SMS

SMS

Share

সবাই নামাজ পরবেন 🥰🥰

22/05/2025

Big shout out to my newest top fans! Mim Akter

21/05/2025

ধৈর্য ধরুন ইনশাআল্লাহ একদিন সব কিছু ঠিক হয়ে যবে! 😊😔💔

10/09/2024

DO Follow

10/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ০৭
ামেদ
অহনা না চাইতেও অনন্তের ঠোঁটের স্পর্শের কথা বার বার মনে পড়তে থাকে। সেই ভয়ংকর অনুভূতির কথা মনে ভাবতেই অহনার রাতে আর ঘুম হলো না৷ সারারাত অহনা নির্ঘুম অবস্থায় কাটিয়ে দেয়। কারণ প্রথম ঠোঁটের স্পর্শ কেউ ভুলতে পারে না তেমনি অহনাও কিছুতেই ভুলতে পারছে না। অজানা ভয় অহনার মনে বিরাজ করছে। শুধু ভোর বেলায় অহনার চোখটা একটু লেগে যায়। সকালে অহনা ঘুম থেকে উঠে ঘড়ির কাটায় দেখতে পেল অহনার আজ ঘুম থেকে উঠতে ভিষণ দেড়ি হয়ে গেছে। কলেজের ঘন্টা দিতে আর ১০ মিনিট বাকি৷ অহনা নিজে নিজে বলতে লাগল
--এটা কি হলো! আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি! আমার আজ কলেজে যেতে অনেক দেড়ি হয়ে যাবে!
অহনা কোনোরকমে ৫ মিনিটে রেডি হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দিল এক দৌড়। কোনোরকম একটা রিকশা নিয়ে অহনা শেষমেষ কলেজে পৌছাল৷ সিড়ি দিয়ে অহনা এতই দ্রুত উঠছিল যে ঠাস করে একটা ছেলের সাথে অহনা ধাক্কা খেলো৷ যখন অহনা নিচে পড়ে যেতে নিল তখন ছেলেটি অহনার কোমড় জড়িয়ে একটান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। ঘটনাটা এতই দ্রুত ঘটল যে অহনা নিচে পড়ে যাওয়ার সময় ছেলেটার মুখটাও দেখতে পারে নি কারণ ছেলেটা তাড়াতাড়ি অহনার কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়৷ ছেলেটি আর কেউ নয় সে হলো অনন্ত। যখন অহনা অনন্তের বুক থেকে নিজেকে ছাড়াল তখন একটু উপরে তাকিয়েই অহনা দেখতে পেল যে সে ভুল মানুষের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। কারণ এটা যে অনন্ত স্যার। অনন্তকে দেখেই অহনা ভয়ে কেঁপে উঠে। একেই তো অহনা গতকাল অনন্তের গালে কষিয়ে থাপ্পড় দিয়েছিল। আজ যে অহনার কপালে শনি আছে সেটা অহনা ভালো করেই বুঝতে পারছে৷ অনন্ত অহনার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অহনার ভয়ে হাত পা কাঁপা-কাঁপি করছে। অনন্ত অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--ছেলেদের সাথে ধাক্কা খেতে তোর খুব ভালো লাগে তাই না অহনা? তো আর কাউকে পেলি না! শেষমেষ আমার মতো একটা সুদর্শন ছেলের সাথেই তোর ধাক্কা খেয়ে পড়তে হলো!
অনন্তের এমন কথা শুনে অহনা রাগী দৃষ্টিতে অনন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। অনন্তের দিকে তাকানোর সময় অহনার হঠাৎ করে কালকের ঠোঁটের স্পর্শের কথা মনে পড়ে যায় যা অনন্ত ভয়ানকভাবে অহনার ঠোঁটে দিয়েছিল। কিন্তুু সাথেসাথেই অহনার মনে পড়ল যে অনন্ত তার শিক্ষক। তাই অহনা একটু বিনয়ের সাথে মাথা নিচু করে কাঁপাকাঁপা কন্ঠে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আ..আ আমাকে আপনি ক্ষমা করে দিন। আসলে আমার কলেজে পৌঁছাতে একটু দেড়ি হয়ে গেছে তাই....
অহনাকে বলতে না দিয়ে অনন্ত অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--তাই তুই আমার শরীরের সাথে ধাক্কা খেয়ে আমার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লি।
--স্যার আপনি এসব কি বলছেন? আমি পড়ে যেতাম তো যেতামই আপনি আমাকে ধরলেন কেন? আমি তো আপনাকে ধরতে বলি নি। আপনিই তো....
--আমি তো কি? তুই নিজে আমাকে ইচ্ছে করে ধরেছিস। ভবিষ্যতে আমার আশপাশে যদি তোকে ঘেঁষাঘেঁষি করতে দেখি তাহলে তোর খবর আছে। এখন যা ক্লাসে যা। একটু পরেই তো তোর সাথে আমার আবার দেখা হবে। তো নিজেকে তৈরি করে রাখিস৷
এ কথা বলেই অনন্ত সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে চলে গেল৷ অহনা এখনও সিড়ির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে৷ অহনা অবাক হয়ে মনে মনে বলতে লাগল
--আমি তো উনার সাথে ধাক্কা লাগতে চাই নি! উনিই তো কোথা থেকে উড়ে এসে আমার সাথে ধাক্কা লাগলেন ! শয়তান, লুচু, দানব। তোর সাহস হয় কি করে হয় আমায় এতগুলো কথা বলার! নিজেই তো আমার শরীরে হাত দিলি আবার নিজেই নিস্পাপ সাজার নাটক করিস! কিন্তুু দানব স্যারটা কি যেন বলল! আমি কিসের জন্য তৈরি হবো?
অহনা আর কিছু না ভেবে দৌড় দিয়ে ক্লাসের কাছে পৌঁছাল৷ অনেক আগেই ক্লাসে স্যার ঢুকে গেছে। কিন্তুু অহনার ভাগ্য ভালো ছিল আজ অহনার প্রথম টিচার অহনাকে কিছু বলে নি। ক্লাসে কোনো বেঞ্চ খালি নেই দেখে অহনা একদম পেছনের বেঞ্চটায় বসল। অহনা বেঞ্চে বসার সাথে সাথেই অহনার সাথে বসা পাশের মেয়েটি অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--অহনা তোমার ঠোঁট দুটো এমন লাল হয়ে এবং ফুলে আছে কেন? ঠোঁটের পাশে তো অল্প কেটেও গেছে! এমন কি করে হলো?
মেয়েটির কথা শুনে অহনার গতকালকের সেই অন্ধকার ক্লাসে অনন্তের দেওয়া ভয়ংকর লিপ কিসের কথা মনে পড়তে থাকে। অহনা এটা ভাবতেই ভয়ে কেঁপে উঠল। অহনার ভয় পাওয়া চেহারা দেখে মেয়েটি অহনাকে বলল
--কি হলো অহনা তুমি এভাবে ভয় পাচ্ছো কেন? কি হয়েছে তোমার?
অহনা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আমার কি... কি... কিছু হয় নি।
