RadioTanim.com
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from RadioTanim.com, Religious organisation, RadioTanim. Official, Sylhet.
17/07/2021
দোয়া করার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর এক অশেষ রহমত। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিয়েছেন নিজেদের চাওয়া গুলো আল্লাহর দরবারে পেশ করার। কিন্তু কোনোদিন কি আমরা নিজেদের দোয়ার ভাষা গুলো নিয়ে ভেবেছি?? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আজকে দোয়া করার ধরন সম্পর্কে কিছুটা লিখছি।
আমরা যখন কোনো কিছুর জন্য আবেদন করে কোনো দরখাস্ত লিখি তখন অবশ্যই আমরা চেষ্টা করি নিজেদের চাওয়া টাকে সর্বাত্মকভাবে তুলে ধরতে। তখন দরখাস্ত টা অনুমোদন করার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ঠিক তেমনি আল্লাহর কাছে যখন আমরা কোনো দোয়া করি তখন আমাদের এমনভাবে নিজেদের দোয়া পেশ করতে হবে যাতে সেই দোয়া কবুল হওয়া আমাদের জন্য কতটা জরুরি তা বলতে পারি।
দোয়ার ক্ষেত্রে আমাদের এটাও দেখতে হবে যে আমরা কি চাচ্ছি আর কিভাবে চাচ্ছি। কারন দোয়া কবুলের জন্য সেটা অবশ্যই নেক উদ্দেশ্যে হতে হবে। আর দোয়া করলে আমাদের এই মাইন্ডসেট থাকতে হবে যে আমাদের দোয়া কবুল হবেই ইন শা আল্লাহ।
আজকে আমাদের প্রত্যহ করা কিছু দোয়া আমরা সুন্দরভাবে যেভাবে আল্লাহর দরবারে পেশ করতে পারি তা আমি নিজের ধারণা থেকে বলছি।
১.
❌ আল্লাহ অমুক ব্যাক্তিকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন।
✔ আল্লাহ যদি অমুক ব্যাক্তি আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয় তবেই তাকে আমার জীবনসঙ্গী করে দিন নতুবা তার থেকে আমার মন ঘুরিয়ে দিন।
২.
❌ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি চাকরি জুটিয়ে দিন।
✔ আল্লাহ আমাকে শীঘ্রই একটি হালাল আর সম্মানজনক চাকরি জুটিয়ে দিন।
৩.
❌ আল্লাহ আমাকে মৃত্যু দিন( এই দোয়া অনেকেই করেন কোনো কষ্টে পড়লে। এটা অবশ্যই অনুচিত।)
✔ আল্লাহ আমাকে সবর করার তৌফিক দিন। আমাকে নেক হায়াত দিন। আর আমার সব গুনাহ মাফ হওয়া ছাড়া আমাকে এই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েন না।
৪.
❌ আল্লাহ অমুক আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তার উপর গজব নাজিল করুন।( অনেকেই এরকম চাইতে দেখেছি। এটাও খুবই অনুচিত)
✔আল্লাহ অমুককে হেদায়েত দিন। তাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দিয়েন। আর আমি যদি তাকে কষ্ট দিয়ে থাকি তবে তাকে আমাকে মন থেকে মাফ করে দেয়ার তৌফিক দান করুন। এবং তার সাথে আমার সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে ঘনিষ্ঠ করে দিন।
৫.
❌আল্লাহ তাড়াতাড়ি আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন।
✔ আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীনদার আর নেককার জীবনসঙ্গী প্রদান করুন। এমন জীবনসঙ্গী দিন যে আমার চক্ষু শীতল করবে, আপনাকে ভালোবেসে আমাকে ভালোবাসবে, আমার ইলম অর্জনের সহযোগী হবে, আর যে আমার জান্নাতের সঙী হবে। (অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা, বংশগত মর্যাদা ও নিজেদের মতো উল্লেখ করতে পারেন। তবে অবশ্যই আগে দ্বীনকে প্রাদান্য দিবেন।)
৬.
❌আল্লাহ আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।
✔আল্লাহ আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন। আমাকে পর্যাপ্ত ইলম দান করুন, ইলম অনুযায়ী আমল করার আর তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার তৌফিক দান করুন।
৭.
❌আল্লাহ আমাকে সন্তান দান করুন।
✔ আল্লাহ আমাকে নেককার সন্তান দান করুন। এমন সন্তান দান করুন যে দুনিয়া ও আখিরাতে আমার জন্য কল্যাণকর হবে।
৮.
