Bindas Life
মনে হয় আপনাদের সাথে আর বেশি দিন থাকতে পারব না ।
18/04/2025
এই লোকটার পার্সোনাল লাইফের কিছু কথা জানি , শুনে ভিশন খারাপ লাগলো । লোকটা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে সব দিক মিলিয়ে, ব্যবসায় লস খেয়েছেন ৩০ হাজার, তার মধ্যে আবার তার স্ত্রীর বেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়েছে ,, আত্মীয় স্বজনদের থেকেও কোনো সাহায্য পাচ্ছে না 💔 সত্যিই খুব খারাপ লাগছে ।তাই শেয়ার করে দিলাম । যোগ্যমূল্য জরুরতমান লোকের পাশে থাকুন ।
আসসালামু আলাইকুম 💚❤️🖤
জরুরী ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে, একদম নতুন ব্যবহার তেমন একটা হয়নি বললেই চলে পারিবারিক সমস্যার কারনে ৬ মাস বাইরে ছিলাম, ফ্রিজ এর কোয়ালিটি নিয়ে আমার বলার কিছু নাই, সার্চ করে নিবেন, স্যামসাং এর ফ্রীজ ৪৬ হাজার দিয়ে কেনা, ১০ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি আছে, দাম ৩৫ হাজার, দামাদামি করলে ১ সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা কমতে পারে, কোন স্পট নেই কোন সমস্যা নাই, মীশন পাড়া এসে দেখে শুনে টাকা দিয়ে নিয়ে যাবেন।
তোলারাম কলেজ এর সাবেক ভিপি রাজীব ভাই যে বাড়ীতে থাকেন সেটারই ৭ তালায়, শুধু মাত্র যারা ভাল মানের ফ্রিজ কিনবেন অথচ ৪, ৫ হাজার টাকার জন্য ভালটা নিতে পারছেন না তারাই যোগাযোগ করবেন।
কাশ্মি ভবন, মিশন পাড়া
তামজিদ ০১৭৭২৪৩৪২৩০
নারায়ণগঞ্জের কেউ আছেন ?
17/04/2025
#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৪৮
#তানিশা সুলতানা
এ্যানির পেছনের অংশ পুরোপুরি গাড়ি চাপা পড়েছে। একদম ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গিয়েছে৷
গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছে প্রাণীটি। মিউ মিউ আওয়াজ তুলে বলছে অনেক কথা। তার দৃষ্টি এখনো আদ্রিতাকে নিয়ে চলে যাওয়া গাড়িটি খুঁজছে৷ অনবরত দৃষ্টি ঘুরিয়ে পাগলের মতো খুঁজছে। কিন্তু হায়য় কালো রংয়ের সেই গাড়িটি আর দেখতে পায়। এ্যানির ব্যথিত হৃদয় হয়ত আর্তনাদ করে বলছে "আমি পারলাম না বাঁচাতে। আমার সঙ্গীকে বাঁচাতে ব্যর্থ হলাম আমি।
সিয়াম এর কলিজা কাঁপছে। ডান পায়ের হাঁটুতে ভীষণ বাজে ভাবে চোট পেয়েছে। নারাতেও পারছে না। দুই হাতের কনুই ছিঁলে গিয়েছে৷ কপালের বাম পাশটায় গভীর ক্ষত। আঁখি পল্লব বন্ধ হয়ে আসছে। হাত বাড়িয়ে এ্যানিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করে সিয়াম। তবে ছুঁতে পারে না। এ্যানিকে ছুঁতে হলে কয়েক হাত এগোতে হবে। সিয়াম দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তবে পারে না। শেষ মেষ বুক দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে পথ টুকু এগোয়। পিচ ঢালা রাস্তার ঘর্ষণে বুকে আঘাত পায়। এ্যানির কাছে আসতেই আহত প্রাণীটিকে কোলে তুলে নেয়। বুকের সাথে চেপে ধরে বিলাপ বকতে থাকে
"এ্যানি
আমার এ্যানি
আল্লাহ কি হয়ে গেলো। কতো রক্ত। এ্যানিরে তোমার কিছু হবে না। আ...আমি আছি তো।
তার এর কথা গুলো শুনতে পেলো না বোধহয় এ্যানি৷ সে কান্না ভেজা নয়নে সিয়াম এর মুখ পানে তাকায়। মিউ মিউ আওয়াজ তুলে বলে ভেতরে জমানো কথা গুলো।
সেই কথা গুলো নিশ্চয় আদ্রিতাকে নিয়ে।
"সিয়াম ভাইয়া তুমি বাঁচাও আমার সঙ্গীকে। আবরারকে খবর পাঠাও। আদ্রিতাকে বাঁচাও।
আঁখি পল্লব বন্ধ হয় এ্যানির। শরীরের যে টুকু অংশ অক্ষত ছিলো সেই টুকু স্থির হয়ে লুটিয়ে পড়ে সিয়াম এর বুকে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।
সিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়। হাত কাঁপছে তার। নিজের ব্যালেন্স ধরে রাখতে পারছে না। তাই এ্যানির নিথর দেহখানা শুয়িয়ে দেয় রাস্তায়। হাত এবং শার্টে রক্ত লেগে আছে। এগুলো এ্যানির রক্ত। একটা পোষা বিড়াল। যার সাথে পরিচয় হয়েছে দু মাস আগে। প্রথমদিন যখন আদ্রিতার কোলে বিড়ালটিকে দেখেছিলো ভীষণ হাসি পাচ্ছিলো। মনে মনে বলেছিলো "বিড়ালকেও মানুষ ভালোবাসে? আদর করে?"