মেয়েটিও অহনাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না৷ স্বাভাবিকভাবেই অহনা তিনটি ক্লাস করতে লাগল। কিন্তুু ক্লাসগুলোতে অহনা কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছিল না। অহনার ঠোঁটে এখনও ভীষণ ব্যথা করছে। অহনা নিজের ঠোঁটে নিজে হাত দিলেই ভয়ংকরভাবে কেঁপে যায়। অহনা হাই বেঞ্চের উপর হাত ঠেকিয়ে নিজের কপালে হাত দিয়ে বসে থাকে। অহনার মাথায় ভীষণ যন্ত্রণা করছে। তিনটি ক্লাস শেষ। এখন অনন্তের উচ্চতর গণিত ক্লাস। একটুপর অনন্ত ক্লাসে ঢুকল। সবাই অনন্তকে দাঁড়িয়ে সালাম দিল এবং অহনাও কাঁপা কাঁপা পায়ে অনন্তকে দাঁড়িয়ে সালাম দিল। তারপর সবাই বেঞ্চে বসে পড়ল। আজ অনন্তের মুখে রাগী ভাব স্পষ্ট। অনন্তের রাগী চেহারাটা দেখেই অহনা বুঝতে পারল যে এটা ঝড়ের পূর্বাবাশ। অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--অনন্ত স্যারকে কাল রাগে যেভাবে কষিয়ে থাপ্পড়টা দিয়েছিলাম তাতে তো উনি আমায় জীবনেও ক্ষমা করবেন না৷ আগের শাস্তিগুলোর থেকেও ভয়ংকর শাস্তি মনে হয় এবার আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
অহনা ভয়ে কাঁপতে লাগল।
অনন্তের ক্লাস অনেক্ষণ চলতে থাকল৷ ক্লাসে অনন্ত অহনাকে কিছু বলছে না দেখে অহনা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হলো। কিন্তুু হঠাৎই অহনাকে চমকে দিয়ে অনন্ত অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--অহনা তুই দাঁড়া।
অনন্তের এমন রাগী কন্ঠে ডাক শুনে অহনার বুকের আত্মাটা কেঁপে উঠল। অহনার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসল৷ অহনা কাঁপা কাঁপা হাত পা নিয়েই দাঁড়াল। অহনার মুখে কোনো কথা নেই। অহনা শুধু নিজের মাথাটা নিচু করে আছে৷
--সারাদিন কয়টা ছেলের সাথে তুই ফূর্তি করিস অহনা?
অনন্তের এমন বাজে কথা শুনে অহনা স্তব্ধ হয়ে অনন্তের দিকে তাকিয়ে থাকে। পুরো ক্লাসটাই এখন স্তব্ধ। ক্লাসের অন্যান্য ছেলে মেয়েরাও অনন্তের এমন কথা শুনে অবাক। কিন্তুু অনন্তকে সবাই ভয় পায় বলে কেউ কিছু বলছে না।
অহনার মুখে কোনো কথা বের হচ্ছে না। অহনা অনন্তের কাছে এমন ব্যবহার মোটেও আশা করে নি। অহনার চোখের কোণে পানি টলমল করছে। আরেকটু হলেই অহনার চোখের জল টুপ করে মাটিতে গড়িয়ে পড়বে। অহনা মনে বলতে লাগল
--অনন্ত স্যার ক্লাসের সবার সামনে আমাকে এসব কি বলছে! শেষে কিনা স্যার আমাকে চরিত্রহীন উপাধি দিয়ে দিল!
--কিরে অহনা বলছিস না কেন? কয়টা প্রেমিক আছে তোর যাদের সাথে তুই ফূর্তি করিস?
অহনা আর সহ্য হলো না। এবার অহনা সাহস করে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আপনি আমাকে এসব কি বলছেন? স্যার আপনার কি কোনো ধারণা আছে আপনি কি বলছেন?
--হ্যা আমি জানি তো আমি তোকে কি বলছি অহনা। তা তুই যে এবারের উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় ডাবল শূন্য পেয়েছিস তা কি তুই জানিস অহনা? আমার বিষয়ে তুই ছাড়া সবাই পাশ করেছে।
অনন্তের কথা শুনে অহনা অবাক থেকে অবাক হচ্ছে৷ অহনার অনন্তের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায়৷ অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--এটা কি করে সম্ভব! আমি কি করে উচ্চতর গণিতে ফেল করতে পারি! আমিতো পাশ করার মতো যথেষ্ট লেখা লিখেছিলাম।
অনন্তের কথা শুনে অহনার চোখের কোণের পানি টপ করে নিচে পড়ে যায়। অহনার এ অবস্থা দেখে আজ সবারই মায়া হচ্ছে। আজ কারও মুখেই কোনো হাসি নেই। অহনার মন খারাপ দেখে আজ সবারই মন খারাপ। কিন্তুু ভয়ে কেউ অনন্তকে কিছু বলতে পারছে না। অনন্ত আবারও অহনাকে বলল
--সারাদিন পড়াশোনা বাদ দিয়ে যদি ছেলেদের সাথে ঢলাঢলি করিস তাহলে তো পরীক্ষার অবস্থা এমনই হবে। সত্যি তোর জন্য আমার ভীষণ মায়া লাগছে অহনা। শেষে কিনা তুই আমার বিষয়ে ফেল করলি! অহনা এবার মনে সাহস রেখে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আপনি এসব কি বলছেন?আমি আজ অবধি কোনোদিনও কোনো বিষয়ে ফেল করি নি৷ স্যার আমি তো পাশ করার মতো খাতায় অংক লিখেছিলাম! আর আপনি এসব কি বলছেন যে আমি নাকি ছেলেদের সাথে এমন...! ছিহ্ স্যার আপনার মুখে কি একবারও এসব আটকালো না? আপনি কি করে আপনার ছাত্রীকে এসব বলতে পারেন?
--নারে অহনা আমার মুখে একটুও আটকালো না। কারণ তোর মতো ফালতু মেয়েদেরকে তো এসব বলাই মানায়। তাই তো বলছি প্রেমিকদের সাথে ঘুরাফেরা করা বন্ধ করে পড়াশোনায় মনোযোগ দে। তাহলে তোর ভবিষ্যৎে কাজে লাগবে। আর তুই যেন কি বললি? তুই পাশ করার মতো খাতায় লিখেছিস! হা হা হা একটু পরেই তোর খাতা তোকে দিয়ে দিব তখন ভালো করে খাতাটা দেখে নিস৷
অনন্তের এসব কথা শুনে অহনার মাথা আগুন হয়ে যায়। অহনার মুখে আর কোনো কথা নেই। অহনার চোখ দিয়ে অনবরত জল পড়ছে। অহনার চোখে জল দেখে অনন্তের বুকের ভিতরটা কস্টে ফেটে যাচ্ছে। অনন্তের মনে হচ্ছে অনন্ত তার নিজের কলিজায় আঘাত দিচ্ছে।
অনন্ত মনে মনে বলতে লাগল
--তোকে কস্ট দিতে আমিও চাই নি অহনা। তুই আমার গালে থাপ্পড় দিয়েছিস তাতে আমি কিছু মনে করে নি অহনা৷ তুই চাইলে আমি আমার জীবনটাও তোকে দিতে পারব। কিন্তুু তুই কাল আমার ভালোবাসাকে যেভাবে অপমান করেছিস তার জন্য তো তোকে শাস্তি পেতেই হবে। তোর কাছে আমি আগের করা ভুলগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়েছিলাম কিন্তুু তুই আমাকে ক্ষমা করলি না। বরং তুই আমাকে আরও অপমান করেছিস। আমাকে তুই আরো কঠোর হতে বাধ্য করেছিস। ভালোবাসার জন্য যদি আমাকে আরো খারাপ, কঠোর, ভয়ংকর, এমনকি পাগলও হতে হয় তাহলে আমি তাই হবো। আমি যেমন তোকে নিজের থেকে বেশী ভালোবাসি তেমন তোকে নিজের করার জন্য তোকে যথেষ্ট আমি শাস্তিও দিতে পারি। তোকে অনেক ভালোবাসতে চেয়েছিলাম কিন্তুু তুই আমার ভালোবাসাকে অবহেলা করলি। এবার আমিও দেখব তুই কতদিন আমাকে অবহেলা করে থাকতে পারিস। ভালোবাসা না দিয়ে হলেও কস্ট দিয়ে হলেও আমি তোকে আমার ভালোবাসার কথা তোর মনে স্মরণ করিয়ে দিব। হতে পারে সেই ভালোবাসার প্রকাশটা অন্যরকম। আমার কাছেই যে অন্যরকম তুই।

