misbah uddin
মা- বাবার আদরের বড় ছেলে
04/03/2025
একজন শিক্ষক বলতেন— জীবনে যা কিছুই করো না কেন, নিজের সুখের চাবিকাঠি অন্য কারো হাতে তুলে দিও না। কখনোই কারো ওপর এত বেশি নির্ভরশীল হবে না যে, তাদের সামান্য অবহেলাতেই তোমার মন খারাপ হয়ে যায়, বিশেষ করে মানসিকভাবে।
তোমার মন খারাপ? তাহলে হেমন্তের গান শুনো, নিজের জন্য এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি বানাও, বিকেলের মিষ্টি রোদে আপনমনে হাঁটো, কিংবা প্রিয় লেখকের বইয়ে ডুব দাও। যদি কোনো সৃজনশীলতা থাকে, তবে সেটাই হোক তোমার সঙ্গী।
অন্যকে ব্যঙ্গ করে স্ট্যাটাস দেওয়া, নিজের দুঃখ-দুর্বলতা সবার সামনে প্রকাশ করা— এগুলো কোনো পরিণত মানসিকতার পরিচয় নয়। খুব বেশি একা লাগলে বা মন খারাপ হলে ঘর অন্ধকার করে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকো, প্রার্থনা করো।
পুরোনো স্মৃতি মনে করো, হাসো, কাঁদো— কিন্তু নিজের সাথে এমন একটা সম্পর্ক গড়ে তোলো, যেন দুঃখের দিনগুলোতে কাউকে না পেলেও নিজেই নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠতে পারো।
যদি কোনো কাজে সফল হও, নিজেকে পুরস্কৃত করো। যদি ব্যর্থ হও, নিজের সাথে একটু অভিমান করো, কিন্তু হাল ছাড়বে না। তবে কখনোই অন্যের চোখে নিজের পারফেকশন খোঁজার ভুল করো না।
কারণ, মানুষ সবসময় তোমার গুণের চেয়ে তোমার ত্রুটিগুলো দেখতেই বেশি পছন্দ করবে। তুমি যদি পারো, সেটাই যথেষ্ট। একা রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়াটা স্বাভাবিক মনে করো, একা পার্কে সময় কাটানোটা যেন হাস্যকর না লাগে।
নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাধীন করো, যাতে মুড অফ থাকলে নিজের জন্য এক টুকরো চকলেট কিনতে পারো, নিজের জন্মদিনে নিজেকে একটা সুন্দর উপহার দিতে পারো। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভাগি করো, নিজের পছন্দের পোশাক নিজের জন্য নিজেই কিনতে পারো।
মাঝেমধ্যে নিজেকে কিছু ফুল উপহার দাও। ঘরের কোণায় একটা ফুল রাখো, সুন্দর সুবাস মন ভালো করে দেবে। সবার মন জয় করাও তোমার দায়িত্ব নয়, কারণ পৃথিবীর কেউই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনি। তাই যেখানে প্রয়োজন, সেখানে "না" বলতে শেখো।
"আমার বাবা-মা আমাকে বোঝে না, বন্ধুরা আমাকে সময় দেয় না, কাছের মানুষ আমাকে অবহেলা করে"— এসব ভাবনাকে প্রশ্রয় দিও না। কারণ এগুলো আসলে তোমার নিজের তৈরি করা মানসিক চাপ।
কেন নিজেকে অন্যের বিরক্তির কারণ বানাবে? বরং এমন এক ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলো, যাতে তোমার উপস্থিতিই সম্মানের অনুভূতি সৃষ্টি করে।
