GSDC

GSDC

Share

GSDC
G=Gajesshary
S=Student. D=Development. C=Club. We know that uninty is strength. So, we are many

08/03/2026
29/11/2025

অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের ক্ষেত্রে ইমাম আওযাঈ’র দৃঢ়তা

আবদুল্লাহ ইবন আলি আল-‘আব্বাস—যিনি ছিলেন আস-সাফফাহ’র চাচা—যখন তাঁর সেই বড় অপরাধটি করলেন অর্থাৎ যাব নদীর তীরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধে (১৩২ হিঃ) বিজয়ের পর বিপুল সংখ্যক উমাইয়াদের হত্যা করলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু উমাইয়াদের রাষ্ট্র তার হাতেই বিলুপ্ত করলেন—
তখন তিনি তার এসব অপরাধের হালাল ঘোষণা করিয়ে নেওয়ার জন্য কাউকে খুঁজতে লাগলেন। সামনে পেলেন কেবল শামের ফকীহ ইমাম আল-আউযায়ী (রহ.)-কে। তাই তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন।

– ইমাম যখন ঢুকলেন, দেখলেন যে আস-সাফ্ফাহ’র চাচা সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসে আছেন, আর তার চারপাশে চার সারি সৈন্য—
এক সারিতে তরবারি-ধারীরা,
এক সারিতে কুঠারধারীরা,
এক সারিতে লোহার দণ্ডধারীরা,
আরেক সারিতে হাতুড়িধারীরা।
তারপর আবদুল্লাহ ইবন আলি তখন ইমাম আওযাঈর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল: “উমাইয়াদের রক্ত সম্পর্কে তোমার কী মত?!”

– ইমাম আল-আউযায়ী রহিমাহুল্লাহ সে দৃশ্য বর্ণনা করে নিজেই বলেন:
আমি তাঁর কাছে ঢুকলাম, দেখলাম তিনি এক সিংহাসনে বসে আছেন, হাতে একটি বাঁশের শক্ত লাঠি (খিজরান)। আর তাঁর ডান-বাম দিকে কালো পোশাকধারীরা—তাদের হাতে উন্মুক্ত তরবারি, আর লোহার দণ্ড।
আমি সালাম দিলাম, তিনি কোনো জবাব দিলেন না। তিনি তাঁর হাতে থাকা বাঁশ দিয়ে মাটিতে খোঁচা দিতে লাগলেন, তারপর বললেন:
“হে আউযায়ী!
এই অত্যাচারীদের (উমাইয়াদের) হাত জনগণ ও দেশের ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়া—এটা কি জিহাদ ও রিবাত হিসেবে গণ্য হবে?”
আমি বললাম: হে আমীর!
আমি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আনসারীকে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আত-তাইমীকে বলতে শুনেছেন, তিনি আলকামাহ ইবন ওয়াক্কাসকে বলতে শুনেছেন, তিনি উমর ইবন খত্তাবকে বলতে শুনেছেন—
তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি:
“নিশ্চয়ই আমলগুলো নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য রয়েছে সে-ই, যা সে নিয়ত করেছে। যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে—তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের জন্যই। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য—তার হিজরত সে-ই যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।”

এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) বাঁশ দিয়ে আগের চেয়ে আরও জোরে মাটিতে খোঁচা দিতে লাগলেন, আর তাঁর চারপাশের লোকেরা তাঁদের তরবারির হাতলে আরও জোরে চেপে ধরল।

তারপর তিনি বললেন: “হে আউযায়ী!
উমাইয়াদের রক্ত সম্পর্কে তুমি কী বলো?”
আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“এক মুসলিমের রক্ত অপর মুসলিমের জন্য হালাল নয়, তিনটির একটির বাইরে: প্রাণের বদলে প্রাণ; বিবাহিত ব্যভিচারী; এবং দীন ত্যাগকারী যে জামা‘আত থেকে পৃথক হয়ে যায়।”

তিনি আরও জোরে মাটিতে খোঁচা দিলেন, তারপর বললেন:
“তাহলে তাদের সম্পদের ব্যাপারে কী বলো?!”
আমি বললাম:
“যদি ঐ সম্পদ তাদের হাতে হারাম ছিল—তা আপনার জন্যও হারাম। আর যদি তা তাদের জন্য হালাল ছিল—তাহলে আপনার জন্য তাও কেবল শরয়ী পথে হালাল হবে।”

তিনি আগের চেয়েও কঠিনভাবে খোঁচা দিতে লাগলেন, তারপর বললেন:
“আমরা কি তোমাকে কাজী হিসেবে নিযুক্ত করব?”

