BOSS Multimedia

BOSS Multimedia

Share

DariKoma Multimedia is one of Media House in where Production Drama, Short Film, Telifilms & Films Production. Director Mazedur Hasu

Films & Drama Production House

সাড়া জাগানো কমেডি শো বাকশো’র প্রথম পর্ব প্রচারিত 21/01/2017

সাড়া জাগানো কমেডি শো বাকশো’র প্রথম পর্ব প্রচারিত বস মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে প্রথম বারের মত প্রচারিত হলো জনপ্রিয় কমেডি শো, বাক-শো। কমেডির ভিন্ন মাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্বের অতিথি হয়ে আসেন এনটিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় কমেটি’শো হাসো সিজন থ্রী’র রানার্স আপ আব্দুলাহ আল মামুন।

Bakshow-2(Comedy বাক-Show) Intertain Mazedur Hasu Guest Abdullah Al Noman By BOSS Multimedia 20/01/2017

র Banner এ Comedy (Show) Baksho শুরু হয়েছে।
এই প্রথম বাকশোর সেটে কাজ করলাম। বিশেষ করে সেটের কারনে।
Show টি দেখলে সেট সম্পর্কে ধারনা হবে।
Boss Multimedia ও নতুন পথ চলা শুরু করেছে।
আপনার দেয়া উৎসাহ প্রেরনা ও ভালবাসা পেলে আশা রাখি Boss কে নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।
চাই ভালবাসা, প্রেরনা ও সঙ্গে থাকতে।
আমাদের নতুন :
https://youtu.be/mBs2Iaunu_M
Youtube এ গিয়ে আমাদের Subscribe করুন Like দিন, পরামর্শদিন।
আপনাদের একটি আমাদের অনেক কিছু।
আর আমরা পরিকল্পনা করছি আগামিতে আমরা আপনাদেরকেই(দর্শকদেরকে ) Guest হিসেবে রাখব।

Bakshow-2(Comedy বাক-Show) Intertain Mazedur Hasu Guest Abdullah Al Noman By BOSS Multimedia This is a funny and Comedy. Comedy bakshow-2 same as Kapil shrma, Mirakkel, Hashow, Comedy hour comedy show but some of exceptional. In The Bakshow-2 guest i...

Bakshow -1( Comedy বাক-show) by BOSS Multimedia 13/01/2017

bakshow-1
মনু না হাইসা যাইবা কই...............
Subscribe & comment Youtube

Bakshow -1( Comedy বাক-show) by BOSS Multimedia Starting Show of Comedy Bakshow, Bakshow-01 In this video funny and comedy contained. This reality show usher and director Mazedur Hasu Produce by M G Azam T...

Best Thirty first night song -2017 By Boss 01/01/2017

Boss music.............

Best Thirty first night song -2017 By Boss Music video Thirty First Night is first music video of Boss Multimedia. Lyric & Singer: MG AZAM Music & Direction: Mazedur Hasu Videography: Hossain Ahmad Ma...

03/10/2016

Aynabaji Movie Trailor
বর্তমান সময়ে সেরা একটি ছবি...................

28/09/2016

Photos 07/05/2016

গতকাল অনন্য মামুন পরিচালিত ‘অস্তিত্ব’ মুক্তি পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ ও তিশা। এছাড়াও ছবিটিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা নিঝুম রুবিনাকে। ছবি মুক্তির একদিন না পেরুতেই নিঝুম অভিযোগ তুলেছেন নির্মাতা মামুনের বিরুদ্ধে।

নিঝুম রুবিনা ঢালিউড২৪-কে বলেন, ‘চলচ্চিত্রে যদি একজন চিটারও থাকে তার নাম অনন্য মামুন। এর আগে শুনেছি মামুন চিটার। এবার নিজেই এই চিটারের খপ্পরে পড়েছি। ‘অস্তিত্বে’ অভিনয়ের আগে মামুন আমাকে যেভাবে কমিটমেন্ট দিয়েছিল তার কোনোটাই রাখেননি।

মামুনের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। মামুন আমাকে বলেছিলেন, তিশা থাকবে একজন প্রতিবন্ধী। আমি থাকবো শুভর বিপরীতে। কাজটি করতে গিয়েই বুঝেছি মামুনের চিটারীটা। কিন্তু কাজের প্রতি ভালবাসা থেকেই ওর কাজটা শেষ করে দিয়েছি। মামুন শুধু চিটার নয়, তাকে অকৃতজ্ঞ বললেও ভুল বলা হবে না। আমার একটা গানও রাখেনি ছবিতে। অথচ আমার গান রাখার কথা ছিল।’

২০১৪ সালে অনন্য মামুনের পরিচালনায় যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ছবিটির কারণে মামুনের পরিচালক সমিতির সদস্যপদ পর্যন্ত বাতিল হয়। এবারও ‘অস্তিত্ব’র পোস্টার কপি করার অভিযোগ উঠেছে এই নির্মাতার নামে। সর্বশেষ যোগ হলো ছবির এক অভিনয় শিল্পীর অভিযোগ।

Photos 05/05/2016

একসঙ্গে অনেকগুলো ছবিতেই অভিনয় করছেন বাপ্পি-পরী। এরইমধ্যে এই জুটির নতুন একটি ছবিও মুক্তি পেয়েছে। ‘মোল্লা’ নামের নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন এই জুটি। গত বছরই তারা চূড়ান্ত হয়েছেন। শুটিংও শুরু হবার কথা ছিলো তখন। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ছবিটির শুটিং শুরু না হলেও চলতি বছর জুনের ১৫ তারিখ শুরু হচ্ছে এর শুটিং। তবে ‘মোল্লা’ নামে নয় ছবিটির ক্যামেরা চালু হবে ‘দাফন’ নামে। সম্প্রতি ছবিটির নাম পাল্টে ফেলেন পরিচালক।

