Natural Touch
Organic products that made from Pure Aloevera...Try these for gaining a healthy skin....❣️❣️
09/06/2026
#অবাধ্য_চাওয়া_২_ ধামাকা_পর্ব
#লেখিকা_আরিশা_জান্নাত_রিয়া_পর্ব_৪২
আনায়া এদিকে ঘুরতেই আহিরাজ ফট করে তাকে কোলে তুলে নিলো৷ আনায়া কিছু বলতে গিয়েও গিলে ফেললো৷ সে জানে বলে কেনো লাভ নাই ওর যা করার সে ঠিকই করবে৷ তাই আনায়া চুপ আছে৷ আহিরাজ আনায়াকে বিছানায় এনে বসিয়ে দিলো৷ আনায়া কিছু বললো না৷ সে হাতের দিকে তাকিয়ে আছে৷ জায়ান ভালবেসে একটা গিফট করলো আনায়া সেটাও যত্ন করে কাছে রাখতে পারলো না এটা ভাবতেই তার খুব কষ্ট হচ্ছে৷ চোখে পানি টলমল করে উঠতে লাগলো৷ আহিরাজ খালি গায়ে টাওজার পড়ে ঘুরছে৷ আনায়া সেদিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে দিলো৷ সে আর এখানে থেকে কি করবে চলে যাওয়াই ভালো৷ যা করার জন্য এনেছিল তা তো করেছেই৷ এতো সুন্দর একটা শাড়ি পড়তে নিষেধ করে দিলো৷ জীবনে প্রথম একটা শাড়ি পড়লো সবাই এতো প্রশংসা করলো তাও সেটা ফেলে দিতে হবে,ভাবতেই আরো কান্না পাচ্ছে আনায়ার৷ আহিরাজ আনায়ার চোখে পানি দেখে কাছে এসে তার মুখটা উঁচু করে ধরে বলে উঠলো,,,
--- কি নাগরের দেওয়া গিফটের জন্য কান্না পাচ্ছে৷
আনায়া হাত ঝামটা মেরে সরিয়ে দিতে নিলো কিন্তু আহিরাজ একটু জোরেই চেপে ধরেছে যার জন্য ছাড়াতে পারলো না৷ আহিরাজ একটু নিচে হয়ে আনায়ার একটু কাছে চলে এলো৷ তারপর হিসহিসিয়ে বললো,,,,
--- আমাকে কি তোর চোখে পড়ে না৷ ভালো করে দেখ তো কি নাই আমার মধ্যে যা ওই জায়ানের মধ্যে পেয়েছিস তুই৷
আনায়া আহিরাজের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে৷ এই আহিরাজ যেনো একটু বেশিই হিংস্র হয়ে গেছে৷ কই আগে তো এমন করতো না৷ তখন তো অন্যভাবে অত্যাচার করতো৷ কিন্তু এখন তো শরীলে ব্যাথা দিচ্ছে৷ আনায়ার মুখটা আবার ব্যাথা হয়ে যাচ্ছে৷ সে আহিরাজের হাত ছাড়ানোর জন্য হাত উঠাতেই আহিরাজ আনায়াকে ধাক্কা মেরে বিছানায় শুয়িয়ে দিলো৷ তারপর ঝুঁকে এসে বললো,,,
--- গহনা পড়ার খুব শখ তোর তাই না৷ তাই তো নাগরের থেকে এসব নিলি৷।আমাকে একবার বলতি তোকে সোনা দিয়ে মুরিয়ে দিতাম৷
আনায়া আমতা আমতা করে বললো,,,
--- আমি বলি নাই উনাকে, উনি ভালবেসে দিয়েছেন৷
ভালবাসা, ব্যাস এই একটা শব্দ আহিরাজের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো৷ সে আনায়ার দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকালো৷ আনায়া ভয়ে ঢোক গিললো৷ আহিরাজ এবার আনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো,,,
--- লাভ, হাহ? আই'ল শো ইউ হোয়াট লাভ ট্রুলি মিন্স। ইউ'ল লার্ন জাস্ট হাউ মেনি ফর্মস লাভ ক্যান টেক।
আহিরাজ উঠে গিয়ে কাভার্ডের সামনে গিয়ে দাড়ালো৷ তারপর বড় একটা বক্স বের করে নিয়ে আসলো৷ আনায়া বুঝতে পারছে না এটার মধ্যে আবার কি৷ আহিরাজ আনায়ার সামনে গিয়ে বসলো৷ তারপর আনায়ার হাত ধরে সোজা করে বসিয়ে দিয়ে বললো,,,,
--- গহনা তোর খুব পছন্দ তাই না৷। এই নে গহনা৷ আজ তোকে নিজের হাতে সাজাবো গহনা দিয়ে। দেখি তুই কত গহনা পড়তে পারিস৷
আনায়ার শরীলে যেসব হলুদের অনা মেনস্ ছিলো সব গোসলের সময় পড়ে গেছে আহিরাজের শরীল ঘসার কারণে৷ এখন কোনো কিছুই শরীলে নাই৷চুল গুলো ভিজা ঢিলা ঢালা শার্ট পড়া ভিতরে ইনার নাই৷ আনায়ার কেমন অসস্তি হচ্ছে৷ তারউপর আহিরাজ বার বার কেমন কাছে চলে আসছে যার জন্য সে অসস্তিতে পড়ে যাচ্ছে৷আহিরাজ একটা বক্স খুলে একজোড়া কানের দুল বের করলো৷ সেখান থেকে একটা নিয়ে আয়নায় কাছে এসে বললো,,,
--- কাছে আয় নিজের হাতে সাজাবো তোকে৷
আনায়া মনে মনে ঢোক গিলতে লাগলো৷ এখন এসব পড়ে কি করবে সে এখন তো ঘুমানোর সময়৷ আর ঘুমানোর সময় তো আনায়া এসব পড়ে ঘুমাতে পারবে না।শুধু শুধু পড়ে কি করবে৷ আনায়া ভয়ে ভয়ে মুখ খুলে বললো,,,,
--- এ,,এখন এসব পড়ে কি করবো৷ আমি পড়ে পড়বো৷
--- পড়ে না সুইটহার্ট এখনই পড়বি তাও আবার আমার হাতে৷
--- মা,,মানে৷
--- মানে খুবই সোজা সুইটহার্ট । তোর শরীলের প্রতিটা অঙ্গ পতঙ্গ ছুঁবে এখন আবার হাত৷
কথাটা বলেই টান নিয়ে আনায়াকে নিজের কোলের উপর বসিয়ে দিলো৷ আনায়া ছটফট করে উঠলো লজ্জায় অসস্তিতে৷ আহিরাজ আনায়ার কানে হাত দিয়ে দুল পড়িয়ে দিতে লাগলো৷ আহিরাজের ঠান্ডা হাতের স্পর্শে আনায়া কেঁপে কেঁপে উঠছে৷ আহিরাজ কানের দুল পড়িয়ে কানের লতিতে চুমু খেয়ে বললো,,,,
--- কাঁপা-কাঁপি করলে কিন্তু আমি নিজেকে সামলাতে পারবো না বেইবি৷ তাই সাবধানে কাঁপো তা না হলে আমাকে আটকানোর সাদ্ধি কিন্তু তোমার এই টুকোনো শরীলে হবে না৷
আনায়া দাঁতে দাঁত চেপে ধরে রাখলো৷ আহিরাজ এবার গলায় একটা নেকলেস পড়িয়ে দিলো৷ তারপর সীতা হার গলায় দিয়ে তাকিয়ে রইলো একদম বউ বউ লাগছে আনায়াকে৷আহিরাজ আরো একটা বক্স খুলে হাতের বালা বের করলো৷ আনায়ার হা ধরে বালা পড়াতে নিলেই আনায়া ব্যাথায় হাত সরিয়ে নিলো৷ আহিরাজ রাগী চোখে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বললো,,,,
--- কি হলো হাত সরালে কেনো৷
--- এটা পড়াবেন না প্লিজ৷
--- কেনো নাগর যখন হাতে পড়ালো তখন খুব ভালো লাগছে তাই না৷ আর এখন আমি পড়াচ্ছি বলে হাতে ফোসকা পড়ছে তোর৷
আহিরাজ রেগে জোর করে হাতে পড়িয়ে দিলো৷ এতক্ষণ চামড়া ছিলে যাওয়ার জন্য জ্বালাপোড়া করছিলো৷ এখন তো বিন্দুবিন্দু রক্ত ও পড়তে শুরু করলো৷ আহিরাজ রাগের কারণে সেটা চোখেও দেখলো না৷ আনায়ার চোখ দিয়ে এবার পানি পড়তে শুরু করলো৷ আহিরাজ মুখ চেপে ধরে বললো,,,
--- নাগরের জিনিস খুলে ফেলেছি বলে এতো কান্না৷ বাহ্ বাহ্ পিরিত দেখি উথলে পড়ছে তোর৷
--- আপনি মানুষ না অমানুষ৷
আহিরাজ রেগে আনায়াকে বিছানায় ফেলে চেপে ধরলো৷ তারপর চোখে চোখ রেখে নেষাক্ত কন্ঠে বললো,,,,
--- অমানুষ কাকে বলে দেখাই একটু কি বলিস দেখাবো৷
কথাটা বলে আনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে কানের লতিতে চুমু দিতে লাগলো৷ আনায়ার শরীলে কারেন্ট খেলে গেলো৷ সে আজিরাজ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে নিলো কিন্তু তাকে এক ইঞ্চি ও সরাতে পারলো না আহিরাজ এবার গলায় মুখ ডুবিয়ে কিস করতে লাগলো৷ আনায়া ভয়ে শেষ এমনিতেই রেগে আছে তার উপর আনায়ার পোশাকের যে অবস্থা ভাবতেই গা কেঁপে উঠলো আনায়ার৷ আহিরাজ এক সেকেন্ডও সময় না নিয়ে আনায়ার শার্টের ভিতরে হাত দিয়ে দিলো৷ প্রথমেই হাতে পেচলো আহিরাজের দেওয়া প্রথম সেই গিফট কোমর বন্ধরি৷ এদিকে আনায়া আকুতি করে বলতে লাগলো,,,
--- প্লিজ শরীলে হাত দিবেন না। আমি মরে যাবো প্লিজ৷
