IQRA Bismi Rabbika
This is an Islamic page where you will be able to increase your knowledge of the miraculous Quran and Hadith InShaaAllah.
As I learn tajweed and meaning of Quranic Arabic, I will be sharing my learning experiences on this page InShaaAllah.
আমার এই পেইজ আমি আর কিছু পোস্ট করতে চাই না কারণ মেটা এক বছর থেকে আমাকে আমার ফেইসবুক ও পেইজে ইনকামের জন্য অনেকগুলো ইমেইল করেছিল যেন আমার হোয়াটসআপ নাম্বার ও ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে মনিটাইজেশান করি।আসলে আমি ইসলাম প্রচার করতে চাই কিন্তু সেই প্রচারকে নিয়ে ব্যাবসা করতে চাই না তাই আমি আমার ফেসবুকে বা পেইজে কোন রকম এড যেন না দেয় এবং এইসব ইনকাম হালাল না সবাই তা মাথায় রাখবেন। আল্লাহ সকল হারাম থেকে হেফাজত করুন, আমিন।
08/04/2025
“ তোমাদের প্রত্যেকের উচিত একটুকরা খেঁজুর ( সাদাকাহ ) দিয়ে হলেও আগুন ( জাহান্নামের ) হতে আত্নরক্ষা করা, না পারলে উত্তম কথা দিয়ে হলেও”। বুখারী।
১৩৩০। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে ছিলাম, এমন সময় দু’জন সাহাবী আসলেন, তাদের একজন দারিদ্র্যের অভিযোগ করছিলেন আর অপরজন রাহাজানির অভিযোগ করছিলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ রাহাজানির অবস্থা এই যে, কিছু দিন পর এমন সময় আসবে, যখন কাফেলা মক্কা পর্যন্ত বিনা পাহারায় পৌছে যাবে। আর দারিদ্র্যের অবস্থা এই যে, তোমাদের কেউ সাদ্কা নিয়ে ঘোরাফিরা করবে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মত কাউকে পাবে না। এমন সময় না আসা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। তারপর (বিচার দিবসে) আল্লাহর নিকট তোমাদের কেউ এমনভাবে খাড়া হবে যে, তার ও আল্লাহর মাঝে কোন আড়াল থাকবে না বা কোন ব্যাখ্যাকারী দোভাষীও থাকবে না। এরপর তিনি বলবেন, আমি কি তোমাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করিনি? সে অবশ্যই বলবে হ্যাঁ, তখন সে ব্যক্তি ডান দিকে তাকিয়ে শুধু আগুন দেখতে পাবে, তেমনিভাবে বাম দিকে তাকিয়েও আগুন দেখতে পাবে। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকের উচিত এক টুকরা খেজুর (সাদ্কা) দিয়ে হলেও যেন আগুন থেকে আত্মরক্ষা করে। যদি কেউ তা না পায় তবে যেন উত্তম কথা দিয়ে হলেও (আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে)।
باب الصَّدَقَةِ قَبْلَ الرَّدِّ
1413 – حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ [ص:109]، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُجَاهِدٍ، حَدَّثَنَا مُحِلُّ بْنُ خَلِيفَةَ الطَّائِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَهُ رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا يَشْكُو العَيْلَةَ، وَالآخَرُ يَشْكُو قَطْعَ السَّبِيلِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَّا قَطْعُ السَّبِيلِ: فَإِنَّهُ لاَ يَأْتِي عَلَيْكَ إِلَّا قَلِيلٌ، حَتَّى تَخْرُجَ العِيرُ إِلَى مَكَّةَ بِغَيْرِ خَفِيرٍ، وَأَمَّا العَيْلَةُ: فَإِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَقُومُ، حَتَّى يَطُوفَ أَحَدُكُمْ بِصَدَقَتِهِ، لاَ يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا مِنْهُ، ثُمَّ لَيَقِفَنَّ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ حِجَابٌ وَلاَ تَرْجُمَانٌ يُتَرْجِمُ لَهُ، ثُمَّ لَيَقُولَنَّ لَهُ: أَلَمْ أُوتِكَ مَالًا؟ فَلَيَقُولَنَّ: بَلَى، ثُمَّ لَيَقُولَنَّ أَلَمْ أُرْسِلْ إِلَيْكَ رَسُولًا؟ فَلَيَقُولَنَّ: بَلَى، فَيَنْظُرُ عَنْ يَمِينِهِ فَلاَ يَرَى إِلَّا النَّارَ، ثُمَّ يَنْظُرُ عَنْ شِمَالِهِ فَلاَ يَرَى إِلَّا النَّارَ، فَلْيَتَّقِيَنَّ أَحَدُكُمُ النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ "
হাদীসের ব্যাখ্যাঃ
এ হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে বলেছেন। জাহান্নাম পাপীদের ঠিকানা। সেখানে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা আছে। তার প্রধান শাস্তিالنار (আগুন)। তাই জাহান্নামের অপর নামই। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলা বার বার মানুষকে এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং এর থেকে বাঁচার তাগিদ দিয়েছেন।
হাদিস মুসলিমঃ
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সদকায় উৎসাহ দান, যদিও তা এক টুকরা খেজুর অথবা উত্তম কথার দ্বারা হয়, সদকা জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপত্তা।
২২২১। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামের আলোচনা করলেন। অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রুকুঞ্চিত করলেন। এরপর বললেন, তোমরা আগুন থেকে বাঁচ। এবারও তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। এমনকি আমাদের ধারণা হল তিনি যেন আগুন দেখতে পাচ্ছেন। এরপর বললেন, এক টূকরা খেজুর দিয়ে হলেও তোমরা আগুন থেকে বাঁচ। যদি সে তা না পায় তবে একটি উত্তম কথার বিনিময়ে হলেও।
ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, আবূ কুয়ায়ব (রহঃ) তাঁর বর্ণনায়,كَأَنَّمَا শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং বলেন, আমাদের কাছে আবূ মু’আবিয়া রিওয়ায়াত করেছেন যে, আ’মাশ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
২৫৭. যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিঁনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।
সূরাঃ আল বাক্বারাহ।
*দ্রুত বিয়ে ও উত্তম স্ত্রী কিংবা স্বামী পাওয়ার আমল:* *-------------------*
আমাদের জীবনে সেটাই ঘটবে যা আল্লাহ তা'আলা আমাদের ভাগ্যে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই পেরেশান হওয়ার কিছু নেই৷ আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা চাই৷ আল্লাহ বলেন:
*قُلْ لَنْ يُصِيْبَنَا إِلاَّ مَا كَتَبَ اللهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا*
অর্থ: তুমি বল, আল্লাহ আমাদের ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ব্যতীত কিছুই আমাদের নিকট পৌঁছবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক।
(সুরা তওবা: ৫১)
তবে বেশি বেশি করে দু'আ করবেন৷ কারণ দু'আ অনেক পাওয়ারফুল আমল৷ আল্লাহ তা'আলা আম্বিয়ায়ে কেরামের আমলের মধ্যে দু'আর বিষয়টি পবিত্র কুরআনে বারবার উল্লেখ করেছেন৷ হাদিসে এসেছে:
*لاَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ*
অর্থ: ভাগ্য পরিবর্তন হয় না দুআ ব্যতীত।(তিরমিযী: ২১৩৯)
অতিদ্রুত হালাল, উত্তম ও সম্মানজনক রুজি এবং উত্তম ও দ্বীনদার স্ত্রী কিংবা স্বামী পাওয়ার জন্য বেশি বেশি করে মুসা আলাইহিস সালাম কৃত দু'আটি পড়তে পারেন:
*رَبِّ اِنِّیۡ لِمَاۤ اَنۡزَلۡتَ اِلَیَّ مِنۡ خَیۡرٍ فَقِیۡرٌ*
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। (সুরা কাসাস: ২৪)
উত্তম জীবনসঙ্গী, নেককার সন্তান-সন্ততির জন্য আল্লাহ তাআলার শিখিয়ে দেয়া কুরআনি এই দুআটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক অর্থপূর্ণ:
*رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّاجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا*.
