Loading Life

Loading Life

Share

হাসিটা ছড়িয়ে দাও-
লুকিয়ে রাখো ক্ষত‚
আনন্দটা সর্বজনীন-
আঁধার টা ব্যক্তিগত। একজন জীবন যোদ্ধা।

31/08/2026

রাইদা বাস এই বাসের ড্রাইভার ও হেল্পার উভয়েই আলেম।
শুধুমাত্র মসজিদ আর মাদ্রাসায় আবদ্ধ না থেকে আলেমরা ছড়িয়ে যাক সকল হালাল কর্মে ইনশাআল্লাহ।

28/08/2026

আমার ১ম ওয়াইফ দীর্ঘ ৯ বছর নিঃসন্তান থাকার কারণে আমি ২য় বিবাহ করি। কারণ আল্লাহর রহমতে আমার অনেক অর্থ -বিও এবং সম্পদ রয়েছে। কিন্তুু খাওয়ার মানুষ নাই।।
২য় বিবাহ করার পর বছর ঘুরতেই আমার সন্তান হলো আলহামদুলিল্লাহ।।
আমি চেষ্টা করতাম আমার ১ম ওয়াইফ, এবং ২য় স্ত্রী,দুজনের সাথে আমি ন্যায় টা করার। আমি দু'জনকেই খুব ভালোবাসতাম।
১ম জন আমার ভালোবাসা আমার ১ম নারী, ২য় জন আমার সন্তান এর মা এবং ভালোবাসা।
আমার ২য় স্ত্রীর ঘরে পর পর ৪ টি সন্তান হলো আলহামদুলিল্লাহ ।।
কিন্তুু কেন জানি না আমার প্রথম ওয়াইফ আমার সাথে অনেকটা দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি প্রায় সময় বাবার বাড়িতে থাকতেন এবং তিনি প্রতি বছর ওমরাহ করতে যেতেন।
উনার পরিবারের সদস্যদের সাথে যেতেন।

খুব একটা কথা বলতেন না। আমি ও যেতাম না উনার বাপের বাড়িতে।
একটা সময় উনি আমার বাড়ি ছেড়ে দেন।
কিন্তুু তার জন্য মন জ্বলতো। কিন্তুু নিজের ব্যবসা, নিজের সন্তানদের দেখাশোনা সব করতে গিয়ে উনার প্রতি কিছুটা অবহেলা আমি করেছি।
উনি নিজে থেকে আমাকে ফোন দিতেন না।
বা যোগাযোগ করতেন না। আমি যতখন করতাম তিনি ততখন সাড়া দিতেন।
আমি যোগাযোগ না করলে আগ বাড়িয়ে কথা বলতেন না।
একটা সময় আমাদের যোগাযোগ কমে যাই।
তিনি আমার থেকে খরচ নিতেন না। আমি নিজে থেকে পাঠালে রাখতেন।

একটা সময় উনাকে জিজ্ঞেস করি কেন এত দূরে থাকছো আমার থেকে।
উওর দিতেন কাছে যাওয়ার মত তো এখন আর সময় সুযোগ নেই।
তুমি সুখি হও।। মহান রব আমায় সন্তান দেয় নি। আফসোস নেই। তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করেছো তাতে ও আফসোস নেই।
আমি দুনিয়াবি সকল চাওয়া বাদ দিয়েছি। আমি খুব বেশি দিন বাঁচতে ও চাই না।
এই পৃথিবী অনেক নির্ম*ম। বাপের বাড়ি যতই বড়লোক হোক না কেন..?
নিঃসন্তান হলে, স্বামী আরেকটা বিয়ে করলে, বা ডিভোর্স হলে সেই মেয়ের কোনো দাম থাকে না। এই পৃথিবীতে,,,,

আমি উওর দিলাম আমি তোমাকে ভালোবাসি।।

--- আমি ও আপনাকে দোয়াতে আর মায়াতে রাখি স্বামী।
আমি মরে গেলে আমার দাফন আমার বাবার পাশে হবে,,,,
আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে,, তোমাদের ওখানে না।

আমি বললাম এই ফালতু কথা বন্ধ করো তোমার যাওয়ার বয়স হয়নি।।

আমার ২‌য় বিবাহের ৭ বছর পর তিনি খুব জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পর **পারে পাড়ি জমালেন।
উনি যে ১২ দিন জ্বরে ভুগেছেন আমাকে জানান ও নাই।
এবং তিনি নিষেধ করেছেন তার মৃত্যুর সংবাদ ও যেন আমাকে জানানো না হয়।

