O F Rokon
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from O F Rokon, Digital creator, Fulbaria.
20/02/2026
উত্তর
সিজদার পুরো সময় দুই পায়ের কোনো অংশ কিছু সময়ের জন্যও যদি যমিনে লেগে না থাকে তাহলে সিজদা হবে না। কিন্তু যদি সিজদার সময় কোনো এক পা অল্প সময়ের জন্য মাটিতে লাগানো থাকে তাহলে সিজদা সহীহ হয়ে যাবে এবং নামাযও হয়ে যাবে। তবে সিজদা অবস্থায় উভয় পা যমিনে লাগিয়ে রাখা সুন্নতে মুআক্কাদা। তাই খেয়াল রাখতে হবে যেন সিজদার সময় উভয় পা যমিনে লেগে থাকে এবং আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী থাকে।
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২০; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৮; রদ্দুল মুহতার ১/৪৪৭,৫০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/২২৩
মাসিক আলকাউসার
মানুষ বিরক্ত হয়ে গেলে আপনাকে বিনা দোষে দোষী বানিয়ে চলে যাবে 😭😭
02/02/2026
কল্পনা করেন আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটির কথা। বয়স ১২ কিংবা ১৩। ফুলের মতো পবিত্র, চোখে একরাশ স্বপ্ন। একদিন তাকে বলা হলো, তাকে একটি বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বলা হলো, সে বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী, ধনী এবং প্রভাবশালী মনীষীদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবে।
সরল বিশ্বাসে মেয়েটি প্লেনে উঠল। কিন্তু সে জানত না, চকচকে ওই প্লেনটির নাম 'ললিটা এক্সপ্রেস' (Lo**ta Express)। সে জানত না, এই প্লেনটি তাকে স্বপ্নের দেশে নয়, বরং দাজ্জালিক সভ্যতার এক গোপন জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছে। যার গন্তব্য প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ 'লিটল সেন্ট জেমস'।
দ্বীপটি দেখতে দুনিয়াবী জান্নাতের মতো। চারদিকে নীল সমুদ্র, মাঝখানে রাজকীয় প্রাসাদ। কিন্তু প্রাসাদের ভেতরে ঢুকতেই মেয়েটির স্বপ্ন কাঁচের মতো চুরমার হয়ে গেল। সে দেখল, টিভির পর্দায় যাদের সে হিরো হিসেবে দেখেছে, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী, বিশ্বনেতা, হলিউড সুপারস্টার তারা সেখানে বসে আছে। কিন্তু তাদের চোখে মমতা নেই, আছে এক আদিম, পৈশাচিক ক্ষুধা।
মেয়েটি চিৎকার করে বলেছিল, "আমি মায়ের কাছে যাব!" কিন্তু তার কান্না চাপা পড়ে গিয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জনে আর শ্যাম্পেনের বোতল খোলার শব্দে। তাকে বলা হতো, "চুপ থাকো! এরা এই পৃথিবীর ঈশ্বর। এদের সেবা করাই তোমার কাজ।" দিনের পর দিন, এই নিষ্পাপ শিশুদের ছিঁড়ে খেয়েছে তারা, যাদের পোস্টার আপনারা ঘরের দেয়ালে টাঙিয়ে রাখেন।
আপনারা হয়তো ভাবছেন, এত বড় বড় রুই-কাতলারা জড়িত, তাহলে এই খবর বের হলো কীভাবে?