❌ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ করে ফেলেছি।।আমাকে মাফ করুন।
✔ আল্লাহ আমি অমুক গুনাহ মাফ করুন। আর আমাকে এমনভাবে হেদায়েত দিন যাতে আমি পুনরায় এই গুনাহ না করি। সেই গুনাহ আর আমার মাঝে একটি দেয়াল করে দিন।
আরো অনেক দোয়াই লিখা যায় এরকম। আজকে কমন কয়টা নিয়ে লিখলাম। আর দোয়া করার সময় আল্লাহর গুনবাচক নামগুলো দিয়ে দোয়া করার চেষ্টা করবেন। যেমনঃ চাকরির জন্য চাওয়ার সময় আর- রজ্জাক( আল্লাহ রিযিকদাতা), ক্ষমা চাওয়ার সময় আল- গফফার (আল্লাহ ক্ষমাশীল)। এভাবে দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর অবশ্যই দোয়া কিংবা মুনাজাতের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা আদায় করবেন, তারপর নবীজী (স) এর উপর দুরুদ শরিফ পাঠ করবেন। দোয়া শেষ করার আগেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন। ইন শা আল্লাহ দোয়া কবুল হবেই।
নিজের সীমিত জ্ঞান থেকে লিখেছি। ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
09/07/2021
নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দা পালন করা ফরজ। পর্দা পালন করা মুসলিম নারীর অনন্য রুচিবোধ ও সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। পর্দা পুরুষের উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যম; পাশাপাশি নারীর সম্মান ও ইজ্জতের রক্ষাকবচ ।আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষদের প্রতি পর্দা পালনের বিষয়টি কুরআনে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘(হে নবি! আপনি) মুমিন (পুরুষদের) বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত।এবং (হে নবি! আপনি) ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে;এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নূর : আয়াত ৩০-৩১)আবার নারী এবং পুরুষের পর্দার স্বরূপ কেমন হবে হাদিসে পাকে মহানবী (স)একটি হাদিসেই প্রমাণ পাওয়া যায়।বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনে প্রিয়নবির নসিহতটি সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি।হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ও মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ছিলাম। এমতাবস্থায় (দৃষ্টিহীন সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমক করলেন।তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা পর্দার অন্তরালে চলে যাও।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল,ইনি কি দৃষ্টিহীন নন? ইনি তো আমাদেরকে দেখছেন না।জবাবে আল্লাহর রাসুল বললেন, তোমরা কি তাকে দেখছো না?(মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)উল্লেখিত হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে জানা যায় যে, কোনো নারী পর্দার ভেতরে থেকে কোনো পুরুষকে দেখাও জায়েয নয়।
04/07/2021
তোমার বাবা মারা গিয়েছেন,অথচ তুমি বেপর্দায় চলাফেরা করো??💔
তার মানে তোমার বাবা দাইয়্যুস অবস্থায় মারা গিয়েছেন!!💔
কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামী তা কেবল আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জানেন।তবে হাদীসের ভাষ্যমতে,
হয়তো তোমার মৃত বাবা কবর থেকে চিৎকার করে বলছেন " মা রে তুই পর্দা কর!তোকে আমি দ্বীনি শিক্ষা দেই নাই!পর্দার শিক্ষা দেই নাই!এর শাস্তি আমি আর নিতে পারছি না!💔
কবরের আজাব আর সহ্য হচ্ছে না রে মা।তুই পর্দা কর মা, তুই দ্বীনের পথে আয়। আর ভুল করিস না রে মা!" আহ্ আর্তনাদ!💔
কেননা হাদীসে এসেছে, " দাইয়্যুস কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (নাসায়ী: ২৫৬২, মিশকাত: ৩৬৫৫)
কিন্তু আফসোস আমরা আমাদের বাবাদের এই চিৎকার শুনতে পাই না।
একজন বেপর্দা মেয়ে সন্তান হিসেবে ঠিক কতটা ভয়ংকর! যদি বুঝতাম আমরা..💔
দাইয়্যুস শুধু বাবা না; স্বামী, ভাই এমনকি ছেলেও হয়। "যে তার পরিবারের সদস্যদের (স্ত্রী, কন্যা,মা-বোন) বেপর্দা চলাফেরা, অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয় এবং বাঁধা না দিয়ে মৌনতা অবলম্বন করে সেই দাইয়্যুস।"💔
__মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ
- Marzina Tayeeba
28/06/2021
👉 """" জাহান্নামী ৬ নারী"""",,,
দেখে নিন আপনার সাথে মিল আছে কিনা,,,
যদি মিল থাকে তবে পরিহার করুন,,,
তওবা করুন ফিরে আসুন ইসলামের ছায়াতলে,,,,
একবার তওবার দরজা বন্ধ হয়ে গেলে সেই
সুযোগও আর থাকবে না...!
