Explore with Rashi
রান্না ও জীবন।
life is Beautiful.explore it your own way.celebrate your life with Explore with R
29/07/2026
আপনি যদি আপনার ১০ বছর আগের আমি কে কিছু সাজেশন দিতে চাইতেন সেগুলো কি হতো?
ছোট বেলায় চাইতাম কবে বড় হবো যেন সব নিজের ইচ্ছামত করতে পারি, এখন বড় হলাম মন চায় ছোট হয়ে যাই এত কিছুর চাপ নিতে আর ভালো লাগেনা।
প্রত্যেকটা বয়সের ধাপে ধাপে মানুষের চাহিদা,ভাললাগা, কার্যকলাপ চিন্তাধারা বদলে যায় কখনো খেয়াল করেছেন?
তবে যখন সেই সময় টা পার করছি তখন বুঝতে পারা যায়না কোন ফেইজ দিয়ে যাচ্ছি হয়তো অনেকে বুঝতে পারেন যারা দূরদর্শী বেশিরভাগ মানুষই পারেনা।
07/07/2026
❤️
আমার ওজন যে হারে কমছে, মানুষকে এখন বলতে লজ্জাই লাগে... ভাববে চাপা মারতেসি।
কিন্তু আসলেই একদমই চাপা মারতেসি না...
৩ এপ্রিল ৬৭.৪ কেজি ওজন নিয়ে ওয়েটলস জার্নি শুরু করি... ২১ মে তে আমার ওজন স্কেলে মেপে দেখলাম ৫৯.৩ কেজি...
অর্থাৎ ৮.১ কেজি কমে গেছে ১ মাস ১৮ দিনে...
আমি ভাই জানি না এত দ্রুত এত ওজন কিভাবে কমলো।
বুঝাই যাচ্ছে আমার মেটাবোলিজম রকেটের মতো কাজ করছে... দ্যাটস ইট। এখানে আর কোনো ম্যাজিক নাই।
আমি প্রতিনিয়ত প্রশ্ন পাচ্ছি - "আপু কিভাবে ওজন কমাচ্ছেন?"
ডিটেইল লিখতে চাচ্ছিলাম... আলসেমিতে হয়ে উঠছিলো না।
ভাবলাম লিখেই ফেলি...
দেখেন...
ওজন কিভাবে কমাতে হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি ই।
রকেট সাইন্স না একদম... তাও আমি আমার জার্নিটা গুছিয়ে লেখার চেষ্টা করবো।
এখন এটা মাথায় রাখতে হবে সবার বডি সেইম না। সবার মেটাবোলিজম সেইম না। সবার সহ্যক্ষমতাও সেইম না...
আমি নিজে রিসার্চ করে আমার জন্য যেটা কনভিনিয়েন্ট হয়েছে, সেভাবে ওজন কমাচ্ছি।
আমি কোনো নিউট্রিশনিস্ট বা ডক্টর না।
আমার এক্সপ্লেইন করা প্রসেস ফলো করে কারো ওজন না কমলে বা কেউ সিক ফিল করলে - ইন্টারনেটে আমাকে ব্যাশিং করতে পারবেন না।
আমি এখন যা লিখছি, পুরাটাই নিজের অভিজ্ঞতা।
ওকে...
ওয়েটলস জার্নিতে কি কি লাগবে সেটা আগে বলি...
১. ডিটারমিনেশন & খুব স্ট্রং উইল পাওয়ার।
- কারণ এটা ছাড়া কনসিস্টেন্সি ধরে রাখতে পারবেন না।
২. ওয়েট মেজারিং স্কেল।
- ৭ দিন পরপর ওজন মনিটর করতে হবে।
৩. পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার।
- ওজন কমানোর জন্য এর বিকল্প আসলে নাই।
৪. মাপ নেওয়ার মেজারিং টেপ।
- মেশিনে ওজন কম আসলেও, বডির কোথায় কতটুকু ইঞ্চি বা সেন্টিমিটারে কমলো, এটাও মনিটর করতে হয়।
আমি ওয়েটলস জার্নিতে প্রথমেই যেটা করেছি, সেটা হলো ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোনো প্রকার ক্যালরি না খাওয়া।
আমি ১ মাস ১৮ দিন ধরে মিনিমাম ১৬ ঘন্টা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মেইন্টেইন করি। এই ১৬ ঘন্টায় আমি পানি, ব্ল্যাক কফি, হার্বাল টি ছাড়া কিচ্ছু খাই না।
বাকি যেই ৮ ঘন্টা থাকে... তখন কার্বোহাইড্রেট খুবই কম খাই। ইনফ্যাক্ট শুরুর ১২/১৫ দিন আমি কোনো ভাত, রুটি খাইনি।
আমি এখন এক বেলা ভাত বা রুটি খাই। তাও এক চামচ ভাত বা একটা রুটি...
