RK Rifat
RK
My new creation
# # # দাদুর ছেলেবেলা
রাতের খাওয়া শেষ করে নাতি রাফি দাদুর পাশে বসে বলল,
—দাদু, তুমি ছোটবেলায় কেমন ছিলে বলো তো?
দাদু হাসলেন, চোখে একটু দূরের আলো ফুটে উঠল। তিনি ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন—
“আমার ছেলেবেলা ছিল ভোরের নদীর মতো সরল আর টলমল। তখন এত বিদ্যুৎ ছিল না, আমরা কুপির আলোয় পড়াশোনা করতাম। মাঠে সারাদিন দৌড়াতাম, গরুর গাড়িতে চড়ে মেলা দেখতে যেতাম।
একবার বর্ষায় নদী ভেসে গিয়েছিল। আমি আর আমার বন্ধু মিলে কলাপাতার নৌকা বানিয়ে ছেড়ে দিতাম। সেই নৌকা কতদূর চলে যেত কে জানে! মনে হতো, নৌকাটা নিশ্চয়ই কোন অজানা গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছে।
খেলার মাঠ ছিল আমাদের স্বর্গ। লাটিম, গুলি, কাবাডি, দড়ি লাফ—কোনো কিছুই বাদ যেত না। বইয়ের ব্যাগও ছিল হালকা, পড়াশোনার চাপও কম, কিন্তু আনন্দ ছিল ভরপুর।
আর সবচেয়ে বড় কথা, তখন মানুষের মনে ভালোবাসা ছিল বেশি। গ্রামের সবাই সবাইকে চিনত। কারো ঘরে ধান উঠলে পাশের বাড়ি গিয়ে সাহায্য করতাম, কেউ অসুস্থ হলে সবাই ছুটে আসত।”
দাদু থামলেন, নাতি রাফি মুগ্ধ চোখে শুনছিল।
সে ধীরে বলল,
—দাদু, তোমাদের ছেলেবেলা তো আসলেই অনেক সুন্দর ছিল!
দাদু হাসলেন, মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
—হ্যাঁ বাবা, তখন সময় ছিল সরল, তাই আনন্দও ছিল গভীর। তোমাদের সময় আলাদা, কিন্তু যদি হৃদয়ে ভালোবাসা আর খেলাধুলার জায়গা থাকে, তবে প্রতিটি ছেলেবেলাই সুন্দর হয়ে ওঠে।”
New creation
Writer: Md: Rifat Mia
# # # **গল্প: "পুরনো ঘড়িটা"**
রাজীবের দাদাবাড়ির ঘরে একটা পুরনো ঘড়ি ছিল। কাঠের তৈরি, মেরুন রঙের, দেয়ালে ঝোলানো সেই ঘড়িটা ছোটবেলায় তাকে ভয় পাইয়ে দিত। রাতের বেলা ঘড়ির *টিক টিক* শব্দে রাজীব ঘুমাতে পারত না।
দাদু সবসময় বলতেন, "এই ঘড়িটা শুধু সময় বলে না, স্মৃতি ধরে রাখে।"
বছর দশেক পর রাজীব আবার ফিরে এল দাদাবাড়িতে, দাদু মারা গেছেন অনেক আগেই। বাড়িটা এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ভেতরে ঢুকে রাজীব অবাক হয়ে দেখল, সেই ঘড়িটা এখনও দেয়ালে ঝোলানো। হালকা ধুলোমাখা, কিন্তু ঠিকই চলছে।
হঠাৎ ঘড়িটা বেজে উঠল — *টানnn*... একবার, দু’বার... বারোটা বাজল। সেই সঙ্গে ঘড়ির পাশের তাক থেকে একটা পুরনো চিঠি পড়ে গেল নিচে।
চিঠিতে লেখা ছিল:
*"যদি কেউ এই ঘড়িটার শব্দ শুনে থেমে যায়, তবে বুঝবে সে আমার মতোই সময়ের মাঝে আটকে গেছে।"*
— দাদু
রাজীব কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। হয়তো দাদু সত্যিই ঠিক বলেছিলেন— সময় শুধু চলে না, কিছু অনুভূতিও রেখে যায়।
🌹 একটু কাছে (গল্প থেকে কবিতা)
লাইব্রেরির কোণে চুপটি করে,
তামান্না ডুবে বইয়ের ঘোরে।
চোখে তার এক স্বপ্ন লুকানো,
কথা নয়, নিঃশব্দে বলা মনো।
রাফি বসে দূরের চেয়ারে,
প্রতিদিন চায় এক চাওয়ার তরে।
শব্দে নয়, চোখে চোখে কবিতা,
তার ভালোবাসা — এক মিষ্টি অনুভবিতা।
একদিন হঠাৎ বই পড়ে যায়,
তামান্নার আঙুল থমকে দাঁড়ায়।
রাফি এগিয়ে তুলে দিল হাতে,
বলল হেসে, “চোখ আজ কিছু বলতে চায় স্নেহভরে।”
তামান্না হেসে মুখ ফিরায়,
লাজে গালটা গোলাপ ছুঁয়ায়।
বলল ধীরে, “তুমি তাকাও কেন?”
রাফি বলল, “তুমি দেখলেই দিনটা হয় পূর্ণতায় ভরা যেন।”
তারপর থেকে নীরব সেই কোণ,
দুজনার চোখে লেখা প্রেমের চিহ্ন।
কথা কম, অনুভব বেশি,
ভালোবাসা তো এমনি নিঃশব্দে হাসি।
গল্পের নাম: "একটু কাছে"
তামান্না আর রাফি—দুইজনই একই ভার্সিটিতে পড়ে, কিন্তু কখনও একে অপরের সঙ্গে বিশেষ কথা হয়নি। তামান্না সবসময় লাইব্রেরির এক কোণে বসে বই পড়ে, আর রাফি চুপচাপ তাকিয়ে থাকে দূর থেকে।
একদিন তামান্নার হাত থেকে বই পড়ে যায়, আর রাফি সেটা কুড়িয়ে দিয়ে বলে,
“তোমার বই পড়ে গেল, কিন্তু চোখের পাতা যেন এখনো ঝরছে।”
তামান্না একটু চমকে উঠে, হাসতে গিয়ে চোখ সরিয়ে নেয়।
সে বলল, “তুমি সবসময় তাকিয়ে থাকো কেন?”
রাফি হেসে বলল, “কারণ, প্রতিদিন তোমাকে একটু কাছ থেকে দেখলেই দিনটা ভালো যায়।”
সেই প্রথম কথার পর, লাইব্রেরির সেই কোণটাই একদিন তাদের প্রিয় জায়গা হয়ে ওঠে।
কোনো শব্দ না বলেও তারা বুঝতে শিখে—ভালোবাসা শুধু চাওয়ার নয়, ধীরে ধীরে অনুভব করার নাম।
ভালোবাসা সুন্দর কিন্তু বন্ধুত্ব তার থেকেও সুন্দর
https://www.facebook.com/profile.php?id=61571033055204
Caption only Digital creator
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Polashbari
Rangpur