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।
(সুরা ফুরকান:৭৪)
বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করুন। কারণ এটা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম একটি আমল। আর, আপনার জীবনের প্রতিটি নিয়ামত ও প্রশান্তি আপনার রিজিকেরই অন্তর্ভুক্ত। নফল সাদাকা করুন৷ বেশি করে সালাতুল হাজত পড়ে আল্লাহর নিকট সাহায্য চান। কারণ এটা দ্রুত বিয়ে ও দ্বীনদার স্বামী/স্ত্রী পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।
আর হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ আল্লাহ তা'আলা আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন৷
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
*ﺛَﻠَﺎﺛَﺔٌ ﺣَﻖٌّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﻮْﻧُﻬُﻢْ: ﺍﻟﻤُﺠَﺎﻫِﺪُ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻟﻤُﻜَﺎﺗَﺐُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻷَﺩَﺍﺀَ، ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﻛِﺢُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻌَﻔَﺎﻑَ*
অর্থ: তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ্ তাআলার জন্য কর্তব্য হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার রাস্তায় লড়াই কারী, চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায় এবং ওই বিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তি যে (বিবাহ করার মাধ্যমে) পবিত্র থাকতে চায়।
ধৈর্যধারণ করে এই আমলগুলো করতে থাকুন৷ আল্লাহ তা'আলার প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন৷ শীঘ্রই ব্যবস্থা হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।
(সংগৃহীত)
---------------
IFM desk
---------------
05/19/2025
মুসলিম ২/৬৩২, হাদীস নাম্বারঃ ৯১৮
05/10/2025
❤️❤️ বান্দা যখন সূরা ফাতিহা পড়েন তখন মহান রব বান্দার সাথে কথা বলেনঃ
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু মানুষের দুনিয়ায় আসার মাধ্যম হচ্ছে মা-বাবা। তাই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পর মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। তোমরা মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৩৬)
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘অতএব তুমি আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (মনে রেখো, তোমার) প্রত্যাবর্তন আমার কাছেই।
মা-বাবা সব মানুষের কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী। তাঁদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে এবং তাঁদের সঙ্গে নম্র-ভদ্র আচরণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমার রব আদেশ করেছেন যে তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো উপাসনা কোরো না এবং তোমরা মা-বাবার প্রতি সদাচরণ করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হন, তাহলে তুমি তাদের প্রতি উহ শব্দটিও বোলো না এবং তাদের ধমক দিয়ো না।
মা-বাবা সর্বদা সন্তানের কল্যাণ কামনা করেন। সন্তান কখনো তাঁদের চোখের আড়াল হলে তাঁরা চিন্তিত থাকেন। এ জন্য সন্তানের কর্তব্য হচ্ছে কোথাও গেলে তাঁদের জানিয়ে এবং তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে যাওয়া। এ মর্মে একটি হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। তখন তিনি বলেন, তোমার মা-বাবা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। নবী করিম (সা.) বলেন, তবে (তাদের খেদমতের মাধ্যমে) তাদের মধ্যে জিহাদের চেষ্টা করো।’ (বুখারি, হাদিস : ৩০০৪)
মা-বাবার সঙ্গে শালীনতা বজায় রাখার অন্যতম দিক হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কখনো কথা না বলা। কেননা এতে তাঁরা কষ্ট পান। আর মনঃকষ্টের কারণে তাঁরা সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো বদদোয়া করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়—১. মা-বাবার দোয়া, ২. মুসাফিরের দোয়া, ৩. মজলুমের দোয়া। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯০৫)