সময়ের চেয়ে বড় কোন ঔষুধ পৃথিবীতে নেই। কত ক্ষত, কত ব্যথা, কত অভিমান, অভিশাপ। কতটা নি:সঙ্গতা বুকে চেপে রেখে মানুষ একসময় একা বাঁচতে শিখে যায়, সে খবর কখনোই কারো কাছে পৌছায় না।
সময় একসময় জগতের সকল ক্ষত মুছে ফেলে। কারো জন্যই অনেক সময় পর আর বুকের ভেতর হাসফাঁস লাগে না। কারো অবহেলায় নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষটি মনে হয় না। কারো অযত্নে কিছু যায় আসে না। সময়ের বিনিয়োগ মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে শেখায় বুঝতে শেখায়৷ পৃথিবীতে কোনো কিছুই তো আমি সাথে করে নিয়ে আসিনি, কোনো কিছুই আমার নয়।
25/12/2024
প্রতিনিয়ত এই পৃথিবী আমাকে মনে করিয়ে দেয়
আমাকে কঠিন হতে হবে।
আমি কঠিন হয়ে গেছি প্রচন্ড,
প্রকৃতি আমাকে তা বুঝিয়েও দেয়।
আমি বুঝতে শিখেছি মানুষ মূলত এক।
জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত,জীবনের পথ এ পথে
চলতে চলতে অনেকেই সঙ্গী হবে,
যার সঙ্গ দেবার সময় শেষ,তিনি চলে যাবে।
চলে যেতে হয়, চলে যেতে দিতে হয়! তবেই তো মুক্তি!
আমি জেনে গেছি মানুষ মূলত একা।
শিমুল তুলোর মতো নরম এক মনকে আমি ভেঙেচুড়ে কংক্রিট করে ফেলেছি।
আমি সবাইকে বুঝিয়ে গেছি,মানুষ মূলত একা।
মনে হয়েছে,এ আমার দায়িত্ব।
ভালোবাসি বলেই সেই দায়িত্ব মাথা পেতে নিয়েছি।
আসির আরমানের বলা সে কথাটা আমার কানে বাজে,
"একা বেঁচে থাকতে শেখো প্রিয়।"
আমি জেনে গেছি, দিনশেষে মানুষ মূলত একা।
আগে, পিছে কিংবা সাথে কেউ নেই। কেউ থাকে না।
আমি জন্মেছিলাম আমার মায়ের কোলে,
শিমুল তুলোর মতো নরম মনে।
এই পৃথিবী আমাকে প্রতিবার বুঝিয়ে দিয়েছে কঠিন হতে হবে। কঠিন হতে হয়।
অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে কঠিন তোমাকে হতেই হবে।
এই পৃথিবীর সবাই আগলে রাখবার জন্যে জন্মায় না।
কেউ কেউ কঠিন বাস্তবকে বুঝিয়ে যাবার জন্যেও জন্মায়। আমার কোমল কবিতারা হারিয়ে গেছে।
সেখানে আজ কেবল বিধ্বংসী,ক্ষতবিক্ষত লাশের ছড়াছড়ি।
এই পৃথিবীতে কত কোমল কবিতা চাপা পড়ে মরে গেছে কংক্রিটের আড়ালে,তার হিসেব আমার সৃষ্টিকর্তাই রাখুক। ভালোবাসুক।
08/12/2024
কতকিছুর স্বপ্ন দেখি।
এটা করবো, ওটা করবো। কাছের মানুষদের গর্ব হবো। পরিবারের মুখে হাসির কারণ হবো। নিন্দুকদের সামনে উচ্চস্বরে বলবো হ্যা আমি করে দেখিয়েছি।
এদিকে ক্যালেন্ডারের দিকে তাকাতেই দেখি বেলা ফুরিয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে কেটে গেলো বিশ বাইশ চব্বিশ সাল। সূত্র সাপেক্ষে জানা হয়ে গেলো পৃথিবীর নিয়ম অনিয়ম।
শুধু বদলাতে পারিনি রোজ দেখে আসা সেই পৃষ্ঠা; যে পৃষ্ঠা একবার বদলাতে পারলেই, পরের পৃষ্ঠায় লেখা আছে-
"দূরবীন থেকে চোখ সরাও সুদিন তোমার পাশেই ইনশাআল্লাহ ।" ❤️🌸
____ • সু'হা'সি'নী' • 🌸
মা❤️
14/11/2024