আসল জীবন পরকাল তাই আসুন পরকাল মুখি হই,,,,
------------------------------
👉 একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে দেখা করতে আসেন এবং এসে দেখেন যে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাকী বসে কাঁদছেন!
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,
ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য
কোরবান হোক,
আপনি কাঁদছেন কেনো?
-------------------------------
👉 নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন
জানালেন যে, মিরাজের রাত্রিতে আমি আমার উম্মতের মধ্যে নারীদেরকে জাহান্নামের ভয়ানক আজাবে দেখতে পেয়েছি!
তারপর নবীজী (সাঃ) নারীদের শাস্তির বর্ণনা করলেন, লম্বা হাদিস।
ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাদের গোনাহ সম্পর্কে
জানতে চাইলে নবীজী (সাঃ) বলেন, তারা হলোঃ
-------------------------------
১. ওই নারী - যে মাথার চুল খুলে বেপর্দা হয়ে ঘর
থেকে বের হয়,
জাহান্নামে এরা নিজের মাথার চুল দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থায়
থাকবে এবং ঐ সময় তার মাথার মগজ ফুটন্ত পানির ন্যায় টগবগ করে ফুটবে।
২. ওই নারী - যে তার স্বামীকে কটুকথার মাধ্যমে কষ্ট
দেয় এবং স্বামীকে সম্মান করেনা,
এরা স্বীয় জিহ্বায় ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে অর্থাৎ মুখ
গহবর থেকে জিহ্বা টেনে বের করে সমস্ত
শরীরের ওজন জিহ্বার উপর ছেড়ে দেয়া হবে
৩. ওই নারী - যে বিবাহিত হয়েও পর পুরুষের সাথে
সম্পর্ক রাখে,
জাহান্নামে এরা স্বীয় স্তনে ঝুলন্ত অবস্থায়
থাকবে,অর্থাৎ
সমস্ত শরীরের ওজন স্তনের উপর ছেড়ে
দেয়া হবে।
৪. ওই নারী - যে অপবিত্র হওয়ার পর পবিত্রতা অর্জনে
অলসতা করে এবং নামাজের অমনোযোগী হয়,
এরা নিজ পদযুগল বক্ষে এবং হস্তদয় ললাটে
আবদ্ধাবস্থায় জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করবে।
৫. ওই নারী - যে মিথ্যা কথা বলে এবং গীবত করে,
জাহান্নামে এদের চেহারা শুকরের মতো ও শরীর
গাধার মতো হবে অসংখ্য সাপ বিচ্ছু দ্বারা বেষ্টিত থাকবে
নাউজুবিল্লাহ আল্লাহ মাফ করুক
৬. ওই নারী - যে অন্যের সুখ দেখে হিংসা করে এবং
উপকার করে খোঁটা দেয়।
এদের চেহারা কুকুরের মতো হবে। মুখ গহব্বরে
জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করে মলদ্বার দিয়ে
বের হবে তার শাস্তি প্রয়োগে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ তাকে কঠোরভাবে প্রহার করবে।
দলিলঃ
[সহীহ : বুখারী ৩০৪, মুসলিম ৮০, সহীহাহ্ ১৯০,
সহীহ আল জামি‘ ৭৯৮০,।
28/06/2021
আমরা সবাই চাই হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মতো চরিত্রবাণ হতে।
তার অনুপম সুন্দর চরিত্রে নিজেকে
সাজাতে।
যে চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে তাকে আল-আমিন খেতাবি ভূষিত করা হয়েছিল।
আমরা তার উম্মাত, তিনিই শিখিয়ে দিয়ে গেছেন সুন্দর আর ভালো মানুষ কারা বা কীভাবে সুন্দর মানুষ হতে হয়।
তার সেই প্রিয় কিছু বাণীই তুলে ধরা হলো ভালো মানুষের পরিচয় জানার জন্য।
সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সান্নিধ্য ও সাহচর্য লাভের চেয়ে বড়ো সৌভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে? সেজন্য এই শ্রেষ্ঠ উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হলেন সাহাবায়ে কেরাম।
তাদের পর তাবেঈন এবং তবে তাবেঈন।
তারপরও কিছু গুণ যদি আমাদের মাঝে থাকে তবে আমরাও হতে পারি ভালো মানুষ।
যেমন.....
