MSI RIAZ
اسلم علىكم و رحمتله
ডাক্তারখানা: মোটা হতে চাই!
***
ক্লাস নাইনে পড়ি। স্যার ফিজিক্স ক্লাসে নিউটিনের গতির তৃতীয় সূত্র বোঝাচ্ছেন- প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। স্যার বললেন এটা সবাই মুখস্ত করে নে। এটা বাস্তব জীবনেও হয়। তুই কারও ক্ষতি করলে তোরও একদিন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তবে তোদের ক্লাসে একজন আছে যার ক্ষেত্রে অবশ্য এই সূত্র কাজ করবে না। এইটুকু বলে স্যার থেমে গেলেন। মিটিমিটি হাসছেন।
আমাদের সবার মনে কৌতূহল। কে সেই ব্যক্তি। অবশেষে স্যার নীরবতা ভঙ্গ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন - এই তুই দাঁড়া। আমি দাঁড়ালে ক্লাসের সবাইকে দেখিয়ে স্যার বললেন- এই সেই গুণধর যার ক্ষেত্রে এই সূত্র প্রযোজ্য নয়।
সবাই সমস্বরে জানতে চাইল – স্যার, কেন কেন? সৈকত তো পাশ থেকে ফোড়ন কাটল- আরে ও তো ভিনগ্রহ থেকে এসেছে, দেখছিস না কেমন এলিয়েনের মতো চেহারা!
পাজির পা ঝাড়া সৈকত। রোজ রোজ আমার টিফিনের ২ টা রুটি আর ডিম তোকে খাওয়াই। তুই আমার সাথে এমন করছিস। দাঁড়া, ক্লাসটা শেষ হয়ে নিক।
স্যার ট্রাফিক পুলিশের মতো হাত তুলে ক্লাস শান্ত করলেন। এরপর বোর্ডে কিছু ছবি আঁকতে থাকলেন। স্যার সচিত্র বর্ণনা দিয়ে গেলেন পরের ৫ মিনিট আর লজ্জায় আমার কান গরম হতে থাকল।
'এই যে এইটা দেখছিস এ হলো তোদের নাফিস মিয়া, আর এই যে এ হলো নাফিস মিয়ার বউ। দু'জন বিকেলে বাতাস খেতে নদীর ধারে গেছে। আর এই যে দুজন... এরা হলো ছিনতাইকারী। এরা এসে নাফিসের বউয়ের গলায় ছুরি ধরে বলছে সোনাদানা, টাকাপয়সা যা আছে দে। না হলে গলা নামিয়ে দেব।
এই কাজটা কি বলতো নিউটনের গতির ভাষায়?' –স্যার প্রশ্ন করলেন।
স্লোগান দেবার মতো সবাই বলে উঠল- ক্রিয়া!
স্যারও স্লোগান দেবার সুরে বলল- রাইট!
'এখন নিউটন বাবাজির কথা মতো বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা নাফিস মিয়ার। কিন্ত সে কী করবে? সে বউ ফেলে ভয়ে দিবে দৌড়। ওর গায়ে দু ছটাক মাংসও নাই। ও কীভাবে ফাইট দেবে?'
পুরো ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেলো। স্যার, আমার দিকে তাকিয়ে বলল- ইয়্যং ম্যান, গ্রো সাম মাসল! আমি মাথা নিচু করে বসে পড়লাম।
এক সময় আমার ওজন ছিল ৪৭/৪৮ কেজি। তালপাতার সেপাই ছিল আমার ডাকনাম। একটু বাতাস উঠলেই সবাই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করত- এই বাইরে যাস না, বাতাসে কিন্তু উড়ে যাবি! শুক্রবারে জুব্বা পরে নামায পড়তে গেলে দুষ্টু পোলাপান আমাকে বলত- ঐ যে দেখ কাকতাড়ুয়া যায়!!
শুকনা শরীরটা নিয়ে মনে অনেক কষ্ট ছিল। কী আর করবো বলো রোজ রোজ এতো ঠাট্টা হজম করা যায়?
তবে শুকনা থাকার ফলে একবার আমি আর আমার এক বন্ধু বেশ বড় ধরনের একটা এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে গেলাম। কলেজ থেকে হোস্টেলে ফিরছি। রাস্তা পার হবার সময় আমি আর আমার বন্ধু দুই বাসের চিপায় পড়ে গেলাম। তারপর যদি সোজা থাকতাম তাহলেও চিপায় পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যেতাম। দুইজনে বাঁকা হয়ে গেলাম আড়াআড়ি ভাবে। শরীর ঘেঁষে বাস চলে গেল। একটু মোটা হলেই সেদিন দুইজনেই মারা যেতাম। শুকনা থাকার কারণে দৌড়ে সহজে কেউ পারত না, মোটা বন্ধুদের তুলনায় খেলাধুলায় বেশ ভালোই ছিলাম, গরমে হাঁসফাঁস কম করতাম।
ভার্সিটিতে থাকতে একবার জ্বর হলো। ওজন আরও কমে গেল। বন্ধুরা আরও পচাতে লাগল। এরপর কি যে মনে হলো একমাস গোগ্রাসে খেলাম। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে ফজরের সময় উঠলাম, রিলাক্স থাকলাম, দুশ্চিন্তা-টেনশন থেকে দূরে থাকলাম। এক মাসের মাথায় ওজন বাড়ল ৬ কেজি। দেড় মাস পর যখন হল থেকে বাসায় গেলাম তখন আমার ওজন ৬১ কেজি ছুঁই ছুঁই। মায়ের মুখে হাসি আর ধরে না। জীবনে এই প্রথমবারের মতো বাসায় ফেরার পর মা বলল না যে, তুই শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছিস। মানুষজন আমাকে এসে জিজ্ঞাসা করল, এই তুমি কী খাইছো? কেমনে এতো মোটা হইলা? ওষুধ খাইছ নাকি? এরপর ওজন বাড়া-কমা, বাড়া-কমার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে এখন ভুঁড়ি কীভাবে কমানো যায় তা জানতে রোজ রোজ গুগল সার্চ করি!!