সাথে প্রচুর সবজি, শশা, টমেটো, গাজর, দিনে মিনিমাম ৫ টা ডিম, মুরগী, মাছ, ডাল, মাশরুম, মিনিমাম ৩ লিটার পানি, টকদই, ছোলা, চিয়াসিড এসব খাই... অল্টারনেট করে করে।
প্রতিদিন যে একদম কাটায় কাটায় মেইন্টেইন করতে পারি, সেটা ইদানীং হচ্ছে না... গত ৬/৭ দিন আমি বেশ ভালোই অসুস্থ ছিলাম।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, লো কার্ব - হাই প্রোটিন খাবারের সাথে সাথে আমি যেটা করি সেটা হলো ক্যালরি ডেফিসিট।
ক্যালরি ডেফিসিট নিয়ে আগেও লিখেছিলাম...
ধরেন আমার বডিতে যদি ১৫০০ ক্যালরি প্রয়োজন পড়ে প্রতিদিন, আমি কম খেয়েছি এর চেয়েও।
১১০০/১২০০ ক্যালরি। বাকি যেই ক্যালরি টুকু শরীরের প্রয়োজন ও নিজেই ভেতর থেকে বার্ন করে ক্যালরির প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়েছে।
এবার আসি কি কি বাদ দিয়েছি সেই প্রশ্নে...
আমি একদমই চিনি বাদ দিয়ে দিয়েছি। প্রসেসড সব ফুড বাদ দিয়েছি। তেলের পরিমাণ সারাদিনে এক চা চামচও থাকে না... লবণ খুব কম খাই। না পারতে লবণও খাই না...
জিনিস গুলা শুনতে খুব ডিপ্রেসিং লাগতে পারে... মনে হতে পারে শরীরকে এত কষ্ট দিয়ে বেঁচে থাকার মানে কি ভাই!!
কিন্তু এখানে প্রায়োরিটি ম্যাটারস আসলে...
আমার কাছে এখন মুখের স্বাদের চেয়ে ওজন কমায়ে একটা সুন্দর ফিটনেস পাওয়াটা বেশি জরুরি।
ফিটনেস ভালো থাকলে নিজেকে নিজে দেখতেও ভালো লাগে। অনেক অসুখ-বিসুখ থেকেও রেহাই বা আরাম পাওয়া যায়।
আমি কি শুধু খাবার কন্ট্রোল করেছি?
না... অ্যাক্টিভিটি বাড়িয়েছি। হাঁটা শুরু করেছি। বাসায় ইয়োগা ম্যাটে কার্ডিও এক্সারসাইজ করি।
যদিও অনেক বেশি না... তাও আমার অ্যাক্টিভিটি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
এবার বলি - আমি কি এই ১ মাস ১৮ দিনে বাইরের কিচ্ছু খাই নাই?
খেয়েছি... পরিস্থিতিতে পড়ে হোক বা শখ করে হোক, খেয়েছি।
যেমন ধরেন একদিন সকালে স্টারে নাশতা করেছি। হাফ পরোটা, সবজি আর ডিম পোচ খেয়েছি।
দুইদিন রেস্টুরেন্টে ভাত, গরুর মাংস খেয়েছি। সেখানেও এক/দেড় মুঠ ভাত আর ঝোল ছাড়া গরুর মাংস খেয়েছি ডাল দিয়ে। দুই দিন দুইটা ছোট সিঙ্গাড়াও খেয়ে ফেলেছি। কোনো দিন হুঠ করে মায়ের জোরাজুরিতে ২ চামচ পুডিং বা ২ চামচ দই খেয়েছি। একদিন দুই বাইট আইসক্রিমও খেয়েছি।
একদিন এক দাওয়াতে তেহারি খেতে হয়েছে। সেখানেও ওই এক মুঠ তেহারি খেয়েছি সাথে কয়েক পিস মাংস... বাসায় ফ্রেন্ড থাকায় বাইরের রাইস অর্ডার করা হলো, কিন্তু সেটাও একদম বুঝে খেয়েছি।
রেস্টুরেন্টেও কিন্তু বসি আমি।
কিন্তু কি অর্ডার করি?
