Islamic LIFE

Islamic LIFE

Share

ISLAM is derived from the Arabic root "Salema": peace, purity, submission and obedience. ISLAM submission to the will of ALLAH and obedience to His law.

Islamic Life Production

Find Us On Youtube:
http://www.youtube.com/user/IslamicLyfProduction

24/01/2026

একদিন এক যুবক নবী করীম (সাঃ)-এর দরবারে এসে সরাসরি বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ব্যভিচার (জিনা) করার অনুমতি দিন।"

উপস্থিত সাহাবীরা এই কথা শুনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। কেউ কেউ তাকে ধমক দিয়ে বললেন, "চুপ করো! চুপ করো! তুমি কি বলছ এসব?" সাহাবীরা তাকে মারধর করতে বা থামিয়ে দিতে উদ্যত হলেন।

কিন্তু নবীজী (সাঃ) বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। তিনি সাহাবীদের শান্ত করলেন এবং যুবকটিকে পরম স্নেহে বললেন, "আমার কাছে এসো।" যুবকটি কাছে এসে বসল।

এরপর নবীজী (সাঃ) তাকে খুব শান্তভাবে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন:

১. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার মায়ের জন্য এমন কাজ (ব্যভিচার) পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা কখনোই চাইব না।" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের মায়েদের জন্য এমন কাজ পছন্দ করে না।"

২. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার মেয়ের জন্য এটি পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল!" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের মেয়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না।"

৩. নবীজী (সাঃ): "তুমি কি তোমার বোনের জন্য এটি পছন্দ করবে?" যুবক: "আল্লাহর কসম! না, হে আল্লাহর রাসূল!" নবীজী (সাঃ): "অন্য মানুষরাও তাদের বোনদের জন্য এটি পছন্দ করে না।"

এভাবে নবীজী (সাঃ) তার ফুফু এবং খালার প্রসঙ্গও তুললেন। প্রতিবারই যুবকটি বলল, "না"। নবীজী তাকে বোঝালেন যে, তুমি যার সাথে জিনা করতে চাও, সে কারো মা, কারো মেয়ে, অথবা কারো বোন। তুমি যা নিজের পরিবারের জন্য ঘৃণা করো, তা অন্যের পরিবারের জন্য কেন করতে চাও?

এই কথোপকথনের ফলে যুবকটির ভুল ধারণা ভেঙে গেল এবং তার মন থেকে পাপের ইচ্ছা দূর হয়ে গেল।

নবীজীর (সাঃ) সেই বিশেষ দুয়া
এরপর নবী করীম (সাঃ) মায়ার পরশ দিয়ে ওই যুবকের বুকে হাত রাখলেন এবং আল্লাহর কাছে এই দুয়াটি করলেন:

اللهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ، وَحَصِّنْ فَرْجَهُ

বাংলা অর্থ:

"হে আল্লাহ! তুমি তার গুনাহ ক্ষমা করে দাও, তার অন্তরকে পবিত্র করে দাও এবং তার লজ্জাস্থানকে (পাপ কাজ থেকে) হেফাজত করো।"

ঘটনার ফলাফলঃ
হাদিসের বর্ণনাকারী বলেন, এই ঘটনার পর ওই যুবক মদিনার সবচেয়ে চরিত্রবান যুবকদের একজন হয়ে ওঠেন। এরপর সারা জীবন তিনি আর কখনোই কোনো অশ্লীল কাজের দিকে ফিরেও তাকাননি এবং কারো প্রতি কুদৃষ্টি দেননি।

কেউ যদি দুয়াটি নিজের জন্য করতে চায় তাহলে হবেঃ
اَللَّهُمَّ اغْفِر ذَنْبِي، وَطَهِّرْ قَلْبِي، وَحَصِّنْ فَرْجِي

19/01/2026

হযরত জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন:
"আমি ঘোড়ার ওপর স্থির হয়ে বসে থাকতে পারতাম না (ঘোড়া দৌড়ালে পড়ে যেতাম)। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আরজ করলাম। তখন তিনি তাঁর হাত মোবারক দিয়ে আমার বুকে সজোরে একটি চাপ দিলেন, এমনকি আমি আমার বুকে তাঁর হাত মোবারকের চিহ্ন দেখতে পেলাম। এরপর তিনি দোয়া করলেন:
'اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا'
অর্থ: 'হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।'
(জারীর রা. বলেন,) "এরপর থেকে আমি আর কখনো ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি।"
এই ঘটনাটি মূলত একটি অভিযানে যাওয়ার আগে ঘটেছিল। নবীজী (সা.) জারীর (রা.)-কে এই অভিযানের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর ঘোড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। এই দোয়ার পরই তিনি ১৫০ জন অশ্বারোহী নিয়ে সেই অভিযানে অংশগ্রহণ করে সফল হয়ে ফিরে আসেন।
নবীজীর (সা.) হাতের স্পর্শ ও দোয়ার বরকতে একজন অদক্ষ অশ্বারোহী রাতারাতি দক্ষ অশ্বারোহীতে পরিণত হন। এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাঁর একটি মোজেজা।
হযরত জারীর (রা.) অত্যন্ত সুদর্শন এবং সম্মানিত গোত্রপতি হওয়া সত্ত্বেও নিজের দুর্বলতা (ঘোড়ায় চড়তে না পারা) নবীজীর কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন। এই বিনয়ই তাঁকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
নবীজী (সা.) কেবল তাঁর শারীরিক সমস্যার সমাধান (স্থির থাকা) চাননি, বরং তাঁর জন্য আধ্যাত্মিক উন্নতির (পথপ্রদর্শক হওয়া) দোয়াও করেছেন। পরবর্তী জীবনে জারীর (রা.) একজন সফল দাঈ এবং বীর সেনানী হিসেবে পরিচিতি পান।
সূত্র: দালাইলুন নবুওয়্যাহ
© Salman Farsi

কেউ যদি নিজের জন্য দুয়াটি পড়তে চায় তাহলে দুয়াটি নিম্নে দেওয়া আছেঃ

Want your organization to be the top-listed Non Profit Organization in Manda?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Manda
1214