শরীর শুকনা, কেন মোটা হচ্ছি না এসব ভেবে, তালপাতার সেপাই, কাঠি, হ্যাঙ্গার, বাতাস উঠলে পড়ে যাবি সাবধান– এসব কথা শুনে হয়ত তোমার মন খারাপ হয়। বন্ধুদের মতো টি-শার্ট পরে মাসল দেখিয়ে বেড়াতে পারো না, মেয়েদের চোখে হিরো সাজতে পারো না এসব ভেবে হয়ত তোমার হতাশা আসে। হতাশা থেকে অনেকেই হীনম্মন্যতায় ভোগো। মানুষজনের সামনে সহজ হতে পারো না। মিশতে পারো না। নিজেকে গুটিয়ে নাও। আসো দুইজন সুপার হিরোর গল্প শোনা যাক।
প্রথমজন হলেন এমন একজন যিনি এই দুনিয়ার বুকে নবি, রাসূলের (আ.) পর যতো মানুষ হেঁটে বেড়িয়েছেন তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ তাআলা যাকে সালাম পাঠিয়েছেন। তিনি ছিলেন মুহাম্মাদ ﷺ এর সবসময়ের সঙ্গী, ইসলামের প্রথম খলিফা। আল্লাহর রাসূল ﷺ মৃত্যুর পরে সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন, উমার ইবনু খাত্তাবের (রা.) মতো মহাবীর, প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষও শিশুর মতো আচরণ করছিলেন তখন একা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এই সুপার হিরো। তিনি আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু
আলি ইবনু আবি তালিব (রা.) এমন সাহসী, এমন দুর্ধর্ষ যোদ্ধা ছিলেন, এমন এক পর্বতসমান ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে শত্রুরা তাঁর নাম শুনলেই ভয়ে কাঁপতো। তিনিই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি খাইবারের যুদ্ধে দুর্গের দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন, যেটা যুদ্ধের পরে ৭০ জন মানুষ মিলেও তুলতে পারেনি। এই আলি (রা.) একদিন মানুষদের জিজ্ঞাসা করলেন, বলো তো সবচাইতে কে বেশি সাহসী? উত্তর এলো- আপনি, আপনি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হে আবুল হাসান (আলি রা.)’। আলি (রা.) বললেন না, কক্ষনো না। আমি কোনো দ্বন্দযুদ্ধে পরাজিত হইনি, কিন্তু তারপরেও আবূ বকর (রা.) আমার চাইতেও অনেক অনেক সাহসী। তিনি সবচেয়ে বেশি সাহসী।[1]
আলি (রা.) বললেন, বদরের যুদ্ধে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হল। যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ যুদ্ধ পরিচালনা করবেন। সেই তাবুর নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ভলান্টিয়ার চাওয়া হলো। আমাদের কেউই এগিয়ে গেল না। এগিয়ে গেলেন কেবল আবূ বকর (রা)। তরবারি হাতে তিনি আল্লাহ্র রাসূলের (সা.) তাঁবু পাহারা দিচ্ছিলেন। বিশ্বাস করো, তাঁর মতো সাহসী আমি কাউকেই দেখিনি’।[2]
সুবহানআল্লাহ! একবার চিন্তা করো, আলির (রা.) মতো মানুষ, সার্টিফিকেট দিচ্ছেন আবূ বকর (রা.) এর মতো সাহসী মানুষ তিনি আর দেখেননি।
এই পর্যন্ত পড়ার পর এবার আবূ বকর (রা.) এর শারীরিক গঠনের কথা চিন্তা করো। কেমন ছিলেন তিনি ? অনেক লম্বা, মাসলের হাট-বাজার বসিয়ে ফেলা এমন একজন কেউ? উত্তর একটু পরে দিচ্ছি।
আমাদের আরেকজন সুপারহিরো হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.)। কুরআনে তাঁর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য। একরাতে তাঁর কুরআন তিলাওয়াত শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মন্তব্য করেন- কুরআন যেরকম সরস ও প্রাণবন্ত রূপে নাযিল হয়েছে, ঠিক সেরকম পড়ে যদি কেউ আনন্দ পেতে চায়, তাহলে তার উচিত ইবনু উম্মু আবদ অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরাআতে তা পড়া’।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) শুধুই কেবল একজন কুরআনের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধ তিলাওয়াতকারী, কুরআনের পণ্ডিত, আবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন শক্তিশালী, আত্মপ্রত্যয়ী এবং যুদ্ধের ময়দানের একদম সামনের সারির মুজাহিদ। বিলাল (রা.) এর ওপর সর্বাধিক অত্যাচারকারী উমাইয়া ইবনু খালাফকে বদরের যুদ্ধে জাহান্নামের টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
তাঁর সাহসিকতা, তাঁর বীরত্বের উদাহরণ হিসেবে এটা বলাই যথেষ্ট যে, তিনিই সর্বপ্রথম মুসলিম যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পর পৃথিবীর বুকে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়েন।
সেই সময় মক্কার কুরাইশদের অত্যাচারের মুখে সাহাবিদের (রা.) পক্ষে উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে কুরাইশদের শোনানো সম্ভব ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বললেন, আমিই তাদের উচ্চ আওয়াজে কুরআন পড়ে শোনাবো।
সকলে হায় হায় করে উঠলেন, ‘আপনার ব্যাপারে আমরা ভরসা পাই না। আমাদের প্রয়োজন এমন একজন মানুষ- যার বংশ বড় এবং জনবলও বেশি। যারা তাঁর হেফাযত করবে এবং কুরাইশের ক্ষতি থেকে তাকে সুরক্ষা দেবে।'
তিনি উনাদের কথা না শুনে কাবা শরীফে গিয়ে উচ্চকণ্ঠে সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াত করা শুরু করেন- আর রাহমান, আল্লামাল কুরআন...
কুরাইশরা স্তব্ধ হয়ে গেল! এই পুঁচকে রাখালের সাহস কতো বড়!দে মাইর দে। সবাই মিলে আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদকে (রা.) অনেক পেটালো। রক্তে রঞ্জিত করে ফেলল। কিন্তু তিনি মার খেতে খেতেও তিলাওয়াত অব্যাহত রাখেন। তিলাওয়াত শেষে রক্তাক্ত অবস্থায় সাহাবিদের মাঝে ফেরত আসেন। সাহাবিরা তাঁর এ অবস্থা দেখে বললেন- এটাই আমরা আশঙ্কা করছিলাম।
তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! এই মুহূর্তে আল্লাহর দুশমনরা আমার চোখে এত পরিমাণ তুচ্ছ যে এর আগে তারা এতো তুচ্ছ ছিল না। আপনারা চাইলে আমি আবার আগামীকাল একই কাজ করব’।[3]
এই মর্দে মুজাহিদ আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) কেমন ছিলেন? পালোয়ান? মাসলম্যান ?
আমাদের প্রথম সুপারহিরো আবূ বকর (রা.) এর কাছে ফেরত যাওয়া যাক। কেমন ছিল তাঁর শারীরিক গঠন? তাঁর মেয়ে আম্মাজান আঈশা (রা.) আমাদের জানাচ্ছেন- ‘আমার বাবা ছিলেন খুবই শুকনা। এতোই শুকনা যে তাঁর কোমরে পায়জামা ঠিকমতো থাকত না। পড়ে যেত খানিক পরপর। তাঁর চোখগুলো ছিল গর্তে বসা। তিনি যেন বাতাসে ভেসে ভেসে হাঁটতেন। এতোটাই শুকনো ছিলেন তিনি’। রাদিয়াল্লাহু আনহু।[4]
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) ছিলেন অনেক শুকনো। একবার তিনি খেজুরের গাছে উঠছিলেন। তাঁর সরু সরু কাঠির মতো পা দেখে অনেকেই হাসাহাসি শুরু করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন ঐ সাহাবিদের বললেন, ‘তোমরা কেন এমন করছো? তোমরা কেন হাসছো? কসম সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের পা যদি মিজানের পাল্লায় ওজন করা হয় তাহলে তা উহুদ পাহাড়ের চাইতেও বেশি ভারি হবে।[5]
ভাই আসল কনফিডেন্স, আসল শক্তি মাসল দিয়ে আসে না, আসে আল্লাহ্র ভয়, আল্লাহ্কে চিনতে পারা, তাওহীদকে বুঝতে পারার মাধ্যমে। মেয়েদের ক্রাশ হওয়া, মেয়েদের সাথে 'রঙঢঙ' করার মধ্যে পুরুষ হবার কিছু নাই, পুরুষ তো তাঁরাই যারা ফজরের সালাতে ঘুম থেকে উঠতে পারে, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, বাবা-মার সাথে ভালো ব্যবহার করতে পারে, বড়দের সম্মান করতে পারে, চোখের হেফাযত করতে পারে, নির্জনে, ঘরের কোণে কেউ যখন দেখছে না এমন মুহূর্তে নিজেকে পাপের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, আল্লাহ্র শত্রুদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারে। সাহসিকতা, নির্ভীকতার সঙ্গে চিকনা না মোটকু না সুঠাম দেহ–এসব জড়িত না। নিজের শুকনা শরীর নিয়ে কক্ষনো হীনম্মন্যতায় ভুগবে না। এই শরীরের বড়ত্ব, এই শরীর দিয়ে ভাব মারা, ধরাকে সরা জ্ঞান করা মালাকুল মওতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে। মাটিতে পচে যাবে। পোকা ধরবে। আর আল্লাহ্র কাছে তুমি কেমন সম্মানিত তা তুমি দেখতে কেমন, শুকনা না মোটা এসবের ধার ধারে না।
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন এবং সব বিষয়ে অবহিত’ ।[6]
একটা বয়সে অনেকেই একটু শুকনা থাকে। তারপর যখন বয়স বাড়তে শুরু করে তখন তালপাতার সেপাই থেকে ভুঁড়ির আড়তদার হয়ে যায়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করবে না। সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। রাত জাগবে না। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবে। ব্যায়াম করবে। বিস্তারিত গাইডলাইন ইনশাআল্লাহ্ দেওয়া হবে সামনের পর্বে।
(চলবে ইনশাআল্লাহ...)
