Amoler Rasta
Bangla Waz
৩৪২৮. প্রশ্ন
ক) মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা কি জরুরি? না মনে মনে করলেই হবে?
খ) সম্মিলিত মুনাজাত করার বিধান কী?
গ) জায়নামাযের দুআ পড়া যাবে কি?
উত্তর
ক) কোনো কাজের ব্যাপারে অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছাকেই নিয়ত বলে।
সুতরাং নামায-রোযা এবং অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে অন্তরের নিয়তের সাথে সাথে মুখেও উচ্চারণ করে বলতে নিষেধ নেই। কেউ যদি ইচ্ছার দৃঢ়তার জন্য মুখেও উচ্চারণ করে নেয় তবে তা দোষণীয় হবে না। -উমদাতুল কারী ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫
খ) দুআ অনেক বড় ইবাদত। হাদীস শরীফে এসেছে, দুআই ইবাদত। এই দুআ যেমন একা করা যায় তেমনি সম্মিলিতভাবেও করা যায়। সম্মিলিত দুআ সংক্রান্ত এক দুটি দলিল নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-
১. কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে। -সূরা ইউনুস : ৮৯
এ আয়াতে তোমাদের দুইজনের দুআ বলতে মুসা আ. ও হারূন আ.-এর দুআ বুঝানো হয়েছে। একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ী ইমামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত মুসা আ. দুআ করেছেন এবং হারূন আ. আমীন বলেছেন। একেই আল্লাহ তাআলা দুজনের দুআ বলেছেন। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৬৬৫; আদ্দুররুল মানসূর ৩/৩৪১
তো এটা তাদের দুজনের সম্মিলিত দুআ ছিল, যা আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন এবং খোশখবরি শুনিয়েছেন যে, তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে।
২. একটি দীর্ঘ হাদীসে সাহাবীয়ে রাসূল হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আল ফিহরী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিছু মানুষ যখন কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন। -মুজামে কাবীর তবারানী ৪/২৬; মুসতাদরাকে হাকেম ৩/৩৪৯
সম্মিলিত দুআ বিষয়ে আরো জানতে মাসিক আলকাউসার, শাবান-রমযান ১৪২৯; আগস্ট ২০০৮ সংখ্যায় হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব লিখিত ‘সম্মিলিত দুআ : একটি প্রশ্নের উত্তর’’ প্রবন্ধটি পাঠ করুন।
গ) জায়নামাযের কোনো দুআ নেই। কোনো কোনো মহলে ইন্নি ওয়াজ্জাহতু দুআটি জায়নামাযের দুআ নামে পরিচিত। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এটি জায়নামাযের দুআ নয়; বরং হাদীস শরীফে নামায শুরু করার পর ছানা হিসেবে এ দুআ পড়ার কথা আছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৭১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৬০; রদ্দুল মুহতার ১/৪৮৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৫১
(মাসিক আলকাউসার)
৬৭৯৯. প্রশ্ন
কিছুদিন আগে ফজরের নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর ভুলবশত সিজদা করা হয়নি।
জানার বিষয় হল, উক্ত সিজদা কি এখন আদায় করে নেওয়া যাবে?
উত্তর
না, নামাযে ছুটে যাওয়া সিজদায়ে তিলাওয়াতটি এখন আর আদায়ের সুযোগ নেই। নামাযের ভেতর নিজে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা বা ইমাম থেকে সিজদার আয়াত শোনার কারণে যে সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়, তা নামাযের ভেতরই আদায় করা জরুরি। নামাযের ভেতরে আদায় না করলে পরে তা আর আদায় করার সুযোগ থাকে না।
এখন আপনার কর্তব্য হল, উক্ত ভুলের কারণে ইস্তেগফার করা। সামনে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
* >الفتاوى الهندية< ১/১৩৪ : والسجدة التي وجبت في الصلاة لا تؤدى خارج الصلاة، كذا في السراجية، وهكذا في الكافي، ويكون آثما بتركها، هكذا في البحر الرائق.
–আলমাবসূত, সারাখসী ২/৯; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৪; আলহাবিল কুদসী ১/২৩৩; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩০০; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২২
(মাসিক আলকাউসার)
✅সহীহ বুখারী: হাদিস নম্বর (৩৩) আবদুল্লাহ ইবন 'আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।
📌১. আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে;
📌২. কথা বললে মিথ্যা বলে;
📌 ৩. চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং
📌 ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়।
প্রশ্ন
মহিলাদের জন্য যিয়ারতের উদ্দেশ্যে কবরস্থানে যাওয়া জায়েয আছে কি না?