আহিরাজ আনায়ার কথায় কান দিলো না৷ সে হাত আরো ভিতরে দিয়ে আনায়ার শরীলে আকিবুকি করতে লাগলো৷ আনায়া প্রতিটা স্পর্শে কেঁপে কেঁপে উঠছে৷ আহিরাজ এবার গভীর ভাবে শরীল স্পর্শ করতেই আনায়া দম বন্ধ করে নিলো৷ আহিরাজের হাতের স্পর্শ থামছে না বরং আরো গভীর হতে লাগলো৷ আনায়ার লজ্জায় ঘৃণায় চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো৷ আহিরাজ শার্ট উচু করে নাভিতে কিস করলো৷ নাভির আশে পাশে ও বের কয়েকবার কিস করলো৷ আনায়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাখলো৷ আহিরাজ মুখ উঠিয়ে আনায়ার মুখের দিকে তাকালো৷ তারপর আরো একটা বক্স খুলে একজোড়া সোনার নুপুর বের করলো৷ আনায়া এখনো চোখ বন্ধ করে রেখেছে৷ আহিরাজ হঠাৎ নিচের দিকে সরে গিয়ে আনায়ার পায়ে হাত রাখলো৷ মূর্হতের মধ্যে হাত দিয়ে টাওজার উপরে উঠিয়ে দিলো৷ আনায়া লাফ দিয়ে উঠে বসে বললো,,,
--- কি করছেন আপনি৷ উপরে উঠাচ্ছেন কেনো৷
--- উপর নিচে সব জাইগা উঠানো নামানোর দ্বায়িত্ব আমার৷
আনায়ার মুখের জবান বন্ধ হয়ে গেলো৷ আহিরাজ বক্স থেকে নুপুর নিয়ে আনায়ার পায়ে পড়িয়ে দিলো৷ আনায়া হতবাক হয়ে তাকালো সোনার নুপুর দেখে৷ আহিরাজ দুই পায়ে পড়িয়ে দিয়ে আনায়ার দিকে তাকালো৷ ছোট ছোট কয়েকটা বক্স বের করে আঙুলে আংটি পড়িয়ে দিতে লাগলো৷ আনায়া কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল৷ জায়ান একটা ব্যাচ দিয়েছে বলে এই লোক এতোকিছু নিয়ে আসলো পাগল নাকি আনায়া ভেবে পাচ্ছে না৷ আহিরাজ আনায়ার দিকে তাকালো পুরোই সোনায় মুড়িয়ে দিয়েছে তাকে৷ আহিরাজ এবার আনায়ার দিকে তাকিয়ে বললো,,,,
--- যখন যা লাগবে আমাকে বলবে৷ তোমাকে পুরো সোনায় মুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে।
আনায়া একটু,সাহস নিয়ে আমতা আমতা করে বললো,,,
--- আপনাকে কেনো বলবো আমার পাপা আছে বড় আব্বু আছে তাদের বলবো৷ আপনাকে কখনো বলবো না আমি৷
--- তাদেরি বলো তবুও কোনো নাগরকে যেনো বলতে না দেখি৷
--- একশো বার বলবো৷ আমি জায়ান কে ভালবাসি৷ আপুনির বিয়ে হলে ওরা আমাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে৷ আমি জানি এ বাড়ির কেউ না করবে না কারণ জায়ান অনেক ভালো ছেলে। বিজনেস করে৷কোনো কিছুর অভাব নাই। এমন ভালো ছেলে কে হাতছাড়া করে৷
--- তোমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে৷ ৷
--- আমার আঠেরো বছর হয়নি তাতে কি৷ আগের সময় মানুষ আঠারো বছরে দুই তিন সন্তানের মা থাকতো৷ সেই হিসেবে অবশ্যই আমার বিয়ের বয়স হয়েছে৷
আহিরাজ বাঁকা হেসে বললো,,,
*-; তাহলে তো বাসরের বয়স ও হয়েছে তাই নাা সুইটহার্ট৷
-- হু
আনায়া আনমনে হু বলে উঠতেই আহিরাজ টান দিয়ে আনায়াকে বিছানায় ফেলে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো৷ আনায়া হতবাক, ছেলেটার কথা নাই কিছু বলা নাই হঠাৎ এমন আক্রমণের কারণ বুঝতে পারছে না৷ আহিরাজ আনায়ার মুখের দুপাশে ধরে গভীর ভাবে কিস করতে লাগলো৷ আনায়া ছটফট করলেও আহিরাজ শুনলো না। সে একটা হাত আনায়ার শার্টের ভিতর দিয়ে রাখতেই আনায়া জমে গেলো একেবারে৷ আহিরাজ পাগলের মতো আনায়ার ঠোঁট কামড়ে কিস করছে৷ আনায়ার দম শেষ হওয়ার আগে ছেড়ে দিয়ে ফিসফিস করে বললো,,,
--- বাসরের জন্য প্রস্তত সুইটহার্ট৷
চলবে,,,,
07/06/2026
#প্রণয়ের_কাব্য [ ৭১ ] ( ফিরে দেখা অতীত —০১)
#কলমে_ইস্ক
(⛔ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ⛔ চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন)
তাসনীম বেগমের সেই তীব্র চিৎকার ঘরের প্রতিটি দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে এক পৈশাচিক প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করল। ঘরের ভেতরের আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলাটাও সেই চিৎকারের কম্পনে থমকে গেল। দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা সানায়া, রুহানি আর উষাণ—তিনজনেরই পায়ের তলার মাটি যেন ততক্ষণে সরে গিয়েছে। এলিজার মুখ থেকে বের হওয়া শেষ বাক্যটা তাদের মগজে এক একটা জ্বলন্ত সীসার মতো গিয়ে বিঁধেছে।
সানায়া তার মায়ের ফ্যাকাসে, ঘর্মাক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে অস্ফুটে ডাকল,
❝আম্মু... এলিজা এসব কী বলছে?❞
তাসনীম বেগম নিজের কাঁপতে থাকা হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করলেন। তাঁর চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, যাতে মিশে ছিল একাধারে অপমান, তীব্র কষ্ট আর বহু বছর ধরে চেপে রাখা এক চরম অবদমিত ক্ষোভ। তিনি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এলিজার একদম মুখোমুখি হলেন। তাঁর গলার স্বর এবার এক অদ্ভুত হিমশীতল গম্ভীরতায় রূপ নিল।
তিনি এলিজার চোখের দিকে তাকিয়ে নিচু অথচ ধারালো গলায় বললেন,
❝তোর সাহসের প্রশংসা করতে হয় এলিজা! তুই আজ আমার চেনা শান্ত মেয়েটার খোলস ছেড়ে এক নির্মম বিচারকের মতো আমার কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছিস। কিন্তু তুই যে সম্পর্কের সমীকরণটা এত সহজে মিলিয়ে ফেললি, তার পেছনের সত্যটা কতটা বিষাক্ত, কতটা রক্তাক্ত... তা জানার মতো ম্যাচিউরিটি কি তোর এই ছোট মস্তিষ্কে আছে রে ? তুই যাকে ‘বেস্ট ফ্রেন্ডের হাসবেন্ডকে কেড়ে নেওয়া’ বলছিস, সেই পাপের বিষাক্ত তিলক আমার গায়ে আঁকার আগে নিজের ফুপির অতীতটা একবার খুঁজে দেখেছিস?❞
এলিজা এক চুলও নড়ল না। তার চোখের নীলচে মণি দুটো আজ অনড়। সে বলল,
❝আমি তো সেটাই জানতে এসেছি আন্টি! আমি কোনো একপাক্ষিক বিচার করতে আসিনি। আমি জানতে চাই সব। ❞
*************************************************************
গ্রীষ্মের এই দহনকালে প্রকৃতির ভোরগুলোও যেন এখন আর স্নিগ্ধতার পরশ নিয়ে আসে না। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই চারপাশের বাতাস এক গুমোট, ভ্যাপসা গরমে ভারী হয়ে ওঠে। রাতের শেষভাগের যেটুকু শীতলতা থাকার কথা, তপ্ত এই দেশের জুন মাসের প্রখর দাবদাহে তাও যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে। পাতাগুলো নিথর, বাতাস স্তব্ধ। এক অস্বস্তিকর, ঘামে ভেজা ভোরের অবিন্যস্ত আলো এসে পড়েছে—খান ম্যানশনের বিশাল গেইটের ওপর। বাড়ির ভেতরে তখনো শেষ রাতের এক সুনসান নীরবতা।
ঠিক তখনই, সেই নিস্তব্ধতা চিরে খান ম্যানশনের কলিং বেলটা যেন বোমা ফাটানোর মতো বিকট শব্দে বেজে উঠল! এক গভীর আর শান্ত পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিল সেই আওয়াজ। এত সকালে এই বাড়িতে কে এলো? একবার... দুবার... তিনবার... কলিং বেলটা আর থামল না। একটানা, পাগলের মতো বার বার বেজে চলল সেই ঘণ্টাধ্বনি। বেলের আওয়াজের সেই তীব্রতা আর অধৈর্যতা দেখে মনে হচ্ছিল, দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আগমনকারীর পিছু বুঝি একদল পুলিশ লেগেছে! এক সেকেন্ডও তর সইছে না তার।
কলিং বেলের এই তীব্র আওয়াজে দিলার কাঁচা ঘুমটা এক ঝটকায় ভেঙে গেল। সে চোখ মেলে বিছানায় উঠে বসল। কপালে তখন একবিন্দু ঘাম জমে উঠেছে। এত ভোর সকালে এভাবে কাণ্ডজ্ঞানহীনের মতো কে বেল বাজাচ্ছে? এমনিতেও শরীরটা বড্ড ক্লান্ত। ঘরে আজ একটা বড় অনুষ্ঠান আছে, তার ওপর আর মাত্র দুদিন পরেই বিয়ে। কত শত কাজের চাপ এই বাড়িতে! গতকাল রাতেও সব গোছগাছ করতে করতে ঘড়ির কাঁটায় রাত তিনটে বেজে গিয়েছিল। মাত্র আড়াই ঘণ্টার ঘুম নিয়ে এভাবে কার আগমন ঘটল?