১/ রাসুল {সাঃ} বলেন ‘মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো আমার যুগের লোকজন।
এরপর তাদের পরবর্তী লোকজন এবং তারপর ওদের পরবর্তী লোকজন।
{মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৩৩}
২/ উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে ভালো; যে কোরআন শিখে এবং শেখায়। ’
{বুখারি, হাদিস নং: ৪৭৩৯}
৩/ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘যে মানুষের উপকার করে, সেই সবচেয়ে ভালো মানুষ।
{সুনানে দারাকুতনি}
৪/ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বাধিক উত্তম, যে তার পরিবারের নিকট ভালো।
বস্তুত তোমাদের মধ্যে আমি আমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে ভালো। ’
{সুনানে তিরমিজি, হাদি নং: ১৯৭৭}
অর্থাৎ পরিবারের অধিকার আদায় করে এবং যথাযোগ্য পন্থায় তাদের সঙ্গে ব্যবহার করে।
৫/ আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘সঙ্গী হিসেবে আল্লাহ তায়ালার নিকট সেই উত্তম; যে নিজ সঙ্গীদের কাছে ভালো এবং প্রতিবেশী হিসেবে আল্লাহ তায়ালার নিকট সেই শ্রেষ্ঠ যে আপন প্রতিবেশীর কাছে ভালো।’
{সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৪৪}
অর্থাৎ তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে ত্রুটি করে না এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে থাকে।
৬/ আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘ইসলামের বিবেচনায় তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তি সেই; যে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।
যখন তাদের মাঝে দ্বীনের জ্ঞান বিদ্যমান থাকে।’
{আল আদাবুল মুফরাদ; ইমাম বোখারি, হাদিস নং: ২৮৫}
৭/ আবু বাকরাহ (রাঃ) বলেন, জনৈক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে ভালো (সৌভাগ্যবান) মানুষ কে? রাসুল (সাঃ) বলেন, যে দীর্ঘ জীবন লাভ করে এবং পুণ্যকাজ করে।
ওই সাহাবি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সবচেয়ে খারাপ মানুষ কে?
রাসুল (সাঃ) বলেন, যে দীর্ঘ জীবন পায়, আর মন্দকাজ করে যায়।
{সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ২৩২৯}
৮/ ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। ইত্যবসরে জনৈক বেদুইন এসে নবীজিকে বলল, আপনি আমার পাওনা উটের ঋণ পরিশোধ করুন!
রাসুল (সাঃ) তাকে প্রাপ্তবয়স্ক একটি উট (যার মূল্যমান বেশি) দিয়ে দিলেন।
লোকটি বলে উঠলো, আমি তো আপনাকে কমবয়সী উট (যার মূল্যমান কম) দিয়েছিলাম!
প্রতি উত্তরে রাসুল (সাঃ) বলেন, লোকদের মধ্যে সেই সবচেয়ে ভালো; যে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ভালো।
{সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৮৬}
অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবহার দেখায় এবং যা ধার করেছিলো সাধ্যমত তার চেয়ে ভালো কিছু পরিশোধ করে।
তাই আজ থেকেই শুরু হোক ভালো মানুষ হবার চেষ্টা ইনশা আল্লাহ তায়ালা ।
লেখাঃ- আমিরুল ইসলাম
27/06/2021
শয়তান মানুষকে সাতটি ফাঁদে ঘায়েল করার চেষ্টা করে। এর একটি অপরটির চেয়ে কঠিন এবং সর্বদা অপেক্ষাকৃত কঠিন ফাঁদটিকে সে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
প্রথম: কুফরের ফাঁদ
