Development Alternative
All growth depends upon activity. There is no development physically or intellectually without effort the 4th century BCE. divine reading.
History of meditation
The practice of meditation is of prehistoric origin, and is found throughout history, especially in religious contexts. Prehistory
Prehistoric religion involved repetitive, rhythmic chants which today are commonly called mantras
Antiquity
Some of the earliest written records of meditation (Dhyana), come from the Hindu traditions of Vedantism around 1500 BCE. The Vedas discus
Application Link -> https://appr.live/appid/4950428031
বয়ঃসন্ধি: কিশোর কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকাল কখন আসে, কীভাবে বুঝবেন, কী আচরণ করবেন?
সানজানা চৌধুরী
বয়ঃসন্ধিকাল ছেলে ও মেয়ে উভয়ের শরীর ও মনে নানা ধরণের পরিবর্তন ঘটে। এ সময়ে ছেলেমেয়েরা যেমন দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকে। তেমনি তাদের চিন্তা চেতনায় দেখা দেয় ব্যাপক পরিবর্তন।
ইউনিসেফের সবশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩ কোটি ৬০ লাখ ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। যারা এদেশের মোট জনসংখ্যার ২২ শতাংশ।
অথচ তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার দিকটি বাংলাদেশে এখনও উপেক্ষিত থেকে গেছে।
এ অবস্থায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
শারীরিক পরিবর্তন:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১০ বছর এবং ১৯ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময়টাকে কৈশোর বলে। এর যে কোন এ সময়ে বয়ঃসন্ধিকাল আসতে পারে। এটা মূলত কৈশোর ও যৌবনের মধ্যবর্তী পর্যায়।
অনেক সময় ১৯ বছরের পরও বয়ঃসন্ধির ব্যাপ্তি থাকতে পারে। যা বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে।
চিকিৎসকদের মতে, মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল, ছেলেদের চাইতে কিছুটা আগে শুরু হয়। মূলত ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় তা হতে পারে।
অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল আসে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে।
এ বয়সে মেয়েদের উচ্চতা বাড়ে। শরীরের বিভিন্ন অংশ স্ফীত হয়। বাহুমূল ও যৌনাঙ্গে লোম গজায়। মাসিক শুরু হয়।
তেমনি ছেলেদের ক্ষেত্রে, এসময় তাদের দেহের উচ্চতা দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে, গলার স্বর ভারি হয়ে আসে, কাঁধ চওড়া হয়, পেশী সুগঠিত হয়। মুখে দাড়ি-গোঁফ ওঠে সেইসঙ্গে শরীরের নানা জায়গায় বিশেষ করে, বুকে, বাহুমূলে ও যৌনাঙ্গে লোম গজায়। এই সময়ে ছেলেরা একটু বেশি ঘামে।
বয়ঃসন্ধির এই সময়টা ছেলে মেয়ে উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা বিকাশ হতে থাকে বলে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ হয়।
অনেক সময়ে ঘুমের মধ্যে ছেলেদের বীর্যস্খলন হয়ে থাকে। যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এটি বয়ঃসন্ধির একটি লক্ষণ।
মানসিক পরিবর্তন:
বয়ঃসন্ধিকালীন এই সময় থেকে ছেলে-মেয়েদের আত্মপরিচয় গড়ে উঠতে শুরু করে বলে জানিয়েছে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার।
আত্মপরিচয় বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে, তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা তৈরি হয়। তার কী পছন্দ-অপছন্দ, সে কী চায়। এছাড়া নিজের জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম সম্পর্কে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে। এবং তারা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন মানুষ হিসেবে জীবনের এই পর্যায়ে আত্মপ্রকাশ করে।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "শৈশবে তারা যেমন মা বাবা যা বলতো তাই করতো, তাই ভাবতো। কিন্তু এই বয়ঃসন্ধির সময় তারা স্বাধীনভাবে সবকিছু ভাবতে শুরু করে। সে কী পরবে, কী খাবে, কাদের সাথে মিশবে সেটা সে নিজে সিদ্ধান্ত নেয়। যা তার পরিবারের থেকে আলাদা হতে পারে। এজন্য বাবা মায়ের সাথে তাদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। ভালমন্দের একটা কনসেপ্ট তৈরি হয়, যদিও সেটাকে খুব পরিপক্ব বলা যাবে না। "
ছোট থেকে বড় হওয়ার এই সময়টাতে বড় ধরনের মানসিক ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় এই ছেলে মেয়েদের।
এ সময় তাদের মধ্যে হরমোনাল কারণে আবেগের প্রাবল্য দেখা দেয়। মুড সুইং হয় বা মন মেজাজ খুব দ্রুত ওঠানামা করে।
আনন্দ, রাগ, দুঃখের মতো অনুভূতিগুলো তীব্র মাত্রায় দেখা যায়। আজ আনন্দে উল্লাস করলে আরেকদিন মনমরা ভাব থাকে।
এ বয়সের প্রাণচাঞ্চল্য ভেতরের সৃজনশীলতার বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
পরিবারের ভূমিকার কেমন হওয়া প্রয়োজন:
বয়ঃসন্ধিতে থাকা ছেলে মেয়েরা ভীষণ কৌতূহলপ্রবণ হওয়ায় অনেক সময় তাদের বিপথগামী হওয়ার, মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়া, অযাচিত ঝুঁকি নেয়া বা অপসংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
আবার এই বয়সটায় স্বাধীন আত্মপরিচয় গড়ে ওঠায় তারা সব কিছু নিয়ে ভীষণ সংবেদনশীল থাকে।
তাই তাদের সঠিক পথে রাখতে পরিবারকে কৌশলী ভূমিকা রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
"এই বয়সটাতে ছেলে মেয়েরা বাবা মায়ের চাইতে বন্ধুবান্ধবদের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। অনেকেই বাবা মায়ের বাধা মেনে নিতে পারে না, রেগে যায়। এ বিষয়গুলো বাবা মায়ের পক্ষে মনে নেয়াও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু তাদের ধৈর্য হারালে চলবে না। তাদের আচার আচরণের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।"
এক্ষেত্রে সন্তানের সাথে তর্কযুদ্ধে লিপ্ত হওয়া বা কোনভাবেই সেসব গায়ে তোলা যাবে না। এছাড়া তুলনা করা, ছোট করে কথা বলা যাবে না বলে মনে করেন মিস সরকার।
"তার মানে এই নয় যে তারা যা বলবে তাই মেনে নিতে হবে। বরং সন্তানের পছন্দ, অপছন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেটা বুঝিয়ে বলতে হবে। যেন তার আত্মসম্মানে আঘাত না আসে আবার ভাল-মন্দের ব্যবধানটাও বোঝানো যায়।"
এই বয়সে ছেলে মেয়েদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মিস সরকার।
"বাচ্চাদের একটু একটু করে ছাড়তে হবে। শিশুদের মতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তার ব্যাগ চেক করা, মোবাইল চেক করা, ডায়রি খুলে পড়া এসব করা যাবে না। বন্ধুবান্ধবের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না। তবে তারা কী করছে, কাদের সাথে মিশছে সেটা অন্যভাবে সুপারভিশন করতে হবে। না হলে তারা বাবা মার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থার জায়গাটা হারিয়ে ফেলবে।"
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা:
বয়ঃসন্ধিকালে যেহেতু ছেলে মেয়েদের প্রজনন ক্ষমতার বিকাশ হয়. তাই এই বয়সে সেক্স এডুকেশন বা যৌনশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা বেশ জরুরি বলে মনে করেন মিস সরকার।
যেখানে তার এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের দিকগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকবে। এতে তারা ঘাবড়ে যাবে না।
তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক ও সামাজিক বিষয়ে কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থাও রাখা যেতে পারে।
মিস সরকার বলেন, "ছেলেদের যে রাতে বীর্যস্খলন হয়, এটা যে স্বাভাবিক। বা ছেলে-মেয়েরা একে অপরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, সেটা তারা কিভাবে হ্যান্ডল করবে সে বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটা দিক নির্দেশনা দিতে পারে। কারও সাথে রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে তার পরিসীমা মেনে চলা, আরেকজনের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে সম্মান জানানো, একে অপরের প্রতি সৎ থাকা, এসব বিষয়ে তাদের সচেতন করা দরকার।"
বয়ঃসন্ধিকালীন সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও যৌনরোগ সম্পর্কে জানা ও প্রতিরোধ করার জ্ঞান থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বয়ঃসন্ধিকালে বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে অপুষ্টিতে ভোগে। কারণ স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে বেশিরভাগ পরিবার সচেতন নয়।
তাই এই সময় ছেলে মেয়ে উভয়কে, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, জিংক, আয়োডিন, আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন, শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়ামের প্রতি জোর দেয়ার কথাও জানান তারা।
মাদকাসক্তি চিকিৎসা।
রিকভারির প্রাথমিক পর্যায়ে কিভাবে রিল্যাপস এড়ানো যায়?