18/10/2025
ফেলটুস থেকে টপার (৫ম পর্ব)
ক্লাস সেভেন পর্যন্ত ভালো ছাত্র ছিলাম। এরপর কী যে হলো, সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। একের-পর-এক রেজাল্ট খারাপ হতে থাকল। ক্লাস নাইনের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনটা সাবজেক্টে ফেইলই করে বসলাম। বাবা বলল আমাকে অটো কিনে দেবে... আর পড়াশোনা করাবে না। মা আমার পিঠে ঝাড়ু ভাঙ্গার আর পাশের বাড়ির মেহেদীর পা ধোয়া পানি খাওয়ানোর ইচ্ছা পোষণ করল। এ সময় আমার জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে হাজির হলো ফুপাতো ভাই হাসান। আমাকে বেশ কিছু টিপস দিলো সে। সেই টিপস ফলো করে এর পরের পরীক্ষাগুলোতে একের-পর-এক ছক্কা হাঁকাতে থাকলাম আমি। সেই টিপসগুলোই তোমাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করছি আমি। আগের পর্বগুলো না পড়ে থাকলে পড়ে নাও দ্রুত।
আমার পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল পড়াশোনায় মনোযোগ না বসা। বসবে কীভাবে? আমার পড়ার পরিবেশ ছিল এক্কেবারে সদরঘাট। পড়ার টেবিলে রাজ্যের আজেবাজে জিনিস দিয়ে ভর্তি থাকত। প্রতিদিন ভাবতাম আজকে কুত্তা পড়া পড়ব, একেবারে ফাটায়ে ফেলব। একবুক আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়তে বসার পর পড়ার পরিবেশ না থাকায় পড়ার ইচ্ছেই যেত মরে। পড়তে বসে একটু গল্পের বই পড়তাম, একটু রুবিক্স কিউব নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম, ‘একটু’ ফোন টিপতাম। আর এভাবেই প্রতিদিন পড়া বাদে আজেবাজে বাকি সব কাজ হতো। আর সব পড়া জমে থাকত পরীক্ষার আগের রাতের জন্য। পরীক্ষার আগের রাতে নাকে-মুখে পড়া গিলে বদহজম হয়ে যেত আর পরীক্ষায় পেতাম আন্ডা।
কিন্তু হাসান ভাইয়ের দেওয়া টিপসগুলো ফলো করে আমি পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করি। আমার পড়াশোনায় মনোযোগ আসে আর প্রতি পরীক্ষায় বাজিমাত করতে থাকি। সেই টিপসগুলোই আজ তোমাদের সাথে শেয়ার করব।
স্মার্ট স্টুডেন্টের মতো পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি ও পড়ায় মনোযোগ আনবে যেভাবে—
১. পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখো
একটা গোছানো, পরিপাটি টেবিল তোমার পড়ার মানসিকতা অনেকটাই বদলে দিতে পারে। পড়ার সময় যদি টেবিলের চারপাশে বই, নোট, কলম ছড়ানো-ছিটানো থাকে, তাহলে মনোযোগ হারানোর সুযোগ অনেক বেশি। তাই—
পড়ার টেবিলে শুধু দরকারি বই, খাতা, কলম রাখো।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস—যেমন মোবাইল, খেলনা, ম্যাগাজিন, অযথা কাগজপত্র সরিয়ে ফেলো।
প্রতিদিন পড়া শুরু করার আগে টেবিল পরিষ্কার করো, এতে তোমার মনোযোগ দ্রুত পড়ায় ফিরে আসবে।
২. পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখো
খেয়াল করে দেখবে, অনেক সময় হালকা আলোতে পড়তে গেলে চোখ ব্যথা করে, মাথা ধরে আসে। এর কারণ হলো কম আলোতে চোখের উপর বেশি চাপ পড়ে, ফলে তুমি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ো। তাই—
পড়ার সময় সবসময় পর্যাপ্ত আলো ব্যবহার করো।
সম্ভব হলে দিনের বেলা জানালার পাশে বসে পড়ো, এতে প্রাকৃতিক আলো কাজে লাগবে।
রাতে পড়ার সময় টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করো, কিন্তু ল্যাম্পের আলো যেন সরাসরি চোখে এসে না লাগে।
৩. পরিবেশ তৈরি করো
পড়তে বসার সময় যদি পাশের ঘর থেকে টিভির আওয়াজ আসে, বাইরের গাড়ির হর্ন বাজতে থাকে, বা ছোট ভাইবোনরা চিৎকার-চ্যাঁচামেচি করতে থাকে—তাহলে পড়ায় মনোযোগ রাখা অসম্ভব হয়ে যায়। তাই—
একদম শান্ত, নিরিবিলি জায়গায় পড়ার ব্যবস্থা করো।
বাসায় শব্দ হলে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করো।
দরজা বন্ধ করে পড়তে বসো এবং পরিবারকে জানিয়ে দাও যেন এই সময়টায় তোমাকে ডিস্টার্ব না করে।
৪. পড়ার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করো (ব্রেইনকে ট্রেইন করো)
এলোপাথাড়ি সময়ে পড়লে তোমার মস্তিষ্ক কখন পড়তে হবে সেটা ঠিক বুঝতে পারে না। ফলে পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যায়, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। তাই—
প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখো। যেমন, ফজরের পর ২ ঘণ্টা, বিকেলে ১ ঘণ্টা, এবং রাতে ২ ঘণ্টা।
নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করলে পড়ার সময় মনোযোগ দ্রুত ফিরে আসবে।
৫. ফোন দূরে রাখো (পড়ায় মনোযোগ আনার জন্য এটা ফরজ)
ফোনের নোটিফিকেশন একবার দেখলেই পড়ার ফোকাস নষ্ট হয়ে যায়। তুমি হয়তো ভাবছো–‘শুধু একবার মেসেজ দেখব’, কিন্তু এরপর সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করতে করতে কত ঘণ্টা যে পার হয়ে যাবে বুঝতেও পারবে না। তাই—
পড়ার সময় ফোন সাইলেন্ট মোডে রাখো বা অন্য ঘরে রেখে দাও।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলো পড়ার সময় ব্লক করে রাখতে পারো।
জরুরি দরকার না হলে ফোন ব্যবহার করবে না।
৬. পড়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করো
পানির অভাবে আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমে যায়, ফলে পড়ার সময় আমাদের দ্রুত ক্লান্তি আসে। তাই—
পড়ার টেবিলে একটি পানির বোতল রাখো।
৩০-৪০ মিনিট পরপর অল্প করে পানি পান করো।
কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কের উপর নির্ভর না করে শুধু পানি পান করো।
৭. পড়ার সময় ছোট ছোট ব্রেক নাও