দিলার মনটা যখন উত্তর খুঁজছে, তখনই তার অবচেতন মন এক অদ্ভুত ব্যাকুলতায় গেয়ে উঠল—হয়তো এলিজা এসেছে! কাল রাত থেকে মেয়েটা বাইরে, সানায়াদের বাসায় রয়ে গিয়েছে। নিজের পেটের মেয়ের কথা মনে আসতেই দিলা আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে শাড়ির আঁচলটা গায়ে জড়িয়ে সে ঘর থেকে বের হলো। দ্রুত পায়ে করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে যখন সে নিচে নেমে এলো, তখন দেখল তার আগেই বড় জা মিতালি বেগম ঘুম থেকে উঠে পড়েছেন এবং বিরক্তি মাখানো মুখে সদর দরজার খিল খোলার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন।
মিতালি বেগম খটখট শব্দে দরজার লকটা খুলে পাল্লা দুটো টেনে ধরতেই বাইরের আলো এসে পড়ল ড্রয়িংরুমের মেঝেতে। আর সেই আলোর সাথে সাথে ভেতরে প্রবেশ করল তিনটি প্রচণ্ড গম্ভীর আর থমথমে মুখ। এলিজা, উষাণ আর রুহানি! তিনজনের চোখ মুখের অবস্থা বিধ্বস্ত।
এত ভোর সকালে তাদের এভাবে দেখে আর ওইরকম পাগলের মতো বেল বাজানোর কাণ্ড প্রত্যক্ষ করে মিতালি বেগম নিজের বিরক্তি আর ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি ভ্রু কুঁচকে, কিছুটা চড়া গলায় বললেন,
❝এত ভোর সকালে কেউ এভাবে কলিং বেল বাজায়? আস্ত বেয়াদব তিনটে ! জানিস না মানুষের ঘুমের সময় এটা?❞
এলিজা এক কদম এগিয়ে এলো।,সে মিতালি বেগমের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে অত্যন্ত তীব্র আর ধারালো কণ্ঠে বলল,
❝আমি বাজাই বড় আম্মু! সমস্যা আছে কোনো?❞
এলিজার গলার সেই অস্বাভাবিক তীব্রতা আর মুখের রুক্ষ চাউনি দেখে মিতালি বেগম স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এক সময় নিজে লালান পালন করা এই ছোট মেয়ের মুখ থেকে এমন সটান উত্তর তিনি আশা করেননি। সিঁড়ির শেষ ধাপে দাঁড়িয়ে দিলাও মেয়ের এমন অবাধ্য আচরণে ক্ষুণ্ণ হলো। সে কিছুটা শাসনের স্বরে, কড়া গলায় বলে উঠল,
❝নীলাদ্রি! তোর বড় আম্মুর সাথে এভাবে বেয়াদবি করছিস কেন তুই? দিন দিন বেয়াদব হয়ে যাচ্ছিস !❞
এলিজা মায়ের এই শাসনের কোনো উত্তর দিল না। মিতালি বেগমের সেই ক্রুদ্ধ চাউনি কিংবা মায়ের বকুনি—কোনো কিছুকেই সে পাত্তাই দিল না। সে নিজের স্বভাবসুলভ নমনীয়তা ঝেড়ে ফেলে, সমস্ত প্রশ্ন আর শাসনকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে সরাসরি নিজের মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,
❝আব্বু ঘুম থেকে উঠলে উনাকে বলবে—সে আর বড় আব্বু যেন এখনই গিয়ে সানভী আপু আর আরিহান ভাইয়াকে এই খান ম্যানশনে নিয়ে আসে। তারা এখন থেকে আর অন্য কোথাও থাকবে না, এই বাড়িতেই থাকবে।❞
কথাটা শোনামাত্রই মিতালি বেগম যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তাঁর ভেতরের সেই রক্ষণশীল, কুটিল মনটা মুহূর্তে চাড়া দিয়ে উঠল। তিনি তীব্র বিরোধিতা করে নাক সিঁটকে বললেন,
❝কখনোই না! ঐ অপয়া মেয়ে এই বাড়ির চৌকাঠ মাড়াবে না। কিছুতেই ওই অলক্ষ্মীকে আমি এই বাড়িতে স্থান দেব না!❞
মিতালি বেগমের মুখে ‘অপয়া’ শব্দটা শুনতেই এলিজার ঠোঁটের কোণে এক চরম তাচ্ছিল্য আর হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে মিতালি বেগমের দিকে তাকিয়ে এক কদম এগিয়ে এসে শান্ত
স্বরে বলল,
❝ আমার নিজের মা-কেও তুমি ‘চরিত্রহীন’ বানিয়ে ফেলেছিলে বড় আম্মু! কিন্তু আমার মা তো তেমন ছিলেন না। আজ সত্যিটা তো সবাই জেনেই গিয়েছ। তাই আজ তুমি নিজের মুখে মুখে বললেই সানভী আপুও এই বাড়ির জন্য অপয়া হয়ে যাবে না। তার এই বাড়িতে মাথা গোঁজার, এই বাড়িতে থাকার সম্পূর্ণ রাইটস আছে। যেমন আরিহান ভাইয়ার অধিকার আছে এই বাড়ির ওপর, ঠিক তেমনি তার বিবাহিতা স্ত্রী হিসেবে সানভী আপুরও সমান অধিকার আছে এ বাড়িতে থাকার!❞
এলিজার মুখ থেকে ‘চরিত্রহীন’ শব্দটা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে উচ্চারিত হতেই মিতালি বেগম যেন এক নিমেষে কুঁকড়ে গেলেন। তিনি যেমন অবাক হলেন, তার চেয়েও বেশি তীব্র এক লজ্জায় তাঁর মাথাটা নত হয়ে এলো। কেন না, দিলার সামনে এভাবে তাঁর অতীতের সেই নোংরা অপবাদের কথাগুলো চলে আসবে, তা তিনি ভাবেননি। এটা তো এক নির্মম চিরন্তন সত্য যে, মিতালি বেগম অতীতে অনেকবারই কথায় কথায়, ইনিয়ে-বিনিয়ে দিলাকে চরিত্রহীন বলে খোটা দিয়েছেন। সমাজে ওই এক শ্রেণীর কুটিল মহিলাদের একটা স্বভাবই থাকে—তারা বাইরে থেকে নিজেদের যতই ভালো আর ধার্মিক প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন, ভেতরের সেই বিষাক্ত, পরনিন্দা আর হিংসার স্বভাবটা তারা মরে গেলেও ছাড়তে পারে না।
এলিজা একটু থামল। তার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা সত্যটা এবার সে তূণের শেষ তীরের মতো ছুঁড়ে দিল। সে মিতালি বেগম আর দিলার দিকে এক পলক চেয়ে শক্ত গলায় বলল,
❝আর সব থেকে বড় কথা কী জানো বড় আম্মু? আমার নিজের আপন ফুপির একমাত্র মেয়ে হিসেবে সানভী আপুর এই বাড়ির ওপর সবচেয়ে বড় অধিকার আছে।❞
এলিজার মুখ থেকে এই একটি বাক্য বের হতেই দিলা আর মিতালি বেগম—দুজনেই যেন একসাথে বজ্রাহত হলেন! তাদের চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল। তারা ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড চমকে গেলেন। দিলার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল—তার নীলাদ্রি এই গোপন সত্যটা জানল কীভাবে?