আমি বললাম:
“আপনার পুর্বসূরিরা এ বিষয়ে আমাকে কষ্ট দিতেন না; আর আমি চাই তাঁরা যেভাবে আমার প্রতি ইহসান করতে শুরু করেছিলেন—তা যেন সম্পন্ন হয়।”

তিনি বললেন: “মনে হচ্ছে, তুমি ফিরে যেতে চাও?”
আমি বললাম:
“আমার পেছনে পরিবার-পরিজন আছে। তাঁদের দেখাশোনার প্রয়োজন আছে এবং তারা আমার কারণে উদ্বিগ্ন।”

আউযায়ী বলেন:
আমি আমার মাথা ঝরে পড়ার অপেক্ষা করছিলাম।
কিন্তু তিনি আমাকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন।

উৎস: ইবন কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া

লিখেছেন প্রিয় শাইখ ডঃ আবু বকর মোহাম্মাদ জাকারিয়া হাফিজাহুল্লাহ

19/11/2025

নিশ্চয় ফজরের সালাত আদায়কারীদের জন্য রয়েছে এমন কিছু গণিমত, যা ঘুমন্ত ব্যক্তি লাভ করে না।

01/10/2025

Celebrating my 11th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

01/10/2025

বিধর্মীদের উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান

প্রশ্ন:
বিধর্মীদের উৎসব উপলক্ষে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিধান কি?

উত্তর
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি। পর সমাচার:

খ্রিস্টমাস (বড়দিন) কিংবা অন্য কোন বিধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে কাফেরদের শুভেচ্ছা জানানো আলেমদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী হারাম।

ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) তাঁর লিখিত “আহকামু আহলিয যিম্মাহ” গ্রন্থে এ বিধানটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “কোন কুফরী আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরীর পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সেজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য গুনাহ। এটি মদ্যপান, হত্যা ও যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনার কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরী কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে।”[উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

কাফেরদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হারাম ও এত জঘন্য গুনাহ (যেমনটি ইবনুল কাইয়্যেম এর ভাষ্যে এসেছে) হওয়ার কারণ হলো- এ শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে কুফরী আচারানুষ্ঠানের প্রতি স্বীকৃতি ও অন্য ব্যক্তির পালনকৃত কুফরীর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়। যদিও ব্যক্তি নিজে এ কুফরী করতে রাজী না হয়। কিন্তু, কোন মুসলিমের জন্য কুফরী আচারানুষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা কিংবা এ উপলক্ষে অন্যকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হারাম। কেননা আল্লাহ তাআলা কুফরীর প্রতি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন: إِن تَكۡفُرُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِيٌّ عَنكُمۡۖ وَلَا يَرۡضَىٰ لِعِبَادِهِ ٱلۡكُفۡرَۖ وَإِن تَشۡكُرُواْ يَرۡضَهُ لَكُمۡۗ “যদি তোমরা কুফরী কর তবে (জেনে রাখ) আল্লাহ্‌ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না। এবং যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও; তবে (জেনে রাখ) তিনি তোমাদের জন্য সেটাই পছন্দ করেন।”[সূরা যুমার, আয়াত: ৭] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”[সূরা মায়েদা, আয়াত: ৩] অতএব, কুফরী উৎসব উপলক্ষে বিধর্মীদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম; তারা সহকর্মী হোক কিংবা অন্য কিছু হোক।

আর বিধর্মীরা যদি আমাদেরকে তাদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানায় আমরা এর উত্তর দিব না। কারণ সেটা আমাদের ঈদ-উৎসব নয়। আর যেহেতু এসব উৎসবের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট নন। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত মানবজাতির কাছে ইসলাম ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন, যে ধর্মের মাধ্যমে পূর্বের সকল ধর্মকে রহিত করে দেয়া হয়েছে; হোক এসব উৎসব সংশ্লিষ্ট ধর্মে অনুমোদনহীন নব-সংযোজন কিংবা অনুমোদিত (সবই রহিত)। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।”[সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫]

কোন মুসলমানের এমন উৎসবের দাওয়াত কবুল করা হারাম। কেননা এটি তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে করে দাওয়াতকৃত কুফরী অনুষ্ঠানে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করা হয়।