একটানা অনেকক্ষণ পড়লে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়। পড়ায় মনোযোগ কমে যায়। গবেষণায় জানা গিয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক ২৫-৪৫ মিনিটের বেশি টানা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। তাই—
প্রতি ৪৫-৫০ মিনিট পড়ার পর ১০-১৫ মিনিটের ব্রেক নাও।
ব্রেকের সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করো বা চোখ বন্ধ করে পাওয়ার ন্যাপ নাও।
চকলেট, বাদাম বা খেজুরের মতো হালকা নাশতা খেতে পারো, যা তোমাকে দেবে ইন্সট্যান্ট এনার্জি।
৮. পড়ার টেবিলে ছোট গাছ রাখো (মন ফুরফুরে থাকবে)
গবেষণায় দেখা গেছে, পড়ার টেবিলে ছোট গাছ থাকলে মন শান্ত থাকে এবং ফোকাস বাড়ে। সবুজ গাছ মস্তিষ্ককে প্রশান্তি দেয় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই—একটি ছোট গাছ পড়ার টেবিলে রাখো, যেমন মানি প্ল্যান্ট বা ক্যাকটাস।
৯. অনুপ্রেরণামূলক উক্তি রাখো
পড়ার সময় মোটিভেশন ধরে রাখতে তোমার পড়ার টেবিলে অনুপ্রেরণামূলক কিছু আয়াত, হাদীস ও উক্তি রাখতে পারো! তাই—স্টিকি নোটসে কিছু মোটিভেশনাল উক্তি লিখে পড়ার টেবিলে সেঁটে দাও। যেমন: ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।’ (আল-ইনশিরাহ: ০৫), ‘উট বেঁধে রাখো এবং আল্লাহর উপর ভরসা করো।’ (তিরমিযি), ‘আজকের কষ্টই আগামীর সফলতা!’ বা ‘আমি পারবই ইনশাআল্লাহ!’ এগুলোয় চোখ বুলালে তোমার পড়ার আগ্রহ বাড়বে।
১০. সঠিক ভঙ্গিমায় বসো
ভুলভাবে বসলে শরীর ব্যথা করবে, ফলে পড়ার প্রতি অনীহা চলে আসবে। তাই—
মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসো। টেবিল ও চেয়ারের উচ্চতা ঠিক রাখো।
বসে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি চলে এলে উঠে দাঁড়াও, আড়মোড়া ভেঙে নাও বা কয়েকটা পুশ-আপ দিয়ে শরীরটা চাঙা করে নাও।
১১. পড়ার আগে দুআ পড়ে নাও
পড়া শুরুর আগে আল্লাহর কাছে দুআ করলে পড়ায় মনোযোগ ও সময়ে বারাকাহ আসবে। আল্লাহ সহজ করে দিবেন। মনে আত্মবিশ্বাস আসবে। তাই—
পড়ার আগে নিয়মিত দুআ করো এবং পড়ার প্রতি আন্তরিক থাকো।
‘বিসমিল্লাহ’ বলে পড়া শুরু করো।
পড়ায় মনোযোগ আনতে এই টিপসগুলোর এক ফাইল-ই যথেষ্ট। কাজ না হলে ষোলো ৯ম সংখ্যার টাকা ফেরত!
ফেলটুস থেকে টপার (৫ম পর্ব)
By রাহাত হোসেন
18/10/2025
ফেলটুস থেকে টপার (৪র্থ পর্ব)
ক্লাস সেভেন পর্যন্ত ভালো ছাত্র ছিলাম। এরপর কী যে হলো, সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। একের-পর-এক রেজাল্ট খারাপ হতে থাকল। ক্লাস নাইনের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনটা সাবজেক্টে ফেইলই করে বসলাম। বাবা বলল আমাকে অটো কিনে দেবে... আর পড়াশোনা করাবে না। মা আমার পিঠে ঝাড়ু ভাঙ্গার আর পাশের বাড়ির মেহেদীর পা ধোয়া পানি খাওয়ানোর ইচ্ছা পোষণ করল। এ সময় আমার জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে হাজির হলো ফুপাতো ভাই হাসান। আমাকে বেশ কিছু টিপস দিল সে। সেই টিপস ফলো করে এর পরের পরীক্ষাগুলোতে একের-পর-এক ছক্কা হাঁকাতে থাকলাম আমি।
সেই টিপসগুলোই তোমাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করছি আমি। আগের পর্বগুলো না পড়ে থাকলে পড়ে নাও দ্রুত।
আমার পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হবার একটা কারণ ছিল পরীক্ষার সময় আমি একেবারে অকূল সাগরে পড়তাম। কী কী পড়ব, কই থেকে পড়ব কিছুই আমার ঠিক করা থাকত না। ক্লাস করতাম না ঠিকমতো, ক্লাসে নোট নেওয়া তো বিলাসিতা! বন্ধুদের কাছে পরীক্ষার আগের রাতে গেলে একেকজন একেকরকমের আচরণ করত- ভালো ভালো গোলুমুলুরা আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিত, পরীক্ষার আগের রাতে আমি ওদের সময় নষ্ট করছি! আর পাজি ছেলেগুলো নোট দেবার বিনিময়ে বিরিয়ানি খেতে চাইত, এত টাকা আমি কই পাই!
ছোটাছুটি, দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার মধ্যে আমার তেমন কোনো পড়াই হতো না। হাসান ভাই আমাকে বললেন তোর এই স্বভাবটা বদলানো লাগবে। যদি এই একটা স্বভাব বদলাতে পারিস, ক্লাসে ঠিকঠাক নোট নিতে পারিস, তাহলেই কেল্লাফতে! ক্লাসের নোট নেওয়া আর নোটবুক গুছিয়ে রাখা হলো সেই সিক্রেট ওয়েপন, যা তোর পড়াশোনাকে অন্য লেভেলে নিয়ে যাবে। এরপর সে আমাকে নোট নেওয়া নিয়ে অনেকগুলো টিপস দিল। সেগুলো শেয়ার করব আজ তোমাদের সাথে।
আমার মতো তোমাদের অনেকের মাথাতেই হয়তো এই প্রশ্ন এসেছে, নোট নেওয়ার দরকার কী? পরে ইউটিউবে বা গুগলে দেখে নিলেই তো হবে! বা বন্ধুদের কারও কাছ থেকে নিলেই তো হবে।
নোট নিলে দেখবা ক্লাসের জটিল জটিল টপিকগুলাও তুমি বুঝতে পারছ। আর পড়া ভুলে যাবার সমস্যা তোমার অনেকখানি দূর হয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোনো কিছু শুধু শোনার চাইতে শোনার পাশাপাশি লিখে ফেললে, সেগুলো মানুষ বেশিদিন মনে রাখতে পারে।
নোট হলো তোমার ব্যক্তিগত পড়ার প্লেলিস্ট। এগুলো শুধু তোমার জন্য বানানো, সবকিছুর মূল পয়েন্ট হাইলাইট করা থাকে। একটু চোখ বুলালেই মেইন মেইন পয়েন্টগুলো তোমার মাথায় গেঁথে যাবে। আগে যেখানে ৫ ঘণ্টা পড়া লাগত, এখন ২ ঘণ্টা পড়লেই হবে।
সবকিছু যেহেতু একজায়গায় গোছানো থাকবে, পরীক্ষার আগে সিলেবাস শেষ করা একেবারে পানি হয়ে যাবে। আর রিভিশন দিতে পারবা কয়েকবার। নোট ছাড়া তুমি হয়তো খাতা বা বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাবে, অথবা বন্ধুকে বারবার জিজ্ঞেস করবে- দোস্ত এটা কী, ওইটা কী! কিন্তু তোমার আতেল বন্ধু যে সে সময় তোমাকে হেল্প না করে ব্লক করে দেবে না তার কী গ্যারান্টি!