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজেও ভালোবেসে ফেলেছিলো আদূরে ছানাটিকে। মায়ায় জড়িয়ে পড়লো।
আমান আহাদ ইভান গাড়ি নিয়ে খুঁজতে বেরিয়েছিলো সিয়ামকে।
আমান ড্রাইভ করছে ইভান এবং আহাদ রাস্তার এপাশে ওপাশে নজর ঘুরিয়ে খুঁজে চলেছে। হঠাৎ করে আহাদ এর নজর পড়ে রাস্তার পাশে বসে থাকা সিয়ামের পানে।
সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে
"আমান স্টপ দ্যা কার।
সিয়াম ওখানে।
গাড়ি থেমে যায়। ওরা পৌঁছানোর আগেই সিয়াম সেন্সলেস হয়ে পড়ে যায়। এ্যানির শরীরে হাত রেখে অবচেতন হয়ে পড়েছে সে।
____
অহনার ছোট্ট বাচ্চাটির জ্বর হয়েছিলো। নরমাল জ্বর। সব বাচ্চাদেরই হয়। ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধও এনেছিলো। কিন্তু সেটাই যেনো কাল হয়ে দাঁড়ালো বাচ্চাটির জন্য। ঔষধ খাওয়ার পর থেকেই জ্বর বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডাক্তার জানায় টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহুর্তে হেলেন এর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকা নেই। সেই জন্যই আবরারকে কল করা হয়। আবরার টাকা পাঠানোর জন্য হাসপাতাল থেকে বের হতেই তার ওপর আক্রমণ করা হয়। পনেরো জন্য গুন্ডার সাথে লড়াই করে জিতেছে তবে আঘাতও পেয়েছে। সেই আঘাতকে পাত্তা না দিয়ে ছুটে আসে হাসপাতালে।
রিসিপশন থেকেই জানতে পারে আদ্রিতা মিসিং। সেই সাথে তার চার বন্ধুও নেই। আশ্চর্য হয় না আবরার। যখনই গুন্ডা দেখেছে তখনই ধারণা করে ফেলেছিলো এমন কিছুই হবে। আঁখি পল্লব বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস টেনে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা চালায় আবরার। পকেট থেকে ফোন বের করে আমানের নাম্বারে ডায়াল করে। রিং হওয়ার আগেই দেখতে পায় সিয়ামকে ধরে তিনজন হাসপাতালে ঢুকছে। আবরার এগিয়ে যায় না। ঠায়য় দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে সিয়াম এর রক্তাক্ত মুখশ্রী।
___
আবরার তাসনিন। শেষবার কেঁদেছিলো বাবার মৃত্যুতে। উহু
বাবা পৃথিবী থেকে চলে গেলো। মাথার ওপরের বটগাছটা আর কখনোই ছায়া দেবে না। এসব ভেবে নয়।
বাবা মাকে এতো ভালোবাসলো তার বিনিময়ে একটু ভালোবাসা পেলো না। মায়ের খুশির জন্য আসমান থেকে চাঁদ আনতেও প্রস্তুত ছিলো অথচ মা তার সাথে ভালো করে দুটো কথা বলতো না। আবরার ভাবতো মা বোধহয় এমনই। ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানে না। কিন্তু তার প্রাক্তনে এবং প্রেমের কাহিনি জানতে পেরে ভীষণ দুঃখ হয়েছিলো। একটা ভুল মানুষের জন্য বাবাকে আঘাত দিয়ে মেরে ফেললো এটাই আবরার চোখ দুটো ভরিয়ে দিচ্ছিলো।
একরাশ কষ্ট এবং ধোঁকা পেয়ে পৃথিবী ছাড়লো বাবা। এ একটা ভাবনাই ভেতরটাকে ক্ষত বিক্ষত করে তুলছিলো।
সেসব পুরোনো কথা।
আজকে নতুন করে আবরারের বিলাই আঁখি পল্লবে অশ্রুকণা জমেছে। গম্ভীর রগচটা আবরার একটা বিড়াল এর জন্য কাঁদছে।
ইতিহাস কি এটা মেনে নিবে?
সিয়াম এর জ্ঞান ফিরেছে। পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। কপালেও সাদা রংয়ের ব্যান্ডেজ। কিভাবে এ্যানি মারা গেলো সেই ঘটনাই শোনাচ্ছে আপাতত সে। আর বাকিরা মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
এক পর্যায়ে আহাদ বলে ওঠে
"আদ্রিতাকে বাঁচাতে গিয়ে এ্যানি প্রাণ হারালো। ওই ছোট্ট প্রাণীটা এতো ভালোবাসতো আমাদের মাকে?
আমান চোখের পানি মুছে। আবরারের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে
"তুই বসে আছি এভাবে?
আদ্রিতা নিখোঁজ হওয়ার আট ঘন্টা হয়ে গেলো। খুঁজবি না ওকে?
আহাদ বলে
" কোনো দরকার নেই খোঁজার।
কতো ভালো ছিলাম আমরা। নিজেদের কাজ এবং আড্ডা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। মাঝেমধ্যে আবরার দুই একটা খু/ন করলে আমরা সেটা মিটমাট করে ফেলতাম মুহুর্তেই।
কিন্তু আদ্রিতা আসার পর থেকে সব কিছু বদলে গিয়েছে। শত্রু তৈরি হচ্ছে আমাদের। আড
বাকিটা শেষ করার আগেই সিয়াম বলে
"সাট আপ আহাদ। আদ্রিতা নয়। সে আমাদের বোন।
সিয়ামের গম্ভীর স্বর শুনে আর কিছু বলার সাহস হয় না আহাদের। চুপসে যায় মুখ খানা।
তখনই আবরারের ফোন বেজে ওঠে। ঠোঁট বাঁকায় আবরার। সে জানে কে কল করেছে।
তাই চটজলদি রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে কান্না জড়ানো কন্ঠস্বর
" আবরার আপনি কোথায়?
আমাক
বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার বলে ওঠে
"মাত্র আট ঘন্টা হলো দূরে গিয়েছো। এতো হাইপার হওয়ার কি ছিলো? থাকো কয়েক বছর।
এমন কথায় আদ্রিতা কেঁদে ওঠে হু হু করে। তার সামনে টনি নামক লোকটা এবং তার দলের কিছু সদস্য রয়েছে।
আরিফ চলে গিয়েছে হোটেল এ। যেখানে আদ্রিতা আবরার ছিলো। আদ্রিতার পাসপোর্ট যে সেখানেই রয়েছে।
টনি শুকনো ঢোক গিলে। লাইড স্পিকারে দিয়েছিলো। আবরারের ব্যাকুল কন্ঠস্বর শুনতে চেয়েছিলো সে। কান্না জড়িত স্বরে বলবে "আদ্রিতা টনির কাছে ফোন দাও। আমি তাকে মিনতি করবো তোমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য"
টনি নিজের ভাবনার মাঝে পূণরায় শুনতে পায় আবরারের কন্ঠস্বর
"পাখি টনিকে বলে দিও।
এক ঘন্টার মধ্যে তোমাকে আমার কাছে এনে না দিলে ওর বউকে রাস্তায় নামাবো উইথ আউট ড্রেসআপে।
বলেই কল কাটে।
আমান আহাদ সিয়াম ইভান হা করে তাকিয়ে আছে আবরারের মুখ পানে।
" ভাই তুই জানতে চাইলি না ও কোথায় আছে?
আবরার সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলে
"এয়ারপোর্ট এর ঠিক অপজিটে গোলাপি রংয়ের বাংলোতে আছে।
আমান বলে
" যাবি না আনতে?
"আনতে গেলেই দিয়ে দিবে? দেখতে দিবে আমার পাখিকে? একটুখানি ছুঁতে দিবে?
দিবে না রে।
বরং অনেক দূরে নিয়ে যাবে।
চলবে
তোমাতেই আসক্ত গ্রুপে এড হয়ে যাও এখনই।
এবং গল্প নিয়ে আলোচনা করিও
#রং
#৬০.৪
Tonni-Tonu
একঝাপটা শুভ হাওয়ায় পুরো অন্দরমহলে প্রাণ ফেরে। আধভাঙা র!ক্তা!ক্ত শরীরে দাঁড়িয়ে সিনথিয়া, আহত!ব্যাথায় কাতর শরীর, এলোমেলো চুল গুলো উড়ছে। ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি। ভয়গুলো বুক ছেড়ে উড়াল দিয়েছে। ঢুলুঢুলু চোখটা হাসে। মুখে বলে,
-- ওরা বাঁচতে দিচ্ছে না আর। দিচ্ছেই না।
ধারালো মগযাস্ত্রের অধিকারী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধির ক্ষ্যাপাটে ইরফাদ চোখ বুলিয়ে নেয় চারপাশ। হাতবাড়িয়ে সিনথিয়ার র!ক্তা!ক্ত কপালের ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দেয়।টেনে নেয় বুকের কাছে,একবাহুডোরে আবদ্ধ করে রক্তাক্ত কপালের কোণে সিক্ত চুমু দেয়। বুকে চেপে ধরে কয়েকসেকেন্ড।ইরফাদের গলার স্বর কিছুক্ষণ কোমল। পরেরটুকুতেই প্রলয়,
-- আমি আছি সিনথি!এইতো চলে এসেছি। ভয় পেয়ো না!