জেফ্রি এপস্টেইন ছিল অত্যন্ত চতুর। সে তার ক্লায়েন্টদের নাম এবং কন্টাক্ট ডিটেইলস লিখে রাখত একটি ছোট কালো ডায়েরিতে, যা 'দ্য ব্ল্যাকবুক' (The Black Book) নামে পরিচিত। এটি ছিল তার ইনস্যুরেন্স পলিসি। সে ভাবত, এই রাঘব-বোয়ালদের নাম তার কাছে আছে বলে কেউ তাকে ছোঁবে না।
কিন্তু পাপ বাপকেও ছাড়ে না। 'ভার্জিনিয়া জুফরে' (Virginia Giuffre) নামের এক সাহসী নারী, যে ছোটবেলায় এই পিশাচদের শিকারে পরিণত হয়েছিল, সে এপস্টেইনের সহযোগী এবং রক্ষিতা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল এর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার পৃষ্ঠার সিলড ডকুমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার আদেশ দেওয়া হয়।
বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখল, এতদিন তারা যাদের ভদ্রলোক ভেবে এসেছে, আদালতের নথিতে তাদের নামগুলো জ্বলজ্বল করছে জঘন্য সব অপরাধের সাথে।
কাদের নাম নেই সেখানে? তালিকাটি দেখলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে।
১. বিল ক্লিনটন: আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা। তিনি এই দ্বীপে এবং এপস্টেইনের প্লেনে চড়েছেন বহুবার। নথিতে তাকে নিয়ে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
২. প্রিন্স এন্ড্রু: ব্রিটিশ রাজপরিবারের অহংকার। যার আভিজাত্যের গল্প শুনে আপনারা বড় হয়েছেন, সেও ছিল এই দ্বীপের নিয়মিত খদ্দের।
৩. স্টিফেন হকিং: যার বিজ্ঞান আর কসমোলজি নিয়ে আপনারা মুগ্ধ। তিনিও গিয়েছিলেন সেই পাপের দ্বীপে। নথিতে তার নামও উঠে এসেছে মাইনরদের সাথে সম্পর্কিত এক প্রসঙ্গে।
৪. বিল গেটস: বিশ্বের সেরা ধনী এবং ফিলানথ্রোপিস্ট। আফ্রিকায় শিশুদের টিকা দেয় (যদিও মহামারী ছড়িয়ে দেয়ার টিকা, বিভিন্ন ভাইরাস টেস্ট করার টিকা) তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল এই শিশু পাচারকারীর সাথে।
৫. ডোনাল্ড ট্রাম্প: বিশ্ব রাজনীতির আরেক মোড়ল।
৬. হলিউড ও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড: কেভিন স্পেসি থেকে শুরু করে নামকরা সব মডেল ও অভিনেতারা, যারা আপনাদের আইডল, তারা অনেকেই ছিলেন এই চক্রের অংশ।
জেফ্রি এপস্টেইন কি কেবল একজন বিকৃতকামী ধনী ছিল? না। সে ছিল মোসাদ (Mossad) এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি হানি ট্র্যাপ প্রজেক্টের এজেন্ট।
তার কাজ ছিল বিশ্বনেতাদের এই দ্বীপে নিয়ে এসে তাদের নোংরা কাজের ভিডিও রেকর্ড করে রাখা যাকে গোয়েন্দা ভাষায় বলা হয় Kompromat। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দিয়েই তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো।
আপনার প্রিয় নেতারা যখন টিভিতে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বা অদ্ভুত সব সেকুলার এজেন্ডার পক্ষে কথা বলে, তখন তাদের গলার দড়িটা আসলে জায়নবাদীদের হাতে থাকে। তারা জানে, মুখ খুললেই তাদের ওই গোপন ভিডিও ফাঁস হয়ে যাবে।
বাংলাদেশে কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক যদি শরিয়া নিয়ে কথা বলে, নারীদেরকে ঘরমুখী করার কথা বলে, অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে কথা বলে তখন এই দেশের সুশীলরা, নারীবাদীরা চিৎকার করে আকাশ-বাতাস ভারী করে ফেলে, "মোল্লারা সব শিশুকামী!"
কিন্তু আজ যখন শত শত প্রমাণ সামনে আসছে যে, তাদের স্বপ্নের আমেরিকা, তাদের সভ্যতার ধারক-বাহকেরা একেকজন জঘন্য লেভেলের পেড|ফ|ইল তখন তারা মুখে কুলুপ এঁটেছে। কেন? কারণ এই পিশাচরা টাই পরে, ইংরেজিতে কথা বলে এবং দামী পারফিউম মাখে। তাদের কাছে সাদা চামড়ার অপরাধ কোনো অপরাধ না, ওটা লাইফস্টাইল। যত্তসব ভন্ড হিপোক্রিটের দল, সবগুলারে আমেরিকান হাই হিল দিয়ে পিডানো দরকার।
এই দাজ্জালিক বা NWO (New World Order) এর মূলমন্ত্রই হলো পারিবারিক প্রথা ধ্বংস করা এবং বিকৃত যৌনতাকে নরমাল করা। এই এপস্টেইন চক্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা সেকুলার পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পচে যাওয়া কলিজার বাস্তব ছবি।
আপনার রব কি বলেননি, "ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর"?
ইসলাম ছাড়া, শরিয়াহ ছাড়া এই পিশাচদের থামানোর কোনো আইন দুনিয়াতে নেই। কারণ আইন যারা বানায় (Lawmakers), তারাই আজ এই অপরাধের হোতা।
কান্না করেন। শুধু ওই নির্যাতিত শিশুদের জন্য না, নিজের ঈমানের অবস্থার জন্য কান্না করেন। আপনি কাদের ফলো করছেন? হাশরের মাঠে এই পেডোফাইলরা যখন জাহান্নামে যাবে, আপনাকে যেন তাদের ফ্যান বা সাপোর্টার হিসেবে তাদের পেছনে লাইনে দাঁড়াতে না হয় সেই মোনাজাত করেন! এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
— Sawtul Zilzal
01/02/2026
যারা মসজিদে চেয়ারে বসে নামায পড়েন
প্রশ্নঃ কোন কোন মসজিদে আমরা দেখতে পাই কিছু মুসল্লির জন্য চেয়ার রাখা আছে। এসব মুসল্লি চেয়ারে বসে ইমামের সাথে ফরয নামায কিংবা তারাবীর নামায আদায় করেন। ইনাদের নামাযের হুকুম কী?