দিলা এবার পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অত্যন্ত কড়া আর তীব্র কণ্ঠে ধমকে উঠল,
❝নীলাদ্রি! অনেক হয়েছে! আরেকবার যদি তুমি তোমার বড় আম্মুর সাথে এরকম বেয়াদবি করো কিংবা একটাও ফালতু কথা মুখ থেকে বের করো, তুমি আমার হাতের চড় খাবে বলে দিলাম!❞
এলিজা মায়ের সেই চড়ের ভয়কেও আজ তোয়াক্কা করল না। সে দিলার দিকে তাকিয়ে শেষবারের মতো বলল,
❝আমি যা বলেছি, তুমি ঠিকঠাক আব্বুকে কথাগুলো পৌঁছে দিও আম্মু। মনে রেখো, সকাল হতেই যেন ওরা সানভী আপু আর আরিহান ভাইয়াকে এই বাড়িতে নিয়ে আসে।❞
বলেই এলিজা আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। তীব্র গরমে ঘেমেনেয়ে যাওয়া শরীরটা নিয়ে সে গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরের উদ্দেশ্যে ওপরে উঠে গেল। তার পেছনে থাকা রুহানি আর উষাণ—দুজনের কেউই মিতালি বেগম কিংবা দিলার দিকে একটা নজরও দিল না। তাদের মুখগুলোও কেমন নিথর। তারাও কোনো কথা না বাড়িয়ে এলিজার পেছন পেছন ছায়ার মতো ওপরে উঠে গেল।
দিলা মিতালি বেগমের দিকে এক পলক তাকিয়ে, নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। মিতালি বেগমও আর কোনো তর্কের সুযোগ পেলেন না। লজ্জায় আর অপমানে তাঁর নিজের মুখটাও তখন কালো হয়ে গিয়েছে। তিনিও আর একটা শব্দ না করে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।
************************************************************
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল দশটা বেজে গিয়েছে। জুনের সেই ভ্যাপসা গরম আর গুমোট ভাবটা কাটিয়ে সূর্য এখন আকাশের বুকে এক নিষ্ঠুর প্রতাপে রাজত্ব করছে। তীব্র, প্রখর রোদ এসে আছড়ে পড়ছে খান ম্যানশনের প্রতিটি ইটের ওপর। এলিজা তার শোবার ঘরের সংলগ্ন বারান্দার রেলিংয়ে দু-হাত রেখে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে খান ম্যানশনের প্রধান ফটকের দিকে। তার এই বারান্দাটা এমন এক কোণে অবস্থিত, যেখান থেকে মূল গেটের বাইরের পিচঢালা রাস্তা আর ভেতরের উঠোনের প্রতিটি নড়াচড়া স্পষ্ট জলছবির মতো দেখা যায়।
এলিজার পরনে একটা সুতি ঢিলেঢালা পোশাক, কপালে আলগা হয়ে ঝুলে আছে কিছু অবাধ্য চুল। কিন্তু তার চোখের সেই নীলচে মণি দুটোতে তখন কোনো ক্লান্তি নেই, আছে এক গভীর ও রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা।একটা কালো রঙের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে গেটের ঠিক সামনে। গাড়ির দরজা খুলে সর্বপ্রথমে নিচে নামল আরিহান। তার অবয়বে এক চিরচেনা গাম্ভীর্য। আর তার পরপরই গাড়ি থেকে ধীরপায়ে নেমে এলো সানভী।
সানভীর পরনে একটা কুচকুচে কালো রঙের কামিজ, যা এই প্রখর রোদে তার ফর্সা অবয়বকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে। কিন্তু তার সেই চিরচেনা অহংকারী সত্তা টা আজ কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে। মুখটা বড্ড ফ্যাকাশে, কেমন এক মনমরা আর ক্লান্ত ভাব লেপ্টে আছে তার পুরো অবয়বে। চোখ দুটো শালের পাতার মতো নিচু, যেন এক অতলান্ত বিষাদের চাদর মুড়ি দিয়ে নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে লুকিয়ে রাখতে চাইছে মেয়েটা। তার সেই মলিন আর করুণ দশা দূর থেকেও এলিজার চোখ এড়াল না।
ঠিক কী মনে করে, এক অজানা আকর্ষণে সানভী হঠাৎ করেই নিজের মাথাটা একটু উঁচু করে ওপরের দিকে তাকাল। আর তাকানো মাত্রই, দুতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা এলিজার তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সাথে তার সরাসরি চোখাচোখি হয়ে গেল। মাঝখানের এই বিস্তর দূরত্বটুকু যেন এক পলকে মুছে গেল। এলিজা আর নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে সানভীর উদ্দেশ্যে হাত নাড়াল।
ওপর থেকে এলিজার এই হাত নাড়া দেখে সানভী চরম পরিমাণে অবাক হলো। তবে সে-ও কী মনে করে নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান হাসির রেখা টেনে হাত তুলে এলিজাকে ইশারা দিল। কিন্তু সেই হাসির স্থায়িত্ব ছিল বড়জোর কয়েক সেকেন্ড। পরক্ষণেই এক অদ্ভুত অপরাধবোধ আর বিষাদে তার মুখটা আবার কালো মেঘের মতো অন্ধকার হয়ে গেল। এক রাশ হাহাকার বুকে চেপে সে চট করে নিজের চোখ দুটো নামিয়ে নিল নিচের দিকে।
ঠিক তখনই আমিনুল খান বাইরে বেরিয়ে এলেন। তিনি গম্ভীর অথচ স্নেহশীল কণ্ঠে তাদের ভেতরে আসার জন্য ডাকলেন। আমিনুল খানের সেই ডাক শুনে আরিহান আর সানভী ধীরপায়ে খান ম্যানশনের অন্দরে প্রবেশ করল।
বারান্দায় পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে এলিজা প্রতিটা দৃশ্য নিজের চোখের মণিকোঠায় বন্দি করে নিল। সানভী যখন শেষবারের মতো একটু হেসে মাথা নিচু করে চলে গেল, তখন তার সেই আধো-ফোটা মলিন হাসিটা এলিজার মস্তিষ্কের কোষে কোষে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করল। এলিজার মনে পড়ে গেল... টরন্টোর সেই দিনগুলোর কথা। মনে পড়ে গেল উৎসের ঘরের সেই সযত্নে রাখা একটি পুরনো, ফ্রেমবন্দি ছবির কথা। সেই ছবিতে থাকা এক অপরূপা মহিলার ঠোঁটের কোণেও ঠিক এমনই এক মায়াবী, জাদুকরী হাসি লেগে থাকত। এলিজা এতদিন নিজেকে জিজ্ঞেস করেও উত্তর পায়নি—কোথায় দেখেছে সে এই হাসি? কার সাথে মেলে এই ঠোঁটের ভাঁজ?
আজ তার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলে গেল। হ্যাঁ! এই তো সেই পরিচিত হাসি, এই তো সেই চিরন্তন চেনা অবয়ব! এ তো অন্য কেউ নয়, এ স্বয়ং সানভী! মায়ের সেই হাসির অবিকল প্রতিচ্ছবি আজো বেঁচে আছে এই ফ্যাকাশে মেয়েটার ঠোঁটের কোণে।
সূর্যের প্রখর আলোটা যখন এলিজার মুখের ওপর এসে পড়ল, তখন ধীরে ধীরে তার চোখের পাতায়, মনের পর্দায় ভেসে উঠতে লাগল গতকাল রাতের সেই কালবোশেখী ঝড়ের মতো ভয়ংকর স্মৃতি।
প্রতিটি শব্দ যেন এলিজার কানের কাছে এসে আবার নতুন করে গুঞ্জন করতে লাগল। সে চোখ দুটো বুজে ফেলল। এক অদ্ভুত চেনা অথচ অচেনা জালে জড়িয়ে যাচ্ছে তার চারপাশের চেনা মানুষগুলো, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আজো একা দাঁড়িয়ে ছটফট করছে ওই পুরুষটা—শাহরিয়ার উৎস চৌধুরী।
★★★★★
~~~ ফিরে দেখা অতীত ~~~
❝শাহরিয়ার শাহবীর চৌধুরী... এক জাদুকরী, সম্মোহনী পুরুষ ছিলেন তিনি। আভিজাত্য, ক্ষমতা, বিত্ত আর রাজকীয় রূপের এমন এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ছিল তার মাঝে, যা এই পৃথিবীর যে কোনো নারীকে এক মুহূর্তে অন্ধ করে দিতে পারত।
ওদিকে অর্মী... মানে তোর ফুপি উষ্মিতা। অর্মী ছিল আমার প্রাণের সই। আমাদের বন্ধুত্ব ছোটবেলা থেকে। অর্মীর ভীষণ ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়া, ঠিক তেমন আমারও। আমাদের দুজনের জীবনের স্বপ্ন, পথ আর আকাশ ছিল এক। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা রাতদিন এক করে, চোখের ঘুম হারাম করে পড়াশোনা শুরু করলাম। অতঃপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা দিলাম আমরা। যেদিন রেজাল্ট দিল, সেদিন আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না। অর্মী ময়মনসিংহের মেডিকেল কলেজে চান্স পেল। আর আশ্চর্যজনকভাবে... আমিও ঠিক একই মেডিকেল কলেজে চান্স পেলাম! দুই সই একই সাথে, একই আঙিনায় ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেলাম। তখন আমাদের খুশি আর দেখে কে!❞
