Sim Bonus Offer
Bangladeshi All Mobile New Sim Offer Price Update Call Rates Grameenphone Banglalink Airtel BD Teletalk Robi.
Bangladeshi All Mobile New Sim Offer Price Update Call Rates Grameenphone Banglalink Airtel Bd Teletalk Robi
08/04/2026
বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড🤣🤣
22/03/2026
চীন যখন মার্কিন অর্থনীতিকে পেছনে ফেলে দেওয়ার খুব নিকটে অবস্থান করেছে এবং অন্য দেশগুলোও যখন ডলারের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে তখনি ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে পুনরায় গ্রেট করার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসেন। ‘America great again’ থিওরির উদ্দেশ্যই হলো চায়না অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দেওয়া ও ডলার ব্যাবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা। যেন কোনো দেশ ডলারের বাহিরে গিয়ে কিছু করতে না পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দুটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য সারাবিশ্বকে টালমাটাল করে তুলেছেন। তিনি জানেন বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারের কর্তৃত্ব হারানো মানেই মার্কিন আধিপত্যের পতন ঘটা । ডোনাল্ড ট্রাম্প কিভাবে গভীরভাবে এগুচ্ছে তা একটু বুঝার জন্য চলুন আমরা ইতিহাসের পাতায় কিছুক্ষণের জন্য ফিরে যাই।
সৌদি আরবের মাটিতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ তেলখনি আবিষ্কৃত হয় এবং দেশটির আনাচে-কানাচেতে তেলের খনিতে ভরপুর। কিন্ত তখন সৌদি সরকারের প্রযুক্তি ছিলনা তেল উত্তোলন করার। তারপর সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য একটি চুক্তি হয়। আমেরিকা সৌদি আরবকে তেল তুলে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা ও বৈদেশিক শত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক সহায়তা দিবে। সৌদি আরব শুধু ডলারের মাধ্যমে অন্যদেশগুলোতে তেল বিক্রি করবে। এই চুক্তির পর আমেরিকার ডলারের মান ওভার নাইট সকল মুদ্রাকে পেছনে শীর্ষ স্থান দখল করে। এই চুক্তিকে ১৯৭৪ সালের পেট্রো ডলার চুক্তি বলে।
১৯৯০ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত দখল করে ফেললে তখন সৌদি আরব তীব্র নিরাপত্তাহীনতার আশংঙ্কায় পড়ে। তখনকার সৌদির কিং ফাহাদ দ্রুত আমেরিকাকে ব্যাবস্থা নিতে আহ্বান করে। পেট্রো ডলার চুক্তি অনুসারে আমেরিকা যৌথ বাহিনী গঠন করে সাদ্দাম হোসেনকে কোণঠাসা করে কুয়েতকে সাদ্দাম হোসেন থেকে রক্ষা করে। কিন্তু তখনকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বোস একটু দুষ্টু গেইম খেলে। সাদ্দামকে প্রতিহত করার জন্য যত সেনা এনেছিল আরব দেশগুলোতে সেগুলো আর প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়নি। আরবের প্রতিটি দেশেই মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণ করে। মূলত পেট্রো ডলারের চুক্তি যেন কিছুতেই ভাঁটা না পড়ে এটির স্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে আমেরিকা।
তারপরেও একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এসে যখন সব দেশ ডলারের বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে, আবার চীনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখনি যুক্তরাষ্ট্র আবার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ভেনেজুয়েলাকে দখল করেছে যেন কোনোভাবেই চীনের কাছে পেট্রোলিয়াম বিক্রি না করে। এখন ইরানকে আক্রমণ করেছে। ইরানকে আক্রমণ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র চারটি প্ল্যান মাথায় নিয়ে নেমেছে।
১) ইরানের তেল বাণিজ্য কন্ট্রোল
২) ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে না দেওয়া। তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল কর্তৃত্ব হারাবে।
৩) ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ালেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র অন্যদেশগুলোকে বুঝাবে হরমুজ প্রণালীর প্রয়োজনীয়তা। তারপর এটি দখল করে সম্পূর্ণ নিজেদের কন্ট্রোলে নিবে। এবং কোনো দেশকে ডলার ব্যাতির তেল বিক্রি করার অনুমতি দিবেনা। মানে হরমুজ প্রণালীতে চিরস্থায়ী ডলার কারেন্সি বাস্তবায়ন।
৪) ইসরায়েলের গ্রেটার ইসরায়েল বাস্তবায়নে প্রথম কাঁটা ইরান। সেটিকে সরিয়ে দেওয়া।
উপরের চারটি পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবায়ন করে ফেলতে পারলেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পেছনে ফেলা ও কোনো দেশ ডলার বিকল্প ভাবতে সাহস দেখাবেনা। আর এটিই হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘America great again’ প্রকল্প বাস্তবায়ন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটুকু সফল হতে পারবেন সেটা সময় বলে দিবে।
বিচার হবেনা, লিখে রাখেন....
নরসিংদীর ঘটনাটা অনুধাবন করলেই বুঝতে পারবেন কতটা ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছি আমরা।
১৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে গণধ'/র্ষণ করা হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে। থানায় মামলা করতে দেয়া হয়নি।
স্থানীয় মেম্বার মীমাংসা করে দেয় তার মতো করে। এরপরও উত্যক্ত করা হতে থাকে মেয়েটাকে। জান বাঁচাতে তাকে দূরে আত্মীয়ের বাসায় রেখে আসার সিদ্ধান্ত নেয় তার বাবা। পথিমধ্যে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও ধ'/র্ষণ করা হয়৷ এরপর খু'/ন করে লা'শ ফেলে রাখে ধানক্ষেতে।
কি বিভৎস অবস্থা!