উত্তর
হাঁ, মহিলাদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে কবর যিয়ারত করা জায়েয। তবে নিয়মিত কবরস্থানে না যাওয়াই উত্তম। কেননা মহিলাদেরকে গৃহাভ্যন্তরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কখনো গেলে নিম্নোক্ত শর্তাদির প্রতি খেয়াল রাখবে।
১. কবরস্থানে গিয়ে কান্নাকাটি, বিলাপ ইত্যাদি করতে পারবে না।
২. পূর্ণ পর্দার সাথে বের হবে।
৩. যাতায়াত নিরাপদ হতে হবে। কোনো প্রকারের গুনাহে পড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে যাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৪২; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৪০; বযলুল মাজহুদ ১৪/২০৪
(মাসিক আলকাউসার)
একটি নাজায়েয প্রচলন : চুল বিক্রি করা
অনেক এলাকায় দেখা যায় ফেরীওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জমানো চুল ক্রয় করে। আর মহিলারাও অজ্ঞতাবশত চুল বিক্রি করেন। এটি একটি নাজায়েয কাজ, এ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
মানুষের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কোনো অংশ বিক্রি করা জায়েয নয়। মানুষকে যেমন আল্লাহ তাআলা সম্মানিত বানিয়েছেন তেমনিভাবে মানুষের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এমনকি চুল, নখ ইত্যাদি কর্তিত অংশও সম্মানিত এবং এগুলো বিক্রয়যোগ্য কোনো বস্ত্ত নয়। সুতরাং এগুলো বিক্রি করা যাবে না। সম্ভব হলে দাফন করে দেয়া উত্তম।
(মাসিক আলকাউসার)
প্রশ্ন
আমাদের সমাজে নারীদেরকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জন্য শোক প্রকাশার্থে সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। তাছাড়া বিধবা নারীদের সাদা কাপড় পরিধান করার প্রচলন প্রায় সব অঞ্চলেই আছে। অনেকে এটিকে শুধু একটি সামাজিক প্রথা মনে করে থাকে। আবার অনেকে এটিকে শরীয়তের বিধান মনে করলেও এ ব্যাপারে এতটা যত্নশীল নয়। তদ্রূপ অনেকে এসব বিষয়কে কুসংস্কার বলেও মন্তব্য করে থাকে।
জানার বিষয় হল, আসলে এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা কী? স্বামীর মৃত্যুর পর একজন স্ত্রীর এ ব্যাপারে করণীয় কী?
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দতকালীন সময় (অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অন্যথায় ৪ মাস ১০ দিন) সব ধরনের সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব বিধান।
সহীহ বুখারীতে উম্মে হাবীবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি সময় হিদাদ (শোক করা ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা) বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন হিদাদ পালন করবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩৩৪
উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে স্ত্রী লোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রঙিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খিযাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৯৮
আল্লামা কুরতুবী রাহ. তার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘আলজামে লিআহকামিল কুরআন’ও ইদ্দত সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, হিদাদ পালনের অর্থ হল, মহিলা তার ইদ্দতকালীন সুগন্ধি, সুরমা, মেহেদি,অলঙ্কারাদিসহ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাজসজ্জা ত্যাগ করবে। -আল জামে’ লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/১১৮
সুতরাং কোনো মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ মাস ১০ দিন অথবা অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের সাজসজ্জা যা উৎসবাদিতে পরা হয় এমন চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরিধান করা,সুগন্ধি ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রসাধনী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তদ্রƒপ মেহেদি লাগানো, সুরমা দেওয়া থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। অবশ্য ব্যবহৃত রঙিন কাপড় যদি চাকচিক্যপূর্ণ না হয় তাহলে তা পরিধান করতে কোনো অসুবিধা নেই।
ইদ্দত অবস্থায় সাদা কাপড় পরা আবশ্যক নয়। বরং সাদা কাপড় পরিধান করাকে জরুরি মনে করা ঠিক নয়।
প্রকাশ থাকে যে, ইদ্দত অবস্থায় মহিলার জন্য সাজগোজ ত্যাগ করার বিধান একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। এটি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং একে সামাজিক প্রথা বা কুসংস্কার মনে করা অন্যায়। বরং আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী সকল মুসলমানের উচিত উক্ত বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। নারীদের কর্তব্য উক্ত বিধান পালনে যত্নশীল হওয়া।
-আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩০-৫৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ৬/৪৫২; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/২৩১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৩০; ফাতহুল বারী ৯/৪০১, ৩৯৫
(মাসিক আলকাউসার)
৩৩৬০. প্রশ্ন
আমাদের সমাজে নারীদেরকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জন্য শোক প্রকাশার্থে সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। তাছাড়া বিধবা নারীদের সাদা কাপড় পরিধান করার প্রচলন প্রায় সব অঞ্চলেই আছে। অনেকে এটিকে শুধু একটি সামাজিক প্রথা মনে করে থাকে। আবার অনেকে এটিকে শরীয়তের বিধান মনে করলেও এ ব্যাপারে এতটা যত্নশীল নয়। তদ্রূপ অনেকে এসব বিষয়কে কুসংস্কার বলেও মন্তব্য করে থাকে।
জানার বিষয় হল, আসলে এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা কী? স্বামীর মৃত্যুর পর একজন স্ত্রীর এ ব্যাপারে করণীয় কী?