কিছু প্রাথমিক সংযত টিপস অনুসরণ করলে চিকিৎসা থেকে চলমান রিকভারির দিকে পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যায়। অস্বীকার করার কিছু নেই যে প্রথম কয়েক মাস কঠিন হতে পারে – প্রোগ্রামে প্রবেশ করার পর থেকে আপনি আবার একা হয়ে গেছেন এবং আপনার ইন্দ্রিয়গুলি উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
১. এক সময়ে একদিন নিন।
২. কিছু মৌলিক পরিবর্তন করুন।
৩. এগিয়ে পরিকল্পনা।
৪. স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
৫. নিজের ভালো যত্ন নিন।
স্লিপ, রিল্যাপস এবং রিকভারি-
প্রারম্ভিক সংযম(sobriety) মাদকমুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার জন্য পাঁচটি টিপস,
রিল্যাপস এড়ানো এবং মাদকমুক্ত থাকা আপনার প্রধান উদ্দেশ্য এবং যদিও এটি একটি কঠিন কাজ বলে মনে হতে পারে, আপনার রিকভারের প্রাথমিক পর্যায়ে এই টিপসগুলি জিনিসগুলিকে সহজ করে তুলতে পারে।
১.এক সময়ে একদিন নিন-
কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা শুরুর প্রথম ৯০ দিনকে প্রাথমিক পর্যায় হিসাবে উল্লেখ করেন, কিছু বিশেষজ্ঞ এক বছর সময়কে আরও বাস্তবসম্মত হিসাবে বিবেচনা করেন এবং কিছু বিশেষজ্ঞ দু'বছরকে। প্রকৃতপক্ষে, কোন সঠিক সময়সীমা নেই। প্রতিটি ব্যক্তি আলাদা এবং একজনের জন্য যা সঠিক বলে মনে হয় তা অন্যের জন্য নাও হতে পারে। তাই একবারে একদিন অতিবাহিত এত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ২৪ ঘন্টার সময়কালকে একটি নতুন শুরু হিসাবে বিবেচনা করুন এবং আপনি প্রতিটি দিন ফেস করা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলি উপভোগ করতে শিখবেন।
২. কিছু মৌলিক পরিবর্তন করুন-
আপনি যদি সত্যিই শান্ত(sobriety) থাকতে চান তবে আপনাকে নতুন অভ্যাস এবং রুটিন মাফিক চলার জন্য সচেতন প্রচেষ্টা করতে হবে। অনেক relapsed দেখতে পায় যে, ছোট ছোট পরিবর্তনগুলি রিকভারির জন্য সহায়তা করতে পারে। স্পষ্টতই, মাদকের সাথে যুক্ত ব্যক্তি এবং স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কাজের জন্য বা বাজারে যাওয়ার বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার মতো ছোট কিছু, যা আপনাকে আপনার পুরানো হ্যাঙ্গআউটের বাইরে নিয়ে যেতে পারে না, সহায়ক হতে পারে৷ পরিবর্তনটি ততটা কঠিন নয় যতটা আপনি ভিন্ন কিছু করছেন।
কি পরিবর্তন প্রয়োজন তা জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত আপনি কাজের মাঝে মাদক গ্রহণ করার অভ্যাস করেছিলেন বা বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথে এক গ্লাস ওয়াইন ঢেলে নিতেন। অথবা হতে পারে আপনি সর্বদা ডিনারের পরে একটি গাঁজার সিগারেট পান করতেন। এটা অত্যাবশ্যক যে আপনি চেইন ভেঙ্গে ফেলুন, অন্যথায়, আপনি সর্বদা অবচেতনভাবে মাদকের কাছে পৌঁছাবেন। আসক্তির সাথে সম্পর্কিত কাজগুলি অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করুন বা আপনি বাড়িতে পৌঁছে অন্য কিছু করুন। ভাল বিকল্প অন্তর্ভুক্ত করুন, যেমন-
●পরিবারের সাথে সময় কাটানো।
●যে কোনো খেলাধুলা করা।
●হাঁটার জন্য যাওয়া।
●একটি খাবার রান্না করা।
●গান শোনা, ফিল্ম দেখা বা বই পড়া।
●কনসার্ট, নাটক এবং প্রদর্শনীর মতো লাইভ ইভেন্টে যাওয়া।
৩. অগ্রিম পরিকল্পনা-
আপনার চিকিৎসা কার্যক্রম চলাকালীন, আপনি উচ্চ-ঝুঁকির পরিস্থিতি বা HALT এর কারণগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন : ক্ষুধার্ত, রাগান্বিত, একাকী, ক্লান্ত । আপনাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো এখন একটি অগ্রাধিকার। একটি বিশৃঙ্খল জীবনধারা আপনাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এবং আপনার রিকভার বাধাগ্রস্ত করতে পারে, তাই একটি নিয়মিত রুটিন বা সময়সূচী তৈরি করা উত্তম। একটি সুস্থ জীবনধারা পরিকল্পনা তৈরি করে এবং এটিকে আঁকরে রেখে কীভাবে আপনার দিন বা সপ্তাহ অতিবাহিত করবেন তা শিখুন।
দুপুরবেলা না উঠে বা মধ্যরাতে তেল না পুড়িয়ে যুক্তিসঙ্গত সময়ে ঘুমাতে যান। সঠিক সময়ে নিয়মিত সুষম খাবার খান। সহায়তাকারী গোষ্ঠীগুলিতে যোগ দিন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়গুলির একটি নোট করুন। কাজ, কেনাকাটা এবং খেলাধুলা বা বিশ্রামের জন্য সময় আলাদা করুন। একটি চার্ট তৈরি করুন এবং সেটাকে সহজেই চোখে পড়ে এমন জায়গায় সেঁটে রাখুন।
আপনি নির্দিষ্ট সময়ে কিছু করতে অভ্যস্ত হওয়ার সাথে সাথে একটি স্বাভাবিক এবং পরিচালনাযোগ্য চক্র স্থাপন করবেন এবং আপনার মাদক সম্পর্কে চিন্তা করার সম্ভাবনা কমে যাবে। এবং একবার আপনার জীবন সুগঠিত হয়ে গেলে, আপনি সক্রিয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলি অনুসরণ করতে সক্ষম হবেন। এর মধ্যে কেরিয়ারের পরিবর্তন শুরু হতে পারে। অবাস্তব প্রমাণিত হতে পারে এমন লক্ষ্য নির্ধারণের পরিবর্তে, সহজ লক্ষ্য নির্ধারণ করুন যা অর্জন করা সহজ।
৪. স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলুন-
সমস্ত আসক্তিই সময়সাপেক্ষ। মাদকের জন্য আপনার প্রয়োজনীয়তা ত্বরান্বিত হওয়ার সাথে সাথে, সম্ভবত আপনি নিয়মিতভাবে যাদের দেখেছেন তাদের কেউ সঙ্গী মাদকাসক্ত বা যারা আপনার আসক্তিকে কোনোভাবে সক্রিয় করেছে – যত্নকারী যারা আপনাকে মাদক সংগ্রহে সাহায্য করতো বা পরিবারের সদস্য যারা মাদকাসক্ত, এগুলিকে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় এবং রিকভারের প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলি বজায় রাখা আপনাকে রিল্যাপসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এটা অত্যাবশ্যক আপনার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে সুস্থ সম্পর্ক গঠন ও তার বিকাশ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত এর অর্থ হলো এমন লোকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাদের আপনি সচেতনভাবে বা অবচেতনভাবে মাদক গ্রহণের সাথে যুক্ত করেন। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হতে পারে, তাই অন্তত প্রথম তিন মাসের জন্য যেকোনো যোগাযোগ সীমিত রাখুন।
আপনি এটিও লক্ষ্য করতে পারেন যে, পূর্বের কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়রা এখন আপনার সাথে সময় কাটাতে কম আগ্রহ দেখাচ্ছেন, কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং এগিয়ে যান, আপনি করতে পারেন এমন অনেক কিছুই আছে এবং বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সময় লাগে। যাইহোক, আপনি যদি শান্ত(sobriety) থাকেন এবং একটি উন্নত জীবনযাপন প্রণালী অনুসরণ করেন, তবে লোকজন আপনাকে আরও একটি সুযোগ দিতে পারে। নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। একটি ক্লাব বা গোষ্ঠীতে যোগ দিন, এটি একটি স্পোর্টস ক্লাব, একটি বই ক্লাব বা একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হতে পারে, যেখানে আপনি সম্ভাব্য নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারবেন৷
যাইহোক, রিকভারের প্রথম বছরে যৌন বা মানসিক সম্পর্ক এড়ানো ভাল। যদি নতুন সঙ্গীর সাথে জিনিসগুলি কাজ না করে তবে আপনি একাকী, আঘাতপ্রাপ্ত, দু:খিত এবং হতাশ বোধ করবেন এবং একটা মানসিক চাপই রিল্যাপস ঘটাতে পারে। নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে, অল্প সময়ের মধ্যে আপনি আপনার শান্ত(sobriety) থাকার ক্ষমতা এবং প্রেমময় সম্পর্কগুলি পরিচালনা করতে আরও বেশি সক্ষম হবেন।