উত্তরঃ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি।
পর সমাচারঃ
নামাযে ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো নামাযের একটি রুকন। শরিয়ত অনুমোদিত ওজর ছাড়া যে ব্যক্তি নামাযের তাকবীরে তাহরীমার শুরু থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত দাঁড়াবে না তার নামায বাতিল। আল্লাহ্তাআলা বলেনঃ "তোমরা আল্লাহ্র জন্য বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়াও" [সূরা বাক্বারা; ২:২৩৮]
'দাঁড়ানোটা' নামাযের রুকন হওয়া ফরয নামাযের জন্য খাস। নফল নামাযে দাঁড়ানো ওয়াজিব নয়। বরং বসে নামায পড়া জায়েয। কেউ যদি বসে নামায পড়ে তাহলে সে ব্যক্তি অর্ধেক সওয়াব পাবে।
'দাঁড়ানোটা' ফরয নামাযের সাথে খাস হওয়ার দলিল হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসঃ "তুমি দাঁড়িয়ে নামায পড়"। [সহিহ বুখারী (১০৬৬)]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সওয়ারীর ওপর নফল নামায পড়তেন। যখন ফরয নামায পড়তে চাইতেন তখন তিনি সওয়ারী থেকে নেমে যেতেন। [সহিহ বুখারী (৯৫৫) ও সহিহ মুসলিম (৭০০)] তিনি এটি করতেন দাঁড়ানোর রুকন আদায় করা ও কিবলামুখী হওয়ার জন্য।
কারো দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকার পরেও সে যদি বসে নফল নামায আদায় করে তাহলে সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে। যেহেতু আব্দুল্লাহ্বিন আমর (রাঃ) এর হাদিসে এসেছেঃ "তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমাকে হাদিস বলা হয়েছে যে, আপনি বলেছেন বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সওয়াব পাবে। কিন্তু আপনি তো বসে নামায আদায় করেন। তিনি বললেনঃ ঠিকই। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।" [ইমাম মুসলিম (৭৩৫) বর্ণিত হাদিসের অংশবিশেষ]
ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেনঃ "এ হাদিসকে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বসে বসে নফল নামায পড়ার অর্থে বুঝতে হবে। এমন নামাযী দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবেন। পক্ষান্তরে, যদি দাঁড়াতে অক্ষম হওয়ার কারণে বসে নামায পড়েন সেক্ষেত্রে তার সওয়াব কম হবে না। বরং সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন। আর দাঁড়াতে সক্ষম ব্যক্তি বসে বসে ফরয নামায আদায় করলে তার নামায শুদ্ধ হবে না। সুতরাং সে কোন সওয়াব পাবে না। বরং তার গুনাহ হবে।" [শারহু মুসলিম (৬/২৫৮)]
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা চেয়ারে বসে নামায আদায়কারী সেসব মুসল্লিগণকে বলব যারা ফরয নামাযের জন্য দাঁড়ান নাঃ যদি আপনাদের দাঁড়ানোর মত সক্ষমতা থাকে তাহলে বসে বসে নামায আদায় করা আপনাদের জন্য জায়েয হবে না; যদি না আপনাদের এমন কষ্ট হয় যার ফলে ক্ষতি হতে পারে। সামান্য কষ্ট কোন ওজর নয়।
সূত্রঃ শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
01/02/2026
গুনাহ ও অশ্লীলতা