এই সম্পর্কে পরিচালক নজরুল ইসলাম খান ঢালিউড২৪’কে বলেন, ‘গল্পের কারণে ছবির নাম পরিবর্তন করতে হয়েছে। ‘মোল্লা’ থেকে নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘দাফন’। নাম নিবন্ধনেরও কাজ শেষ করে ফেলেছি। সবকিছু গুছিয়ে আনতে সময় লেগে যাওয়ায় ছবির শুটিং শুরু করতে দেরি হলো। চলতি মাসে মহরত করে আগামী মাসে শুটিং শুরু করতে যাচ্ছি’।

ছবির গল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই ছবিতে বাপ্পি একজন মাদ্রাসার ছাত্র। যে কিনা কোনো এক কারণে খুব খারাপ হয়ে যায়। বাপ্পি একদিন পরীর বাবাকে মারতে গেলে সেখানে পরীকে দেখে সে পরীর প্রেমে পড়ে যায়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেম হয়। পরের গল্প দর্শক হলে গিয়ে দেখতে পাবেন’।

ছবিটিতে আরো অভিনয় করছেন মিশা সওদাগর, মিজু আহমেদ, হাবিব খান, প্রবীর মিত্র, রাশেদা, রেহানা জলি প্রমুখ।

Photos 03/05/2016

*** ১৭ বছর পর রিমেক হলো ‘অনেক সাধনার পরে’ ***

১৯৯৯ সালে মুক্তি পায় মোহাম্মদ হান্নান পরিচালিত ‘ভালোবাসি তোমাকে’। এই ছবির একটি জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি, পেলাম তোমার মন’। প্রয়াত খালিদ হাসান মিলু ও কনক চাঁপার দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া গানটি এখনো শ্রোতাদের মনে জায়গা করে আছে।

১৭ বছর পর গানটি রিমেক হয়েছে নতুন একটি ছবিতে। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘নিয়ত’ ছবিতে গানটি ব্যবহৃত হচ্ছে। মূল গানের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। নতুন করে গানটির সঙ্গীত পরিচালনা করছেন কলকাতার স্যাভি।

যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়তিতে অভিনয় করছেন আরিফিন শুভ ও জলি। শুটিং ও ডাবিং শেষে ছবিটি বর্তমানে সম্পাদনার টেবিলে আছে।

Photos 03/05/2016

প্রশ্ন: পথের পাঁচালী আপনাকে কীভাবে পরিবর্তন করেছিল? বাংলাকে আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পথের পাঁচালী আপনাকে কীভাবে সাহায্য করেছিল?

সত্যজিৎ রায়: পথের পাঁচালী করার সময় আসলেই আমি গ্রামীণ জীবনকে আবিষ্কার করি। এব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আমার জন্ম নগরে, আমার বেড়ে ওঠা নগরে — এজন্য গ্রামকে আমি ভালভাবে জানতাম না। লোকেশন খুঁজতে খুঁজতে এবং খুঁজে পাবার পর সেখানে কিছুকাল থাকার পর গ্রামকে চিনতে শুরু করলাম। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাদের আচরণে সাড়া দেয়া, নিসর্গ দেখা, দৃশ্য ও শব্দকে অনুভব করা― এসবকিছুই সাহায্য করেছিল। গ্রামে বেড়ে উঠলেই কেবল গ্রামীণ ছবি করা যায়, ব্যাপারটা এমন নয়। বাইরের যেকেউ কাজটি করতে পারেন।

প্রশ্ন: আপনার কাজে কার ও কীসের প্রভাব পড়েছে?

সত্যজিৎ রায়: বিভূতিভূষণ আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছেন। সত্যি কথা হলো, বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী পড়েই গ্রাম সম্পর্কে আমি জানতে পারি। আমি তাকে বুঝতে পারতাম, তার গ্রামকে এবং গ্রামের প্রতি তার মনোভাবকে। এজন্যই পথের পাঁচালীকেই আমার প্রথম ছবির বিষয় করি। বইটি আমাকে গভীরভাবে তাড়িত করেছে।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যও আমাকে তাড়িত করেছে, কিন্তু তার সাহিত্যের সবটা গ্রামীণ নয়। অবশ্যই আমাদের সাংস্কৃতিক পটভূমি, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সম্মিলনে বেড়ে উঠেছে। ভারতের শহুরে পরিমণ্ডলে যেকোনো শহরে যে শিা লাভ করেছে, এবং যে ইংরেজি কাসিক সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে, তাদের সবার জন্যই এটা সত্য। প্রাচ্য সম্পর্কে পাশ্চাত্যের কারোর যে-জ্ঞান, তার চাইতে আমাদের যেকারোর পাশ্চাত্য সম্পর্কে জানাশোনা অনেক বেশি। আমরা পশ্চিমা ধাঁচের শিক্ষায় শিক্ষিত হই। পশ্চিমা সঙ্গীত, পশ্চিমা চিত্রকলা, পশ্চিমা সাহিত্য সবই ভারতে খুব প্রভাবশালী।
প্রযু্ক্তিভিত্তিক মাধ্যম চলচ্চিত্র পশ্চিমেই বিকাশ লাভ করেছে। এসময়ে শিল্প-কাঠামো সম্পর্কে যে-ধারণা প্রচলিত রয়েছে তা পশ্চিমা, ভারতীয় নয়। সুতরাং শিল্পমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রকে বোঝার ক্ষেত্রে, যার পশ্চিম এবং পশ্চিমা শিল্প-কাঠামো সম্পর্কে পরিচয় রয়েছে, তার জন্য সহায়ক হয়ে থাকে। একজন বাঙালি লোকশিল্পী বা একজন প্রাচীন শিল্পী শিল্পমাধ্যম হিসেবে সিনেমাকে বুঝতে পারবেন না। এক্ষেত্রে পশ্চিমা শিক্ষা থাকা নিঃসন্দেহে একটি সুবিধা।