ধাপ ১: দ্যা আর্ট অফ নোট নেওয়া (হাত ব্যথা না করেও)
প্রস্তুত হও, প্রোদের মতো!
ক্লাসে যাওয়ার সময় খাতা, কলম আর হালকা কিছু খাবার সঙ্গে রাখো (১/২ টা খেজুর হতে পারে)।
স্যার যদি আগে থেকে বলে দেন কোন টপিক পড়াবেন, তাহলে ক্লাসে যাবার আগে সেটা একটু দেখে যাও। এটা ব্রেইনকে প্রি-লোড করার মতো।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখো
সবকিছু লেখার দরকার নেই। তুমি তো সাংবাদিক নও! বরং, কীওয়ার্ড, সংজ্ঞা আর স্যার যা যা বারবার বলছেন সেগুলো লিখো।
স্যার মাঝে মাঝে বোর্ডে লিখেন, এগুলো সব খাতায় টুকে নাও।
ঘিচিমিচি নয়, সুন্দর করে লিখো
ঘিচিমিচি করে লিখলে পরে কিন্তু আর বুঝতে পারবে না কী লিখেছিলা। স্পষ্ট, পরিষ্কার করে লিখো, ফাঁকা জায়গা রাখো।
সুন্দর করে লিখতে গেলে স্যারের সাথে তাল মেলানো যাবে না এমন মনে হলে শব্দ ছোট ছোট করে লিখতে পারো। যেমন- সাপ্র- মানে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। আমা মানে হলো কবি আল মাহমুদ।
ক্লাসে মনোযোগ দাও, প্রশ্ন করো
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার সময় খুব মনোযোগী থাকো না? এমন থাকো।
কোনো কোনো স্যারের ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে রাখা একটু কষ্টকর মনে হতে পারে। কষ্ট হলেও খিচ মেরে বেঞ্চে বসে থাকো।
কোনো কিছু না বুঝলে স্যারকে প্রশ্ন করো, সেই প্রশ্নের উত্তর বা অন্যদের প্রশ্নের উত্তরে স্যার কী বলেন সেগুলো নোটে লিখে নাও।
ধাপ ২: নোটবুকের (হালাল!) মেকআপ
গুছিয়ে রাখো
প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা নোটবুক রাখো। সবকিছু এক জায়গায় লিখলে পরীক্ষার আগে কোনো টপিক খুঁজতে গেলে তোমার হালুয়া টাইট হয়ে যাবে।
সূচিপত্র তৈরি করো
নোটের শুরুর ১/২ টা পৃষ্ঠাতে সুন্দর করে টেবিল করো। এখানে লিখো এই নোটের কত পৃষ্ঠায় কোন কোন চ্যাপ্টার আছে। এই কাজ পরীক্ষার আগে তোমার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে।
তারিখ আর শিরোনাম দাও
প্রতিটি নোটের শুরুতে তারিখ আর টাইটেল দাও। এটা নোট থেকে কোনো কিছু খুঁজে বের করা বা পরীক্ষার আগে রিভিশনের সময় খুবই কাজে লাগবে।
যেমন, ‘১৮/১১/২৪ – চেতনা ব্যবসা!’
কালার কোডিং করো
হাইলাইটার দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রং দিয়ে ক্যাটাগরি তৈরি করো। বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দাগিয়ে রাখো। যেমন- সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নীল রং, উদাহরণ হলুদ, পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লাল। পরীক্ষার আগে রিভিশন দেবার কাজ আরও আরামসে হবে।
প্রয়োজনীয় পেজ চিহ্নিত করো
স্টিকি নোট ব্যবহার করো, ফর্মুলা বা গুরুত্বপূর্ণ পেজ মার্ক করার জন্য। খাতার সাইজ অনেক বড় হলে প্রতিটি চ্যাপ্টার কোথায় থেকে শুরু হয়েছে তা বোঝার জন্য সেখানে কাগজের টুকরা বা স্টিকি নোট দিয়ে রাখতে পারো।
ধাপ ৩: নিয়মিত চোখ বুলাও (নজরের হিফাযত করতে হবে না!)
নোট নিয়ে দারুণ কাজ করলা, কিন্তু সেগুলোতে যদি নিয়মিত চোখ না বুলাও তাহলে তো উপকার পাবা না, চাঁদু!
প্রতিদিন: প্রতিদিন পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও চোখ বুলাও।
প্রতি সপ্তাহে: পুরো সপ্তাহের নোট ১৫ মিনিট ধরে রিভিউ করো। এটা কনসেপ্ট মনে রাখতে খুবই খুবই সাহায্য করবে।
পরীক্ষার আগে: পরীক্ষার আগে নোট পড়ে তামা তামা করে ফেলাও!
যা করা যাবে না:
তোমার নোটকে ইনস্টাগ্রামের বুলেট জার্নালের মতো সুন্দর বানানোর দরকার নেই। মোটামুটি চলনসই হলেই হবে। নোটবুকে ডিজাইন করা, রং করতে গিয়ে পড়ার সময় বের করতে পারছ না, এমন যেন না হয়।
প্রথমে একটু কষ্ট হলেও, দাঁত চেপে নোট নিয়ে যাও। ক্লাস মিস দিয়ো না, ধারাবাহিকভাবে নোট নাও। হাল ছেড়ো না।
ভাইয়া,আপু! তুমি যদি একটু মনোযোগ দাও ক্লাসে, নোট করো আর দিনের জাস্ট ৫ মিনিট সময় নোটের উপর চোখ বুলাও, ক্লাসের কোনো পড়াই তুমি আর ভুলবা না ইনশাআল্লাহ। জাস্ট ৫ মিনিট। চিন্তা করে দেখো, পরীক্ষার আগে তাহলে তোমার কত সুন্দর একটা প্রস্তুতি হয়ে যাবে আল্লাহর রহমতে। কিছুদিন ট্রাই করে দেখো। ফলাফল না পেলে আমি ১ ঘণ্টা কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকব! প্রমিস!