এটুকু বলে তাসনীম বেগমের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মলিন, ম্লান হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি হাত শক্ত করে ধরে বললেন,
❝কিন্তু চাচা... মানে অর্মীর বাবা এত দূরে মেয়েকে একা ছাড়তে চাননি। তিনি বললেন দরকার পড়লে ঢাকায় কোনো নামী প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করাবেন মেয়েকে, কিন্তু চোখের আড়াল করে এত দূরে পাঠাবেন না। কিন্তু অর্মী ছিল নাছোড়বান্দা, জেদি। একদম তোর মতো এলিজা... ঠিক তোর মতোই একগুঁয়ে!❞
বলেই তাসনীম বেগম ঘুরে তাকালেন এলিজার দিকে। এলিজাও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তাঁর দিকে। তাসনীম বেগম আবার বলতে লাগলেন—
❝অর্মী এক পায়ে গো ধরে বসে থাকলো। সে ময়মনসিংহে গিয়েই পড়াশোনা করবে। তার কাছে এই যান্ত্রিক ঢাকা শহর ভালো লাগে না, তার চাই নতুন পরিবেশ । ওদিকে আমার পরিবারে ছিলেন একমাত্র আমার বাবা। মা তো সেই কবেই আমাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। আমার বাবাও প্রথমে এত দূরে পাঠাতে রাজি না থাকলেও, পরে আমার মুখের দিকে চেয়ে ঠিকই রাজি হলেন। সেই সাথে অর্মীর জেদের কাছে হেরে গিয়ে অর্মীর বাবাও মত দিলেন। আমরা দুই বান্ধবী মিলে এক নতুন আশার আলো বুকে নিয়ে পা রাখলাম ময়মনসিংহ শহরে। একটা ভাড়া বাসায় আমরা থাকা শুরু করলাম। আর আমাদের সেই চেনা শহরের বাইরে পা রাখাটাই... বোধহয় ছিল আমাদের জীবনের চরম এবং সবচেয়ে বড় ভুল বা ভাগ্যল ছিল হয়তো !❞
এতক্ষণ ঘরের ভেতরের সবাই চুপচাপ নিস্প্রাণ হয়ে শুনছিল। উষাণ, সানায়া, রুহানি আর এলিজা—কারো মুখে কোনো রা কাড়ার শব্দ ছিল না। এলিজা এবার নিজের ভেতরের অধৈর্যতা চেপে রাখতে না পেরে ফিসফিস করে বলল,
❝ভুল? কেন আন্টি? ভুল হবে কেন?❞
তাসনীম বেগম জানালার পাশ থেকে সরে এসে ঘরে রাখা চেয়ারটায় ধপ করে বসে পড়লেন। তাঁর কপাল বেয়ে আবার ঘাম জমতে শুরু করেছে। তিনি বললেন,
❝হ্যাঁ, ভুল! সেখানে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম সবকিছুই বড্ড সুন্দর, বড্ড রঙিন ছিল। প্রতিদিনের সেই কড়া ক্লাসের চাপ, অবসরে বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা, নতুন শহরের অলিগলি চেনা—সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। তেমন ভাবেই একদিন আমাদের পরিচয় হলো এক নতুন মানুষের সাথে। একটা ঝড়ের মতো আগমন ঘটলো তার । জানতে পারলাম, আমরা যে ভাড়া বাসায় থাকতাম, তার ঠিক পাশের বিশাল বড় বাড়িটা ছিল সেই লোকের। বাড়ি নয়, যেন একটা ছোটখাটো রাজপ্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে আভিজাত্য নিয়ে। সেই প্রাসাদের মূল গেটের সামনে বড় বড় করে পিতলের অক্ষরে খোদাই করে লেখা ছিল—‘শাহ্ কুঞ্জ’। আর আমাদের সাথে যার পরিচয় হয়েছিল, সে ছিল ওই রাজপ্রাসাদেরই বড় ছেলে। যার নাম ছিল শাহরিয়ার শাহবীর চৌধুরী। চমৎকার, নিখুঁত সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন পুরুষটি। তেমন তার রাজকীয় বাচনভঙ্গি, আর কথার ধরণেও ছিল এক অদ্ভুত জাদু। এক সম্মোহনী কালো জাদু ছিল তার ব্যক্তিত্বে। তিনি এই এলাকার প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি ছিলেন।❞
এটুকু বলে আবার থামলেন তাসনীম বেগম। একটা শুকনো ঢোক গিললেন তিনি। তাঁর ফর্সা গলাটা অবাধ্যভাবে কাঁপছে। নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে তিনি বললেন—
❝অর্মীর সাথে ঠিক কীভাবে তার প্রথম পরিচয় হয়েছিল, তা আমি আজও জানি না। অর্মী আমাকে শুধু এটুকু বলেছিল—যেহেতু পাশাপাশি বাসা, তাই একটু আলাপচারিতা আর সখ্যতা বজায় রাখা ভালো। লাইফে যদি কোনো বড় বিপদে-আপদে পড়ি, তবে প্রতিবেশীর সাহায্য পাওয়া যাবে। যদিও লোকটা ভীষণ ইন্ট্রোরোভার্ট আর কেমন যেন রহস্যময় ছিল। আমরা এটাও জানতে পারলাম যে, সে একাই থাকে ওই বিশাল শাহ্ কুঞ্জে। না, একা নয়; সাথে তার ছোট বোনও থাকত, যার নাম ছিল উপমা—তোর ছোট আম্মু। আর তাদের পরিবারের বাকি সদস্যরা তখন সব ঢাকার কর্পোরেট দুনিয়ায় ব্যস্ত থাকত। শাহবীর music এর ওপর বড় কোনো নামী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ট্রেনিং নিয়ে এসেছিল। তার একটা বড় Music Academy ও ছিল যেখানে সে অনেককেই শেখাতো বিভিন্ন ধরণের বাধ্যযন্ত্র শেখানো । দারুণ বাজাতেন তিনি। ওদিকে অর্মীও সেই একই শখ ও গিটার বাজাতে পছন্দ করতো। ওর ভীষণ শখের একটা জায়গা ছিল। আর গিটার বাজানোর এই সূক্ষ্ম দক্ষতা সে মূলত শাহবীরের থেকেই রপ্ত করেছিল। আর এই সুরের আদান-প্রদান থেকেই মূলত তাদের মাঝে আলাপ-চারিতা আর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কিন্তু কেন জানি না এলিজা... আমার কাছে প্রথম থেকেই ওই লোকটাকে বড্ড রহস্যময় লাগত। তার চোখের চাহনিতে কেমন একটা অন্ধ অন্ধকার লুকিয়ে ছিল। যদিও আমরা তখন পড়াশোনার ঘোরে সেসব পাত্তা দিইনি।❞
তাসনীম বেগম একটু থামলেন, তাঁর চোখ জোড়া জানালার দিকে চলে গেল।
❝এরই মধ্যে আরমান আমাদের প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে একবার করে দেখতে আসতো ময়মনসিংহ। ও অর্মীর থেকে বয়সে এক বছরের ছোট ছিল, কিন্তু কখনো আমাদের ‘আপু’ বলে ডাকত না বেয়াদবটা! সবসময় নাম ধরে ডাকত আর ‘তুই তুই’ করত। যদিও আমি ওকে প্রথম থেকেই ‘ভাই’ বলে ডাকতাম। ও বয়সে ছোট হলেও আমার ইচ্ছে ছিল তাই ডাকতাম, আর ও-ও আমাদের সাথে বাদরামি আর দুষ্টুমি করার আরও বেশি লাই পেয়ে যেত। একবার আরমান আমাদের ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য ময়মনসিংহে আসলো। তখন আমরা সম্ভবত মেডিকেলের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। সেবার অর্মী ভীষণ করোনিক টাইফয়েডে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাই ঢাকায় নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটা দিন আমাদের সেখানে থাকা হয়ে গিয়েছিল। আর ঠিক তখনই, একদিন হঠাৎ শুনলাম অর্মীর বিয়ের কথা চলছে। ভীষণ বড় আর সম্ভ্রান্ত ঘর থেকে সম্বন্ধ এসেছে। এটা শুনে আমি তো অবাক হলামই, তবে তার চেয়েও বেশি আকাশ থেকে পড়লাম তখন, যখন শুনলাম পাত্র আর কেউ নয়... খোদ ওই শাহ কুঞ্জের বড় ছেলে শাহবীর! অর্মীর চোখের ভাষা আর মতিগতি দেখে বুঝলাম, সে এই বিয়েতে মনে মনে ভীষণভাবে রাজি। তখন বুঝতে পারলাম, হয়তো আমার আড়ালেই ময়মনসিংহের ওই দিনগুলোতে তাদের মাঝে কোনো গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একটু কষ্ট পেয়েছিলাম যে প্রাণের সই আমাকে কিছু বলল না। আমি আর তখন কিছু বলিনি। নিজের একমাত্র সই, মনের মানুষের বিয়ে—তাই আমিও মনে মনে ভীষণ খুশি ছিলাম। শাহবীরের পরিবার কে আমার ভীষণ খটকা লাগতো। কিন্তু পাত্তা দেয় নি সেসবে। কারণ উপমা মেয়েটা অনেক ভালো ছিল। ওর সাথে ততদিনে ভালোই সখ্যতা হয়ে গিয়ছিল। আর ওকে দেখেই ওর পরিবারের বাকিদের ও সেই নজরেই দেখতাম। দুই পরিবারের সম্মতিতে ধুমধাম করে তাদের বিয়ে হয়ে গেল।❞