প্রশ্ন: ভারতীয় সমালোচকেরা বলে থাকেন যে পথের পাঁচালী একটি বিপ্লবাত্মক ছবি, কারণ ভারতীয় সিনেমা-অর্থনীতিকে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছিল। এটা প্রমাণ করেছিল স্টুডিওর পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই ভালো ছবি তৈরি করা যায়। ছবিটির কি আসলেই কোনো তাৎণিক প্রভাব ছিল?

সত্যজিৎ রায়: আমি সেরকম মনে করিনা। যদিও দর্শক ও সমালোচকেরা ছবিটিকে ল্যান্ডমার্কের মতো কিছু বলে রায় দিয়েছিল, কিন্তু নির্মাতারা সেটাকে অনুসরণ করতে সময় নিয়েছেন। অন্য নির্মাতাদের কাজে সে-ছবির তাৎণিক প্রভাব দেখা যায় নি। প্রভাব এসেছে অনেক পরে। গত পাঁচ বা ছ-বছরে পুনা ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে বেরিয়ে আসা নির্মাতারা বলছেন যে তারা পথের পাঁচালী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

প্রশ্ন: আপনার ছবি ভারতের বাইরে সমাদৃত হতে দেখে কি আপনি আশ্চর্য হয়েছেন?

সত্যজিৎ রায়: আমি কখনো ভাবিনি যে আমার কোনো ছবি বিশেষ করে পথের পাঁচালী সারা দেশ জুড়ে অথবা দেশের বাইরে প্রদর্শিত হবে। এথেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, আপনি যদি বিশ্বজনীন অনুভূতি, সম্পর্ক, আবেগ এবং চরিত্র সৃষ্টি করতে পারেন, তবে আপনি নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করতে পারবেন এবং অন্যদের কাছে এমনকি অবাঙালিদের কাছেও পৌঁছতে পারবেন।

প্রশ্ন: আপনার তৈরি করা কোন ছবিটি আপনার জন্য সবচেয়ে অতৃপ্তিদায়ক?

সত্যজিৎ রায়: চিড়িয়াখানা ছবিটি আমার জন্য সবচেয়ে অতৃপ্তিদায়ক। আমার পছন্দে এর বিষয়বস্তু নির্বাচিত হয় নি। পরিস্থিতি আমাকে এটা করতে বাধ্য করে। আমার কয়েকজন সহকারীর এছবিটি করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আস্থা হারিয়ে ফেলে আমাকে কাজটা করতে বলে। এটা একটা রহস্যগল্প (‘হু-ডান-ইট?’ ধরনের) এবং এধরনের রহস্যগল্প থেকে ভালো ছবি করা যায় না। আমি সেধরনের থ্রিলার পছন্দ করি যেখানে প্রথম থেকেই ভিলেনকে মোটামুটি চেনা যায়। ‘হু-ডান-ইট’-এ সবসময় দেখা যায় শেষ দৃশ্যে ডিটেকটিভ বর্ণনা করছেন কীভাবে সবকিছু ঘটলো এবং অপরাধীকে ধরার জন্য তিনি কীভাবে ক্লু-গুলো খুঁজে পেয়েছেন। এই ফর্মটি আমাকে খুব একটা টানে না।

প্রশ্ন: সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক ছবি কোনটি?

সত্যজিৎ রায়: হ্যাঁ, একটি ছবি আছে, যেটা আবার তৈরি করতে গেলে আমি একইভাবে করতাম। এটি হলো চারুলতা। আরেকটি ছবি আছে যেটা আমার ভালো লাগে, সেটা হলো অরণ্যের দিনরাত্রি। শিশুদের ছবির মধ্যে জয় বাবা ফেলুনাথ আমি পছন্দ করি। এটি খুব কাজের। এর মধ্যে উইট আছে, এর মধ্যে সিনেমার চোখ কাজ করেছে। এটা একটা চেহারা পেয়েছে, খুব সন্তোষজনক চেহারা পেয়েছে এবং চমৎকার কিছু দৃশ্য আছে। এছবিগুলোর বাণিজ্যিক সফলতাও আছে যা এক ধরনের তৃপ্তিও দেয়। আমি কাঞ্চনজঙ্ঘাও পছন্দ করি। এর কারণ এই প্রথম আমার নিজস্ব চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করলাম এবং এটি খুব ব্যক্তিগত ছবি। এটা তার সময় থেকে দশ বা পনের বছরের এগুনো ছিল।

প্রশ্ন: ছবিটির ন্যারেটিভ পারম্পর্যহীন ছিল।

সত্যজিৎ রায়: হ্যাঁ। আমাদের দর্শক একটি বা এক জোড়া কেন্দ্রীয় চরিত্র দেখতে পছন্দ করে, যাদের মাধ্যমে একটি রৈখিক ন্যারেটিভের মধ্য দিয়ে ছবি দেখতে তারা অভ্যস্ত। কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেকগুলো গ্রুপের গল্প বলে এবং গল্পটি কখনো সামনে যায়, কখনো পেছনে। প্রথমে গ্রুপ এক, গ্রুপ দুই, গ্রুপ তিন, গ্রুপ চার; এরপরে আবার গ্রুপ এক, গ্রুপ দুই — এভাবে গল্প এগিয়ে যায়। এর একটি সাঙ্গীতিক ফর্ম আছে, কিন্তু এটি দর্শকরা গ্রহণ করেন নি। প্রতিক্রিয়া খুব খারাপ ছিল। এমনকি রিভিউগুলোও ভালো হয় নি। কিন্তু পেছনে তাকিয়ে এখন আমি বুঝতে পারি এটা খুবই চমৎকার একটি ছবি।

