Questions Synthesis
It's all right world all in all cleass Eaducation and General Knowledge Competitive Exams for Muslim
08/09/2022
নবীকে দেখবি যদি আয় রে আয়।
আলিফ দিয়ে টোকা মারো লাগবে গিয়ে
মীমের গায়,,
আজব এক সুরুত দেখিয়া,
আলিফ যায় রে নিখোঁজ হইয়া,
লামটি তখন যায় ফাটিয়া,
তখন তাহার কি উপায়,,
আলিফ পড়িয়া ফান্দে,
জারেজার হইয়া কান্দে,
পড়িয়া নিরানন্দে,
ধরে গিয়ে মীমের পায়,,
আলিফ যায় রে অসুখ হইয়া,
মীম গেল তার ডাক্তার হইয়া,
শুম্ভ রসের ঔষধ দিয়া,
আলিফ কে বাঁচাইয়া লয়,,
লালন ফকির সবার তরে,
কয় কামেল পীর মূর্শিদ ধরে,
চলে যাও মীম শহরে,
দেখো খোদা কারে কয়।।
কপি পোষ্ট ১০/৯/২২
08/09/2022
বিশ্ব যোনী এই প্রকৃতি
করেছে কোরানে বর্ণণা।।
সেখান থেকে সকল সৃষ্টি
অজ্ঞ লোকে বুঝে না।।
নারী হল বিশ্ব প্রকৃতি
আদ্যগুনের মহা শক্তি
এই নারীকে দিলে ভক্তি
সে পায় কুলের ঠিকানা।।
কোরানে বলেছে লুলুমারজান
সুরা আর রহমান
এক দরিয়ায় দুটি ধারা
মিঠা জল হয় লোনা।।
মহামায়া নারী শক্তি
চিনলে জীব পায় মুক্তি
যার ভিতরে পূর্ণ জ্যোতি
যারে বলে রতি সাধনা।।
পুরুষ হল বিন্দু জ্যোতি
নারীর ভিতর হয় উতপত্তি
পাগল বলে হয় দীপ্ত
কোটিতে গুটি একজনা।।
কোপি পোষ্ট ৮/৯/২২
27/03/2022
🔰মৃতরা কীভাবে বুঝতে পারে যে তারা মারা গেছে?
শুধু একটি অনুস্মারক ...
✅ "ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন!!!"
✅ মৃত ব্যক্তি বুঝতে পারে না যে সে শুরুতেই মারা গেছে। সে নিজেকে মৃত্যুর স্বপ্ন দেখছে, সে নিজেকে কাঁদছে, স্নান করছে, নিজেকে গাঁটছড়া করছে এবং কবরে যেতে দেখেছে।
✅ মাটিতে স্তূপ হয়ে গেলে তার মনে সবসময় স্বপ্ন দেখার ছাপ থাকে। তখন সে চিৎকার করে কিন্তু কেউ তার চিৎকার শুনতে পায় না।
✅ পরবর্তীতে, যখন সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং মাটির নিচে একা থাকে, আল্লাহ তার আত্মাকে পুনরুদ্ধার করেন। সে তার চোখ খোলে এবং তার "খারাপ স্বপ্ন" থেকে জেগে ওঠে। প্রথমে তিনি খুশি এবং কৃতজ্ঞ যে তিনি যা দিয়ে যাচ্ছিলেন তা কেবল একটি দুঃস্বপ্ন ছিল এবং এখন সে তার ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। তারপর সে তার শরীরকে স্পর্শ করতে শুরু করে, যা সবেমাত্র একটি কাপড়ে মোড়ানো হয়েছে, অবাক হয়ে প্রশ্ন করে;
"আমার শার্ট কোথায়, আমার অন্তর্বাস কোথায়?"
তারপর তিনি বলতে থাকেন: "আমি কোথায়, এই জায়গাটি কোথায়, কেন সর্বত্র ময়লা-কাদার গন্ধ, আমি এখানে কী করছি?"
✅ তারপর সে বুঝতে শুরু করে যে সে আন্ডারগ্রাউন্ড, এবং সে যা অনুভব করছে তা স্বপ্ন নয়! হ্যাঁ, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি সত্যিই মারা গেছেন।
তিনি যতটা সম্ভব জোরে চিৎকার করেন, ডাকেন: তার আত্মীয়রা যারা তার মতে, তাকে বাঁচাতে পারে:
"রাজাক...!!!!"
"ওইজা....!!!!"
"আব্দুল্লাহি....!!!!"
"খাদিজা....!!!!"
"আয়েশা....!!!!"
"উসমান....!!!!"
"আদম...!!!!"
কেউ তার উত্তর দেয় না। তখন তার মনে পড়ে যে এই মুহূর্তে আল্লাহই একমাত্র ভরসা। তিনি তাঁর জন্য কাঁদেন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার সময় তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন;
"ইয়া আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর ইয়া আল্লাহ...!!!
✅ সে এমন এক অবিশ্বাস্য ভয়ে চিৎকার করে যা সে তার জীবদ্দশায় আগে কখনো অনুভব করেনি।*
যদি সে একজন ভালো মানুষ হয়, হাস্যোজ্জ্বল মুখের দুইজন ফেরেশতা তাকে সান্ত্বনা দিতে বসবে, তারপর তার সর্বোত্তম সেবা করুন।
✅ যদি সে খারাপ লোক হয় তবে দুইজন ফেরেশতা তার ভয় বাড়িয়ে দেবে এবং তার কুৎসিত কাজ অনুযায়ী তাকে নির্যাতন করবে।*
হে আল্লাহ, আমার গুনাহ এবং আমার মা, বাবা, স্বামী, সন্তান এবং আমার সমস্ত পরিবার এবং বন্ধুদের গুনাহ মাফ করুন।
➡️ইসলামের ভাই ও বোনেরা, এখানে আপনার দুটি বিকল্প আছে:
#1 এই সামান্য জ্ঞান শুধুমাত্র এখানে পড়া যাক এবং কিছুই হবে না.