—একজন মুমিন যখন কুফরে ফিরে যায়, শিরক করে, তখন তার সব আমল বরবাদ যায়। এজন্য শয়তান মানুষকে সর্বপ্রথম কুফরের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। এটাই তার প্রধান লক্ষ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অজ্ঞ এবং দুর্বল ঈমানের মুসলিমরা এই ফাঁদে পড়ে। তাই সবসময় নিজের ঈমানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা চাই।
দ্বিতীয়: বিদআতের ফাঁদ
—কাউকে যখন কুফরের ফাঁদে ফেলতে পারে না, তখন শয়তান বিদআতের ফাঁদ ফেলে। বিদআত হচ্ছে ঐসব কাজ, যা মানুষ আমল ভেবে করে, অথচ ইসলামে এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। যারা বিদআতে লিপ্ত, তাদের ভিতর অপরাধবোধ কাজ করে না। ফলে তাওবাও করে না। এজন্য এটি শয়তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফাঁদ।
তৃতীয়: কবিরা গুনাহসমূহের ফাঁদ
— কুফর এবং বিদআতের ফাঁদ ব্যর্থ হলে শয়তান তৃতীয় ছক আঁকে। আর তা হলো কবিরা গুনাহের ফাঁদ। 'ভবিষ্যতে তাওবাহ করে নিও', 'আল্লাহ্ দয়াশীল, ক্ষমাশীল' ইত্যাদি অজুহাতে মানুষকে কবিরা গুনাহে জড়ায়।
চতুর্থ: সগিরা গুনাহসমূহের ফাঁদ
— মুমিনদের ভিতর কবিরা গুনাহের ব্যাপারে সর্তক থাকে, কিন্তু সগিরা গুনাহের ব্যাপারে বেখেয়ালি, শয়তান তাদেরকে এই ফাঁদে ফেলে। আর একজন মানুষকে যখন সগিরা গুনাহে অভ্যস্ত করে ফেলা যায়, তখন তাকে কবিরা গুনহের ফাঁদেও ফেলা সময়ের ব্যাপার।
পঞ্চম: মুবাহের ফাঁদ
— ওপরের সবগুলো ব্যর্থ হলে শয়তান মুবাহের ফাঁদে ফেলে। মুবাহ মানে যেসব কাজ ইসলামে বৈধ। মানুষ সেগুলো বৈধ ভেবে অতিরিক্ত করে ফেলে। এভাবে সীমা অতিক্রম করার দ্বারা ধীরে ধীরে গুনাহের দিকে ধাবিত হয়, আখিরাত ভুলে যায় কিংবা অন্যের হক নষ্ট করে ফেলে। যেমন পর্যাপ্ত অর্থ সম্পদ থাকার পরেও সম্পদের পেছনে দিন রাত নষ্ট করা, হালাল খাবার অতিরিক্ত ভোগ করে দেহের ক্ষতি ডেকে আনা, সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে পরিবারের হক নষ্ট করা, ইত্যাদি।
ষষ্ঠ: অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাপূর্ণ আমলের ফাঁদ
— বর্তমানে এই ফাঁদ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন উৎসব, আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে মানুষদের এই ফাঁদে বেশি পড়তে দেখা যায়। যেমন রাতভর সালাত আদায় করে ফজর কাযা করা, দাড়ির চাইতে পাঞ্জাবী জুব্বা নিয়ে টানাটানি করা, এভাবে নফল সালাত, সাওম সহ বিভিন্ন আমল নিয়ে বাড়াবাড়ি করা।
সপ্তম:
মানুষের ওপর শয়তানের বাহিনী প্রয়োগের ফাঁদ—যারা মানুষকে হাতে ও জবানে নানা প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকে। ব্যক্তি যত ইবাদতগুজার, তার প্রতি শয়তানবাহিনীর অত্যাচারও তত বেশি। এটা শয়তানের সর্বশেষ ফাঁদ। সে এবার নিজেই ইবাদতগুজার বান্দার ক্ষতি করতে লেগে যায়। জীনদের লেলিয়ে দেয় এবং মানুষরূপী শয়তানদেরকেও এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করে।
09/06/2021
'বন্ধুত্ব'। ছোট্ট এই শব্দটিতে লুকিয়ে থাকে হাজারো স্বর্ণালী মুহূর্ত, দুষ্টুমি, খুনসুটি... আরও কত কী!
'বন্ধু...বোঝে আমাকে...' - এই লাইনটি সবারই জানা। বন্ধুরা হয়তো এরকমই হয়। তাদের সাথে মনের মিল থাকে বলেই বন্ধুত্বের রঙিন দুনিয়ায় হাতে হাত ধরে হারিয়ে যাওয়া যায় দূর অজানায়৷
আমরা অন্যের সাথে বন্ধুত্ব কেন করি? অজানা মানুষকে জানার আকাঙ্ক্ষা, সময় কাটানোর সাহচর্য খোঁজা, জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নেয়ার জন্যই মূলত আমাদের জীবনে এই মানুষগুলোর আবির্ভাব ঘটে। আবার, অনেকসময় এতকিছু না চাইতেও বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সময়, পরিস্থিতির স্রোতে কিছু মানুষ আত্মার আপন হয়ে জড়িয়ে যায় জীবনের সাথে।
আকাশ আর মেঘের মিতালির মতই বন্ধুত্বের মাঝে মিশে থাকে ভালোবাসা। যখনই এই মধুরতাকে 'আল্লাহর জন্য ভালোবাসা' হিসেবে মেনে নেয়া যাবে, তখনই সেই বন্ধুত্ব চিরসবুজের যাত্রায় অগ্রগামী হবে। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সমাপ্তিতে যে অসীম জান্নাত বিস্তৃত, তার হাতছানিতে তো এ সম্পর্ককে আল্লাহর পথে নিয়ে আসাই যায়।
ইরশাদ রয়েছে, আল্লাহ রাব্বুল আ'লামীন (হাদিসে কুদসিতে) বলেছেন, ‘আমার ভালোবাসা অনিবার্য হয়ে যায় ওই ব্যক্তিদ্বয়ের জন্য, যারা একে অন্যকে ভালোবাসে (কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য থেকে নয়) আল্লাহর জন্য। (১)
'আল্লাহর জন্য ভালোবাসা' বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টায় একে অপরকে ভালোবাসা, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য একে অপরকে উদ্বুদ্ধ করা- এটাই তো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।
বন্ধুত্বের সম্পর্কে মিশে থাকে মধুরতা, এক অন্যরকম দাবী। এই দাবীর জের ধরেই আমরা একে অন্যকে ডাকতে পারি আল্লাহর পথে, সকল কল্যাণের কাজে। সেটা হতে পারে একসাথে ইসলামী জ্ঞান অর্জন করা, কুরআন কিংবা হাদীসের কোনো অংশ মুখস্থকরণ, একে অন্যের কাছে উম্মাহ নিয়ে ভাবনার ডালপালা মেলে দেয়া, দুস্থ-অভাবীদের সাহায্যে এগিয়ে আসা... আরও অনেক কিছু।
বন্ধুর কাছে মনের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ ঢেলে দেয়া যায় বলে আমরা অনেকেই হয়তো অন্যের সমালোচনা করে আনন্দ পাই। বর্তমান প্রজন্ম যাকে বলে 'বিচিং করা'। অন্যের দোষকে হাজার রকম অ্যাংগেল থেকে বিবেচনা করেই হয়তো আমাদের অনেক সময় কেটে যায়৷ পরিশেষে সেই একই কথা, "থাক বাদ দে। আমাদের কী!" আসলেই। অন্যের দোষ নিয়ে এত কাটাছেঁড়া করে আমাদের কী লাভ? দুনিয়াতেও আরেকটা মানুষের কষ্টের কারণ হওয়া (সে যদি জানতে পারে) এবং সেইসাথে আখিরাতে যন্ত্রণার হুঁশিয়ারি। তাইতো এই ধরনের কথা থেকে দশ হাত না, একশো হাত দূরে অবস্থান করতে হবে। কেউ একজন ভুলে বলতে শুরু করলেও তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে থামিয়ে দিতে হবে। এটাই বন্ধুত্বের, ভালোবাসার দাবি। যে ভালোবাসা আল্লাহর জন্য হয়, সে ভালোবাসায় কোনো কালিমা থাকতে পারে কি?
আমরা খুব সাধারণ। অজান্তে কিংবা হুট করেই অসংখ্য গুনাহের ফাঁদে পা দিই। সেই গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা না চেয়ে যদি তা অন্যদের কাছে বলে বেড়াই, সেটা কি ঠিক হবে? কিন্তু আমরা তাই-ই করি। বন্ধুদের সাথে জীবনের অনেক কথাই অবলীলায় বলে ফেলা যায় দেখে গুনাহের ব্যাপারেও শেয়ার করে ফেলি। হোক সেটা ছোট কিংবা বড়। এ ব্যাপারে রাসূল (সা) বলেছেন, “আমার উম্মাতের মধ্যে 'মুজাহারা' ছাড়া সকলকে ক্ষমা করা হবে। 'মুজাহারা' হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে রাতে কোনো গুনাহ করেছে আর আল্লাহ তার অপকর্মকে গোপন রাখলেন। কিন্তু লোকটি সকালে লোকদের ডেকে বলতে থাকল, ‘হে অমুক আমি রাতে এই এই… কাজ করেছি।’ রাতে তার রব তাকে গোপন করল আর সকালে সে আল্লাহর গোপন করা বিষয় প্রকাশ করে দিল।” (২)