রুহানি আর সানায়া বিছানার চাদর খামচে ধরে শুনছে। তাসনীম বেগম এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন—
❝বিয়ের পর তারা পাকাপাকিভাবে ময়মনসিংহের ওই শাহ কুঞ্জেই চলে গেল। অর্মীর জোরাজুরিতে আমিও গেলাম তাদের সাথে কয়েকদিনের জন্য। অর্মী চেয়েছিল আমি যেন তাদের ওখানেই থাকি। কিন্তু শাহবীর যে আমাকে মনে মনে একদমই পছন্দ করত না, সেটা তার চোখের বিষাক্ত চাহনি দেখলেই আমি বুঝতে পারতাম। তাই আমি সেখানে আর থাকিনি। বিয়ের প্রথম প্রথম শাহবীর অর্মীকে চোখে হারাতো। অর্মী যদি তার চোখের আড়াল হয়ে কোথাও যেত, কিংবা আমাদের সাথে দেখা করতে আসত, শাহবীর প্রচণ্ড রাগারাগি আর ভাঙচুর করত। আমি ভাবতাম, এটায় বোধহয় তীব্র ভালোবাসা! ভালোবাসার মানুষকে বুঝি এভাবেই মানুষ চোখে হারায়। এমনকি পাশাপাশি বাসা হওয়া সত্ত্বেও অর্মী যদি আমার কাছে আসত, শাহবীর এক অদ্ভুত অধিকারবোধে হিংস্র হয়ে উঠত। এমনকি এসবের জন্য উপমা ও একদিন শুনলাম ঢাকা চলে গেল। তারপর অনেকগুলো দিন কেটে গেল। অর্মীর সাথে আমার যোগাযোগ আগের মতোই ছিল, যদিও আমি তখন কলেজের হোস্টেলে শিফট হয়ে গিয়েছিলাম। আর বিয়ের ঠিক এক বছরের মাথায় শুনলাম, অর্মী মা হতে চলেছে। সেদিন যে আমি কতটা খুশি হয়েছিলাম এলিজা, তা তোকে বলে বোঝাতে পারব না।❞
এলিজারা সবাই নিস্প্রাণ পাথরের মতো চুপচাপ শুনছে সব। তাসনীম বেগম চেয়ার ছেড়ে উঠে আবার জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন, তাঁর গলার স্বর এবার এক পৈশাচিক রূপ নিল—
❝আমি ভেবেছিলাম আমার সই বুঝি এই নশ্বর পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী নারী! কিন্তু... বিয়ের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় সেই স্বপ্নের সাজানো রাজপ্রাসাদ এক জীবন্ত নরকে পরিণত হলো। শাহবীর মানুষটা বাইরে থেকে যতটা পরিপাটি, চকচকে আর রাজপুত্র ছিলেন... ভেতরের মনস্তত্ত্বটা ছিল ততটাই বিকৃত, হিংস্র আর সাইকোপ্যাথিক! আর এই ভয়ংকর সত্যিটা আমরা তখনই প্রথম জানতে পারি.... মাত্র চার বছর বয়সী নিষ্পাপ ছোট উৎসকে তার নিজের জন্মদাতা বাবা এক চরম আক্রোশে এক ফোঁটা বাতাসহীন চালু ফ্রিজের ভিতরে ঢুকিয়ে লক করে রেখে দেয়! তাও কী জন্য জানিস? কারণ, খেলতে খেলতে ছোট্ট অবুঝ উৎস তার মা অর্মীকে ভুলবশত একটু আঘাত করে ফেলেছিল, অর্মী নাকি একটু ব্যথা পেয়েছিল! ভালোবাসার মানুষের গায়ে সন্তানের ছোঁয়া লেগেছে—এই বিকৃত আক্রোশে সে নিজের চার বছরের সন্তানকে ফ্রিজে পুরে দিয়েছিল!❞
কথাটা ঘরের বাতাসে ছিটকে আসতেই এলিজার পুরো শরীর হিম হয়ে গেল। উষাণ স্তব্দ। আর রুহানির চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। সানায়া নিজের মুখ চেপে ধরে ফুঁপিয়ে উঠল। চার বছরের একটা বাচ্চাকে চালু ফ্রিজে বন্দি!
তাসনীম বেগম চোখ বন্ধ করে শিউরে উঠে বললেন,
❝ শাহবীর ছোট বেলা থেকেই এমন ছিল । মূলত জিনগত সমস্যার কারণে এমন অনেকের হয়। এমন হতে তাকে বাধ্য করে। আর শাহ বীরের মতো সাইকোপ্যাথগুলো মূলত নিজের পছন্দের জিনিসগগলো কে বেশিদিন সহ্য করতে পারে না। তারা তাদের পছন্দের জিনিসগুলো কে কষ্ট দিতে এমনকি গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে ও ভালোবাসে।
সেদিন অর্মী পুরো বাড়ি জুড়ে পাগল উন্মাদের মতো উৎসকে খুঁজছিল। কোথাও না পেয়ে, শেষমেশ রান্নাঘরে গিয়ে কী মনে করে যেন ফ্রিজের দরজাটা খোলে আর খোলামাত্রই সেখানে জমে নীল হয়ে যাওয়া অবশ বাচ্চা ছেলেটাকে আবিষ্কার করে! বিশ্বাস কর এলিজা... সেদিন ওটার পুরো শরীর বরফ হয়ে গিয়েছিল। ছেলেটা যে কীভাবে সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরল, তা কেবল আল্লাহ ই জানেন। আর ঠিক পরমুহূর্ত থেকেই... উৎস নিজের বাবাকে এক জীবন্ত যমদূত মনে করত। সে বাবার ছায়া দেখলেই ভয়ে কুঁকড়ে যেত, তার কাছে যেত না। কিন্তু শাহবীরের সেই মানসিক বিকৃতি আর পাগলামি দিন দিন কম তো দূর, আরও মারাত্মক রূপ নিতে থাকল। ও ভীষণ ডেস্পারেট আর হিংস্র হয়ে উঠল। উৎস কে তো সহ্যই করতে পারতো না। উল্টো ওকে আলাদা রুমে বন্দি করে রেখে দিতো। ভয়ে ছেলেটা কাঁদতো সারাক্ষণ । তখন উপমা এলোআর উৎস কে ও নিজেই দেখাশোনা করতো। আর অর্মী কে তো আরও উৎসের কাছেই যেতে দিতো না শাহবীর ।এটা করো না ওটা করো না। অর্মী অনেক কাকুতিমিনতি করে তারপর নিজের ছেলেকে কাছে পেত। অর্মী লোকলজ্জার ভয়ে নিজের বাপের বাড়ির পরিবারকে কিচ্ছু জানায়নি। এই নরকযন্ত্রণা দেখে উপমা তখন উৎসকে বাঁচানোর জন্য তাকে নিয়ে ঢাকায় চলে যেতে চাইল। অর্মী চলে যেতে চাইলো। আমিও তখন জানলাম সব। ওকে বললাম ঢাকা চলে যা । কিন্তু পরে কেন জানি অর্মী রাজি হলো না। অর্মী উল্টো শাহবীরকে... ওই যে সাইকোপ্যাথিক রোগীদের জন্য বিশেষায়িত যে মেন্টাল অ্যাসাইলাম বা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থাকে, সেখানে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দিল। পরবর্তীতে অর্মীর বাপের বাড়ির পরিবার যখন এই মানসিক রোগের কথা জানতে পারল, তখন অনেক ঝামেলা আর রাগারাগি হলো। তারা অর্মীকে ঢাকা চলে আসতে বলল। কিন্তু অর্মী একগুঁয়েমির মতো ময়মনসিংহের ওই বাড়িতেই রয়ে গেল স্বামীর সুস্থতার আশায়।❞
সব শুনে এলিজার বুকের ভেতরটা উৎসের জন্য এক তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে উঠল। উষাণ আর রুহানি অধৈর্য হয়ে একসাথে বলে উঠল,
❝তারপর কী হলো আন্টি? প্লিজ বলো!❞
সানায়াও মায়ের হাত ধরে কেঁদে বলল,
❝হ্যাঁ আম্মু, বলো না তারপর কী হলো?❞
তাসনীম বেগম নিজের চোখ দুটো মুছলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর এবার আরও রহস্যময় আর কাঁপাকাঁপা শোনাল—
❝প্রায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর শাহবীর যখন শাহ কুঞ্জে ফিরে এলো, তখন তাকে দেখে মনে হয়েছিল সে সম্পূর্ণ সুস্থ। তার আচরণে কোনো হিংস্রতা ছিল না। অর্মীও স্বামীর এই ভালো রূপ দেখে নিজের জীবনের সমস্ত অতীত ভুলে শাহবীরকে ক্ষমা করে দিল। কিন্তু ছোট উৎস... সে তখনও নিজের বাবাকে এক অদৃশ্য ভয়ে এড়িয়ে চলত। তবে ধীরে ধীরে শাহবীরের অতি মায়াবী ব্যবহারে উৎসের ভেতরের সেই ভয়টাও একদিন কেটে গেল। সে আবার নিজের বাবার সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে শুরু করল। এভাবেই আরও দুটো বছর কেটে গেল শান্তিতে। কিন্তু... শাহবীর তো আদতে এক সাইকোপ্যাথ ছিল। আর চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, এই ধরণের বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথরা সহজে কখনো পুরোপুরি সুস্থ হয় না, তাদের ভেতরের সেই আদিম হিংস্রতা সুযোগ পেলেই আবার জেগে ওঠে। শাহবীরও ঠিক আগের মতোই ধীরে ধীরে নিজের চেনা হিংস্র রূপে ফিরে যেতে শুরু করল। যখন......❞
এলিজা, উষাণ, সানয়া আর রুহানি—চারজনই এক তীব্র রুদ্ধশ্বাসে, একসাথে চিৎকার করে বলে উঠল,
❝যখন কী ? যখন কী হয়েছিল?!❞
তাসনীম বেগম নিজের চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে, বুকভরে এক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এক টানে বলে দিলেন—
❝যখন... যখন সেই ময়মনসিংহের বুকে শাহবীরের হুবহু একই চেহারার, তার নিজের আপন জমজ ভাই... ‘রুদ্রবীর চৌধুরী’-র আকস্মিক আগমন ঘটেছিল!!❞
[ চলবে.. …??]