#2 আপনার পরিবারের জন্য প্রার্থনা
ইয়া আল্লাহ, আমার জীবন কেড়ে নেবেন না যতক্ষণ না আমি আমার সেরা এবং আপনার সাথে দেখা করার জন্য প্রস্তুত
[আমিন]👏৬/১/২২কপি পোষ্ট
#গরম পানির উপকারিতাঃ
একদল জাপানি চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন যে কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে গরম পানি ১০০% কার্যকরঃ
০১. মাইগ্রেন
০২. উচ্চ রক্তচাপ
০৩. নিম্ন রক্তচাপ
০৪. জয়েন্ট এর ব্যথা
০৫. হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি এবং হ্রাস
০৭. কোলেস্টেরলের মাত্রা
০৮. কাশি
০৯. শারীরিক অস্বস্তি
১০. গাটের ব্যথা
১১. হাঁপানি
১২. কাশি
১৩. শিরায় বাধা
১৪. জরায়ু ও মূত্র সম্পর্কিত রোগ
১৫. পেটের সমস্যা
১৬. ক্ষুধার সমস্যা
১৭. মাথা ব্যথা
*কীভাবে গরম পানি পান করবেন?*
নিয়মিত রাত ১০-১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে প্রায় ২ গ্লাস গরম পানি পান করতে হবে, প্রথম দিকে ২ গ্লাস পানি পান করতে সক্ষম নাও হতে পারে কেউ তবে আস্তে আস্তে এটি করতে পারবে।
*বিঃদ্রঃ: গরম পানি পান করার পরে ৪৫ মিনিট কোনো কিছুই খাওয়া যাবে না।*
গরম পানি থেরাপি যুক্তি সঙ্গত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির সমাধান করবে, নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো : -
৩০ দিনের মধ্যে ডায়াবেটিস
৩০ দিনের মধ্যে রক্তচাপ
১০ দিনের মধ্যে পেটের সমস্যা
০৯ মাসের মধ্যে সমস্ত ধরণের ক্যান্সার
০৬ মাসের মধ্যে শিরার বাধার সমস্যা
১০ দিনের মধ্যে ক্ষুধা জাতীয় সমস্যা
১০ দিনের মধ্যে জরায়ু এবং এর সম্পর্কিত রোগগুলি
১০ দিনের মধ্যে নাক, কান এবং গলার সমস্যা
১৫ দিনের মধ্যে মহিলাদের সমস্যা
৩০ দিনের মধ্যে হৃদরোগ জাতীয় সমস্যা
০৩ দিনর মধ্যে মাথা ব্যাথা / মাইগ্রেন সমস্যা
০৪ মাসের মধ্যে কোলেস্টেরল সমস্যা
০৯ মাসের মধ্যে মৃগী এবং পক্ষাঘাত সমস্যা
০৪ মাসের মধ্যে হাঁপানি সমস্যা
*ঠান্ডা পানি পান করা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে! যদি অল্প বয়সে ঠাণ্ডা পানি প্রভাবিত না করে, তবে এটি বৃদ্ধ বয়সে ক্ষতি করবেই।*
*ঠান্ডা পানি হার্টের ৪টি শিরা বন্ধ করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়। হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণ হ'ল কোল্ড ড্রিঙ্কস।
*এটি লিভারেও সমস্যা তৈরি করে। এটি লিভারের সাথে ফ্যাট আটকে রাখে। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের অপেক্ষায় থাকা বেশিরভাগ মানুষ ঠান্ডা পানি পান করার কারণে এর শিকার হয়েছেন।
*ঠান্ডা পানি পেটের অভ্যন্তরীণ দেয়ালকে প্রভাবিত করে। এটি বৃহত অন্ত্রকে প্রভাবিত করে এবং ফলস্বরূপ ক্যান্সারে রুপ নেয়।
*দয়া করে এই তথ্যটি নিজের কাছে রাখবেন না কাউকে বলুন, এটি কারওর জীবন বাঁচাতে পারে।*
সংগৃহীতঃ26/11/21
জাপানি ডাঃ মেনসাহ-আসরের লেখা হতে।
চিরমুক্তি সূর্য ধারা ★ সূর্য অবয়বে নিজের চেহারা পরম আত্মা দর্শন করলে চিরমুক্তি বলা হয়। ★ পূর্ণ জন্ম হয় কি ভাবে চন্দ্র ধারা ২৪ চন্দ্র ★ নিজের পীর গুরু রুপে এবং আপনার চেহারা পূর্ণ চন্দ্র রুপে নিজের অবয়ব চেহারা দর্শন করলে আপনার পূর্ণ জন্ম হয়। ★ মানব রুপ বা মানবী রুপ ★একজন মানব মানবী শুধু মানব রুপ পেতে বা মানবী রুপ পেতে পশু জীব আত্মা কুলশিত মুক্ত হতে হয় ও বীর্যের শুক্রকীট মুক্ত হতে হয় ও নিজ দেহের রক্ত পরিশুদ্ধ হলে মানব রুপ বলা হয় বা মানবী রুপ বলা হয়।
মানব জাতি সবচে বড় ধোকায় পড়ে সাধনার একটি পর্যায় কালো রুপ দেখে প্রভু মনে করে আসলে চন্দ্রের একটি রুপ কালো আর চন্দ্র পূর্ণিমা হলে আলোকিত হয়।
দেহের বিভিন্ন আলো দেখে প্রভু বলা ভুল।
সূর্য অবয়বে চেহারায় পরম আত্মা বলা হয় কারন পরম আত্মা সয়ং প্রভু মুল কনা হতে সৃষ্টি সয়ং প্রভুর আকারে।
একজন পুরুষ ১৬টি নিজ স্বরুপ পার হবার পরে সয়ং পরম আত্মা দর্শন করেন এবং একজন নারী ৯টি স্বরুপ দর্শন করার পরে পরম আত্মা দর্শন করেন।
10/11/21
03/10/2021
কি?