মানুষ তার জীবনের একটি বড় অংশ ‘অপেক্ষা’ করে কাটিয়ে দেয়। জীবনের জন্য অপেক্ষা, জীবন পেলে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা। উপেক্ষার জন্য অপেক্ষা, অপেক্ষার জন্য অপেক্ষা। আক্ষেপের অপেক্ষা।
ভোরের সূর্য উঠলে, দুপুরের সূর্য বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার অপেক্ষা, সন্ধ্যা ঘনালে রাত নামার জন্য অপেক্ষা। গভীর রাতের ঘনত্ব বাড়লে আবার ভোরের জন্য অপেক্ষা। ভোরের পাখির কিচিরমিচির শুনলে মানুষ তখন একাকিত্বের হাফ ছেড়ে বাঁচে। এরপর এই যানজটের শহরে গন্তব্যে পৌঁছানোর অপেক্ষা। পৌঁছে গেলে ঘরে ফেরার অপেক্ষা।
ঘরে ফিরে মানুষ অপেক্ষার ছলে একটুখানি প্রশান্তির খোঁজ করে। সেও দীর্ঘ অপেক্ষা।
রাতের আকাশের চাঁদ, চাঁদের পাশের ধ্রুবতারা, দিনের সূর্য, নক্ষত্র, চন্দ্রের গ্রহণ, সূর্যের গ্রহণ, আকাশ, অবকাশ, নিরবে থাকা মহাকাশ— ধ্রুবতারার পাশে জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকা একটুকরো নিমের ডাল। সে ডালের পাতা! সবাই অপেক্ষা করে থাকে।
প্রিয় মানুষের জন্য অপেক্ষা, অপ্রিয়তা থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখার অপেক্ষা। জীবনের সবটুকু আক্ষেপকে ভুলে থাকবার অপেক্ষা, ভুলে গেলে আবার স্মরণ করার অপেক্ষা। স্মৃতিকে ভুলে যাবার অপেক্ষা, স্মৃতিকে আবার আঁকড়ে ধরার অপেক্ষা। শতবছরের প্রতীক্ষা।।
13/11/2024
মানুষ তার জীবনকে শুধু স্যাটেল করতে চায়। দিন-রাত শুধু স্যাটেল হওয়ার একটা যুদ্ধ।
সমাজ তাকে স্যাটেল হওয়ার একটা ডেফিনেশন শিখিয়েছে। হাতে দিয়েছে একটা ছঁক।
জিপিএ। ডিগ্রি। চাকরি। বিয়ে। বাচ্চা। বাড়ী। গাড়ি। বিত্ত আর সুখের প্রদর্শনী।
চওড়া মূল্যের আনন্দ ও প্রশান্তি বেঁচে, মানুষ কম দামের স্যাটেলম্যান্ট কিনছে কতো। তৈরি করছে নিজের টর্চার সেল।
মানুষের জীবনের নেই সেকেন্ডের ভরসা। সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস—জীবনের উপর নেই আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ!
অথচ প্রাণীদের মধ্যে মানুষই স্যাটেল হতে গিয়ে মরছে উচ্চ রক্তচাপে। ইনসমনিয়ায়। মানসিক রোগে। নিঃসঙ্গতায়। আত্মহননে।
স্যাটেল হতে হতে আমরা ভুলে যাই মানবিক হওয়ার কথা। ভুলে যাই মায়ার মোহ। আবেগের সামান্য পাওয়া।
হারিয়ে ফেলি খিল খিল করে হেসে ফেলার আত্মবিশ্বাস।
স্যাটেল হতে গিয়ে মানুষ শুধু খুঁজে পায় অপূর্ণতা। —বাড়ী নেই। গাড়ি নেই। ব্যাংকে টাকা নেই। পার্টি নেই। চ্যানেল নেই। ভিউ নেই। ভুঁড়িহীন শরীর নেই।
দিন-রাত শুধু নেই।
অপূর্ণতার এই ক্ষেদের আঘাতে নিউরণ সব যাচ্ছে ক্ষয়ে—অকালে।
হাত বাড়ালেই মুঠোয় ভরা হাসি, রোদ ঝলকানো সকালের প্রেম, অপেক্ষার আনন্দ—সব কিছু ক্যামন তার বিস্বাদ বিস্মৃত লাগে।
অনিশ্চিত জীবনে, স্যাটেল হওয়ার চেষ্টাই কী তবে বিস্ময়কর নিকষ সুন্দর!
