Md Rayhan Sheikh

Md Rayhan Sheikh

Share

Blood Group B(+)

13/09/2023

মেলানিন:

মেলানিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। যা মেলানোসাইট নামক কোষ থেকে তৈরি হয়, যার কারণে মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, চুল ও চোখের মণি পাখির পালক কালো হয়। মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়। এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত।

ত্বকে উপস্থিত বিশেষ কোষ মেলানোসাইট থেকে উৎপন্ন হয়। মেলানিন নামক রঞ্জক যেটি ত্বকের বর্ণায়নের জন্য দায়ী। এ কোষগুলো কোনোভাবে আহত হলে মেলানিনের উপাদান ব্যাহত হয়। কিছু অসুখের ক্ষেত্রে শুধু দেহের অংশবিশেষের ফলে আক্রান্ত হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দেহেই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত মেলানিনের উপস্থিতি ত্বকের রং গাঢ় করে এবং মেলানিনের অভাবে ত্বকের রং ফ্যাকাশে করে। মেলানিনের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে কিছু রোগের উৎপত্তি হতে পারে, যেমন- ভিটিলেগো বা শ্বেতি যাতে ত্বকে সাদা ছোপ দেখা দেয়, আলবিনিজাম ইত্যাদি যা ত্বকের রংকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণ ও উপসর্গ :

১. চুল, দাড়ি, গোঁফ, ভ্রম্ন এবং চোখের পাতা খুব কম বয়সে সাদা হয়ে যায়।

২. মুখের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের চামড়ার রং নষ্ট হয়ে যায়।

৩. ত্বকের বর্ণলোপ।

৪. ত্বকের এক বা একাধিক অঞ্চলের বর্ণলোপ।

৫. সমগ্র দেহের বর্ণলোপ।

কারণগুলো : ত্বকে কিছু অন্তর্নিহিত অবস্থার জন্য মেলানোসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মেলানিনের উপাদান ব্যাহত হয়, তার ফলস্বরূপ মেলানিনের অভাব ঘটতে পারে।

\হউত্তরাধিকার সূত্রে ঘঠিত মেলানিনের অভাব হলে মেলানিন শরীরে কম থাকে বা শরীরে থাকে না বললেই চলে। যেমন- আলবিনিজম।

অটোইমিউন রোগের ফলে শরীরের আঞ্চলিক বা সামগ্রিক মেলানোসাইট ধ্বংস হয়ে যাওয়া। যেমন- শ্বেতি।

আলসার, পোড়া, ফোসকা, সংক্রমণ ইত্যাদি আঘাতের ফলে ত্বকের কোপ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং আহত অঞ্চলের মেলানিন প্রতিস্থাপিত না হওয়া।

নির্ণয় ও চিকিৎসা :

যে পদ্ধতির মাধ্যমে এটি

নির্ণয় করা যায়।

১. রোগের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ইতিহাস।

২. সাদা ছোপ সন্ধানে শারীরিক পরীক্ষা।

৩. ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্তকরণে রক্ত পরীক্ষা।

৪. আক্রান্ত ত্বকের বায়োপসি।

যে কারণে মেলানিনের অভাব ঘটেছে তার ওপরে এর চিকিৎসা নির্ভর করে। চিকিৎসক যে সব পরামর্শ দিয়ে থাকেন, সেগুলো হলো- কটিকোষ্টরয়েড ক্রিম, ন্যারো-ব্যান্ড আল্ট্রাভায়োলেট-বি থেরাপি, ফটোকেমোথেরাপি, লেসার ট্রিটমেন্ট।

এ রোগের ঘরোয়া কিছু প্রতিকার হলো- সানস্ক্রিনের ব্যবহার ও কনসিলার প্রভৃতি কসমেটিক্সের ব্যবহার।

ত্বক থেকে স্থায়ীভাবে মেলানিন কমানোর সব থেকে দ্রম্নত উপায় হলো লেজার চিকিৎসা। কিন্তু এ বিকল্পটি খুবই ব্যয়বহুল। এর বিকল্প হিসেবে কিছু ত্বক উজ্জ্বল করার ক্রিম দোকান থেকে অথবা একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কিনতে পারেন। প্রাকৃতিক ঘরোয়া প্রতিকার যেমন- হলুদ, অ্যালোভেরা, টমেটো, শসা, লেবু, আলু ইত্যাদিও ত্বকে মেলানিন হ্রাস করতে ব্যবহার করা হয়। মেলানিন ত্বককে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মেলানিন কমানোর কিছু ঘরোয়া প্রতিকার-