অনুরূপভাবে এ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কাফেরদের মত অনুষ্ঠান করা, উপহার বিনিময় করা, মিষ্টান্ন বিতরণ করা, খাবার-দাবার আদান-প্রদান করা, ছুটি ভোগ করা ইত্যাদি মুসলমানদের জন্য হারাম। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের-ই দলভুক্ত”। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর লিখিত ‘ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম’ গ্রন্থে বলেন: “তাদের কোন উৎসব উপলক্ষে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করলে এ বাতিল কর্মের পক্ষে তারা মানসিক প্রশান্তি পায়। এর মাধ্যমে তারা নানাবিধ সুযোগ গ্রহণ করা ও দুর্বলদেরকে বেইজ্জত করার সম্ভাবনা তৈরী হয়।”[উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

যে ব্যক্তি বিধর্মীদের এমন কোন কিছুতে অংশগ্রহণ করবে সে গুনাহগার হবে। এ অংশগ্রহণের কারণ সৌজন্য, হৃদ্যতা বা লজ্জাবোধ ইত্যাদি যেটাই হোক না কেন। কেননা এটি আল্লাহর ধর্মের ক্ষেত্রে আপোষকামিতার শামিল। এবং এটি বিধর্মীদের মনোবল শক্ত করা ও স্ব-ধর্ম নিয়ে তাদের গর্ববোধ তৈরী করার কারণের অন্তর্ভুক্ত।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলমানদেরকে ধর্মীয়ভাবে শক্তিশালী করেন, ধর্মের ওপর অবিচল রাখেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদেরকে বিজয়ী করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।[মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিস শাইখ ইবনে উছাইমীন ৩/৩৬৯]

সূত্র:
শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
প্রশ্ন: 947
মুহাম্মদ নূরুল্লাহ তারীফ কর্তৃক অনুদিত।