হায়াতঃ শরীরের সাথে ৪ মাস পর রূহের সংযোগকে হায়াত বলা হয়।
মউতঃ মৃত্যুর সময় শরীর থেকে রূহ্ বিচ্ছিন্ন হয়ে বরযখ জগতে প্রস্থান করাকে মউত বলা হয়। আরবী ইবারত নিম্নে-
(الموت لیس بعدم محض وانما ھو انتقالہ من حال الی حال او الانتقال من دار الی دار)۔
অর্থঃ “অনস্তিত্ব বা বিলীন হয়ে যাওয়ার নাম মউত নয়। মউত হলো রূহের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় প্রস্থান করা। অর্থাৎ- এক জগত থেকে অন্য জগতে প্রস্থান করার নাম”।
বুঝা গেল- শরীর এবং রূহ্ দুই জিনিস। মাতৃগর্ভে প্রথমে ১২০ দিনে শরীর তৈরী হয়। তারপর রূহের আগমন হয়। শরীর হচ্ছে পার্থিব বস্তুতে তৈরী, কিন্তু রূহ্ পার্থিব বস্তু নয়- সে অন্য জগতের বাসিন্দা। মৃত্যুর সময় রূহ্ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য জগতে গমন করলেও শরীরের সাথে তার একটি কানেকশন বা যোগাযোগ সর্বদাই থাকে। এজন্যই কবরে মৃতব্যক্তি পূনর্জীবিত হয়, মুনকার-নকীরের প্রশ্নের জবাব দেয় এবং নেক্কার ব্যক্তি বেহেস্তের শান্তি ভোগ করতে থাকে; আর বদকার ব্যক্তি আযাব ভোগ করতে থাকে।
শরীর থেকে রূহ্ বিচ্ছিন্ন হয়েও আল্লাহর নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন- শহীদগণ, সিদ্দীকগণ এবং নবীগণ। তার প্রমাণ নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো।
১। আল্লাহ্পাক শহীদগণ সম্পর্কে এরশাদ করেন-
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ
“তোমরা শহীদগণকে মৃত বলোনা; বরং তাঁরা জীবিত- কিন্তু তোমরা বুঝনা” (সুরা বাক্কারা-১৫৪ আয়াত)।
وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاء عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ - فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُواْ بِهِم
“তোমরা শহীদগণকে মৃত বলে ধারণাও করোনা; বরং তাঁরা জীবিত এবং আল্লাহর নিকট তাঁরা রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহর দানে তাঁরা আনন্দিত এবং তাঁদের সাথে যারা এখনও মিলিত হয়নি- তাঁদেরকে শহীদরা সু-সংবাদ প্রদান করে থাকে” (আলে-ইমরান-১৬৯-৭০ আয়াত)।
দ্বিতীয় আয়াতে বর্ণিত রিযিকপ্রাপ্তি, আনন্দিত হওয়া ও সু-সংবাদ প্রদান করা- ইত্যাদি জীবিত লোকদেরই গুণাবলী। শহীদগণ মর্যাদার ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্যায়ের। তৃতীয় পর্যায়ভূক্ত হয়ে যদি শহীদগণ জীবিত বলে প্রমাণিত হয়- তাহলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সিদ্দীকগণ এবং প্রথম পর্যায়ের নবীগণ যে স্ব স্ব রওযাতে জীবিত আছেন- তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
২। বিশুদ্ধ রেওয়ায়াতে রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আম্বিয়ায়ে কেরামের শরীর সম্পর্কে এরশাদ করেছেন-
ان الارض لا تاکل اجساد الانبیاء وفی روایۃ الطبرانی البیهقی و نبینا حی یرزق
“নিশ্চয়ই এই যমীন আম্বিয়ায়ে কেরামের দেহ মোবারক খেয়ে হজম করতে পারেনা”। তাবরাণী ও বায়হাকীর বর্ণনায় আছে- “আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ) হায়াতুন্নবী এবং রিযিকপ্রাপ্ত”।
বিঃ দ্রঃ লা-মাযহাবীদের নেতা ইসমাঈল দেহলবী এবং এদেশীয় কিছু ওহাবী তাদের পুস্তকে লিখেছে- “ নবীজী মরে, পঁচে, গলে মাটির সাথে মিশে গেছেন” (তাকভিয়াতুল ঈমান)। তারা বলে- “শহীদগণই জীবিত- নবী ও সিদ্দীকগণ জীবিত নন”। তারা দলীল হিসাবে বলে- “যেহেতু কোরআন মজিদ নবী ও সিদ্দিকগণকে সরাসরি জীবিত বলেনি- তাই তারা জীবিত নন”। তাদের এই যুক্তিটি মনগড়া। কেননা, শহীদগণ তৃতীয় স্তরের মর্যাদা সম্পন্ন হয়ে যদি জীবিত হন- তাহলে সিদ্দিক ও নবীগণের জীবিত থাকার পৃথক প্রমাণের কোনই প্রয়োজন করেনা। হাদীস শরীফে তো কোরআনের ব্যাখ্যাই উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি নবীবিদ্বেষের সুষ্পষ্ট প্রমাণ।
এরূপ প্রামাণিক দলীলকে দালালাতুন নছ বলা হয়। সূতরাং, কোরআনের ইবারাতুন্ নছ দ্বারা শহীদগণ এবং দালালাতুন নছ দ্বারা নবী ও সিদ্দীকগণের অক্ষত শরীর ও হায়াত প্রমাণিত।
৩। অন্যান্য নবীগণ মি’রাজের রাত্রে বায়তুল মোকাদ্দাসে সশরীরে আমাদের প্রিয় নবীজীর পিছনে মোক্তাদী হয়ে জামাআতের সাথে নামায আদায় করেছিলেন বলে সহী বোখারীতে প্রমাণ আছে। নামায পড়তে হলে অষ্ট অঙ্গের প্রয়োজন হয়- দুই হাত, দুই পা, দুই হাঁটু, নাক ও কপাল- সর্বমোট ৮টি অঙ্গ দ্বারা নামায আদায় করতে হয়। এটাও নবীগণের সশরীরে জীবিত থাকার প্রমাণ বহন করে।