গুনাহ ও পাপাচার থেকে বিরত থাকা বান্দার ঈমানের পরিচায়ক। যদি মুমিন ব্যক্তি যথাযথ বিশ্বাস রাখে যে, তাকে তার রবের সামনে নিজের কথা ও কর্মের হিসাব দিতে হবে, তাহলে সে অবশ্যই হারাম-হালাল ও বৈধ-অবৈধের মাঝে পার্থক্য করবে। সমাজে এই বিশ্বাস যেই পরিমাণ দুর্বল হবে, হারাম ও অশ্লীলতা সেই পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রত্যেকটি মুসলিমসমাজের কর্তব্য হলো সেই ঈমানী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য অবিরাম চেষ্টা করা। মানুষ গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে তবেই আল্লাহ তাআলার কাছে প্রিয় ও তাঁর নিকটবর্তী হতে পারবে। যে নিজেকে গুনাহ থেকে পবিত্র রাখে, সে আল্লাহর নিকট সম্মানিত। গুনাহ কখনো শান্তির মাধ্যম হতে পারে না।
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুঅতের আগে থেকেই নিজেকে গুনাহ, অশ্লীলতা, পৌত্তলিকতা, যেনা-ব্যভিচার, গান-বাজনা, মাদকদ্রব্য পান ইত্যাদি থেকে পবিত্র রাখতেন। অনুরূপভাবে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম খাদ্য সম্পর্কেও পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কোনো একদিন বাড়ি ফিরে দেখি যে, আমার বিছানার উপর একটি খেজুর পড়ে আছে, আমি তা খাওয়ার জন্য উঠাই, তখনই আমার আশঙ্কা হয় যে, সম্ভবত এ খেজুর ছাদাক্বার। তাই আমি তা ছুড়ে ফেলি’। [ছহীহ বুখারী, হা/২৪৩২; ছহীহ মুসলিম, হা/১০৭০।]
কারণ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ছাদাক্বা-যাকাত গ্রহণ করা অবৈধ ছিল। [ছহীহ মুসলিম, হা/১০৬৯।] হালাল ও হারাম বাছাই করতে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহযুক্ত বস্তু থেকেও সাবধান থাকতেন। পক্ষান্তরে আমরা সুস্পষ্ট অবগতির পরও নানা হারাম ব্যবসায় জড়িত। আমাদের বিরুদ্ধাচরণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা সম্পদের চরম নেশায় আত্মহারা হয়ে হালাল-হারাম তো পরওয়া করিই না, উপরন্তু কল্যাণকামী ও উপদেশ প্রদানকারী উলামায়ে কেরামকে বহু অবৈধ বিষয়ে নীরব থাকতে পর্যন্ত বাধ্য করি। আমরা দাম্ভিকতায় উন্মাদ হয়ে ইসলামী শিক্ষাকে তুচ্ছ ও দারিদ্র্যের নিশ্চিত কারণ মনে করি, সন্তানসন্ততিকে কুরআন ও ইসলামী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেদেরকে জ্ঞানী আর অন্যদেরকে নির্বোধ বিবেচনা করি। ওহে জাতির লোকেরা! তোমাদের এ দুরবস্থা সত্যিই হৃদয়বিদারক!
অপরদিকে ইন্টারনেটের এ যুগে আমরা যেভাবে গুনাহে লিপ্ত হয়েছি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নারীর ছবি, মিউজিক, মিথ্যা কৌতুক, অবৈধ সম্পর্ক, জুয়া, সময়ের অপচয়... আরও কত কী! অনেক সময় যখন বৈধ কোনো ভিডিওতে অবৈধ মিউজিক চলে, তখন আমরা মনে করি যে, আমি তো ভিডিও দেখছি, মিউজিক তো শুনি না। এটাও শয়তানের একটা ওয়াসওয়াসা।
যারা ইন্টারনেটে পাপাচারে লিপ্ত, তওবা যাদের চিন্তনেই আসে না, তাদের হৃদয় দিনের পর দিন কঠোর হয়ে যাচ্ছে এবং তারা মহান আল্লাহর বিশেষ দয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। হে আল্লাহ! আমরা এ অবস্থা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
এ পৃথিবীতে অসংখ্য ফেতনা রয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সর্বাপেক্ষা ধ্বংসাত্মক ফেতনা কী?