ব্ল্যাক কফি। গার্লিক মাশরুম, বা কোনো স্যুপ বা গার্ডেন সালাদ বা চিজ/চিকেন সালাদ, গ্রিলড চিকেন, সতেড ভেজিটেবল... এই টাইপ খাবার যেটা হেলদি হবে। জাংকফুড টাইপ হবে না।
কোনো বেলায় যদি মনে হয় আমার খাওয়া তুলনামূলক বেশি হয়েছে, পরের বেলায় সেটা অ্যাডজাস্ট করে অন্য খাবার কম খেয়েছি যেন ক্যালরি ইন্টেক বেশি না হয়ে যায়।
মোট কথা ক্যালরি লাগলে কমেরও কম খেয়েছি, কিন্তু বেশি ভুলেও না...
প্রশ্ন আসতে পারে - ক্ষুধা লাগে না?
না... আমার লাগে না।
শুরুর ৫/৭ দিন একটা ঝামেলা হয়েছে অবশ্যই। আমি আগে মন চাইলে রাত আড়াইটার সময়ও ডিম ভেজে ভাত খেয়ে ফেলা মানুষ। সো প্যারা একটু গেছে শুরুতে...
এরপর ক্রেভিং কমে গেছে।
আমার সামনে বসে কেউ লোভনীয় খাবার খেলেও আমার কোনো রকম "লোল" পড়ে না 😂
ব্রেইন ট্রেইন্ড হয়ে গেছে আর কি।
আর এমনিতেও ফুড কোয়ান্টিটি কমিয়ে দিলে, স্টমাক শ্রিংক করে যায়। চাইলেও বেশি খেতে পারি না। হাসফাস লাগে...
ফ্রেন্ডের বাসায় গেলে যদি মনে হয় ডিনারের টাইম হয়ে যাবে, ৩টা ডিম আর একটা ছোট কলা নিয়ে গেছি যেন এটা দিয়েই ডিনার সারতে পারি।
মেইন কথা হচ্ছে আমি প্রচন্ড ডিটারমাইন্ড। আর আমার এখন ইচ্ছাশক্তি প্রখর...
ওয়েটলস জার্নি আমি আগেও ফলো করেছি। ওজন কমিয়েছিও। কিন্তু সেটা কোনো কাজের কাজ হয় নাই কারণ পরে ছেড়ে দিয়েছিলাম।
এবার টার্গেট ওজন অ্যাচিভ করার পর এই ওজন টা মেইন্টেইন করবো।
মিনিমাম ২/৩ মাস একই ওজন মেইন্টেইন করতে পারলে আর সহজে ওজন বাড়বে না খাওয়া এদিক-সেদিক হলেও। কারণ বডি ওইটাকে স্টেবল স্টেইট হিসাবে মেনে নেবে।
শুরুতে আমার ওজন অনেক দ্রুত কমেছে কারণ বডিতে জমা পানি বের হয়ে গেছে। ব্লোটিং কমেছে।
আমার PCOS, PCOD এই টাইপ কোনো ডিজিজ নাই। যার কারণে আমি রিসার্চ করে আমার জন্য যা সুইটেবল মনে হয়েছে, আমি সেটা ফলো করে রেজাল্ট পেয়েছি।
আমি আবারো বলছি - আমি আনহেলদি প্রসেসে ওয়েট ল্যুজ করিনি।
তাও আমার ফলো করা প্রসেস ফলো করে কেউ যদি সিকনেস ফিল করেন বা ওজন না কমে, আমাকে গা'লাগা'লি দিয়ে কোনো লাভ নাই।
Do your own research...
ChatGPT, Google, অন্য AI tools অ্যাভেইলএ্যাবল।
এগুলা ইউজ করেন।
নিজের জেন্ডার, এইজ, হাইট, কারেন্ট ওয়েট, অ্যাক্টিভিটি লেভেল ChatGPT কে দিয়ে নিজের BMI বের করেন। আপনার বডি টাইপ, কোনো সিকনেস আছে কি না এগুলা বের করে প্রতিদিন কত ক্যালরি খাওয়া উচিত এটা বের করেন...