চিন্তা করবেন না। দুইদিন হাহুতাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পূরো জাতি আজ বিচার দাবী করছে ফেসবুকে। কেউ প্রতিবাদে রাস্তায় নামবেন না। অন্যের মাইয়া মরছে, তাতে আমার কি? আপনারটা যেদিন মরবে সেদিনও কেউ কেউ এই কথা বলবে।। হ্যা এটাই বাংলাদেশ।
চ্যালেঞ্জ দিলাম - বিচার করে দেখান।
শিশুর হাইপারএকটিভিটি কি এবং কমাতে কি করবেন?🤷♀️
শিশুর হাইপারএকটিভিটি আসলে কোনো “দুষ্টুমি” বা “শাসনের অভাব” নয়, এটা মূলত তার ব্রেইনের Self-Regulation System দুর্বল হওয়ার একটি প্রকাশ। নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মস্তিষ্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম একসাথে কাজ করে তাকে শান্ত, মনোযোগী ও নিয়ন্ত্রিত রাখে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে ভারসাম্য নষ্ট হলে শিশুর আচরণ অস্থির, অতিরিক্ত চঞ্চল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমটি হলো Impulse Control System। এটি শিশুকে শেখায়, “থামো, ভেবে নাও, তারপর কাজ করো।” এই সিস্টেম মূলত Prefrontal Cortex দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন এটি দুর্বল থাকে, তখন শিশু হুটহাট দৌড়ায়, আঘাত করে, জিনিস ছুড়ে দেয়, কথা না শুনেই কাজ করে। তার ব্রেইন তখন “pause button” ব্যবহার করতে পারে না। ফলে সে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বারবার ভুল বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয়টি হলো Sensory Processing System। শিশুর ব্রেইন প্রতিদিন হাজারো sensory ইনপুট নেয়, যেমন: শব্দ, আলো, স্পর্শ, রং, স্ক্রিনের মুভমেন্ট। যখন এই ইনপুট অতিরিক্ত হয়ে যায় (যেমন: বেশি টিভি, মোবাইল, শব্দ, ভিড়, চিৎকার), তখন ব্রেইন overstimulated হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে বলা হয় Sensory Overload। তখন শিশুর নার্ভাস সিস্টেম “fight or flight mode”-এ চলে যায়। ফলাফল অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ, চিৎকার, অস্থিরতা, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
তৃতীয়টি হলো Prefrontal Cortex-এর কার্যক্ষমতা।
এই অংশটিই মানুষের “thinking brain”—যা পরিকল্পনা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অংশটি পুরোপুরি পরিপক্ব হতে ২০–২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তাই যদি শিশুর পরিবেশে বেশি স্ট্রেস, চিৎকার, ভয়, স্ক্রিন, কিংবা নিরাপত্তাহীনতা থাকে, তবে এই অংশের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন শিশুর ব্রেইন আবেগে ভেসে যায়, যুক্তি দিয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই তিনটি সিস্টেম একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একটি দুর্বল হলে অন্যগুলোকেও প্রভাবিত করে। তাই শিশুর হাইপারএকটিভিটি কমাতে শুধু শাসন নয়, বরং তার ব্রেইনের এই তিনটি সিস্টেমকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে হয়, ভালো রুটিন, কম স্ক্রিন, পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাবার, নিরাপদ পরিবেশ ও সংবেদনশীল প্যারেন্টিংয়ের মাধ্যমে।
অনেকের বাচ্চাই হাইপারএকটিভ কি করে কমাবেন হাইপারএকটিভিটি, খুব কার্যকর কিছু উপায় বলছি💁♀️
নিয়মিত রুটিন💁♀️
শিশুর হাইপারএকটিভিটি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার ব্রেইনকে নিরাপত্তা ও পূর্বানুমেয়তা (predictability) দেওয়া। প্রতিদিন ঘুম, খাওয়া, খেলা ও পড়ার সময় নির্দিষ্ট থাকলে শিশুর নার্ভাস সিস্টেম বুঝতে শেখে—এখন কী হবে। এই ধারাবাহিকতা ব্রেইনের “survival mode” বন্ধ করে তাকে শান্ত হতে সাহায্য করে। কারণ অনিশ্চয়তা ব্রেইনের জন্য হুমকি, আর রুটিন হলো নিরাপত্তার সংকেত।
No স্ক্রীন💁♀️
এরপর আসে স্ক্রিন নিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য মোবাইল ও টিভি অতিরিক্ত ডোপামিন রিলিজ করে, যা ব্রেইনকে কৃত্রিম উত্তেজনায় অভ্যস্ত করে তোলে। ফলে স্বাভাবিক খেলাধুলা, মানুষের সাথে কথা বা বই পড়া তার কাছে “বোরিং” লাগে। এই overstimulation থেকেই মনোযোগের ঘাটতি ও হাইপারএকটিভ আচরণ তৈরি হয়। তাই স্ক্রিন যত কম হবে, ব্রেইন তত বেশি ব্যালান্সে থাকবে।
Heavy Work করাতে হবে💁♀️
হাইপারএকটিভ শিশুর জন্য খুব কার্যকর একটি পদ্ধতি হলো Heavy Work Activity। যখন শিশু বালতি টানে, দেয়ালে ধাক্কা দেয়, বালিশ ঠেলে সরায় বা ভারী বোতল বহন করে—তার গভীর পেশি ও জয়েন্ট থেকে ব্রেইনে শান্ত হওয়ার সংকেত যায়। একে বলে proprioceptive input, যা sensory system কে regulate করে এবং শিশুকে ভেতর থেকে স্থির করে তোলে। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘন্টা হেভি একটিভিটিস করান।
বসায় শান্ত কর্নার রাখুন💁♀️
এর সাথে যুক্ত করা যায় একটি Calm-Down Corner যা কোনো শাস্তির জায়গা নয়, বরং “শান্ত হওয়ার আশ্রয়”। এখানে নরম বালিশ, প্রিয় বই, সফট টয় ও ডিপ ব্রিদিং কার্ড থাকলে শিশুর ব্রেইন বুঝতে শেখে, আমি এখন নিরাপদ, আমি এখানে এসে শান্ত হতে পারি। ধীরে ধীরে সে নিজেই সেখানে যেতে শিখবে।