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দতকালীন সময় (অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অন্যথায় ৪ মাস ১০ দিন) সব ধরনের সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব বিধান।
সহীহ বুখারীতে উম্মে হাবীবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি সময় হিদাদ (শোক করা ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা) বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন হিদাদ পালন করবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩৩৪
উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে স্ত্রী লোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রঙিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খিযাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৯৮
আল্লামা কুরতুবী রাহ. তার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘আলজামে লিআহকামিল কুরআন’ও ইদ্দত সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, হিদাদ পালনের অর্থ হল, মহিলা তার ইদ্দতকালীন সুগন্ধি, সুরমা, মেহেদি,অলঙ্কারাদিসহ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাজসজ্জা ত্যাগ করবে। -আল জামে’ লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/১১৮
সুতরাং কোনো মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ মাস ১০ দিন অথবা অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের সাজসজ্জা যা উৎসবাদিতে পরা হয় এমন চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরিধান করা,সুগন্ধি ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রসাধনী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তদ্রƒপ মেহেদি লাগানো, সুরমা দেওয়া থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। অবশ্য ব্যবহৃত রঙিন কাপড় যদি চাকচিক্যপূর্ণ না হয় তাহলে তা পরিধান করতে কোনো অসুবিধা নেই।
ইদ্দত অবস্থায় সাদা কাপড় পরা আবশ্যক নয়। বরং সাদা কাপড় পরিধান করাকে জরুরি মনে করা ঠিক নয়।
প্রকাশ থাকে যে, ইদ্দত অবস্থায় মহিলার জন্য সাজগোজ ত্যাগ করার বিধান একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। এটি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং একে সামাজিক প্রথা বা কুসংস্কার মনে করা অন্যায়। বরং আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী সকল মুসলমানের উচিত উক্ত বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। নারীদের কর্তব্য উক্ত বিধান পালনে যত্নশীল হওয়া।
-আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩০-৫৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ৬/৪৫২; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/২৩১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৩০; ফাতহুল বারী ৯/৪০১, ৩৯৫
(মাসিক আলকাউসার)
১২০১. প্রশ্ন
মৃত ব্যক্তির কাছে কুরআন পড়ার বিধান কী এবং কখন পড়বে? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
মৃতকে গোসল দেওয়ার পর তার কাছে কুরআন পড়া জায়েয। গোসল দেওয়ার আগে মৃতের অতি নিকটে কুরআন পড়া নিষেধ। অবশ্য চাদর বা অন্য কিছু দিয়ে লাশের আপাদমস্তক ঢাকা থাকলে গোসলের আগেও মৃতের নিকট বসে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করা জায়েয। আর গোসলের আগে লাশ পূর্ণ ঢাকা না থাকলে কাছে তেলাওয়াত করা যাবে না, দূরে তেলাওয়াতের সুযোগ রয়েছে।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৭, শরহুল মুনিয়্যাহ ৫৭৭, আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯২
(মাসিক আলকাউসার)
একটি ভুল মাসআলা : সন্তানের আকীকার গোস্ত কি মা-বাবা খেতে পারবে না?
আকীকার গোস্ত বণ্টন নিয়ে কোথাও কোথাও বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকের ধারণা, সন্তানের আকীকার গোস্ত মা-বাবা খেতে পারবে না। বরং আশেপাশের ঘর-বাড়ি এবং গরীব-মিসকীনর মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে।
এ ধারণা ঠিক নয়। আকীকার গোস্ত সন্তানের মা-বাবা,পরিবার পরিজন,আত্নীয় স্বজন,প্রতিবেশী বা মিসকীন যে কেউ খেতে পারবে।
(দ্র.সুনানে বায়হাকী, খ.৯ পৃ. ৩০২;মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ২৪৭৩৯,২৪৭৪৯; ইলাউস সুনান, খ.১৭ পৃ.১২৬; তুহফাতুল মাওদূদ পৃ. ৭৮)
(মাসিক আল কাউসার)
কোন কোন জায়গায় এই ধারণাও বিদ্যমান আছে যে, যার পক্ষ থেকে আকিকা করা হবে সে আকিকার মাংস খেতে পারবে না! এটিও সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সন্তান যদি মাংস খাওয়ার জন্য উপযুক্ত হয়, তাহলে সে নিজেও নিজের আকিকার মাংস খেতে পারবে কোন অসুবিধা নেই।
(আহমাদ আলী ভক্তরডবা)
08/09/2025
রাসূলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন:
সূর্য ও চাঁদ কারো মৃত্যুর জন্য বা জন্মের জন্য গ্রহণ করে না।
বরং এগুলো আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা যখন এগুলো দেখবে, তখন সালাত আদায় করো এবং দোয়া করতে থাকো,
যতক্ষণ না তা শেষ হয়।
[সহিহ বুখারি, হাদিস:১০৪৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস:৯০১]✍️
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Barpeta