Ahamad Riaz

Ahamad Riaz

Share

Filmmaker

সূরা আলাকের কথা মনে পড়লেই
একটা সেজদা দিতে মনে চায়।
মোটেই আল্লাহকে ভয় পেয়ে নয়,
বরং ভালো লাগায় তাঁর
সৃষ্টির নৈপুণ্যতায়।
মনে হয় আসলেই
আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয়।
দ্বিতীয় মানেই অমিল-বৈরীতা।

18/04/2026

“জাতীয় সংসদ ভবন তাওয়াফ করছে শতশত মোটরযান, চোখ বুজে আছেন জনতার ঈশ্বর।”

এখন ঢাকার রাজপথে শত শত মোটরসাইকেল আর গাড়ি জাতীয় সংসদ ভবনকে ঘিরে ঘুরছে—তেলের আশায়। জাহাঙ্গীর গেট থেকে শুরু করে পারিবাগ, মৎস্য ভবন—সব জায়গায় একই দৃশ্য। একটা পাম্পে হাজারের বেশি গাড়ি লাইনে! এটা কোনো ধর্মীয় আচার নয়, এটা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সবচেয়ে কঠিন মেটাফর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে, দু’লিটার অকটেনের জন্য মাথা ঘুরছে, কিন্তু নীতিনির্ধারকরা সংসদে বসে বলছেন, “সংকট নেই, মজুত আছে।” চোখ বুজে আছেন জনতার ঈশ্বরেরা।

এই ‘মোটর-তাওয়াফ’ শুধু যানজট নয়। এটা আমাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আর নৈতিক দেউলিয়াত্বের ছবি। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু বাংলাদেশ তো ৯৫ শতাংশ তেল আমদানি করে। সরকারের দায়িত্ব ছিল আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখা, স্বচ্ছতা রাখা, আর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলা। কিন্তু কী হলো? পাম্পে তেল নেই, আর সংসদে ‘তেল আছে’ বলে বক্তৃতা চলছে।

১. সরকারের করণীয়: ‘সব ঠিক আছে’ বলে আর চলবে না, চাই আঙুল তুলে দেখানোর মতো স্বচ্ছতা
নীতিনির্ধারকদের চোখে আঙুল দিয়ে বলতে হয়—আপনাদের ‘ডিজিটাল অ্যাপ’ আর ‘আশ্বাস’ দিয়ে এই তাওয়াফ থামবে না। তিনটা জায়গায় এখনই আঘাত করুন:
প্রথমত, পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করুন। প্রতিটি পাম্পে রিয়েল-টাইমে কত লিটার তেল আছে, কতটা বিক্রি হয়েছে—এটা জনগণের সামনে খুলে দিন। যাতে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটোছুটি করে মানুষ অসহায় না হয়।
দ্বিতীয়ত, পুরোপুরি ক্যাশলেস পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করুন। ১০০-২০০ টাকা গুঁজে দিয়ে যে ‘লাইন ব্যবসা’ চলছে, তা বন্ধ করুন। বিকাশ, কার্ড, কিউআর—সব বাধ্যতামূলক। নগদ লেনদেন বন্ধ হলে পাম্প মালিক আর কমিটির অন্ধকার সুবিধা বন্ধ হবে।
তৃতীয়ত, বন্টন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ করুন। শুধু সংসদ এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তেল পাঠিয়ে লাভ নেই। প্রান্তিক পাম্পগুলোতে সরবরাহ বাড়ান। না হলে ঢাকার বাইরের মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়বে।
আর সবচেয়ে বড় কথা—মন্ত্রীরা সংসদে উঠে “সংকট নেই” বলে যে মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন, সেটা বন্ধ করুন। জনগণ দেখছে, অনুভব করছে। এই অস্বীকারই সংকটকে আরও গভীর করে।