\হ১. আলু ত্বকের ওপর এবং কালো ছোপের ওপর খুব ভালো কাজ করে। আলুর পেস্ট ত্বকে লাগালে কিছু দিনের মধ্যেই এর প্রভাব দেখা যাবে। এর ফলে ত্বকে মেলানিনের পরিমাণ কমে।

\হ২. হলুদ, মেলানিনের মাত্রা কমাতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করার একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এর পেস্টকে জলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে, গলায় এবং হাতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন, তারপরে ধুয়ে ফেলুন।

\হ৩. শসা ত্বকে মেলানিনের মাত্রা কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায়। কিন্তু এটি যথেষ্ট ধীরে কাজ করে। শসাকে কেটে নিয়ে অথবা এর পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। এ উপায়টি অসুখের ছাপ ত্বক থেকে সরাতেও কাজে লাগে।

\হ৪. অ্যালোভেরা ত্বকের সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখার জন্য ত্বকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান দেয়। এ ছাড়া এটির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনের মাত্রা কমে যায় এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অ্যালোভেরার পেস্ট ত্বকে লাগানোর পর সেটিকে শুকোতে দিন, যাতে সব প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো ত্বকে যেতে পারে এবং সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে।

\হ৫. টমেটোকে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জোগানকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া এর মধ্যে বিভিন্ন রকম ভিটামিন থাকে। এটি মেলানিনের থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি খুব ভালো উপায়। টমেটো পেস্ট কুড়ি মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে দিন এবং জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এ রকম করলে আপনার মুখের কালো ছোপগুলো মুছে যাবে এবং মেলানিনের পরিমাণ কমে আসবে।

09/06/2023

টাইফয়েড জরের জটিলতা

পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ, অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ, মেরুদণ্ডে সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ, পিত্তথলিতে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া, স্নায়বিক সমস্যা এমনকি কিডনিতেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টাইফয়েড সাধারণত যেকোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই কারণ দেহে যদি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে তাহলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা। তবে কম রোগপ্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি যেমন এইচআইভি পজিটিভ ও এইডস আক্রান্ত রোগীরা সহজেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে।

টাইফয়েড জরের চিকিৎসা

রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধক না হলে, ফ্লুরোকুইনোলন যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন সবচেয়ে কার্যকরি। অন্যথায়, তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন যেমন সেফট্রায়াক্সন বা সেফোট্যাক্সিম কার্যকরি। মুখে খাওয়ার ঔষধের মধ্যে সেফিক্সিম ব্যবহার করা হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাইফয়েড প্রাণঘাতী নয়।অ্যান্টিবায়োটিক যেমন অ্যাম্পিসিলিন, ক্লোরাম্ফেনিকল, অ্যামক্সিসিলিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ইত্যাদি টাইফয়েড চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসায় এ রোগে মৃত্যুর হার ১% এ নেমে আসে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিরোধ

সব সময় পরিষ্কার পোশাক পরে, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করে টাইফয়েড প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া, অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস আলাদা করে রাখতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। বাইরের খাবার খেলে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। অপরিষ্কার শাকসবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন টয়লেটে ময়লা বা পানি জমে না থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খোলামেলা ও পরিষ্কার বাসায় রাখতে হবে।

03/06/2023

#সাস্থসেবা

#ডাক্তার


টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড বা টাইফয়েড জ্বর (ইংরেজি: Typhoid fever) হল এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগ, যা Salmonella typhi ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়। লক্ষণ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে, সচরাচর জীবাণু প্রবেশের ৬-৩০ দিন পর লক্ষণগুলি দেখা যায়।প্রায়ই কয়েকদিনের ব্যবধানে জ্বর এর তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। দুর্বলতা, পেট ব্যাথা, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, মাথা ব্যাথা সচরাচর হতে দেখা যায়। ডায়রিয়া খুব একটা হয় না, বমিও সেরকম হয় না। কিছু মানুষের ত্বকে র‍্যাশ (Rash) এর সাথে গোলাপী স্পট দেখা যায়। বিনা চিকিৎসায় সপ্তাহ বা মাসখানেক ধরে লক্ষণ থাকতে পারে। কিছু ব্যক্তি আক্রান্ত না হয়েও জীবাণু বহন করে রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে। টাইফয়েড জ্বর আন্টিবায়টিক ব্যবহার করে সারানো যায়।

টাইফয়েড জ্বরের কারণ হল সালমোনেলা টাইফি নামক এক প্রকার ব্যাক্টেরিয়া, যা অন্ত্র ও রক্তে বৃদ্ধি পায় । এটা সংক্রমিত (সংক্রমিত ব্যক্তির মল ও মূত্র দ্বারা) খাদ্য বা জল পানের দ্বারা ছড়ায়। ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে স্যানিটেশনের অভাব এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি অন্তর্ভুক্ত। উন্নয়নশীল বিশ্বের যারা ভ্রমণ করে, তারাও ঝুঁকির মাঝে আছে। শুধুমাত্র মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। ব্যাক্টেরিয়া কালচারের মাধ্যমে, অথবা রক্ত, মল বা অস্থি মজ্জার মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ(DNA) শনাক্ত করে এ রোগ নির্ণয় করা হয়। অস্থি মজ্জার টেস্টিং সবচেয়ে সঠিক।

সংক্রমন

দূষিত খাদ্য, পানি এবং দুধের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এবং পানির মাধ্যমেও এই রোগের জীবাণু ছড়ায়।

লক্ষণ

টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার পরও বেশ কিছুদিন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। শুরুর দিকে চাপা অস্বস্তি, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, শরীরময় ব্যথা ইত্যাদি অনুভূত হয়। সাধারণত জ্বর একটু বাড়ে। রোগী প্রলাপ বকতে পারে, এমনকি অচেতনও হতে পারে। ওষুধ চলা অবস্থায়ও সপ্তাহ খানেক জ্বর থাকতে পারে।

= প্রচন্ড জ্বর সাধারণত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে
= মাথাব্যথা ও শরীর প্রচন্ড ব্যথা
= মাথা ভারী হয়ে যাওয়া
= শারীরিক দুর্বলতা
= ক্ষুধামন্দা বা খাওয়ার ইচ্ছা না থাকা
= ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
= বমি-বমি ভাব বা বমি হওয়া
= শরীরে অলসতা আসা
= প্রচণ্ড কফ বা কাশি
= পেটে ব্যথা হওয়া
= পেটের ওপরের দিকে বা পিঠে লালচে দাগ হতে পারে
= জ্বরের ২য় সপ্তাহে রোগীর পেটে ও পিঠে গোলাপি রঙের দানা দেখা যাওয়া
= হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন অনেক কমে যাওয়া

25/05/2023

#সাস্থসেবা

#ডাক্তার
ভাইরাস জ্বরে কী করবেন?

ভাইরাস জ্বর বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। তবে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এটি সাধারণত ছোঁয়াচে হয়ে থাকে। ক্রমে এই ভাইরাসজনিত রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একসঙ্গে পরিবারের অনেকেই আক্রান্ত হতে পারে। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে এমন ভাইরাল জ্বর পরিবারের সবাইকে আক্রান্ত করতে পারে না। জ্বরের শুরুতে এর প্রকৃতি নিরূপণ করা না গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ্বরের ধরন ও বিভিন্ন উপসর্গ দেখেই ভাইরাল জ্বর নির্ণয় করা যায়।
ভাইরাল জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতো এটিও আপনা-আপনি সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। ভাইরাসজনিত জ্বরের অন্যান্য রোগের মতো এরও কোনো প্রতিষেধক নেই, টিকাও নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হয়।
ভাইরাল জ্বরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাচ্চার মুখ লাল হয়ে যায়, গা প্রচণ্ড গরম থাকে, মাথা ব্যথা করে, সঙ্গে থাকে সর্দি ও কাশি। সব সময় মাথা ভারী মনে হয়। এতে বাচ্চারা দুর্বল হয়ে পড়ে।

কীভাবে বুঝবেন ভাইরাল জ্বর:

* হঠাৎ জ্বর আসা ও ৭-৮ দিন ধরে চলতে থাকে
* শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর হয়
* জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ করা
* বেশির ভাগ সময় জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকে
* বিশেষ ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে
* গায়ে, হাত-পায়ে অসহ্য ব্যথা হয়
* মুখে বিস্বাদ, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য হয়
* গলায় প্রচুর ব্যথা করতে পারে
* জ্বরের মাত্রা খুব বেশি হলে বাচ্চারা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে

21/05/2023

#মেডিটেশন
#সাস্থসেবা

#ডাক্তার
আজ ২১ মে ২০২৩ বিশ্ব মেডিটেশন দিবস

বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিঃ

আজকের বিষয়ঃ মেডিটেশন

#মেডিটেশন কী?

মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা। মনের জট যায় খুলে। সৃষ্টি হয় আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয়। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটে অন্তর্জাগৃতি। প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্নতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। আর অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু।

#মেডিটেশন কী? কেন মেডিটেশন করা প্রয়োজন?

মেডিটেশন হলো সচেতনভাবে দেহ মন এবং মস্তিষ্ককে শিথিল করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক এবং সহজ প্রক্রিয়া। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিককে প্রশান্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতনভাবে দেহ-মনে সুখানুভূতি তৈরি এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে, পেতে পারি সহজ সাফল্য। অর্থাৎ শারীরিক মানসিক বৈষয়িক প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তিতে থাকার জন্যে, মেডিটেশন হচ্ছে দেহমনে সে অবস্থা সৃষ্টির একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।

যেমন, টেনশন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো টেনশনমুক্তি। বলা হয় টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না। আর শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আর আমরা এখন জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ যেমন মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বা হলে নিরাময় হতে পারবেন। আর অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ ও সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবন-দৃষ্টি এবং মেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধন্যবাদ।

15/05/2023

#সাস্থসেবা
#ডাক্তার

ফুড পয়জনিং

আমাদের দেশে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া একটি পরিচিত সমস্যা। কারণ, প্রায়ই বাইরের বা হোটেল রেস্তোরাঁর খাবার অপরিষ্কার ও জীবাণুযুক্ত হয়ে থাকে। যখন কেউ দূষিত, নষ্ট বা বিষাক্ত খাবার খায়, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী দ্বারা সংক্রামিত, তখন ফুড পয়জনিং হয়ে থাকে। প্রবীণ ও শিশুদের জন্য সমস্যাটি প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ শিশুমৃত্যু খাবারে বিষক্রিয়াজনিত কারণে হয়ে থাকে।

লক্ষণ কী

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা, ক্ষুধামান্দ্য, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, ক্লান্তি, জ্বর বোধ করা, মাথাব্যথা—এগুলো ফুড পয়জনিংয়ের লক্ষণ। সাধারণত দূষিত খাবার গ্রহণের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যদি ১০১ দশমিক ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি জ্বর, তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, তীব্র পানিশূন্যতা, দৃষ্টি ঝাপসা, চেতনা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে।

কাদের ঝুঁকি বেশি

শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ, এদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বিপাক এবং বিভিন্ন পরিবর্তন খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। যকৃতের রোগ, এইডস এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই তাদের ঝুঁকি বেশি।

জটিলতা কি হতে পারে

তীব্র পানিশূন্যতা সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা। গর্ভাবস্থায় খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে সমস্যা বেশি জটিল হয়। ই.কোলি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি হেমোলিটিক ইউরেমিক সিনড্রোম নামক মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক, দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ নির্ণয়

আক্রান্ত ব্যক্তির ইতিহাস শুনে, কত দিন তিনি অসুস্থ ছিলেন, বিভিন্ন লক্ষণ এবং যে খাবারগুলো খেয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন চিকিৎসক। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ক্ষেত্রে কী দায়ী, তা নির্ধারণ করতে মল এবং রক্ত পরীক্ষা করা যায়। এ ছাড়া পাতলা পায়খানার জটিলতা দেখতে কিডনি, রক্তের লবণ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হয়।

চিকিৎসা কী

খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে বাড়িতেই চিকিৎসা করা যেতে পারে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়। নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেটেড রাখুন। শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানি পান করুন। পানিশূন্যতা তীব্র হলে শিরার মাধ্যমে স্যালাইন দিতে হবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়রিয়া–প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। যদিও এটি শুধু প্রয়োজনেই ব্যবহার করা উচিত। কারণ, ডায়রিয়া শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। তাই নিজে নিজে বা দোকানির পরামর্শে ডায়রিয়া বন্ধ করার ওষুধ খাবেন না। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এমন পর্যায়ে চলে যায় যে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের প্রয়োজন পড়তে পারে। সংক্রামিত ব্যাকটেরিয়া অনেক সময় এমন টক্সিন উৎপন্ন করে সহজে যা শরীর থেকে দূর করা কঠিন। এ অবস্থায় বিষক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করতে অ্যান্টিটক্সিন ওষুধ দিতে পারেন ডাক্তার।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার সময় আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে জন্য বিশ্রাম খুব উপকারী। ফুড পয়জনিংয়ের সময় নিয়মমতো খাওয়া ও বিশ্রাম দ্রুত সেরে ওঠার জন্য সহায়ক।

কী খাব

ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার সময় খাদ্যতালিকায় রাখুন কলা, ভাত, মুরগির পাতলা ঝোল, সেদ্ধ শাকসবজি, টোস্ট, ফলের রস বা ডাবের পানি। এড়িয়ে চলুন চর্বিযুক্ত খাবার, দুগ্ধজাত খাবার, মসলাদার এবং ভাজা খাবার, উচ্চ চিনিযুক্ত খাবার আর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়।

ঘরোয়া প্রতিকার

ফুড পয়জনিং হলে প্রতিদিন কুঁচি আদার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু খেতে পারেন, হজমশক্তি বাড়বে ও পেটব্যথা কমবে। পেট খারাপ, পেটব্যথার মতো সমস্যা নিমেষে ঠিক করে দিতে পারে এক চা-চামচ জিরাগুঁড়ো। তুলসীপাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুফল পাবেন। কলাতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা ফুড পয়জনিং কমাতে সাহায্য করে। একটা কলার সঙ্গে আপেল গ্রেট করে বা এক গ্লাস বানানা শেক খেলেও উপকার পাবেন। যে সব ব্যাকটেরিয়ার জন্য ফুড পয়জনিং হয়, লেবুর রসের অ্যাসিডিটিতে তার প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়। একটা গোটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে সামান্য চিনি দিয়ে খেতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার হয়। ফুড পয়জনিংয়ের সময় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

08/05/2023

#সাস্থসেবা
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস

থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রতিবছর ৮ মে পালিত হয় বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। বাংলাদেশেও এই দিবসটি পালিত হয়। বিশ্বে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক সংখ্যা প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। বিশ্বে প্রতি বছর ১ লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বাংলাদেশের ১০-১২ ভাগ মানুষ এ রোগের বাহক। অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ তাদের অজান্তে এ রোগের বাহক। দেশে কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু-কিশোর রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৭ থেকে ১০ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।

06/05/2023

#সাস্থসেবা

থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা:

মাইনর থ্যালাসেমিয়াতে সাধারণত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। থ্যালাসেমিয়া মেজরে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রধান চিকিৎসা। বার বার রক্ত নেবার একটি বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যাওয়া। এর ফলে যকৃত বিকল হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে। এধরনের জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেশন থেরাপি দেয়া হয়, অতিরিক্ত লৌহ বের করে দেবার জন্য।

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়ার একটি কার্যকরী চিকিৎসা।

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে করনীয়:

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা খুবই সম্ভব। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়া বাহক বা একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক এবং একজন হিমোগ্লোবিন ই এর বাহক হয় তবে প্রতি গর্ভাবস্থায় –

এ রোগে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ।
বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৫০ভাগ।
আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ।
স্বামী স্ত্রী দুজনের যেকোনো একজন যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন, তাহলে নবজাতকের থ্যালাসেমিক হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে নবজাতক থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে যা কোন রোগ নয়।

তাই এ রোগের বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত এবং প্রতিহত করার মাধ্যমে সমাজে নতুন থ্যালাসেমিক শিশুর জন্ম হ্রাস করা যায়। সুতরাং, দেরি না করে আজই থ্যালাসেমিয়া নির্ণয় এর জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস নামক পরীক্ষাটি করান এবং আপনার শিশুকে এর অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখুন।

এছাড়া ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ যেসব পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই এ রোগের বাহক অথবা যাদের এক বা একাধিক থ্যালাসেমিক শিশু আছে তারা গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য থ্যালাসেমিক শিশু নির্ণয় এবং তা পরিহার (গর্ভপাত) করতে পারেন। গর্ভাবস্থার ১৬ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষাটি করালে ভালো হয়।

গর্ভস্থ সন্তানের থ্যালাসেমিয়া জানার জন্য যে পরীক্ষাগুলো করতে হবে :

কোরিওনিক ভিলিয়াস স্যাম্পলিং (Chorionic villus sampling)
অ্যামনিওসেনটিসিস (Amniocentesis)
ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলিং (Fetal blood sampling)
তাহলে আমাদের অনাগত প্রজন্ম যাতে থ্যালাসেমিয়ার মত একটি ভয়াবহ রোগ নিয়ে না জন্মায়, তার জন্য আমাদের প্রত্যেককে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া বংশগত রোগ। সংক্রামক বা ছোঁয়াচে নয়। এটি পিতামাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে আসে। মা-বাবা দুই জনেই যদি রোগী হয় তা হলে সুস্থ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদি মা-বাবার একজন রোগী হয় অন্যজন সুস্থ হয় তাহলে কিছু সন্তান বাহক হবে, কিন্তু সুস্থ হবে। রোগটি মা-বাবার থেকেই সন্তানের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। তাই যদি বিবাহ করার পূর্বে রক্তের পরীক্ষা করে নেওয়া যায় যে পাত্র বা পাত্রী কেউই বাহক বা রোগী নয় তা হলে রোগটি সঞ্চালিত হতে পারবে না।

04/05/2023

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ:

: অতিরিক্ত আয়রন
: সংক্রমণ,
: অস্বাভাবিক অস্থি বৃদ্ধি,
: প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া (স্প্লিনোমেগালি),
: অবসাদ অনুভব,
: বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,
: দুর্বলতা,
: শ্বাসকষ্ট,
: মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া,
: অস্বস্তি,
: ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস),
: হাড়ের বিকৃতি(প্রধানত করোটি এবং মুখমণ্ডল),
: ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি,
: পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া,
: গাঢ় রঙের প্রস্রাব,
: হৃৎপিণ্ডে সমস্যা

থ্যালাসেমিয়ার কারণ:

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ।
ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়। বাবা অথবা মা, কিংবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাবা এবং মা উভয়ের থ্যালাসেমিয়া জিন থাকলে ভূমিষ্ট শিশুর শতকরা ২৫ ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।

থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরন হলো: আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া।

আলফা থ্যালাসেমিয়া:এই রোগের জন্য ১৬নং ক্রোমোজোমে উপস্থিত আলফা-শৃঙ্খল উৎপাদনকারী জিনের মিউটেশন (mutation) বা ডিলেশন (deletion) দায়ী। চারটি জিন দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া শৃঙ্খল তৈরি হয়। বাবা-মা থেকে প্রাপ্ত চারটি জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ জিন হলে আলফা থ্যালাসেমিয়া হয়। যত বেশি জিন ত্রুটিপূর্ণ হবে তত বেশি মারাত্মক সমস্যা দেখা দিবে। যেমন:
একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে থ্যালাসেমিয়ার কোনো লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যাবে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তার সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়াবে।
দুইটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যাবে। এই অবস্থাকে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Alpha-thalassemia minor) অথবা আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট ( Alpha-thalassemia trait)।
তিনটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে এর উপসর্গগুলো মাঝারি থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই অবস্থাকে বলে হিমোগ্লোবিন এইচ ডিজিজ (Hemoglobin H Disease)।
চারটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে একে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর (Alpha thalassemia major) অথবা হাইড্রপস ফিটালিস (Hydrops fetalis)। এর ফলে প্রসবের (delivery) পূর্বে অথবা জন্মের পরপর ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়।
বিটা থ্যালাসেমিয়া: বিটা থ্যালাসেমিয়া শৃঙ্খল গঠিত হয় দুইটি জিন দিয়ে। বাবা-মা থেকে প্রাপ্ত চারটি জিনের মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে বিটা থ্যালাসেমিয়া হয়। এক্ষেত্রে:
একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যায়। এই অবস্থাকে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Beta-thalassemia minor) অথবা বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট (Beta-thalassemia trait)।
দুটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে মাঝারি থেকে মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়। এ অবস্থাকে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর ( Beta-thalassemia major) অথবা কুলিস কুলিস অ্যানিমিয়া (Cooley’s anemia)। নবজাতক যেসব শিশুর এই সমস্যা থাকে তারা জন্মের সময় বেশ স্বাস্থ্যবান থাকে। তবে জন্মের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এর উপসর্গ দেখা যায়।
বিশ্বের আনুমানিক ৬০-৮০ মিলিয়ন মানুষ বিটা থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করছে। থ্যালাসেমিয়া স্বল্প উন্নত দেশ যেমন নেপাল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে বেশি দেখা যায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী ৫০ বছরে থ্যালাসেমিয়া রোগ অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

01/05/2023

থ্যালাসেমিয়া

থ্যালাসেমিয়া (ইংরেজি: Thalassemia) একটি অটোজোমাল মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রক্তের রোগ। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেনস্বল্পতা বা “অ্যানিমিয়া”তে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরনের হতে পারে: ১) আলফা থ্যালাসেমিয়া (ক.আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর , খ.আলফা থ্যালাসেমিয়া মাইনর) ২) বিটা থ্যালাসেমিয়া। (ক.ß থ্যালাসেমিয়া মেজর , খ. ß থ্যালাসেমিয়া মাইনর) সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া, ß থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়া বিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়ে থাকে। অন্যদিকে বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

বিশ্বে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। আলফা থ্যালাসেমিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সর্বত্র এবং কখনও কখনও ভূমধ্যসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের লোকদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ লক্ষ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

শিশুদের ক্ষেত্রে থ্যালাসেমিয়া:

সাধারণত, জন্মগতভাবে একটি শিশু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়ে থাকে যা, শিশু ও মা-বাবার কোন ভুল থেকে নয় বরং জেনেটিক্যালি বা জিনগত কারণে সংঘটিত হয়। শিশুর বয়স বৃদ্ধির ২ বছরের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হতে শুরু করে যা পরবর্তীতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া তথা পরিক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের নিরুপণ করা হয়। থ্যালাসেমিয়া মেজর বা কুলি অ্যানিমিয়া (Cooley anemia)-তে আক্রান্ত সন্তান বড় হয়ে সাধারণত ৩০ বৎসর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

শিশুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা দেখা দেয় সেটি হলো তার যথাযথ বৃদ্ধি না হওয়া। আর সেই সাথে রক্তস্বল্পতা, অরুচি, দুর্বলতা সহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। শিশুটি স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। শিশু মনে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয় ও নিজেকে অস্বাভাবিক ভাবে এবং সেই সাথে সবার সঙ্গ এড়িয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব।

24/04/2023

জলবসন্ত কেন হয়, লক্ষণ ও প্রতিরোধ:

জলবসন্ত জীবনহানিকর মারাত্মক কোনো রোগ নয়। শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সীদের এই রোগ হতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলাদেশে জল ও গুটি—এই ২ ধরনের বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যেত একসময়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জীবনহানিকর মারাত্মক গুটি বসন্ত ৪ দশক আগে পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গিয়েছে। তবে জলবসন্ত বা চিকেনপক্সের প্রাদুর্ভাব এখনো রয়েছে। বসন্ত ঋতু ছাড়া অন্য সময়েও এই রোগটি দেখা গেলেও তুলনামূলক আক্রান্তের সংখ্যা হিসেবে নগণ্য।

জলবসন্ত জীবনহানিকর মারাত্মক কোনো রোগ নয়। শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সীদের এই রোগ হতে পারে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সাধারণত একবার আক্রান্ত হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। পুনরায় সংক্রমণের কারণে অনেক সময় হারপিজ জোস্টার নামে আরেকটি রোগ হয়ে থাকে।

কী কারণে হয়:

জলবসন্ত বা চিকেনপক্স একটি সংক্রামক রোগ, যা ভেরিসেলা জোস্টার নামক একটি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে হয়ে থাকে।

কীভাবে ছড়ায়:

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, ত্বকের সংস্পর্শ, ব্যবহৃত পোশাকের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ২ দিন আগে থেকে শুকিয়ে যাওয়া ফুসকুড়ির খোসা থেকেও অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও ফুসকুড়ির খোসা বাতাসে বাহিত হয়েও এই রোগ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই এটি ছড়াতে শুরু করে।

লক্ষণ:

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ১০-১২ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ হয়ে থাকে। ত্বকে প্রথমে ঘামাচির মতো গুটি উঠতে থাকে, যা ফুসকুড়িতে পরিণত হয়। ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ২-৩ দিন আগে থেকেই শরীর ব্যথা অনুভূত হয়, জ্বর দেখা দেয়, পেটব্যথা হতে পারে। লালচে ফুসকুড়িতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূতি হয়। ফুসকুড়িতে পানি জমে, যা পরবর্তীতে শুকিয়ে কালো বর্ণের খোসায় পরিণত হয়। কাশি ও পাতলা পায়খানাও হতে পারে। সাধারণত ২ সপ্তাহ থেকে ১ মাস পর্যন্ত এই রোগের স্থায়িত্ব হয়ে থাকে।

জটিলতা:

আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে শ্বাসনালী ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে জীবনহানির কারণ হতে পারে। ত্বকে জীবাণু সংক্রমণ হয়ে গর্তের সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিরোধ:

আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখতে হবে। যেকোনো বয়সীরা জলবসন্তের টিকা নিতে পারেন। একবার আক্রান্ত হলে সাধারণত পুনরায় সংক্রমণ হয় না।

চিকিৎসা:

ভাইরাসজনিত রোগ বিধায় এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। সাবধানতা অবলম্বন ও পরামর্শ মেনে চললে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে অনেক সময় লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। যেমন: জ্বর বা চুলকানি নিয়ন্ত্রণের জন্য। আবার রোগের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে কখনো কখনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া নাশক ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে।

মনে রাখবেন জলবসন্ত বা চিকেনপক্স একটি খুবই সাধারণ তবে ছোঁয়াচে রোগ। সাবধানতা অবলম্বন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই এ রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করা যায়।

17/04/2023

মানসিক চাপে থাকার লক্ষণ আর প্রতিকারের উপায়:

কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যা অনেক সময় মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আবার ঠিকও হয়ে যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে চাপে ভুগলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব রাখলে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মায়ো ক্লিনিক’য়ের মতে, মানসিকচাপ হালকাভাবে নেওয়ার মতো কিছু নয়। এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা-সহ দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগের একটি প্রধান কারণ হতে পারে।

মানসিক চাপের অশনি সংকেত:

সামান্যতম চাপ বৃদ্ধি কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ক্ষতিকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মানসিক চাপের কারণে দেহে নানা রকমের লক্ষণ দেখা যায়। যেমন- ঘন ঘন ক্লান্তিবোধ, পেট ব্যথা, বুক ব্যথা ইত্যাদি অনুভব করা।

এছাড়াও কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বারবার নেতিবাচক চিন্তা করা, মেজাজ খারাপ থাকা ইত্যাদি।

পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও আপনজন থেকে দূরে যাওয়া, ঘুমে সমস্যা বা অতিরিক্ত ঘুম, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগে সমস্যা ইত্যাদি সবই মানসিক চাপের লক্ষণ বলে মনে করেন, উইলসন।

অনেকেই মানসিক চাপ কমাতে ড্রাগ, অ্যালকোহল বা অন্যান্য ওষুধ গ্রহণ করেন। যা নানান রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চাপও বৃদ্ধি করে।

উপরের সবকটি ধাপ যদি নিজের জন্য অকার্যকর মনে হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

“যদি এই চাপের অনুভূতি মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে থাকে তাহলে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত।”

“এমন অনুভূতিতে, গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের অনুশীলন করার চেষ্টা করা যেতে পারে বা কাজ থেকে বিরতি নেওয়া অথবা কাছের বন্ধু বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলা উপকার দিতে পারে।”

মানসিক চাপ কমাতে ইতিবাচক অভ্যাস:

দৈনন্দিন এমন অনেক কাজ আছে যা মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।

এর মধ্যে শরীরচর্চা অন্যতম। সাধারণ কাজ যেমন- হাঁটা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ভালো ঘুম নিশ্চিত হওয়া, বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা, শখের বিষয় নিয়ে সময় কাটানো যা আনন্দ দেয় এমন কাজগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

জীবনে চাপ কমানোর জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া সামগ্রিক সুস্থতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই অতিরিক্ত চাপে ভুগছেন এমন লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং দৈনন্দিন রুটিনে কিছু ইতিবাচক অভ্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করা শরীর ও মন দুয়ের জন্যই জরুরি।

Want your practice to be the top-listed Clinic in Faridpur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Rajbari
Faridpur