( আপাতত এটা ছিল শুধু মাত্র একটা ট্রেইলার। আসল চমক তো আগামী পর্বে থাকবে। ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর সবাই রেসপন্স করে যাবেন ধন্যবাদ )
07/06/2026
#অবাধ্য_চাওয়া_২_আহিরাজ_আনায়া_ধামাকাপর্ব
#লেখিকা_আরিশা_জান্নাত_রিয়া_পর্ব_৪১
আনায়ার ভয়ে গলা শুকিয়ে গেলো। এতটা রেগে যেতে কখনো দেখেনি আহিরাজ কে৷ আজ যেনো তার চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। আনায়ার সব ঘুম ভয়ের চোটে পালিয়ে গেছে। এখন শুধু সেখানে ভয়ের বসবাস। সে ঢোক গিলতে গিলতে বললো,,,,
--- আ,,আপনি, ক,,কখন এসেছেন৷
আহিরাজ শার্ট খুলে বাইরে ছুঁড়ে দিয়ে, আনায়ার একদম কাছে এসে তার গালটা চিবি দিয়ে ধরে একদম কাছে নিয়ে এসে বললো,,,
--- কেনো , আমি এসে কি তোর প্রেমে বাঁধা দিয়ে ফেললাম। ভালোই তো রঙ্গলীলা শুরু করেছিস। জানে দেখি একটুও ভয় নাই তোর। এতবার বারণ করার পরও আমার আমানতের খেয়ানত করার সাহস দেখালি কিভাবে৷
এদিকে এতো জোরে গাল চেপে ধরেছে আনায়ার মনে হচ্ছে গাল খসে পড়বে। তার চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি পড়তে শুরু করলো । কিন্তু আহিরাজ ছাড়লো তো নাই বরং আরো জোর চেপে ধরলো৷ আনায়ার দম বেড়িয়ে আসার জোগাড়৷ এমনিতেই ঠান্ডা পানির মধ্যে বসে আছে তার উপর এমন হিস্রতা কিছুতেই মানতে পারছে না। আনায়ার চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি পড়তেই আছে। আহিরাজ এবার আরো একটু কাছে এসে হিসহিসিয়ে বললো,,,
--- পরপুরুষের ছোঁয়ায় খুব ভালো লাগে তাই না। আর আমি একটু ছুঁলে তোর শরীলে ফোসকা পড়ে । এই কোথায় কোথায় ছুঁয়েছে তোকে দেখা তাড়াতাড়ি দেখা বলছি৷
আনায়া চরম ভয় পেয়ে গেলো আহিরাজের কান্ডে৷ এর আগে কখনো আহিরাজ এতটা উত্তেজিত হয়নি৷ সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না৷ আহিরাজ রেগে আনায়ার গাল ছেড়ে দিয়ে দেওয়ালে কয়েকটা ঘুসি মেরে দিলো৷ আনায়া ভয়ে মুখ চেপে ধরলো৷ তার ভয়ে গা কাঁপছে রীতিমতো৷ আহিরাজ আবার এসে আনায়ার হাতের দুপাশে জোরে চাপ দিয়ে ধরতেই আনায়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো৷ আহিরাজ এবার আনায়ার মুখের দিকে তাকালো৷ এতক্ষণ রাগের কারণে মুখের দিকে একবারো তাকায়নি। এখন তাকাতেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেলো৷ কিন্তু হঠাৎ মনে পড়লো এই সাজ দেখে আরো একজন মুগ্ধ হয়েছে, সাথে সাথে তার মেজাজ বিগড়ে গেলো। সে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে ঘাড় ঘসতে লাগলো৷ হঠাৎ তার চোখে পড়লো আনায়ার হাতের ঝলমলে ব্যাচটার দিকে৷ সে খপ করে হাত চেপে ধরে ব্যাচটা খুলতে লাগলো৷ আনায়া চমকে উঠে বাঁধা দিতে দিতে বললো,,,
--- এটা খুলবেন না প্লিজ৷ খুলবেন না এটা ।
আনায়াকে বাঁধা দিতে দেখেই আহিরাজ আরো রেগে আগুন হয়ে গেলো৷ কত বড় সাহস, অন্য পুরুষের অলংকার শরীলে পড়ে থাকতে চায়৷ আহিরাজ এক টান দিয়ে ব্যাচটা খুলে ছুঁড়ে মারলো৷ এতো জোরে টান দেওয়ার ফলে আনায়ার হাত কিছুটা ছিলে গেলো৷ কিন্তু আহিরাজের তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই৷সে এবার আনায়ার শরীরের দিকে তাকালো৷ ডান্স করার সময় এই শরীলে জায়ান হাত দিয়েছে ভাবতেই তার মেজাজ বিগড়ে গেলো৷সে আনায়ার শাড়িতে হাত দিতেই আনায়ার হুশ ফিরে পেলো৷ সে বাথটাবের ভিতরেই কিছুটা পিছিয়ে যেতে লাগলো৷ আহিরাজের সেদিকে ভাবান্তর নেই৷ সে আনায়ার চুলের খোঁপা ধরে কাছে টেনে আনলো৷ আনায়ার ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে৷ আহিরাজ কি করতে চাচ্ছে৷ আহিরাজ আনায়াকে বাথটাব থেকে টেনে তুলে কাছে নিয়ে আসলো৷ তারপর এক টান দিয়ে আনায়ার শাড়িটা খুলে ছুঁঁড়ে ফেললো৷ আনায়া চমকে উঠে পিছনে ঘুরে গেলো৷ নিজের দিকে তাকাতেই দম আটকে আসছে৷ আহিরাজের সয্য হলোনা আনায়ার পিছনে ঘুরে যাওয়া৷ সে একটান দিয়ে আনায়াকে সামনে নিয়ে আসলো৷ আনায়া দুই হাত আড়াআড়ি করে বুকের সামনে দিয়ে আছে চোখ খিচে বন্ধ করে রাখা৷ আহিরাজ রাগের বসে আনায়ার হাত ধরে বুকের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে চাইলো৷ কিন্তু আনায়া কিছুতেই হাত সরাচ্ছে না৷ সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো,,,,
---- প্লিজ না৷ টার্চ করবেন না আমাকে৷ অসয্য লাগে৷
আহিরাজের কপালের রগ ফুলে উঠেছে৷ টার্চ করবেনা মানে৷ জায়ানের টার্চ খুব ভালো লাগে আর এই টার্চ অসয্য লাগে৷ আহিরাজ আনায়ার মুখ চেপে ধরে কাছে নিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বললো,,
--- আমার টার্চ অসয্য লাগে আর নাগরের টার্চ মধুর লাগে তোর৷
আনায়ার গাল আবার মনে হচ্ছে ছিড়ে যাচ্ছে৷ আহিরাজ একটান দিয়ে আনায়াকে ঝর্নার সামনে দাড় করিয়ে ঝর্না ছেড়ে দিলো৷ আনায়া হতভম্ব হয়ে গেলো৷ এমনিতেই সে শরীল ঢাকতে পারছে না তার উপর আবার ভিজতে শুরু করলো৷ গায়ের সাথে ব্লাউজ এমন ভাবে লেগে গেছে সে লজ্জায় মরার জোগার৷ সে ফ্লোর থেকে শাড়ি উঠিয়ে গায়ে জরাতে যাবে ওমনি আহিরাজ তার হাত খপ করে ধরে শাড়িটা আবার ছুঁড়ে ফেলল৷ আনায়া চমকে উঠে বললো,,,
--- কি করছেন এসব পাগল হয়ে গেছেন নাকি৷
আহিরাজ আনায়ার দুই হাত চেপে ধরে কাছে নিয়ে এসে গর্জে উঠে বললো,,,
--- ইয়েস, আইভ গন ক্রেজি। হোয়াই উড এনিওয়ান টাচ হোয়াটস মাইন অ্যান্ড এক্সপেক্ট মি টু স্টে সাইলেন্ট? দ্যাটস নট গোয়িং টু হ্যাপন। আই হ্যাভ নেভার গিভেন এনিওয়ান দ্য রাইট টু টাচ হোয়াট বিলংস টু আহিরাজ, অ্যান্ড আই নেভার উইল।
আনায়া রেগে উঠে বললো,,,
--- আমি কোনো বন্তু না আমি মানুষ৷ আর আমি আপনার জিনিস না এটা মাথায় রাখুন৷
---আই'ম গোয়িং টু মেক ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড রাইট নাউ দ্যাট ইউ আর মাইন।