প্রশ্ন: আপনার ছবির নারীরা পুরুষদের চাইতে বেশি শক্তিমান, দৃঢ়চেতা, অভিযোজনকারী। এটা কি বাঙালির সামাজিক ইতিহাসের প্রতিফলন?

সত্যজিৎ রায়: এটা হলো লেখকরা যা লিখেছেন, মূল গল্পে লেখক যা বলতে চেয়েছেন তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, তার প্রতিফলন। রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রে অনেক শক্তিমান নারী চরিত্র রয়েছে। কিন্তু এসবে নারী সম্পর্কে আমার নিজস্ব মনোভাবেরও প্রতিফলন রয়েছে।

প্রশ্ন: সেটা কীরকম?

সত্যজিৎ রায়: যদিও তারা পুরুষের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী নয়, কিন্তু প্রকৃতি এই ঘাটতি পূরণের জন্য তাদের মধ্যে বাড়তি কিছু গুণাবলী দিয়ে দিয়েছে। তারা বেশি সৎ, সরাসরি এবং তারা দৃঢ় চরিত্রের। আমি প্রত্যেক মেয়ের কথা বলছি না, কিন্তু মেয়েদের ধরন (টাইপ) আমাকে মুগ্ধ করে। আমার ছবিতে যেসব নারী-অভিনেত্রী বাছাই করি তারা পুরুষদের চাইতে ভালোভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়।

প্রশ্ন: চারুলতা কি সত্যজিতের পছন্দের নারী?

সত্যজিৎ রায়: হ্যাঁ, সে-ই আমার পছন্দের নারী।

প্রশ্ন: জলসাঘর থেকে শতরঞ্জ কি খিলাড়ি — আপনি পুরনো সংস্কৃতি থেকে নতুন সংস্কৃতিতে আসা-যাওয়া করেন। যেন সনাতনতা ও প্রগতির মধ্যে আসা-যাওয়া করছেন। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আপনি পুরনো সংস্কৃতির পে এবং নতুনকে মেনে নিতে চান না।

সত্যজিৎ রায়: শতরঞ্জ কি খিলাড়ি-তে যা নতুন, তাকে আমি বাতিল করে দিই নি। সেখানে স্পষ্ট করে বলে দেয়া আছে আশেপাশে যা ঘটছে সামন্তরা তাতে অংশ নিচ্ছে না। আমি সেসব চরিত্রের প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু এটাও স্পষ্ট করে বলেছি তারা কোনো কাজের কিছু নন। যে-জীবন প্রবাহিত হচ্ছে সে-জীবন এবং তার প্রতিনিধিদের ব্যাপারে আমি বেশি আগ্রহী। চেখভের দি চেরি অর্চার্ড আমার খুব প্রিয় এবং সেখানে আপনি একই জিনিস দেখতে পাবেন।
অবশ্যই আপনি একটি মৃত ঘোড়াকে পেটাতে পেটাতে বলতে পারেন সামন্তবাদ ভ্রান্ত ও ভুয়া। কিন্তু ছবিগুলোতে আপনি চরিত্রগুলোকে অনুভব করতে পারছেন। তাদের জন্য বেদনাবোধ হয়, তারা ডাইনোসরদের মতো, যারা বুঝতে পারে নি কেন তারা বিলুপ্ত হয়ে গেল। এসবের মধ্যে করুণ রস রয়েছে যা আমাকে আগ্রহী করে তোলে।

প্রশ্ন: বেশিরভাগ পশ্চিমা সমালোচক মনে করেন যে আপনার ভারতদর্শন বিষণ্ন ও হতাশাভাবাপন্ন।

সত্যজিৎ রায়: কেবল জনঅরণ্য-কে এধরনের ছবি বলা যায়।

প্রশ্ন: অরণ্যের দিনরাত্রিকেও অনেকে হতাশার ছবি বলেছেন।

সত্যজিৎ রায়: আমি তা মনে করি না। কিছু নিরানন্দের বিষয় ছবিটিতে রয়েছে, কিন্তু সেটা কাহিনীর অংশ হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে, যা সব ধরনের ছবিতেই থাকে। আপনি একটি পশ্চিমা ছবিকে বিশ্লেষণ করলে তাতে পশ্চিমা মূল্যবোধ সম্পর্কে খুব হতাশাজনক মন্তব্য শুনতে পাবেন। আপনি সবসময় সুখী ছবি করতে পারেন না।
যদি আপনি একটি সমস্যা সম্পর্কিত ছবি তৈরি করেন এবং সেখানে কোনো সমাধান না থাকে তবে তা হতাশার ছবি হতে বাধ্য। মহানগর-এ স্বামী-স্ত্রী উভয়েই তাদের চাকরি হারায়। কোনো চাকরির খবর তারা পাচ্ছে না। তারা পরস্পর থেকে দূরে সরে যায়, তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়, এবং তারা আবার মিলিত হয়। কিন্তু তখনও তাদের কোনো চাকরি নেই, এবং খুব তাড়াতাড়ি নাও পেতে পারে, কিন্তু তাতে হতাশার কোনো চিত্র তৈরী হয় না।
একমাত্র বিষণ্ন ছবি হলো জনঅরণ্য। এবিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমি চারিদিকে দুর্নীতি দেখতে পাই — ভয়াবহ দুর্নীতি। কলকাতার সবাই এবিষয়ে উদ্বিগ্ন। এরকম সবাই জানে যে সড়ক ও পাতাল রেলের জন্য যে সিমেন্ট কেনা হচ্ছে, তা দিয়ে কন্ট্রাক্টররা নিজেদের বাড়িই তৈরি করবে। জনঅরণ্য সেধরনের দুর্নীতি নিয়ে তৈরী, এবং আমার মনে হয় না এর কোনো সমাধান আছে।