এখানে নরম বালিশ, ছোট কম্বল ও প্রিয় সফট টয় রাখলে শিশুর ব্রেইন নিরাপত্তার অনুভূতি পায়। সেন্সরি রেগুলেশনের জন্য রাখা যায় স্ট্রেস বল, ফিজেট টয়, প্লে-ডো বা বিভিন্ন টেক্সচারের খেলনা, যা অতিরিক্ত শক্তি বের করতে সাহায্য করে। শ্বাস নিয়ন্ত্রণ শেখাতে রাখতে পারেন ব্রিদিং কার্ড, বুদবুদ ফুঁ দেওয়ার খেলনা বা ছোট আয়না, যাতে সে নিজের অনুভূতি চিনতে শেখে। মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ছবি বই, সহজ পাজল বা ফিলিং কার্ড রাখা যেতে পারে। শব্দ শান্ত করার জন্য হালকা মিউজিক টয় বা রেইন স্টিক ভালো কাজ করে। এই কোণাটি কখনো শাস্তির জায়গা হবে না, বরং হবে শান্ত হওয়ার আশ্রয়।
শিশুর impulse control বাড়াতে হবে।💁♀️
শিশুর impulse control বাড়াতে প্রয়োজন Movement এবং Focus Game। “Freeze & Move”, “Red Light, Green Light”, “Simon Says”—এই খেলাগুলোতে তাকে থামা, অপেক্ষা করা ও নির্দেশ মানা শেখানো হয়। এগুলো সরাসরি Prefrontal Cortex সক্রিয় করে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়। এই খেলা সম্পর্কে অনেকেই ভালো জানেন না।চলুন একটু আলোচনা করি। Freeze & Move, Red Light–Green Light এবং Simon Says—এই তিনটি খেলা শিশুর ব্রেইনের impulse control, মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়াতে খুব কার্যকর। এগুলো খেলতে কোনো খেলনার প্রয়োজন নেই, শুধু বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ আর একটু জায়গা হলেই যথেষ্ট। Freeze & Move খেলায় প্রথমে শিশুকে নড়াচড়া করতে বলুন—নাচা, দৌড়ানো বা লাফানো। আপনি যখন বলবেন “Move”, তখন সে নড়বে, আর হঠাৎ “Freeze” বললে তাকে একদম থেমে থাকতে হবে। এতে সে শিখে যায় কখন থামতে হবে এবং শরীর নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। Red Light, Green Light খেলায় “Green Light” বললে সে সামনে এগোবে, আর “Red Light” বললে থেমে যাবে। ভুল হলে বকা না দিয়ে হাসি দিয়ে আবার শুরু করুন। এই খেলাটি শিশুকে অপেক্ষা করতে ও নির্দেশ বুঝে কাজ করতে শেখায়। এবং Simon Says খেলায় আপনি বলবেন, “Simon says লাফ দাও”—এতে সে লাফ দেবে। কিন্তু যদি শুধু বলেন “হাত তোল” (Simon says ছাড়া), তাহলে সে করবে না। এতে সে আগে শোনা, তারপর ভাবা, এরপর কাজ করার অভ্যাস গড়ে তোলে। প্রতিদিন ৫-১০মিনিট করে খেলা গুলো প্র্যাক্টিস করলেই হবে।
খাবারের দিকে নজর দিন💁♀️
খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি, কারণ Gut-Brain Connection খুব শক্তিশালী। বেশি চিনি, চিপস, রংওয়ালা জুস শিশুর ব্রেইনে অস্থিরতা বাড়ায়। আর ডিম, কলা, বাদাম, মাছ ও শাকসবজি ব্রেইনের নিউরোট্রান্সমিটার ব্যালান্স করতে সাহায্য করে। শান্ত ব্রেইনের জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য। তাই খাবার দিয়ে শুধু পেট আর আপনার শান্তির জন্য চোখ ভরালে হবেনা। পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
ছোট আদেশ দিন💁♀️
হাইপারএকটিভ শিশুর ক্ষেত্রে Short Instruction খুব কার্যকর। লম্বা কথা তার ব্রেইনের জন্য overload হয়ে যায়। তাই এক লাইনের স্পষ্ট নির্দেশ—“বলটা রাখো”, তার ব্রেইন সহজে প্রসেস করতে পারে এবং সে দ্রুত সাড়া দেয়। লম্বা কথা বলে চিৎকার করে আপনার ও শিশুর জন্য বিপদ বাড়াবেন না। ছোট নির্দেশ দিন।
ইমোশন চিনতে শেখান💁♀️
একইভাবে, Emotion Labeling শেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন শিশু দৌড়াদৌড়ি বা চিৎকার করছে, তখন বলা—“তুমি খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে”, এই শব্দগুলো তার লিম্বিক ব্রেইনকে শান্ত করে। কারণ নাম দিলে আবেগ নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে ওঠে। তাই তার অবেগ বুঝে, আবেগের নাম দিন।
ঘুম ঠিক করুন💁♀️
এছাড়া, ঘুমের অভাব হাইপারএকটিভিটিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। ৩–৫ বছরের শিশুর প্রতিদিন ১০–১২ ঘণ্টা গভীর ঘুম দরকার। ঘুমের সময় ব্রেইন নিজেকে reset করে, আবেগ ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের শক্তি ফিরে পায়। আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত আপনাদের ঘুমের ক্লাসটা নানা ব্যাস্ততায় নিতে পারছিনা। এই মাসেই নেবার বেস্ট ট্রাই করবো। ঘুম অবশ্যই ঠিক করতে হবে।
বাবা-মা শান্ত থাকুন💁♀️
সবশেষে, সবচেয়ে শক্তিশালী বিষয় হলো বাবা-মায়ের নিজস্ব শান্ত নার্ভাস সিস্টেম। শিশু আমাদের কথা নয়, আমাদের আবেগ কপি করে। আপনি যদি চিৎকার করেন, অস্থির হন, তার ব্রেইন সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়। অনেকে বাচ্চার সাথে চিৎকার না করলেও সংসারের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বাচ্চার সামনেই চিৎকার করেন, বাচ্চা খুব ভালোভাবে তা কপি করে। দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আর আপনি যদি শান্ত থাকেন, ধীর কণ্ঠে কথা বলেন—তার ব্রেইনও ধীরে ধীরে সেই শান্ততা শিখে নেয়।
এভাবেই আমরা শিশুকে শাসন নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ শিখতে সাহায্য করতে পারি।
কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?
শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ ৬ মাস বা তার বেশি সময় ধরে একইভাবে চলতে থাকে, এবং তাতে কোনো উন্নতি না দেখা যায়, আপনি আমার উপরে বর্নিত কাজ কয়েক মাস করেও কোনো রেজাল্ট পাচ্ছেন না। তাহলে এটাকে আর “সাধারণ বয়সের দুষ্টুমি” হিসেবে না দেখে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া, যদি এই আচরণ স্কুল, খেলাধুলা বা সামাজিক পরিবেশে বড় সমস্যা তৈরি করে, যেমন সে নিয়ম মানতে পারে না, বারবার ঝগড়া করে, পড়াশোনা বা নির্দেশ অনুসরণ করতে অক্ষম হয়—তাহলে এটি তার শেখা ও সম্পর্ক গঠনে বাধা দিচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যদি শিশুর আচরণে নিজের বা অন্যের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়—যেমন মারধর, কামড়, জিনিস ছুড়ে মারা, নিজেকে আঘাত করা—তাহলে দেরি না করে দ্রুত সাহায্য নেওয়া জরুরি।
এই অবস্থায় একজন Developmental Pediatrician বা Child Psychologist শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট, আচরণ ও আবেগের কারণগুলো বুঝে সঠিক গাইডলাইন দিতে পারবেন। সময়মতো সাপোর্ট পেলে অধিকাংশ শিশুই খুব ভালোভাবে উন্নতি করতে পারে।
05/02/2026
যে ৫টা কারণে তারেক রহমান ডিবেট করবে না
উন্নত গণতান্ত্রিক পরিবেশে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক একদম স্বাভাবিক—যেমন যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখোমুখি হয়েছিলেন। আমাদের ব্রিটিশ রাজনীতিতেও কেয়র স্টারমার ও ঋষি সুনাকের বিতর্ক দেখেছি। এসব টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরা হয়, যাতে জনগণ নীতিগুলো বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি গণতন্ত্র ও জনস্বার্থের জন্য ইতিবাচক। প্রথমে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল জামায়াত—তাঁরা আহ্বান করেছিল: আসুন, আমরা খোলা বিতর্ক করি, কার নীতি কী! কী দারুণ আহ্বান! কিন্তু এই আহ্বান তারেক রহমান গ্রহণ করলেন না। কারণ, তিনি ভয় পান।
তিনি যে ভয় পান, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ—১০০% সত্য, যাচাই করতে পারেন। আল জাজিরা দুই মাস ধরে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের চেষ্টা করেছে, তিনিও সাক্ষাৎকার দেননি। অথচ সজীব ওয়াজেদ জয় মাত্র ১০ দিনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, এমনকি ড. শফিকুর রহমানও দিয়েছেন। কিন্তু তারেক রহমান দেননি। কারণ, তিনি জানেন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে সত্য বলার সাহস তার নেই।
আল জাজিরা যেহেতু ইংরেজি সাক্ষাৎকার নেয়, আর তিনি ইংরেজিতে অনভ্যস্ত, তাই তিনি সাক্ষাৎকার এড়িয়ে গেছেন।
ভাবুন, যদি তারেক রহমান ডিবেটে আসেন, আর মডারেটর প্রশ্ন করেন: “আপনি বলেছিলেন ৪ কোটি মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেবেন, যা মাসে ২৫০০ টাকা করে। তাহলে বছরে ৪ কোটি পরিবারে খরচ হবে ১ লাখ কোটি টাকা। আমাদের বাজেট তো ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, এর ১২% যদি এখানে চলে যায়, বাকি দেশ চলবে কীভাবে?”—তখন তিনি কী উত্তর দেবেন? এটাই তার ভয়, আর এ কারণেই তিনি ডিবেটে আসতে চান না।
বিএনপির পক্ষ থেকে শোনা যায়, শফিকুর রহমানের কী যোগ্যতা যে তারেক রহমানের সাথে ডিবেট করবেন! কেন তারেক রহমান “বয়স্ক শকুনের” সাথে ডিবেট করবেন! কিন্তু আসল সত্য, সাহস থাকলে তো আসতেন! কে কার সাথে ডিবেট করতে পারবে, তা তো ময়দানে প্রমাণ হয়।
যদি বিএনপি নেতারা বলেন, শফিকুর রহমান অযোগ্য, ভাবুন তো, উনি সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, অসংখ্য ডাক্তার সেখান থেকে বেরিয়েছেন। উনার স্ত্রী ডাক্তার, সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত, আর উনি এমন এক দলের নেতা, যাঁর এক নির্দেশে শত শত নেতা মনোনয়য় প্রত্যাহার করে মাঠে নেমেছে।
আর তারেক রহমানের পক্ষে দাঁড়ানো ৮৯ জন বিদ্রোহী! বুঝতেই পারছেন, শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব ও যোগ্যতা কতটা দৃঢ়।
TIB-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ মাসে ৬০০টা সহিংস ঘটনা, যার মধ্যে ৫৫০টা বিএনপির! অথচ, তারা বলে ১৭ বছর ধরে ৩০ লাখ নির্যাতিত! এ দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, যাঁর আদেশ কেউ শোনে না! যদি শোনার মতো নেতৃত্ব থাকতো, তাহলে এমন হতো?
তারেক রহমানের নিজস্ব যোগ্যতা কী? তিনি ইন্টার পাশ। বিশাল রাজনৈতিক পরিবারে থেকেও আর পড়াশোনা এগোয়নি। লন্ডনে ১৭ বছর অ্যাসাইলাম থাকা অবস্থায় বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ থাকলেও, তিনি একটি ডিগ্রিও নেননি। ভাবুন, শিক্ষাকে কতটা এড়িয়ে চলেছেন, কতটা দূরে থেকেছেন!
সবশেষে, আমাদের দরকার বড়ো মনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার। প্রতিটি পক্ষের মাঝে সম্মান ও স্বাধীন মত প্রকাশ বজায় রাখতে হলে, এই দুই নেতার মুখোমুখি হওয়া জরুরি। আমরা আশা করি, তাঁরা সামনে আসবেন, জাতিকে দেখাবেন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা সত্ত্বেও, আমরা সবাই মিলে একসাথে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব!
28/01/2026
সবাই যখন ডলার নিয়ে ব্যস্ত, বড় খেলোয়াড়রা তখন নিঃশব্দে সম্পদ সরাচ্ছে। Plaza Accord 2.0 ফিরছে ?
“History doesn’t repeat itself, but it often rhymes.”
ম্যাক্রোইকোনমিক্সের এই কথাটা আজ হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক রকম সত্য হয়ে উঠেছে। কারণ আমরা এখন এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেটার ছায়া স্পষ্টভাবে গিয়ে পড়ছে ১৯৮৫ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে যাকে বিশ্ব আজও মনে রাখে Plaza Accord নামে।
তখনকার প্রেক্ষাপটটা বুঝলে আজকের ঘটনাগুলো খুব পরিষ্কার হয়ে যায়। আশির দশকের শুরুতে মার্কিন ডলার অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ডলারের এই অতিরিক্ত শক্তির কারণে আমেরিকার এক্সপোর্ট ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর ধাক্কা খায়, আর ট্রেড ডেফিসিট ভয়াবহ আকার নেয়। এক কথায়, শক্তিশালী ডলার তখন আমেরিকার নিজের জন্যই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই অবস্থায় ১৯৮৫ সালে বিশ্বের পাঁচটি বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে বসে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। তারা সমন্বিতভাবে ডলারকে দুর্বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এটিই ইতিহাসে পরিচিত হয় Plaza Accord নামে।
এর ফলাফল ছিল চোখ ধাঁধানো। পরবর্তী তিন বছরে ডলার ইনডেক্স প্রায় ৫০ শতাংশ পড়ে যায়। জাপানি ইয়েন প্রায় দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর সেই সঙ্গে সোনা, কমোডিটি ও নন-ডলার অ্যাসেটগুলোতে শুরু হয় তীব্র উর্ধ্বগতি। এটা ছিল আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কারেন্সি রিসেটগুলোর একটি।
এখন আসি বর্তমান সময়ে।
আজও আমরা প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। ডলার আবার অতিরিক্ত শক্তিশালী। আমেরিকার ট্রেড ডেফিসিট আবার অল-টাইম হাই। জাপানি ইয়েন ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে। গ্লোবাল মার্কেটে ডলার শর্টেজ, উচ্চ সুদের চাপ এবং ডি-ডলারাইজেশনের প্রবণতা একসাথে কাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা ঘটেছে সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক ফেড USD/JPY নিয়ে “রেট চেক” করেছে। ফাইন্যান্সের ভাষায় এটা কোনো সাধারণ বিষয় না। সাধারণত রেট চেক করা হয় তখনই, যখন সেন্ট্রাল ব্যাংক সরাসরি কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ করার প্রস্তুতি নেয়। ইতিহাস বলছে, রেট চেকের পরেই অনেক সময় ডলার সেল এবং ইয়েন বাই শুরু হয়।
অর্থাৎ ইঙ্গিতটা পরিষ্কার....
