো হয়, ছাগবলি হয়। রোজ দুপুরে মাকে মাছের টক দিয়ে নিত্যভোগ দেওয়া হয়। তবে কার্তিকী অমাবস্যায় কালীপুজোর সময় রাতে কোনও পুজো হয় না, কারণ মা গুহ্যকালী প্রত্যেক রাতেই শ্মশানে ভ্রাম্যমাণ থাকেন বলে কথিত আছে। এজন্য রাতে কোনও পুজো হয় না।
বি: দ্রঃ - তথ্য সংগ্রহ তমাল দাশগুপ্ত Tamal Dasgupta
ছবিতে মা গুহ্যকালীর বিগ্রহ, মন্দির, এবং মগধের লৌকিক মাতৃকা জরার একটি কাল্পনিক চিত্র।
জয় জয় মা।
23/03/2026
মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী মন্দির এর কথা
🌺 হিন্দু নারীসুলভ দেবত্ব সম্পর্কে কিছু কথা লেখা থেকে নিজেকে দূরে রাখা আমার পক্ষে সত্যিই খুব কঠিন। তাই, আমার আধ্যাত্মিক অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার জন্য, আমি প্রজাপতি রাজা দক্ষিণ দ্বারা সাজানো যজ্ঞ সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীকে বোঝায় যেটি হিন্দু নারীর দেবত্বের সাথে ভিত্তিক উপাখ্যানগুলির মধ্যে একটিকে লাইমলাইটে আনতে আগ্রহী। হ্যাঁ, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ মহকুমার নবগ্রাম সিডি ব্লকের অন্তর্গত কিরীটকোনা (এছাড়াও কিরীটকোনা নামেও বানান) গ্রামে অবস্থিত, পঞ্চাশটি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি (দেবী পুরাণ অনুসারে) 'বিমলা বা কিরীটেশ্বরী' মন্দির হিসেবে গড়ে উঠেছে। .
🌺 শব্দ-সময় যখন 'সত্যযুগ' (চার যুগের প্রথম) মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং 'দক্ষ যজ্ঞ'-এর একটি ঘটনার সাথে মন্তব্য করেছিল। রাজা দক্ষিণ দেব-দেবী, ঋষি ও রাজাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যারা সকলেই তাদের মর্যাদার সাথে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। বিপরীতে, দক্ষিণ ইচ্ছাকৃতভাবে তার কনিষ্ঠ কন্যা সতী এবং তার প্রিয় সহধর্মিণী ভগবান শিবকে সেই শুভ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে অস্বীকার করে অবহেলা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন দেবী সতী যিনি তার পিতার দ্বারা আয়োজিত যজ্ঞে যোগদানের জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি, যদিও ভগবান শিবই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দেবী সতী তার কথা না শুনে যা ইচ্ছা তাই করলেন। ফলস্বরূপ, তাকে তার স্ত্রী ভগবান শিব এবং সমস্ত বিশিষ্টজনের সামনে নিজের দিকে ছুটে আসা অনেক অপবাদ হজম করতে হয়েছিল। দেবী সতী ব্যতিক্রমী ছিলেন না, এবং এই বিব্রতকর পরিস্থিতি হজম করা কঠিন ছিল। একই যজ্ঞের গর্তে (ধর্মীয় বলিদানের বেদি) নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো তার কিছুই ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল, এবং তারা কেবল তার পোড়া মৃতদেহটি বের করতে পারে। ভগবান শিব দ্রুত দুর্ঘটনার কথা জানতে পারলেন এবং কয়েক মুহুর্তের জন্য শোকে ডুবে গেলেন। কিন্তু তিনি এই মানসিক পরিধি থেকে দৃঢ়ভাবে পরিত্রাণ পেতে পারেন এবং তাঁর তৃতীয় চোখকে সক্রিয় করতে পারেন যেখান থেকে তাঁর মূর্ত প্রতীক 'বীরভদ্র' যজ্ঞের স্থানটিকে জরাজীর্ণ করতে এবং রাজা দক্ষিণকে শিরশ্ছেদ করতে পাঠানো হয়েছিল।