উসামা ইবনু যায়েদ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বড় কোনো ফেতনা ছেড়ে যাইনি’। [ছহীহ বুখারী, হা/৫০৯৬।]
আমাদের যুবকদের চারিত্রিক অবক্ষয়ের বড় একটা কারণ হলো এই ফেতনা। নিজের ছেলেমেয়েকে আল্লাহভীরু ও লজ্জাশীল করে গড়ে তুলুন। কো-এডুকেশন বা সহশিক্ষা ও অবৈধ মেলামেশা থেকে তাদের দূরে রাখুন। বিবাহসহ অন্যান্য সকল অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। যুবকদের দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করুন।
নারীদের ফেতনা এক বড় ফেতনা। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ফেতনা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। উমায়মা বিনতু রুক্বায়ক্বা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়আত করার জন্য আমরা কয়েকজন মহিলা তাঁর কাছে আসলাম... আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আপনার হাতে হাত রেখে বায়আত করতে চাই। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি নারীদের সাথে হাত মেলাই না’। বায়আতের সময় হাতে হাত রাখা হয়, কিন্তু নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাথে এরূপ বায়আত করলেন না। অতঃপর তিনি বললেন, ‘আমার একজন মহিলার সাথে কথা বলা ও একশজন মহিলার সাথে কথা বলা সমান। আমার একজনের সাথে বায়আত করা বাকীদের জন্য যথেষ্ট’। [নাসাঈ, হা/৪১৮১।]
এ ফেতনার যুগে মুক্তির পথ হলো নিজের চক্ষুকে নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ চোখ হৃদয়ের জন্য বার্তাবাহক। যখন চোখ কোনো হারাম বস্তু দেখে, তখন হৃদয় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে এবং শয়তান সেই হারামে লিপ্ত হওয়ার প্ররোচনা দিতে থাকে।
জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক মহিলার উপর চোখ পড়ল, (কোনো নারীকে দেখে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে ওয়াসওয়াসা আসতে পারে এমন ধারণা রাখা যাবে না)’। [ইকমালুল মু‘লিম, ৪/৫৩১।] কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে) নিজের স্ত্রী যায়নাব বিনতু জাহশ রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে আসলেন, প্রয়োজন পূরণ করার পর ছাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বললেন, ‘নারী শয়তানের রূপে আসে, শয়তানের রূপে যায়; তাই যখন কেউ কোনো নারীকে দেখবে, সে যেন নিজের স্ত্রীর কাছে চলে যায়। কারণ কেউ যদি এরূপ করে, তাহলে তার ওয়াসওয়াসা কেটে যাবে’। [ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০৩।]
শয়তানের রূপে আসা-যাওয়ার অর্থ এই যে, সে ফেতনা ও ওয়াসওয়াসার কারণ। [ইকমালুল মু‘লিম, ৪/৫৩১।] নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহের কারণ থেকেও দূরে থাকতেন।
উম্মুল মুমিনীন ছাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই রাযিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রামাযানের শেষ দশকে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই‘তিকাফে ছিলেন। আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে গেলাম, কিছুক্ষণ কথা বলার পর আমি তাঁর কাছ থেকে ফিরে আসলাম। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে ছিলেন, যখন আমরা দরজার কাছে পৌঁছলাম, তখন পাশ দিয়ে দুজন আনছারী ছাহাবী যাচ্ছিলেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনে আশঙ্কা হলো যে, এরা তাঁর সম্পর্কে কুধারণা করতে পারে, তাই তিনি বলতে লাগলেন, ‘দাঁড়াও, ইনি ছাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই, অন্য কেউ নন’। তারা বললেন, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একথা তাদের কঠিন মনে হলো। হুশাইমের বর্ণনায় রয়েছে, তারা বললেন, আমরা কি আপনার সম্পর্কে কুধারণা করতে পারি? [ফাতহুল বারী, ৪/২৭৯।] নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে, তাই আমার ভয় হলো যে, তোমাদের মনে শয়তান কোনো ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে পারে’। [ছহীহ বুখারী, হা/২০৩৫।]
সর্বদা গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকাই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ, আমরা কি তাঁর এই আদর্শ গ্রহণ করতে পেরেছি? আমরা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা দাবি করি, তাঁর বিরুদ্ধে একটা শব্দও সহ্য করি না; কিন্তু বাতিল আক্বীদা, অবৈধ কথা ও কর্মে নিরন্তর তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকি। আল্লাহ আমাদের হেদায়াত দান করুন- আমীন!
'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়।" [সহীহ বুখারী-তাওহীদ পাবলিকেশনঃ ৩৪৬১, সহীহ বুখারী-আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩২০৩, সহীহ বুখারী-ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২১২]
"কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা।" [সহীহ্ মুসলিমঃ ২৬৭৪]
উপস্থাপনায়ঃ মোঃ আব্দুল গফুর
কৃতজ্ঞতায়ঃ হাসান আল-বান্না মাদানী
01/02/2026
হুরমতে মুস্সাহারার প্রকাশিত লিখিত ফাতাওয়া
আমাদের গ্রুপের ওয়েবসাইট
www.fatwamasail.com ও
ফতোয়া সেন্টারের থেকে প্রকাশিত
আপনি ও আপনার লিখিত ফতোয়া নিতে সরাসরি যোগাযোগ আমাদের ফতোয়া বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপে ০১৯১৩ ৪৬০ ৩৪৪।
উল্লেখ্য: কোনো এডমিনের ইনবক্সে নয়
#তালাক #লিখিতফাতাওয়া #মাসআলা #ইসলামিকপ্রশ্নউত্তর #ফাতাওয়ামাসায়েল
01/02/2026
সুস্থ থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ ❤️🫰
31/01/2026
মসজিদের মোয়াজ্জিনের চাকরি করতেন,৭দিন যাবত তার মার খুবই অসুস্থ, কমিটির কাছে ছুটি চাচ্ছে তার মারে দেখতে যাবে মসজিদ কমিটি ছুটি দেয় না
তাই চাকরি বাদ দিয়ে মারে দেখার জন্য চলে যাচ্ছে
31/01/2026
তোদের মা নাই? হ্যাঁ, মা ছাড়া পৃথিবীতে কেউ জন্মাতে পারেনি। কিন্তু শরিয়াহ বলে— একমাত্র স্ত্রী ব্যতিত কোনো নারীকে ওভাবে বুকে নেবার সুযোগ নাই। এমনকি সে নারী যদি মা, বোন কিংবা কন্যাও হন। স্বজ্ঞানে জেনেবুঝে এমনটা করা সরাসরি হারাম। সেটা নিয়ে অনুতপ্ত হওয়া উচিত। কোনো যুক্তিতে বৈধ করার সুযোগ নাই। বরং সিনা টান করে সেটার পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে অন্যকে ই/ত/র বলে গালি দেওয়া আল্লাহর বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। শরিয়ারহ’র অকাট্য এক বিধানকে গলার জোরে এভাবে নরমালাইজ করার অধিকার কারও নাই।
অন্ধ অনুসারী না হলে কোরআন সুন্নাহ’র আলোকে আমার কথাগুলো ভুল প্রমাণ করুন, নাহয় তওবা করুন!