কি টাইপ ফুড আপনার পক্ষে অ্যাভেইল করা পসেবল এটা বের করেন...
মেইন কথা... help yourself...
আমি এই কয়দিনে ফুড নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেছি।
কোন গুলা কমপ্লেক্স কার্ব, কোন টাইপের খাবারে ফাইভার আছে যেন ডায়েট ফলো করতে যেয়ে কন্সটিপেশন না হয়, কোন খাবারে প্রোটিন বেশি, কোন খাবার গুলা হজম হতে বেশি এনার্জি বার্ন হয়, কোন খাবার বেশিক্ষণ পেট ভরা রাখবে, লবণ বেশি খেলে কেনো শরীরে পানি জমে থাকে... ইত্যাদি ইত্যাদি।
যা যা প্রশ্ন মাথায় আসে, সেটার উত্তর আমি ইন্সট্যান্ট জেনে নিই।
সুতরাং do your own research, & help yourself... 🤍
আমার ওয়েটলস জার্নি নিয়ে যা যা মাথায় এসেছে, সব গুছিয়ে লিখে ফেলেছি।
এরপরেও কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখবেন... আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
ওহ-
আর একটা কথা।
অনেকে আমাকে বলেন "আপু আপনার ডায়েট চার্ট টা দিয়েন"...
আমার কোনো ডায়েট চার্ট নাই। আমি কখনোই কোনো রুটিন বানাইনি যে শনিবার বেলা অমুকটার সময় আমি অমুক খাবার টা খাবো...
আমার যখন যেটা কনভিনিয়েন্ট লেগেছে, খেয়েছি।
সো কান্ট শেয়ার এনি স্পেসিফিক ডায়েট চার্ট ফর ইউ পিপল 😬
06/07/2026
One dish party❤️
04/07/2026
খাবার শুধু খাবার নয় তার সাথে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি আর গল্প।খাবার এর জন্যই আমরা এত যুদ্ধ করি ক্যারিয়ার এটা সেটা সবকিছুর মূলে কারন আমাদেরকে খেতে হয়......
28/06/2026
বছর খানিক আগে আমার খুব ছোট একটা বারান্দায় এত সুন্দর অপরাজিতার গাছ হয়েছিল মনখারাপ থাকলেও ফুল গুলোর রং দেখলে মন।ভালো হয়ে যেত।মাটিতে অনেক।পিপড়া হচ্ছিল কাপড় এ আসতো তাই সব গাছ কেটে দিলাম।
Fried rice
23/06/2026
এই সিম্পল চিচিঙ্গা ভাজিটা আমার খুব পছন্দের।চিচিঙ্গাটা খুব পাতলা পাতলা করে কেটে কখনো দু একমিনিট ভাপিয়ে করি কখনো ছাড়া। তেলে পিয়াজ কাচামরিচ আর লবন দিয়ে নেড়েচেড়ে সিদ্ধ হয়ে গেলে ডিম দিয়ে নাড়িয়ে শেষ দেই ধনেপাতা। গরম ভাতে এটা গরম গরম খেতে কি ভীষণ ভালো লাগে। এমনি রাক্ষসের মত ভাত খাই (রাক্ষস আসলে ভাত খায় কিনা সিউর জানিনা) এই ভাজি দিয়ে আরো খাই।ভাত বেশি খাওয়া ভালো না নিজেকে রিমাইন্ডার 😂।
বাড়ি ফেরা-১৮-০৭-২৩
বাড়ি আসবো আসবো করে আরো অনেকবার সিদ্ধান্তে আসলেও কোনকারনে বারবার ভেস্তে যাচ্ছিল ব্যাপারটা। যাইহোক এবারের আসার সিদ্ধান্ত খুব দুম করে নেওয়া।যাইহোক যাত্রা শুরু হলো সেই রাত ৯ টা। বাসা থেকে বিদায় নিয়ে নামলাম। রিক্সা করে গন্তব্য । বাস ছাড়লো ৯:৩০।হালকা নাস্তা কিনে নিয়েছিলাম।যাত্রা পথে আমার যেহেতু বমিটিং এর সমস্যা হয় মাঝেমাঝে তাই দুপুর থেকেই খাওয়া দাওয়া এক প্রকার বন্ধই করে দিয়েছিলাম। বাস ছাড়ার পর ভালোই লাগছিল চিপস খেতে খেতে চারপাশটা দেখছিলাম। যেহেতু নতুন রুটে এটা প্রথমযাত্রা রাস্তা চেনার চেষ্টায় ছিলাম।এভাবেই একের পর এক বাস স্টপ ছেড়ে আসছিলাম' গাবতলী যাত্রাবাড়ী, রেলস্টেশন এগুলোই যা মনে আছে।