সমনে পরিক্ষা তাই গল্প দিতে পারছি না যার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখীত। আমার জন্য দোয়া করিয়েন। আর সবাই নামাজ পড়বেন🥰 (ধন্যবাদ)

#চলবে......

07/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ০৬
ামেদ
অহনার নিস্তব্ধতা দেখে অনন্তের বুকে চিনচিন ব্যথা অনুভব হতে লাগল। অনন্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তার ভালোবাসার মানুষ এভাবে চুপ করে আছে। অনন্ত অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--কি হলো অহনা তুই চুপ করে আছিস কেন? আমি তোকে এতটা ভালোবাসি, আমার ভালোবাসার কথা শুনে কোনো উত্তর তুই কেন দিচ্ছিস না?
অহনা এখনো চুপ করে আছে। অনন্ত এবার অহনার দু বাহু ছেড়ে অহনার দু গালে আলতো করে হাতের স্পর্শ দিয়ে অহনাকে বলল
--অহনা প্লিজ তুই এভাবে চুপ করে থাকিস না! আমি তোর সাথে অনেক অন্যায় করেছি তুই আমাকে ক্ষমা করে দে অহনা। তুই শুধু আমাকে একবার বল তুই আমাকে ভালোবাসিস তাহলে আমি আর কোনোদিনও তোকে কস্ট দিব না অহনা। তুই আমাকে একটু ভালেবাসা দে অহনা৷
অহনা এবার অনন্তের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে খুব রেগে অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--এজন্যই ছেলেদের দেখলে আমার শরীরে এলার্জি হয়। আমি এ কারণেই ছেলেদের বিন্দু মাত্র সহ্য করতে পারি না। আচ্ছা আপনি কি ভাবেন? ভালোবাসা বাজারের কোনো পণ্য যে চাইলেই টুপ করে পেয়ে যাবেন। আপনি এত সুন্দরী মেয়ে ছেড়ে শেষে কিনা আমাকে ভালোবাসবেন সেটা নেহাতই হাস্যকর। শুনেছিলাম আপনি বিদেশ থেকে খুব অল্প বয়সেই পড়াশোনা করে দেশে ফিরে শিক্ষক পেশাতে নিয়োগ হয়েছিলেন। তো বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে কি আপনি ছাত্রীর সাথে অসভ্যতা করার শিক্ষা শিখে এসেছিলেন? আপনাদের মতো ছেলেদের শিক্ষক হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই। বাবার টাকার ক্ষমতা, নিজের সুন্দর চেহারা আর নিজের রাগ আর দম্ভ দিয়ে আপনি সব মেয়েদের ভালোবাসা কিনতে পারলেও আমার মনে আপনার জন্য এক টুকরোও ভালোবাসা পাবেন না। কারণ আমি আপনাকে ঘৃণা করি। আপনি আমার সাথে এতদিন যা যা অন্যায় করেছেন তার জন্য আমি আপনাকে কোনোদিনও ক্ষমা করতে পারব না, আর ভালোবাসা তো দূরের কথা।
অনন্ত এতক্ষণ অহনার কথা চুপচাপ শুনছিল। অহনার বলা কথাগুলোতে অনন্তের মাথায় রক্ত উঠে যায়৷ অনন্ত এখন অহনার দিকে ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অনন্তের ভয়ংকর দৃষ্টি দেখে অহনা ভয়ে চুপসে যায়। অনন্ত অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--তুই যেন কি বললি অহনা তুই আমাকে ভালোবাসিস না! তুই আমাকে ঘৃণা করিস?
--হ্যা হ্যা আমি আপনাকে ঘৃণা করি, ঘৃণা করি, ঘৃণা.....
অহনাকে আর বলতে না দিয়ে অনন্ত অহনার কোমর জড়িয়ে একহাতে অহনার পেছনের চুল আঁকড়ে ধরে অহনার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের সাথে মিলিয়ে নেয়।
অনন্তের এমন আচরণে অহনা অবাক হয়ে যায়। অহনা ভাবতেও পারে নি অনন্ত এমন করবে। অহনা অনন্তের পিঠে কিল ঘুষি দিচ্ছে তো দিচ্ছে কিন্তুু অনন্তকে কিছুতেই অহনা ছাড়াতে পারছে না। অনন্ত অহনার ঠোঁটজোড়া এত জোরেই আঁকড়ে ধরেছে যে অহনার ঠোঁটে ভিষণ ব্যথা হচ্ছে৷ অহনার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। অনেক্ষণপর অনন্ত অহনার ঠোঁটজোড়া ছেড়ে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--অহনা আমি এক বছর ধরে শিক্ষকতা করছি৷ বাবা চেয়েছিলেন
আমি বাবার বিজনেস দেখাশোনা করি কিন্তুু আমি তা শুনি নি। কিন্তুু এখন যদি তুই চাস আমি এই শিক্ষক পেশা থেকে নিজেকে বের করে আনব। তোর জন্য আমি আমার জীবনটাও দিতে পারি অহনা৷ তুই আমাকে একটু ভালেবাসা দে অহনা। আমি যে তোকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি।
অহনা এবার খুব রেগে গিয়ে অনন্তের গালে ঠাসসস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। অনন্ত এত রাগী যে কোনোদিনও কাঁদে নি৷ কিন্তুু অহনার থাপ্পড়ে অনন্তের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগল৷
অহনা খুব রেগে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আমার মনে হয় আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ। নাহলে কোনো সুস্থ শিক্ষক তার ছাত্রীর সাথে এমন অসভ্যতা করতে পারত না। আপনি নিজের মানসিকতা ঠিক করেন স্যার৷
এটা বলেই অহনা ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে গেল৷ অনন্ত এখনোও সেখানেই দাড়িয়ে আছে৷ অনন্ত নিজের গালে হাত দিয়ে বলতে লাগল
--আমি ভাবতেও পারি নি অহনা তুই আমাকে এভাবে অপমান করবি! এভাবে তুই আমার গালে থাপ্পড় দিবি৷ আমার ভালোবাসাকে এভাবে তুই অবহেলা করবি।অনন্ত আহমেদকে কেউ কোনোদিন থাপ্পড় দেওয়ার সাহস পায় নি। কিন্তুু তুই আজকে সেই সাহস দেখালি। এর শাস্তি তো তোকে পেতেই হবে।
অহনা বাসায় গিয়ে রুমের দরজা লাগিয়ে হাঁপাতে লাগল। অহনা ভাবতেও পারছে না যে সে অনন্ত স্যারকে থাপ্পড় দিয়েছে৷ অহনার মনে ভীষণ ভয় কাজ করছে। অহনা মনে মনে বলতে লাগল
-- এটা আমি কি করলাম! শেষে কিনা আমি ঐ শয়তান দানব স্যারটাকে থাপ্পড় মারলাম! আমার মনে এত সাহস কোথা থেকে আসল! এরপর আমার আর রক্ষা নেই৷ আমি চাইলেই স্যারের ক্লাসটা না করতে পারি কিন্তুু আমি যে কারও কাছে প্রাইভেট পড়ি না! আমার যে প্রাইভেট পড়ার টাকাও নেই। কারণ আমার পরিবার যে ভীষণ গরীব। অনন্ত স্যার অনেক ভালো অংক বুঝায় তাই শত অপমান করা সত্তেও আমি তার ক্লাসটা করি। কিন্তুু এবার যে আমাকে স্যারের হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কিন্তুু অবশ্য উনার সাহস হয় কি করে আমার ঠোঁটের সাথে এমন কাজ করার!
অহনা আয়নায় গিয়ে দেখল অহনার ঠোঁটটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। অনন্তের ঠোঁটের স্পর্শের কথা মনে পড়তেই অহনা ভয়ে কেঁপে উঠে।

গত কিছু দিন ধরে ব্যাস্তার কারণে গল্প দিতে পারি নাই তাই আজ কে দিলাম 🙂 কেমন হয়ছে জানাবেন আর সবাই নামাজ পড়বেন🥰 (ধন্যবাদ)

#চলবে...