প্রশ্ন: আপনি প্রায়ই বলে থাকেন যে, আপনি মনে করেন না সমাধান দেয়া এবং রায় দেয়া কোনো শিল্পীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বা এর কোনো প্রয়োজন আছে। এটা সঠিক এবং ওটা ভুল — এসব বলাও একজন শিল্পীর কাজ নয়। আপনি বড়ো কোনো রাজনৈতিক ভাষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

সত্যজিৎ রায়: আমি মৃণাল সেন সহ অন্য যেকারোর চেয়েও স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক ভাষ্য দিয়েছি। জনঅরণ্য-এ আমি আমি একটি দীর্ঘ আলাপচারিতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম যেখানে একজন কংগ্রেসী সমস্যাগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছে। তিনি অবান্তর কথা বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন, কিন্তু তার উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। যদি অন্য কোনো পরিচালক ছবিটি তৈরি করতেন তবে ঐ দৃশ্যটিকে নিতেন না। কিন্তু একজন পরিচালক কী বলতে পারেন, তার ওপর বিধি-নিষেধ আছে। আপনি জানেন অনেক কিছু আছে যা বললে সেন্সর বোর্ড থেকে ছবিটি বেরিয়ে আসতে পারবে না। তা হলে আপনি সেটা কেন বলতে যাবেন?

প্রশ্ন: তা হলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতার কাজ কি অক্রিয় পর্যবেকের অথবা নিস্ক্রিয় কর্মীর?

সত্যজিৎ রায়: আপনি কি হীরক রাজার দেশে দেখেছেন? সেখানে একটি নির্মূল অভিযান আছে যাতে সব গরীব লোকজনকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ানো হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধীর সময়কার জরুরি পরিস্থিতিতে দিল্লীতে এবং অন্য শহরগুলোতে যা ঘটেছিল, এ হলো তারই প্রত্য প্রতিফলন। এধরনের ফ্যান্টাসির ক্ষেত্রে আপনি পার পেয়ে আসতে পারেন। কিন্তু সমসাময়িক চরিত্র নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে, সেন্সরশিপের কারণে, আপনি কেবল একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে পারেন। পষ্টভাবে বললে, আপনি ক্ষমতাসীন দলকে আক্রমণ করতে পারবেন না। স্টোরি অফ এ চেয়ার-এর ক্ষেত্রে এটি বলার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং পুরো ছবিকে নষ্ট করা হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে আপনি কী করতে পারেন? আপনি সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন আছেন, এবং আপনি সেগুলো নিয়ে কাজও করতে পারেন; কিন্তু আপনি আপনার সীমা সম্পর্কেও জানেন, যে প্রতিবন্ধকতার বাইরে আপনি যেতে পারছেন না।

প্রশ্ন: চলচ্চিত্র-নির্মাতার সামাজিক ভূমিকাকে অনেকে খুব বড়ো করে দেখেন। অনেক সমালোচক, বাংলার অনেক সমালোচক মনে করেন আপনি যথেষ্ট রাজনৈতিক নন। আপনি হয়তো আরো অনেক গভীরে যেতে পারতেন, কিন্তু আপনি আপনার সীমাকে পরীক্ষা করে দেখেন নি।

সত্যজিৎ রায়: না, আমি মনে করি না যে আমি আরো দূরে যেতে পারতাম। কোনো নির্দিষ্ট ল্যকে আঘাত করা, কোনো প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা খুবই সোজা। কিন্তু আপনি সেসব লোকদের আক্রমণ করছেন যারা তার থোড়াই কেয়ার করে। আপনি যা বলছেন তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ছোঁয়াও যাবে না। তা হলে কীসের জন্য বলা? চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি। আপনি আমাকে একটি ছবি দেখান যার ফলে সমাজে পরিবর্তন এসেছে বা অন্য কোনো ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

প্রশ্ন: কেন, লেনি রিফেনস্টাল আর্য-মিথের নাৎসি-সংস্করণ করেছেন এবং আইজেনস্টাইন চলচ্চিত্রকে বিপ্লবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

সত্যজিৎ রায়: আইজেনস্টাইন ঘটমান বিপ্লবকে সাহায্য করেছেন। বিপ্লবের মাঝামাঝি পর্যায়ে একজন নির্মাতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু যদি কোনো বিপ্লব না থাকে, তবে আপনি কিছুই করতে পারেন না।
রিফেনস্টাল একটি নাৎসি মতবাদের মিথকে সাহায্য করেছিলেন, এবং নাৎসিরা সেসময় খুবই শক্তিশালী ছিল। ফ্যাসিজম-এর প্রাথমিক দিনগুলোতে এমনকি বুদ্ধিজীবিরাও দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ একসময় মনে করতেন মুসোলিনি সাংঘাতিক ভালো কিছু করছেন, খুব ইতিবাচক কিছু করছেন, যতণ না রোমেইন রোলান্ড তাকে জানান যে তিনি ভুল জানেন। রবীন্দ্রনাথ ফ্যাসিজমের পুরো প্রভাবকে বুঝতে পারেন নি।

প্রশ্ন: একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে আপনার সামাজিক ভূমিকা সম্পর্কে আপনি কী বোঝেন?