তার মৃত্যুর পর সাথে সাথেই তাকে দাফন করা হয়।
তার বলা ছিলো। তাকে ৩ ঘন্টা ও রাখে নাই।
তার দাফনের পর আমি খবর পেয়েছি তিনি আর নাই।
আমি পাগলের মত ছুটে গিয়েছি৷ কেন শেষ বার তাকে দেখতে পেলাম না।
পাগলের মতো কেঁদেছি।
তার শূন্যতা আমাকে পুড়িয়েছে।।

আমি আসলে তখন অনুভব করেছি জীবন থেকে কি হারিয়েছি।।

তার মৃত্যু পর আমার সম্পদ গুলো ভাগ করেছি।
তার ভাগ টুকু আমি তার গরীব আত্মীয় স্বজনদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছি।।

এবং একটা মসজিদের কাজে সাহায্য করেছি তার ভাগ থেকে।

সে নাই তার শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরতো। কিন্তুু আমরা তো স্বার্থপর মানুষ সংসার বাচ্চাদের মায়াতে ধীরে ধীরে তার শোক কাটি উঠেছি।।

পুরুষ মানুষ হয়তো একটু সেলফিশ টাইপের।

আমাদের ভালোবাসাটা সেখানেই শেষ ....

এখন অন্য নারী আমার বউ।

সে তার ভাই এর বউদের বলেছিলো আমার কোনো সন্তান নেই, এবং মনে রাখার মতো কোনো কাজ পৃথিবীতে করে আমি যাই নি।
আমাকে কেউ মনে রাখবে না।
কারো প্রতি অভিযোগ নাই, কিছুই নাই শুধু শূন্যতা ছাড়া।

সংগৃহীত।
follow 👇
Md Harunur Roshid Ruhani
গ্রীণ রিলিফ কালিয়াকৈর শাখা Green relief Kaliakoir Section

26/08/2026

স্বামী মা/রা যাওয়ায় ছোট ছোট দুটি মেয়ে নিয়ে বিপদে পরেন এক মহিলা। এমন সময় আরিফুল নামের এক লোক মহিলাকে ২য় বিয়ের প্রস্তাব দেন।

দুই মেয়েকে বাবার মত আগলে রাখা, পড়াশোনা ও বিয়ের দায়িত্বও নিবেন বলে জানায়। ফলে মহিলা মেয়েদের ভালো রাখার জন্য ২য় বিয়েতে রাজি হোন।

৪ বছর ভালোই চলছিলো। কিন্ত বড় মেয়েটি যখন ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয় তখন সৎ বাবা হয়েও কুন/জর দিতে থাকে আরিফুল।

একদিন রাতে জো/রপূর্বক সৎ মেয়েকে ধর্ষ/ণ করেন বাবা আরিফুল। এরপর তাকে বলা হয় এই কথা কাউকে বললে তাকে ও তার ছোট বোনকে মে/রে ফেলবে।

এরপর থেকে প্রায়ই জো/রপূর্বক মেয়েটিকে ধর্ষ/ণ করতে থাকে আরিফুল। এক পর্যায়ে মেয়েটি প্রে/গন্যান্ট হয়ে যায়।

মেয়েটি তার মাকে সব খুলে বলে। মা তার মেয়েকে সাথে নিয়ে সৎ বাবার নামে মা/মলা করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আদালত সৎ বাবাকে ধর্ষ/ণের দায়ে যা/বজ্জীবন কা/রাদণ্ড দেয়। এবং ১ লক্ষ টাকা জরি/মানা করেন।

ঘটনাটি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ঘটেছে।

#বাবা #মেয়ে #নিউজ

25/08/2026

জমা ৮০/-, কথায় লেখা একশত বিশ টাকা মাত্র। স্লিপে লেখাটা কি ভূল নাকি সঠিক। আমি বুঝিনি। বিষয়টি কেউ বুঝিয়ে দিবেন?