বাস কি মাওয়া হয়ে যাবে কি যাবেনা এই কনফিউশন কেটে গেল। হ্যা পদ্মা সেতু দিয়েই আসছিল।কি যে সুন্দর ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছিল মন প্রান জুড়িয়ে যাচ্ছিল। অদ্ভুত প্রশান্তিতে চোখ বুঝে আসছিল। রাতে যেহেতু বিগত ৬ মাসে আমার ঘুমের সাথে আড়ি চলছে তাই ঘুম আসছিল না। আর একটা ব্যাপার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আসলেই খুব আরামের আনন্দের যতক্ষন না কেউ ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে শুনতে থাকে। খুব বিরক্তি আসছিল পরে ভাবলাম হয়তো ড্রাইভার ঘুম তাড়াতেই এত জোরে গান শুনছে। বিরক্তি কিছুটা কমলো, অনেকটাই বলা যায়।প্রয়োজনীয়তার কাছে সুবিধা অসুবিধা খুব ঠুনকো এবং মেনে নিতেও পারা যায়।
শো শো আওয়াজে বাস চলছে.........
এক এক স্টপেজ থামছে লোক নামছে অপেক্ষা কতক্ষনে নামবো আমার! ৪ টা বেজে ৩০ মিনিট সর্বশেষ স্টপেজ আমাদের নামলাম আমরাও।কয়েকটা মোটরবাইক আর দুটো অটো ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না সাথে ভারী ল্যাগেজ থাকায় মোটরবাইকের চিন্তা বাদ দিয়ে অটোর সাথে দামদর হাকানো শুরু হলো যেহেতু ওনারাও দেখছে কোন অপশন নেই আমাদের কাছে তাই দামাটাও সেভাবেই হাকালো।সে যাইহোক অবশেষে যাত্রা শুরু হলো পরবর্তী গন্তব্যের জন্য ফজরের আজান শেষে যেই অপার্থিব সৌন্দর্য টা দেখা যায় সেটা অতুলনীয় বর্ননা করাও যায়না।নীলাভ আকাশ কোথাও কালো মেঘ, পাখির সুমিষ্ট সেই ডাক, আর সেই মিষ্টি বাতাস প্রাণ জুড়ানো।
ঘন্টা খানিক বাদে এসে পৌছালাম বোনের বাসায় ল্যাগেজ ব্যাগ রেখেই পুকুরপাড়ে গেলাম, পুকুরপাড় সংলগ্ন পেয়ারার গাছ ঝুলে আছে পেয়ারা অন্যপাশেই চিচিংগা, পুইশাকের লতানো গাছ একেই বলে প্রকৃতি। ঘর থেকে পুকুর পাড়ের মধ্য রাস্তা টুকুতে আখের ক্ষেত শনশন বাতাস বইছিল আখের ক্ষেত থেকে। সকালের নাস্তা সেরে আমাদের বাড়ির উউদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম যেই রাস্তাটা থেকে খুব সহযে আসা যায় সেখানটাতে মেরামতের কাজ চলছিল তাই আর আসা সম্ভব হয়নি অন্যথা অন্য রাস্তা দিয়েই আসতে হলো বেশ সময়সাপেক্ষ যদিও তাই বাড়ির মানুষজন বেশ কয়েকবার ফোন করে খোজ নিচ্ছিল এত দেরীর হেতু জানার জন্য! ঘন্টা খানিক বাদে পৌছালাম বাড়িতে।সারারাত না ঘুমানো ক্লান্তি কোথায় যেন গায়েব। গোসল সেরে ঘুমের উদ্দেশ্য গা এলিয়ে দিলাম বিছানায় কিন্তু না একদম আসছিল না ঘুম।
আশেপাশের আত্নীয়দের সাথে দেখা করলাম। দুপুর ১ টা নাগাদ চোখ বুঝে ঘুম আসলো। বাসায় বাচ্চারা থাকায় সেটা যে সম্ভব হলো এমন ও না এই ২০/২৫ মিনিট ঘুমিয়ে নিলাম।ক্লান্তিটা ঠিক কাটেনি তাতে। বোন আসলো একটা ওর বাচ্চাকে নিয়ে কিছুক্ষন কথা বললাম খাওয়া দাওয়া সেরে। ওর সাথে একটু বের হলাম।বাসাটা খুব কাছেই মিনিট পাচেক লাগে। খালার সাথে দেখা আর ছোট একটা ভাইয়ের সাথে।প্রথম সাক্ষাৎ তাহার সাথে ঘুমুচ্ছিলেন কিছুক্ষন পর চোখ খুলেই হাসি। প্রাণ জুড়ানো সে হাসি।বাচ্চারা পবিত্র আর মায়াময় হয় সেকেন্ডে নিজের দিকে পুরো মনোযোগ নিয়ে নিতে সক্ষম।