১২ ধাপের মিটিং বা একটি উপযুক্ত সহায়তাকারী গোষ্ঠীতে যান যেখানে আপনি একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি অন্যদের সাথে কথা বলতে পারবেন। যারা কিছু সময়ের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিলেন তাদের সাথে প্রতিদিনের বিশদ আলোচনা করা অবিশ্বাস্যভাবে সহায়ক হতে পারে এবং তারাই সবচেয়ে দরকারী প্রাথমিক সংযম(sobriety) টিপস দেয়।
৫. নিজের ভালো যত্ন নিন-
আপনি যদি দীর্ঘ সময় মাদক গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনি সম্ভবত আগের মতো ফিট বা স্বাস্থ্যবান নন। ব্যায়াম আপনাকে রিল্যাপস এড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং এটি আপনার সিস্টেমে মাদক অনিবার্যভাবে যে প্রভাব ফেলেছিল তার কিছু বিপরীত করতে পারে।
আপনি যখন সদ্য রিকভার হন তখন খেলাধুলা বা বিনোদনমূলক ক্রিয়াকলাপগুলিতে অংশ নেওয়ার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। শারীরিক পরিশ্রম পেশী টোন তৈরি করে এবং মূল শক্তি বাড়ায়। ব্যায়াম ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের মতো ভালো অনুভূতির রাসায়নিকের উৎপাদন এবং এন্ডোরফিন নিঃসরণকেও ট্রিগার করে – এমন একটি প্রক্রিয়া যা চাপ এবং একঘেয়েমি কমাতে পারে এবং যা আপনাকে আরও সুখী এবং আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
ভাল পুষ্টির সাথে নিয়মিত ব্যায়ামের আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী পোস্ট-অ্যাকিউট প্রত্যাহারের লক্ষণগুলিকে হ্রাস করবে। ভাল-সুষম খাবার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে প্রোটিন বেশি এবং কার্বোহাইড্রেট কম থাকে এবং প্রচুর পানি পান করুন। রিকভারের প্রথম কয়েক মাসে একটি ব্যক্তিগত যত্ন পরিকল্পনা সেট আপ করাও মূল্যবান। চোখ এবং দাঁতের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, অন্তত General Practitioner -এর সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন ৷
অবশেষে, রিকভারের প্রাথমিক পর্যায়ে, 'হ্যাঁ'-এর পরিবর্তে 'না' শব্দটি বিনিময় করার চেষ্টা করুন, আপনি মাদক গ্রহণ করতে পারবেন না। যাইহোক, আপনি একটি দীর্ঘ, স্বাস্থ্যকর, সুখী এবং কম চাপযুক্ত জীবন যাপনের আশা করতে পারেন।
স্লিপ, রিল্যাপস এবং রিকভারি
আপনি যদি আপনার প্রশান্তিতে স্খলন অনুভব করেন, বা এমনকি একটি সম্পূর্ণরূপে রিল্যাপস অনুভব করেন, মনে রাখবেন যে রিকভার এখনও সম্ভব এবং আপনি সাহায্যের বাইরে নন। আপনি ব্যর্থও নন! একটি স্লিপ-আপের সময় আপনি আগের চিকিৎসা এবং রিকভার থেকে যা অর্জন করেছেন তা থেকে সরে গিয়েছিলেন। আপনি সফল হতে এবং ট্র্যাক ফিরে পেতে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
রিল্যাপস গুরুতর! যদি আপনার সমর্থন এবং স্বাস্থ্যকর মোকাবেলা করার দক্ষতার ব্যবহার স্লিপের পরে আপনাকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যথেষ্ট না হয়, তখন আপনি একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পুনরায় ভর্তির কথা বিবেচনা করতে পারেন । এমনকি যদি আপনি অ্যালকোহল বা ড্রাগ পুনর্বাসনের মধ্যে থাকেন, তবে আসক্তি এবং রিকভার সম্পর্কে আপনার আরও বেশি কিছু শেখার আছে। আপনি যত তাড়াতাড়ি সাহায্য পাবেন, ততই ভালো থাকার এবং সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি হবে। প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ কাউন্সেলর বা আপনার স্পনসরের সাথে কথা বলেন।
20/11/2023
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও প্রয়োজন আছে সীমারেখা টানার, সমস্যা না বাড়িয়ে কী ভাবে তা করবেন ?
Healthy Boundaries Are Important In A healthy Relationship:
এই সীমারেখা তৈরি করার আগে পরস্পরের ভালো ও মন্দ লাগা, ভয়, জীবনের উদ্দেশ্য সবটুকুই জেনে রাখা দরকার।
সম্পর্কের গভীরতা কম হোক বা বেশি, তার মধ্যে একটা সীমারেখা টানার প্রয়োজন আছে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সুস্থ সম্পর্ক জিইয়ে রাখতে সেটার প্রয়োজন আছে। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মানেই কিন্তু একে অপরের উপর নজরদারি নয়। আবার ক্যাজুয়াল সম্পর্ক মানেও অতি কৌতূহল নয়। আর এই সীমারেখা তৈরি করার আগে পরস্পরের ভালো ও মন্দ লাগা, ভয়, জীবনের উদ্দেশ্য সবটুকুই জেনে রাখা দরকার। আগে থেকে এগুলো জানা থাকলে দু'জনেই দু'জনের কাছে সৎ থাকা যায়। এটা মনে করার দরকার নেই যে এই রকম সীমারেখা থাকলে সেটা সম্পর্কে ক্ষতি করবে। উল্টে রিলেশনশিপ এক্সপার্টরা বলছেন এতে আখেরে দু'জনেরই ভালো হবে।
কেন এই গণ্ডির প্রয়োজন আছে?
১) মানসিক স্বাস্থ্য-
নিজের একটি বৃত্ত থাকলে সম্পর্কের 'অতি' বাঁধনের চাপ আপনার উপর থাকবে না। সারাক্ষণ পরস্পরের সঙ্গে সেঁটে থাকলে একটা একঘেয়েমি বা ক্লান্তি আসতে বাধ্য। এক্ষেত্রে সেটা হওয়ার আশঙ্কা নেই। আপনারা দু'জনের কাছেই দু'জনে পরিষ্কার থাকলে কোন বিষয় নিয়ে কত দূর যাওয়া যেতে পারে সেই নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।
২) নিজের যত্ন-
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলেন যাঁরা নিজেকে ভালবাসেন না তাঁরা অন্য কাউকে ভালবাসতে পারেন না। তাই আপনার কোনটা চাই বা কোনটা চাই না সেটাও কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দিনের কিছুটা সময় নিজের জন্যও রাখা উচিত। আপনি নিজে ভালো থাকলে অন্যরাও ভালো থাকবে।
৩) ভরসা ও বিশ্বাস-
এইভাবে একটি গণ্ডি টানা থাকলে সম্পর্কের প্রতি আস্থা ও সম্মান দু'টোই বাড়ে। যদি দেখা যায় যে আপনার তৈরি করা গণ্ডি পেরিয়ে আপনার সঙ্গী কখনওই আসার চেষ্টা করছেন না তাহলে বুঝতে হবে তিনি আপনাকে সম্মান করেন।
৪) সমতা-
একটি সম্পর্কের অনেকগুলো আলগা সুতো থাকে। সেগুলো যাতে বেশি ছড়িয়ে না যায় তার জন্য দরকার সমতা বা ব্যালেন্স। আর সেটা কিন্তু এই সীমারেখা থেকেই আসে।
৫) সহযোগিতা-
ব্যক্তিগত পরিসরের বাইরেও কিছু বিষয় থাকে, যেখানে দু'জনে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া যায়। এই বিষয়টি পরস্পরের সহযোগিতা-সম্পর্ক আরও মজবুত করে।
কী ভাবে তৈরি করবেন এই সীমারেখা?
১) আপোস না করার কথা-
কোন কোন বিষয় আপনি মোটেও বরদাস্ত করবেন না বা কোন বিষয়ে আপোস করবেন না সেটা জানিয়ে রাখা ভালো।
২) আলাদা বিষয়ে আগ্রহ-
অনেক সময় দেখা যায় কাপলরা একসঙ্গে কোনও একটি হবির চর্চা করছেন। একসঙ্গে সিনেমা দেখা বা গান শোনা ঠিক আছে কিন্তু এর বাইরেও একজন আলাদা ব্যক্তি হিসাবে আলাদা শখ থাকতেই পারে। সেটা নিজের মতো করে পূরণ করবেন।
৩) নিজেকে প্রশ্ন করুন-
নিজের ব্যক্তিগত পরিসরে থাকলে নিজেকে চেনার ও জানার অনেকটা আলাদা সময় পাওয়া যায়। নিজেকে প্রশ্ন করার এই হচ্ছে আদর্শ সময়। এই সম্পর্কের উদ্দেশ্য কী বা এই সম্পর্কে আপনি আদৌ খুশি কি না এইসব প্রশ্ন করা যেতেই পারে।
৪) ধারাবাহিকতা-
যে গণ্ডি আপনি নিজে তৈরি করেছেন সেটা কিন্তু আপনাকেই রক্ষা করতে হবে। আজ একরকম সীমারেখা টানলেন আবার কাল সেটা মুছে দিলেন সেটা যেন না হয়।
৫) মুক্ত যোগাযোগ-
একটি গণ্ডি তৈরি করলে সেই বিষয়ে আপনাকে সৎ ও স্বচ্ছ থাকতে হবে। সেই নিয়ে যাবতীয় কথা আপনাকে সঙ্গীর সঙ্গে বলে নিতে হবে। আপনারা দু'জনে কী চান বা কী চাইছেন না সেই নিয়ে সৎ থাকবেন!
20/11/2023
নিজের সম্পর্কে আমরা কতটা জানি!