25/08/2026

মহল্লার এক যুবক মা'রা গেল। খবর শুনে সবাই তাকে দেখতে ছুটে এলো। এলাকার সম্মানিত মুরব্বি ব্যক্তি হিসেবে শায়েখ আব্দুল্লাহও গেলেন। ছেলেটিকে তিনি চিনতেন। ভদ্র, শান্ত স্বভাবের বলেই সবাই জানত তাকে।

বাড়িতে মানুষের ভিড়। আত্মীয়স্বজন কান্নাকাটি করছে। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছে, কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ছেলেটির মায়ের কান্না ছিল অন্যরকম। যেন বুকফাটা আর্তনাদ। এমন কান্না, যা শুধু মৃত্যুর শোকে নয়—আরও গভীর কোনো যন্ত্রণায় ভরা।

শায়েখ আব্দুল্লাহ ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে বললেন,

বোন, পৃথিবীতে কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না। আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আপনার ছেলে মা'রা গেছে—এটাই আল্লাহর ফয়সালা। এতে ধৈর্য ধরুন। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।

মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন,
শায়েখ, আমার ছেলে মারা গেছে—এটা আমি মেনে নিয়েছি। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আমি কাঁদছি... সে যেভাবে মারা গেল, সেটা মনে করে.

কথাটা শুনে শায়েখ চুপ হয়ে গেলেন। আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না।

কিছুদিন পর সেই মা নিজেই শায়েখকে পুরো ঘটনা খুলে বললেন—আমার ছেলে প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিত। আমরা ভাবতাম হয়তো ক্লান্ত, একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পর বের হয়ে খাওয়া-দাওয়া করত, আমাদের সাথে গল্প করত। এটাই ছিল তার প্রতিদিনের অভ্যাস।

সেদিনও প্রতিদিনের মতো বাসায় এসে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। অনেক সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। আমরা ডাকলাম, দরজায় নক করলাম—কোনো উত্তর নেই। চার-পাঁচ ঘণ্টা পার হয়ে গেল। শেষে বাধ্য হয়ে দরজা ভাঙতে হলো।

ভেতরে ঢুকে দেখি, আমার ছেলে বিছানায় নিথর পড়ে আছে। আর সামনে ল্যাপটপে চলছে অশ্লীল ভিডিও..
এতটুকু বলে মায়ের গলা বন্ধ হয়ে এলো।

আমরা কখনো কল্পনাও করিনি সে এসব দেখত। প্রতিদিন যে সময়টা আমরা ভাবতাম সে বিশ্রাম নেয়, সেই সময়েই সে গোপনে এই নোংরামিতে ডুবে থাকত। আর সেই অবস্থাতেই আল্লাহ তার মৃ'ত্যু দিলেন... এটা ভাবতেই আমার বুক ফেটে যায়...

শায়েখ আব্দুল্লাহ নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। মায়ের চোখের পানি টপটপ করে মেঝেতে পড়ছিল।

আসলে মানুষ যখন প্রথমবার গোপনে কোনো গুনাহ করে, তখন তার ভেতরে ভয় কাজ করে, অপরাধবোধ হয়। সে তাওবা করে, আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু যখন কেউ বারবার লুকিয়ে গুনাহ করতে থাকে, একসময় সেই গুনাহ তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্তর কঠিন হয়ে যায়। তখন সে ভাবে—কেউ তো দেখছে না।

কিন্তু মানুষ না দেখলেও আল্লাহ সব দেখেন।
আর কখনো কখনো আল্লাহ এমনভাবে পর্দা সরিয়ে দেন, যা কল্পনারও বাইরে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—গুনাহ করতে করতেই মৃ'ত্যু চলে আসা। কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন:

প্রত্যেক মানুষকে সেই অবস্থাতেই উঠানো হবে, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। (সহি মুসলিম, হাদিস: ২৮৭৮)
তাই গোপন গুনাহকে ছোট মনে করবেন না। মানুষকে লুকানো যায়, কিন্তু আল্লাহকে নয়।

📌 বিশেষ অনুরোধ:
গল্পটি একটি শিক্ষামূলক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাল্পনিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাই ঘটনাটির খুঁটিনাটি নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক মতামত বা বিতর্ক না করে, লেখাটির মূল শিক্ষা ও সতর্কবার্তাটি বোঝার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে গোপন ও প্রকাশ্য সব গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

23/08/2026

“ঘরে ঘরে এমন অজস্র আবু জাহেল আছে”

ছেলে ইমুতে মেসেজ পাঠিয়েছে-
“বাবা আপনার নামে ২০ হাজার টাকা ছেড়েছি, এ টাকা দিয়ে আপনি ডাক্তার দেখাবেন, ফল কিনে খাবেন। গোপন নাম্বারে পাঠিয়েছি, আপনি আইডি কার্ড নিয়ে জনতা ব‍্যাংকে গেলেই টাকা পেয়ে যাবেন”।
(গোপনীয়তার স্বার্থে পিন নাম্বারটি দিলাম না)।