ফেড ও ব্যাংক অফ জাপান আবারও ডলার দুর্বল করার পথে হাঁটতে পারে। এখন এখানেই আসল বিষয়টা শুরু হয়।
কারণ ডলার দুর্বল মানেই শুধু কারেন্সির পরিবর্তন না, বরং পুরো গ্লোবাল অ্যাসেট মার্কেটের রি-প্রাইসিং। ডলার হলো বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি। তাই ডলার নামলে তার প্রভাব পড়ে সবকিছুর উপর স্টক, কমোডিটি, গোল্ড, এমনকি ডিজিটাল অ্যাসেটেও।
ইতিহাস বলছে, ঠিক এমন সময়েই সবচেয়ে বেশি লাভ করে হার্ড অ্যাসেট।
আর হার্ড অ্যাসেটের রাজা হলো সোনা।
ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম বাড়ে। কারণ সোনা ডলারে প্রাইসড। ডলারের ভ্যালু কমলে একই পরিমাণ সোনা কিনতে বেশি ডলার লাগে। ১৯৮৫ সালের পর ঠিক সেটাই হয়েছিল। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর, কারণ এবার সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলো নিজেরাই রেকর্ড পরিমাণ সোনা কিনছে। মানে যারা টাকা ছাপে, তারাই কাগুজে টাকার ওপর আস্থা হারাচ্ছে।
আর সিলভার?
সিলভার হলো গোল্ডের থেকেও বেশি সেনসিটিভ অ্যাসেট। কারণ এটা শুধু মুদ্রা না, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটালও। ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই গোল্ড শক্তিশালী ট্রেন্ডে যায়, সিলভার পরে গিয়ে আরও বেশি গতিতে ওঠে। ২০০১–২০১১ সালের বুল মার্কেটে গোল্ড যেখানে প্রায় ৬ গুণ উঠেছিল, সিলভার সেখানে ১০–১২ গুণ পর্যন্ত উঠেছিল।
কারণ সিলভারের মার্কেট ছোট, সাপ্লাই সীমিত, আর ইনভেস্টর ঢুকলেই দাম দ্রুত লাফ দেয়।
যদি সত্যিই Plaza Accord 2.0 হয়, তাহলে সম্ভাব্য চিত্রটা হবে এমন....
ডলার দুর্বল হবে > গোল্ড ব্রেকআউট দেবে > ইনস্টিটিউশনাল মানি ঢুকবে > সিলভার দেরিতে কিন্তু বিস্ফোরক গতিতে উঠবে > মিডিয়ায় হইচই শুরু হবে > সাধারণ মানুষ তখন ঢুকবে।
আর তখনই সাধারণত বড় খেলোয়াড়রা প্রফিট তুলে নেয়।
এই কারণেই বড় ইনভেস্টররা সবসময় বলে -
"টাকা বানাতে হলে নিউজের আগে থাকতে হয়, নিউজ দেখে ঢুকলে দেরি হয়ে যায়।"
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, গোল্ড আর সিলভার শুধু লাভের জন্য না। এগুলো হলো সিস্টেমিক ইনস্যুরেন্স। যখন কাগুজে মুদ্রার ওপর আস্থা নড়ে যায়, তখন মানুষ ফেরে বাস্তব সম্পদের দিকে।
আজকের পৃথিবী ঠিক সেই দিকেই এগোচ্ছে।
এই লেখা পড়ে যদি কেউ বুঝতে পারেন যে সামনে শুধু দাম না, পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো বদলাতে পারে তাহলেই এই লেখা সার্থক।
এআই রিফাইন ও পরিমার্জিত
27/01/2026
জাপান বলতেই আমাদের মাথায় কী আসে? টোকিও অলিম্পিক, অ্যানিমে, টয়োটা আর বুলেট ট্রেন।
কিন্তু এই ঝকঝকে ছবির নিচে যে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় "সাইলেন্ট রিস্ক" কিংবা "স্লিপিং টাইমবো*ম্ব" লুকিয়ে আছে, সেটা কজন জানেন?
--------------
চলুন অংকটা খুব সোজা করে দেখি।
কোনো দেশের অর্থনীতি কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটা বোঝার সবচেয়ে সহজ মাপকাঠি হলো Debt-to-GDP রেশিও। মানে ওই দেশের আয়ের তুলনায় মোট ঋণ কত।
এই মুহূর্তে আমেরিকার রেশিও প্রায় ১২০% থেকে ১২৫%। বাংলাদেশের রেশিও মাত্র ৪০%।
আর জাপানের কত জানেন? ২৫০% এর ওপরে।
এটার মানে, জাপান এক বছরে যত আয় করে, তার আড়াই গুণ ঋণ নিয়ে বসে আছে!
অর্থনীতির ভাষায়, এটা কোনো বিস্ফো*রক না, এটা একটা “Slow-Burning Time Bo*mb”।
হুট করে ফাটে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক সিস্টেমকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
--------------
এখন প্রশ্ন হলো, জাপান ডুবলে আপনার বা আমার কী?