বুঝা গেল- নবীগণের রূহ্ মোবারক কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হলেও পরে তা ফেরত দেয়া হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের আনুমানিক ৪০ ঘন্টা পর মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাত্রে রওযা মোবারকে শয়ন করার পর আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর পবিত্র রূহ্কে দেহ মোবারকে ফিরত দিয়েছেন। (তকিউদ্দীন সুবুকীর শিফাউস সিকাম এবং জালালুদ্দীন সুয়ুতির আল-হাভী লিল ফতোয়া দ্রষ্টব্য)।
৪। আবু দাউদ শরীফে হুযুর (ﷺ) -এর রূহ্ মোবারক ফেরত দেয়া সম্পর্কে হুযুর (ﷺ) এরশাদ করেছেন-
مامن مسلم یسلم علی الا رد اللّٰہ علی روحی حتی ارد علیہ السلام ۔
ইমাম সুয়ুতি এই হাদীসের অনুবাদ এভাবে করেছেন- “যেকোন মুসলমান আমাকে ছালাম করলে আমি তার সালামের সরাসরি জবাব দেই। কেননা, আল্লাহ্ তায়ালা আমার রূহ্কে পূর্বেই আমার শরীরে ফিরত দিয়েছেন” (আল হাভী)। رد اللّٰہ শব্দটি অতীত কালের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
উপরে বর্ণিত হাদীস সমূহের দ্বারা ষ্পষ্ট এবং সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলো যে, নবীগণের ইন্তিকালের অর্থ হলো- তিনিরা লোকচক্ষুর অন্তরালে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। তিনিরা জীবিত ও অস্তিত্ববান রয়েছেন- যদিও আমরা তাঁদেরকে দেখতে পাইনা। যেমন- ফিরিস্তাদের অস্তিত্ব রয়েছে, তাঁরা আমাদের কাঁধে আছেন- অথচ আমরা তাঁদেরকে দেখতে পাইনা। তাই নবীগণের অস্তিত্বের অবস্থা হলো ফিরিস্তাদের অস্তিত্ব ও অবস্থার ন্যায়। কিয়ামত পর্যন্ত তাঁরা অস্তিত্ববান থাকবেন। যখন ইসরাফীল শেষ সিঙ্গায় ফুঁক দিবেন- তখন জীবিতরা মরে যাবে- কিন্তু নবীগণ শুধু সাময়িক হুঁশহারা হবেন। তৃতীয়বার সিঙ্গায় ফুঁক দিলে অন্যান্যরা পূণর্জীবিত হবে এবং নবীগণ সম্ভিত ফিরে পাবেন। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ্পাক কোরআন মজিদে এরশাদ করেছেন-
فاذا نفخ فی الصور (نفخۃ الصعق والموت) فصعق من فی السموات والارض الامن شاء اللّٰہ۔
অর্থাৎ- “যখন পুনরুত্থানের উদ্দেশ্যে সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে- তখন আসমান যমীনের সব জীবিত প্রাণী মরে যাবে, কিন্তু আল্লাহ্ যাদেরকে ইচ্ছা করেন- এ অবস্থা থেকে রক্ষা করবেন”। (নবীগণের পূনঃ মৃত্যু হবেনা। তাঁরা শুধু বেহুঁশী অবস্থা থেকে সম্বিত ফিরে পেয়ে বোরাকে চড়ে হাশরে যাবেন- কিতাবুর রূহ্)।
৫। বুখারী ও মুসলিম শরীফে আমাদের প্রিয় নবীজীর সম্বিত ফিরে পাওয়া ও হাশরে গমন করা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
فأكون أول من يفيق» فنبينا أول من يخرج من قبره قبل جميع الناس إلا موسى . فإنه حصل فيه تردد هل بعث قبله من غشيته أو بقى على الحالة التى كان عليها قبل نفخة الصعق الصور مفیقا لانہ حوسب بصعقۃ یوم الطور ۔
অর্থাৎ- নবী করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন- “শেষ সিঙ্গার ফুঁৎকারের সময় আমিই সর্বপ্রথম সম্বিত ফিরে পাবো”। আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ) সবার পূর্বে রওযাপাক থেকে বের হয়ে হাশর ময়দানে গিয়ে দেখতে পাবেন- হযরত মুছা আলাইহিস সালাম আরশের পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন নবী করিম (ﷺ) দ্বিধায় পড়ে যাবেন- হযরত মুছা (আঃ) কি হুযুরের পূর্বে হুঁশপ্রাপ্ত হয়েছেন- নাকি শেষ সিঙ্গায় ফুঁৎকারের পূর্ব থেকেই সুস্থির অবস্থায় ছিলেন। কেননা, তুর পর্বতের ঘটনার সময় তিনি আল্লাহর নূরের তাজাল্লী দেখে একবার বেহুঁশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। এজন্যই হয়তো আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে বেহুঁশী থেকে রক্ষা করেছেন। (তাযকিরাহ্)
৬। অন্য রেওয়ায়াতে হযরত কা’ব আহ্বার (রাঃ) বলেন- প্রতিদিন নিত্যনতুন এক লক্ষ চল্লিশ হাজার ফিরিস্তা এসে রওযা শরীফে দাঁড়িয়ে নূরের পাখা বিছিয়ে দিবারাত্রি শুধু ﷺ শরীফ পড়তে থাকেন। এভাবে কিয়ামত পর্য্যন্ত চলবে। শেষ সিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার পর সত্তর হাজার ফিরিস্তা বোরাক নিয়ে এসে নবীজীকে বোরাকে চড়িয়ে মিছিল সহকারে প্রিয় মাহবুবের দরবারে হাশরে নিয়ে যাবেন (মিশকাত বাবুল কারামাত)।
ব্যাখ্যা- এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে। তা হলো- প্রথম সিঙ্গার ফুঁৎকারে সমস্ত নবীগণ বেহুঁশ হবেন এবং শেষ সিঙ্গার ফুঁৎকারে সম্বিত ফিরে পেয়ে হাশরে যাবেন। কিন্তু মুছা আলাইহিস সালাম একমাত্র ব্যক্তি- যিনি ঐদিন বেহুঁশ হবেন না। তাহলে তিনি কি আমাদের নবীর উপরেও মর্যাদাবান?