31/01/2026
সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে ডাকতেন— “হে দুই সম্মানিতের কন্যা”।
তিনি তাঁকে সম্মান করতেন, তাঁর পরিবারকেও সম্মান করতেন।
এক রাতে সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) শহরের চারপাশে ঘুরে প্রজাদের অবস্থা খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি তাঁবু দেখলেন, যা আগে কখনো দেখেননি। কৌতূহলী হয়ে তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন— কী খবর, তা জানার জন্য।
তিনি তাঁবু থেকে কান্না ও কাতর আর্তনাদের শব্দ শুনতে পেলেন। এতে তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল। তিনি ডাক দিলেন, তখন একটি লোক তাঁবু থেকে বেরিয়ে এল।
উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন:
— তুমি কে?
লোকটি বলল:
— আমি মরুভূমির এক গ্রামের মানুষ। দারিদ্র্য আমাদের ওপর চেপে বসেছে। তাই আমি আমার পরিবার নিয়ে এসেছি উমরের সাহায্য চাইতে। আমরা শুনেছি উমর মানুষের খোঁজখবর রাখেন এবং প্রজাদের সাহায্য করেন।
উমর (রাঃ) বললেন:
— এই কান্নার শব্দ কিসের?
লোকটি বলল:
— আমার স্ত্রী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
উমর (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন:
— তোমাদের কাছে কি কেউ আছে, যে তার দেখাশোনা ও প্রসব করাতে পারে?
লোকটি বলল:
— না, শুধু আমি আর সে— আর কেউ নেই।
উমর (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন:
— তার খাবারের ব্যবস্থা করার মতো কোনো সামর্থ্য তোমার আছে?
লোকটি বলল:
— না।
উমর (রাঃ) বললেন:
— তুমি অপেক্ষা করো। আমি তোমাদের জন্য খাবার এবং এমন কাউকে নিয়ে আসব, যে তাকে প্রসব করাতে পারবে।
এরপর সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) নিজের ঘরে গেলেন। তাঁর ঘরে ছিলেন তাঁর স্ত্রী— সাইয়্যিদা উম্মে কুলসুম (রাঃ), যিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর কন্যা।
উমর (রাঃ) ডাক দিলেন:
— হে দুই সম্মানিতের কন্যা! আল্লাহ তোমার জন্য যে কল্যাণ পাঠিয়েছেন, তাতে কি তুমি আগ্রহী?
তিনি বললেন:
— সেটা কী?
উমর (রাঃ) বললেন:
— শহরের এক প্রান্তে এক গরিব, অসহায় নারী সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে।
তিনি বললেন:
— আপনি কি চান, আমি নিজেই তার দায়িত্ব নেই?
উমর (রাঃ) বললেন:
— উঠো, হে দুই সম্মানিতের কন্যা! নারীর প্রসবের জন্য যা যা প্রয়োজন, তা প্রস্তুত করো।
এরপর উমর (রাঃ) খাবার ও রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিস নিজ মাথায় বহন করলেন। দু’জনে একসাথে রওনা হলেন।
তাঁবুতে পৌঁছে উম্মে কুলসুম (রাঃ) ভেতরে প্রবেশ করলেন প্রসব করানোর জন্য। আর সাইয়্যিদুনা উমর (রাঃ) বাইরে সেই লোকটির সাথে বসে খাবার রান্না করতে লাগলেন।
হঠাৎ তাঁবুর ভেতর থেকে উম্মে কুলসুম (রাঃ) ডেকে বললেন:
— হে আমিরুল মু’মিনীন! লোকটিকে জানিয়ে দিন— আল্লাহ তাকে একটি সন্তান দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আর তার স্ত্রী ভালো আছে।
যখন লোকটি “হে আমিরুল মু’মিনীন” কথাটি শুনল, সে বিস্ময়ে পিছিয়ে গেল। সে জানতই না যে এ ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব।
উমর (রাঃ) হেসে বললেন:
— কাছে এসো, কাছে এসো। হ্যাঁ, আমিই উমর ইবনুল খাত্তাব। আর যিনি তোমার স্ত্রীর সন্তান প্রসব করিয়েছেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর কন্যা উম্মে কুলসুম।
লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল:
— নবী পরিবারের লোকেরা আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসব করালেন! আর আমিরুল মু’মিনীন নিজে আমার ও আমার স্ত্রীর জন্য রান্না করলেন!