আসল বিপদটা এইখানেই।
আজকের বিশ্ব অর্থনীতি একটা মাকড়সার জালের মতো। এক কোণায় টান লাগলে, পুরো জাল কাঁপে।
এটা শুধু জাপানের নিজের সমস্যা না। জাপান পৃথিবীর ৪র্থ সর্ববৃহৎ ইকোনমি।
আবার জাপান হলো আমেরিকার সবচেয়ে বড় পাওনাদারদের একজন। US Treasury Bonds সবচেয়ে বেশি যাদের হাতে, তাদের তালিকার একদম ওপরে জাপান।
প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে হবে।
জাপান হুট করে ট্রিলিয়ন ডলারের বন্ড বাজারে Dump করলে, সে শুধু আমেরিকাকে না, নিজেকেও আগে ধ্বংস করবে।
- নিজের ইয়েন ধসে পড়বে
- নিজের ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে যাবে
- নিজের পেনশন ফান্ড উড়ে যাবে
তাই জাপান হয়তো “রাতারাতি বন্ড Dump” করার মতো ভুল কিছু করবে না।
--------------
কিন্তু এই ২৫০% ঋণের বোঝা মানে হলো, জাপানের সামনে ভবিষ্যতে ভালো অপশনগুলো কমে যাচ্ছে।
যেমনঃ
- সুদ বাড়ালে → অর্থনীতি ডাউন হবে
- সুদ কম রাখলে → মুদ্রা দুর্বল হয়
- ট্যাক্স বাড়ালে → জনগণ ক্ষুব্ধ হবে
- টাকা ছাপালে → ইনফ্লেশন বেড়ে যাবে
এই ধরনের দেশগুলোর অর্থনীতিতে বলা হয় Systemic Risk।
হুট করে বিস্ফোরণ না হলেও, এরা পুরো গ্লোবাল সিস্টেমের ভেতরে একটা স্থায়ী ফাটল তৈরি করে রাখে।
--------------
আমরা নিউজে সারাক্ষণ চীন-আমেরিকা-ইউরোপ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু নিঃশব্দে বসে থাকা এই জাপানের ঋণ সঙ্কট হয়তো ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
আমার মনে হয় প্রতিদিনের গোল্ড আর সিলভারের দাম বাড়ার পেছনে এটাও একটা বড় কারণ।
চোখ-কান খোলা রাখুন।
বাস্তববাদী হোন।
20/01/2026
বিএনপির ফ্যামেলি কার্ড কি জামায়াতের এক চমকেই দাফন হয়ে গেল?
আজকের জামায়াতের Policy Summit দেখে একটা কথাই মনে হচ্ছে, বিএনপির সেই বহু আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড আইডিয়াটার জানাজা পড়া হয়ে গেছে, এখন শুধু দাফনের অপেক্ষা।
বিশেষ করে কর্জে হাসানার মতো বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক অর্থনৈতিক মডেল
পুরো আলোচনাটাকে অন্য লেভেলে নিয়ে গেছে। বিশ্বের দরবারে জামায়াতে ইসলামীকে একটি পলিসি বেইসড ব্র্যান্ড হিসেবে এস্টাবলিশ করার পেছনে
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের অবদান সত্যিই অসামান্য। এই প্রজন্ম এমন একজন আমীর পেয়েছে, এটা গর্বের, এটা আশার।
আজ জামায়াতে ইসলামী শুধু বক্তব্য দিচ্ছে না, তারা Policy Summit করছে।
৩০টিরও বেশি দেশের স্কলার, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন বিষয়ের প্রফেসর, একই ছাদের নিচে। এটা প্রমাণ করে, জামায়াত শুধু রাজনীতি করতে চায় না, একটা কল্যাণরাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতিও তারা নিয়ে ফেলেছে।
এখন আমীর শুধু জামায়াতের আমীর নন, তিনি হয়ে উঠেছেন জনগণের আমীর।
সত্যি বলতে কি, দেশের গতিপথ যেদিকে যাচ্ছে, মানুষ এবার আমীরকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ইনশাআল্লাহ, সেই দিকেই দেশ এগোচ্ছে।
জেন-জি ও তরুণদের জন্য জামায়াতের পলিসি, এখানেই পার্থক্যটা সবচেয়ে স্পষ্ট, ১ কোটি তরুণের জন্য Market-Relevant Skills ৫০ লাখ যুবক-যুবতীর চাকরির সুযোগ ৫ লাখ নতুন উদ্যোক্তা ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির রোডম্যাপ
এই সংখ্যাগুলো শুধু স্লোগান না, এর পেছনে আছে কীভাবে, কোথা থেকে, কোন খাতে সবকিছুর পরিষ্কার ব্যাখ্যা।
সত্য কথা বলতে কি, HSC পাস নেতাদের পক্ষে এসব পলিসি বুঝে উঠাই কঠিন।
নতুন জামায়াত, নতুন রাজনীতি বর্তমান জামায়াতের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত কী জানেন? যিনি যোগ্য, তাকেই দায়িত্ব দলীয় পরিচয়ের কারণে অযোগ্য কাউকে জায়গা না দেওয়া যেটা যার কাজ, সেটাই তাকে দিয়ে করানো
একটা দেশ গড়তে এর চেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আর হতে পারে না।
জামায়াত এই জায়গাটাতেই অন্যদের থেকে এগিয়ে।
এখন সত্যিই মনে হচ্ছে, জামায়াত পারবে দেশ চালাতে। এই সামিট শুনে আমার অন্তত একটা বিষয় পরিষ্কার, জামায়াত শুধু ক্ষমতা চায় না, তারা ক্ষমতার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। ASPIRING BANGLADESH | POLICY SUMMIT 2026 নামটাই বলে দেয় তারা কোথায় যেতে চায়।
প্রতিশ্রুতি বনাম কমিটমেন্ট কোটি কোটি চাকরির কথা সবাই বলে। কিন্তু, কীভাবে দেবে? কোথা থেকে আসবে? কারা পাবে? এই প্রশ্নগুলোর ক্লিয়ার উত্তর জামায়াত ছাড়া আর কোনো দল দিতে পেরেছে কি?
প্রশ্নটা রেখে গেলাম।
আরেকটা মৌলিক পার্থক্য আছে, জামায়াত গালভরা প্রমিস করে না।
একটা ঘটনা বলি, ইশতেহার তৈরির সময় ইনিশিয়াল ড্রাফটে অনেক কিছু ছিল। কিন্তু এসেসমেন্টে বসে তারা নিজেরাই ৫০–৬০% বাদ দিয়েছে।
কারণ একটাই ৫ বছরে যতটুকু সম্ভব, তার এক ইঞ্চিও বেশি তারা বলতে চায় না। ডাকসু নির্বাচনের সময় শিবিরের ইশতেহারও ছিল ঠিক এমনই।
১ বছরে যতটুকু সম্ভব, তার বেশি এক লাইনও না। আর বাস্তবতা হলো, ১ বছর শেষ হওয়ার আগেই শিবির ইশতেহারের চেয়েও বেশি কাজ করেছে।
এই জায়গাটাই জামায়াত-শিবিরকে আলাদা করে। তারা নিজের প্রতি অনেস্ট নিজের কথার ব্যাপারে কমিটেড এই গুণ অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া কঠিন।
সবচেয়ে বড় কথা, জামায়াতের ভেতরের স্ট্রাকচারটাই এমন, যেখানে দুর্নীতির সুযোগ নেই বললেই চলে।
ফলে দেশের মানুষ সরাসরি সুফল পাবে, ইনশাআল্লাহ।
শেষে একটাই কথা,
চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ।
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ — Oikkoboddho Bangladesh
আসিফ মাহমুদ একটা চমৎকার কথা বলছে!