উত্তর হলো- বেহুঁশ হওয়ার ঘটনা পূর্বে একবার মুছা নবীর উপর ঘটেছিল- যখন তিনি তুর পাহাড়ে আল্লাহর নূরের তাজাল্লী দেখে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তাই তাঁকে হাশরের দিনে দ্বিতীয়বার পূনঃ বেহুঁশ করবেন না- বরং তিনি সম্বিত অবস্থায় আমাদের নবীজীর পূর্বেই হাশরে গিয়ে আরশের পায়া ধরে দাঁড়িয়ে থাকবেন। এটা তাঁর বিরাট মর্যাদা- তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা আংশিক মর্যাদা। সার্বিক মর্যাদা হলো আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য।
হায়াত-মউতের স্বরূপ
==========
হাদীস শরীফে হায়াতের স্বরূপ বলা হয়েছে ঘোড়ায় ন্যায় এবং মউতের স্বরূপ বলা হয়েছে সাদাকালো ডোরাকাটা খাসীর ন্যায়। বিচারের পর বেহেস্ত ও দোযখের মধ্যখানে পুলসিরাতের উপর মউতকে ডোরাকাটা খাসীর সুরতে যবেহ্ করে খতম করে দেয়া হবে। এরপর থাকবে শুধূ হায়াত।
যখন মউতকে كبش املح বা সাদাকালো ডোরাকাটা খাসীর সুরতে পুলসিরাতের উপর আনা হবে- তখন আমাদের প্রিয়নবীর সামনে হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালাম, মতান্তরে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উক্ত ছাগলটিকে যবেহ্ করবেন। দোযখবাসী ও জান্নাত বাসীদেরকে তখন বলা হবে- ”এখন আর মউত নেই। চিরদিন হায়াতে থেকে যার যার কর্মফল ভোগ করতে থাকো”। কিতাবের শেষের দিকে আরবীসহ বিস্তারিত বয়ান করা হবে।
মউত কেমন?
=======
১। মউত সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দিয়েছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। যখন আদম আলাইহিস সালামের প্রথমপুত্র হাবিল বিবাহ সংক্রান্ত ব্যাপারে নিজভ্রাতা ক্বাবিলের হাতে শহীদ হলেন- তখন হযরত আদম (আঃ) এ সংবাদ হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে জানালেন। তখন পর্য্যন্ত মউত সম্পর্কে হযরত হাওয়ার কোন ধারণা ছিলনা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- وما الموت অর্থাৎ- মউত কি ও কেমন?
হযরত আদম আলাইহিস সালাম বল্লেন - لا یاکل ولا یشرب والا یقوم ولا یقعد
অর্থাৎ “মউত হলো- তখন খানাপিনা ও উঠাবসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন নড়াচড়াও করতে পারেনা”।
একথা শুনে হযরত হাওয়া (আঃ) চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলেন। তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম বল্লেন-
علیک الرنۃ وعلی بناتک ، وانا وبنی منھا براء
অর্থাৎ- “তুমি এবং তোমার পরবর্তী মেয়ে সন্তানদের উপর রইলো রোনাজারি করার স্বভাব। আমি এবং আমার পরবর্তী ছেলে সন্তানরা রোনাজারি হতে মুক্ত”। (হাকীম তিরমিযি তাঁর নাওয়াদিরুল উছুল গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদার (তাবেয়ী) সূত্রে এই বর্ণনাটি দিয়েছেন)।
মানব ইতিহাসে হাবিলের শাহাদাত-ই ছিল প্রথম মউত। তাই বিবি হাওয়াকে সরলভাবে বুঝানোর জন্য হযরত আদম (আঃ) এভাবে উদাহরণ দিয়ে মউতের অবস্থা বুঝিয়েছিলেন- হাকীকত সম্পর্কে নয়।
২। আল্লাহর বন্ধুগণের জন্য মউত হলো আল্লাহর সাথে মিলনের সেতু
এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু আবদুল্লাহ কুরতুবী তাঁর তাযকিরাহ্ গ্রন্থে আরো একটি ঘটনা এভাবে উল্লেখ করেছেন-
وروی ان ملک الموت علیہ السلام جاء الی ابراھیم علیہ السلام خلیل الرحمن عزوجل لیقبض روحہ۔ فقال ابراھیم علیہ السلام یا ملک الموت ھل رأیت خلیلا یقبض روح خلیلہ ؟ فعرج ملک الموت علیہ السلام الی ربہ فقال : قل لہ ھل رأیت خلیلا یکرہ لقاء خلیلہ؟ فرجع فقال اقبض روحی الساعۃ ۔ وقال ابو الدرداء ص مامن مؤمن الا والموت خیر لہ ۔ فمن لم یصدقنی فان اللّٰہ تعالی یقول وما عند اللّٰہ خیر للابرار۔ وقال حبان بن الاسود الموت جسر یوصل الحبیب الی الحبیب۔ التذکرۃ صفحۃ ۰۱
অর্থ- (ইমাম কুরতুবী বলেন)- “বর্ণিত আছে- মালাকুত মউত (আযরাঈল আলাইহিস সালাম) হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কাছে তাঁর জীবনের শেষ মহুর্তে রূহ্ কব্জ করতে আসলো। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) একথা শুনে বল্লেন- হে মালাকুল মউত! তুমিই বলো- কোন একান্ত বন্ধু কি আপন বন্ধুর রূহ্ কব্জ করতে পারেন? একথা শুনে আযরাঈল (আঃ) ফিরে গিয়ে আল্লাহর কাছে আরযি দিলেন। আল্লাহ্ বল্লেন- তুমি গিয়ে আমার খলীল (একান্ত প্রাণ উৎসর্গকারী) বন্ধুকে বলো- “আপনিই বলুন- কোন বন্ধু কি আপন ঘনিষ্ট বন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে আপত্তি করতে পারে”? আযরাঈল ফিরে এসে একথা শুনালে হযরত ইবরাহীম (আঃ) ভাবোন্মত্ততায় বলে উঠলেন- “তাহলে দেরী না করে এই মুহুর্তেই আমার রূহ্ কব্জ করো” (এবং আমাকে বন্ধুর সান্নিধ্যে পৌঁছিয়ে দাও)”।
এটা ছিল প্রেমাস্পদের সাথে মিলনের উদ্দেশ্যে মউত কামনা করা। এটা অতি উত্তম। হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন- “যেকোন মুমিনের কাছে মৃত্যুই তাঁর জন্য উত্তম”। (কেননা, এর দ্বারা সে মাহবুবে হাকিকীর সাথে মিলনের সুযোগ পায়)। হযরত আবু দারদা (রাঃ) বলেন- “কেউ যদি আমার কথা সত্য মনে না করে- তাহলে সে যেন আল্লাহর এই বাণী পড়ে নেয়- “আল্লাহর দরবারে যেসব নেয়ামত ও পুরস্কার রয়েছে- তা নেক্কারদের জন্য অতি উত্তম”। (সুরা আলে ইমরান ১৯৮ আয়াত)।
হাইয়ান ইবনে আসওয়াদ (রহঃ) বলেছেন- “মউত হলো সেতুবন্দ স্বরূপ- যা এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুর কাছে পৌঁছিয়ে দেয়”। (তাযকিরাহ্ ১০ পৃঃ)
সুতরাং কোন কোন ক্ষেত্রে প্রেমাকর্ষণে মৃত্যু কামনা করা অতি উত্তম। বুঝা গেলো- দুনিয়ার ঝামেলায় মৃত্যু কামনা করা জায়েয নেই। ঈমান রক্ষা করা কিংবা বন্ধুর সাথে মিলনের আকাংখায় মৃত্যু কামনা করা যেতে পারে।
৩/১০/২১
তিন ইঞ্চি নদী কি???