ছেলের কথা মতো বাবা আজ জনতা ব‍্যাংক গৌরীপুর শাখায় এসেছেন টাকা তোলার জন‍্য। বেশ অসুস্থ শরীর তাঁর। কোনমতে লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন। বললাম- এই শরীর নিয়ে একা একা আসা ঠিক হয়নি আপনার।
তিনি জানালেন- সাথে আসার মতো কাউকে পাননি বলে কষ্ট করে একাই এসেছেন। টাকা তুলে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর বাড়ি ফিরবেন।

মুরুব্বিকে আমার রুমে বসিয়ে সহকর্মীকে বললাম ওনার টাকাটা পে-আউট করে দেয়ার জন‍্য। কিছুক্ষণ পর আমার সহকর্মী জানালো, এই টাকার বেনিফিসিয়ারী তিনি নন, অন‍্য আরেকজন। পরবর্তীতে গোপন পিন নাম্বারটি আমি নিজে কয়েক বার মিলিয়ে দেখলাম, সহকর্মীর কথাই সত‍্যি। পরে ভদ্রলোকের কাছে জানতে চাইলাম উল্লেখিত ব‍্যাক্তিকে আপনি চিনেন কিনা। নাম শোনতেই তাঁর দু’চোখে জলের তান্ডব দেখলাম!
অভাগা বাবা কাঁদতে কাঁদতে লাঠিতে ভর দিয়ে চলে গেলেন।

তখন নায়ক রাজ্জাকের “বাবা কেনো চাকর” সিনেমাটির কথা মনে পড়ে গেল। হৃদয়ে বাজতে লাগলো- আমার মতো এমন সুখী নেইতো কারো জীবন…..

বুঝতে পারলাম, ছেলে তার শ্বশুরকে পাঠানো মেসেজটি ভুলক্রমে বাবার মোবাইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ঘন্টা দেড়েক পর একজন তড়তাজা ভদ্রলোক এসে সে টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। তারঁ সাথেও কথা হল। জানতে চাইলাম কে টাকা পাঠিয়েছেন।
মাঝ বয়োসী ভদ্রলোক জানালো - “আমার জামাই, নবীর দেশে থাকে। খুব ভালো ছেলে, কয়েক মাস পর পর শরীর চেকআপের জন‍্য টাকা পাঠায়। পাগল একটা জামাই!, দোয়া করবেন স‍্যার।

আমি কিছুক্ষণের জন‍্য স্তব্দ হয়ে গেলাম। ভাবলাম বাবা ছেলেকে বড় করে নবীর দেশে পাঠিয়েছিলেন ঠিকই, এখন সে আবু জাহেলের দেশে বাস করে……

মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন
ব‍্যবস্থাপক,জনতা ব‍্যাংক পিএলসি.গৌরীপুর শাখা।

23/08/2026

আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!

©

22/08/2026

যদি একজন ছেলে আগেই জানত, তার মৃত্যুর দিন কবে, তবুও সে সেদিনও রোজগারের জন্য বেরিয়ে পড়ত।

21/08/2026

ছোট ব্যবসা করুন, রিকশা চালান, প্রয়োজনে মাটি কাটুন, কষ্ট হলেও নিজের মাটিতে কষ্ট করুন।
তবুও এই মুহূর্তে সৌদি আরবে আসার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন।
দূর থেকে প্রবাস জীবন যতটা রঙিন মনে হয়, কাছে এলে অনেকের গল্পটা হয় একেবারেই অন্যরকম।
মুখে হাসি থাকলেও বুকের ভেতর চলছে নীরব কান্না, ঋণের বোঝা আর পরিবারের চাপ।

সৌদি আরব আসা মানেই লাখ টাকা ইনকাম,
এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন।
দালালের কথায় স্বপ্ন দেখে নয়, বাস্তবতা জেনে সিদ্ধান্ত নিন।
দেশে কষ্ট করে উপার্জন করাও ভালো, তবুও ঋণ করে প্রবাসে এসে বুকফাটা কান্না কাঁদার চেয়ে!
বাস্তবতা বুঝুন। 🙏

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Sherpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Nalitabari
Sherpur
WRITER