(চলবে ইনশাআল্লাহ…)
ফেলটুস থেকে টপার (৪র্থ পর্ব)
By রাহাত হোসেন
18/10/2025
ফেলটুস থেকে টপার (৩য় পর্ব)
ক্লাস সেভেন পর্যন্ত ভালো ছাত্র ছিলাম। এরপর কী যে হলো, সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেল। একের-পর-এক রেজাল্ট খারাপ হতে থাকল। ক্লাস নাইনের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনটা সাবজেক্টে ফেইলই করে বসলাম। বাবা বলল আমাকে অটো কিনে দেবে... আর পড়াশোনা করাবে না। মা আমার পিঠে ঝাড়ু ভাঙ্গার আর পাশের বাড়ির মেহেদীর পা ধোয়া পানি খাওয়ানোর ইচ্ছা পোষণ করল। এ সময় আমার জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে হাজির হলো ফুপাতো ভাই হাসান। আমাকে বেশ কিছু টিপস দিলো সে। সেই টিপস ফলো করে এর পরের পরীক্ষাগুলোতে একের-পর-এক ছক্কা হাঁকাতে থাকলাম আমি। সেই টিপসগুলোই তোমাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে শেয়ার করছি আমি। গত পর্ব না পড়ে থাকলে পড়ে নাও দ্রুত।
স্মার্ট স্টুডেন্টের মতো যেভাবে পরীক্ষার খাতায় লেখবে
মূল পয়েন্টগুলো বলার পূর্বে তিনটি পয়েন্ট বলে নিই–
১/ কোনো জিনিস পড়ে ফেলার পর সঙ্গে সঙ্গে খাতায় সুন্দর করে লিখতে হবে।
২/ পরীক্ষার আগে বাসায় পরীক্ষার হলের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে নেবে। খাতা বানাবে, মডেল টেস্টের প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করবে। এরপর ঘড়ি ধরে একদম পরীক্ষার হলে যেভাবে পরীক্ষা দিতে, বাসায় সেভাবে পরীক্ষা দেবে। প্রত্যেকটা প্রশ্নের জন্য সময় বরাদ্দ করে নেবে। ধরো, ১০ মিনিট বা ৫ মিনিট। ঘড়ি ধরে এই সময়ের মধ্যে প্রশ্নের উত্তর লেখার চেষ্টা করবে। একটা প্রশ্নে অনেক বেশি সময় দিয়ে ফেললে পরের প্রশ্নগুলো ভালো করে লিখতে পারবে না। তখন নম্বর কম পাবে। যত বেশি মডেল টেস্ট দিতে পারবে, তত ভালোভাবে পরীক্ষার খাতায় উপস্থাপন করতে পারবে।
৩/ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত হলো, খাতায় তোমার উপস্থাপনা এমন হতে হবে যেন স্যারদের খাতা দেখতে, পড়তে, নম্বর যোগ করতে সুবিধা হয়। স্যারেরা যদি তোমার খাতা দেখে আরাম পায়, তাহলে ধরে রাখো তুমি পরীক্ষায় অন্যদের চাইতে ভালো নম্বর পাবে।
এবার আসি মূল আলোচনায়-
১। পরীক্ষার খাতা দেবার পর খাতায় দেখবা নির্দেশনা দেওয়া আছে। কী করা যাবে, কী করা যাবে না। এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।
২। পরীক্ষার হলে কৃপণতা করবে না। তুমি পরীক্ষার ফি দিয়েছ। যত কাগজ লাগবে নিবে। চাপাচাপি করে, লাইন বা শব্দের মাঝে ফাঁকা জায়গা না রেখে, পিঁপড়ার মতো ছোট সাইজে লিখবে না। স্পষ্টভাবে, ফাঁকা জায়গা রেখে লিখবে। এতে স্যারদের লেখা পড়তে সুবিধা হবে। মন ভালো হবে। আর বুঝতেই পারছ মন ভালো হলে কী হবে।
৩। দুটি প্রশ্নের মাঝে একটু গ্যাপ রাখবে। একটা প্রশ্ন শেষ হবার পর নিচে একটা ছোট লাইন টেনে দিয়ে পরের প্রশ্ন থেকে আলাদা করে দিতে পারো। অনেক সময় স্যারেরা একটা প্রশ্ন থেকে অন্য প্রশ্ন আলাদা করতে পারেন না বেশি চাপাচাপি করে লিখলে। ফলে তুমি দুটি প্রশ্ন লিখলেও একটা প্রশ্নের নম্বর পাও।
৪। খাতায় সুন্দর করে মার্জিন টানবে। মার্জিনের বামপাশে কিছু লিখবে না।
৫। পরীক্ষার খাতায় কম কাটাকাটি করবে। ভুল হলে সেই ভুল লেখার উপর ঘষাঘষি না করে একটানে কেটে ফেলবে। তারপর নতুন করে লিখবে।
৬। প্রশ্নের উত্তর সিরিয়ালি লিখবে। ১ নং প্রশ্নের (সেটের) ক এর উত্তর লিখে আবার ২ নং প্রশ্নের (সেটের) খ এর উত্তর লিখে, এরপর ১ নং প্রশ্নের খ এর উত্তর; এভাবে লিখবে না। ১ নং প্রশ্নের আন্ডারে যতগুলো প্রশ্ন আছে (ক, খ, গ…) সব লিখে ফেলবে। এরপর ২ নং প্রশ্ন ধরবে। এভাবে সিরিয়ালি লিখে যাবে। স্যারদের খাতা দেখতে সুবিধা হবে। যদি ১ এর পরে ২ নং প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারো, তাহলে যেটা পারবে (৩/৪/৫ বা যেটা) সেটা লিখবে। কিন্তু সেই সেটের প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় তার আন্ডারে যত প্রশ্ন আছে সব একবারে লিখে ফেলবে। একটা সেট ধরলে সেই সেটের সব প্রশ্নের উত্তর লিখে ফেলবে।
৭। ধরো, ১ নং সেটের ক, খ, ঘ এর উত্তর পারো। গ এর উত্তর লিখতে একটু মাথা খাটাতে হবে। এখন লিখতে চাচ্ছো না। পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা পড়ার আগে লিখবে। এমন হলে গ এর উত্তর লেখার জন্য আনুমানিক বেশ কিছু জায়গা ফাঁকা রেখে দেবে। কিপটামি করে কম জায়গা রাখবে না। বেশি করে জায়গা রেখে দেবে।
৮। সিরিয়াল ঠিক রাখতে গিয়ে শুরুতেই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে যাবে না। আগে যেটা পারবে সেটার উত্তর দেবে। বাকিগুলোর জন্য ফাঁকা জায়গা রেখে দেবে । পরে লিখবে।
৯। পরীক্ষার হলে একটু আগে আগে যাবা। রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এগুলো মাথা ঠান্ডা করে লিখবা। এক্সট্রা কাগজ নিলে সবগুলোতে রোল নম্বর লিখবে এবং সিরিয়াল নম্বরও লিখতে হবে। ফলে কাগজের সিরিয়াল এলোমেলো হবে না।
১০। রাফ করার দরকার পড়লে খাতার একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় রাফ করবে। প্রশ্নপত্রে, বেঞ্চে বা অন্য কোথাও রাফ করবে না। প্রয়োজনে এক্সট্রা কাগজ নিয়ে সেখানে রাফ করবে। সেলাই বা পিন মারার সময় এই কাগজও সঙ্গে দিবে কিন্তু। বাড়িতে নিয়ে যাবে না। যে যে কাগজে রাফ করেছ, তা খাতা জমা দেবার আগে একটানে কেটে দিবে।
১১। জেলজাতীয় কলম ব্যবহার করবে না। লেখা লেপ্টে যেতে পারে। পরীক্ষার হলে সাধারণত পেন্সিল, কালো বা নীল কালির কলম ছাড়া অন্য কালি দিয়ে লেখা যায় না। পরীক্ষা দিতে যাবার পূর্বে শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে নিবে কোন কোন কালির কলম ব্যবহার করা যাবে। ১ নং প্রশ্নের উত্তর, ক, খ, দুই সেট প্রশ্নের মাঝের নকশা ইত্যাদি নীল কালি দিয়ে লিখতে পারো। এতে প্রশ্নের উত্তরগুলো স্যারেরা সহজে আলাদা করতে পারবেন।
১২। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে বা কমন না পড়লে টেনশন করবে না। এই প্রশ্নের পেছনে সময় নষ্ট করবে না। টেনশন করলে বা সময় নষ্ট করলে বাকিগুলার উত্তরও ঠিকভাবে লিখতে পারবে না।
১৩। পরীক্ষার হলে পর্যাপ্ত কলম, পেন্সিল, স্কেল, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর নিয়ে যাবে। সঙ্গে স্যারদের অনুমতি নিয়ে পানির বোতল, বিস্কুট, কলা, কেক ইত্যাদি রাখতে পারো। পরীক্ষার মধ্যে পেটে খাবার থাকলে মাথা ভালো কাজ করবে। দ্রুত লেখার শক্তিও পাবে।
১৪। সব প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করবে। পুরোটা না পারলেও কিছুটা এগিয়ে দিয়ে আসবে, স্যারেরা যেন নম্বর দেবার জায়গা পায়।
স্যাম্পল খাতা
১ নং প্রশ্নের উত্তর[1]
(ক)
আমার নাম আব্দুল্লাহ।
(খ)
আমার নাম আব্দুল্লাহ। আমি একজন ছেলে।
(গ)
[যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা রেখেছি। পরে লিখব।]
(ঘ)
আমার নাম আব্দুল্লাহ। আমি একজন ছেলে। আমি ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেবো। ইত্যাদি ইত্যাদি।
***
২ নং প্রশ্নের উত্তর
(ক)
আমার নাম নাওয়ার।
(খ)
আমার নাম নাওয়ার। আমি একজন মেয়ে।
(গ)
আমার নাম নাওয়ার। আমি একজন মেয়ে। আমি আমার আব্বুর খুব আদরের মেয়ে।
(ঘ)
আমার নাম নাওয়ার। আমার ছোট ভাইয়ের নাম ফারিস। আমরা মুসলিম। আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। আমাদের জীবনের চেয়েও বেশি।
***
[1] নীল কালি দিয়ে অথবা কালো কালি দিয়ে লিখে নীচে নিল কালি দিয়ে দাগ দেবে।
ফেলটুস থেকে টপার (৩য় পর্ব)
By রাহাত হোসেন
বাসে উঠেছি।
মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে ঘাটারচর যাব। কিন্তু বাসে কোনো খালি সিট চোখে পড়ছিল না। ড্রাইভারের পিছনে দুই সিটের একটা সিট খালি দেখে এগিয়ে গেলাম। একটু সরে আমাকে জায়গা দিতে গেলেন এক যুবক। আরে, আবদুল্লাহ (ছদ্মনাম) ভাই যে!
