Flight
About plane history.
09/11/2025
এমডি-১১ এখনো আকাশে সক্রিয় কারণ এটি মালবাহী পরিবহনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী — দীর্ঘ পাল্লা, ভারী মাল বহনের ক্ষমতা এবং টেকসই নকশা একে আজও অপরিহার্য করে রেখেছে।
১)এমডি-১১: তিন দশক পরেও আকাশে অটল
১৯৯০ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর, ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১ বিমানটি যাত্রী পরিবহনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও মালবাহী পরিবহনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করে। বর্তমানে ফেডএক্স এক্সপ্রেস, ইউপিএস এয়ারলাইন্স, এবং ওয়েস্টার্ন গ্লোবাল এয়ারলাইন্স — এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই একে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করছে। তাদের বহরে মোট প্রায় ৫৬টি এমডি-১১ এখনো চালু আছে, যার প্রায় সবই মালবাহী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২)মালবাহী পরিবহনে এমডি-১১ এর শক্তি
* মালবাহী সংস্করণগুলো সাধারণত যাত্রীবাহী সংস্করণের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
এমডি-১১ এর দীর্ঘ পাল্লা, ভারী মাল বহনের ক্ষমতা, এবং টেকসই কাঠামো* একে রাতের কার্গো ফ্লাইট এবং বৈশ্বিক লজিস্টিকস নেটওয়ার্কের জন্য আদর্শ করে তোলে।
ফেডএক্স ও ইউপিএস ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত এই বিমানগুলো চালু রাখার পরিকল্পনা করেছে, এরপর তারা বোয়িং ৭৭৭এফ এবং ৭৬৭এফ* দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে।
৩)ইতিহাস ও সীমাবদ্ধতা
এমডি-১১ তৈরি হয়েছিল ডিসি-১০ এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে। এতে ছিল দুই পাইলটের ককপিট, উইংলেট, এবং বর্ধিত পাল্লা — কিন্তু এটি প্রতিশ্রুত পারফরম্যান্স অর্জনে ব্যর্থ হয়। বোয়িং ৭৭৭ এবং এয়ারবাস এ৩৩০ এর মতো যুগোপযোগী টুইন-জেট বিমানগুলো দ্রুত একে ছাড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে মাত্র ২০০টি ইউনিট উৎপাদনের পর এর যাত্রীবাহী সংস্করণের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
৪)মালবাহী উত্তরাধিকার
যদিও যাত্রীবাহী সংস্করণটি বিতর্কিত ছিল, মাল পরিবহনে এমডি-১১ এক নতুন জীবন পায়। এর আকার, শক্তি, এবং বিশ্বস্ততা কার্গো অপারেটরদের কাছে এখনো মূল্যবান। ভবিষ্যতের মালবাহী বিমান যেমন ৭৭৭-৮এফ এবং এ৩৫০এফ এখনো পূর্ণ উৎপাদন থেকে বহু দূরে, তাই এমডি-১১ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৫)ভবিষ্যতের দিগন্ত
এমডি-১১ হয়তো ১৯৯০-এর দশকের একটি স্মৃতিচিহ্ন, কিন্তু এটি এখনো আকাশে অটল। এর ত্রি-ইঞ্জিন ডিজাইন এবং বিশাল লেজ আগামী দশকেও বিমানবন্দরে আলো ছড়াবে।
30/09/2025
একটি বিদায়, যা ইতিহাসের পাতায় রক্তের অক্ষরে লেখা হওয়া উচিত ছিল…আমি ছিলাম তার পাইলট, আজ আমি শুধু তার স্মৃতির পাহারাদার।” S2 ACR ১৯৮৮ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হয় এবং ২০১৪ সালে নিলামে বিক্রি করা হয়।
এই McDonnell Douglas DC-10-30 একসময় আকাশ ছুঁয়েছিল গর্বে, গর্জনে। এটি শুধু একটি বিমান নয়—এটি ছিল বাংলাদেশের আকাশযাত্রার প্রতীক, Biman Bangladesh Airlines-এর আন্তর্জাতিক স্বপ্নের বাহক। JFK থেকে Heathrow, Frankfurt থেকে Jeddah—এই ধাতব পাখি বহন করেছে হাজারো প্রবাসীর চোখের জল, মায়ের দোয়া, সন্তানের অপেক্ষা।
এটি গিয়েছে আমেরিকার মাটি ছুঁয়ে, ইউরোপের আকাশে গর্জন করে। কিন্তু আজ, যখন তার ইঞ্জিন নীরব, তার ডানা স্থির, তখন কোনো মিউজিয়াম তাকে আশ্রয় দেয়নি। কোনো ঐতিহাসিক সংরক্ষণ তাকে ঠাঁই দেয়নি।