মনোবিজ্ঞান বা মানুষের মনের গবেষণাঃ
আমরা প্রতিদিন অনেক ধরণের কাজ করি। চেতন কিংবা অবচেতন মনে আমরা অনেক কাজ করে ফেলি কিংবা করতে পছন্দ করি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা কিন্তু জানিনা এই কাজগুলো আমরা কেন করি! 'নিজেকে জানো' মতবাদ নিয়ে সক্রেটিস বেশ মুক্ত আলোচনা করেছিলেন। সারাজীবন তিনি ব্যয় করেছেন এই নিজেকে জানার মধ্যে। যদিও নিজেকে জানার জন্য সক্রেটিসের "নিজেকে জানো" পন্থাটি যথেষ্ট ছিলো, তবুও সত্যিকার অর্থে আমরা নিজের সম্পর্কে খুবই কম জানি। বেশ চাঞ্চল্যকর হলেও সত্যি যে, আমরা নিজের সম্পর্কে যা জানি, অন্যের সম্পর্কে তার চেয়েও বেশি জানি। অন্যের ভালো, খারাপ, প্রশংসা, নিন্দাসহ বেশ কিছু উপর্সগ কিংবা অনুসর্গ আমরা ধরতে পারলেও নিজের সম্পর্কে আমরা আসলে অনেক কিছুই জানিনা।
মনোবিজ্ঞান নিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে আমরা কীভাবে পৃথিবীকে উপলব্ধি করি এবং আমাদের আচরণকে কে নিয়ন্ত্রণ করি তার উত্তর জানার চেষ্টা করে আসছেন। বিজ্ঞানের এই পর্যায়ে এসে তারা বেশ সফল হয়েছেন এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অনেক কাজের কারণ তারা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই আলোচনায় আমরা বেশ কয়েকটি হিউম্যান বিহ্যাভিয়ার কিংবা মানুষের সাধারণ কয়েকটি প্রবৃত্তি নিয়ে আলোচনা করবো। যা সচরাচর আমরা করে থাকি।
তা হতে পারে চেতনে কিংবা অবচেতনে!
■আমাদের সবার মন্দ কিছু ক্ষমতা আছে।
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। হ্যাঁ, আমাদের সবারই মন্দ কাজ করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে এবং সুযোগ পেলেই আমরা মন্দ কাজ করতে বেশ পছন্দ করি। আপনি হয়তো আশেপাশের জীবন থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা অনেক আগেই পেয়ে গিয়েছেন। জীবনের এই চলার পথে আমাদের এই অভিজ্ঞতাগুলো বেশ তিক্ত এবং অবিশ্বাস্য ও বটে! তাহলে আসুন জেনে নিই এই বিষয়ে একটি গবেষণার সারমর্ম।
মনোবিজ্ঞান এর ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত পরীক্ষা ছিলো এটি। সাল ১৯৭১। সামাজিক অবস্থা কীভাবে মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে তার উপর একটি মনোবিজ্ঞান গবেষণা করতে দেয়া হয়েছিল স্ট্যানফোর্ড কারাগারকে। নেতৃত্বে ছিলেন মনস্তাত্ত্বিক ফিলিপ জিম্বার্ডো্ (Philip Zimbardo)। গবেষকরা এক হয়েছিলেন স্ট্যানফোর্ড সাই বিল্ডিং এর বেসমেন্টে। সেখানে একটি জাল(fake) জেল তৈরি ছিল। অর্থাৎ জেলের মতো দেখতে হলেও সেটি জেল ছিলো না। নকল সেই জেলে বন্দী এবং রক্ষীবাহিনী হিসাবে কাজ করার জন্য ২৪ জন স্নাতকোত্তর ভলান্টিয়ার কে বেছে নেয়া হয়েছিলো। তাদের পূর্বে কোন আপরাধ-ধর্মী কাজের রেকর্ড ছিল না এবং তারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল।
গবেষকরা লুকানো ক্যামেরা ব্যবহার করে বন্দীদের ( যাদের ২৪ ঘন্টাই জেলে কাটাতে হয়) এবং গার্ড (যারা আট ঘণ্টা করে সময় ভাগাভাগি করে) পর্যবেক্ষণ করে। যে এক্সপেরিমেন্টটি দুই সপ্তাহ ধরে হবার কথা ছিলো, তা ৬ দিনের মাথায় স্থগিত করা হয়। আসলে করা হয় বললে ভুল হবে। কর্তৃপক্ষ স্থগিত করতে বাধ্য হয়। রক্ষীদের তীব্র কঠোর আচরণ এবং অনেক সময় তারা বন্দীদের উপর জঘণ্য মানসিক অত্যাচার চালাতো।
জিম্বার্ডো বলেন,
"রক্ষীরা বন্দীদের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসন বর্ধিত করে, তাদের উলঙ্গ করে, তাদের মাথার উপর ব্যাগ রাখে এবং পরিশেষে তাদেরকে যৌন নিপীড়নের শিকারে পরিণত করে"। ছয় দিন পরে আমাকে এটা শেষ করতেই হতো কারণ এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল - আমি রাতে ঘুমাতেও পারিনি এই দুশ্চিন্তায় যে রক্ষীরা না জানি বন্দীদের কি করে বসে।"
শুধুমাত্র বন্দী হবার অপরাধে কয়েকটি নিরপরাধ মানুষকে পেতে হয়েছিলো নির্মম সাজা। অন্যদিকে নিরপরাধ জেনেও রক্ষীরা মানসিক কিংবা দায়িত্বজনিত কারণে হোক তাদেরকে নিপীড়িন করেছে। এটাই আসলে মানুষের একটি অন্যতম সাধারণ প্রবৃত্তি। আমরা সুযোগে অন্যায় করতে দ্বিধাবোধ করি না। আর একেই বলে মানুষের সাধারণ মন্দ হবার কিংবা নষ্ট হবার অদ্ভুত ক্ষমতা। হয়তো এই কারণেই কবি বলেছেন, "নষ্ট হবো, হবে!"
■আমরা আশেপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করিনা!
হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী চরিত্র হিমু একদিন কোট-টাই-স্যুটের সাথে স্যান্ডেল পরে ঢাকার রাস্তায় বের হয়েছিলো। সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছিলো ১ কোটি মানুষের বসবাসের শহর ঢাকাতে একটি শিশু ছাড়া আর কেউ তার দিকে সেভাবে তাকাচ্ছেই না! ব্যাপারটি উপন্যাসে হলেও আসলে সত্যি। আমাদের একটা সাধারণ প্রবৃত্তি হচ্ছে আমরা আমাদের আশেপাশের পরিবেশ কে ভালভাবে অবজার্ভ কিংবা পর্যবেক্ষণ করি না। আপনি কি জানেন আপনার চারপাশে কি ঘটছে? আপনি নিজেও জানেন না আপনি আপনার আশেপাশে মানে চারপাশের সম্পর্কে কতটা কম খোঁজখবর রাখেন!
১৯৯৮ সালে হার্ভার্ড এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ একটি কলেজ ক্যাম্পাসে পথচারীদেরকে নিয়ে একটি মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা করলেন। পরীক্ষাটির উদ্দেশ্য ছিল তাদের মধ্যে কতজন মানুষ আশেপাশের পরিবেশের দিকে লক্ষ্য করে।
পরীক্ষায়, একজন অভিনেতাকে গবেষকগন তাদের গবেষণা কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এক্সপেরিমেন্টের সময় সেই অভিনেতা পথচারীর কাছে গিয়েছিলেন এবং কোন একটা পথের খোঁজ করছিলেন। যখন পথচারীরা সেই পথের নির্দেশনা দিচ্ছিলো, ঠিক সেই সময় দুইজন লোক ঐ অভিনেতা এবং পথচারীর মধ্যে একটি বড় কাঠের দরজা নিয়ে চলে গেলেন এবং যার কারণে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অভিনেতা এবং পথচারী একে অপরকে দেখতে পায়নি। এবং এই সময়ের মধ্যে আগের অভিনেতাকে সরিয়ে সেখানে একই উচ্চতা এবং স্বাস্থ্যগত মিল আছে এমন অন্য একজন অভিনেতাকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়। অবাক ব্যাপার হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী এই পরবর্তন লক্ষ্য করেননি!
এই এক্সপেরিমেন্টটি "Change blindness" ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে, যা দেখায় যে আমরা যে কোনো প্রদত্ত দৃশ্যের দৃশ্য থেকে কীভাবে গ্রহণ করি। এবং এই ঘটনা নিশ্চিত করে যে, আমরা মেমোরি এবং চিন্তার চেয়েও প্যাটার্ন এর উপর অনেক বেশি নির্ভর করি । যার কারণে অর্ধেকের বেশি পথচারীই অভিনেতাদের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পায়নি।
■যারা ভালো কিছুর জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারে, তারাই পরবর্তীতে বেশি সফল হয়!