12/06/2025

প্রশ্ন:কৃষি জমি বন্ধক রাখা জায়েজ? অর্থাৎ যে টাকা নিয়ে জমি বন্ধক রাখা হয়েছে, সে টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত টাকা প্রদানকারী জমি ভোগ করবে।অতঃপর টাকা দিলে জমি ফেরত দিবে —এভাবে জমি বন্ধক রাখা কি জায়েজ?
▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মদের প্রতি, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।অতঃপর:"কৃষিজমি বন্ধক রাখার পদ্ধতির মধ্যে সাধারণত দুটি রীতি পরিলক্ষিত হয়—এর একটিকে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বৈধ গণ্য করা হয়, আর অপরটি শরিয়তের দৃষ্টিতে স্পষ্টরূপে হারাম।"
▪️প্রথম পদ্ধতি: কৃষি জমি বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিদিষ্ট একটি জমি ব্যবহার করার চুক্তি করা,এই চুক্তির আওতায়,নির্ধারিত মেয়াদে বন্ধকগ্রহীতা তথা চাষাবাদকারী জমিটি চাষাবাদ করে জমির ফসল একাই ভোগ করেন, আর বন্ধকদাতা তথা জমির মালিক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিকৃত ঋণের অর্থ গ্রহণ করেন। অতঃপর নির্ধারিত মেয়াদ শেষে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জমির মালিক ঋণকৃত সম্পূর্ণ টাকা বন্ধকগ্রহীতা তথা চাষাবাদকারী কে ফিরত দিলে চাষাবাদকারী জমির মালিককে তার জমি ফেরত দেয় এর মাঝে কেটে যাওয়া সময়ে টাকার মালিক তথা চাষাবাদকারী জমিটা একাই ভোগ করে। এই ধরনের চুক্তি ইসলামী শরীয়তের পরিপন্থী এবং সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এটা জায়েজ নয়,বরং আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে এই ধরনের বন্ধক হারাম।
সুদের পরিচয়ে ইসলামের সর্বসম্মত একটি মূলনীতি হল, القرض الذي يؤدي إلى نفع مشترط للمقرض؛ فهو ربا “ঋণ দানকারীর শর্তসাপেক্ষ সুবিধার ফলস্বরূপ ঋণকে সুদ বলে।” অর্থাৎ ঋণদাতার সাথে যদি এ মর্মে শর্ত থাকে যে, ঋণের বিনিময়ে সে ফায়দা/সুবিধা গ্রহণ করবে বা তাকে ফায়দা/সুবিধা দেয়া হবে তাহলে তা সুদ বলে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে। তা হল,প্রখ্যাত সাহাবী আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন: كُلُّ ‌قَرْضٍ ‌جَرَّ مَنْفَعَةً، فَهُوَ رِبًا ‘যে ঋণ মুনাফা বয়ে আনে, সেটাই এক প্রকার সূদ"।(বায়হাকী;আস সুনানুল কুবরা ;১১/২৯৪ হা/১১০৩৭) এ হাদিসটি সনদের বিচারে দুর্বল হলেও এর মর্মার্থটা সঠিক।(ইবনু উসাইমীন;আশ শারহুল মুমতি;খণ্ড;৯পৃষ্ঠা;১০৮-১০৯) আর হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদগ্রহণকারী, সুদদাতা,সুদের লেখক, সুদের সাক্ষীদ্বয় সকলকে লানত করেছেন এবং বলেছেন:তারা সবাই সমান।"(সহিহ মুসলিম হা/১৫৯৮)
দুঃখজনক হলেও সত্যি জমি বন্ধকের এই পদ্ধতিটাই আমাদের সমাজে বেশি চলে।অথচ আলেমরা এই মর্মে ইজমা করেছেন যে, যে ঋণ ঋণদাতাকে কোন প্রকার উপকার দেয় সেটাই সুদ। হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন:
وَكُلُّ قَرْضٍ شَرَطَ فِيهِ أَنْ يَزِيدَهُ ، فَهُوَ حَرَامٌ بِغَيْرِ خِلَافٍ ، قَالَ ابْنُ الْمُنْذِرِ : أَجْمَعُوا عَلَى أَنَّ الْمُسَلِّفَ إذَا شَرَطَ عَلَى الْمُسْتَسْلِفِ زِيَادَةً أَوْ هَدِيَّةً ، فَأَسْلَفَ عَلَى ذَلِكَ : أَنَّ أَخْذَ الزِّيَادَةِ عَلَى ذَلِكَ رَبًّا .وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، وَابْنِ عَبَّاسٍ ، وَابْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّهُمْ نَهَوْا عَنْ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً
“যে ঋণে বৃদ্ধির শর্ত করা হয়েছে সেটা হারাম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত নেই। ইবনুল মুনযির বলেন: তারা (আলেমগণ) এই মর্মে ইজমা করেছেন যে, ধারদাতা যদি ধারগ্রহীতার কাছে অতিরিক্ত বা উপহারের শর্ত করে এবং সেটার উপর ভিত্তি করে ধার দেয়; তাহলে অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করা সুদ বলে গণ্য হবে। উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ), ইবনে আব্বাস (রাঃ), ইবনে মাসউদ (রাঃ) প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা এমন ঋণ থেকে নিষেধ করেছেন যেটা কোনো প্রকার উপকার দেয়।”(ইবনু কুদামাহ আল-মুগনী’খন্ড:৪ পৃষ্ঠা:২৪০)
ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত দলিলের ভিত্তিতে মুসলিমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে—ঋণের ভিত্তিতে কোনো শর্তসাপেক্ষ অতিরিক্ত কিছু আদায় করাকে সুদ বলা হয়, হোক না তা এক মুঠো পশুখাদ্য বা একটি শস্যদানা মাত্র; যেমনটি ইবনু মাসঊদ (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন।...ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে কোনো উপহার দিতে পারবে না, আর ঋণদাতার পক্ষেও তা গ্রহণ করা বৈধ নয়—যদি না তাদের মধ্যে এমন উপহার লেনদেন পূর্ব থেকেই প্রচলিত থাকে।”(তাফসীর কুরতুবী, খণ্ড: ৪,পৃষ্ঠা: ২২৫-২২৬)