একটাকেও বাঁচতে দিবো না। এক...টা....কে....ও না।
একটুকরো উষ্ণ ওমে মাথা ঠেকিয়ে সিনথিয়ার গলা কেঁপে ওঠে,
-- ওরা বাবাকেও ছাড়েনি। র!ক্তা!ক্ত করে দিয়েছে। আমাকে ছুঁয়েছে। টুম্পাকে ওরা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। কাউকে ছেড়ে দেয়নি। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। পারছিনা আর।
তীক্ষ্ম চোখ জোড়ায় জ্বলে ওঠে আগ্নেয়গিরি, যার উত্তাপে ভস্মিভূত হবে পুরো পৃথিবী। পেটানো নিয়মিত চর্চিত ইস্পাতের ন্যায় শরীরে মূহুর্তেই ঝড় বয়ে যায়। র!ক্তা!ক্ত আধভাঙা ব্যথায় জড়ানো সিনথিয়ার শরীর খানা অগ্নিমানবের আয়ত্বে। ঝড়ের গতিতে ভালোবাসার ঐ ছোট্ট অবলম্বনকে একঝাপটায় কাঁধে তুলে নেয়। র!ক্তা!ক্ত সিনথিয়ার কোমল হাতজোড়া ইরফাদের পিঠ ছাড়িয়ে শূন্যে দোলে। এলোমেলো খোলা চুল ইরফাদের পিঠ ছাপিয়ে মাটি ছোঁয়। ব্যথাতুর, র!ক্তভেজা কপাল ছেড়ে একফোটা রক্ত সাদা টাইলসে টুপ করে পড়ে। ইরফাদের চলনে রক্তের ফোটা গুলো একের পর এক সংখ্যা বাড়ায়। বিশ্বস্ত,ভরসার চাদরে নিজেকে ঢেকে সস্তিতে চোখ বন্ধ করে সিনথিয়া। অনেকটা সময় পর নিশ্বাসে স্বস্তি।
উপরতলার মরণ খেলায় মত্ব মাফিয়াদের হৃদয়ে ইরফাদের পদধ্বনির বিধ্বংসী পদধ্বনির সুর পৌঁছে গেছে। কদমে কদমে প্রলয়ের সুর, যেনো অগ্নীমূর্তী ছায়ামানব জলোচ্ছাসে ভাসিয়ে কূল হারা করেই ছাড়বে এইবার। মাফিয়া দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে ধ্বংসের সুর। অকারণেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তারা। মাফিয়াদের মধ্যে একজন ফিসফিসিয়ে বলে,
-- আমি বলেছিলাম দূরে কোথাও হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যাচ্ছে। দরজার ধাক্কার শব্দ শুনেও বলেছিলাম সবাইকে পালাতে।এই ক্ষ্যাপাটে এসপি আমাদের একএক জনকে টুকরো টুকরো করে কুত্তা দিয়ে খাওয়াবে।
মাফিয়া দলের বসের কন্ঠে তখনো তেজ,
-- কেউ কোথাও যাবেনা। এসপির অস্তিত্ব মুছে তবেই এখান থেকে বের হবো।
-- সে গুড়ে বালি। আমি যাচ্ছি। এতোক্ষণ জোর করে আটকে রাখলেও আমি আর থাকবো না। লাগবেনা টাকা পয়সা। যার জানের ভয় নেই সে থাকুক।
--আরে শা!!লা! এসপি কি তোকে চেনেনা। শা@লার পুলিশের লোক হয়ে এসপির ঘরে হানা দিয়েছিস। তোকে ছেড়ে দেবে।
-- গা ঢাকা দিয়ে থাকবো, একটা মা!র্ডা!র তো করিনি। শাস্তি যেমন ই হোক। মৃত্যু রায় হবেনা। এই মূহুর্তে মেরে গুম না করলে পরবর্তীতে এসপি যতোই ক্ষমতাশীল হোক জানে মেরে ফেলার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
--আরে যাহ যা।
রিদুয়ানুর রহমান এই সুযোগে নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন,দরজা বন্ধ করে দেন। ক্লান্ত,ব্যথায় কাতর শরীরটা নিয়ে বসে পড়েন ধবধবে টাইলসে। হাতে মুঠোয় এখনো ধারালো অস্ত্র। তবে ছেলের উপস্থিতিতে তিনি সাময়িক বিশ্রামে। ইরফাদের প্রতিকদম পদচিহ্নের দাপটে যেনো পুড়িয়ে ভস্মিভূত করে দিচ্ছে। কঠিন, কঠোর ইরফাদের বিধ্বংসী গলার স্বর কোমল হয়ে আসে,
-- লাইট অন করোনি কেনো সিনথি?
নিরব, নিস্তব্ধ, নিস্তেজ শরীরে সিনথিয়া চোখদুটোকে টেনে টেনে খোলে। তপ্ত একটা শ্বাস টেনে বলে,
-- বিদ্যুৎ অফ, অলটারনেট দেয়া। তবে লাইটগুলো নষ্ট করে দিয়েছে ওরা। ওদের কাছে যা ছিলো, যতোটুকু ওদের প্রয়োজন ততোটুকুই জ্বেলেছে। বাকিগুলো বাবা অফ করেছে প্রয়োজনে।
-- শ্যুট করেছো কাউকে?
-- হুউউউ।
--কয়টা বু!লে!ট ইউজ করেছো?
--আপনার রিভলভারের একটাও নেই আর। ওরা অনেক অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিলো। পরবর্তীতে ওদের গুলো ইউজ করা হয়েছে।
-- রুমে বসবে কিছুক্ষণ, ওকে?
-- ওরা এখনো অনেকজন। কারো কাছে রিভলভার নেই। সব ধারালো অ!স্ত্র? আপনি....
--ডোন্ট প্যানিক!
টুম্পা ঠিক আছে?
-- হুমম।
মাফিয়াদের মধ্যে একাংশ পালাতে চায়। মাফিয়া বস ছাদের সিড়িতে দাড়ায় ধারালো অস্ত্র হাতে।
-- একটাও বের হবি না। তাহলে পিছ পিছ করে কাটবো। এসপিকে দেখে মা** হয়ে গেছোস? শা!লা!র শাড়ি চুড়ি পইড়া থাকা উচিত তোদের।
অনিচ্ছাকৃত ভাবে মাফিয়া দল ঘুরে দাঁড়ায়। ইরফাদ উপরে উঠে সিনথিয়াকে নিজের রুমের বিছানায় বসিয়ে দেয়। কঠিন, কঠোর, নিষ্ঠুর, নির্মম শয়তানের বিনাশকারী, প্রাণনাশকারী ইরফাদ প্রিয়জনদের বেলায় কোমল। সিনথিয়ার ঘনচুলভর্তী মাথায় আরেকবার ভরসার পরশ,
-- আরেকটু সময় হুমম! আসছি।
ইরফাদের হাতে একটা শক্তপোক্ত হকিস্টিক,নির্মম,নিষ্ঠুর বিনাশের জন্য সে প্রস্তুত। দাপটে দাপটে ঝড়। সিনথিয়া তড়িঘড়ি করে বলে ওঠে,
-- আল্লাহ্! ওদের হাতে ধারালো অস্ত্র। এভাবে যাবেননা।
ভারী রিভলভারটা আঙুলের মধ্যে ধরে ঘুড়াতে থাকে ইরফাদ। ঠোঁটটা হালকা বাকিয়ে বলে,
-- একটা বুলেট ও আর খরচ হবে না।
ওরা আজ আমার কাছে মৃত্যু চাইবে! মৃত্যু!!!