উমর (রাঃ) বললেন:
— এগুলো নাও। আর যতদিন আমাদের কাছে থাকবে, আমি তোমাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে যাব।
এটাই সেই আদর্শ, যা তারা গ্রহণ করেছিলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর কাছ থেকে। উমরের মর্যাদা কেবল নামাজ, রোজা, কিয়াম বা পৃথিবীতে করা বিজয়ের কারণে ছিল না; বরং তাঁর ছিল এক বিনয়ী, ভীত, নম্র ও আল্লাহমুখী হৃদয়— যে হৃদয় ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করত এবং কিয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির আগে নিজেকেই জবাবদিহি করত।
আপনি যদি গল্প ও পড়াশোনা ভালোবাসেন, তাহলে আমাদের পেজটি ফলো করুন— যেন আমাদের নতুন সবকিছু আপনার কাছে পৌঁছে যায়।
“ভাই ও বোনেরা, আমরা উপকারী জ্ঞান পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। দয়া করে আমাদের প্রতি কৃপণতা করবেন না— পোস্টে লাইক দিন, মন্তব্য করুন এবং শেয়ার করুন। গাছ কীভাবে ফল দেবে, যদি আপনি তাকে পানি না দেন?”
যদি পড়া শেষ করে থাকেন, একটি ভালো আমল রেখে যান— তাসবিহ পড়ুন, ইস্তিগফার করুন, নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠান।
বিশ্বাস করুন, আপনি কিছুই হারাবেন না যদি একটি লাইক দেন বা একটি অক্ষর হলেও মন্তব্য করেন। এতে আমি আনন্দ পাই, কারণ আপনি দ্বীনি ও কল্যাণকর কনটেন্ট ছড়াতে সহযোগিতা করেন।
আমার সেই সব প্রিয় ও বিশ্বস্ত অনুসারীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা সবসময় আন্তরিকভাবে সাড়া দেন।
#সংগৃহীত
30/01/2026
উত্তর 👇👇👇
ইসলামি ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী, স্ত্রী যদি স্বামীকে 'বাবা' বা এই জাতীয় কোনো সম্মানসূচক বা স্নেহসূচক শব্দে ডাকেন, তবে এতে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না বা বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয় না। এটি কেবল একটি সম্বোধন হিসেবেই গণ্য হবে। তবে অকারণে বা নিয়মিত এভাবে ডাকা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।
নিচে এর স্বপক্ষে ফিকহী কিতাবের আরবি ইবারতসহ রেফারেন্স দেওয়া হলো:
১. ফাতাওয়া শামি (রদ্দুল মুহতার)
ফাতাওয়া শামিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ জাতীয় সম্বোধনে বিবাহ নষ্ট হয় না।
العربية: "وَلَوْ نَادَى امْرَأَتَهُ يَا أُمِّي أَوْ يَا ابْنَتِي أَوْ يَا أُخْتِي لَا يَنْعَقِدُ بِهِ الظِّهَارُ، وَكَذَا لَوْ نَادَتْ زَوْجَهَا يَا أَبِي أَوْ يَا أَخِي لَا يَحْرُمُ، وَإِنْ كَانَ يُكْرَهُ ذَلِكَ."
অনুবাদ: যদি কেউ তার স্ত্রীকে 'মা', 'মেয়ে' বা 'বোন' বলে ডাকে, তবে তাতে জিহার (এক প্রকার তালাকতুল্য শব্দ) সংঘটিত হবে না। একইভাবে স্ত্রী যদি তার স্বামীকে 'বাবা' বা 'ভাই' বলে ডাকে, তবে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হবে না; যদিও এভাবে ডাকা মাকরূহ।
রেফারেন্স: রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামি), খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৭০ (বৈরুত প্রকাশনী)
২. আল-বাহরুর রায়েক
প্রসিদ্ধ হানাফি ফিকহগ্রন্থ আল-বাহরুর রায়েকেও একই কথা বর্ণিত হয়েছে।
العربية: "وَفِي الْخُلَاصَةِ: لَوْ نَادَى امْرَأَتَهُ يَا أُمِّي أَوْ يَا أُخْتِي أَوْ يَا بِنْتِي لَا يَكُونُ ظِهَارًا وَلَا يَقَعُ بِهِ شَيْءٌ... وَكَذَا لَوْ نَادَتْ الزَّوْجَةُ زَوْجَهَا يَا أَبِي لَا يَحْرُمُ."