এটি অনেকটা "সবুরে মেওয়া ফলে" টাইপের। অর্থাৎ আপনি যত বেশি অপেক্ষা করবেন, অন্যদের তুলনায় ততবেশি সফল হবেন। ব্যাপারটি আবার লোভের দিক থেকেও ব্যাখ্যা করা যায়। আপনি যদি আপনার লোভ দমন করতে পারেন, তবে নিশ্চিত থাকেন ভবিষৎ আপনার জন্য বিশেষ পুরষ্কার নিয়ে অপেক্ষা করছে।
1960-এর দশকের শেষের দিকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরীক্ষায় তাৎক্ষনিক সন্তুষ্টির প্রলোভন রোধ করার একটি মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় এমন শিশুদের নির্বাচন করা হয়েছিলো যারা এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি। সেই এক্সপেরিমেন্টটি শিশুদের প্রলোভন(লোভ) ক্ষমতা পরীক্ষা করে। এবং তাদের আত্ন-নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও স্ব-শৃঙ্খলা (Self Descipline) সম্পর্কেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
পরীক্ষায় চার বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের সামনে একটি প্লেটের উপর অনেক মাশরুম দিয়ে রাখা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে, তারা এখন এই মাশরুমগুলো খেয়ে ফেলতে পারে অথবা গবেষকরা ১৫ মিনিট পরে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে। যদি অপেক্ষা করতে পারে তাহলে পুরষ্কারের ব্যবস্থাও ছিলো। কেননা গবেষকরা ফিরে এসে তাদের অতিরিক্ত আরো দুইটি মাশরুম দিবে।
টাইমের রিপোর্ট অনুযায়ী যদিও বেশিরভাগ শিশু বলেছিল যে তারা অপেক্ষা করবে। তারা প্রায় সবাই তাদের লোভকে দমন করার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু শেষপর্যন্ত না পেরে গবেষকদল ফিরে আসার পূর্বেই অনেকে মাশরুম খেয়ে ফেলে। যেসব শিশুরা ১৫ মিনিট তাদের লোভকে দমন করতে পেরেছিলো তারা কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিল। যেমন, চোখ বন্ধ করে, কিংবা উল্টা ঘুরে বসে থেকে।
এক্সপেরিমেন্টের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল বেশ আশ্চর্যজনক ছিলো। পরবর্তীতে সেইসব শিশু যারা অপেক্ষা করে ছিল তাদের মাঝে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া গিয়েছিলঃ
●তাদের আচরণগত সমস্যা, মাদকদ্রব্যে আকৃষ্ট হওয়ার প্রবণতা এবং স্থূলতা এসব অন্যদের তুলনায় অনেকাংশে কম ছিল।
●তারা পরবর্তীতে জীবনে অন্যরা যারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেনি তাদের তুলনায় সফল ছিল।
অর্থাৎ আপনি যদি অপেক্ষা করেন কিংবা সবুর করেন, তবে আপনার জীবনে মেওয়া ফলবেই!
●আমরা ক্ষমতা পেলেই তার অপব্যবহার করি!
ক্ষমতা থাকলে সে ক্ষমতার অপব্যবহার করা আমাদের একটা মানসিক ব্যাধি। মোটামুটিভাবে আমরা জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পছন্দ করি কিংবা করতে ভালোবাসি।
এটার পেছনে একটি সাইকোলজিক্যাল কিংবা মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা ও রয়েছে। ২০০৩ সালের এক গবেষণায় প্রকাশিত এক জার্না্লের রিভিয়্যু লেখার জন্য তিনজন ছাত্রকে পাঠানো হয়েছিলো। কাগজপত্র লেখার জন্য দুই ছাত্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যজনকে কাগজটির মূল্যায়ন করতে এবং প্রতিটি ছাত্রকে কতটা অর্থ প্রদান করা হবে তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছিল।
তাদের কাজের মাঝখানে গবেষক একটি প্লেটে করে ৫ টি কুকি(এক ধরণের খাবার) রেখে গেল। সাধারণভাবেই শেষ কুকিটা কখনও খাওয়া হয় না (কারণ ওরা সব মিলে চারজন ছিলো)। তবুও তাদের মধ্যে যে লিডার, সে প্রায় সবসময় চতুর্থ কুকি খেয়ে থাকেন এবং শেষের কুকিটাও তার ভাগ্যেই থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা মানসিকভাবেই সবাই মেনে নেয় যে যিনি লিড দিবেন তিনিই বেশি ভাগ পাবেন। আবার লিডারও তাদের মনের মধ্যে এই ধারণা পুষে রাখেন। সমাজের প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এই উদ্ভট ধারণা বিদ্যমান।
বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী Dacher Keltner বলেন,
" বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় অনেক গবেষক অনেক জনবলকে কাজে লাগান এবং বিভিন্ন ভাবে তাদের উপর প্রভাব খাটাতে পছন্দ করেন। তাদের চলাফেরা, পোষাক পরিচ্ছেদ, কথা বলার ভঙ্গি এমনকি খ্যাদাভাসেও। মাঝে মাঝে তাদেরকে যৌনহয়রানি পর্যন্ত করা হয়েছে!
এই বিষয়টির জন্য আসলে গবেষণার খুব একটা প্রয়োজন হয়না, আমরা আমাদের আশেপাশে হরহামেশাই এসব ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ দেখতে পাই। একজন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে একজন পিয়ন পর্যন্ত এই নীচ কাজে জড়িত। এটা মানুষের এক ধরণের মানসিক ব্যাধি।"
●আমাদের সুখী হবার জন্য শুধু একটি জিনিসের প্রয়োজন।
জীবনে সুখী হবার জন্য আমরা কত কি না করি! টাকা কামাই, বাড়ি বানাই, গাড়ি কিনি। অনেকে আবার মোটিভেশনাল স্পীকারদের দরজায় নিয়মিত কড়া নাড়ি! কিন্তু আমরা কি কখনোই জানতে চেয়েছি কোথায় আমাদের প্রকৃত সুখ! সুখী হবার জন্য বেশি কিছু না, মাত্র একটি জিনিষের খুব প্রয়োজন। আর মনোবিজ্ঞান গবেষকরা ভালবাসা নামক অনুভূতিটিকেই সেই একটি জিনিস হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন। জীবনে কিছুই দরকার নেই। যদি আপনার জীবনে ভালবাসা থাকে, এমন জীবনে আপনাকে বারবার ওয়েলকাম!
৭৫ বছর ধরে হার্ভাডের গ্রান্ট গবেষণাটি পরিচালিত হয়ে আসছে, এটি পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘতম মনোবিজ্ঞান গবেষণা। ১৯৩৮-১৯৩৯ সালের হার্ভাডের পুরুষ গ্রাজুয়েটদের নিয়ে এটি শুরু হয়েছিলো (নব্বইয়ের দশকে এটি আরো জোরদার হয়েছিল)। এই গবেষণাটি গ্র্যাজুয়েটদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়মিত সংগ্রহ করে।
নিশ্চয় জানতে ইচ্ছে করছে গবেষণার ফলাফল কি! এতদিনের মনোবিজ্ঞানের উপর করা বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বলে যে, আপনি যখন দীর্ঘমেয়াদী সুখ এবং জীবনে কি পেলেন আর কি হারালেন তার হিসেব কষবেন, তখন ভালবাসাই সব বিষয়ের প্রকৃত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
গবেষণার দীর্ঘমেয়াদী পরিচালক মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ জর্জ ভ্যালেন্ট বলেন, সুখের দুটি স্তম্ভ আছে: একটি হলো ভালোবাসা এবং অন্যটি জীবনের সাথে লড়াই করার উপায় খুঁজে বের করা। আর এই লড়াই করার উপায় এমন ভাবে খুঁজে নিতে হবে যেন সেটা ভালোবাসাকে জীবন থেকে দূরে সরিয়ে না দিতে পারে।
(সম্পাদিত)
17/11/2023
মাদকাসক্তির "ট্রিগার" কী?