সহসাই ঝড়ের বেগে উড়ে আসে মাফিয়ার দল। আবছা আলোও তাদের হুংকার, তেজ। ধারালো অস্ত্রের মাথার ঝলকানি। একসাথে আঘাত করে মাফিয়া দল। হকিস্টিকে সে আঘাত রুখে ইরফাদ। তেজস্বী চোখ, গলার গর্জন, ভারী শক্ত পায়ের নিষ্ঠুর, নির্মম আঘাতে আস্ত যুবক ছিটকে পড়ে। দেয়ালে বারি খায় তার মাথা। ধারালো চাপাতি ছিটকে পড়ে ধবধবে টাইলসে,ঝনঝন করা ধারালো অস্ত্রের সাথে কেঁপে ওঠে দূর্বল মাফিয়ার হৃদয়। শক্তিধর অশুভ শক্তির পক্ষ থেকে প্রবল আঘাত ধারালো অ!স্ত্রে!র। এক পা পিছিয়ে যায় ইরফাদ। চাপাতির ধারালো অংশ চোখের এক চিমটি দূর দিয়ে ঘুরে যায়। ছুটে যাওয়া ধারালো অ!স্ত্রের সাথে হালকা নুইয়ে পড়ে মাফিয়া। সাথে সাথে ইরফাদর নিষ্ঠুরতম আঘাত। যেনো ফুল টাচ বল" ব্যাটের আঘাতে বাউন্ডারি পার। ছিটকে পড়ে মাফিয়া। আরেকজন হাওয়ার বেগে ছুটে আসছে,হাতে ভারী অস্ত্র, মুখে গর্জন, ইরফাদের গতি মন্থর। দাঁড়িয়ে থাকে ন্যানোসেকেন্ড। পিছিয়ে যায় এক পা। হকিস্টিকের একপ্রান্ত শক্ত করে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে হাঁটুর নিচে আঘায় করে, নিজেকে সরিয়ে নেয় পাশে। মুখ থুবরে পড়ে মাফিয়া। সিনথিয়া বিছানার শেষ প্রান্তে বালিস সামনে ধরে বসে থাকে। মুখ থুবরে পড়া মাফিয়ার গলার উপর পা চেপে ধরে ইরফাদ। গুরুগম্ভীর ইরফাদের গলায় চাপা গর্জন,
--কে পাঠিয়েছে?
পায়ের তলায় পৃষ্ঠ মাফিয়ার শ্বাস রোধ হয়ে আসে। আরেকজন তেড়ে আসে। দক্ষ হাতে ইরফাদ তুলে নেয় ধারালো অস্ত্র, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাত। তবুও লক্ষ ভেদ হয়। মাফিয়ার চাপাতির আঘাত ছুঁয়ে যায় ইরফাদের টি শার্ট, বুকের কাছটায় কালো রঙের শার্টটা ভেদ করে বের হয় সাদা চামড়া,একটা ছোট ক্ষত, এরপর টুপ টুপ করে ঝরে র!ক্ত। সিনথিয়ার চিৎকার, ব্যাথাতুর পায়ে উঠে আসার তীব্র আক্রোশ, থামিয়ে দেয় ইরফাদ। চাপা স্বরে বলে,
--"শশশ"কুল, কুল!
পরবর্তী ইরফাদ আঘাত হানে ভয়ংকর, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ছিটকে পড়ে মাফিয়ার হাত। র!ক্তে!র বৃষ্টি, র!ক্তের ফোয়ারায় ভাসতে থাকে সাদা টাইলস। নিস্তব্ধ, নিরব চোখে নির্মম পরিহাস দেখে মাফিয়া। হাতটা তার আয়ত্বে নেই। ছিটকে লাফাচ্ছে দূরে। চোখ থেকে খসে পড়ে গরম জল। বুকের কাঁপন বাড়ে। নিষ্ঠুর, নির্মম আঘাতকারীর দিকে তাকায় মাফিয়া। থরথর কাঁপতে থাকা পায়ে পিছিয়ে যায় মাফিয়া। ইরফাদের পায়ের দাপট, গলায় ঝংকার,
-- কে পাঠিয়েছে? কে?
পায়ের তলায় পৃষ্ঠ মাফিয়া ফোসফোস করে, সামনের জন অবলিলায় বলে,
-- প্রভাতরঞ্জন।
নামটা শুনেই রাতের দৃশ্যপটে চোখ বুলিয়ে নেয় ইরফাদ। তার পরে নিগূর কন্ঠস্বরে ফুটে ওঠে উপহাস,
-- প্রভাতরঞ্জন?
-- হ্যাঁ তোর র!ক্ত দিয়ে লিখবো আমাদের জীবনের নতুন পথ।
দুলে দুলে দরজা দিয়ে ঢুকছে মাফিয়া বস। যার ঠোঁটের কোণে পৈচাশিক হাসি। কড়া পড়া হাতে চাপাতি। অন্যহাত নিরব। গলায় গর্জন,
-- এই মার ওরে।
গলার স্বরে ঝংকার শেষ না হতেই পেছন থেকে একদম মাফিয়া ধাওয়া করে আসে। ইরফাদের দক্ষ হাত এক এক করে মাটিতে সবগুলোকে শুকনা পাতার মতো বিছিয়ে ফেলে। সবগুলো আধমরা দেহের উপর দিয়ে ঝড়ের দাপটে হাঁটে ইরফাদ। পিছিয়ে যায় মাফিয়া বস। এক দুই তিন এভাবেই পা চালিয়ে দৌড়াতে থাকে। প্রলয়ের সুর তুলে পিছু নেয় ইরফাদ। হকিস্টিকের শক্ত আঘাত প্রথমেই মাথার পেছনে, এরপরে ছিটকে পড়ে মাফিয়া। শক্ত মোটা রশিতে বাঁধে মাফিয়ার পা। তারই পরনের শার্ট ছিড়ে গুজে দেয় তার ই মুখে। একে একে সবগুলো আধমরা প্রাণগুলোকে রশিতে বাঁধে ইরফাদ। নির্মম, নিষ্ঠুর ইরফাদ আধমরা জ্ঞানহীন মাফিয়াগুলোকে রশিতে বেঁধে সারি ধরে বসায়, মুখে গুজে দেয় কাপড়ের টুকরো। অতঃপর মোমবাতিতে আলো জ্বেলে পায়ের তলায় এক এক করে ধরে। দানবীয় শরীরের মাফিয়া গুলো চিৎকার করে ওঠে,সে চিৎকারের আওয়াজ বাঁধা পায় মুখভর্তি কাপড়ে। ইরফাদ ধীর পায়ে ঢুলে ঢুলে হাঁটে। এক এক করে ধারালো ছু!ড়িতে কেটে নেয় একজন একজন করে সবার আঙুল। সবগুলো জড় করে ঝুড়িতে। র!ক্ত চুইয়ে চুইয়ে পড়ে ঝুড়ি থেকে। গগনবিদারী চিৎকারে ফেটে পড়ছে ইরফাদের অন্দরমহল। ইরফাদ চেয়ার টেনে আয়েশী ভঙ্গিতে বসে,
-- তোদের মধ্যে কে সিনথিকে ছুঁয়েছিস? কে?