সাড়ে তিন হাত নৌকা কি????
ভোলা মন ও ও ও ও
মন , মনরে মন আমার
ও দুটি মাংস পিন্ড লন্ড ভন্ড
করিল এই সোনার দেশ
তিন ইঞ্চি নদীতে পড়ে ,
সাড়ে তিন হাত নৌকা শেষ।
সেই নদীর মাঝখানে ভাই তিন কোনা এক চর,
কামিনী বাঘিনী নাচে চরের ও উপর ।
জীবের যাওয়া আসা নদীর ভিতর,
স্বর্গ নরক দুঃখ ক্লেশ ।
সেই নদীটির চৌদিকে ভাই ভয়ঙ্কর জঙ্গল,
তারই মাঝে পাতা আছে বাঘ মারা এক কল ।
যত লোভী কামি যায় রসাতল,
দেখে নদীর পরিবেশ ।
কেউ জানেনা সেই নদীটি গভীর যে কত,
ব্রহ্মা , বিষ্ণু , মহেশ্বর তার জানে না তত্ত্ব ।
ঢুবাইতে স্বর্গ মত্ত ,
লাগে নদীর এক নিমেষ ।
সেই নদীতে আসে রে ভাই মাসে মাসে ভাণ,
রসিক যারা চিনে তারা করিতেছে স্নান ।
গুরু অসীম না জানিয়া সন্ধান,
ধরল বাবার ভাবাবেশ ।
তিন ইঞ্চি নদীতে পড়ে ,
সাড়ে তিন হাত নৌকা শেষ।
" দুটো মাংসপিণ্ড লণ্ডভণ্ড
করিল এই সোনার দেশ"
তাৎপর্যঃ একং সৎ। অর্থাৎ ব্রহ্ম একমাত্র। তার অংশ বা কলা নেই।
মনুষ্যের যেমন ছায়া আছে, ব্রহ্মেরও যেন তদ্রূপ ছায়া আছে ; ব্রহ্মের ছায়ার নাম মায়া, প্রকৃতি। সৃষ্টির আগে ব্রহ্মের সহিত সম্মিলিত ভাবে তার ছায়া বর্তমান ছিল ; ঐ সময়ে ব্রহ্মের ছায়া রুপ প্রকৃতির পৃথক অস্ত্বিত্ব ছিল না। সৃষ্টিকালে ব্রহ্ম ও প্রকৃতি পৃথক হইলেন। তখন ব্রহ্মের নাম হইল পুরুষ এবং ব্রহ্মের ছায়ার নাম হইল প্রকৃতি। এই পুরুষ ও প্রকৃতির সমবায়ে বিশ্বজগৎ ও দেহজগৎ সৃষ্টি হইল।
উল্লেখিত গানের দুইটি মাংসপিণ্ড হইল যথাক্রমে পুরুষ এবং প্রকৃতি।
এই পুরুষ ও প্রকৃতির সমবায়ে জগৎ বা দেহ গঠিত হয়েছে বলে গানে বলা হয়েছে, দুইটি মাংসপিণ্ড ( পুরুষ ও প্রকৃতি) লণ্ডভণ্ড হইয়া ( বিভাজিত হইয়া) সোনার দেশ ( জগৎ বা দেহ ) গঠিত হইল।অহং ব্রহ্মাস্মি
-------------------
তিন ইঞ্চি নদীতে পড়ে
সাড়ে তিন হাতের নৌকা শেষ।।
তাৎপর্যঃ ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষম্না নাড়ীকে যথাক্রমে গঙ্গা নদী, যমুনা নদী ও সরস্বতী নদী বলা হয়। এই তিন নাড়ী বা তিন নদীর মিলিতস্থানকে ত্রিবেণী সঙ্গম বলা হয়। এই ত্রিবেণী তিন নাড়ী বা তিন নদীর সমবায়ে গঠিত বলে একে তিন ইঞ্চির নদী বলা হয়েছে। কবি এখানে রূপক ভাবে সংখ্যাকে ইঞ্চি বলেছেন। এই তিন ইঞ্চির নদীটি আমাদর আজ্ঞাচক্রে ( ভ্রুযুগলের মাঝখানে) অবস্থিত। সুতরাং তিন ইঞ্চির নদীর পরিচয় পাওয়া গেল। এবার দেখব যে, সাড়ে তিন হাতের নৌকা বলতে কাকে বোঝানো হইয়াছে এবং কিভাবে ঐ নদীতে পড়ে নৌকাটি শেষ হয় ।
মানব দেহের পরিমাণ সাড়ে তিন হাত হওয়ায় মানবদেহকে রূপক ভাবে সাড়ে তিন হাতের নৌকা বলা হয়েছে। মানবদেহ বলতে কি বোঝায়? হ্যাঁ, মানবদেহটি ২৪ তত্ত্বের সমবায়ে গঠিত।
ক্রিয়াযোগ সাধন ( প্রাণায়ামাদি ) করলে ২৪ তত্ত্ব আজ্ঞাচক্রে অর্থাৎ ত্রিবেণীতে লয় প্রাপ্ত হয় বলে বলা হয়েছে -- তিন ইঞ্চি নদীতে সাড়ে তিন হাতের নৌকা শেষ। আসুন, আমরা ক্রিয়াযোগ সাধন করে নিজ নিজ নৌকাকে তিন ইঞ্চি নদীতে ফেলে শেষ করে জন্ম মৃত্যুর পরপাড়ে উপনীত হই। আর কালঘুম ঘুমাবেন না ; শিঘ্র জাগুন, শিঘ্র।। সেই নদীর মাঝখানে ভাই তিন কোনা এক চর, কামিনী বাঘিনী নাচে চরের উপর। জীবের যাওয়া আসা চরের ভিতর, স্বর্গ নরক দুংখ ক্লেশ। সেই নদীর চৌদিকে ভাই ভয়ঙ্কর জঙ্গল,তারই মাঝখানে পাতা আছে বাঘ মারার কল।
তাৎপর্যঃ সেই নদীর অর্থাৎ ত্রিবেণীর অর্থাৎ আজ্ঞা চক্রের কুটস্থ চৈতন্যে আছে এক তিন কোনা চর ( ত্রিকোণ যন্ত্র) ।