আসক্তি একটি বহুমাত্রিক অবস্থা (European Monitoring Center for Drugs Drug Addiction., 2014 ) যা ঐতিহ্যগতভাবে জৈবিক, সামাজিক, এবং মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি সহ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অন্বেষণ করা হয়েছে। এই প্রধান স্তরগুলির অভ্যন্তরে, আসক্তির বিকাশ এবং চিকিত্সার জন্য একাধিক উপস্তরের নির্দিষ্ট অবদান তদন্ত করা হয়েছে। এই গবেষণা ক্ষেত্রটি একটি আশ্চর্যজনক আসক্তির ধাঁধা আঁকে যা জেনেটিক, এপিজেনেটিক, আণবিক, নিউরোবায়োলজিকাল এবং মনস্তাত্ত্বিক স্তর থেকে আসা বিভিন্ন অংশের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং জ্ঞানীয় বৈশিষ্ট্য থেকেও। এই কারণগুলির জটিল সংমিশ্রণ আসক্তি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। সেইসাথে প্রতিটি কারণ ভিন্নভাবে মাদকের ব্যবহারকে প্রভাবিত করে।
একটি একক স্তরের মাধ্যমে এই জটিলতা দুর করার কোনো প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত। প্রকৃতপক্ষে, রোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আসক্তি সম্পর্কিত তথ্য জানতে মডেলগুলিতে সাধারণত বিভিন্ন মডেলের উপাদানগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বেশিরভাগ আসক্তি গবেষণা ক্লাসিকভাবে নিউরোবায়োলজিকাল স্তরের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, পুনরাবৃত্ত মাদকের ব্যবহার মস্তিষ্কের সিস্টেমের উপর যে নিউরোঅ্যাডাপ্টেশন তৈরি করে এবং reward সিস্টেমের উপর প্রভাব, আবেগগত বা জ্ঞানীয় কার্যকারিতা সহ তাদের আচরণগত ফলাফলগুলি বের করার চেষ্টা করে। বর্তমানে, সবচেয়ে স্বীকৃত নিউরোবায়োলজিকাল তত্ত্বগুলির মধ্যে একটি অনুমান করে যে, মাদকাসক্তির বিকাশ একটি তিন-পর্যায়ের চক্রের মধ্য দিয়ে একটি progressive প্রক্রিয়াঃ
●দ্বিধা/নেশা binge/intoxication,
●প্রত্যাহার/নেতিবাচক প্রভাব withdrawal/negative affect
●ব্যস্ততা/প্রতীক্ষা preoccupation/anticipation (Koob এবং Volkow, 2016 ) ।
যাইহোক, এতে কোন সন্দেহ নেই যে আসক্তিজনিত অসুস্থতাগুলির একটি শক্তিশালী বিষয়গত উপাদান রয়েছে যা বর্তমান মডেলগুলির সাথে পুরোপুরি মিল নেই। ক্রমবর্ধমান গবেষণাপত্র রয়েছে, যা দেখায় কীভাবে বিষয়গত প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কিছু কারণ আসক্তির নিউরোবায়োলজিকে প্রভাবিত করতে পারে যেমন
●শৈশবকালের অভিজ্ঞতা (কিম এট আল।, 2017 ; লি এট আল।, 2018 ),
●সামাজিক প্রেক্ষাপট (শ্রাইবার এবং গুয়ার, 2016 ; বার্ক এট আল।, 2017 ),
●পরিবেশ (জুকার এট আল।, 2018 ),
●পরিপক্কতা (রোমার এট আল।, 2017 )
●ব্যক্তিত্ব (জাউক এবং ডিটেরিচ, 2019 ; রামিরেজ-ক্যাস্টিলো এট আল।, 2019 ) ঘটনা বিশেষে আগ্রহের বিষয় হল মাদকাসক্তির ঝুঁকিতে তথাকথিত "বিগ ফাইভ" ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্যের ভূমিকা।
ট্রিগার পুনরায় বোঝাঃ
নিউরোবায়োলজি এবং সাবজেক্টিভ মানব অবস্থার মধ্যে বর্তমান অসঙ্গতি "ট্রিগার" ধারণায় লক্ষ্য করা যায়। "একটি উদ্দীপনা যা একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে" (এপিএ অভিধান, 2019 ) এভাবে বোঝা , ট্রিগারটিকে আসক্তদের দ্বারা প্রদর্শিত "প্রবল ইচ্ছা" (cravings) প্রতিক্রিয়ার একটি মূল উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই বাহ্যিক উদ্দীপনা ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার পুনরাবৃত্তি করতে বা বিরত থাকার কিছু সময় পর relapse'র দিকে পরিচালিত করবে। এই পর্যবেক্ষণের উপর নির্মিত আসক্তি মডেলগুলি ট্রিগারটিকে মাদক সম্পর্কিত স্মৃতিগুলি সক্রিয় করতে সক্ষম একটি উদ্দীপক হিসাবে বিবেচনা করে যা reward'র প্রত্যাশা এবং লোভের প্রতিক্রিয়ার দিকে পরিচালিত করে। ফলস্বরূপ, উদ্ভূত থেরাপিউটিক পন্থাগুলি ট্রিগারকে এড়াতে বা ট্রিগার দ্বারা প্ররোচিত সেই মানসিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আসক্তদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা প্রদান করার পরামর্শ দেয়। এই ধরনের জ্ঞানীয়-আচরণমূলক থেরাপির মধ্যে রয়েছে অপারেন্ট কন্ডিশনিং (সাপেক্ষতা), কন্টিনজেন্সি ম্যানেজমেন্ট (মোকাবিলা করার দক্ষতা) প্রশিক্ষণ (Witkiewitz et al., 2019 )।
এইভাবে, যেখানে "ট্রিগার" একটি "বাহ্যিক" উদ্দীপনা হিসাবে বিবেচিত হয় যা একটি প্রতিক্রিয়াকে প্ররোচিত করে, এর সুযোগ শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক স্তরে এবং জটিলতার স্বতন্ত্রতাকে সম্বোধন করে না। পরিবর্তে, আমরা "ট্রিগার" কে "অভ্যন্তরীণ" কিছু হিসাবে পুনরায় বোঝার প্রস্তাব দিই যা সমস্ত স্তরের জটিলতার সাথে সম্পর্কিত এবং উপরে উল্লিখিত বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজন৷ অধিকন্তু, উদ্দীপক-প্রতিক্রিয়া সংস্থাকে ইতিমধ্যেই PK Anokhin (Egiazaryan and Sudakov, 2007 ) দ্বারা প্রশ্ন করা হয়েছিল, যিনি একটি কার্যকারণ পাঠ থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব করেছিলেন (ট্রিগার একটি আচরণকে উস্কে দেয়) এবং একটি পদ্ধতিগত ধারণা ধরে নিয়েছিলেন যেখানে আচরণটি একটি কারণে হয় সমগ্র সিস্টেমের বৈশ্বিক পরিস্থিতি (থেলেন এবং স্মিথ, 1994 ; স্মিথ, 2005 ; অ্যান্ডারসন এট আল।, 2012 )।
বাইরে থেকে ভিতরের পরিবর্তনটি আবিষ্কার করেও যুক্তিযুক্ত যে আসক্তির উচ্চ বিষয়গততার কারণে, বাইরের কিছুকে "দোষ" দেওয়ার কোনও মানে হয় না। এই অর্থে, এই সমস্ত বিষয়গত জটিলতা বোঝাতে একটি শব্দ এখানে প্রস্তাবিত হয়েছে: "হতাশা।" আশা ভঙ্গ ছাড়া হতাশা বোঝা যায় না (Amsel, 1992 )। এই শব্দটি সম্পর্কে আকর্ষণীয় বিষয় হল যে এটি অভ্যন্তরীণতার দিকগুলিকে প্রমাণ করে, তবে এর ধারণাগত ভিত্তি জটিলতার বিভিন্ন স্তরে এর ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যদি আমরা হতাশাকে যতটা সম্ভব ব্যাপকভাবে সংজ্ঞায়িত করি, আমরা বলব যে এটি প্রত্যাশিত (প্রয়োজনীয়) এবং প্রাপ্তির দূরত্ব উপলব্ধির মানসিক ফলাফল। সব স্তরে, এমনকি সবচেয়ে আণবিকেও, হতাশা একটি আণবিক পরিস্থিতি এবং অন্যটির মধ্যে একটি অমিল নির্দেশ করবে। হতাশা একটি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা হিসাবে বোঝা যায় যেটিতে অনেক ধরনের "অমিল" থাকতে পারে, তা আণবিক বা প্রত্যাশার পরিপ্রেক্ষিতে। এই অমিলটি জ্ঞানীয় (যদি আমরা প্রত্যাশা সম্পর্কে কথা বলি) বা জৈবিক প্রক্রিয়া (যদি আমরা জৈবিক স্তর সম্পর্কে কথা বলি) দ্বারা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হতাশা এইভাবে জটিলতার সমস্ত স্তরের জন্য একটি মিটিং পয়েন্ট হবে।
শাস্ত্রীয়ভাবে, হতাশা এবং অন্যান্য আবেগগুলিকে প্রকৃত প্রয়োজনের মূল্যায়ন এবং এর সন্তুষ্টির সম্ভাব্যতার অনুমান হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল ("আবেগের প্রয়োজন-তথ্যমূলক তত্ত্ব"), যা নির্দিষ্ট মূল মস্তিষ্কের কাঠামোর অংশগ্রহণের সাথে যুক্ত (Simonov, 1984 , 1997 ) . যাইহোক, সাম্প্রতিক মেটা-বিশ্লেষণে সামান্য প্রমাণ পাওয়া গেছে যে বিচ্ছিন্ন আবেগ বিভাগগুলি ধারাবাহিকভাবে এবং বিশেষভাবে পৃথক মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলিতে স্থানীয়করণ করা যেতে পারে (লিন্ডকুইস্ট এট আল।, 2012 )। তাই, মস্তিষ্কের ইন্টারঅ্যাকটিং অঞ্চলগুলির একটি সেট সাধারণত মৌলিক মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপের সাথে জড়িত আবেগের অভিজ্ঞতা এবং উপলব্ধির সময় বিচ্ছিন্ন আবেগ বিভাগগুলির একটি পরিসীমা জুড়ে সক্রিয় থাকে (কোবের এট আল।, 2008; লিন্ডকুইস্ট এট আল।, 2012 )। অতএব, আবেগের বর্তমান মডেলটি পদ্ধতিগত এবং অন্যান্য মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়াকলাপের সাথে যুক্ত (Pessoa, 2013 ), যা একটি ব্যক্তিগত বৈশ্বিক অবস্থা হিসাবে "হতাশা" প্রস্তাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যা (একটি উদ্দীপকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মূল্যায়নের পরে) "ট্রিগার করে। " একটি প্রতিক্রিয়া.