মা-বাবার জীবদ্দশায় তাঁদের সঙ্গে যেমন সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তেমনি তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের মুসলিম বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখতে হবে। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, ‘সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো কোনো ব্যক্তির পিতার মৃত্যুর পর তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সদ্ভাব রাখা।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৫২)
মা-বাবা মৃত্যুবরণ করলেও তাঁদের প্রতি সন্তানের কর্তব্য শেষ হয়ে যায় না। বরং তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য দোয়া করা সন্তানের অন্যতম কর্তব্য। আল্লাহর শেখানো দোয়া পবিত্র কোরআনে এসেছে—‘বলো, হে আমার রব! তুমি তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা আমাকে ছোটকালে দয়াবশে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৪)
মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের কবর জিয়ারত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) একবার নিজের মায়ের কবরে গেলেন। সেখানে তিনি নিজেও কাঁদলেন এবং তাঁর আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। তারপর বলেন, ‘আমি আমার মায়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করতে আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। তারপর আমি আমার মায়ের কবরের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তাই তোমরা কবরের কাছে যাবে। কারণ কবর মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩২৩৪)
মা-বাবা অপমানিত হয়—এমন কোনো কাজ করা এবং যেসব কাজের কারণে তাঁদের গালি দেওয়া হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। এ মর্মে হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কবিরা গুনাহসমূহের অন্যতম হলো নিজের মা-বাবাকে গালি দেওয়া। তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! নিজের মা-বাবাকে কোনো মানুষ কিভাবে গালি দিতে পারে? তিনি বলেন, সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭৩)
মহান আল্লাহ আমাদের মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করার তাওফিক দান করুন।
৭৮. তোমরা আল্লাহর জন্যে শ্রম স্বীকার কর যেভাবে শ্রম স্বীকার করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে পছন্দ করেছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের পিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন পূর্বেও এবং এই কোরআনেও, যাতে রসূল তোমাদের জন্যে সাক্ষ্যদাতা এবং তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলির জন্যে। সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। সূরাঃ আল হাজ্জ্ব।
04/25/2025
বিদআতের ভয়াবহতা: (১৫টি পয়েন্ট)
▬▬▬▬●●●▬▬▬▬
দীনের মধ্যে বিদআতের পরিণতি অতি ভয়ঙ্কর। বিদআত দীনকে ধ্বংস করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রত্যেক ইমানদারের জন্য আবশ্যক।
নিম্নে বিদআতের ভয়াবহতা বিষয়ে ১৫ টি পয়েন্ট (হাদিস ও সাহাবি-তাবেঈদের উক্তি) উল্লেখ করা হল:
◉ ১. বিদআতির আমল আল্লাহর কাছে অগ্রাহ্য:
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
“যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করল যে ব্যাপারে আমার নির্দেশনা নেই তা আল্লাহর কাছে পরিত্যাজ্য।” [বুখারী ও মুসলিম]
অন্য হাদিসে এসেছে:
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ.
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমাদের এই দীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৪০]।
ফুযাইল ইবনে আয়ায রহ. বলেন, “যখন তোমরা বিদআত পন্থী কোন লোক আসতে দেখবে সে রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তা গ্রহণ করবে। বিদআতির কোন আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যে ব্যক্তি বিদআত পন্থীকে সহযোগিতা করল সে যেন দীন ধ্বংস করতে সহযোগিতা করল।” [খাসায়িসু আহলিস সুন্নাহ]
◉ ২. বিদআতির তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে বিদআত সম্পূর্ণ ছেড়ে দেয়:
আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إنَّ اللهَ حجب التوبةَ عن كلِّ صاحبِ بدعةٍ حتى يدَعَ بدعتَه