আমি যে বাসায় থাকি, সে বাসার কেয়ারটেকার ছিলেন আবদুল্লাহ ভাই। ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। দুই সন্তানের বাবা তিনি। বড় ছেলে এবার হাফেজ হচ্ছে। মেয়েটাকেও মাদরাসায় দিয়েছেন। সিঁড়ির পাশে একরুমের একটা ঘরে থাকতেন। একপ্রকার যাযাবরের মতো।
সংসার বড় হচ্ছে দিনদিন। বাচ্চাগুলোও বড় হচ্ছে। তাদের লেখাপড়ার খরচ। ব্যয় বাড়ছে দিনদিন। কিন্তু বেতন বাড়ছে না। এভাবে তো আর চলে না। আবার একরুমের এই ঘরে থাকাও যাচ্ছে না। তাই তিনি ভিন্ন ফিকির করলেন।
ব্যবসা করতে চাইলেন। কিন্তু অল্প পুঁজিতে কী আর ব্যবসা করা যায়! সিদ্ধান্ত নিলেন, অল্প পুঁজি দিয়েই ব্যবসা শুরু করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি চাকরিটা ছেড়ে দিলেন। পাশের এলাকায় দুই রুমের একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেন। আল্লাহর নাম নিয়ে ব্যবসায় লেগে গেলেন।
ধানমণ্ডিতে তিনি ভ্যানগাড়িতে ডাবের ব্যবসা শুরু করলেন। একজন ডাবের আড়তদারের কাছ থেকে ডাব, দা ও ভ্যান- সব আনেন। সারাদিন বেচাবিক্রি করে আড়তদারকে মূল পাওনাটা বুঝিয়ে দিয়ে লাভ নিয়ে রাতে বাসায় ফেরেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
: আনুমানিক কত টাকার ডাব বিক্রি করেন?
: চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার।
: এখানে আপনার লাভ হয় কত?
: দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
আমি হিসাব করলাম, রোজ গড়ে দুই হাজার টাকা লাভ করলে মাসে বেচারার ইনকাম ৬০ হাজার টাকা। এই টাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকা শহরে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে গেলে অনায়াসেই চলে যাবে। এমনকি মাস শেষে কিছু সেভিংসও রাখা যাবে।
কোথায় বেচারার ১২ হাজার টাকার বেতন, আর কোথায় ৬০ হাজার টাকার ইনকাম! মাত্র একমাস আগেও যে লোকের বেতন ১২ হাজার টাকা, একমাসের ব্যবধানে সেই লোলের ইনকাম ৬০ হাজার টাকা! সবই চেষ্ট, হিম্মত ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের কারিশমা। তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকলে ১২ হাজারের কোঠাতেই পড়ে রইতেন!
-
আল্লাহ তাআলা কুরআনের সুরা হুদ এর ৬ নং আয়াতে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, জমিনে বিচরণশীল প্রত্যেক প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। তাই বলে রিযিক ঘরে আসার আশায় বসে থাকতে নেই। তালাশ করতে হবে। তালাশ না করলে রিযিক তার জায়গাতেই আটকে থাকবে।
এক হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষকে তার মৃত্য যতটুকু তালাশ করে, তারচেয়েও বেশি তাকে তালাশ করে তার রিযিক। (জামেউস-সাগির : ২৫১০) এই তালাশের অর্থ এটা নয় যে, আপনি বসে থাকবেন; রিযিকই আপনাকে তালাশ করে নেবে।
দেখুন, জমিনে বিচরণশীল প্রাণীর মধ্যে গর্তের পিঁপড়া থেকে নিয়ে বনের হাতিরও রিযিকের জিম্মাদারি নিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। তাই বলে তো আর পিঁপড়া গর্তে বসে থাকে না। হাতিও বনের ঝোঁপে বসে থাকে না। পাখিও গাছের ডালে বসে থাকে না। সব প্রাণীই দিনভর ছুটোছুটি করে। পাখি তো ভোর হতেই পোকামাকড়ের তালাশে বেরিয়ে যায়!