🌺নির্দেশিত হিসাবে কার্যভার যথাযথভাবে সম্পাদন করা হয়েছিল। এর পরে, মূর্তিটি দেবী সতীর মৃতদেহ নিয়ে সমগ্র মহাবিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিল কেবল একই ধ্বংসের মূলমন্ত্র নিয়ে। সমস্ত দেব-দেবী খুব অসহায় বোধ করেছিলেন এবং সমগ্র সৃষ্টিকে রক্ষা করার জন্য অন্য ভগবান 'বিষ্ণু'-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভগবান বিষ্ণু তাঁর 'সুদর্শন চক্র' (শুভ দৃষ্টির চাকতি) দিয়ে দেবী সতীর মৃতদেহ ছিন্ন করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে পড়ে থাকা অলঙ্কার এবং পরিধানের সাথে এটি 51 টুকরা গণনা করা হয়েছিল। দেবী সতীর মুকুট, কিরীট বা মুকুট এখানে পড়েছিল যাতে এটি একটি পবিত্র স্থান হয়, যা পরবর্তীকালে 'কিরীটেশ্বরী মন্দির' নামে পরিচিত হয়। সে জন্য এটিকে কয়েকজনের কাছে উপীঠ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
🌺মন্দিরটি তার প্রতিষ্ঠার পিছনে যে ইতিহাস তুলে ধরে: আমরা জানি, মুর্শিদাবাদ জেলা একটি অসাধারণ ইতিহাসের সাথে নিহিত রয়েছে যা এটিকে বাংলার ইতিহাসে সমৃদ্ধ করে তোলে, বিশেষ করে মুসলমানদের রাজত্ব এই জেলাটিকে ভারতের মানচিত্রে বাংলাকেও বিখ্যাত করে তুলেছে। মুষ্টিমেয় হিন্দু মন্দির দিয়েও এই জেলাকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে; তার মধ্যে কিরীটেশ্বরী মন্দির সবচেয়ে প্রাচীন। এটি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড যে মা কিরীটেশ্বরীর মূল মন্দিরটি লালগোলার বিখ্যাত মহারাজা,যিনি দানবীর নামে পরিচিত সমস্ত বঙ্গদেশে, তিনিই সংস্কার করেছিলেন এই মন্দির,তাঁর নাম মহারাজা রাও যোগীন্দ্র নারায়ণ রায়। তার কিছু অনুসারীদের সহায়তায় মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন যার প্রবেশদ্বার ছিল দক্ষিণ দিকে। একই সময়ে মহারাজ দর্পনারায়ণ রায় দ্বারা পূর্বমুখী নতুন নির্মাণ। পরে, লালগোলার প্রয়াত রাজা যোগেন্দ্রনারায়ণ রায় মন্দিরের সংস্কার ও যত্নের দায়িত্ব পান। দেবী কিরীটেশ্বরীকে শাসক পরিবারগুলির প্রধান দেবতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং ঘোষণা করা হয়েছিল (সম্ভবত তাদের মধ্যে একটি ছিল কসিমবাজারের রায় পরিবার), মুর্শিদাবাদের কাছে অবস্থিত (পূর্বে মুকশুদাবাদ নামে পরিচিত এবং তৎকালীন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজধানী এবং নবাবদের আসন ছিল) )
যে সব কিংবন্তির জন্য বিখ্যাত
____________________________
🌺 প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় মা কিরীটেশ্বরীর মহান স্নানের জল থেকে তৈরি চরণামৃত (পবিত্র জল) পেতে প্রার্থনা করেছিলেন বলে শোনা যায়।
🌺 আরেকটি ঘটনা মন্দিরটিকে একটি কিংবদন্তী হিসাবে আবদ্ধ করে, রাণী ভবানীর কন্যা (অর্ধবনেশ্বরী বা নাটোরের রানী বা নাটোরের রানী নামেও পরিচিত, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে একজন হিন্দু জমিদার ছিলেন, বর্তমানে রাজশাহী, বাংলাদেশে)। মা বিমলা বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লার কাছ থেকে তারাকে উদ্ধার করেছিলেন যখন তিনি তাকে (তারা) অশুভ কামনার শিকার হিসাবে বিবেচনা করেছিলেন। তারা যখন গুটিবসন্ত রোগে ভুগছিলেন তখন সিরাজ-উদ-দৌল্লা তাকে নৃশংসভাবে অবহেলা করেছিলেন। যাইহোক, তারা মা বিমলা বা কিরীটেশ্বরীর আশীর্বাদে কিছুদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কথিত আছে যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক মঙ্গল বৈষ্ণব সেই মন্দিরের শেবাই ছিলেন যখন দেবীকে প্রতিদিন শত শত ভক্তরা পূজা করতেন।