আতঙ্কে মাফিয়াদল কুকড়ে যায়, ভয়ানক শাস্তির ভয়ে একজোটে তাকায় মাফিয়া বসের দিকে, মাফিয়া বস এলোপাথাড়ি মাথা নাড়ায়। "আমি না। আমি নাহ।"
ইরফাদ আয়েশী ভঙ্গিতে আকাশ পানে মুখ করে থাকে কিছুক্ষণ এরপরে একদলা থু থু ছুড়ে মারে মাফিয়ার দিকে। অতঃপর চোখের পলক ফেলার আগে ধারালো চাপাতি ছুড়ে মারে মাফিয়ার হাতের দিকে। হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শরীর থেকে রক্ত ছিটকে ওঠে বিচ্ছুরিত পানির মতো। একটা লোহার শেকলে সকল মাফিয়ার পা একজোট করে বাঁধে ইরফাদ। কয়লা একজায়গায় স্তুপ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তাতে, এর পরেই শক্ত শেকল টেনে ধরে আরেকবার বসে আয়েশ করে। দগ্ধ আগুনে পা পুড়ে পুড়ে গগনবিদারী চিৎকার দেয় মাফিয়াদল। জবাই করা পশুর মতো তীব্র ঝাকি দেয় তারা। ইরফাদ শেকল শক্ত করে ধরে রাখে আর বলে,
-- আরো মেয়ে লাগবে? শুতে চাস আরোও।
হাসফাস গলায় অস্পষ্ট স্বরে সবাই যেনো একযোগে বলে,
--আমাকে মৃ!তু্য দিন।
ইরফাদ ঠোঁট বাকিয়ে হাসে, আর তরপাতে থাকা শেকলের ঝাকুনি আরোও শক্ত হাতে ধরে।
*
*
*
কয়েক মিনিট পর, সকল নেটওয়ার্কের সমস্যা সমাধান করে বাসার ফোন থেকে থানায় ফোন করে ইরফাদ,
-- বাসায় রক্ষকবেশে কিছু ভক্ষক ঢুকেছিলো। কয়েকটা পরপারে চলে গেছে। বাকিগুলোকে নিয়ে যেতে হবে।
এতটুকুর পরেই রুস্থান কবীরের ফোন,
-- তুমি তো তোমার ডিউটিতে ছিলে ইরফাদ! কখন ফিরলে?
-- পুলিশ যদি আমার বাসায় ভক্ষক বেশে আসে আমি না ফিরলে চলে?
--ফেরার পথে ফোন কেনো করোনি?
--ফোন ডেথ।
নিরব কন্ঠে সুধায় রুস্তান কবীর,
-- এনকাউন্টার করেছো?
--নো স্যার!
-- তাহলে, ডেথ বডির কথা বলেছো যে?
-- আমার ওয়াইফ আত্মরক্ষার জন্য করেছে।
-- সত্যিই তুমি করোনি?
-- যদি করার হতো তাহলে বাকিগুলো বেঁচে থাকতো না স্যার! আমার বাবাকে আঘাত করেছে, আমার বাসায় ছোট একটা বাচ্চা আছে তাকে ছুড়ে ফেলেছে, আমার ওয়াইফকে স্পর্শ করার পরেও আমি তাকে বাঁচিয়ে রেখেছি স্যার। যদি আমি এনকাউন্টার করতাম তাহলে ওকে আগে মারতাম। তবে যতোটুকু করেছি এতেই ওরা মৃত্যু চাচ্ছে।
--কি করেছো তুমি?
--হাত কেটে দিয়েছি। পা জ্বালিয়ে দিয়েছি।
-- ইরফাদ!
-- মেয়েটা আমার ভালোবাসার লিখিত দলিল। সেখানে যারা হাত দিয়েছে তাদের জন্য এটা খুব সামান্য শাস্তি স্যার! আমার ফ্যামিলিতে সবাই বিধ্বস্ত। ওদের হসপিটালাইজড করতে হবে। রাখছি।
*
*
*
*
বাকি রাত হাসপাতালেই কাটে ইরফাদের পরিবার। রক্তিম স্বর্ণালী আভা, হাসপাতালের কেবিনের জানালা গলিয়ে রোদ পড়েছে মেঝেতে। কেবিনের দুপাশে দুটো বেড। সিনথিয়া শুয়ে আছে একপাশে,অন্যপাশে টুম্পার পাশে ইভা। বাচ্চা মেয়েটার জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। আর বাচ্চা কন্ঠে শোনা যাচ্ছে একই কথা,
-- পাপা। পাপা। পাপাল কাছে যাবো।
একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে ইভা ইরফাদের কাছে যায়,
--ভাইয়া। ওর জ্বর নামছে না।
-- ধৈর্য্য ধর। সব ঠিক হয়ে যাবে।
-- একটা কথা বলতে ভয় লাগছে। কোনো ভাবে ওকে ওর পাপার সাথে....
-- তোকে একটা কথা বলা হয়নি। A major accident happened. যদিও আসামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টা মাত্র কয়েকজনের মধ্যে রাখা হয়েছে। তবে ঐরাতে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রভাতরঞ্জনের দলবল রাফসানকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। রাফসান যেহেতু অনুতপ্ত ছিল আর হয়তো অন্য কিছু একটা চিন্তা করে সে যেতে চায়নি। উল্টো তারা যেন পালাতে না পারে এজন্য তাদের বাঁধা দিতে থাকে। Suddenly the Pravatranjan's team seriously hit him when they saw such a change in Rafsan. Rafsan's condition is quite serious now.
--মানে? ঠিক আছে ও?Where is Rafsan?
--There has been a lot of bleeding. He is currently kept in life support. Is not going to say anything about Rafsan's physical condition.
বুকের একপাশটা কেমন যেনো ধূ ধূ করে ওঠে ইভার। সবটা শেষ হয়ে যাচ্ছে? শূন্য হয়ে যাচ্ছে সব?
চলবে?
সবাই ফলো দিয়ে রাখুন যাতে খুঁজে পেতে সুবিধা হয়।
Al-jazeera 💚🇵🇸
13/04/2025
#তোমাতেই_আসক্ত
#পর্ব:৪৭
#তানিশা সুলতানা
আদ্রিতার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। সিয়াম ভাইয়ের সামনেই চুমু খেয়ে বসবে না কি?
যে নির্লজ্জ মানুষ করতেও পারে। তাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। ভাবনা খানা মাথায় চাপতেই দুই হাতে ঠোঁট চেপে ধরে। ঘূর্ণিঝড় হয়ে গেলেও হাত সরাবে না। এ্যানি আবরারের কন্ঠস্বর শুনতে পেয়েই মাথা তুলেছে। মিউ মিউ আওয়াজ তুলে কাছে ডাকছে। এখন সে কোলে উঠবে, আবরারের বুকে নাক ঘসবে। এই তো তার কাজ৷
আবরার ভ্রু কুচকে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে। পরপরই ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে
"সিয়াম তোর মাকে বলে দে
কিস করার মুড নেই এখন। ইন্টিমেট হতে পারবো না।
আদ্রিতা চমকায়৷ সিয়ামও ছোট ছোট নয়নে তাকায় আবরারের মুখ পানে৷ ইচ্ছে করছে চিৎকার করে বলতে "ভাই তোর বউ আমার মা হয়। তার সামনে লাগামহীন কথা বললে আমি লজ্জা পাই। প্লিজ মুখে ফুলস্টপ টান"
কিন্তু বলতে পারে না। আদ্রিতা সামনে রয়েছে কি না?