ট্রিগার হিসাবে সাধারণত যা ধারণা করা হয় (একটি বাহ্যিক উপাদানের জন্য দায়ী) তা একটি সরলীকরণ হবে কারণ এটি অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতার ভূমিকাকে অস্বীকার করে। যদি আমরা স্বীকার করি যে হতাশাটি বাহ্যিক ট্রিগারের আগের ছিল, তাহলে ক্লিনিকাল পদ্ধতিটি মানসিক ".জট" অন্তর্নিহিত হতাশা এবং বাহ্যিক উদ্দীপনার সাথে এর সম্পর্ক অনুসন্ধান এবং চিকিত্সার দিকে যেতে হবে। কারণ আমরা যদি পূর্ববর্তী বিষয়গত কারণের চিকিৎসা না করে বাহ্যিক ট্রিগার এড়িয়ে যাই, তাহলে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিষয়গত মানসিক অবস্থার চিকিত্সা সেই বাহ্যিক উদ্দীপনাকে একটি নতুন অর্থ প্রদান করতে সাহায্য করবে, এমন একটি ক্রিয়া যা আমরা ট্রিগারটিকে "পুনরায় অর্থ" বলতে বলি।
ট্রিগারকে একটি নতুন অর্থ দেওয়ার এই থেরাপিউটিক (চিকিৎসাবিদ্যাগত) সত্যটি ট্রিগারের প্রথাগত থেরাপিউটিক এড়ানোকে বাদ দেয় না, যা চিকিত্সার শুরুতে একটি জরুরি লক্ষ্য। তবুও, সেই প্রাথমিক পর্যায়ের পরে, ভিতরের সমস্যাটিও সমাধান করা উচিত। প্রকৃতপক্ষে, উভয়ই প্রয়োজনীয়, একটি প্রাথমিক মাদক পরিহার করার জন্য এবং অন্যটি মাদকাসক্তির অন্তর্নিহিত হতাশা দূর করতে আসক্তকে সাহায্য করার জন্য।
স্বতন্ত্র সাবজেক্টিভিটি (আত্মনিষ্ঠা) সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাবটি বোঝায় যে আবেগটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তির জীবনের জটিলতার অভিব্যক্তি হিসাবে বেশি বেঁচে থাকে, বাইরের প্রতিক্রিয়া হিসাবে (Barrett, 2017 ) ।
স্ট্রেস এবং আসক্তির বিষয়গত ধারণা এবং নিউরোবায়োলজিঃ
একইভাবে আসক্তির সাথে, স্ট্রেস ডিসঅর্ডারগুলিও একটি ট্রিগার উদ্দীপনার সাথে সম্পর্কিত যা একটি শক্তিশালী বিষয়গত অভিজ্ঞতাকে উদ্দীপিত করে। এই দুটি অবস্থার মধ্যে একটি নিউরোবায়োলজিক্যাল ওভারল্যাপ তাই প্রত্যাশিত হবে।
সুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে মনোসামাজিক স্ট্রেসফুল উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়াগুলির সাথে হিপ্পোক্যাম্পাস, অ্যামিগডালা, ইনসুলা এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টিসেস (শিন এবং লিবারজন, 2010 ) এর অংশগ্রহণ জড়িত। বিশেষত, লিম্বিক সার্কিটগুলি বিভিন্ন স্নায়ু ইনপুটগুলির সুসঙ্গত প্রাসঙ্গিককরণের (Bird, 2017 ), সেইসাথে এপিসোডিক স্মৃতির গঠন এবং মানসিক প্রক্রিয়াকরণের একীকরণকে অন্তর্নিহিত করে; মাদকাসক্তদের প্রেক্ষাপটের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে লালসা এবং পুনঃস্থাপনের অপরিহার্য উপাদান।
অধিকন্তু, মাদকাসক্ত, মানসিক রোগী এবং প্রাথমিকভাবে শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে একই ধরনের মস্তিষ্কের পরিবর্তন দেখা যায় যেমন হিপ্পোক্যাম্পাস, অ্যামিগডালা এবং অ্যান্টিরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সের ভলিউম হ্রাস, বা অ্যামিগডালা এবং ইনসুলার হাইপার অ্যাক্টিভিটি, বনাম প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের হ্রাস প্রতিক্রিয়া। স্ট্রেস নিয়ে কাজ করা (Etkin and Wager, 2007 ; Shin and Liberzon, 2010 ; McCrory et al., 2012 )। এফএমআরআই আসক্তি অধ্যয়নে ব্যবহৃত কিউ-রিঅ্যাকটিভিটি প্যারাডাইমটি উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় মূল সিস্টেম হিসাবে লিম্বিক এবং প্রিফ্রন্টাল কর্টিসকে নির্দেশ করেছে (চেজ এট আল।, 2011 )। যাইহোক, একটি আরও সাম্প্রতিক মেটা-বিশ্লেষণ শর্তযুক্ত ওষুধের উদ্দীপনা (জিলবারম্যান এট আল।, 2019 ) এর মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত ঐক্যমতের অনুপস্থিতির উপসংহারে পৌঁছেছে। ঐক্যমত্যের ক্ষতি সম্ভবত আংশিকভাবে হতাশার ভূমিকা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে (বিষয়ভিত্তিক ব্যক্তিগত কারণ) বাস্তবতার নেতিবাচক ধারণাকে ট্রিগার করে (অভ্যন্তরীণ ট্রিগার), উভয় ক্ষেত্রেই ভাগ করা একটি উপাদান, চাপ এবং আসক্তির ব্যাধি।
আমাদের পরামর্শ হতাশা চিকিত্সা করার জন্য একটি থেরাপিউটিক হাতিয়ার হিসাবে স্থিতিস্থাপকতা প্রচার করা। এটা জানা যায় যে ঘটনাটির বিষয়গত উপলব্ধি একটি নির্ধারক বিন্দু যা বাস করা অভিজ্ঞতা বোঝার জন্য (Burr, 1982 )। অতএব, স্থিতিস্থাপকতার উপর কাজ করার সর্বোত্তম উপায় হল তথাকথিত স্ট্রেসর বা ট্রিগার (Lazarus and Launier, 1978 ; Boss, 2002 ) এর পুনরায় অর্থ বোঝানো, কিন্তু স্ট্রেসারের পরিবর্তে স্ট্রেসরকে দায়ী করা অর্থ নিয়ে কাজ করা।
একটি সৃজনশীল কাজ প্রয়োজন কারণ স্থিতিস্থাপকতা নতুন পরিস্থিতিতে নিছক অভিযোজন নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত বৃদ্ধিকে বোঝায় (ওয়ালশ, 2002 ; সিচেটি, 2010 )।
একটি থেরাপিউটিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সাইকোথেরাপিউটিক চিকিত্সার ক্ষমতা (একাকী) মস্তিষ্কের গঠন এবং ফাংশনের জৈবিক স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার করার জন্য প্রদর্শিত হয়েছে (বারসাগ্লিনি এট আল।, 2014 ) । এটি বিশেষ আগ্রহের বিষয় যখন ফার্মাকোলজিকাল চিকিত্সা দ্বারা শুধুমাত্র সীমিত প্রভাবগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ মাদকাসক্তিতে (ডাকওয়ার এবং নুনেস, 2016 )। হতাশা, উদ্বেগ, প্রতিকূলতা, মনস্তাত্ত্বিক ব্যথা, বিব্রত, দোষারোপ, আতঙ্ক এবং আবেশ সহ মনস্তাত্ত্বিক লক্ষণগুলি জটিল এবং চিহ্নিত করা কঠিন তবে তাদের চিকিত্সা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুনর্বাসনের জন্য অপরিহার্য (ডাকওয়ার এবং নুনেস, 2016 ) ।
জটিলতার দিকে ফিরে যাওয়াঃ
সাধারণত, রিল্যাপস প্রতিরোধের জন্য জোর দেওয়া হয় স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে ট্রিগার উদ্দীপনা এড়ানোর উপর, কিন্তু, আবারও, বিষয়গত উপাদানগুলি একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং স্ব-মূল্যায়নের জটিলতার সাথে সম্পর্কিত (Marlat and Gordon, 1985 ) ) অতএব, পুনরুত্থানকে মোকাবেলা করার কৌশল না থাকার প্রভাব হিসাবে দেখা হয়। অধিকন্তু, এটি দেখানো হয়েছে যে মাদকাসক্ত রোগীদের উচ্চ শতাংশ হতাশার সাথে সম্পর্কিত আন্তঃব্যক্তিগত নির্ধারকগুলিকে পুনরাবর্তনের প্রধান কারণ হিসাবে অভিযোগ করে (রামিরেজ-ক্যাস্টিলো এট আল।, 2019 ) ।
এটা স্পষ্ট যে স্ট্রেস বা আসক্তির প্রতি স্থিতিস্থাপকতা অবশ্যই জৈবিক থেকে সর্বাধিক বিষয়গত (Cicchetti, 2010 ) পর্যন্ত সমস্ত স্তরে অধ্যয়ন করা উচিত যাতে ঝুঁকির কারণগুলির অনুপস্থিতি বা প্রতিরক্ষামূলক উপস্থিতি থেকে ব্যক্তির বৈশ্বিকতা এবং স্বতন্ত্রতা দেখা যায়। মাদক ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি আসক্ত হবে কিনা বা একজন আসক্ত ব্যক্তিকে পুনর্বাসন করা হবে কিনা তা ব্যাখ্যা করার জন্য একা উপাদানই যথেষ্ট নয় (লুথার এট আল।, 2000 )।
এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাটি "হতাশা" শব্দটিকে একটি বিশ্বব্যাপী বিষয়গত উপাদান হিসাবে গ্রহণ করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে, যা অভ্যন্তরীণ রোগীর অবস্থার দিকে থেরাপিউটিক হস্তক্ষেপকে নেতৃত্ব দেয়, উদাহরণস্বরূপ, স্থিতিস্থাপকতার উপর কাজের মাধ্যমে, বাহ্যিক উদ্দীপনা এড়ানোর চেয়ে বেশি।
What Is the “Trigger” of Addiction?