এ কারণেই যেন বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে আমরা গুনাহের প্রসারে সহায়তা না করি। বন্ধুত্ব হবে এমন সৌন্দর্যমন্ডিত, যেখানে থাকবে না কোনো কদর্যতা।
"এক মু'মিন অপর মু'মিনের জন্য আয়না স্বরূপ।" (৩) - এই হাদীসটি বন্ধুদের ক্ষেত্রে মানা সবচেয়ে সহজ বলে আমার মনে হয়। কেননা, বন্ধুত্বের সম্পর্কটা এতই সহজ এবং সুন্দর, যেখানে হক্ব কথা খুব সহজে মেনে নেয়া যায়, তেমন কোনো বাকবিতণ্ডা ছাড়াই। আমার খুব কাছের এক বন্ধু যদি আমাকে বলে, "তোর এই ব্যাপারটা কিংবা এই কথাটা বলা উচিত হয়নি রে" - তখন নিশ্চয়ই আমি তার উপর রেগে যাবো না। বরং ভেবে দেখবো আসলেই সেটা ঠিক হয়েছে কিনা। এভাবেই একে অপরের আয়না হয়ে নিজেদের ভুল শুধরে 'বন্ধু' নামক এই মানুষগুলোর সাহচর্যেই আমরা হতে পারি আরও সুন্দর, আরও উত্তম।
বলা হয়ে থাকে- "ভালো কাউকে বন্ধু বানাও এবং মন্দ কারো বন্ধু হয়ে যাও।" যদিও প্ল্যান প্রোগ্রাম করে খুব কম মানুষই জীবনে বন্ধু হয়ে আসে। তবুও... এই কথাটির গূঢ়ার্থ হচ্ছে- ভালো কারো সাহচর্য নিজেকে আরও ভালো হতে উৎসাহিত করবে৷ এজন্যই জীবনে ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। সেই সাথে খারাপ কাউকে আমি যেন ভালো সাহচর্যে নিয়ে আসতে পারি, সেই চেষ্টা করা। কিন্তু তা বলে এমন হলে চলবে না যে, আমি নিজেই পা পিছলে নর্দমায় পড়ে গেলাম। অর্থাৎ, নিজের সামর্থ্যের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে৷
সেদিন জুম্মাহর নামাজে গিয়ে শুনি (আমাদের বাসার পাশের মসজিদে মেয়েদের জুম্মাহ আদায়ের ব্যবস্থা আছে) খতীব সাহেব বন্ধু সম্পর্কে হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহর ঐ বিখ্যাত উক্তিটি বলছেন- জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে আল্লাহ খারাপ বন্ধুটিকেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। সুবহান আল্লাহ!
মসজিদে বসে ওই খুতবা শোনার সময় আমি আমার কাছের বন্ধুদের ভীষণভাবে অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিল- ইশ! আমরা সবাই যদি একসাথে আজকের খুতবা শুনতে পারতাম!
কিয়ামতের সেই কঠিন ময়দানে আজকের এই পনের বিশটা হাত একত্রে আবদ্ধ থাকবে তো? ভয় হয় খুব....
কুরআনে তো আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, "বন্ধুগণ সেদিন (কেয়ামতের দিন) একে অন্যের শত্রু হবে। তবে মুত্তাকি বন্ধুরা থাকবে ব্যতিক্রম।" (৪)
যেই বন্ধুত্ব টেনে নিয়ে যায় জাহান্নাম পানে, সেই বন্ধুত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে আমরা প্রস্তুত তো?
'দু'আ' সবসময়ই আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। রবের কাছে চাওয়ার মাঝে রয়েছে এক অন্যরকম প্রশান্তি। সেই চাওয়াটা যদি হয় বন্ধুর জন্য, তবে তাতে আরও বেশি মাত্রায় ভালোবাসা মিশে থাকে বৈকি। আমাদের অনেকেরই হয়তো এমন বন্ধু আছে, যাদেরকে আমরা খুব করে জান্নাতে পেতে চাই। তাদের অনেকের পথেই হয়তো ঝুলছে কাঁটাতারের বেড়া। তাদের জন্য আমাদের দু'আ যেন শ্রাবণের বারি হয়ে ঝরে, অবিরত। দুনিয়ার জীবনে যেই মানুষগুলো কোনো না কোনো কারণে আমাদের হৃদয়ে আসন গেড়েছে, তাদেরকে এবং আমাদেরকে যেন রাব্বুল আ'লামীন হেদায়েত দান করেন এবং এই পথেই অবিচল রাখেন।
"ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বালবি আ'লা দ্বীনিক।" (৫)
এভাবেই বন্ধুত্বের মিষ্টি মধুর সময়গুলো ব্যয় হোক আল্লাহর জন্য। জান্নাতের ফুল বাগানে সেই অনাবিল আনন্দে পূর্ণ পুনর্মিলনীর আকাঙ্ক্ষায় এইটুকু তো করাই যায়।