কামিনী বাঘিনী নাচে চরের উপর অর্থাৎ কামিনী মানে যিনি মনের অভিশাস পুরণ করে দেন, বাঘিনী মানে যিনি বৈরাগ্য প্রদান করেন। উক্ত কামিনীর ( মহাদেবীর) ইচ্ছাতেই জীব জন্মায় আর বাঘিনী ( সরস্বতী) এর ইচ্ছাতেই জীব মৃত্যু বরন হয় ( মুক্ত হয়, ইহা কামনার মৃত্যু) । এ কারন, বলা হচ্ছে জীবের যাওয়া আসা চরের ভিতর। কামিনীর কামের কারনে জীব জন্মায় এবং ঐ কাম যতদিন জীব সরস্বতীর শ্রীপাদপদ্মে অর্পণ করতে পাচ্ছে না, ততদিন সে জন্মমৃত্যুর অধীন হয়ে সুখ( স্বর্গ) ও দুঃখ( নরক) ভোগ কচ্চে।
সেই নদীর চৌদিকে ভাই ভয়ংকর জঙ্গল অর্থাৎ ঐ নদীর চারদিকে সহস্র সহস্র অতি সুক্ষ্মাতিসুক্ষ নাড়ী রয়েছে এবং তারই উপর আছে বাঘ মারার কল অর্থাৎ যোগবিভুতি সমুহ বিসর্জ্জন করবার ক্রিয়া। কেউ জানে না সেই নদী গভীর কতো
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর জানে না তার তত্ত্ব
স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল ডুবাইতে লাগে
ঐ নদীর এক মুহূর্ত।।
তাৎপর্যঃ
কেউ জানে না ঐ নদী গভীর কতো ---- ত্রিবেনী নদীতে কি আছে না আছে তা সাধারণে জানে না বলে বলা হয়েছে, " কেউ জানে না ঐ নদী গভীর কতো। "
কিন্তু যোগীগন ত্রিবেণীতে প্রবেশ করেছেন, তথায় বিদ্যমান আছে জ্ঞাতব্য সব কিছু -- ৪ বেদ, ১৮ পুরাণ, ১৪ শাস্ত্র, ভক্তি, শক্তি, মুক্তি ,বন্ধন.... প্রভৃতি। পুর্বে ঋষি গন ঐ নদী থেকেই স্বরজ্ঞান পেয়েছিলেন। স্বরজ্ঞান ২ ভাগে বিভক্ত সংগীত ও প্রাণায়ামাদি।
২। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর জানে না তার তত্ত্ব ---- ত্রয়ো দেবা ত্রয়ো গুণা অর্থাৎ তিনগুন হলো তিন দেবতা। সত্ত্ব গুনের ধারক বিষ্ণু, রজো গুনের ধারক ব্রহ্মা, তমো গুনের ধারক মহেশ্বর। পৃথক ভাবে শুধু সত্ত্বগুনের দ্বারা ঐ নদীতে প্রবেশ করতে পারা যায় না ; শুধু রজোগুণের দ্বারাতেও না ; শুধু তমো গুনের দ্বারাতেও না। এ কারন বলা হয়েছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব জানে না তার তত্ত্ব। কিন্তু গুনত্রয়কে মিলিত করে গুনাতীত হওয়া মাত্রই তার তত্ত্ব জানা যায়। সুতরাং তার তত্ত্ব জানতে হলে যোগসাধন করে গুনাতীত হতে হবে।
৩।। স্বর্গ মর্ত্য পাতাল ডুবাইতে লাগে তার এক মুহূর্ত ---- স্বর্গ মানে যথায় দৈবীভাব থাকে ; সত্ত্বগুনে দৈবীভাব থাকায় সত্ত্বগুনের অন্তরটা হলো স্বর্গ ; রজো গুনের অন্তরটা মর্ত্য আর তমো গুনের অন্তর( ভেতর টা) হলো পাতাল।
কথিত স্বর্গ, মর্ত্য ,পাতালকে ডুবাতে গুনাশ্রয়ার লাগে এক মুহূর্ত কাল। অর্থাৎ গুণাশ্রয়া ব্রহ্মার অন্তরে ব্রাহ্মী রুপে, শিবের অন্তরে রৌদ্রী রূপে এবং হরির অন্তরে লক্ষ্মী রুপে থেকে নিত্য তাদেরকে তার জলে সিক্ত করে রেখেছে। আজ ব্রহ্মার সৃষ্টি কর্ম যেটি হচ্ছে সেটি ব্রহ্মার অন্তরস্থ ব্রাহ্মী বা সরস্বতীর শক্তিতে ; এই রুপে হরির জগৎ পালন হচ্ছে হরির অন্তরে অবস্থিত লক্ষ্মীর শক্তিতে এবং শিবের সংহার কর্ম মাহেশ্বরীর শক্তিতে। সৃষ্টি জগৎ ঐ ত্রিবেণী তার এই তিনশক্তি দ্বারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে দিয়ে করাচ্চেন। সুতরাং ত্রিদেব, ত্রিবেণী নামীয় চণ্ডীর ভৃত্য মাত্র।
১০/৭/২১
#গালগল্প
নিজের সামনে যখন কোনো ঘটনা ঘটবে আপনার তখন মনে হয় এই ঘটনা যেনো পূর্বে একই স্থানে একই সময়ে ঘটেছিলো। এমন মনে হওয়ার কারণ কি?