২. নাগরিকের করণীয়: আমরাও তো কিছু দায় এড়াতে পারি না
সরকারকে দোষ দিলেই হবে না। আমাদের আচরণও অনেক সময় এই তাওয়াফকে লম্বা করে। ট্যাঙ্ক পুরো করে ভরার লোভে যেন অন্যের জরুরি প্রয়োজন বন্ধ না হয়। যতটুকু না হলে নয়, ততটুকু নিন। কালোবাজারি যারা করছে, রাইড শেয়ারিংয়ের নামে বেশি দামে তেল বিক্রি—তাদের কাছ থেকে কিনবেন না। আর সামনে দেখলে প্রমাণসহ হটলাইনে অভিযোগ করুন। এটা শুধু অধিকার নয়, দায়িত্ব।

৩. সমাধানের স্মার্ট পথ: ‘স্মার্ট ডিস্ট্রিবিউশন’ ছাড়া উপায় নেই
সংকট সাময়িক হতে পারে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা স্থায়ী হলে চলবে না।
• অ্যাপের মাধ্যমে স্লট বুকিং চালু করুন—আগে থেকে সময় নিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপমানিত হবেন না।
• পাম্প টু পাম্প অটোমেটেড সিস্টেম—তেল কমলে সরাসরি ডিপোতে অ্যালার্ট যাক, ‘তেল নেই’ নাটক বন্ধ হোক।
• ভ্রাম্যমাণ আদালত রাখুন। যারা হাতেনাতে ঘুল করবে বা ব্ল্যাক মার্কেট চালাবে, তাদের তাৎক্ষণিক জরিমানা আর পাম্প বন্ধ।

শেষ কথা
এই মোটর-তাওয়াফে দাঁড়িয়ে মানুষের ক্লান্তি এখন ঘৃণায় রূপ নিচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা যদি এখনও চোখ বুজে থাকেন, তাহলে জনগণের ধৈর্যও একদিন ফুরিয়ে যাবে। জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু ডলার বা আমদানির বিষয় নয়—এটা সরকারের স্বচ্ছতা আর নাগরিকের দায়িত্বের মিলন। সরকার যদি সত্যি কথা বলে, স্বচ্ছতা আনে আর আমরা যদি ব্যক্তিগত লোভের ঊর্ধ্বে উঠি, তবেই এই দীর্ঘ অসহায় চক্র ছোট হবে।
না হলে এই তাওয়াফ চলতেই থাকবে। আর জাতি হিসেবে আমরা কতটা সুসংগঠিত, সেটা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
#সৃষ্টি

01/11/2025

It's me

29/10/2025

আমরা দু'জন কেমন করে
এসেছি এই একাকীত্বের তীরে।
তুমি আমি যে অতীত রঙিন,
আজ শুধু এক দীর্ঘশ্বাসের গান!

08/10/2025
29/09/2025

সাড়া দাও বাংলাদেশ!!

11/09/2025

কিছু গান কিছু কথা নিয়ে আহামাদ রিয়াজ প্রযোজিত সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। দেখুন শুক্রবার বেলা ৫ টায় মোহনা টিভিতে।
#সৃষ্টি

04/08/2025

পোস্টার টাঙিয়ে নেতা নয়, কাদা মেখে মানুষ হও,
এক পাভেলের লাথি তথাকথিত নেতৃত্বে:

একটা রাস্তা। কয়েক হাত গর্ত। প্রতিদিন মানুষ পড়ে। কাদা, পানি, দুর্ঘটনা, ঝামেলা। প্রশাসন চুপ। জনপ্রতিনিধি ব্যস্ত নিজের নামে ফেস্টুন লাগাতে। নির্বাচন এলে এলাকা সয়লাব করে দেয় “সমাজসেবার প্রতিশ্রুতি” দিয়ে। কিন্তু কাজ? সেটা একটা সাধারণ ছেলে, পাভেল, নিজ হাতে করছে। নিজের খরচে। নিজের শ্রমে। নিজের দায়বোধে।
না, সে কোন দলীয় নেতা না। মিছিলের সামনে ব্যানার নিয়ে হাঁটেনি। টিভিতে এসে বক্তৃতা দেয়নি। ফেইসবুকেও লাইভে আসেনি। তবু সে কাজ করেছে—কারণ সে জানে, দায়িত্ব নেয়ার জন্য পদ-পদবি লাগে না, লাগে বিবেক। আর এই বিবেকটাই আজকের তথাকথিত নেতাদের নেই।

একটা কাদা ভরা গর্ত আর এক গুচ্ছ পোস্টারের অমোঘ দ্বন্দ্ব:

পাভেলের মতো কেউ যখন নিজের এলাকার রাস্তা নিজের খরচে মেরামত করে, তখন চারপাশে তাকিয়ে প্রশ্ন জাগে—আসল নেতা কে? যে দেওয়ালে পোস্টার লাগিয়ে বলছে, “জনগণের পাশে আছি”—না যে সত্যি পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে?
এত বড় বড় মুখ! “উন্নয়ন”, “জনসেবা”, “দায়িত্ব”… শব্দগুলো আজ কেবল ভণ্ডামির মোড়ক! দেয়ালে দেয়ালে যেসব ছবি, সেসব মুখ আসলে জনগণের জীবনে নেই। একমাত্র পাভেল আছেন, যিনি নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে রাস্তা ঠিক করছেন—কারণ প্রতিদিন এক্সিডেন্ট হচ্ছে, কারণ তিনি নিজেও ভয়ে থাকেন বাইক নিয়ে চলতে।
এই সাধারণ ভয়ের ভেতরেই অসাধারণ এক মানবিকতা বাস করে—যেটা আজকের প্রভাবশালীরা হারিয়ে ফেলেছে।

বক্তৃতার চিৎকারে চাপা পড়ে যায় বিবেকের ফিসফিসানি:

আন্দোলনের নামে আমরা আজ যা করছি, তা যেন একটা রাজনৈতিক ফর্মালিটি—একটা গা বাঁচানো অনুষ্ঠান। বক্তৃতা, মানববন্ধন, ব্যানার—সব আছে, শুধু কাজটা নেই। শুধু কাজের লোকটা নেই। সেই শূন্যতা পূরণ করছে এক পাভেল। একা। নির্লোভ। নির্লিপ্ত। নির্লজ্জ দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক চিমটি সৎ সাহস।
আমরা কি এতটাই মরে গেছি যে, একটা রাস্তার দায়িত্ব নিতে আমাদের দশজন নেতা আর হাজারো কর্মী দরকার? আমাদের কি সত্যিই আন্দোলনের নামে নাটক করে নিজের অযোগ্যতা ঢাকার দিন শেষ হয়নি?

ধর্মের কথা বলে যারা মঞ্চ কাঁপায়, তারা কি জানে কোরআন কী বলে?

পবিত্র কোরআন স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে—মুনাফিকরা মুখে বলবে এক, কাজে করবে আরেক। আজকের অনেক ‘নেতা’ কি এই বর্ণনার বাইরে পড়ে? যারা হাজারো পোস্টার ছড়িয়ে নিজের মহত্ত্ব প্রমাণ করতে চায়, তারা কি জানে একটি নিঃস্বার্থ কাজই হতে পারে হাজারো ওয়াজের চেয়েও বড় প্রভাবশালী?
দুনিয়ার নেতা হতে হতে আমরা কি পরকালের জবাবদিহি ভুলে গেছি?
এই মুহূর্তেই প্রশ্ন করুন নিজেকে: আপনি কি কেবল দর্শক? নাকি কিছু করবেন?
পাভেল আপনাকে লজ্জা দিয়েছে—চুপচাপ, বিনা প্রচারে। আপনি কি শুধু তার কাহিনি পড়েই সান্ত্বনা পাবেন? নাকি নিজের পাড়ার গর্তটাও একদিন নিজে ভরবেন?
নেতৃত্ব শব্দটা যদি পোস্টার আর ফটোসেশনের বাইরে নিতে চান, তাহলে এখনই শুরু করুন। দল নয়, পদ নয়—শুধু বিবেক নিয়ে রাস্তায় নামুন। কাদা মাখুন। হাত লাগান। এটিই আন্দোলন। এটিই নেতৃত্ব। এটিই ইবাদত।

আপনার পোস্টার একদিন ছিঁড়ে যাবে।
পাভেলের রাস্তা একদিন মসৃণ হবে।
ইতিহাস মনে রাখবে—
কে আসলেই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল,
আর কে কেবল দাবি করেছিল।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Keraniganj
Dhaka
1313

Opening Hours

Friday 15:05 - 22:00
Saturday 11:00 - 17:00