অনুবাদ: খুলাসাতুল ফাতাওয়াতে আছে: যদি স্বামী তার স্ত্রীকে মা, বোন বা মেয়ে বলে ডাকে, তবে তা জিহার হবে না এবং কোনো তালাকও পড়বে না। একইভাবে যদি স্ত্রী স্বামীকে 'বাবা' বলে ডাকে, তবে স্বামী হারাম হবে না।
রেফারেন্স: আল-বাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১০৭
৩. ফাতাওয়া আলমগিরি (আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ)
العربية: "لَوْ نَادَى امْرَأَتَهُ بِصِغَرِهَا يَا بِنْتِي أَوْ يَا أُخْتِي أَوْ يَا أُمِّي لَا يَكُونُ ظِهَارًا وَيُكْرَهُ ذَلِكَ... وَلَوْ نَادَتْ الزَّوْجَةُ زَوْجَهَا بِيَا أَبِي أَوْ يَا أَخِي فَلَا بَأْسَ بِهِ عِنْدَ بَعْضِهِمْ، وَالْمُخْتَارُ أَنَّهُ يُكْرَهُ."
অনুবাদ: স্বামী যদি স্ত্রীকে মা, বোন বা মেয়ে বলে ডাকে, তবে তা জিহার হবে না, তবে তা মাকরূহ। আর স্ত্রী যদি স্বামীকে 'বাবা' বা 'ভাই' বলে ডাকে, তবে কোনো কোনো ইমামের মতে এতে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু নির্ভরযোগ্য মত হলো এটি মাকরূহ বা অনুচিত।
রেফারেন্স: আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫০৭
সারসংক্ষেপ:
আপনার জিজ্ঞাসিত ক্ষেত্রে ঝগড়ার সময় স্ত্রী স্বামীকে 'বাবা' ডাকার কারণে নিকাহ বা বিবাহ বন্ধনের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে ভবিষ্যতে স্বামীকে সম্মানসূচক বা ভালোবাসাপূর্ণ অন্য কোনো শব্দে সম্বোধন করাই শ্রেয়।
30/01/2026
এক বুযুর্গের স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত ঝগড়াটে। তিনি সারাক্ষণ ঝগড়া করতেন। বুযুর্গ যখনই ঘরে ঢুকতেন, অমনি গালমন্দ আর ঝগড়া শুরু হয়ে যেত‼️ এক ব্যক্তি সেই বুযুর্গকে বললেন, "আপনি দিনরাতের এই অশান্তি আর ঝগড়া কেন সহ্য করছেন⁉️ এই আপদ বিদায় করুন এবং তাকে তালাক দিয়ে দিন‼️"
তখন সেই বুযুর্গ উত্তর দিলেন⬇️
"ভাই! তালাক দেওয়া তো খুব সহজ কাজ‼️যখন চাইবো তখনই দিতে পারবো। কিন্তু আসল কথা হলো, এই মহিলার মধ্যে অনেক ত্রুটি ও খারাপ দিক থাকলেও।তার ভেতরে এমন একটি গুণ আছে। যার কারণে আমি তাকে কখনো ছেড়ে দেব না এবং কখনো তালাক দেব না‼️
আর সেই গুণটি হলো, আল্লাহ তা'আলা তার ভেতরে 'আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা'র এমন এক গুণ রেখেছেন। যদি আমি কোনো কারণে গ্রেপ্তার হয়ে যাই। এবং ৫০ বছরও জেলে থাকি‼️ তবে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, আমি তাকে যে কোণে বসিয়ে রেখে যাব‼️সে সেই কোণেই বসে থাকবে। অন্য কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবে না। আর এই বিশ্বস্ততা এমন এক গুণ যার কোনো মূল্য হতে পারে না‼️"
মানুষের দোষ-ত্রুটি খোঁজার চেয়ে তার গুণের কদর করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ‼️একটি বড় গুণ অনেকগুলো ছোট ছোট ত্রুটিকে ঢেকে দিতে পারে। ধৈর্য ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখে‼️
🖤🖤ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন।হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.
🖤এই জামানায় এমন বিশ্বস্ত মেয়ে পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়া একই কথা।🖤
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Culinary Team
Attire
Website
Address
Fulbaria