"তু....তুই থাক।
আমি গেলাম
বলেই সিয়াম বেরিয়ে যায়। যেতে যেতে কবিতা আবৃত্তি করতে ভুলে না
" হাই রে কপাল ফাঁটা
আবরার তাসনিন নোবেল প্রাপ্ত নির্লজ্জ বেডা
এর সাথে আমি আর থাকবো না
ইশারাকে নিয়ে যাবো ভেগে
যদি সে না দেয় পাত্তা
তবে আমি করে ফেলবো আত্নহত্যা
সিয়াম বেরিয়ে যেতেই আদ্রিতা উঠে বসে। করুণ নয়নে আবরারের পানে তাকিয়ে বলে
"আমি আপনাকে ছেড়ে যেতে চাই না। প্লিজজ আমার ব্যাপারে একটু সিরিয়াস হন।
আবরার এ্যানিকে কোলে তুলে নিয়ে বলে
"কোথায় যাবে? পৃথিবীর বাইরে চলে গেলেও আমি খুঁজে বের করবো।
আহহা হৃদয় খানা পুলকিত হয়ে ওঠে আদ্রিতার। আবরার তাসনিন তাকে কখনোই ছাড়বে না। সারাজীবন রেখে দিবে। কথা খানা জানে সে তবুও আবরারের মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে হয়। তাই বড়ই আহ্লাদী স্বরে বলে
" কেনো খুঁজে বের করবেন?
"কজ ইউ আর ভেরি হট এন্ড সে***ক্সি।
এতোক্ষণ আসমানে উড়তে থাকা রঙিন প্রজাপতি গুলো ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দেয়। আদ্রিতার হাসিমাখা মুখ খানায় ভর করে এক রাশ হতাশা এবং রাগ।
নাকের পাটাতন ফুলিয়ে বলে
" আমি হট এবং সে****ক্সি বলে খুঁজে বের করবেন?
এ্যানির মাথায় চুমু দিয়ে আবরার জবাব দেয়
"ইয়েসসস। আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
ফোঁস করে শ্বাস টানে আদ্রিতা। ঝাঁঝালো স্বরে বলে
" একদিন হারিয়ে ফেলবেন আমায়। তখন আফসোসে আফসোসে পাগল হয়ে যাবেন। হট ফট এর কথা মাথায় আসবে না।
কথা গুলোতে কি ছিলো? আবরার তাসনিন এর হৃদয়ে আঘাত হানে। কপালে ভাজ পড়ে। ছোট ছোট বিলাই চোখ মেলে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে। আদ্রিতা তাকিয়েই ছিলো বিধায় চোখাচোখি হয়ে যায় দুজনার।
নীলাভ ওই চোখের ভাষা পড়তে পড়তে আবরার জবাব দেয়
"আমি বেঁচে থাকতে তুমি হারাবে না। ইটস নট পসিবল
একটু থেমে আবার বলে
"পাখি তুমি ভীষণ বাজে ভাবে ফেঁসে গিয়েছো আবরার তাসনিন এর জালে। মৃত্যু ছাড়া আমাদের বিচ্ছেদ অসম্ভব।
কথা শেষ করার আগেই আবরার এর কল বেজে ওঠে। স্কিনে অহনা নামটা ভেসে উঠেছে। অহনা হ্যাভেন কখনোই তাকে কল করে না।
চিন্তিত দেখায় আবরারের মুখ খানা। চটজলদি কল রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে অহনার কান্না জড়িত কন্ঠস্বর
" ভাইয়া আমার বাচ্চা রেসপন্স করছে না। প্লিজ ডু সামথিং
বোন, বোনের বাচ্চা ওদের প্রতি যত্নশীল নয় আবরার। কখনোই বোনকে বুকে জড়িয়ে ধরে নি। ভালো করে দুটো কথাও বলে নি।
কোনো আবদার মেটায় নি। বোনের সন্তানের পানেও ভালো করে তাকানো হয় নি। আবরারকে যদি প্রশ্ন করা হয় "অহনার কি ছেলে সন্তান হয়েছে না কি মেয়ে?"
জবাব দিতে পারবে না সে।
তবে আজকে অহনার কান্না ভেজা কন্ঠস্বর হৃদয় নারিয়ে দেয়। বুকের ভেতরটা অসহ্য যন্ত্রণায় কাঁপতে থাকে।
শুকনো ঢোক গিলে বলে
"আমি আসছি।
ব্যাসস কোল থেকে এ্যানিকে নামিয়ে বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে যায় আদ্রিতার কেবিন থেকে। একবার পেছন ফিরে তাকালে হয়ত দেখতে পেতো একটা চিন্তিত মুখশ্রী। কান্না ভেজা আঁখি পল্লব। হারিয়ে ফেলার ভয়ে জর্জরিত ছোট্ট দেহখানা।
___
আবরার বেরিয়ে যেতেই আদ্রিতার কাছে আতিয়ার কল আসে। হাসপাতালের একজন নার্স ফোন ধরিয়ে দেয় আদ্রিতার কানে। কথা হয় দীর্ঘক্ষণ। তারই মাঝে অনুভব করে ঘাড়ে কিছু ঢুকছে। তারপর আর কিছু মনে নেই। প্রচন্ড ঘুম পেলো। আতিয়া বেগম এতো এতো কথা বলছে সেসব ঢুকলো না তার কানে। হাত ফঁসকে ফোন খানা পড়ে গেলো ফ্লোরে।
টনি এবং আরিফ ঢুকে পড়ে কেবিনে। নার্সের হাতে দুই বান্ডিল টাকা ধরিয়ে হুকুম করে আদ্রিতাকে হাসপাতাল থেকে বের করার। টাকা লোভী নার্স খুশি হয়ে মেনে নেয়। বলে পাঁচ মিনিটে
হাসপাতালের সামনে পেয়ে যাবেন।
তারপর নার্স একজন ওয়ার্ডবয়কে ডাকে। সে ঘুমন্ত আদ্রিতাকে কোলে তুলে নেয় এবং হাসাপাতালের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়।
এ্যানিও পেছন পেছন চলে যায়। সিয়াম সবেই হাসাপাতালে আসলো। সে গিয়েছিলো কফিশপে একটু গলা ভেজাতে।
এ্যানিকে পেছনের দরজার পানে ছুটতে দেখে সেও সেইদিকে যায়। গিয়ে দেখে আদ্রিতাকে গাড়িতে তোলা হচ্ছে।
সিয়াম কোনো কিছু না ভেবেই দৌড় দেয় উদ্দেশ্য গাড়ি ধরতে হবে। যে করেই হোক। হাতে থাকা খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকে সেখানেই। যেটা আদ্রিতার জন্য এনেছিলো।
এ্যানি গাড়ির পেছনে দৌড়াচ্ছে৷
দীর্ঘ এক কিলো দৌড়ানোর পরে রেড সিগনালে আটকে পড়ে গাড়ি। সেই সুযোগে সিয়াম এবং এ্যানি পৌঁছে যায়। গাড়ির জানালা বরাবর ঘুষি মেরে দেয়। মুহুর্তেই সব কাচ ভেঙে গুড়িয়ে যায়৷
সিয়াম আরিফ এর সামনে দুই হাত জোর করে বলে
"আংকেল প্লিজজ আদ্রিতাকে নিয়ে যাবেন না। আমার আবরার মরে যাবে। আপনার মেয়েকে ছাড়া সে দুই মিনিটও থাকতে পারে না।
আরিফ মাথা নিচু করে ফেলে। যেনো তার কিছু বলার নেই। গাড়ির সামনে বসেছে টনি৷ সে কুটিল হেসে বলে
" তোর আবরারকে মারতেই তো চাচ্ছি৷ দেখে যা শুধু
তোরা আমাকে যেভাবে নাচিয়েছিস এবার তোদেরও ঠিক সেভাবে নাচাবো আমি।