এই জগতে প্রতিনিয়ত অবাক করা কিছু না কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে। কখনো আমরা তা প্রত্যক্ষভাবে চোখে দেখতে পাই, কখনো তা মস্তিষ্ক বা আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করি। আমরা অনেক সময় অনেক জায়গায় ঘুরতে যাই। দূরে বা কাছে যেখানেই হোক, অনেক সময় এটা হয় যে কোন অচেনা জায়গায় গেলে একটা অদ্ভুত অনুভুতি মনের মধ্যে আসতে থাকে।
যেন মনে হয় এই অচেনা জায়গা, নামে অচেনা হলেও কোথাও যেন এই জায়গা দেখেছি বা এই জায়গায় আগে কখনো এসেছি। একটা টান অনুভব করতে পারবেন, বা কারো সাথে কোন কথোপকথন যা বলতে বলতে হঠাৎ করে যেন মনে হয় আগে যেন ঠিক এই কথোপকথনে আপনি করেছেন। এই ঘটনাকে ডেজা-ভু বলে অভিহিত করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে দুনিয়ার প্রায় 70 থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ কম বেশি এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়।
ফরাসি ভাষায় ডেজা-ভু কথার অর্থ " আগেই দেখা বা পূর্ব পরিচিত"। এখন থেকেই এই কথাটি প্রচলিত হয়েছে।
মূলত মানুষ ব্যস্ত থাকলে, ক্লান্ত থাকলে বা কিছুটা মানুষিক চাপে থাকলে এমন ঘটে। বিশেষ করে ক্লান্ত বা মানুষিক চাপে থাকা লোকেরা বেশি অভিজ্ঞতার শিকার হন। তবে এটা কোনো মানুষিক রোগ না।
ব্যাপারটা আরও সহজ ভাবে বলা যায় যে আপনার সামনে কিছু ঘটছে আপনি দেখছেন তবে আপনার মস্তিষ্ক কয়েক ন্যানোসেকেন্ডের জন্য সেটা ক্যাপচার করতে পারেনি, কিন্তু আপনার সাব কনসাস মাইন্ড জানে, আবার ঠিক তখনই যখন মস্তিষ্ক কাজ করা শুরু করবে তখন মনে হবে আরে এটা তো আমি দেখছি বা আমার সাথে ঘটছে এমন। বলাযায় প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষ এভাবে সৃষ্টি। 🙂
07/03/2021
জন্মচক্র,,,,,,প্রান বায়ু আসে কোথা হতে ও রস কি,,,,,????
,
,আমি কে ? জন্মের আগে আমি কোথায় ছিলাম ? মায়ের গর্ভে
। তার আগে ছিলাম বাবার বীর্যে । বীর্যের আগে বাবার
রক্তস্রোতে হারিয়ে �ছিলাম , মিশিয়ে ছিলাম --- ঠিক যেমন
দুধে মাখন মিশিয়ে থাকে । বাবা- মায়ের সঙ্গমের মাধ্যমে ,
মন্হনের মাধ্যমে একসময় বীর্যের আকারে , দলার আকারে
বেরিয়ে এলাম । রক্তের আগেও আমি ছিলাম বিভিন্ন
খাদ্যবস্তুতে , যা থেকে বাবা খাদ্যরস সংগ্রহ করেছেন , অর্থাৎ
গাছপালা, ফলমূল, শাকসব্জি, মাছ-মাংস , দুধ- ডিম ইত্যাদি । আবার মাছ মাংস
দুধ ডিম অর্থাৎ গরু- ছাগল - ভেড়া-পাঁঠা মূলতঃ উদ্ভিদ আশ্রয়ী । তাই
বাবার রক্তস্রোতে আসার আগে আমি উদ্ভিদ জগতে ছড়িয়ে
ছিলাম । তারও আগে ছিলাম আলো জল মাটি বাতাস ফাঁকায়, যেখান
থেকে এই উদ্ভিদ্ জগতের সৃষ্টি হয়েছে ।এই আলো জল
মাটি বাতাস অর্থাৎ সূর্য চন্দ্র গ্রহ নক্ষত্র পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে
মহাকাশের মহাশূন্য থেকে । তাই জন্মাবার আগে আমি মহাশূন্যো
হারিয়ে ছিলাম , মিশিয়ে ছিলাম একটা ধ্বনিকে আশ্রয় করে । সেই
ধ্বনি ওঙ্কারধ্বনি , প্রণবধ্বনি -- শাস্ত্রে একেই বলা হয়েছে
নাদব্রহ্ম বা ব্রহ্মবীজ, যা থেকে বিশ্বব্রহ্মণ্ড সৃষ্টি হয়েছে
ও হচ্ছে । ঐ বীজ আমার মধ্যেই নিহিত । অর্থাৎ ঐ সূক্ষ্ম
বীজের স্হূল প্রতিফলন আমিই। তাই আমি এবং প্রতিটি জীবও
সেই বিরাটেরই অবতার ।
অগণিত কণিকা নিয়ে আমার এই দেহ। প্রতিটি কণিকার আবার নিজস্ব
প্রাণ- চৈতন্য আছে , সবার সত্তাতেই সেই 'আমি' সত্তা বিদ্যমান ।
প্রত্যেকেই তাই নিজেকে বলে 'আমি' । এই সকল কণিকা ,
সকল 'আমি' নিয়ে যেমন আমার রক্ত -মাংস- ব্যক্তিত্ববোধ ,
তেমনি আমাদের এই অগণিত গ্রহণ -নক্ষত্র সূর্য - চন্দ্রের
দেহসত্তা নিয়ে এই ব্রহ্মণ্ডসত্তা । জগৎময় তাই একটাই বোধ,
সমস্ত আলাদা আলাদা বোধ একটা তারেই বাঁধা --- তাই একটা সুরই
বাজবে--- রূপে গুণে বিভিন্ন হলেও একটা সুরেরই সাড়া দেবে।
সেই গান, সেই বোধের অবস্হা চলছে সর্বত্র । আমরাও
সেই বোধকেই বোধগম্য করছি । মূলে আমি জানছি আমাকেই
। সকলে বলছে ' প্রতি কণিকাও বলছে --- আমি সেই , আমার
মধ্যেই তিনি বিরাজ মান । যাকে যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না ,
তাই আল্লাহ বলেছেন,আমি সার রগ হতে অতি নিকটে, । অর্থাৎ
সবার মধ্যেই সেই এক 'আমি' রই সুর ও সাড়া--- সবার মধ্যেই
সেই একই সত্তা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Sultan Mahmud C/o Md. Shoidul Islam Vill. Paran Pur Post. Hamid Pur Up. Kalaroa Dist. Shatkhira
Kalaroa