“আল্লাহ তাআলা বিদআতিতে থেকে তওবাকে আড়াল করে রাখেন যতক্ষণ না সে বিদআত পরিত্যাগ করেন।” [তবরানী, সহিহ তারগিব/৫৪, সনদ হাসান]
◉ ৩. কিয়ামতের দিন বিদআতি হাওজে কাউসারের পানি থেকে বঞ্চিত হবে:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দিন বিদআতি লোকদের থেকে বেশি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন। সাহাল ইবনে সা’দ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ مَنْ مَرَّ عَلَيَّ شَرِبَ ، وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا ، لَيَرِدَنَّ عَلَيَّ أَقْوَامٌ أَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُونِي ، ثُمَّ يُحَالُ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ ، فَأَقُولُ : إِنَّهُمْ مِنِّي ، فَيُقَالُ : إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ ، فَأَقُولُ : سُحْقًا ، سُحْقًا ، لِمَنْ غَيَّرَ بَعْدِي
"আমি হাওজে কাওসারে তোমাদের অপেক্ষায় থাকব। যে ব্যক্তি সেখানে আসবে সে পানি পান করবে। আর যে ব্যক্তি একবার পানি পান করবে তার কখনো তৃষ্ণা থাকবে না। কিছু লোক এমন আসবে যাদেরকে আমি চিনব। তারাও আমাকে চিনবে। আমি মনে করব তারা আমার উম্মত তার পরও তাদেরকে আমার নিকট পর্যন্ত পৌঁছতে হবে না। আমি বলব এরা তো আমার উম্মত।
আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না আপনি দুনিয়া থেকে চলে আসার পর এসব লোকেরা কেমন কেমন বিদআত সৃষ্টি করেছে।
তার পর আমি বলব, “দূর হোক, দূর হোক সে সকল লোক যারা আমার পর দীনের মধ্যে পরিবর্তন সাধন করেছে।" [বুখারী ও মুসলিম]
◉ ৪. বিদআত সৃষ্টি কারীর প্রতি আল্লাহ, তার ফেরেশতা মণ্ডলী এবং সব মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হয়:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا، أَوْ آوَى مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا، وَلَا عَدْلً
মদিনা হারাম [সম্মানিত] আইর হতে সওর পর্যন্ত। যে তাতে কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করবে অথবা বিদ‘আত সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দিবে, তার উপর আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। তার ফরয বা নফল কিছুই কবুল করা হবে না।” [মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৭২৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/২৬০৮]।
◉ ৫. বিদআতিকে সহযোগিতা কারীর উপর আল্লাহর অভিশাপ:
আলী রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ অভিশাপ করেছেন সেই ব্যক্তিকে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে জন্তু জবেহ করে। আর যে জমির সীমা চুরি করে। আর যে মাতা পিতাকে অভিশাপ দেয়। আর যে বিদআতিকে আশ্রয় দেয়।" [সহিহ মুসলিম]
◉ ৬. বিদআত থেকে যে কোন উপায়ে বাঁচার আদেশ রয়েছে:
ইরবায ইবনে সারিয়া বলেন, রাসূলুরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামর বলেছেন,
إياكم ومحدثات الأمور
“তোমরা দ্বীনের মধ্যে নিত্য-নতুন আবিষ্কার (বিদআ)] থেকে বাঁচ”। [আবু দাউদ, সহিহ। কিতাবুস সুন্নাহ ইবনে আবী আসিম]
◉ ৭. নিকৃষ্টতম কাজ হল, দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি করা (বিদআত তৈরি করা):
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيْثِ كِتَابُ اللهِ وَخَيْرَ الْهَدْىِ هَدْىُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُوْرِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. وَفِيْ نَسَائِي [وَكُلُّ ضَلاَلَةٍ فِى النَّارِ].
জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামদ ও সালাতের পর বলেন, “নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হল, আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়েত (পথনির্দেশ) হল, মুহাম্মাদের হেদায়েত (পথনির্দেশ)। আর নিকৃষ্টতম কাজ হল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই হল ভ্রষ্টতা।” [মুসলিম, মিশকাত হা/১৪১]
আর নাসাঈতে রয়েছে, “প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম” [নাসাঈ হা/১৫৭৮]।
◉ ৮. বিদআত প্রচলন কারী নিজের গুনাহ ব্যতীত তার সৃষ্ট বিদআত মতে আমল কারী সব লোকের গুনাহের একটি ভাগ পাবে:
কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا.
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেই পরিমাণ ছওয়াব রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ এতে তাদের নিজস্ব ছওয়াবে কোনরূপ কমতি হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কাউকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও ঠিক সেই পরিমাণ গুনাহ রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ তাদের নিজস্ব গোনাহে কোনরূপ কমতি হবে না।" [মুসলিম, মিশকাত হা/১৫৮]।
◉ ৯. ‘বিদআতি কাজে কষ্ট-পরিশ্রম করার চেয়ে মধ্যম পন্থায় সুন্নতের উপর আমল করা অতীব উত্তম:
ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত,
الِاقْتِصَادُ فِي السُّنَّةِ أَحْسَنُ مِنَ الِاجْتِهَادِ فِي الْبِدْعَةِ.
“বিদআতি কাজে কষ্ট-পরিশ্রম করার চেয়ে মধ্যম পন্থায় সুন্নাতের উপর আমল করা অতীব উত্তম।” [আত-তারগীব হা/৬৩-সহিহ]।
◉ ১০. বিদআত ফিতনায় পতিত হওয়া বা কষ্ট দায়ক শাস্তিযোগ্য হওয়ার বড় কারণ:
ইমাম মালেক রাহ. কে জিজ্ঞাসা করা হল, হে আবু আব্দল্লাহ! ইহরাম কোথা থেকে বাঁধব? আমি মসজিদে নববী তথা কবর শরীফের কাছ থেকে ইহরাম বাঁধতে চাই।
উত্তরে ইমাম মালেক বললেন, "এরূপ কর না। আমার ভয় হয়, হয়ত তুমি ফিতনায় পতিত হবে।"
লোকটি বলল, এখানে ফিতনার কী আছে? আমি তো শুধু কয়েক মাইল পূর্বে ইহরাম বাঁধতে চাইছি।
ইমাম মালেক বললেন, এর চেয়ে বড় ফিতনা আর কি হবে যে, তুমি মনে করছ যে ইহরাম বাঁধার সওয়াব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আগে বেড়ে যাচ্ছ।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা আল্লাহ তায়ালার আদেশ অমান্য করে তাদের ভয় থাকা উচিৎ যেন তারা কোন ফিত্না বা কষ্ট দায়ক শস্তিতে পতিত না হয়।" [আল ইতিসাম]
◉ ১১. বিদআত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের কে সুন্নাহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়:
عَنْ حَسَّانَ قَالَ مَا ابْتَدَعَ قَوْمٌ بِدْعَةً فِيْ دِيْنِهِمْ إِلاَّ نَزَعَ اللهُ مِنْ سُنَّتِهِمْ مِثْلَهَا ثُمَّ لاَ يُعِيْدُهَا إِلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
হাসসান বিন আত্বিয়াহ মুহারেবী রা. থেকে বর্ণিত, “যখনই কোন সম্প্রদায় তাদের দীনের মধ্যে কোন বিদ‘আত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ তাদের মধ্য হতে সেই পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। অতঃপর কিয়ামত অবধি তা আর তাদের মধ্যে ফিরে আসে না।” [দারেমী, মিশকাত হা/১৮৮-সহিহ]
◉ ১২. অন্য গুনাহের চেয়ে বিদআত শয়তানের কাছে অধিক প্রিয়:
সুফিয়ান ছাওরী রহ. বলেন,
إن البدعة أحب إلى إبليس من المعصية لأن البدعة لا يُتاب منها والمعصية يُتاب منها
"শয়তান পাপের পরিবর্তে বিদআতকে বেশি পছন্দ করে। কারণ পাপ থেকে তো লোকেরা তওবা করে নেয় কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করে না।" [শরহুস সুন্নাহ, আত তুহফাতুল ইরাকিয়া ফিল আমাল আল কালবিয়া, পৃষ্ঠা ১২]
◉ ১৩. বিদআতিকে সহযোগিতা করা ইসলাম ধ্বংসে সহযোগিতা করার শামিল:
ফুযাইল ইবনে ইয়ায রাহ, বলেন:
من أعان صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام
“যে ব্যক্তি বিদআতপন্থীকে সহযোগিতা করল সে যেন দ্বীন ধ্বংস করতে সহযোগিতা করল।” [খাসায়িসুআহলিস সুন্নাহ]
◉ ১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বিদআতিদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছেন:
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. জানতে পারলেন যে, কিছু লোক মসজিদে একত্রিত হয়ে উচ্চস্বরে যিকির এবং দরদ পড়ছে। তিনি তাদের কাছে গিয়ে বললেন, 'আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর জমানায় এরূপভাবে যিকির করতে বা দুরূদ পড়তে কাউকে দেখিনি। অতএব আমি তোমাদেরকে বেদআতি মনে করি।"