সিয়াম এতোক্ষণে খেয়াল করলো টনিকে। মুহুর্তেই রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রেড সিগনাল চলে যায়। গাড়ি স্ট্রাট দেয়। সিয়াম শক্ত করে গাড়ির জানালা চেপে ধরে। এবং সমান তালে দৌড়াতে থাকে। জুতো জোড়া বহুক্ষণ আগেই খুলে গিয়েছে। পিচ ঢালা রাস্তার ঘর্ষণে চামড়া উঠে যাচ্ছে। তবুও সেসবকে পাত্তা দিচ্ছে না। মরে গেলেও আদ্রিতাকে একা ছাড়বে না। কোথাও যেতে দিবে না।
আরিফ বলে
"ছেড়ে দাও গাড়ি। এক্সিডেন্ট করবে তুমি।
সিয়াম ব্যাথাতুল স্বরে বলে
"আমি মরে গেলেও ছাড়বো না। আদ্রিতাকে নিয়েই ফির
বাকিটা শেষ করার আগেই নজর পড়ে রাস্তার পানে৷ এ্যানি দৌড়াতে দৌড়াতে একটা গাড়ির নিচে পড়লো। ভাগ্য সহায় ছিলো বোধহয় তাই কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু পেছনে আরও গাড়ি রয়েছে। সিয়াম এর হাত কেঁপে ওঠে। ছেড়ে দেয় গাড়ির জানালা। পড়ে যায় পিচ ঢালা রাস্তায়। কিন্তু থেমে থাকে না। পূণরায় উঠে দৌড়ায় এ্যানিকে বাঁচাতে। মাঝ রাস্তায় হামাগুড়ি গিয়ে বসে কোলে তুলে নিয়ে যায় ছোট্ট প্রাণীটিকে। তখনই একটা ব্যস্ত গাড়ি এসে ধাক্কা মারে সিয়ামকে। ছিটকে পড়ে সে। এ্যানি পড়ে রয় রাস্তায়। তারর দেহখানার ওপর দিয়ে বয়ে যায় গাড়ির চাকা। মৃদু স্বরে মিউ মিউ আওয়াজ তুলতে তুলতেই ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায় তার শরীর।
চলবে
তোমাতেই আসক্ত নিয়ে আলোচনা করতে জয়েন হয়ে যাও এই গ্রুপে
13/04/2025
#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে (২০)
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
নিস্তব্ধ রাত। আঁধারে ঢাকা আকাশ। প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ে এক বীরপুরুষের নির্ভীকতার পরিচয় জ্ঞাপন। এবার প্রতিত্তোরের প্রতীক্ষা।
ভাবাবেগ শূন্য তাজ। চেহারার রঙ বিবর্ণ হলো না, চোয়াল শক্ত হলো না। মন-মেজাজ বিক্ষিপ্ত হওয়ার পরিবর্তে শান্ত ছেলের মতো শার্টের বোতাম খুলতে ব্যস্ত হলো৷ যেন শুভ্র'র কথা কানেই পৌঁছায় নি। তাজের মৌনাবলম্বন অবস্থা দেখে শুভ্র 'র মাথায় দুশ্চিন্তা চাপলো। নৌমিকে ভালোবাসে বলার বদলে অন্য কোনো মেয়ের নাম নিয়ে ফেলে নি তো!
তাজ হালকা রঙের একটা টিশার্ট পরে ওয়াশরুমে চলে গেল। এদিকে শুভ্র'র মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে। তাজের রিয়াকশন নেই কেনো? তাজ কি কিছু শুনে নি! বাকি কথা শুনলে এই কথা কেনো শুনবে না?
দূর-দূরান্তের দুই-একটা মসজিদে ফজরের আজান দিচ্ছে। তখনই তাজের ফোনে নৌমির কল এলো। ফোন ভাইব্রেট হতেই শুভ্র ফোন হাতে নিল। মুসকান নামের সাথে নৌমির শাড়ি পরা সুন্দর একটা ছবি সেট করা। শুভ্র'র মেজাজ চরম মাত্রায় খারাপ হলো। ক্ষণিকের ব্যবধানে তাজের উপর রাগ তীব্র হতে লাগল। কল রিসিভ করে ফোন কানে ধরতেই ওপাশ থেকে নৌমি বলল,
"সরি, তোমাকে ধন্যবাদ দিতে মনে ছিল না। অনেক অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। দোয়া করি তোমার মনের সব ইচ্ছে পূরণ হোক, আমিন।"
শুভ্র দাঁতে দাঁত পিষছে। নৌমি ফের বলল,
" বলো আমিন।"
শুভ্র আমিন বলছে না। উল্টো নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। দুচোখ রক্তাভ। চাউনিতে পরিষ্কার রুষ্টতা। তাজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এক ঝটকায় শুভ্রর হাত থেকে নিজের ফোন কেড়ে নিয়ে রাগান্বিত কণ্ঠে চ্যাঁচিয়ে উঠল,
" কাকে কল দিয়েছিস?"
" আমি কাউকে কল দেয় নি।"
নৌমি আমতা আমতা করে বলল,
" হ্যালো।"
তাজ স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
" হ্যাঁ, বল।"
" আমিন বলতে বলেছি তোমাকে।"
তাজ আগেপিছে না ভেবেই বলে দিল,
" আমিন। কিন্তু কেনো?"
" আগে কি বলেছি শুনো নি তুমি?"
" না। আবার বল।"
"এক কথা বার বার বলতে ভালো লাগে না।"
" ঘুমাস না কেনো?"
" ঘুম উড়ে গেছে নীল আকাশে।"
" ভণ্ডামি রেখে ঘুমাতে যা।"
শুভ্র খড়খড়ে গলায় তাজকে ধমক দিল,
" নিজে ভণ্ড অন্যকে কি সাজেশন দেস তুই?"
শুভ্র'র কথা শুনে নৌমি মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করল,
" শুভ্র ভাইয়া কি সজাগ? "
" হ্যাঁ।"
" ভাইয়াকে ফোনটা দাও তো।"
" কেনো?"
" আরে দাও তুমি।"
তাজ অনিচ্ছা স্বত্তেও শুভ্র'র হাতে ফোন দিল। শুভ্র মৃদুস্বরে আওড়াল,
" কি ব্যাপার?"
" তুমি নাকি সকালে বিয়েতে যাবে?"
" হ্যাঁ৷ তোমায় কে বলল?"
" তামজিদ ভাইয়া বলেছে। তা কখন যাবে?"
" ১১ টার দিকে।"
নৌমি কৌতুহলী কণ্ঠে আওড়াল,
" সেইজন্য ই কি ভোররাতে উঠে বসে আছো?"
" না, সেজন্য না। রাতে কল দিয়েছিলে আমাকে?"
নৌমি আশ্চর্য চোখে চাইল। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর তৎক্ষনাৎ নিভে এলো৷ কি উত্তর দিবে। এত রাতে কল দেওয়ার কারণে তাজ যে ইচ্ছেমতো ঝেড়েছে সেই কথা তো শুভ্রকে বলা যাবে না। যদি বলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য কল দিয়েছিল তাহলে তো আরেক বিপদ। দুই দিন পর যদি মাঝরাতে কল দিয়ে বলে, "চলো ঘুরে আসি!" তখন কি বলবে। তাজ তো গলা টিপে মেরেই ফেলবে। নৌমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল৷ গলা ঝেড়ে শান্ত গলায় বলল,
" হ্যাঁ, তোমার খোঁজ নেওয়ার জন্য কল দিয়েছিলাম। তারপর তামজিদ ভাইয়া বলল তুমি ঘুমে তাই আর বিরক্ত করি নি৷"
" ওহ আচ্ছা।"
" শুভ্র ভাইয়া, শুনো।"
" হুমমম বলো।"
" তুমি না বলেছিলে আমাদের সবাইকে নিয়ে ট্যুরে যাবে।"
" হ্যাঁ যাব তো! বিয়ের ঝামেলা মিটিয়ে আসি তারপর যাব।"
তাজ গম্ভীর কণ্ঠে আওড়াল,
" কোথায় যাবি?"