Addiction is a multidimensional condition (European Monitoring Centre for Drugs Drug Addiction., 2014) which has traditionally been explored from different perspectives, including biological, social, and psychological approaches. Inside of these main levels, the specific contribution of multiple sublevels to the addiction development and treatment have been investigated. This research field draws an amazing addiction puzzle which is built by a diverse set of pieces coming from the genetic, epigenetic, molecular, neurobiological, and psychological levels, but also from live experiences, the environment, and from cognitive traits. The complex combination of these factors determines the addiction process.as well as Drug use affects each factor differently.
Any attempt to study this complexity through one single level is insufficient. In fact, addiction models usually need to include elements from different models in order to provide a satisfactory explanation of the disease.
Most addiction research has classically focused on the neurobiological level, trying to figure out the neuroadaptations that repetitive drug use produces over the brain systems and their behavioral consequences, including effects on the reward system, emotional or cognitive functioning. Currently, one of the most accepted neurobiological theories postulates that the development of drug addiction is a progressive process through a three-phase cycle: binge/intoxication, withdrawal/negative affect and preoccupation/anticipation (Koob and Volkow, 2016).
However, there is no doubt that addictive disorders have a strong subjective component that is not fully fitted with the present models. There is increasing literature showing how some factors related to subjective processes can impact the neurobiology of addiction by increasing the vulnerability such as early childhood experiences (Kim et al., 2017; Lee et al., 2018), social context (Schriber and Guyer, 2016; Burke et al., 2017), environment (Zucker et al., 2018), maturation (Romer et al., 2017) or personality (Jauk and Dieterich, 2019; Ramirez-Castillo et al., 2019) factors. Of special interest is the role of the so called “Big Five” personality traits in the risk for drug addiction (Andreassen et al., 2013).
Re-Understanding the Trigger:
The current maladjustment between the neurobiology and the subjective human condition can be observed in the concept of “trigger.” Understood as “a stimulus that elicits a reaction” (APA dictionary, 2019), the trigger is considered a key element in the craving response showed by addicts. This external stimulus would lead the individual to repeat drug use or relapse after a period of abstinence. Addiction models constructed upon this observation consider the trigger as a stimulus able to activate drug related memories leading to reward anticipation and craving responses. As a consequence, derived therapeutic approaches suggest to avoid the trigger or provide the individuals with cognitive capabilities to control that emotional response provoked by the trigger. Such cognitive-behavioral therapies include operant conditioning, contingency management or coping skills training (Witkiewitz et al., 2019).
In this way, where “trigger” is considered as an “external” stimulus inducing a reaction, its scope is only at the psychological level and does not address the uniqueness of complexity. Instead, we offer a re-understanding of the “trigger” as something “internal” that relates all levels of complexity and requires dialogue between different levels mentioned above. Moreover, the stimulus-response association was already questioned by PK Anokhin (Egiazaryan and Sudakov, 2007), who proposed to come out of a causal reading (the trigger provokes a behavior) and assumed a systemic conception in which the behavior is due to a global situation of the whole system (Thelen and Smith, 1994; Smith, 2005; Anderson et al., 2012).
The change from outside to inside is also justified by discovering that due to the high subjectivity of addiction, it makes no sense to “blame” something outside. In this sense, a term to refer to all this subjective complexity is suggested here: “frustration.” Frustration cannot be understood without breaking expectations (Amsel, 1992). The interesting point about this term is that it evidences aspects of interiority, but its conceptual basis also allows its use in the different levels of complexity. If we define frustration as widely as possible, we would say that it is the emotional result of the perception of the distance between the expected (needed) and the found. At all levels, even in the most molecular, frustration would indicate a mismatch between one molecular situation and another. Frustration is understood as a global experience that can have many types of “mismatches,” whether molecular or in terms of expectations. This mismatch needs to be perceived either by cognitive (if we talk about expectations) or biological processes (if we talk about biological levels). Frustration would thus be a meeting point for all levels of complexity.
Classically, frustration and other emotions were considered as an evaluation of the actual need and estimation of probability of its satisfaction (the “need-informational theory of emotions”), linked to the participation of specific key brain structures (Simonov, 1984, 1997). However, recent meta-analyses found little evidence that discrete emotion categories can be consistently and specifically localized to distinct brain regions (Lindquist et al., 2012). Therefore, a set of interacting brain regions commonly involved in basic psychological operations are active during emotion experience and perception across a range of discrete emotion categories (Kober et al., 2008; Lindquist et al., 2012). Therefore, the current model of emotions is systemic and linked to other psychological functions (Pessoa, 2013), which is in line with the proposal of “frustration” as a personal global condition which (after the whole personal evaluation of a stimulus) “triggers” a response.
What is usually conceptualized as a trigger (cause attributed to an external element) would be a simplification because it denies the role of the inner experience. If we accept the frustration is previous to the external trigger, then the clinical approach should be headed to search and treat the emotional “tangle” underlying frustration and its relationship with the external stimulus. Because if we avoid the external trigger without treating the previous subjective cause, then the probability of relapse is high. The treatment of the subjective emotional state will help to provide a new meaning to that external stimulus, an action that we call to “re-meaning” the trigger.
This therapeutic fact of giving a new meaning to the trigger does not exclude the traditional therapeutic avoiding of the trigger, which is an urgent aim at the beginning of the treatment. Nevertheless, after that initial phase, the inner problem should also be addressed. Actually, both are necessary, one to get initial abstinence and the other to help the addict to resolve the frustration underlying drug addiction.
Our proposal about the individual subjectivity implies understanding that the emotion is lived more as an expression of the complexity of a person's life in specific circumstances, than as a reaction to the outside (Barrett, 2017).
The Subjective Concept and Neurobiology of Stress and Addiction:
Similarly to addiction, stress disorders are also related to a trigger stimulus evoking a strong subjective experience. A neurobiological overlap between these two conditions would therefore be expected.
The responses to psychosocial stressful stimuli in healthy individuals also involve the participation of hippocampus, amygdala, insula and prefrontal cortices (Shin and Liberzon, 2010). Specifically, limbic circuits underlie the coherent contextualization of different neural inputs (Bird, 2017), as well as the formation of episodic memories and the integration of emotional processing; essential elements in craving and relapse by exposure to the context of drug addicts.
Moreover, drug addicts, psychiatric patients, and subjects that suffered early child abuse show similar brain alterations such as volume reductions of the hippocampus, amygdala and anterior cingulate cortex, or hyperactivity of the amygdala and insula, vs. a decreased response of prefrontal cortex when dealing with stress (Etkin and Wager, 2007; Shin and Liberzon, 2010; McCrory et al., 2012). The cue-reactivity paradigm used in fMRI addiction studies has pointed out limbic and prefrontal cortices as the key systems in response to stimuli (Chase et al., 2011). However, a more recent meta-analysis concludes the absence of a consensus in relation to the brain response to conditioned drug stimuli (Zilberman et al., 2019). The loss of consensus can possibly be partially explained by the role of frustration (subjective personal factors) triggering the negative perception of the reality (inner trigger), an element shared in both, stress and addiction disorders.
Our suggestion is to promote resilience as a therapeutic tool to treat frustration. It is known that the subjective perception of the event is a determining point to understand the experience lived (Burr, 1982). Therefore, the best way to work on resilience is through the re-meaning of the so-called stressor or trigger (Lazarus and Launier, 1978; Boss, 2002), but working on the meaning attributed to the stressor instead of the stressor itself. A creative act is necessary because resilience is not a mere adaptation to new circumstances, but implies a global personal growth (Walsh, 2002; Cicchetti, 2010).
From a therapeutic view, the capability of psychotherapeutic treatments (alone) has been demonstrated to restoring the biological normality of brain structure and function (Barsaglini et al., 2014). This is of especial interest when only limited effects have been documented by pharmacological treatments, for example in the drug addiction (Dakwar and Nunes, 2016). Psychological symptoms, including depression, anxiety, hostility, psychological pain, embarrassment, blame, panic and obsession, are complex and difficult to characterize but treating them is crucial and essential for rehabilitation (Dakwar and Nunes, 2016).
Turning Back to the Complexity:
Usually, the emphasis for relapse prevention is focused on avoiding trigger stimuli by means of healthy habits, but, once again, subjective elements play a central role, and are related to the complexity of personal relationships and self-assessment (Marlatt and Gordon, 1985). Therefore, relapse is seen as the effect of not having coping strategies. Moreover, it has been shown that high percentages of drug addicted patients allege intrapersonal determinants related to frustration as the main cause of relapse (Ramirez-Castillo et al., 2019).
It is clear that resilience to stress or addiction must be studied at all levels from the most biological to the most subjective (Cicchetti, 2010) in order to attend the globality and uniqueness of the person since the absence of risk factors or the presence of protective elements alone are not enough to explain whether an individual using drugs will become addicted or whether an addict will be rehabilitated (Luthar et al., 2000).
This brief journey opens the possibility of accepting the term “frustration” as a global subjective element, leading the therapeutic intervention toward the inner patient condition, for example, through work on the resilience, more than the avoiding of external stimuli
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Naogan
6500