07/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ০৫
ামেদ
অনন্তের পায়ের এ অবস্থা দেখে অহনা কিছুটা কৌতুহল হয়ে পাশের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল কিন্তুু অনন্তের দেওয়া ভয়ানক শাস্তির কথা মনে পড়তেই অহনা আর কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করল না। অহনা মনে মনে বলল
--এই দানব স্যারের যা মন চায় তাই হোক তাতে আমার কি? এসব ফালতু স্যার মরে যাক। বেশ হয়েছে পায়ে আঘাত পেয়েছে। এই বদমাশ স্যারটার জন্যই আমার পায়ে ব্যথা পেয়েছিলাম। এবার বুঝ অন্যকে কস্ট দিলে কেমন লাগে হুহ্।
আজকে অনন্তকে দেখতে একটুও রাগী লাগছে না। অনন্ত তার বেন্ডেজ হাত পা নিয়েই বোর্ডে অংক করাচ্ছে। অহনার এই বেন্ডেজ ওয়ালা টিচারকে দেখে মনে হচ্ছে এ কোনো সাদা ভালুক। অহনা অনন্তের ক্লাসের অংক খাতায় করতে লাগল। অনন্তের ক্লাস যখন প্রায় শেষের দিকে তখন অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--আজকে এই দানব, শয়তান, বদমাশ, লুচু স্যারটা কি আমাকে শাস্তি দিবে? দেখে তো মনে হচ্ছে না আজ আমাকে শাস্তি দিবে। কিন্তুু তাও আমার মনের মধ্যে সন্দেহ বিরাজ করছে। এই স্যার কলেজে আমার মান সম্মান বিন্দু মাত্র রাখল না। সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।
অনন্তের ক্লাস শেষ। অনন্ত যখন ক্লাস থেকে যেতে নিল তখন অহনা তো মহাখুশি৷ কিন্তুু অহনাকে অবাক করে অনন্ত ফিরে এসে অহনার কাছে এসে অহনাকে বলল
--তুই আজ ছুটির পর একা কলেজের সব ক্লাসরুম ঝাড়ু দিবি। কোনো রুমে যেন একটুও নোংরা থাকে। বুঝতে পেরেছিস? যদি কোনো রুমে একটু পরিমাণ নোংরা আমি পাই তাহলে তোর অবস্থা কি হবে তুই নিশ্চয় বুঝতে পারছিস অহনা?
অনন্তের কথা শুনে অহনা অবাক।
এর থেকেও কঠিন শাস্তি অহনা পেয়েছে কিন্তুু অনন্তের এই শাস্তির কথা শুনে অহনা মনে মনে বলল
--শেষে কিনা আমি ঝাড়ুওয়ালি হবো! তাও কিনা কলেজের সব ক্লাসের ঝাড়ুওয়ালি! সবার সামনে এত বড় অপমান করল আমাকে এই ফালতু স্যারটা। এই স্যারটা আমার সাথে এমন করছে কেন?
--কি হলো উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
--ইয়ে মানে স্যার আমি একা কলেজের সব ক্লাসরুম ঝাড়ু দিব? আমার সাথে আর কেউ ঝাড়ু দিবে না? আমি একা কি করে এতগুলো ক্লাস ঝাড়ু দিব স্যার?
--তোর সাথে আর কেউ ঝাড়ু দিবে না। তুই একাই ঝাড়ু দিবি। আমার সাথে বেশি কথা বাড়াবাড়ি করবি তো কঠিন শাস্তি ভোগ করবি তুই৷
অহনার এখন ইচ্ছে করছে এই স্যারকে গুলি করে মারতে কিন্তুু কি আর করার ক্লাসরুম পরিস্কার না করলে যে অহনার কপালে আরও ভয়ংকর শাস্তি থাকবে সেটা অহনা ভালো করেই বুঝতে পারছে।
প্রত্যেকটা স্যারের ক্লাস অহনা মনোযোগ সহকারে করল। এবার ছুটি মানে সবাই বাসায় চলে যাবে কিন্তুু অহনা যেতে পারবে না। কারণ অনন্ত অহনাকে ছুটির পর কলেজের সব ক্লাসরুম ঝাড়ু দিতে বলেছে। অহনাও বাধ্য হয়ে একটা ঝাড়ু নিয়ে সবার আগে নিজের ক্লাসরুমটা ঝাড়ু দিল। একেরপর এক সব ক্লাসরুম অহনা ঝাড়ু দিতে লাগল। অহনা হাঁপিয়ে যাচ্ছে। অহনার শরীর থেকে বিন্দু বিন্দু ঘাম টুপ টুপ করে ঝরে পড়ছে। এবার অহনা যে ক্লাসরুমটা ঝাড়ু দিবে সেটা হলো ঘন অন্ধকার ক্লাসরুম৷ অহনা ভীষণ ভয় পেতে লাগল। অহনা মনে মনে বলল
--এই ক্লাসটায় কোনো স্যার পড়ায় বলে তো মনে হয় না৷ কি ভয়ানক অন্ধকার! আমি এমনিতেও অন্ধকারে ভয় পাই তার উপর এই ক্লাস ঝাড়ু দিব কি করে! কিন্তুু দানব স্যারটা বলেছিল কলেজের একটা ক্লাসও যেন বাদ না থাকে। উফ কি আর করার ক্লাসটায় ঢুকতে তো হবেই৷ আমার যে আর কিছু করার নেই৷ নাহলে যে শাস্তি পেতে হবে
অহনা হাতে ঝাড়ুটা নিয়ে এক পা দু পা করে ক্লাসরুমটায় প্রবেশ করল। ক্লাসরুমে সব ভাঙা বেঞ্চ রাখা। দেয়ালে একটা ভাঙা ব্লাকবোর্ড। অহনা মনে একটু সাহস নিয়ে ঝাড়ুটা নিয়ে ক্লাসরুমটা ঝাড়ু দিতে লাগল। ক্লাসরুমটায় এতটাই ধুলাবালি যে ঝাড়ু দেওয়ার সময় অহনার ভীষণ কাশি পাচ্ছে। হঠাৎ ক্লাসরুমটার দরজাটা কেউ ঠাস করে বন্ধ করে দিল৷ অহনা বুঝতে পারছে ক্লাসরুমের ভিতরে কারও আগমন ঘটেছে। অহনা ভয়ে ভয়ে বলতে লাগল
-- ক.. ক.. কে ওখানে?
অহনা কোনো সাড়াশব্দ পেল না। কিন্তুু পায়ের শব্দ অহনা ঠিকই শুনতে পাচ্ছে। পায়ের শব্দটা ধীরে ধীরে অহনার কাছেই আসছে।
অহনা ভয়ে ভয়ে বলল
--কে ওখানে? বলুন না? আমার যে খুব ভয় লাগছে। এমনিতেও অন্ধকারে আমি খুব ভয় পাই।
হঠাৎ অহনার দু বাহু ধরে টেনে কেউ দেয়ালে চেপে ধরল। অহনা ভয়ে কেঁপে উঠল। অহনা আ করে চিতকার দিতে নিলে কেউ ওর মুখটা চেপে ধরল। তারপর অহনার মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলতে লাগল
--অহনা তুই চুপ থাক। একদম চিল্লাচিল্লি করবি না। আমাকে তুই চিনতে পারছিস না অহনা?
অহনার ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। এই কন্ঠটা অহনার খুব চেনা। অহনা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল
--অনন্ত স্যার আপনি?
--হ্যা আমি। তোর অনন্ত স্যার।
ঐদিকে তীব্র বাতাসে ক্লাসরুমের একটা জানালা খুলে যায়। এর ফলে বাইরের আলো ক্লাসরুমের ভিতরে আসতে লাগল। পুরো রুমটা একটু আলোকিত হলো। তার সাথে বাইরের তীব্র আলো অনন্তের মুখে পড়ল। অহনা তো অনন্তকে দেখতে পেয়ে ভয়ে কেঁপে যায়। অহনার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। অহনা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আমার হাতটা ছেড়ে দিন প্লিজ। আমার খুব ব্যথা লাগছে।
--তোর তো হাতে ব্যথা লাগছে আর আমার যে বুকের মধ্যে ব্যথা লাগছে তা কি তুই বুঝতে পারিস না অহনা?
অনন্তের এমন অদ্ভুত কথার মানে অহনা বুঝতে পারল না। অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আপনি কি বলতে চান স্যার? আপনার বুকে ব্যথা মানে?
--আমাকে কেন তুই এত অবহেলা করিস অহনা? কেন তুই আমার দিকে ঠিকমতো তাকাস না? আমার উপর তোর খুব অভিমান। এতই অভিমান যে তুই বুঝিস না আমি তোকে কেন এত কস্ট দেই?
--আপনার উপর তাও আবার আমার অভিমান! হা হা হা আমাকে হাসালে আপনি। আমি আপনাকে অভিমান না স্যার, আমি আপনাকে ঘৃণা করি৷ আমি আপনাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করি৷ আগে আমি আপনাকে যথেষ্ট সন্মান করতাম কিন্তুু এখন শুধু আমি আপনাকে
ঘৃণা করি। আপনি প্রতিদিন যেভাবে আমাকে সবার সামনে অপমান করেছেন তার জন্য আমি আপনাকে কোনোদিনও ক্ষমা করতে পারব না৷
-- আমাকে একটু ভালেবাসা দিবি অহনা? আমাকে একটু তোর মনে জায়গা দিবি?
অনন্তের এমন কথায় অহনা স্তব্ধ হয়ে অনন্তের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তারপর অহনা রেগে গিয়ে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আপনাকে যতই দেখছি ততই আমার আপনার প্রতি ঘৃণা আরও বাড়ছে৷ আপনি একজন শিক্ষক হয়ে আপনার ছাত্রীকে ভালোবাসার কথা বলেন! এসব বলতে আপনার লজ্জা করে না স্যার?
-- আমার লজ্জা করে না। কেন রে আমি কোন দিক দিয়ে খারাপ যে তুই আমাকে মেনে নিতে পারিস না? সব মেয়েরা আমার জন্য পাগল। আর তুই যে কিনা আমাকে সবসময় অবহেলা করিস। কেন রে তোর আর আমার বয়সের মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধান৷ তোর বয়স ১৮ আর আমার বয়স ২৪৷ তাহলে সমস্যাটা কি? আমরা কি পারফেক্ট কাপল হতে পারি না?
--না পারি না কারণ আপনি আমার শিক্ষক৷ আর সবচেয়ে বড় কথা আমি আপনাকে ঘৃণা করি। সবার আগে আমার গল্প পড়তে চাইলে "নীল ক্যাফের ডায়েরী " পেজে পাবেন।
--কেন এত ঘৃণা করিস তুই আমাকে অহনা? যেদিন কলেজে আমি নতুন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হই সেদিন আমার প্রথম করা ক্লাসে সবাই আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আর তুই কিনা আমার দিকে ভালো করে তাকাসও নি। যেটা আমার কাছে অপমানজনক লাগে। সব মেয়েরা ক্লাসে কথাবার্তা বলছিল আর তুই চুপ করে ছিলি৷ আমি ভালই বুঝতে পেরেছিলাম তোর কোনো বন্ধু-বান্ধবী নেই। তুই একদম চুপচাপ, একদম শান্ত, আর হ্যা সবথেকে বোকাও তুই। একদম #অন্যরকম তুই৷ তাই সেদিনই আমার তোর প্রতি ভালোলাগা কাজ করে। তোকে যতই দেখেছি ততই আমি তোর প্রেমে পড়েছি৷ হ্যা হ্যা হ্যা আমি তোকে ভালোবাসি অহনা। তাই আমার প্রতি তোর অবহেলার জন্য তোকে আমি এতটা শাস্তি দেই। তুই যতটা কস্ট পাস তার থেকেও হাজারগুণ কস্ট আমি নিজেকে দিয়েছি৷ শুধু যে আমার হাত কেটেছি তা কিন্তুু নয় অহনা। দেখ অহনা আমার হাতে ছুরি দিয়ে আমি তোর নামও লিখেছি৷
অহনা দেখল অনন্তের ডান হাতের একটু উপরে অহনার নাম লেখা৷ তাও আবার দাঁড়াল ছুরি দিয়ে লেখা। এসব দেখে অহনার মনে ভয় কাজ করতে লাগল৷ অহনার মুখে কোনো কথা নেই। শুধু চুপ করে অনন্তের কথা শুনছে অহনা। অনন্ত অহনাকে আবারও বলতে লাগল
--জানিস অহনা সেদিন তোকে খালি পায়ে পুরো ২০ বার কলেজ চক্কর দিতে আমি চাই নি। কিন্তুু তুই যাতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হোস তাই আমি তোকে এই শাস্তিটা দিয়েছি। তোর পায়ে যতটা আমি রক্ত জরিয়েছি তার থেকে দ্বিগুণ আমি আমার পায়ে রক্ত জরিয়েছি অহনা। দেখতে পারছিস আমার দু পায়ে বেন্ডেজ। আমি কাঁচের গ্লাস ভেঙে সেখানে দুই পা রেখেছিলাম৷ আমার অহনাকে কস্ট দিব আর আমি নিজেকে ঠিক রাখবো সেটা কি করে হয় অহনা! আর তুই জানিস তোকে আমি কেন তুই করে বলি? কারণ আমি তোকে ভালোবেসে তুই করে বলি। তুই যে আমার কাছে সবচেয়ে আলাদা, #অন্যরকম তুই৷
অহনার মুখে কোনো কথা নেই। অহনা এখনও চুপ করেই আছে।