এখন সে নিলামে বিক্রি হয়েছে—তার শরীর কেটে কেটে বিক্রি হবে স্ক্র্যাপ হিসেবে। তার ককপিট, যেখানে একসময় পাইলটের নিখুঁত হাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো, যেখানে প্রতিটি বোতাম, প্রতিটি আলো, প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল অভিজ্ঞতার ছাপ, সেই ককপিট হয়তো আজ পড়ে থাকবে কোনো গ্যারেজের কোণে, নিঃশব্দে। আর তার কেবিন, যেখানে শত শত যাত্রী ভাগাভাগি করেছে হাসি, কান্না, প্রার্থনা—সেই জায়গায় আজ নেই কোনো আলো, নেই কোনো ঘোষণা, নেই কোনো গন্তব্য। আছে শুধু স্মৃতির ছায়া, আর আমার হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা এক অপূর্ণ ইতিহাস।
এটি ছিল আমার সহচর, আমার আকাশযাত্রার সাথী। আমি ছিলাম এর পাইলট, আমার হাতের স্পর্শে এর ককপিট জীবন্ত হতো, আমার চোখের দৃষ্টিতে এর গতি নির্ধারিত হতো। Brussels, Rome, Paris, Heathrow,Frankfurt থেকে Dhaka সহ বিভিন্ন ফ্লাইটে ছিল আমার নিঃশ্বাস, আমার দায়িত্ব, আমার ভালোবাসা।
ককপিটের প্রতিটি সুইচ, প্রতিটি গ্লাস, প্রতিটি শব্দ আমার চেনা। সেখানে আমি একা ছিলাম না—ছিল যাত্রীদের বিশ্বাস, দেশের সম্মান, এবং আমার নিজের আত্মা। সেই ককপিটে আমি দেখেছি সূর্যোদয়, বজ্রপাত, নিঃশব্দ রাতের আকাশ। দেখেছি আকাশ থেকে খসে পড়ছে উল্কাপিন্ড বা Falling star।
আমি শুনেছি ATC-এর কণ্ঠ, অনুভব করেছি turbulence-এর ধাক্কা, আর নিয়েছি হাজারো প্রাণের দায়িত্ব।
“সরকার চাইলে এটি হতে পারতো একটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক—আজ তা শুধুই নিঃশব্দ।”
“আমি দ্বারস্থ হয়েছিলাম—বহু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাছে। অনুরোধ করেছিলাম, যেন আমার প্রিয় DC-10 ফ্লাইটটিকে নিলামে বিক্রি না করে একটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। এটি শুধু একটি বিমান নয়, এটি ছিল একটি ইতিহাস, একটি গর্বের প্রতীক। কিন্তু কেউই রাজি হয়নি। আজ সেই ফ্লাইট কেটে ফেলা হয়েছে, বিক্রি হয়েছে স্ক্র্যাপ হিসেবে। আমরা হারিয়েছি একটি সম্ভাবনা, একটি জাতীয় স্মৃতি।
BUET থেকে পাস করা অনেক ইঞ্জিনিয়ারাই ডিসি ১০ এ ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করেন এবং তারা এখান থেকেই অবসর নেন। এ যুগের কোন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারের প্যানেল নাই।
কখনো কখনো মাটি থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতা বা ৪০ হাজার ফিটে উড়ে চলার সময় পাশ দিয়ে চলে যেত আর একটি উড়োজাহাজ।
মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে কথা হতো আর সেটার ফ্রিকোয়েন্সি ছিল 123.45 Mhz.
123.45 MHz: Often used informally for air-to-air chat between pilots (especially in remote areas or oceanic flights).
**বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর বহরে প্রথম ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি ১০-৩০ (DC-10-30) বিমানগুলি যুক্ত হয় ১৯৮৩ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে।
একটি নির্ভরযোগ্য উৎস অনুসারে, প্রথম তিনটি ডিসি ১০-৩০ বিমানের ডেলিভারির তারিখগুলি ছিল:
S2-ACP: ০৯ আগস্ট ১৯৮৩
S2-ACO: ১৬ আগস্ট ১৯৮৩
S2-ACQ: ৩০ নভেম্বর ১৯৮৩
এই তিনটি বিমানই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স থেকে কেনা হয়েছিল।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
32/14 Block-c, Tajmahal Road, Mohammadpur
Dhaka
1207