তিনি এ কথাটি বারবার বলেছিলেন, এমনকি তাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। [আবু নুআইম]
◉ ১৫. মুহাদ্দিসগণের নিকট বিদআতিদের হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়:
মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ.বলেন, প্রথম প্রথম লোকেরা হাদিসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না কিন্তু যখন ফেতনা, বিদআত ও মন গড়া বর্ণনা প্রসার হতে লাগল তখন হাদিসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা অপরিহার্য হয়ে গেল। যদি হাদিস বর্ণনাকারী আহলে সুন্নাহ হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা হয় আর যদি বর্ণনাকারী বিদআতপন্থি হয় তাহলে তার হাদিস গ্রহণ করা হয় না। [মুসলিম]
বিদআতের ভয়াবহতা বিষয়ে আরও অনেক হাদিস এবং সাহাবি ও তাবেঈ প্রমূখদের সর্তকতা মূলক উক্তি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন: ‘বিদআত’ কাকে বলে? কখন কোন কাজকে ‘বিদআত’ বলে আখ্যায়িত করা হবে?
সুন্নত বিরোধী কোন কাজ করা হলেই কি সেটা বিদআত?
https://www.facebook.com/Guidance2TheRightPath/photos/a.251877328565153/625593207860228/?type=1&theater
▬▬▬▬●●●▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
প্রশ্ন: ‘বিদআত’ কাকে বলে? কখন কোন কাজকে ‘বিদআত’ বলে আখ্যায়িত করা হবে?
সুন্নত বিরোধী কোন কাজ করা হলেই কি সেটা বিদআত?
উত্তর:
বিদআত বলা হয় দ্বীন ও ইবাদতে নব আবিষ্কৃত কাজকে। অর্থাৎ দ্বীন বা ইবাদত মনে করে করা এমন কাজকে বিদআত বলা হবে, যে কাজের কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর কোন দলীল নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা (দ্বীন) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” [আবূ দাঊদ, তিরমিযী]
“যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” [বুখারী ও মুসলিম]
মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যাক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।”
সুন্নত এর বিপরীত কোন কাজ করলেই সব সময় তা বিদ'আত হয় না। বরং সুন্নত পরিপন্থী কাজ করলে কখনো তা বিদ'আত হতে পারে আবার কখনো তা হারাম ও গুনাহর কাজ হতে পারে, আবার কখনো তা স্রেফ উত্তমতার পরিপন্থী কাজ হতে পারে যাতে কোন গোনাহ নেই। যেমন: দাড়ি রাখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত বা আদর্শ। (বিধান গত ভাবে ফরজ বা ওয়াজিব)। সুতরাং দাড়ি কাটা হারাম; বিদআত নয়।
কিছু ক্ষেত্রে উত্তমতার পরিপন্থী হয়। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করতেন। এ দৃষ্টিতে এটি সুন্নাত। সুতরাং কেউ যদি মিসওয়াক করে তাহলে নেকী পাবে কিন্তু তা না করলে নেকী পাবে না।
মোটকথা, বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল মাদানি
আরো পড়ুন-----
সালাতে শেষ সম্মিলিত মুনাজাত করার হুকুম এবং একসাথে অনেক লোক দুআতে হাত উঠালে তা আল্লাহর দরবারে তাড়াতাড়ি কবুল হয়- এ কথার যথার্থতা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=396149860804565&id=235040300248856
নবী রাসুলদের নামের ওসিলায় জান্নাতে প্রবেশ।
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=588467224906160&id=235040300248856
দুই ঈদের দিন গোরস্থানে সম্মিলিত ভাবে দোয়া-মুনাজাত করার বিধান
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=613362459083303&id=235040300248856
শবে কদরে সূরা দুখান সাতবার ও সূরা ইয়াসীন তিনবার পড়তে হয়। এটা কি সহীহ্?