#চলবে....
[প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আমার গল্পটাকে এত ভালোবাসার জন্য আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ🙂। কিন্তুু দুই একজন আছেন যারা আমার গল্প পছন্দ করেন না। তাদের উদ্দেশ্য করে বলছি যাদের আমার গল্প ভালো লাগে না তারা দয়াকরে গল্পটা পড়বেন না। নিজের মূল্যবান সময় অপচয় করে আমি গল্পটা লিখি কারণ আমি গল্প লিখতে ভালোবাসি৷ তাই আমার গল্পকে এবং আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেন না। আমি গল্প লিখে টাকা উপার্জন করি না যে আপনাদের বাজে মন্তব্য সহ্য করব। ধন্যবাদ]

04/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ০৪
ামেদ
অহনা বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিয়ে তারপর পড়ার টেবিলে পড়তে বসল। কিন্তুু পড়াতে একদম মনোযোগ দিতে পারছে না অহনা। অহনা ঠোঁটের কাছে কলম লাগিয়ে মনে মনে ভাবতে লাগল
--আচ্ছা অনন্ত স্যার এমন কেন? স্যারের কি আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই? সবসময় আমার পেছনেই লেগে থাকে! আমাকে শাস্তি দিল আবার আমার ব্যথা হাতে মলম লাগাল! ব্যাপারটা আমার মোটেও ভালো লাগছে না। স্যার নিজেকে ভাবে টা কি? যখন মন চায় তখন অপমান করবে, যখন মন চায় তখন শাস্তি দিবে আবার যখন মন চায় তখন মলম লাগাবে! একদম অসহ্যকর। এই দানব স্যারটাকে তো মাঝে মাঝে মন চায় গলা টিপে মেরে ফেলি হুহ্। না না না আমি এসব ভাবা বন্ধ করে পড়ায় মনোযোগ দেই নাহলে দানবটা আবার কালকে আমাকে পড়া না পারার অজুহাতে শাস্তি দিবে।
অহনা খুব মন দিয়ে পড়ল। পড়তে পড়তে যখন খুব রাত হয়ে যায় তখন অহনা ঘুমিয়ে পড়ল। পরেরদিন সকালে উঠে অহনা কলেজ গেল। তিনটা ক্লাস অহনা মনোযোগ সহকারে করল। এবার চতুর্থ ক্লাস মানে অনন্তের ক্লাস। অহনা এবার ভয় পেতে লাগল। অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--অংক তো খুব ভালো করেই করেছিলাম কিন্তুু এই লুচু দানবটা যদি আবার আমাকে বোর্ডে অংক করতে বলে তখন যদি আমি ভয়ে ভুলে যাই। না না না আমি অনেকবার অংক চর্চা করেছি। কিছুতেই ভুলব না আমি।
অনন্ত ক্লাসে চলে আসল। সবাই অনন্ত স্যারকে দাঁড়িয়ে সালাম দিল। অহনাও দাড়িয়ে সালাম দিল। তারপর সবাই নিজের সিটে বসে পড়ল। অনন্ত ক্লাসে এসেই বই নিয়ে বোর্ডে অংক করাতে লাগল। এটা দেখে অহনা তো মহা খুশি। অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--যাক বাবা! স্যার আজ আমাকে পড়া ধরবে না! ভাবতেই মনটা খুশি খুশি লাগছে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। ইয়াহুু !
কিন্তুু অহনার এই খুশি বেশিক্ষণ থাকল না। অহনার ভাবনায় এক বালতি জল দিয়ে অনন্ত বোর্ডে অংক করা শেষ করে অহনার কাছে এসে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--অহনা আজ তুই পড়া শিখে এসেছিস? অংক করতে দিলে পারবি তো?
অনন্তের কথা শুনে অহনা আকাশ থেকে পড়ল। ভয়ে বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--জ্বি স্যার পা.. পা.. পারব।
--সত্যি তুই অংক করতে পারবি তো অহনা? যদি তুই অংক করতে না পারিস তাহলে তোর কপালে যে শনি, রবি, সোম, মঙ্গল সব নাচছে তা কি তুই বুঝতে পারছিস?
--জ্বি স্যা.. স্যা.. স্যার ।
--তাহলে যা বোর্ডে গিয়ে তৃতীয় অধ্যায়ের ৫ নং অংকটা ঝটপট করে ফেল দেখি।
--স্যার বোর্ডে অংকটা না লিখে আমি অংকটা খাতায় লিখি?
অহনার কথা শুনে অনন্ত রাগী দৃষ্টিতে অহনার দিকে তাকাল। অহনা অনন্তের ভয়ংকর দৃষ্টি দেখে ভয়ে চুপসে গেল। অনন্ত অহনাকে রাগী গলায় বলল
--তুই কি আমার কথার অবাধ্য হচ্ছিস অহনা? তুই জানিস এর ফল তোর জন্য কি হতে পারে?
--না না না স্যার৷ আমি এক্ষুণি বোর্ডে অংকটা করছি।
অহনা বাধ্য হয়েই হোয়াইট বোর্ডে অংক করতে গেল। ভয়ে অহনার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। অহনা হাতে মার্কার নিল। কিন্তুু যখন অহনা অংক করতে নিল তখন অহনার অংক আর মনে পড়ল না। অহনার মাথার মস্তিস্ক আর কাজ করল না। এদিকে অনন্ত অহনার পাশেই দাড়িয়ে আছে৷
--কি হলো অহনা অংক করছিস না কেন? এখন নিশ্চয়ই তুই বলবি যে ভুলে গেছিস।
--স্যার সত্যি আমি অংকটা ভুলে গেছি। কিন্তুু স্যার আপনি বিশ্বাস করুন আমি কাল সারাদিন অংক করেছি। কিন্তুু এখন মনে পড়ছে না।
অহনার কথা শুনে ক্লাসের ছেলে মেয়েরা হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছে। এদিকে অনন্ত রাগী দৃষ্টিতে অহনার দিকে তাকিয়ে আছে। অনন্ত রাগী দৃষ্টিতে চিতকার করে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আমাকে কি তুই বোকা মনে করিস অহনা? তুই বলবি আর আমি বিশ্বাস করে নিব। তুই ক্লাস থেকে এখনি বেরিয়ে যা এবং খালি পায়ে কান ধরে ২০ বার কলেজ চক্কর দিয়ে আসবি।
অনন্তের কথা শুনে অহনা স্তব্ধ হয়ে গেল। অহনার চোখের পানি টলমল করতে লাগল। অহনা অনন্তকে অনুরোধ করে বলল
--স্যার আপনি আমাকে যা শাস্তি দিবেন আমি মাথা পেতে নিব। কিন্তুু এমন শাস্তি আমাকে দিবেন না স্যার প্লিজ? এইটুকু দয়া করুন স্যার।
অহনার চোখের পানি অনন্তের মন গলাতে পারল না। অনন্ত খুব রাগী গলায় অহনাকে বলল
--তুই কি আমার আদেশ মানবি নাকি আমি তোকে কলেজ থেকে চিরতরে বের করার ব্যবস্থা নিব?
অনন্তের এমন কথায় অহনার বুক ফেটে কান্না আসছে। ক্লাসের সব ছেলে মেয়েরা অহনার কস্ট উপভোগ করছে। অহনা বাধ্য হয়েই ক্লাস থেকে বেরিয়ে খালি পায়ে কান ধরে ২০ বার কলেজ চক্কর দিতে লাগল। কান ধরে কলেজ চক্কর দেওয়ার মুহূর্তে অহনা খুব কান্না করেছে। খালি পায়ে হাঁটার কারণে ইটের ছোট ছোট টুকরো অহনার পায়ে লেগেছে৷ অহনা অনেক ব্যথাও পেয়েছে এবং পা দিয়ে রক্তও পড়েছে । চোখ দিয়ে অনবরত জল ফেলেছে অহনা। অন্যান্য স্যাররা অহনাকে এ অবস্থায় দেখে খারাপ লাগলেও অনন্তকে কিছু বলতে পারে নি। কারণ অনন্তের বাবার অনেক ক্ষমতা। তাই কোনো স্যার সাহস করে অনন্তকে কিছু বলতে পারে নি। অহনা ধীরে ধীরে রক্তমাখা পায়ে ক্লাসে গিয়ে ব্যাগটা নিয়েই সোজা কলেজ থেকে বের হয়ে রিকশা নিয়ে বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে অহনা প্রচুর কান্না করল। অহনার মা বাবা কিছু জানতে চাইলে অহনা তাদের বলে রিকশা থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছে। অনন্তের কঠিন শাস্তি অহনা আর পেতে চায় না। তাই অহনা তার মা বাবাকে কিছু বলে নি। অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--স্যার আপনি আজকে আমাকে যেভাবে অপমান করলেন, যেভাবে শাস্তি দিলেন তা আমি কোনোদিনও ভুলতে পারব না৷ কোনোদিনও না। আমি আপনাকে কোনোদিনও ক্ষমা করতে পারব না।
অহনা দুই দিন কলেজ গেল না। অহনা তার রক্তাক্ত পায়ে দুইদিন মলম লাগালো কিন্তুু তবুও ব্যথা কমল না। দুইদিন পর অহনা ব্যথা পা নিয়েই কলেজ গেল এবং ক্লাস করতে লাগল। কিন্তুু অহনার মনটা খুব খারাপ। চতুর্থ ক্লাসে অনন্ত আসল। অনন্তকে দেখে অহনার খুব রাগ হচ্ছে।সবাই অনন্তকে দেখে দাঁড়িয়ে সালাম করল। অহনা দাঁড়াতে চায় নি কিন্তুু তবুও সবাই দাড়িয়েছে দেখে অহনা দাঁড়াল। কিন্তুু একি দেখছে অহনা! অনন্তের দুই পায়ে বেন্ডেজ। বেন্ডেজের উপর রক্ত জমাট বাঁধা। অনন্তকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে হাঁটতে অনন্তের ভীষণ কস্ট হচ্ছে। অহনা অনন্তের এ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে মনে মনে বলতে লাগল
--এই দানবটার আগে হাত কেটেছিল আবার এখন দেখি দুই পায়ে বেন্ডেজ! তারমানে দানবটার দুই পায়েই আঘাত পেয়েছে। কিন্তুু দানব স্যারটার পা কাটলো কিভাবে?

Next না লিখে গঠন মুলক কমেন্ট করুন যাতে করে আপনাদরের মাঝে গল্প দিতে উৎসাহ পায়। আর হ্যে সবাই কিন্তু নামাজ পড়বেন 🥰(ধন্যবাদ)

#চলবে....

04/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ০৩
েদ
অনন্তকে অন্যান্য দিনের মতো আজ রাগী লাগছে না। খুব শান্ত হয়েই বোর্ডে অনন্ত অংক করাচ্ছে৷ হাতে বেন্ডেজ বাঁধা অবস্থাতেই খুব নিখুঁতভাবে অনন্ত বোর্ডে অংক করাচ্ছে। সব মেয়েরা অনন্তের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিন্তুু অহনা অনন্তের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। অহনা শুধু অনন্তের বোর্ডের লেখার দিকে তাকিয়ে আছে। বোর্ডে লেখা শেষ হলে অনন্ত সবার অংক ঘুরে ঘুরে চেক করছে। অহনা ভেবেছিল অনন্ত আজ তাকে কিছু বলবে না। অহনাও সবার মতো স্বাভাবিকভাবে অনন্তের বোর্ডে দেওয়া অংক খাতায় লিখছিল। অহনার হাতের ব্যথা এখনও যায় নি তবুও অহনা ব্যথা হাতে খুব মনোযোগ দিয়েই অংক লিখছিল।
--ওড়নাটা বুকের আরেকটু উপরে তুলে দিতি তাহলে আরো ভালো করে সব ছেলেরা উপভোগ করতে পারতো।
এমন বাজে কথা শুনে অহনা চমকে পাশে ঘুরে দেখল অনন্ত তার পাশেই দাড়িয়ে আছে।
অহনার বুঝতে আর বাকি রইল না অনন্তই তাকে এ কথাটা বলেছে। এদিকে ক্লাসে ইতিমধ্যেই হাসাহাসি শুরু হয়ে গেছে৷ অহনা নিজের বুকের দিকে তাকিয়ে দেখল সত্যি ওড়নাটা বুকের উপরে উঠে গেছে। লেখতে লেখতে অহনার খেয়াল ছিল না। তাই কোনোমতে তাড়াতাড়ি ওড়নাটা ঠিক করে পড়ে নিল। অহনা মুখে কিছু বলল না। কিন্তুু অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--এই ফালতু স্যারের কি খেয়ে দেয়ে আর কোনো কাজ নেই! বেটা লুচু তোর এতদিকে চোখ যায় কেন উফ অসহ্য। লেখতে লেখতে কখন যে ওড়নাটা উপরে উঠে গিয়েছিল টের পাই নি৷ দুর ভালো লাগে না৷ এই স্যারটাকে আমার একদম অসহ্য লাগে। ফালতু স্যার একটা।
অনন্ত নিজের ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে চলে গেল। অহনার সবগুলো ক্লাস করার পর যখন অহনা কলেজ থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাঁটছিল। তখনই কেউ একজন পেছন থেকে অহনাকে ডাক দিতে লাগল
--অহনা... এই অহনা.. দাঁড়া।
অহনার কন্ঠটা চেনা চেনা মনে হলো তাই যখন অহনা পেছনে ফিরল তখন অহনা চমকে উঠল। এ যে আর কেউ নয় অনন্ত। অহনা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অনন্তকে বলল
--স্যা স্যা স্যার আ আ আপনি?!!
--তোর হাতটা দেখি তো।
--কেন স্যার! আমার হাত দেখে আপনি কি করবেন?
--আহ্ বেশী কথা বলছিস কেন? হাতটা দেখা বলছি।
--না স্যার আমার হাত দেখতে হবে না। আমি এখন আসি স্যার।
এটা বলেই অহনা চলে যেতে নিলে অনন্ত রাগী কন্ঠে অহনাকে বলল
--তুই কি দাঁড়াবি নাকি কালকে কলেজে কঠিন শাস্তি পাওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করবি?
মুহূর্তেই অহনা নিজের চোখ মুখ বন্ধ করে মনে মনে ভাবতে থাকে
--না না না এ হতে পারে না! অনেক অপমান অনেক শাস্তি এই দানবটার কাছ থেকে আমি পেয়েছি আর নয়। তার চেয়ে ভালো নিজের হাতটা দেখিয়েই ফেলি।
অহনা পেছন থেকে ফিরে এসে অনন্তকে নিজের বাম হাতটা দেখাল। এটা দেখে অনন্ত খুব রেগে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--আমি কি তোকে বাম হাতে মেরেছি যে বাম হাত দেখাচ্ছিস? তোর ডান হাতটা দেখা।
অহনা বাধ্য হয়ে ডান হাত দেখাল। অনন্ত পকেট থেকে একটা মলম বের করে অহনার হাতটা ধরে মলম লাগাতে লাগল। অনন্তের এই কান্ড দেখে অহনা মুহূর্তেই তার চোখ রসগোল্লা করে ফেলল।
--স্যার আপনি রাস্তায় আমার হাত ধরে মলম লাগাচ্ছেন! কেউ যদি এটা দেখে ফেলে তাহলে কি ভাববে স্যার! প্লিজ আমার হাতটা ছাড়ুন আমার হাতে আর ব্যথা নেই।
--তুই একদম চুপ থাক৷ সেদিন রাগটা আমার এতই উঠেছিল যে নিজের উপর কনট্রোল রাখতে পারি নি। আমাকে তুই ক্ষমা করে দিস অহনা।
অনন্তের কথা শুনে অহনা অবাক থেকে অবাক হচ্ছে। অহনা অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--না স্যার আপনি ক্ষমা চেয়ে আমাকে অপরাধী করবেন না। আপনি আমার শিক্ষক তাই আমি ভুল করলে আপনি আমাকে শাস্তি দিতেই পারেন। এতে ক্ষমা করার কিছুই নেই।
--অহনা তুই আমার দিকে না তাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে কথা বলছিস কেন? আমি কি দেখতে এতটাই খারাপ?
অনন্তের এসব অদ্ভুত প্রস্নের উত্তর কি দিবে অহনা বুঝতে পারছে না৷ অহনার মুখে কোনো কথা নেই কিন্তুু অহনা মনে মনে ঠিকই বলল
--ইসস শখ কতো! কেন রে তোর দিকে তাকাতে আমার বয়েই গেছে ব্যাটা লুচু। মেয়েরা তো তোর দিকে খালি ক্রাশ খায়। আমি কচুও খাব না হুহ্।
--কিরে কিছু বলছিস না কেন?
--স্যার আমি এখন আসি।
এটা বলেই অহনা অরণ্যের কাছ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে চলে গেল। অনন্ত অহনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। এখনও অনন্ত রাস্তায় দাড়িয়ে আছে। অনন্ত মনে মনে বলল
--একবারও তুই জিজ্ঞেস করলি না অহনা আমি কেন হাতটা কাটলাম! আমাকে তুই এত ঘৃণা করিস!



#চলবে....

03/09/2024

#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ 1+2
েদ
অনেক দিন আগের একটা গল্প আবার আপনাদের মাঝে নিয়ে হাজির হলাম কেমন লাগল জানাবেন!
বি: যারা নতুন পাঠক আছেন শুধু তাদের জন্য 🥰

-সিড়ি দিয়ে ক্লাসরুমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে উপরে উঠছিল অহনা। তখনই কেউ অহনার পেছনের ওড়না ধরে টান দেয়। আকস্মিক এমন ঘটনায় বুকটা কেঁপে উঠে অহনার৷ অহনা পেছনে ঘুরে যাকে দেখে তা দেখে অহনার বুকটা ধুক করে কেঁপে উঠল। অহনার ওড়না পেছন থেকে যে টান দিয়েছে সে আর কেউ নয় তার কলেজের টিচার৷। তার নাম হলো অনন্ত আহমেদ। অনন্ত দেখতে খুব সুন্দর যে কিনা সব মেয়েদের ক্রাশ কিন্তুু অহনার ক্রাশ নয়৷ অহনা ছেলেদের দিকে তাকায় না। তাকালেই মনে হয় অহনার এলার্জি হয়। ঠিক তেমনই অনন্তও কোনো মেয়েকেই পাত্তা দেয় না সবসময় রাগী লুক নিয়ে থাকে৷ অহনার উচ্চতর গণিত ক্লাসটা অনন্ত নেয়। আর শুধু তাই নয় ক্লাসে কারণে অকারণে অহনাকে সবার থেকে সবচেয়ে বেশী শাস্তি দেয় অনন্ত৷ সেটা পড়া পারলেও কিংবা না পারলেও। অহনা খুব ভিতু, বোকা, বাচ্চা স্বভাব, ও গরীব ঘরের মেয়ে৷ অহনা দেখতে অতটা সুন্দরীও নয়। কোনোরকম টেনে টুনে কলেজে পড়ে। অন্য কোনো ছেলে অহনার সাথে এমন করলে অহনা হয়তো বকা দিত আর নাহলে টিচারদের কাছে বিচার দিত৷ কিন্তুু এ কাকে দেখছে অহনা! কলেজের মেয়েদের সপ্নের নায়ক আর সবচেয়ে রাগী আর ভয়ংকর যদি কোনো শিক্ষক থেকে থাকে তা হলো অনন্ত। বাবার প্রচুর টাকা থাকা সত্তেও নিজের সপ্ন ছিল একজন শিক্ষক হওয়া তাই অনন্ত শিক্ষক পেশাকেই বেছে নেয়৷ অহনার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে অনন্ত স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলল
-- স্যা স্যার আ আ আপনি! আমার ওড়নাটা স্যার ছেড়ে দিন স্যার৷
--যদি ওড়নাটা না ছাড়ি তাহলে তুই কি করবি?
অনন্তের কথা শুনে অহনার বুকটা ভয়ে কেঁপে উঠল। আজ অহনা কলেজে পৌঁছাতে খুব দেড়ি করে ফেলে সব শিক্ষকরা ক্লাস নিতে ব্যস্ত আর অহনা এখন পড়েছে মহা বিপদে৷ অনন্ত স্যারকে কি বলবে অহনা বুঝতে পারছে না৷
--স্যার আমার ওড়না ছেড়ে দিন প্লিজ আমি ক্লাসে যাবো।
অনন্ত অহনার ওড়নাটা ছেড়ে অহনার হাত ধরে টানতে টানতে এক ফাঁকা ক্লাসে অনন্ত অহনাকে নিয়ে দরজাটা ঠাস করে লাগিয়ে দেয়৷ অহনার ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। বুকটা রীতিমতো কাঁপা-কাঁপি করছে। অনন্ত অহনার কাছে এসে অহনাকে দু বাহু ধরে দেয়ালের সাথে শক্ত করে চেপে অনন্ত দাঁতে দাঁত চেপে অহনাকে বলল
--নিজেকে খুব স্মার্ট ভাবিস তাই না অহনা। আমার থেকে সবসময় নিজের মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখিস৷ আমাকে অবহেলা করিস তুই। বড্ড অভিমান তোর আমার উপর তাই না!
অনন্তের কোনো কথা অহনার মাথায় ঢুকছে না। অনন্ত এসব কি বলছে। শিক্ষক হলো সম্মানিয় ব্যক্তি যদিও অনন্তের বয়স খুব কম তবুও তো উনি শিক্ষক৷ অনন্তের কথা শুনে অহনা মনে মনে বলতে লাগল
--স্যার কি পাগল টাগল হয়ে গেল নাকি! কিসব বলছে এসব!
--কিরে আমার উত্তর দিচ্ছিস না কেন? উত্তরটা দে?
ফাঁকা ক্লাস রুমে অনন্ত অহনার হাতটা খুব শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে যার কারণে অহনার হাতে খুব ব্যাথা লাগছে। অহনার সাহস হচ্ছে না অনন্তকে কিছু বলার কিন্তুু তবুও অহনা অনন্তকে বলল
--স্যার আমার হাতে খুব ব্যথা লাগছে আমার হাতটা ছেড়ে দিন প্লিজ?
--তোকে ছাড়বো। অবশ্যই ছাড়বো আগে তুই বল সব মেয়ে আমাকে পাওয়ার জন্য রাত জেগে সপ্ন দেখে আর তুই কিনা আমার দিকে ঠিক মতো তাকাসও না। কেন রে আমি কোন দিক দিয়ে খারাপ?
--ছিহ স্যার এসব আপনি কি বলছেন! আপনি একজন শিক্ষক৷ আপনি আমার সাথে এমন আচরণ করতে পারেন না৷
অনন্তের এখন ধ্যান ফিরল৷ অনন্ত খুব রাগী গলায় অহনাকে বলল
--যা ক্লাসে যা। তোকে তো আমি ক্লাসে দেখে নিব।
অগ্নি দৃষ্টিতে অনন্ত অহনাকে এই কথা বলাতে অহনা ভয়ে চুপসে যায়। আর এক মুহূর্তেও দেড়ি না করে অহনা সেখান থেকেই বেরিয়ে যায়। ক্লাসরুমে দেড়ি করে আসাতে টিচার অহনাকে বাইরে কান ধরে দাড় করিয়ে রেখেছে৷ সব ছেলে মেয়েরা তা উপভোগ করছে৷ আরেকজনও খুব উপভোগ করছে। অহনা যখন কান ধরে দাড়িয়ে থাকে তখন মুখটা পাশ ফিরাতেই দেখে অনন্ত বেশ কিছু দূরত্বে অহনার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে ক্লাসরুমে ঢুকে যায়। অহনার এটা দেখে খুব রাগ হচ্ছে। অহনা মনে মনে বলল
--এই শয়তান স্যারটার জন্য আজ আমার এই অবস্থা। নিজে তো অনেক শাস্তি দেয় অন্য টিচারদের দিয়েও শাস্তি দিল। কিন্তুু আজ স্যার আমার সাথে এমন আচরণ কেন করল?



#চলবে?
#অন্যরকম_তুই💘
#পর্বঃ 2
েদ
প্রায় ৩০ মিনিট বাইরে কান ধরে দাড়িয়ে থাকার পর টিচার অহনাকে ক্লাসে ঢুকতে দিল। অহনা মাথা নিচু করে ক্লাসে ঢুকল। আর চারপাশে হাসাহাসির শব্দও অহনার কানে পৌছাল। মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল অহনার। সবার পেছনের বেঞ্চে বসে পড়ল অহনা। রাগে অহনার মাথা ব্যথা করছে৷ অহনা মনে মনে বলল
--আমার সাথে এমন আচরণ করে অনন্ত স্যার কি শান্তি পান একমাত্র উনিই জানেন। অন্যান্য টিচারদের কাছ থেকেও শাস্তি পেতে হলো!
আমার তো মনে হয় সব থেকে বেশী শাস্তি আর অপমানটা উনি আমার ভাগ্যেই রাখেন। ক্লাসের সবাইকে তুমি বলে কথা বলে আর আমাকে তুইতোকারি করে কথা বলে যা আমার কাছে একদম অসহ্যকর।
তিনটি ক্লাস সম্পন্ন হলো। এখন চতুর্থ ক্লাস অনন্ত নেবে যার ফলে অহনার ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। অহনা মনে মনে বলল
--হায় আমার খোদা এখন তো দানব স্যারটা আসবে। ঐ শয়তানটার জন্য আজ কত অপমানিত হলাম এখন ক্লাসে এসে তো আমায় অনবরত অপমান করবে। আমাকে ফাঁকা ক্লাসে নিয়ে যেভাবে হুমকি দিয়েছিল! আজ আমার রক্ষা নেই৷
কিছুক্ষণ পর অনন্ত ক্লাসে আসল। সাথে সাথে সবাই দাড়িয়ে অনন্তকে সম্মান জানাল। অহনাও দাড়িয়েছে কিন্তুু ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। হাত পা রীতিমতো কাঁপা-কাঁপি করছে। কয়েকটা মেয়ে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আজকে আপনাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। সিনেমার নায়করাও আপনার কাছে হার মানাবে৷
অনন্ত রাগী দৃষ্টিতে মেয়েগুলোর দিকে তাকাল সাথে সাথে মেয়েগুলো ভয়ে চুপসে গেল।
সবাই তারপর বেঞ্চে বসল। অহনা যেহেতু পেছনের বেঞ্চে তাই মুখ লুকিয়ে বসে ছিল। অহনা ভেবেছিল অনন্ত তাকে দেখবে না কিন্তুু অনন্তের চোখ তা এড়াতে পারে নি।
অনন্ত সামনে থেকেই বলে উঠল
--অহনা তুই দাঁড়া তো!
অহনার ভয়ে এবার কাঁপাকাঁপা পায়ে দাড়াল। অহনার বুকের ধুকপুকানিও দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
--জ্বি স্যার।
--আজকে সব পড়া শিখে এসেছিস? অংক হোয়াইট বোর্ডে করতে দিলে করতে পারবি তো?
--পা পারব স্যার।
--তাহলে তো তুই গুড গার্ল। আয় সামনে আয়।
অহনা সামনে যেতে লাগল।ক্লাসের সবাই অহনার শাস্তি দেখতে ব্যাকুল। তারা দর্শক হিসেবে আজ উপভোগ করছে।
--এই নে মার্কার। এবার তুই প্রথম অধ্যায়ের ৩নং অংকটা করে দেখা। আশা করি তুই এত সহজ অংকটা করতে পারবি।
অহনা হাতে মার্কার নিয়ে হোয়াইট বোর্ডে লিখতে নিল কিন্তুু অহনার কোনো অংকই মনে পড়ছে না। সব গুলিয়ে যাচ্ছে। বোর্ডে কি লেখবে তাও বুঝতে পারছে না।
অনন্ত রাগী দৃষ্টিতে অহনার দিকে তাকিয়ে অহনাকে বলল
--কিরে অংকটা পারিস না?
--স্যা স্যার আ আমি ভুলে গেছি।
--ওহ্ তাই নাকি? যা বাইরে দাড়িয়ে ৫০ বার কান ধরে ওঠবস কর৷
অনন্তের কথা শুনে অহনা স্তব্ধ। অহনার বুকে চাপা কস্ট অনুভব হতে লাগল। তবুও অহনা সাহস করে অনন্তকে উদ্দেশ্য করে বলল
--স্যার আজকে প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি ওয়াদা করছি স্যার কালকে আমি অবশ্যই পড়া শিখে আসব।
অহনার আকুল করা কন্ঠে মিনতি করাও অনন্তের কানে পৌছাল না। অনন্ত খুব রাগী গলায় বলল
--আমার ক্লাসে যে পড়া শিখে আসে না তার জন্য আমি কঠিন শাস্তি বরাদ্দ করে রাখি। আমার মুখের উপর কথা বলার তোর সাহস হয় কি করে? তুই হাত পাত।
--স্যার আর কোনোদিন করব না।
--তুই হাত পাতবি নাকি কঠিন মার খাবি?
অহনা ভয়ে হাত পাতল। অনন্ত একটা স্টিলের স্কেল দিয়ে খুব জোরে অহনার হাতে আঘাত করল যার ফল স্বরূপ অহনার হাত লাল টকটকে হয়ে ফুলে একাকার হয়ে গেল। সবাই অনন্তের এমন আচরণে ভয় পেয়ে যায়। অহনার খুব কান্না পাচ্ছে তবুও অহনা কান্না দমিয়ে নিজের বেঞ্চে বসতে গেলে অনন্ত বলল
--দাড়া তুই। আমি কি তোকে বেঞ্চে বসতে বলেছি?
--স্যার আপনি তো আমায় শাস্তি দিলেনই তাহলে?
--তোকে আমি বাইরে ৫০ বার কান ধরে ওঠবস করতে বলেছি। যা বাইরে দাড়িয়ে কান ধরে ওঠবস কর!!
অনন্তের কথা অনুযায়ী অহনার ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে ৫০ বার ওঠবস করল একই তো ব্যথা হাত তার উপর ৫০ বার ওঠবস করার ফলে অহনার পা ব্যথা হয়ে যায়। যখন অহনা ওঠবস করার পর ক্লাসে পা বাড়ায় তখন অহনা হুঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিলে অনন্ত এসে অহনাকে ধরে ফেলে। অহনা অনন্তের বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এই দৃশ্য দেখার পর কিছু মেয়ের প্রচুর রাগ হয়। অনন্ত অহনাকে নিজের বুক থেকে ছাড়িয়ে সোজা করে দাড় করিয়ে অহনাকে উদ্দেশ্য করে বলল
--তোর পা কি নরম তুলো যে সামান্য কান ধরে ওঠবস করতে গিয়ে পড়ে যাস নাকি পড়ে যাওয়ার নাটক করলি কোনটা?
অনন্তের এমন কথা শুনে অহনা মাথা নিচু করে ফেলে। অহনা নিজের বেঞ্চে গিয়ে বসল। অহনার ভীষণ কান্না পাচ্ছে কিন্তুু সবাই কান্না দেখে ফেলবে বলে কাঁদছে না।
এভাবেই অনন্তের ক্লাস আজকে সম্পন্ন হয় যায়। অনন্ত কিছু পড়া সবাইকে বুঝিয়ে দিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যায়।
অহনা বেঞ্চের মধ্যে মাথা ঠেকিয়ে মনে মনে বলল
--স্যার আপনি আমায় শাস্তি দিবেন আমি জানতাম কিন্তুু এতটা কঠিন শাস্তি দিবেন তা আমি আশা করি নি। আমার হাত পায়ে অসম্ভব ব্যথা হচ্ছে৷
অহনা তিনদিন ধরে আর কলেজ গেল না। হাতে পায়ে অসম্ভব ব্যথা থাকার কারণে বাসায় থেকে গেল।
তিনদিন পর যখন অহনা কলেজ গেল তখন স্বাভাবিকভাবে চতুর্থ ক্লাসে অনন্ত আসল। কিন্তুু অহনা দেখতে পেল অনন্তের এক হাতে বেন্ডেজ করা। বেন্ডেজের উপর রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। এটা দেখে অহনা তার পাশে বসে থাকা মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল
--এই শুনো স্যারের হাতে এভাবে বেন্ডেজ বাঁধা কেন?
অহনার প্রস্নের জবাবে মেয়েটি অহনাকে বলল
--তিনদিন তো তুমি কলেজ আসো নি। গত তিনদিন আগে অনন্ত স্যারের হাত কেটে যায়৷ হাতটা দেখে মনে হচ্ছে অনেক রক্ত বের হয়েছে এবং খুব জোরে আঘাত পেয়েছে কিন্তুু অনন্ত স্যারকে কেউ জিজ্ঞেস করলে অনন্ত স্যার বলে এমনি হাত কেটে গেছে।
অহনা মেয়েটির কথায় অবাক হলো। অহনা মনে মনে বলল
--এমনি এমনি কি কারও হাত কেটে যায়! স্যারের এভাবে হাত কাটল কিভাবে?


#চলবে....

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Narsingdi?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address


Narsingdi