মানে "ঋণ খেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের যেকোনো উপায়ে সংবিধান ও আরপিও লঙ্ঘন করে বৈধতা দেওয়া হলে আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবো।"
এখন প্রশ্ন হইলো ,ঋণ খেলাপি জিনিসটা কি?
দ্বৈত নাগরিকত্ব কি?
এগুলোতে জড়িত কেউ এমপি বা মন্ত্রী হলে আমাদের কি সমস্যা?
দেখেন, ঋণ খেলাপি জিনিসটা সবচেয়ে ডেঞ্জারাস!
সুজা কথায় ঋণ খেলাপি মানে ব্যাংক ডাকাতি! বৈধ ডাকাত!
মানে নেতা কিংবা বড় ব্যবসায়ীরা আপনার আমার আমানতের টাকা ঋণ নেয় কিন্তু সেটা সঠিক সময়ে পরিশোধ করে না এমনকি পরিশোধ না করে আরো ঋণ নেয়।
অনেকে একেবারেই পরিশোধ করে না।
আবার কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা নিয়া সরাসরি বিদেশে পাচার করে দেয়।
তো জনগণের কি সমস্যা?
প্রথমত ব্যাংকগুলো খালি হয়ে যায়।
*সরকার বাধ্য হয়ে ব্যাংকগুলোরে টাকা দেয়, সেই টাকাটা নেয় আপনার আমার টেক্স বাড়িয়ে দিয়ে।
*টেক্স বাড়ানো মানে সব জিনিসের দাম অটোমেটিক বেড়ে যাওয়া।
*গরিব মানুষরা ঋণ পায় না, কারণ ব্যাংকে টাকা নাই।
মোট কথা সাধারণ মানুষ দ্বিগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
*আর এদিকে নেতারা ক্ষমতার জোরে ব্যাংকরে সবসময় একটা ধমকের উপ্রে রাখে।
এবার আসেন ,দ্বৈত নাগরিকত্ব!
মানে সে বাংলাদেশ এবং অন্য একটা দেশেরও নাগরিক। ভিসা ছাড়াই দুই দেশে সবসময় আসা যাওয়া করতে পারে।
ধরেন, দেশে যুদ্ধ কিংবা দুর্ভিক্ষ চলে!
তখন সেই জনপ্রতিনিধি বিপদে আপনার আমার পাশে থাকবে না।
মানুষের উপর জুলুম করে হুট করে ঐ দেশে পালিয়ে যাবে।
কোটি কোটি টাকা পাচার করে ঐ যে ভূমিমন্ত্রীর মতো ৩৫০ টা বাড়িও করে ফেলতে পারে।
দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য মায়াদয়া নাও থাকতে পারে।
কারণ তার মাথায় দেশের আগে থাকবে উন্নত দেশের চিন্তা।
তারপর মামলা দিয়া কিছুই করতে পারবেন না।
কারণ অপরাধ করে ঐ দেশে চলে যাবে।
আরো বহু জিনিস আছে।
আপনারা কি মনে করেন, যারা ঋণ খেলাপির সাথে জড়িত। আর যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে তারা কখনো বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল?
কখনোই না।
এমুহূর্তে ২০ এর উপরে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়া নমিনেশন নিছে।
অনেকে ঋণ খেলাপির সাথে জড়িত।
যদি নির্বাচন কমিশন তাদের নমিনেশন বৈধতা দেয় আর তাদের এমপি ,মন্ত্রী হতে সুযোগ দেয় তাহলে এটা হবে জনগণের সাথে সবচেয়ে বড় প্রতারণা।
তবে হাসনাত আব্দুল্লাহ সেরা একটা গেইম খেলছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ বারের এমপি ঋণ খেলাপির সাথে জড়িত বিএনপির প্রার্থী মোটামুটি কনফার্ম তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
মানে ভোটের মাঠে নামার আগেই সিস্টেমে খেলে দিতে চাইছে। সেরা পলিটিক্সটাই করছে।
হয়তো হাসনাত সফল হবে।
সারাদেশে এমন প্রার্থী অনেক কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের এ বিষয়ে জ্ঞান না থাকা কিংবা শক্ত অবস্থান না থাকার কারণে হয়তো খেলাপিরা নির্বাচন করার চান্স পেয়ে যাচ্ছে।
তবে তরুণ হাসনাত থেকে পুরো বাংলাদেশের মানুষের শিক্ষা নেয়া উচিত।
আমরা আওয়াজ উঠাই!
ঋণ খেলাপি আর দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের লাল কার্ড!!!
10/01/2026
হ্যাঁ ভোট মানেই বাংলাদেশ।
না ভোট মানেই ভা'র/তের গো'লা/মী
শহীদ জিয়াউর রহমান,শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন
সাঈদী,বেগম খালেদা জিয়া,শহীদ মতিউর রহমান নিজামী, শহীদ শরীফ ওসমান হাদী
এই পাঁচ নেতার প্রত্যেকেই
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে
লড়াই করতে গিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের
শিকার হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন।
আজ গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন
সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় আমাদের
মাঝে তাঁরা বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতেন।
সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হিসেবে
এটাই প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের দৃঢ় বিশ্বাস।
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গণভোট হ্যাঁ বলুন।
#গণভোটেহ্যাঁ #গণভোটে_হ্যাঁ #হ্যাঁ
07/01/2026
রাষ্ট্রপতি বন্দি, রাষ্ট্র কি বন্দি!
রাষ্ট্রপতিকে বন্দি করা যায়, জনগণকে নয়—এই সহজ সত্যই আজ ভেনেজুয়েলার রাজপথে আগুনের মতো জ্বলছে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, ক্ষমতার মসনদ দখল করা যায়, কিন্তু মানুষের মন নয়। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর সেই পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী ভ্রম আবারও ভেঙে পড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনলেই একটি রাষ্ট্র নতজানু হবে। নিউ ইয়র্কে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে ঘোষণা করা হয়েছিল—নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেবে যুক্তরাষ্ট্র। কে দেশ চালাবে, কীভাবে চলবে—সব নির্ধারিত হবে ওয়াশিংটনের ইচ্ছায়। কিন্তু বাস্তবতা সেই ঘোষণাকে মুহূর্তেই মিথ্যা প্রমাণ করেছে।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সংবিধান কথা বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে, একই সঙ্গে মাদুরোকেই একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্র চলেছে রাষ্ট্রের নিয়মেই—বাইরের হুকুমে নয়।
যেটা হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। সরকার ভেঙে পড়েনি, প্রশাসন পক্ষ ত্যাগ করেনি, বিরোধীরা ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। বরং ঘটেছে উল্টোটা। ভেনেজুয়েলার রাজপথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, শ্রমিক থেকে শিল্পী—সবাই এক কণ্ঠে বলছে, মাতৃভূমি বিক্রির জন্য নয়।
যাকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার ছক কষেছিল—মারিয়া কোরিনা মাচাদো—তাকেই এখন ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য বলছেন। এখানেই ধরা পড়ে সেই ষড়যন্ত্রের ফাঁক। যাদের দিয়ে দেশ চালানোর স্বপ্ন, তাদের ওপরই আস্থা নেই। তাহলে এই হস্তক্ষেপ কার জন্য, কিসের জন্য?