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=384636908622527&id=235040300248856
শবে বরাতে ব্যক্তিগতভাবে বাড়ীতে বা মসজিদে কি বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করা যায় কি?
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=318968398522712&id=235040300248856
নতুন অফিস, দোকানপাট উদ্বোধন উপলক্ষে মানুষকে খাবার খাওয়ানো বা মিষ্টি বিতরণ করার বিধান
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=412858389133712&id=235040300248856
.
এক লোক প্রচুর কুরআন পড়ত। কুরআন নিয়েই ডুবে থাকতে ভালবাসত। কিন্তু কেন যেন কুরআনের কিছুই সে মুখস্থ রাখতে পারত না। একদিন লোকটির ছোট ছেলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলল, 'বাবা, আপনি যে এত কুরআন পড়েন, কিছুই তো মনে রাখতে পারেন না। এতে কী লাভ হচ্ছে?'
— তোমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দিবো। তার আগে এক কাজ করো, তুমি এই বেতের ঝুড়িটা সমুদ্র তীরে নিয়ে যাও এবং পানি ভরে নিয়ে আসো।
— এটা তো বেতের তৈরি, পানি কীভাবে ধরবে?
— আহা, চেষ্টা করে দেখো না!
সাধারণত কয়লা আনা-নেওয়ার কাজে তারা এই ঝুড়ি ব্যবহার করে। তবুও বাবার কথায় ছেলেটি ঝুড়ি নিয়ে তীরে গেল এবং পানি ভরল। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসতে আসতে সব পানি পথেই শেষ। পড়তে পড়তে একদম খালি হয়ে গেছে।
'দেখলেন? কোনো লাভ হলো? পানি একটুও বাঁচেনি।' ছেলে আফসোস নিয়ে বলল।
লোকটি আশ্বাস দিলো, 'চেষ্টা চালিয়ে যাও সোনা। আরও কয়েকবার চেষ্টা করো।'
এভাবে দুইবার, তিনবার, চারবার, সবশেষে পাঁচবার পর্যন্ত চেষ্টা করল ছেলেটি। কিন্তু এক মুঠো পানিও আনতে পারল না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বাবাকে বলল, 'এই ঝুড়ি দিয়ে আমার পক্ষে পানি আনা অসম্ভব।'
এবার লোকটি শান্ত গলায় বলল, 'আচ্ছা, তবে তুমি কি ঝুড়িটার ভিতরের দিকে খেয়াল করেছ? ভিতরের অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখেছ?'
— হ্যাঁ, এটা পানি ধরে রাখতে না পারলেও বার বার পানি ভরার কারণে কয়লার ময়লাগুলো সাফ হয়ে গেছে। ভিতরটা বেশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে এখন।
— ঠিক ধরেছ। এবার বলি, কুরআনও ঠিক এই কাজটাই করে তোমার অন্তরের ভিতরে। দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে তোমার অন্তর যখন কলুষিত হয়ে পড়ে, তখন কুরআন সমুদ্রের পানির মতোই তোমাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। অন্তরে মুখস্থ রাখতে না পারলেও সে তোমাকে পবিত্র করে দেয়।
বাবারে, একটা কথা মনে রেখো, কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত 'পড়ো', 'মুখস্থ করো' না। কাজেই মুখস্থ করতে না পারার কারণে শয়তান যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে, কুরআন পড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে না পারে।
আল্লাহ (سبحانه وتعالى) আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করার তৌফিক দান করুন, আমীন...
Cpy
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Telephone
Address
1710 Hodgson Place NW, Edmonton AB. T6R 3R6
Edmonton, AB
EDMONTON AB. T6R 3R6