আহিরাজ আনায়ার শরীর ঘোসতে শুরু করলো৷ আনায়া এক মূহুর্ত চুপ থেকে চিৎকার করে উঠলো৷ এতে আহিরাজের কি যায় আসে৷ সে আনায়ার হাত থেকে শুরু করে শরীলের অনাবৃত অংশ ঘোসতে লাগলো৷ আনায়ার পুরো শরীল কেঁপে উঠলো৷ ঠান্ডা পানি তারউপর একজন ছেলের স্পর্শ আনায়া কিছুতেই সয্য করতে পারছে না৷ সে চিৎকার করে উঠলো,,,
--- কি করছেন থামুন আপনি থামুন প্লিজ৷ এমনটা করবেন না প্লিজ৷ এভাবে একটা মেয়ের শরীলে আপনি স্পর্শ করতে পারেন না এটা অন্যায়৷
---ইউ'র দ্য ওয়ান হু ডিড রং বাই লেটিং অ্যানাদার ম্যান টাচ ইউ। আই'ম অনলি ইরেজিং দ্যাট টাচ, নাথিং মোর। আই ওয়োন্ট টলারেট অ্যানাদার ম্যানস টাচ অন হোয়াট বিলংস টু মি।
আহিরাজের হাত থামলো না বরং আরো জোরে চলতে লাগলো৷ আনায়ার হাত, গলা ঘাড়,তারপর আনায়ার পেটে নেমে আসলো৷ আনায়ার পেটে হাতের স্পর্শ লাগতেই আনায়া চিৎকার করলো আবার৷
--- না প্লিজ আমি করছি। সরুন আপনি প্লিজ৷
আহিরাজের হাত থেমে গেলো৷ আনায়া সস্তির নিশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই আহিরাজ হিসহিসিয়ে বললো,,,,
---ইফ ইউ ডিডন্ট স্টপ দ্য টাচ ইন দ্য ফার্স্ট প্লেস, দেন ইউ ডোন্ট গেট টু অবজেক্ট হোয়েন ইটস বিইং ওয়াইপড অ্যাওয়ে। আই নো ভেরি ওয়েল হাউ টু টেক কেয়ার অব হোয়াটস মাইন।
আহিরাজ আবার হাত চালাতে লাগলো৷ আনায়া দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো৷ আহিরাজকে আটকানোর শক্তি তার নাই৷ আর চিৎকার করেও লাভ নাই কারণ এই রুম সাউন্ড প্রুভ৷ আহিরাজ বুদ্ধি করেই এই রুমে এনেছে তা আনায়া ভালোই বুঝতে পারছে৷ আহিরাজ আনায়ার চুল একটানে খুলে দিলো৷ আনায়া চমকে উঠে বললো,,,
--- চুল খুলবেন না প্লিজ। চুল শুকাবে না আমার৷
--- শুকিয়ে দিবো৷
---- শরীর খারাপ হবে আমার৷
--- আমি আছি তো৷
আনায়া আর কিছু বলতে পারলো না৷ আহিরাজ এবার আনায়ার দিকে তাকালো৷ শরীর বেয়ে পানি পড়ছে৷ ঠোঁট বেয়ে পানি বুকের দিকে নেমে যাচ্ছে৷ ঠোঁটে লাল টকটকে লিপস্টিক৷ আহিরাজ ঠোঁটে আঙুল রাখতেই আনায়া কেঁপে উঠলো৷ আহিরাজ ঠোঁট ঘোসতে শুরু করলো৷ আনায়া আবার বলে উঠলো৷
-- এখানে কারো টার্চ লাগেনি৷
--- কিন্তু এই ঠোঁট দেখে কেউ মোহিত হয়েছে৷ তার শাস্তি তোর পাওনা৷
আহিরাজ জোরে ঠোঁট ঘোসতে লাগলো৷ আনায়ার মনে হচ্ছে ঠোঁট ছিলে যাবে৷ লিপস্টিক উঠতেই আহিরাজ আনায়ার মুখ ঘসা দিয়ে মেকাপ তুলতে লাগলো৷হাত চালাতে চালাতে রাগে গর্জে উঠে বললো,,,
--- এই সাজ কার জন্য । কই আমার জন্য তো কখনো সাজিস না৷ আর নাগরের জন্য এতো সাজ৷
আনায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,,,
--- আমি কারো জন্য সাজিনি৷ আজ আপুনির হলুদ তাই৷
--- শুধু কি তাই৷।
আনায়া ভয়ে কেঁপে উঠছে আহিরাজের কন্ঠ শুনে৷ কেমন যেনো ঘোর লাগা কষ্ট। মনে হচ্ছে নেশা করেছে৷ আনায়া আহিরাজের চোখের দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠল৷ কেমন লাল হয়ে গেছে৷ আহিরাজ আনায়ার শরীরের দিকে তাকিয়ে আছে৷ আনায়া নিজের দিকে তাকাতেই পিছনে ফিরে তাকালো৷ শুরু ব্লাউজ আর পেটিকোট পড়া৷ তাও এমন ভাবে ভিজেছে যদি লাল না হতো তাহলে পুরো শরীল দেখা যেতো। আনায়ার চুল দিয়ে পুরো পিঠ ঠেকে গেছে একদম হাটু পর্যন্ত৷ আহিরাজ আনায়ার চুল গুলো সরিয়ে সেখানে মুখ ডুবিয়ে দিলো৷ এতোক্ষণের নির্যাতন তাও মেনে নিতে পারছে কিন্তু এখন এসব আনায়া কিভাবে মানবে৷ আহিরাজ দুই হাত আনায়ার পেটে দিয়ে চেপে তার শরীরের সাথে মিশিয়ে নিলো৷ দুজনের ভেজা শরীল এক হতেই যেনো বিদুতের ঝংকার খেলে গেলো৷ আহিরাজ ঘাড়ে চুমু খেতে খেতে আনায়ার ব্লাউজের বোতামে হাত রাখলো৷ আনায়া কাঁপতে কাঁপতে বললো,,,,
--- না না প্লিজ আমি মরে যাবো৷ এমনটা করবেন না,,প্লিজ না৷
আহিরাজ শুনেনি তার কথা বোতাম খুলতে শুরু করেছে৷ আনায়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো৷ আহিরাজ একটানে খুলে ফেললো৷ আনায়া গায়ে এখন শুধু ইনার৷ আহিরাজ পিছন থেকে সেটার হুকেও হাত রাখলো৷ এবং মূর্হতের মধ্যে সেটাও খুলে ছুঁড়ে মারলো দূরে৷ আনায়ার দুই হাত বুকে দেওয়া। কথা বলার ভাষা নাই৷ আহিরাজ আনায়ার শরীল একটুও দেখেনি কারণ সে পিছনে দাড়িয়ে আছে৷ আহিরাজ চুলগুলো দুপাশে ভাগ করে দিয়ে দিলো৷ আনায়া এবার একটু সস্তি পেলো৷ আহিরাজ বাইরে থেকে শার্টটা তুলে আনায়াকে দিয়ে বললো,,,
--- এটা পড়ে নাও৷ আর পেটিকোট খুলে ফেলো৷
আনায়া চোখ বড় বড় করে তাকাতেই আহিরাজ বললো,,,
--- চোখ বড় করার মতো কিছু বলি নাই৷ টাওজার এনে দিচ্ছি৷ আর কিছু পড়ে না থাকলেও সমস্যা নাই আমিই তো৷
আহিরাজ টাওজার আনতে গেলো৷ এদিকে আনায়া মুখ ভেংচি দিয়ে বিরবির করে বললো,,,
--- কিছু পড়ার দরকার নাই৷ কেনো রে তুই কি আমার স্বামী যে তোর সামনে কিছু না পড়ে থাকবো৷ বদমাশ বেটা কিছুদিন শান্তিতে ছিলাম৷ আবার আসছে ঘুম হারাম করতে৷
আনায়ার বিরবির করার মাঝেই আহিরাজ টাওজার আর তাওয়ালে নিয়ে আসলো৷ আনায়া টাওজার হাতে দাড়িয়ে রইলো৷ আহিরাজ ভ্রু কুঁচকে বললো।।
--খাম্বার মতো দাড়িয়ে আছো কেনো চেঞ্জ করো৷
--- চেঞ্জ করো মানে আমি কি আপনার সামনেই চেঞ্জ করবো৷
--- তো কি সমস্যা। আর একটু হলেই তো সব দেখে ফেলতাম৷ তখন কি করতে৷
--- মান হানির মামলা করতাম৷
--- তাই নাকি,কি বলতে শুনি৷
--- বলতাম,,বলতাম৷
---থাক হয়েছে৷ এতো কথা না বাড়িয়ে চেঞ্জ করো আমি সরতে পারবো না৷ ফাস্ট৷
আনায়া উপায় না পেয়ে শার্ট পড়ে নিলো৷ তারপর টাওজার টাও পড়লো পেটিকোটের নিচ দিয়ে৷ অনেকটা ভিজে গেছে তাতে কি শুকিয়ে যাবে৷ এদিকে চুল নিয়ে বিপাকে৷ এতো রাতে চুল শুকাবে কিভাবে৷ আহিরাজ নিজেও একটা টাওজার পড়ে নিলো তাওয়ালে পেচিয়ে৷ তারপর রাগী কন্ঠে বললো,,,
--- এই শাড়ি যেনো দ্বিতীয় বার পড়তে না দেখি। তাহলে কিন্তু শরীলে আগুন লাগিয়ে দিবো মাইন্ড ইট৷
চলবে,,,
(কেমন লেগেছে জানাবেন৷ লাইক কমেন্ট শেয়ার বেশি না হলে কিন্তু খবর আছে)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Rahattar Pool
Patenga