সত্যজিৎ রায়: প্রতিদ্বন্দ্বীতে আপনি আমার মনোভাব সম্পর্কে জানতে পারবেন। সেখানে দুই ভাই আছে, ছোট ভাই নকশালী। এব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে বড়ো ভাই ছোট ভাইয়ের সাহস ও অপরাধের ব্যাপারে তাকে সমীহ করে। ছবিটিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। কিন্তু একজন নির্মাতা হিসেবে আমি বড়ো ভাইয়ের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ছিলাম। কারণ সে একটি দোদুল্যমান চরিত্র। একটি মানসিক অস্তিত্ব হিসেবে, দ্বিধাগ্রস্ত একজন মানুষ হিসেবে, চরিত্রটি আমার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ছোট ভাই ইতোমধ্যেই নিজেকে একটি দর্শনের মধ্যে খুঁজে পেয়েছে। এবং এটি তার পুরো চরিত্রকে তাড়িত করে, তাকে অগুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। নকশাল আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে। একজন ব্যক্তি হিসেবে সে তাৎপর্যহীন হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন: কিন্তু আপনি কি আদর্শগত ইঙ্গিত ও আবেগগত ইঙ্গিতের মধ্যে এধরনের পার্থক্য করতে পারেন? আদর্শবাদ কি বুদ্ধিবৃত্তিক নয়? এধরনের দ্বৈততা আপনি কীভাবে তৈরি করেন?

সত্যজিৎ রায়: কেন নয়? কেন নয়, বলুন তো। একটি আন্দোলনের সঙ্গে যে জড়িত, সে বড়ো নেতাদের নির্দেশে চলে, যারা আন্দোলনকে পরিচালিত করেন, নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনি যদি নিয়ন্ত্রণকারী চরিত্রগুলো নিয়ে কাজ করেন তবে তা আগ্রহোদ্দীপক হবে। এছাড়া আপনি নকশাল আন্দোলন নিয়ে আইজেনস্টাইনের মতো বিপ্লবী ছবি বানাতে পারেন। কিন্তু ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি তা করতে পারবেন না।

প্রশ্ন: আমি একমাত্র লোক নই যে মনে করে আপনি আবেগকে বেশি প্রশ্রয় দেন। রবিন উড লিখেছেন যে আপনি আদর্শ প্রকাশের চাইতে আবেগগত অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করার প্রতি বেশি আগ্রহী।

সত্যজিৎ রায়: এটা ঠিক নয়। আমার ছবিতে একটা জিনিস স্পষ্টভাবে পাওয়া যাবে, সেটা হলো নৈতিক মনোভঙ্গি।

প্রশ্ন: এটা কি আপনার ব্রাহ্ম-শিক্ষার ফসল?

সত্যজিৎ রায়: আমি সেরকম কিছু মনে করি না। আমি এও জানি না ব্রাহ্ম হওয়ার মানে কী? চৌদ্দ-পনের বছর থেকেই আমি ব্রাহ্ম-সমাজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। সংগঠিত কোনো ধর্মে আমি বিশ্বাস করি না। ধর্ম কেবল ব্যক্তিক পর্যায়ে থাকতে পারে। আমি মনে করি আমার ছবিতে যে-রাজনৈতিক মনোভঙ্গি আনতে পারতাম তার চাইতে নৈতিক মনোভঙ্গিটি বেশি আগ্রহোদ্দীপক।

প্রশ্ন: নৈতিক মনোভঙ্গি কখনো কখনো কি খুব সাধারণ কিছুতে পর্যবেশিত হয় না? পিকু-তে আপনি বলছেন যে, অবিশ্বাস নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত সামাজিক ও যৌন মূল্যবোধে পরিবর্তন, সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোয় আঘাত আনতে পারে।

সত্যজিৎ রায়: পিকু খুব জটিল একটি ছবি। এটি একটি কাব্যিক ভাষ্য যাকে সোজা কথায় ভাষান্তর করা কঠিন। ছবিটিতে একটি ভাষ্য এভাবে দেয়া হয়েছে যে যদি কোনো নারীকে অবিশ্বাসী হতে হয়, তাকে যদি বিবাহ-বহির্ভূত কোনো সম্পর্ক রাখতে হয়, সে তার সন্তান বা এক্ষেত্রে ছেলের প্রতি তার আবেগকে রা করতে পারবে না। দু-সম্পর্কই একসঙ্গে চলতে পারে না। আপনাকে নিষ্ঠুর হতেই হবে। এমন হতে পারে সে ঐরকম নিষ্ঠুর নয়। সে খুবই বাঙালি। একই পরিস্থিতিতে একজন ইউরোপিয়ান একইরকম আচরণ করতো না।

প্রশ্ন: চারুলতা কীভাবে অবিশ্বাসের সমস্যার সমাধান করে? ছবি দেখে তো আমাদের মনে হয়েছে সে আগের সম্পর্কে ফিরে গেল। সে অবিশ্বাসী ছিল অথবা তার কোনো উপায় ছিল না …