বেশ সময় কাটালাম তার সাথে।সন্ধ্যা ছুইছুই বাড়িতে ফিরে আসলাম। নামায শেষে খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালেও বেশ বেলা করে ঘুমালাম। ওঠে গোসল সেরে খেয়ে কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে ছাদে গেলাম। এভাবেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। যথারীতি নামায শেষ করে খুব জলদিই রাতের খাবার খেয়ে নিয়ে। চোখ বুঝে ঘুম আসছিল কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম।এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিব্রাট এর কারনে কয়েকবার ঘুম ভাঙলেও বিছানা ছেড়ে উঠিনি আবার ঘুমালাম রাত ১১ টা বাজে ঘুম ভাঙলো। বেশি কিছুক্ষন ফোনে কথা সারলাম বাসার সবার খোজখবর নিলাম।
১১:৩০ থেকে কেমন একটা অস্বস্তি বাড়তে লাগলো কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলাম না এপাশ ওপাশ করছিলাম।উঠে ফ্রেশ হতে গেলাম পানি খেলাম। আবার এসে শুয়ে পড়লাম অশান্তি বেড়েই চলছিল।একবার আম্মু-আব্বুর রুমের সামনে গেলাম নক করবো ভেবেও করলাম না বিছানায় আসলাম ফের।।ব্যাথা বাড়ছিল কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলছিলাম ব্যাথাটা বাড়তে বাড়তে সোজা মানুষ হঠাৎ করে বেকিয়ে গেলাম আবার খুব কষ্ট করে উঠলাম আমার রুম হাটার পথ টুকু খাবার রুম এরপরে মায়ের রুম এইটুকুই দেয়াল ধরে ধরে গেলাম।আব্বু জিজ্ঞেস করলো কি খুজজি বললাম গ্যাস্ট্রিক এর অষুধ। এসে খেয়ে চলে আসলাম রুমে। বিছানায় উঠে বসলাম। ব্যাথা শুধু বাড়ছিল। বিছানা থেকে উঠে কাউকে ডাকার শক্তিটুকুও পাচ্ছিলাম না । ফোন হাতরাচ্ছিলাম আম্মুকে কল দিব বলে।বাড়িতে কোন সিমেই নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। নেটওয়ার্ক জনিত জটিলতায় কল যাচ্ছিল না হতাশা আমার আরো বাড়ছিল।বেশ কিছুক্ষন পর কল ঢুকলো।কথা যেহেতু বলতে পারছিলাম না তাই বুঝতেও পারছিল না কি বলছি আমি।বুঝাতে সক্ষম হলাম রুমে আসো আমার।মা ছুটে আসলো কি হয়েছে। ব্যাথায় চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। কোন পাশ হয়ে না বসতে না শুয়ে থাকতে পারছি। পেটের ব্যাথাটা সারা পিঠ অব্দি গ্রাস করেছে হেলান দিয়ে বসতেও পারছি না। কথা দিয়েও বুঝাতে পারছিলাম না ইশারায় বলছিলাম ব্যাথা করছে অনেক আব্বুকে ডাকলো।দাদা ভাবী আসলো।ব্যাথা ক্রমশ বাড়ছে এন্টাসিড দিলো খেলাম। পেটে ব্যাথা কত তীব্র আর যন্ত্রনার হতে পারে আমি এইবার মুখোমুখি হলাম এত কষ্টকর অনুভুতি সেই ৭ বছর বয়সে মিনিট ১০ এর জন্য অনুভুব করেছিলাম আজ বয়স তিনগুনের বেশি প্রায় চারগুন ছুইছুই হওয়াতে সেই ব্যাথার স্বরুপ কিছুই মনে নেই নিখাদ স্মৃতিটুকু ছাড়া।সেই স্মৃতিটুকু থাকার ফলে এই লাভ হলো যে আমি নিশ্চিত ছিলাম এটা গ্যাস্ট্রিকের এ ব্যাথা। খুব মজার ছলে হার্টব্রোকেন আর গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথার একটা মিমস শেয়ার করি আমরা তখন বুঝলাম হার্টব্রোকেন এর থেকেও কতগুন তীব্র এই গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা।.....