শুভ্র ঠোঁটের কোনে হাসি টেনে বলল,
" সে কথা তোকে বলবো কেনো? আমার আর নৌমির সিক্রেট প্ল্যান।"
তাজ সঙ্গে সঙ্গে কপাল কুঁচকালো। শুভ্র'র থেকে ফোন নিতে চাইল। কিন্তু এবার আর পারলো না। শুভ্র শক্ত হাতে ফোন ধরে রেখেছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। তাজ অগ্নি চোখে শুভ্র'র দিকে তাকালো। কিছু না বলেই বারান্দায় চলে গেলো। নৌমির রুমে এখনও আলো জ্বলছে। ভারী পর্দা ভেদ করেও তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। কাঁচের জানালার এক পার্ট খোলা। তাজ কণ্ঠস্বর দ্বিগুণ ভারী করে জোরে চিৎকার দিল,
"নৌমি, ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রুমের আলো না নিভলে তোর সব প্ল্যানের ১২ টা বাজাবো আমি।"
কথা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পূর্বেই রুমের আলো নিভে গেল। তাজ তখনও বারান্দায় দাঁড়ানো। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানালার পর্দা কিছুটা সরে গেলো। নৌমির উত্তর এলো,
" ১০ মিনিটের মধ্যে তুমি না ঘুমালে আমিও মামাকে বিচার দিব।"
কথাটা বলেই পর্দা ছেড়ে দিল। তাজ মুচকি হেসে রুমে ঢুকল। শুভ্র'র হাতে তাজের ফোন। নৌমি কল কেটেছে অনেকক্ষণ আগে। শুভ্রর মুখ গোমড়া অথচ তাজের মুখে বিশ্বজয়ের হাসি৷ শুভ্র বিছানায় হেলান দিয়ে তপ্ত স্বরে আওড়াল,
" তোকে কি বলেছি! শুনিস নি?"
তাজের সাদামাটা জবাব,
" শুনেছি।"
"কিছু বললি না যে!"
"কি বলব!"
" আমি নৌমিকে ভালোবাসি। এই ব্যাপারে কিছুই বলার নেই তোর?"
তাজ ছোট করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
" যে নিজেকে ভালোবাসতে পারে না, তার অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে লক্ষকোটি বার ভাবা উচিত। তুই এখনও ১০ বারই ভাবিস নি৷ সময় নে, ধৈর্য ধর লক্ষকোটি বার চিন্তা কর। তারপর মনকে জিজ্ঞেস করবি, নিজেকে ভালোবাসতে পেরেছিস কি না!"
"কি বলতে চাচ্ছিস?"
" আমি কি বলতে চাচ্ছি সেটা বুঝার বয়স তোর হয়েছে, শুভ্র। আবেগে ভেসে নিজের জীবনের সাথে সাথে একটা নিষ্পাপ জীবনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করিস না। আগে নিজে মানুষ হ তারপর..! "
" আমি কি অমানুষ?"
তাজ মুচকি হেসে বলল,
" তুই যা ঠিক মনে করিস।"
"মানে?"
তাজ আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লো।
★
নৌমি ঘুম থেকে উঠে না খেয়েই ভার্সিটিতে চলে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে আজ। শুভ্র, সুমিরা তাদের কাজিনের বিয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পার্কের এক কোনে তাজ বসে আছে। টিউশনে থাকাকালীন নিলু কল দিয়েছিল। দেখা করার জন্য খুব করে রিকুয়েষ্ট করছিল। নিলুর কথা মতোই পার্কে উপস্থিত হয়েছে। কিছুক্ষণ বাদেই নিলু এসেছে। তাজ দুচোখ বন্ধ করে বসে আছে। নিলু তাজের কাঁধে হাত রাখতেই চমকাল তাজ। ঘাড় ফিরিয়ে চাইল একবার৷ মৃদুস্বরে বলল,
"এসো।"
নিলু জিজ্ঞেস করল,
" কখন এসেছো?"
" ২০ মিনিট হতে চলল।"
" সরি, একটু দেরি হয়ে গেলো।"
" নো প্রবলেম। বলো।"
" আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ের তারিখ ঠিক হবে।"
তাজের হৃদপিণ্ডটা ধপ করে উঠল। বক্রদৃষ্টিতে নিলুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
" এই কথা শুনাতে এসেছো আমায়?"
" তুমি কিছু করো নয়তো বিয়েতে দাওয়াত খেতে এসো।"
" বাহ! কি অসাধারণ কথা। আমি বার বার বলেছি তোমাকে আংকেলের সাথে কথা বলি আমি। কিন্তু না! তুমি সবসময় আমাকে আঁটকে রেখেছো। কথা বলতে দাও নি৷ বার বার বলেছো পারিবারিকভাবে সম্বন্ধ না আসলে তোমার কিছুই করার নেই।
একটা বার কথা বলার সুযোগই দিচ্ছো না। তোমার আব্বু আমার মতো জবলেস ছেলের কাছে বিয়ে দিবেন কি না সেটাও তো আমার জানা দরকার। আমার বাবাকে নিয়ে গেলেই যে ওনি রাজি হবেন সেটাও তো নিশ্চিত নয়। আমার আব্বু যে অসুস্থ এই খেয়াল কি তোমার আছে?
এতদিনে এসে বলছো কিছু করার হলে করতে!"
"তুমি আমার আব্বুকে চিনো না, তাজ।"
" তোমার আব্বুকে আমি খুব ভালো মতো চিনি। বরং দিনকে দিন তোমাকে আমার অচেনা লাগছে! তুমি কি সত্যিই সেই নীলু? যে আমার পেছনে পাগলের মতো ছুটতো। আমাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য দেওয়ানা হয়েছিল। আজ কোথায় গেলো সে?
ইচ্ছে হলে যোগাযোগ করো, ইচ্ছে হলে দিনের পর দিন ফোন বন্ধ করে রাখো। তুমি কি আদোও আমাকে বিয়ে করতে চাও?"
নিলু অন্যদিকে মুখ করে নিভু নিভু কণ্ঠে বলল,
" আমি বাসায় কিছু বলতে পারব না। আব্বুর চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস আমার নেই।"
" তোমার বলতে হবে না। আমি কথা বলি?"
" নাহ। তোমাকে প্রথম প্রশ্নটায় করবে, তোমার যোগ্যতা কি? কি উত্তর দিবে তুমি?"
" আমি ৩ টা পরীক্ষার রিটেন দিব। ২ টার ভাইবা দিব৷ ইনশাআল্লাহ সবকিছু ঠিক থাকলে একটা না একটা চাকরি হবে আমার।"
" এখন তো তুমি বেকার।"
তাজ জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে প্রশ্ন করল,
" তবে কেনো এসেছো আমার কাছে? কি চাও তুমি?"
" আমি শান্তি চাই তাজ। শান্তি!"
তাজ উঠে দাঁড়াল। ভারী কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
" তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে চাও কি না বলো। হ্যাঁ অথবা না বলো।"
" না মানে... শুনো।"
" হ্যাঁ কি না?"
নিলু আমতা আমতা করে জবাব দিল,
" হ্যাঁ"
"বাসায় যাও এখন।"
" কি করবে তুমি?"
" সেসব তোমার জানতে হবে না। বাসায় যাও। আর হ্যাঁ বাসায় গিয়ে জানিয়ো আমাকে।"
" জি আচ্ছা।"
চলবে.....
#রিচেক করতে পারিনি, সরি।🥲
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
Tangail