রিযিক ওইদিক থেকে আপনাকে তালাশ করছে ঠিক; কিন্তু এদিক থেকে আপনাকেও রিযিককে তালাশ করতে হবে। দুইদিকের তালাশ যখন দুইদিক থেকে এসে একজায়গায় মিলন ঘটবে, তখনই শুরু হবে বারাকাহর ফুলঝুরি।
হ্যাঁ, কিছু রিযিক এমন আছে, যা আপনার চেষ্টা ছাড়াই হাতে চলে আসবে। এই কিসিমের রিযিক এভেইলেবল না। এমন অপ্রত্যাশিত রিযিকের সারপ্রাইজ আসলে খুবই কম হয়ে থাকে মানুষের জীবনে। আল্লাহ যে কোনো ওয়াসিলা ছাড়াও রিযিক দিতে পারেন, সেটা বোঝাতেই মাঝেমধ্যে এমন সারপ্রাইজড রিযিক দেন।
কিন্তু বিশ্বজগতে আল্লাহর নেজাম (রীতি) হলো বান্দা-ই রিযিক তালাশ করে নেবে। এভাবেই সে তার জন্য বরাদ্ধ রিযিকের নাগাল পাবে। আল্লাহ সাধারণত তার নেজাম এর ব্যত্যয় করেন না। আর এজন্যই তো দুনিয়ার সব মানুষ ঘরে বসেই রিযিক পেয়ে যাচ্ছে না।
আপনার রিযিকের তালাশ আপনিই করুন। ছাপ্পর ফাইড়া কিছু আসার দিবানিশি স্বপ্ন বাদ দিন। তবেই রাতারাতি ১২ হাজার বেতন থেকে আপনার ইনকাম ৬০ হাজারে পৌঁছাবে ইনশাআল্লাহ।
16/10/2025
লাইফ ফ্যান্টাসি
কলেজের সেই দুরন্ত সময়ে বিপ্লবের এক শিহরণ নিয়ে 'থ্রি ইডিয়টস" মুভিটা দেখেছিলাম। তুখোড় মেধাবি এক ছেলে রানচোড় দাস একের পর এক সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের চিন্তাচেতনার ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু একসময় আমি আবিষ্কার করলাম, এর সবকিছুই বাস্তবতা বিবর্জিত একটি গল্পের স্ক্রিপ্ট মাত্র। ছবির স্ক্রিপ্ট যিনি লিখেছেন তিনি এমন একজনকে দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের গল্প সাজিয়েছেন যে অনাথ, তার বাবা-মা নেই, পরিবার নেই, পিছুটান নেই, দায়িত্ব নেই, পরিবারের হাল ধরার টেনশন নেই। লেখক কেন সমাজ পরিবর্তনের জন্য রাজু দাস্তগির কিংবা ফারহান কোরেশিকে বেছে নেননি? কারণ এদেরকে বেছে নিলে ছবির স্ক্রিপ্টটা হতো না, তাহলে আমাদেরকে ফেস করতে হতো বাস্তবতা। কারণ এদের পরিবার আছে, ঘরে অসুস্থ বাবা আছে, অবিবাহিত বোন আছে, দায়িত্ব আছে, পিছুটান আছে।
কলেজের সেই সময়টাতে, যখন মনে হতো হাওয়ায় ভাসছি, আর দশজনের মত আমারও মনে হতো, রানচোড় দাসের মত জীবনই আমাদের বেছে নিতে হবে। কিন্তু যতই সময় গেছে আমি উপলব্ধি করেছি রানচোড় দাস বাস্তবে এক্সিস্ট করে না। সারারাত হাসপাতালে ঘুমিয়ে হঠাৎ মনে পড়ল আজ সকালে ফাইনাল এক্সাম, দৌড়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে এসে প্রথম হওয়া বাস্তবে যায় না। আমি আরও বুঝেছি দায়িত্ব কর্তব্য, পিছুটানহীন রানচোড় দাসদের দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হয় না। ছবিতে হয়, বাস্তবে না।
খালি পায়ে হলুদ পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কল্পনার হিমু বাস্তবে এক্সিস্ট করে না। এখানে সবকিছু এত দুইয়ে দুইয়ে মিলে যায় না। শুধু বড় বড় কোটিপতি, পুলিশ, ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা কালতালীয়ভাবে হিমুদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয় না, হিমুদের জন্য অসম্ভব রুপবতী রুপারা কখনোই অপেক্ষা করে থাকে না। বরং প্রতিটা মানুষের একটি কপ্পনার জগৎ থাকে। বাস্তব জীবনের অপ্রাপ্তি, ইচ্ছে, শখ, বাসনা, কামনা এসবকিছু সে কল্পনার সেই অবাস্তব জগতে পূরণ করতে চায়, সেখানে সে তার ইচ্ছেমত চরিত্র তৈরি করে, যারা ভালো লেখে, তারা সেই জগতটাকে বইয়ের পাতায় নিয়ে আসতে পারে, আর মানুষ বোকার মত সেই কল্পনার জগতে ঢুকে পড়ে, যেটা অন্যের কামনা বাসনায় ভরপুর। নিজের বাস্তব জগত ফেলে তখন সে অন্যের তৈরি করা সেই মোহের জগতকেই আসল ভেবে বসে।
অশ্লীল, ইরোটিক কোনো মুভি নিয়ে সমালোচনা হলে নির্মাতারা একটা কমন ডায়লগ দেয়—"ঐ দৃশ্য তো স্ক্রিপ্ট ডিমান্ড ছিল।" শিল্প, আর্ট কপচানো আম জনতা ভাবে আরে তাইতো, স্ক্রিপ্ট তো এরকম একটা দৃশ্য ডিমান্ড করছিল! কিন্তু সেই স্ক্রিপ্ট লিখল কে, কেউ না কেউ তো লিখেছে। ডিমান্ডটা এখানে স্ক্রিপ্টের না, যে লিখেছে তার। সে তার কুৎসিত, কামনা আর লালসায় ভরা যে কল্পনার জগৎ তৈরি করেছে সেটাকেই "আর্ট" হিসেবে গ্রহণযোগ্য করেছে, নাম দিয়েছে "স্ক্রিপ্ট ডিমান্ড।" আজ আর্ট- শিল্প-সাহিত্য-জীবনমুখী ছবি-বাস্তবঘনিষ্ঠ দৃশ্য বলে যা চলছে, তার সবই কামনা আর বিকারগ্রস্থ কিছু মানুষের তৈরি করা একটি জগতমাত্র। এরকম কামনার দাস যারা আর্ট কপচাত, সম্প্রতি #মিটু আন্দোলনের বদৌলতে তাদের অনেকের আর্ট বের হয়ে এসেছে, বাস্তব জগতের নষ্টামি আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনটাকেই যে তারা ছবির মাধ্যমে সমাজে হজমযোগ্য করানোর চেষ্টা করেন, তারই প্রমাণ।
এভাবে বিনোদন, ছবি, গান, গল্প, উপন্যাস আমাদেরকে বাস্তবতা থেকে বের করে নিয়ে একটা মোহের জগতে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সেখানে আমাদের এই বাস্তব জগতে যে অপ্রাপ্তিগুলো, কামনা বাসনার তাড়না যা আমরা চরিতার্থ করতে পারছি না—তা সহজেই পাওয়া যায়। আর একসময় তা আমাদের এই বাস্তব জগতের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য আর করণীয় সম্পর্কে গাফেল করে দেয়।
সকল নবী-রাসূলগণকেই তাই আল্লাহ্ ওয়াহী দানের আগে এমন পরিস্থতিতে আর এমন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গেছেন, যেখানে বাস্তবতার সবগুলো পাঠ তাঁরা পেয়েছেন। আল্লাহ্ চাইলে নবী রাসূলগণকে অফুরন্ত অলৌকিক ক্ষমতা আর শক্তি দিয়ে সকল বিরুদ্ধ শক্তিকে ধূলোয় মিশিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তা হলে, তাঁদের অনুসারিরা মনে করত আল্লাহর রিসালত সেটা সাধারণ মানুষের জন্য না, এটা অবাস্তব, এটা শুধু যাদের বিশেষ ক্ষমতা আছে তাঁদের জন্য। কিন্তু আমাদের সকল নবী রাসূলই আর দশজনের মত বাস্তবতার এই জগতেই ছিলেন। তাঁরা রাখাল হয়েছেন, ব্যবসা করেছেন, খাওয়া দাওয়া করছেন, তাঁদের সন্তান ছিল, তাঁদেরও দুঃখ-কষ্ট ছিল, তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
তাই যারা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, যারা স্বপ্ন দেখে ন্যায়-সত্য-ইনসাফের এক সমাজব্যবস্থার, তাহলে তাদের প্রথমে কল্পনার ঐ জগৎ থেকে বের হতে হবে আর বাস্তবতার এই জগতে আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক উৎকর্ষতার স্তরে উন্নীত হতে হবে। ঠিক যেভাবে আমাদের প্রিয় নবীজি (সাঃ) এবং তাঁর সঙ্গী সাথিরা করেছেন। আর এভাবেই সমাজ পরিবর্তন হয়, অন্যায়, অবিচার সমাজ থেকে দূর হয়। আমাদের সঠিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, এই দুনিয়াতে আমাদের করণীয়—তখনই সামনে স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়। মোহের জগতে সাময়িক ফ্যান্টাসি হয়ত আছে, কিন্তু সেই জগতে যত বেশি উপরে উঠবেন ততই বিপদ, কারণ মাটির পৃথিবীতে নামার সময় তখন বেশি উপর থেকে আছড়ে পড়তে হয়, ব্যথাটা এতে বেশি, মৃত্যুও হতে পারে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Kushtia