পশ্চিমা গণমাধ্যমে কিছু উল্লাসের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। কিন্তু যে লাখ লাখ মানুষ মাদুরোর পক্ষে রাস্তায় নেমেছে, তাদের কণ্ঠ সেখানে নেই। শুধু ভেনেজুয়েলা নয়—লাতিন আমেরিকা জুড়ে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে। কারণ সবাই জানে, গায়ের জোরে রাষ্ট্র চালাতে গেলে শেষটা হয় আগুনে।
এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার নয়। এটি গোটা বিশ্বের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। শক্তিধর রাষ্ট্র চাইলে একজন রাষ্ট্রপতিকে বন্দি করতে পারে, কিন্তু একটি জাতিকে নয়।
রাষ্ট্র বন্দি নয়।
রাষ্ট্র আজ রাজপথে দাঁড়িয়ে আছে।
আর ঐক্যবদ্ধ জনগণ—কখনো পরাজিত হয় না।
© শ্যামল নাথ
লেখক, সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা
~ শ্যামল নাথ
Shamol Nath Shamol Nath
#শ্যামলনাথ #ডোনাল্ডট্রাম্প #ভেনেজুয়েলা
07/01/2026
এক যাত্রায় দুই ফল: মাদুরোর জন্য শিকল, আর মোদীর জন্য আলিঙ্গন!
পৃথিবীটা আসলেই অদ্ভুত! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ভেনেজুয়েলায় কমান্ডো পাঠিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, আর অন্যদিকে রাশিয়ার পরম বন্ধু ভারতের সাথে করমর্দন করছেন।
সারা বিশ্ব যখন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার (Sanction) ভয়ে তটস্থ, তখন ভারত অনেকটা "ডোন্ট কেয়ার" ভাব নিয়ে রাশিয়া থেকে দেদারসে তেল কিনছে। পাকিস্তান বা অন্য কোনো দেশ হলে এতক্ষণে হয়তো নিষেধাজ্ঞার নিচে চাপা পড়ে যেত, কিন্তু ভারতের বেলায় সমীকরণটা সম্পূর্ণ উল্টো।
প্রশ্ন হলো—ট্রাম্প কেন এত আগ্রাসী হয়েও ভারতের বেলায় চুপ? আর ভারত এই তেলের দাম কীভাবে পরিশোধ করছে?
ট্রাম্প একজন কট্টর জাতীয়তাবাদী এবং ব্যাবসায়ী। তিনি বোঝেন, এই মুহূর্তে চীনকে ঠেকাতে হলে এশিয়ায় ভারতকে চটানো যাবে না। ভারত একটি উদীয়মান সুপারপাওয়ার এবং বিশাল বাজার, তাই সেখানে ট্রাম্পের "আমেরিকা ফার্স্ট" নীতিও নমনীয়। একেই বলে জিওপলিটিক্স!
মজার ব্যাপার হলো, ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) কিনছে, সেটা তাদের রিফাইনারিতে শোধন করে ডিজেল বা জেট ফুয়েল বানাচ্ছে এবং সেই তেলই আবার চড়া দামে ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি করছে! অর্থাৎ, পশ্চিমারা ভারতের হাত ঘুরে সেই রাশিয়ান তেলই ব্যবহার করছে।
ডলার ছাড়া কীভাবে তেলের দাম দিচ্ছে ভারত? (The Payment Mystery) :
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আমেরিকা তো সুইফট (SWIFT) সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বের করে দিয়েছে, তাহলে ভারত পেমেন্ট করছে কীভাবে? এখানেই মোদী সরকারের আসল কূটনীতি বা "জুগাড়" টেকনোলজি:
ক) দিহরামের (Dirham) খেলা: ডলার ব্যবহার না করে ভারত এখন প্রচুর পেমেন্ট করছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুদ্রা 'দিহরাম'-এ। যেহেতু দুবাই এখন রাশিয়ান তেল ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র, তাই এই কারেন্সি রুট করা সহজ হচ্ছে।
খ) রুপি-রুবল মেকানিজম (চেষ্টা ও সীমাবদ্ধতা): শুরুতে ভারত নিজস্ব মুদ্রা 'রুপি'-তে পেমেন্ট করতে চেয়েছিল (Vostro Account দিয়ে)। কিন্তু রাশিয়া দেখল তাদের কাছে প্রচুর রুপি জমে যাচ্ছে যা তারা খরচ করার জায়গা পাচ্ছে না। তাই এখন তারা দিহরাম বা চাইনিজ ইউয়ানের দিকে বেশি ঝুঁকছে।
গ) ঘোস্ট ফ্লিট (Ghost Fleet): ভারত তেল আনছে এমন সব ট্যাংকারে করে যাদের মালিকানা অস্পষ্ট (Shadow Fleet)। ইন্স্যুরেন্স ও পেমেন্ট সব হচ্ছে পশ্চিমা সিস্টেমের বাইরে, যাতে আমেরিকার ট্রেজারির রাডারে ধরা না পড়ে।
ভারত কেন নিষেধাজ্ঞার বাইরে?
তেলের বিশ্ববাজার: ভারত যদি আজ রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তবে তেলের দাম ব্যারেলে ২০০ ডলার ছাড়াবে। এতে ট্রাম্পের আমেরিকাতেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। তাই ট্রাম্প নিজের স্বার্থেই ভারতকে আটকাচ্ছেন না।
অপরদিকে জয়শঙ্কর বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন—ভারতের পররাষ্ট্রনীতি দিল্লি থেকে ঠিক হবে, ওয়াশিংটন থেকে নয়। পরিষ্কার ভাষায় বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন—"ইউরোপের সমস্যা মানেই বিশ্বের সমস্যা নয়।" ভারতের এই শক্ত মেরুদণ্ড এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে পশ্চিমারা তাদের সমীহ করতে বাধ্য হচ্ছে।
ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা অভিযান আর ভারতের প্রতি নীরবতা প্রমাণ করে—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে "নীতি" বলে কিছু নেই, আছে শুধু "স্বার্থ"। যার শক্তি আছে, তার সাত খুন মাফ। ভারত সেটাই প্রমাণ করে চলেছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Gandaria