সত্যজিৎ রায়: সে অবিশ্বাসী ছিল, কিন্তু সেও দ্বিধাগ্রস্ত ছিল, কারণ তার স্বামীটি ভালো ছিল। তিনি অনৈতিক ছিলেন না। চারুলতা সম্ভবত সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি সামলে নেবার চেষ্টা করে। স্বামীটি নিজেও বুঝতে পারেন যে, সবকিছু ঘটার জন্য যে তিনি নিজেও দায়ী, এটা বুঝতে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। এজন্য ছবিটির শেষে এরকম পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে তারা আবার একত্রিত হবে, কিন্তু সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য এটা খুবই তাড়াহুড়ো হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনার চরিত্রগুলোর মধ্যে আপনার নিজের অস্তিত্ব কতখানি আছে? অশনি সংকেত দেখে পলিন কিলন লিখেছিলেন, ‘গঙ্গাচরণের মধ্যে রায় নিজের কিছু ঢুকিয়েছেন — তার নিজের কিছু অপরাধবোধ, নিজের দুর্বলতা, নিজের কমিটমিন্ট।’ এটা কি সঠিক?

সত্যজিৎ রায়: সমালোচকরা ভুলে যান যে আমি অন্যের কাহিনী নিয়ে ছবি করেছি এবং যার আরেকটি রূপ ইতোমধ্যেই রয়েছে। অশনি সংকেত-এ গঙ্গাচরণ বিভূতিভূষণের চিন্তাধারার খুব কাছাকাছি। প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া উচিত লেখকের নিজের এই অপরাধবোধ ও দুর্বলতার অনুভূতি ছিল কিনা। আমি এ-গল্পের মূল লোক নই। আমাকে নিয়ে এর মধ্যে টানাটানি কেন?
এটা সত্যি, আমি এমন কোনো চরিত্রকে নির্মাণের চেষ্টা করেছি যার একটি পরিচয় ও বোঝাপড়া আমার কাছে আছে। আমি গঙ্গাচরণকে বুঝি, তার চিন্তা-ভাবনা, আচরণ, প্রতিক্রিয়া বুঝি। আমার কাছে সে বিশ্বাসযোগ্য, শেষ পর্যায়ে তার পরিবর্তনও আমি বুঝতে পারি, কিন্তু সে আমার প্রতিফলন নয়।

প্রশ্ন: তাহলে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন যেসব গ্রন্থ থেকে আপনি ছবি করেছেন, সেসব যদি কারো পড়া না-থাকে তবে তাদের জন্য আপনার ছবিকে বোঝা ও ব্যাখ্যা করা কঠিন?

সত্যজিৎ রায়: হ্যাঁ, এ-অর্থে এটা ঠিক যে, তারা মূল লেখককে পুরোপুরি উপেক্ষা করেন। তারা মনে করেন ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা বলা হয় তা পুরোপুরি পরিচালকের কথা, যা সাধারণত সত্যি নয়। অবশ্য আমি সেই গল্প বা উপন্যাস নির্বাচন করি যার কিছু আবেদন আমার কাছে রয়েছে। চিত্রনাট্য লেখার পর্যায়ে মূল ভাবনার কিছুটা পরিবর্তন করা হতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ মূল উপদান অক্ষত থাকে। একটি গল্প পড়ার পর আপনার মনে হতে পারে যে, লেখক যেভাবে বর্ণনা করেছেন, কোনো চরিত্র সেভাবে আচরণ নাও করতে পারে। তাই কিছু পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। আমি যখন এটা জানি, একটি গল্প পড়ার পর আমি গল্পটিকে পেছনে রেখে দেব, এবং কাটাকুটি অংশ থেকেই শুরু করব। সবশেষে যদি দেখি পরিবর্তনগুলো মেনে নেয়া যায়, তবে আমি মূল গল্পকে ভুলে যাবো।

প্রশ্ন: কিছু সমালোচক মনে করেন আপনি দারিদ্র্যের ওপরে রোমান্স আরোপ করেন। দারিদ্র্য ও পীড়ন আপনার ছবিতে কঠোররূপে দেখা দেয় না।

সত্যজিৎ রায়: আমি মনে করি দারিদ্র্যের বর্ণনায় পথের পাঁচালী যথেষ্ট নিষ্ঠুর। চরিত্রগুলোর আচরণ দেখবেন, বৃদ্ধা মহিলাটির প্রতি মা-চরিত্রটি যেভাবে আচরণ করল, তা খুবই নিষ্ঠুর। একটি পরিবারের মধ্যে একজন বৃদ্ধার প্রতি এরকম নিষ্ঠুরতা কেউ দেখিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। অশনি সংকেত-এর সেটি দেখিয়ে কিল যে-প্রশ্নটা তুলেছেন যে, ববিতাকে সেখানে বেবি ডল-এর মতো দেখাচ্ছিল। কিন্তু তিনি জানেন না যে গ্রামের অনেক ব্রাহ্মণের স্ত্রী দেখতে খুবই সুন্দর।

প্রশ্ন: এটা কি ঠিক নয় যে, অশনি সংকেত-এ এমন একটি দুর্ভিক্ষ ঘটলো যেখানে আক্রান্ত পরিবেশ ও ক্ষুধার্ত মুখের দেখা নেই।

সত্যজিৎ রায়: হ্যাঁ, দুর্ভিক্ষের সময় এটাই ঘটেছিল। যখন সবাই শহরে আসা শুরু করল তখন এটা স্পষ্ট হলো যে লোকজন ক্ষুধার কারণে মৃত্যুবরণ করবে, যদিও তখন ভালো ফসল হয়েছিল। সেই দুর্ভিক্ষের ঘটনা ছিল এরকমই। আমি ছবিতে যে রঙের ব্যবহার করেছি, এটা এসেছে সরাসরি লেখকের বর্ণনা থেকে — প্রকৃতি খুব সুন্দর ছিল, বাইরে বাইরে সবই সুন্দর ছিল কিন্তু এরপরও ক্ষুধার কারণে মানুষ মরেছিল।