(বি.দ্র: লেখার সৌন্দর্য রক্ষার্থে বান্ধবীর স্থলে 'বন্ধু' লেখা হয়েছে। এখানে হালাল সম্পর্কের উপরই আলোকপাত করা হয়েছে।)
রেফারেন্স:
১) মুসনাদে আহমাদ: ২২০৮৩
২) বুখারি: ৫৭২১
৩) আবু দাউদ: ৪৯১৮
৪) সূরা যুখরুফ: ৬৭
৫) তিরমিযী: ২১৪০
| বন্ধুত্ব এবং অতঃপর |
✍️লেখা: তাহারাতুন তাইয়্যেবা
আল্লাহ কত দয়ালু ও মেহেরবান।🥀🌿
মিজানুর রহমান আজহারী 🌿🥀
ফেসবুক জেন আমরা ভালো কাজে লাগাই, খারাপ কাজে না লাগাই ফেসবুক ও আপনার জান্নাতে যাওয়ার কারন হতে পারে৷,💜💜💜
আলোচনায়:আমাদের সকলের প্রিয়
ডাঃ মিজানুর রহমান আজহারী❤
07/06/2021
তিন বছরের হারাম সম্পর্ক মেয়েটার ।
মেয়েটা নিজেও জানে না বিয়ের আগে কারো সাথে প্রেম করা, একসাথে আড্ডা দেওয়া, পার্কে হাত ধরাধরি করে হেটে বেড়ানো এসবই গুনাহের কাজ বা যিনার গুনাহ হয়।
দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন হওয়া আনিতার কথা।
দ্বীন-ইসলাম সম্পর্কে উদাসীনতা বা ইসলামকে পুরোপুরি না জানা এটা দোষ আনিতার নয় ।
কারণ, আনিতার মা-বাবাই চাইতো আনিতা ডাক্তার হবে ।
আর ডাক্তার হলে টাকা-পয়সা ইনকাম করে দিন ভালোই চলে যাবে ।
পাশাপাশি নাচ-গান শিখাতেও কমতি রাখেননি আনিতার মা-বাবা।
আনিতা ভালো গাইতেও পারে নাচতেও পারে।
এসব করতে করতে বা মা-বাবা করাতে করাতে ইসলাম সম্পর্কে তেমন জানা হয়ে উঠেনি আনিতার ।
আনিতার মা-বাবা চাইতো
ধর্ম কর্ম একটু আধটু করলেই হলো।
যেমন বর্তমান সময়ের কিছু মেয়েরা করে ।
মাথায় স্টাইলিশ হিজাব আর পরণে জিন্সের প্যান্ট।
আবার এমন বোরকা পড়ে বর্তমান কিছু মেয়েরা, বোরকা পড়া মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট না হলেও বোরকার প্রতি আকৃষ্ট হতেই হবে ।
আনিতার মা-বাবা চাইতো আনিতা এমনই হোক।
কিন্তু, না আনিতার মাঝে হুট করেই আসে এক বিশাল পরিবর্তন ।
পরিবর্তন আসার কারণ ও আছে ।
দুনিয়ার কোন পরিবর্তন না।
আসছে আল্লাহ তায়ালাকে চিনার পরিবর্তন।
নিজের জীবনকে আল্লাহর সামনে সপে দেওয়ার পরিবর্তন।
আসছে তিন বছরের হারাম রিলেশন ত্যাগ করার প্রবণতা ।
পরিবর্তন আসছে নাচ, গান এসব ছুড়ে ফেলে দিয়ে রবের দিকে ফিরে আসার।
পরিবর্তন এমনি এমনি আসে না, যে কোন মাধ্যম লাগে।
আনিতার পরিবর্তন আসার মাধ্যম ছিলো তার কলেজ লাইফের বান্ধবীরা।
তাদের দ্বীনদারিত্ব তাকওয়া আনিতাকে মুগ্ধ করে।
তাদের দাওয়াত এর সহবতেই আনিতা আস্তে আস্তে হারাম রিলেশন ছেড়ে দেয়।
নিজেকে চিনতে শিখে আনিতা।
তাই নিজেকে আবৃত করে নেয় কালো বোরকায় ।
নিজের পরিবারকে দোজখ এর আগুন থেকে বাঁচাতে চায় আনিতা ।
সাথে নিজেকেও।
আনিতা আজ দ্বীনের পথে ফেরার গল্পে একটু হলেও সফল।
আর এটা সম্ভব হয়ে তার তাকওয়া আর দ্বীনদার বান্ধবীদের কারণে।
তাই আমি বলবো আপনারও বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হোন।
ইনশাআল্লাহ আনিতার মতো পরিবর্তন আসতে পারে আপনারও আর সেটা একজন তাকওয়াবান বন্ধুর দ্বারা।
আর বন্ধুত্বের ব্যাপারে রাসুল সা. তো বলেই দিছেন ।
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮৩৩
-বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে লিখা ।
ইনবক্সে দেওয়া এক বোনের জীবন এর টুকরো কাহিনী । আমি শুধু সাজিয়ে লিখে দিলাম।
-আমিরুল ইসলাম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Telephone
Website
Address
RadioTanim. Official
Sylhet
3100