🌺 : লাল ঘোমটা দিয়ে মোড়ানো লাল পাথরটিকে দেবীর প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করা হয় কারণ গর্ভগৃহের ভিতরে কোনো মূর্তি বা মূর্তি নেই। শুধুমাত্র দুর্গা অষ্টমীতে বাৎসরিক পুরোনো ঘোমটা খুলে দেওয়া হয় এবং দেবতাকে স্নান করানো হয়। এর পরে, পাথরটি আবার একটি নতুন দিয়ে মোড়ানো হয়। মন্দিরের পুরোহিতদের দ্বারা প্রতিদিনের পূজা শুরু হয় সকাল 6:00 টায় দেবীকে সন্তুষ্ট করার জন্য, তাকে পুরোহিত এবং ভক্তরা ফল, ফুল, ধূপ এবং দিয়া নিবেদন করেন। দুপুরে তাকে আনা ভোগ (ভাত, মসুর ডাল এবং সবজি দিয়ে প্রস্তুত), মিষ্টি খাবার যেমন পায়সাম (ফুটন্ত দুধ, চিনি বা গুড় এবং ভাত দিয়ে তৈরি) এবং আরও অনেক কিছু পরিবেশন করা হয়। তীর্থযাত্রীরা মা কিরীটেশ্বরী এবং তার ভৈরবের প্রসাদ (অনুগ্রহ) দিয়ে ধন্য হন।
🌺 প্রতিদিনের পূজার পাশাপাশি, হিন্দু মন্দিরের পুরোহিতরা সমস্ত অমাবস্যায় (চাঁদ নেই) বিশেষ পূজা করেন। শুধু তাই নয়, প্রতি অমাবস্যায় দেবী কিরীটেশ্বরীর নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করা হয়। সারা রাত ধরে যজ্ঞও করা হয়। দেবীকে ফল ও মিষ্টি নিবেদন করা হয় এবং তাজা মালা ও ফুল দিয়ে অলংকৃত করা হয়। এই সময়ে দেবী কিরীটেশ্বরীকে চাঁদা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ভোগ (ভাতের খাবার) প্রস্তুত করা হয়।
🌺 ১১৭৭ বঙ্গাব্দে বিজয়রাম সেন রচিত 'তীর্থ-মঙ্গল' কাব্যে কিরীটেশ্বরীর বর্ণনা আছেঃ
কিরীটেশ্বরী পূজা দিতে গেলা শীঘ্রগতি।
কথোগুলি বাত্রী গেলা কর্ত্তার সংহতি।।
মহাসরঞ্জাম সঙ্গে গিয়া কিরীটকোণা।
দেবীকে প্রণাম কৈল দিয়া কিছু সোনা।।
ষোড়শোপচারে পূজা কৈল ভগবানে।
দক্ষিণা করিলা কত কৈল বিতরণে।।
কীভাবে পৌঁছাবেন:
মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগের তিনটি উপায় উপলব্ধ, যা নিম্নরূপ:
বিমান দ্বারা: নিকটতম বিমানবন্দর হল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ 195 কিলোমিটার দূরে এবং কিরীটেশ্বরী মন্দির 239 কিলোমিটার দূরে। বিমানবন্দর থেকে মুর্শিদাবাদের জন্য ট্যাক্সি পরিষেবা পাওয়া যায়।
রেলপথে: মুর্শিদাবাদ রেলওয়ে স্টেশন হাওড়া এবং ভারতের প্রধান শহরগুলির সাথে ট্রেন দ্বারা সংযুক্ত। নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হল দহপাড়া, যা মন্দির থেকে 3.2 কিমি দূরে।
সড়কপথে: মুর্শিদাবাদ সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত। কলকাতা, বর্ধমান, রামপুরহাট, সিউরি, বোলপুর, মালদা, কৃষ্ণনগর এবং দুর্গাপুর থেকে রাজ্য-চালিত বাসগুলি প্রতিদিন মুর্শিদাবাদে চলে। নিকটতম বাস স্ট্যান্ড ডাহাপাড়া। উপরে উল্লিখিত স্থান থেকে ট্যাক্সিও পাওয়া যায়।
বি: দ্র: - সম্পূর্ণ তথ্যটি দশমহাবিদ্যা থেকে সংগৃহীত ছবি নিজস্ব 🙏🙏🙏
অনন্তদার কাছে মাখানি কারা কারা খেয়েছ ??
20/03/2026
জানুন সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা কতটা খুশি...☺️💑
World Happiness Day, 20th March
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
বিশেষ করে, ১৫ বছরের মেয়েরা যদি ৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের জীবন সন্তুষ্টি কমে যায়।
এবারের World Happiness Report 2026 গতকাল পাবলিশ হয়েছে ।
ফিনল্যান্ড সবথেকে সুখী দেশ, ভারত দুই ধাপ এগিয়ে 116তম।
19/03/2026
🗺️মানচিত্রের সাহায্যে ভুগোল🌏, দাক্ষিণাত্য মালভূমি, ওয়েস্টার্ন ঘাট, ইস্টার্ন ঘাট, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, পশ্চিমবঙ্গের স্বাভাবিক উদ্ভিদ, লৌহ আকরিক, ইত্যাদি...
WBCS Preliminary 2024, RRB NTPC, SSC EXAM Series.
জায়গাটা হঠাৎ দেখে অচেনা মনে হবে 🤔
ঈদ না পুজো ধরতে পারবেন না 🕌🤲♥️🙏🛕
বই চুরি নয়,বই পড়ুন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Address
Berhampore