জীবনের কঠিন সময়গুলোতে নিজেকে গোপন রাখাই ভালো। নিজের দুঃখ কষ্ট কাউকে না দেখানোই উত্তম!
জীবনে যদি কখনও খুব খারাপ সময় আসে,তাহলে নিজের দুঃখ কষ্টগুলো নিজের মাঝে এমন ভাবে আড়াল করে রেখো যেনো তোমার গা ঘেঁষে বসে থাকা মানুষটিও টের না পায় গোপনে তুমি ভেঙে গেছো খুব।পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে মনের বন। আকস্মিক ঝড়ে ঝরে গেছে জীবন বৃক্ষের সব কয়টি সবুজ পাতা। শক্ত হও!নিজেকে নিজেকে বুঝাও যে এত সামান্য বাতাসে ঝরে যেতে নেই, ভেঙে যেতে নেই অমন হাল্কা আঘাতে!
কান্না পেলে একা একা গোপনে কাঁদো, তবুও নিজের দুঃখের ক্ষতগুলো কাউকে দেখাতে যাবে না। মনে রেখো,যে নিজের জন্য আলো হতে পারে না,পৃথিবীর সমস্ত আলো মিলেও তাকে পথ দেখাতে পারে না।
জানোই তো মানুষ বড় নিষ্ঠুর ও নির্দ্বয়। ভেঙে যাওয়া মৌচাক দেখলে ঢিল মেরে আরও বেশী ভেঙে দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়।
অহংকার ছাড়া মানুষ ফুলের চেয়েও বেশি সুন্দর.. 🖤🌸
02/11/2024
মানুষ ভালোবাসে আর কয়দিন?
অনুভুতিরাও রং বদলিয়ে ধূসর হয় প্রতিদিন।
মানুষ ভালোবাসে সুখের অসুখে,
অনুভুতিরাও বদলায় সুখে কিংবা শোকে।
হৃদয়ের যে খাতা শূন্য পরে থাকে..
কারো জন্য লিখবার অপেক্ষায়..
শব্দ আর গুছানো হয় না..
বারবার যেন বিষন্ন অক্ষরগুলো..
এলোমেলো হয়ে যায়..!!
কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে এই পৃথিবীকে বলে দিতে ইচ্ছে হয়- বিকেলের ভরা গোধূলি যেন বারবার আমাকে বলে কবিতা লিখতে। আমি যত্ন করে দু হাত পেতে শব্দ কুড়িয়ে নেই কবিতা লিখবো বলে। কখনো বৃষ্টি থেকে কখনো বা ভোরের আবছা কুয়াশার স্নিগ্ধতা থেকে। তারপর শব্দের পর শব্দ,বিশেষ্য, বিশেষণ যোজনা করে লেখা ছন্দ গুলোই একসময় সমহিমায় কবিতা হয়ে ওঠে। আর আমি অবাক দৃষ্টিতে নিমজ্জিত হই ভাবের অন্তরালে, ছন্দের গভীরতায়। যেন শুভ্রতার সবটুকু মায়া দিয়ে পৃথিবীর বুকে বারবার কবিতা হয়ে নেমে আছে নির্মলতা❤️👍
রাস্তা যত কঠিন গন্তব্য তত বেশি সুন্দর 🙂
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Sylhet
3100