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন," ঋণদাতার জন্য ঋণগ্রহীতার নিকট ঋণ প্রদানের বিনিময়ে লাভবান হওয়ার শর্তারোপ করা জায়েয নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا"এমন প্রত্যেকটি ঋণ যা লাভ আনয়ন করে সেটিই সূদ’। আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং ঋণ প্রদানের বিনিময়ে জমি থেকে উৎপন্ন ফসল দ্বারা লাভবান হওয়া জায়েয নয়। কেননা বন্ধকের উদ্দেশ্যে হল মালের নিরাপত্তা ও ঋণ আদায়ে সহায়তা করা, লাভবান করা নয়।"(ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ,খণ্ড;১৪ ল;পৃষ্ঠা;১৭৭-১৭৮)
▪️দ্বিতীয় পদ্ধতি; কৃষি জমি বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিদিষ্ট একটি জমি ব্যবহার করার চুক্তি করা, এই চুক্তির আওতায়, নির্ধারিত মেয়াদে জমি বন্ধকগ্রহীতা তথা চাষাবাদকারী জমিটি চাষাবাদ করে ফসল ভোগ করবে বা তার যে কোনও বৈধ প্রয়োজনে জমিটি ব্যবহার করবে। আর বন্ধকদাতা তথা জমির মালিক চুক্তিকৃত অর্থ গ্রহণ করে ভোগ করবে। তারপর চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে বন্ধকগ্রহীতা (অর্থ দাতা চাষাবাদকারী) বন্ধকদাতা তথা জমির মালিক-কে তার জমি ফেরত দিবে। কিন্তু জমির মালিক তাকে কোন টাকা (পূর্ণ অথবা কিছু কম) ফেরত দিবে না কিংবা চাষাবাদকারীও জমির মালিকের কাছে তার প্রদত্ত কোনও অর্থও দাবী করতে পারবে না। বরং উভয় পক্ষই চুক্তি অনুযায়ী তাদের দায়-দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। এভাবে জমি লিজ/ভাড়া দেয়া হলে তা হবে হালাল এবং শরিয়ত সম্মত।এই ধরনের চুক্তি ইসলামে বৈধ হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে এটি "খাই-খালাসি" নামে পরিচিত। তবে, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে জমি বা পুকুর কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়ায় বা লিজে দেওয়া যাবে, কিন্তু স্থায়ীভাবে বিক্রয়ের মতো কোনো চুক্তি করা যাবে না, যা পরবর্তীতে সুদ বা হারাম লেনদেনে রূপ নিতে পারে।
জমি বা পুকুর লিজ দেওয়া ও নেওয়া দাতা এবং গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বৈধ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাফি’ বিন খাদিজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “‏ إِنَّمَا يَزْرَعُ ثَلاَثَةٌ رَجُلٌ لَهُ أَرْضٌ فَهُوَ يَزْرَعُهَا وَرَجُلٌ مُنِحَ أَرْضًا فَهُوَ يَزْرَعُ مَا مُنِحَ وَرَجُلٌ اسْتَكْرَى أَرْضًا بِذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ ‏”‏ ‏.‏ “তিন ব্যাক্তি জমি চাষাবাদ করবে। যথা: (১).যার জমি আছে সে তা চাষাবাদ করবে, (২).যাকে ধারে জমি দান করা হয়েছে সে তার চাষাবাদ করবে এবং (৩).যে ব্যক্তি নগদ সোনা-চাঁদি দ্বারা অর্থাৎ নগদ টাকায় জমি ভাড়া নেয়।”(সহীহ বুখারি হা/১২৮৬;সহীহ মুসলিম হা/১৫৪৬) অপর বর্ননায় নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে এবং আবূ বকর, ‘উমার, উসমান (রাঃ) মু’আবিয়া (রাঃ)-এর শাসনের শুরু ভাগে নিজের ক্ষেতে বর্গাচাষ করতে দিতেন।"(সহিহ বুখারী হা/২৩৪৩) আরেক বর্ননায় আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার(রদিয়াল্লাহু আনহু ) হতে বর্ণিত,নবী করীম (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার বাসীদেরকে উৎপাদিত ফল বা ফসলের অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন"(সহীহ বুখারী, হা/২৩২৮ ‘চাষাবাদ’ অধ্যায়)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে,أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَفَعَ إِلَى يَهُوْدِ خَيْبَرَ نَخْلَ خَيْبَرَ وَأَرْضَهَا عَلَى أَنْ يَّعْتَمِلُوْهَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَلِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَطْرُ ثَمَرِهَا"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের বাগান ও যমীন খায়বারের ইহুদীদেরকে দিয়েছিলেন। তারা নিজেদের অর্থে তাতে চাষাবাদ করবে। আর রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ফল ও ফসলের অর্ধেক পাবেন (সহীহ মুসলিম হা/১৫৫১;মিশকাত হা/২৯৭২) সহীহ বুখারীতে আরো এসেছে, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারকে ইহুদীদের দিয়েছিলেন। তারা তাতে পরিশ্রম করবে ও শস্য ফলাবে এবং সেখানে যা উৎপাদিত হবে, তারা তার অর্ধেক পাবে"(সহীহ বুখারী, হা/২২৮৫; মিশকাত, হা/২৯৭২) এ থেকে সুস্পষ্ট যে, ইসলামে নির্দিষ্ট শর্ত ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে জমি লিজ বা ভাড়া দেওয়া বৈধ ও অনুমোদিত। এটি অর্থের বিনিময়ে হতে পারে, আবার উৎপাদিত ফসল ভাগাভাগির মাধ্যমেও হতে পারে। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

Want your school to be the top-listed School/college in Tangail?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Website

Address


Darani Para, Gajesshary, Khaliajani, Mirzapur
Tangail
1940

Opening Hours

Monday 08:00 - 22:00
Tuesday 08:00 - 22:00
Wednesday 08:00 - 22:00
Thursday 08:00 - 22:00
Friday 17:15 - 22:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 08:00 - 22:00