জমজমের পানি খেলাম, সময় অতিবাহিত হচ্ছিল আরো ঘন্টা খানিক চলে গিয়েছে প্রায় আমার কান্না থেকে মা ও কেদে দিচ্ছিল প্রায় এত রাতে কি করবে এখন কোথায় যাবে এটা গ্রাম হওয়াতে ভালো ডাক্তার এখানে নেই। যেতে হলে শহরে যেতে হবে।পাগল প্রায় অবস্থা সবার। সবাই যে কথা বলছিল আমার এত খারাপ লাগছিল যে তাদের কথা বলতেও নিষেধ করলাম। আব্বু কিচ্ছুক্ষন পর বলে উঠলো আমার ফুপির এরকম পেটে ব্যাথা হচ্ছিল লবন বেশি করে নিয়ে পানি দিয়ে খেয়ে ফেলার পর ব্যাথা কমে গিয়েছিল।আমাকেও দেওয়া হলো তখন এমন অবস্থা ক্যেক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসতেও পারছিনা আম্মু মুখে দিয়ে দিলো পানি খেলাম কয়েক মুহুর্ত পর একটু কমলো ব্যাথাটা। আমি বললাম লবনেই যদি কমে আরো লবন এনে দাও তাও এই ব্যাথা থেকে মুক্তি পাই । আস্তে আস্তে একটু কমে আসলো ব্যাথাটা সহ ম্নীয় পর্যায় বলা যায়। ঘুমিয়ে পড়লাম আমি ১ টা বাজে তখন।
সকাল ৫:২০ বাজে তখন ব্যাথায় ঘুম ভেঙে গেল। আস্তে আস্তে বেড়েই চলছিল। ফ্রেশ হতে গেলাম। ফজরের নামায শেষ করতে করতে ব্যাথা এত বাড়ছিল শরীর আবার ব্যাকা হয়ে গেল।সোজা হতে পারছিলাম না।মা পাশেই শুয়ে ছিল ভাবলাম রাতে এত ঝামেলার মধ্যে ঘুমালো এখনি না ডাকি কিন্তু এতই খারাপ অবস্থা হচ্ছিল আমার পাশে শুয়ে ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলাম চোখে বেয়ে পানি পড়ছিল মা কে আস্তে করে ডেকে তুললাম।মা ফ্রেশ হতে গেল ওইদিকে ব্যাথা পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগলো। মাকে কল দিলাম ফোন যে আমার রুমেই এতটকু বোধশক্তি তখন আমার ছিলনা। আমি দেয়াল ধরে ধরে বাসার সামনের দিকে যাওয়ার জন্য মেইন দরজা প্রযন্ত গিয়ে আবার ফিরে আসছিলাম বাকিটুকু যাওয়ার জন্য শক্তি পাচ্ছিলাম না।রাগ হচ্ছিল ভীষণ মা কেন এখনো আসছে না, ব্যাপারটা এমন মা আসলেই সব কমে যাবে।আমরা ভীতরে ভীতরে যতই ভাবি অনেক বড় হয়ে গিয়েছি কাউকে লাগেনা আমাদের শরীর খারাপ হলেই সেই মায়ের আচল ধরা ছোট বাচ্চাটি হয়ে যাই। মা আসার পথে আমার কান্না শুনে ছুটে চলে আসে।মা আরো দিশেহারা হয়ে যায় এখন কেন আবারো ব্যাথা হচ্ছে।মা ভাবলো রাতে ওষুধ খাবার পর কিছুই খাওয়া হয়নি বড় ভুল হয়ে গেছে খাবার খেতে হবে এখনি আব্বুও ততক্ষনে উঠলো যে কোথায় নিয়ে যাওয়া যায় ডাক্তার দেখাতে।মা খাবার নিয়ে আসলো। কোনভাবে একটু খাওয়ালো আর খেতে চাইলাম না পানি খেলাম অনেকটা। না ব্যাথার আর থামাথামি নেই তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছিল হয়তো।