প্রশ্ন: আপনি, ফেলিনি, কুরোশাওয়া, বার্গম্যান প্রায় একই সময়ে ছবি করা শুরু করেন। অনেক সমালোচক মনে করেন যে, আপনি একটা জায়গায় পিছিয়ে আছেন। আপনি নন্দনতত্ত্বের ও ন্যারেটিভের ঝুঁকি নেন নি, যেটা বার্গম্যান ও ফেলিনি নিয়েছেন। তিরিশ বছরের চলচ্চিত্র-নির্মাণের অভিজ্ঞতার শেষে আপনি নিজের ক্যারিয়ারকে অন্যদের তুলনায় কীভাবে দেখেন?

সত্যজিৎ রায়: আমি মনে করি খুব প্রাথমিক অবস্থাতেই আমি পরিপক্বতা অর্জন করেছিলাম। আমি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম যে, যতটা পারি সহজ বর্ণনাত্মক রীতি আমি গ্রহণ করবো। ছবি করার সময় আমি পশ্চিমা দর্শকের কথা মাথায় রাখি না। বাংলার নিজস্ব দর্শকের কথাই আমি ভাবি। আমি তাদেরই আমার সঙ্গে রাখতে চাই এবং আমি তাতে সফলও হয়েছি। শুরুর দিকে এই দর্শকগোষ্ঠী খুবই অপরিশীলিত ছিল। তারা বাংলা ছবিকে এড়িয়ে যেতে অভ্যস্ত ছিল। এদেরকেই ধীরে ধীরে সঙ্গী করতে হয়েছে। কখনো কখনো তাদের নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা-য় বা অরণ্যের দিনরাত্রি-তে একটা লাফ দিতে চেয়েছি এবং তাদের তখন সঙ্গে পাইনি।

বার্গম্যান বা ফেলিনিকে দর্শকদের নিয়ে এধরনের ঝুঁকির কথা ভাবতে হয়নি। বার্গম্যান অনেক সহজ, কিন্তু তিনি কঠিন ও কঠোর হতে পারেন। এবং তিনি সবসময়ই চমৎকার ফটোগ্রাফির সাহায্য পেয়েছেন। আর ফেলিনি বারবার একই ছবি বানিয়েছেন। তার ছবিতে প্রচুর স্টাইল ও টেকনিকের সমাহার থাকে। তিনি গল্পের প্রতি অতটা আগ্রহী ছিলেন না, লোকজন তার টেকনিক দেখতেই যায়।

বার্গম্যান ও ফেলিনি যা করেছেন আমি তার সবকিছু করতে পারি না। আমার তাদের মতো দর্শক নেই এবং সেধরনের পরিপ্রেক্ষিতও নেই। আমাকে সেধরনের দর্শকের কথা ভাবতে হয় যাদের বোধবুদ্ধি কম। আমাকে তিরিশ বছর ধরে ভারতীয় দর্শকদের কথা ভাবতে হয়েছে, এবং এসময়ের মধ্যে সিনেমা সম্পর্কে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয় নি। সেখানে পরিচালকরা এতটাই নির্বোধ, পশ্চাদপদ ও বাতিলযোগ্য যে তাদের ছবির পাশে আমার ছবি দেখে আপনাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। পরিস্থিতি আমার গল্পকে নিরীহ একটা পর্যায়ে রাখতে বাধ্য করেছে। আমি যা করতে পারি, তা হলো, অর্থের দিক থেকে এবং মানসিক অভিক্ষেপ ও স্তরের দিক থেকে সফল একটা কিছু নির্মাণ করা যাতে একটি পূর্ণতা আসে ও অনেক মানুষের অনেক কিছুর সঙ্গে তা যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়।

Photos 02/05/2016

‘বাহুবলি: দ্য বিগিনিং’ ছবির ক্লাইম্যাক্স থেকে এই কথাটিই দর্শককে ভাবাচ্ছে, সেটি হচ্ছে কেন বাহুবলীকে মারলেন কাটাপ্পা? সেই তথ্য এবার ফাঁস করলেন পরিচালক স্বয়ং।

একটি সাক্ষাৎকারে পরিচালক এস এস রাজামৌলি জানিয়েছেন এই তথ্য। তার ভিডিও আপলোড করেছে ধর্ম প্রোডাকশন। সাক্ষাৎকারে পরিচালককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন কাটাপ্পা বাহুবলীকে মারলেন? তার উত্তরে রাজামৌলি বলেন, বাহুবলী নিজেই কাটাপ্পাকে বলেছিলেন তাকে মারতে। কাটাপ্পা শুধু আজ্ঞা পালন করেছেন।

কিন্তু বাহুবলী কেন কাটাপ্পাকে এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা পরিচালক খোলাসা করেননি। এর জবাব পাওয়া যাবে ‘বাহুবলি ২’ সিনেমায়। তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছরের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

গত বছর মুক্তির পর থেকেই সাড়া ফেলে দিয়েছিল ছবিটি। এ বছর ছবিটি সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। ‘বাহুবলি’ প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা করে। তবে, নির্মাতাদের আশা ‘বাহুবলি ২’ আগের সাফল্য ছাড়িয়ে যাবে। আরও বেশি ব্যবসা করবে ছবিটি। ছবিটি তেলেগু, তামিল, মালায়ালাম ও হিন্দি ভাষায় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

Want your establishment to be the top-listed Cinema in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Dhanmondi Gigatola
Dhaka
1209