আমি বললাম আল্লাহ এত কষ্ট পাওয়ার থেকে নিয়ে যাও আমাকে।ব্যাথা বেড়েই চলছিল ক্রমশঃ আমি যে কিসব উল্টাপাল্টা ভাবছিলাম আমি যখন বাড়ি আসার চিন্তা ইস্তাফা দিলাম হঠাৎ একদিন তিনিই নিজে থেকে বলছিলেন যাও বাড়িতে আমি সময় পাব না আর যখন ঠিক করলাম আসবো তখন থেকে বলতে লাগলেন যেওনা তুমি।সকাল সন্ধ যেওনা তুমি।আমাকে একা ফেলে। মনে হচ্ছিল তিনি বারন করছিলেন তাই হয়তো এত কষ্ট পাচ্ছি। কিছুক্ষন পর সারা শরীর গুলিয়ে আসছিল বমি আসবে এমন।এই সময় টা আরেক ট্রাজেডি মনে হচ্ছিল এই বুঝি দম বেড়িয়ে যাবে এই পৃথিবী থেকে এই আমার চিরবিদায়।কিন্তু কিছুক্ষন বমি হওয়ার পর মনে হলো সব ব্যাথা নিমেষেই গায়েব। সোজা হয়ে দাড়াতে পারলাম একদম সুস্থ লাগছিল নিজেকে খাবার রুমে গিয়ে বললাম খাবার দাও খুধা পেয়েছে ভীষণ। যদিও লবন ভাতই খেলাম।যেহেতু ডাইজেস্ট হচ্ছিল না বুঝতেই পারছিলাম। রাত থেকে জ্বর ছিল ভীষণ সকালে অনেকটাই কমে গেল।প্রেশার মেপে দেখলাম। প্রেশার কমে গিয়েছে একদম।সকাল ১১ টা নাগাদ আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।উঠলাম ১২:৩০ ডিম সিদ্ধ খেলাম। ১ টা নাগাদ দুপুরের খেয়ে গোসলে গেলাম।এসে নামায পড়ে কিছুক্ষন বাচ্চাদের সাথে সময় কাটালাম আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।বাড়িতে এসে এত ঘুমিয়েছি হিসেব নেই দিন রাত ঘুমাচ্ছি শুধু। বিকেলে ঘুম ভাঙলো আবার সেই পেটে ব্যাথায়।এইবার তাড়াতাড়ি গিয়ে গ্যাস্ট্রিক এর ওষুধ খেলাম। এবার সবাই বেশি চিন্তায় পড়ে গেল কেন এমন হচ্ছে।ব্যাথা আবারো বাড়তে লাগলো সেই পুরোনো ধাচ পেট থেকে প্য্রো পিঠ ব্যাথায় ধরে যাচ্ছিল সোজা হতে পারছিলাম না বাকা হয়ে গিয়েছিল শরীর।ভাবী জমজমের পানি এনে দিলো নিয়ত করে খেলাম।এবার ব্যাথাটা একটু কম। বমি করার চেষ্টা করলাম যে বমি হলেই হয়তো সুস্থ হয়ে যাবো তেমন একটা হলোনা। তবে ঘন্টাখানিক পরে কমে আসলো ব্যাথাটা।দাদাকে কল দেওয়া হলো সে ও ধারনা করলো গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথাই হবে। দুপুরে একটু শাক ভাজি খেয়েছিলাম সেটাই এই বিকেলের ব্যাথাটার কারন।খাওয়া দাওয়া এখন আমার ঝাউ ভাত এ এসে ঠেকলো তাই আলহামদুলিল্লাহ এখনো অব্দি আর ব্যাথাটা উঠেনি।তবে প্রায় সাতমাস পর এসে ঝাউভাতে খেয়ে থাকতে হবে কে ভেবেছিল এ কথা। আমি যতটা না হতাশ আম্মু এতে আরো বেশি হতাশ......
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka