boikini.com
Official page of www.boikini.com All Kinds of Books & Magazine are available here with E-books.
29/04/2026
কথায় কথায় যারা ভারতের বিরোধিতা করেন, তারা অন্তত এটা পড়ে একটু শিক্ষিত হতে পারবেন।
১৯৯৭ সালের সেই এক হাড়কাঁপানো শীতের সকাল। দিল্লির এক জীর্ণ গলি, যেখানে একটি পুরনো ভাড়াবাড়ি থেকে ৯৪ বছরের এক বৃদ্ধকে অত্যন্ত অপদস্থ করে বের করে দেওয়ার তোড়জোড় করছেন এক ক্ষুব্ধ বাড়িওয়ালা। বৃদ্ধের অপরাধ—তিনি গত দুই মাস ঘরভাড়া দিতে পারেননি। বৃদ্ধের সমস্ত সহায়-সম্বল বলতে ছিল একটা পুরনো ছেঁড়া চাদর, একটা পাটের মাদুর, প্লাস্টিকের একটি নীল রঙের বালতি আর একটা তুবড়ে যাওয়া অ্যালুমিনিয়ামের থালা। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক তরুণ সাংবাদিক যখন এই দৃশ্যটি লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি মনে করেছিলেন এটি হয়তো সমাজের আর পাঁচটা সাধারণ ঘটনার মতোই একটি করুণ দৃশ্য। তিনি পকেট থেকে ক্যামেরা বের করে বৃদ্ধের কয়েকটি ছবি তুললেন এবং বাড়িটির ছবি নিলেন। তিনি মনে মনে ঠিক করেছিলেন, খবরের কাগজের পাতায় একটি শিরোনাম দেবেন— "টাকার জন্য এক অসহায় বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন পাষাণ হৃদয়ের এক বাড়িওয়ালা!"
দপ্তরে গিয়ে সাংবাদিক যখন তাঁর সম্পাদককে ছবিগুলো দেখালেন, তখন সম্পাদকের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল। তিনি কাঁপা গলায় সাংবাদিককে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি জানো এই বৃদ্ধটি কে?" সাংবাদিক অবাক হয়ে মাথা নাড়লেন—না, তিনি জানতেন না। পরদিন যখন খবরের কাগজে বড় বড় হরফে প্রতিবেদনটি ছাপা হলো, তখন শুধু দিল্লি নয়, সারা ভারত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। খবরটির শিরোনাম ছিল: "অসহায় অবস্থায় জীর্ণ কুটিরে দিন কাটাচ্ছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রী গুলজারিলাল নন্দ!" ল্যাবরেটরির মতো নিখুঁতভাবে যখন তথ্যগুলো সামনে আসতে লাগল, তখন মানুষ দেখল এক অবিশ্বাস্য বৈরাগ্য।
গুলজারিলাল নন্দ কেবল একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি ছিলেন এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করা এক প্রখর মেধাবী ব্যক্তিত্ব। ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে সেন্ট্রাল কলেজে তিনি অর্থনীতির অধ্যাপনা করেছেন এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে সরাসরি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৬৪ সালে জওহরলাল নেহরুর আকস্মিক প্রয়াণ এবং ১৯৬৬ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর, দেশ যখন ঘোর সংকটে, তখন এই মানুষটিই দুইবার ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অসামান্য দক্ষতার সাথে দেশের হাল ধরেছিলেন। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অথচ এমন এক মানুষ শেষ বয়সে ঘরভাড়া জোগাড় করতে পারছিলেন না। কেন? কারণ তিনি রাজনীতিকে টাকা উপার্জনের ‘পেশা’ নয়, বরং মানুষের ‘সেবা’ করার এক পবিত্র ব্রত মনে করতেন।
ভারত সরকার যখন তাঁকে স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা দিতে চেয়েছিল, তিনি তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছি, সেই আত্মত্যাগ আমি সামান্য কয়েকটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে পারব না।" তাঁর কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স ছিল না, কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না, এমনকি নিজের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত ছিল না। খবর যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পি.ভি. নরসিমা রাওয়ের কাছে পৌঁছাল, তিনি সশরীরে মন্ত্রীদের বিশাল বহর নিয়ে সেই ভাঙাচোরা ভাড়াবাড়িতে হাজির হলেন। বাড়িওয়ালা তখন ভয়ে আর অনুশোচনায় কাঁপছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, যাকে তিনি বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তিনি আসলে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ পেতে যাওয়া এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
গুলজারিলাল নন্দ ছিলেন নিরহংকার। তিনি বাড়িওয়ালাকে ক্ষমা করে দিয়ে বলেছিলেন, "উনার তো কোনো দোষ নেই, তিনি কেবল নিয়ম পালন করেছেন। আমার কাছে ভাড়া নেই, সেটা আমার ব্যর্থতা।" তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সরকারি কোনো বাংলো বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাঁর কাছে আবেদন করা হয়েছিল সরকারি আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য, কিন্তু তিনি বলেছিলেন—"আর কটা দিনই বা বেঁচে আছি, এভাবেই না হয় জীবনটা কেটে যাক!" ১৯৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি ৯৯ বছর বয়সে যখন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন তাঁর ঘরে পড়ে ছিল কেবল সেই ফাটা মগ আর ছেঁড়া চাদরটি।
আজকের ডিজিটাল যুগে, যেখানে সামান্য একজন পঞ্চায়েত সদস্য বা পৌরপ্রতিনিধি হওয়ার কয়েক বছরের মাথায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে ফেলেন, সেখানে গুলজারিলাল নন্দের এই ত্যাগ এক বিশাল চপেটাঘাত। আধুনিক রাজনীতিতে যেখানে ‘কাটমানি’ আর ‘তোলাবাজি’ শব্দগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এই ‘অস্থায়ী’ প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছিলেন যে সততা কোনো পদের মুখাপেক্ষী নয়। তিনি তেরঙার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবনকে নিঃস্ব করে দিয়েছিলেন, কিন্তু দেশবাসীর মনে তাঁর জন্য তৈরি হয়েছিল এক অজেয় ও অমর সিংহাসন। আজকের প্রজন্মের কাছে গুলজারিলাল নন্দ এক মহাকাব্যিক প্রেরণা, যিনি শিখিয়ে গেছেন যে—আসল ঐশ্বর্য পকেটে নয়, মানুষের চরিত্র আর আদর্শে থাকে। স্যালুট এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে।
SOURCES:
1/ Gulzarilal Nanda
14/04/2026
নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন,
নতুন করেই হোক শুরু তবে
নব উদ্যোমে আর নব চেতনার সাথে
এগিয়ে যাই সবে...
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
ফেসবুক এ সকল লেখক-পাঠক, প্রকাশক ও সকল শুভানুধ্যায়ী,
আপনার ও আপনার পরিবারের সকলের প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা.........
নতুন বছর ভরে উঠুক হাসি, গান আর আনন্দে.....মুছে যাক সকল বিষাদ আর যন্ত্রনা......
নতুন বছর শুভ হোক।
01/02/2026
নতুন সাজে, নব উদ্যেমে আমরা আসছি শীঘ্রই...
10/05/2025
প্লেনে উঠেছি, দিল্লি যাচ্ছি, প্রায় ছ’ঘন্টার রাস্তা। ভেবেছিলাম—চুপচাপ বসে বই পড়ব একটু, আর মাঝপথে একটুখানি চোখও বুজব।
ঠিক টেকঅফের আগে দেখি প্লেনের দরজা খোলান হল আর একদল ভারতীয় জওয়ান উঠে এল—দশজন মতো। আমার চারপাশের সিটগুলোয় বসে পড়ল একে একে। মুখগুলো কেমন শান্ত, গম্ভীর।
পাশে বসা এক জওয়ানকে জিগ্যেস করলাম, “কোথায় যাচ্ছেন আপনারা...!”
সে বলল, “আগ্রা। দু’সপ্তাহ ট্রেনিং আছে, তারপর অপারেশন।”
এইটুকু বলেই চুপ। কী অপারেশন, কোথায়, কিছুই বলল না। বুঝলাম, বলার পারমিশন নেই..!
প্রায় এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, অ্যানাউন্সমেন্ট করলেন এয়ারহোস্টেস.... আপনাদের লাঞ্চ সার্ভ করা হবে, যারা চাইবেন, পয়সা দিয়ে লাঞ্চ কিনে নিতে পারেন।
মানিব্যাগে বের করছি, এমন সময় শুনি ওই জওয়ানদের নিজেদের মধ্যে কথা—
“খাবি?”
“ধুর, এখানে দাম বেশি। নিচে নেমে হোটেলে খাব।”
কী যেন হয়ে গেল ভেতরে। চুপচাপ উঠে গিয়ে এয়ারহোস্টেসকে বললাম, “ওদের সবার খাবার আমিই নিচ্ছি। প্লিজ দিয়ে দিন।”
মেয়েটার চোখে জল চলে এল। ফিসফিস করে বলল, “স্যার, আমার ভাই কার্গিলে। মনে হচ্ছে আপনি ভাইকেই খাওয়াচ্ছেন...!”
মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। সিটে ফিরে এলাম, আধ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ওদের সবার হাতে খাবার পৌঁছে গেল।কিছুটা অবাক হলেন ওনারা... কি ভাবলেন জানিনা... খাবার বাক্স খুলে খেত শুরু করলেন। দেখে বোঝা যাচ্ছিল ক্ষুধার্ত..!
আমি নিজের লাঞ্চ শেষ করে টয়লেটের দিকে যাচ্ছি, হঠাৎ এক বৃদ্ধ এগিয়ে এলেন।
বললেন, “সব দেখেছি। আপনি সত্যি ভালমানুষ, স্যার।”
তারপর হাতে এক ৫০০ টাকার নোট গুঁজে দিয়ে বললেন, “এই ভালো কাজের একটা অংশ আমিও হতে চাই...!" আমি কিছু বলতে পারার আগেই নিজের সীটে ফিরে গেলেন ভদ্রলোক!
ফিরে এসে ভাবছি এসব কী হচ্ছে.... দেখি—পাইলট নিজে সিটে চলে এলেন! সীটবেল্ট খুলে উঠে দাঁড়ালাম। হেসে বললেন, “আপনার সঙ্গে হাত মেলাতে চাই।”
আমি অবাক। বললাম, “কেন স্যার?”
তিনি বললেন, “আমি নিজে একদিন ফাইটার পাইলট ছিলাম। সেদিন এক অচেনা মানুষ আমার জন্য খাবার কিনে দিয়েছিলেন। আজ আপনি সেই মুহূর্তটা ফিরিয়ে দিলেন.... আমি শুনেছি কেবিন ক্রুর কাছ থেকে..!"
হঠাৎ করে চারপাশে হাততালি পড়ে গেল। আমি একটু লজ্জা পেলাম। কারণ, আদতে কিছুই করিনি। মন চেয়েছিল, তাই করেছিলাম.... হাততালির জন্যে তো করিনি কিছুই...!
কিছুক্ষণ পর, এক আঠারো বছরের মতো ছেলে হেসে এগিয়ে এল। হাত মেলাল, তারপর একটুকরো কাগজ গুঁজে দিল হাতে। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম..!
বিমান নামল।
মাল নামাচ্ছি, এমন সময় এক ভদ্রলোক চুপচাপ আমার পকেটে কিছু একটা ঢুকিয়ে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেলেন। আরও একটা নোট।
লাগেজ বেল্টের কাছে দেখলাম ঐ দশজন সৈনিক দাঁড়িয়ে আছে, লাগেজের অপেক্ষায়। দৌড়ে গেলাম ওদের কাছে... বললাম, “এই টাকাগুলো রাখুন। এগুলো কিছু দেশবাসীর ভালবাসা.... ট্রেনিংয়ে যাওয়ার আগে কিছু দরকার হলে খরচ করুন।
আপনারা আমাদের জন্য যা করেন, এই সামান্য টাকা দিয়ে তার দাম চোকানো যায় না। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি শুধু।”
ওরা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। কারও চোখে জল, কেউ হাসছিল। এক ফ্লাইট দেশবাসীর ভালবাসা নিয়ে ওরা এবার এগিয়ে যাবে...!!
গাড়িতে উঠলাম।
চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করলাম.... “ভগবান, এদের যেন ভালো রেখো....এরা তো প্রাণ হাতে করে মৃত্যুর দিকে হেঁটে যায় দেশের জন্য।”
একজন জওয়ান মানে, যেন দেশের নামে লিখে দেওয়া এক খালি চেক..... যখন চাইবে তাই দিয়ে দেশের নামে জীবন অবধি তুলে নিতে পারবে দেশবাসী....
যেটা ওরা জীবন দিয়েও পূরণ করতে রাজি।
আর আমাদের অনেকেই সেটা বুঝতেই চায় না।
-- সংগৃহীত
এই গল্পটা শেয়ার করবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু আমি জানি, যতবার পড়বেন—চোখটা ভিজে যাবে।
#উত্তমকুমার #স্মিতা_পাতিল
#বাংলা_ছবি
#কলকাতা #কলকাতারডায়েরি
Hi everyone! 🌟 You can support me by sending Stars - they help me earn money to keep making content you love.
Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars!
14/03/2025
বত্রিশ নাম্বার রোডের প্রায় শেষ মাথায় গাছপালায় ঘেরা ‘সাঁঝের মায়া’ নামের একটা বাড়িতে বসবাস করতেন কবি সুফিয়া কামাল। রোজ ভোরে নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ কোরান পাঠ করতেন কবি । তারপর বাগানে হাঁটাহাঁটি আরও কিছুক্ষণ। এই সময় পোষা বিড়ালগুলো কবির পায়ে পায়ে ঘুরতো। তুলার বলের মতো ধবধবে সাদা বিড়ালগুলোকে সাথে নিয়েই কবি এসে তারপর বারান্দায় বসে একের পর এক রবীন্দ্র সংগীত শুনতেন। কখনও কখনও অতুল প্রসাদ কিংবা রজনীকান্তের গান।
অনেক অনেক দিন আগে কবির এই রুটিন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো। বলা ভালো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছিলো। নিত্যদিনের রুটিন ভুলে একটু বেলা হলে পরে একগাদা রেশনকার্ড হাতে নিয়ে কবি বাগানে অস্থির হয়ে পায়চারি করতেন। একগাদা রেশন কার্ডের মধ্যে কবির কার্ড একটাই। বাকিগুলো প্রতিবেশীদের, আত্মীয়দের আর স্বজনের। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঢাকা ছেড়ে তারা চলে যাবার আগে কবির কাছে এইসব কার্ড তারা রেখে গেছেন। কবি একেক দিন একেকজনকে দিয়ে সেইসব রেশন কার্ড দিয়ে চাল, চিনি, ডালডা তুলে এনে বাড়ির এক নিরিবিলি রুমে এইসব জমা করতেন। আর অপেক্ষা করতেন একজন রিকশা ড্রাইভারের জন্য। কবির বাড়ির পাশের বাড়িতে ছিলো পাকিস্তানি মিলিটারির ঘাঁটি। সব চোখ ফাঁকি দিয়ে কবির বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে জীবন বাজি রেখে রিকশা ড্রাইভার এসে চালের বস্তা, চিনির পোটলা, ডালডার টিন নিয়ে যেতো।
আগস্ট মাসের পর থেকে শহর আরও থমথমে হয়ে গেলে রিকশা ড্রাইভারের চলাচল খুব কঠিন হয়ে গেল।এই নিয়ে কবির দুশ্চিন্তার শেষ নাই। কবির বাড়ির পেছনেই ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের কালচারাল সেন্টার। একদিন সোভিয়েত কনসাল মি. নভিকভ নিজে কবির বাড়ি এসে কবিকে আশ্বস্ত করে গেলেন। এরপর সোভিয়েত কালচারাল সেন্টারের গেট ব্যবহার করে রিকশা ড্রাইভার মালামাল নিয়ে যেতো।
তারপর হিমালয়ের জমাট বাঁধা বরফ গলে গলে আমাদের পদ্মা মেঘনা যমুনা নরসুন্দা ঘোড়াউত্রা বলেশ্বর আর ধানসিঁড়ি নদীগুলো জলে জলে পূর্ণ হয়ে উঠলো। আর জলের সাথে একজন না দুইজন না, এক লাখ না দুই লাখ না, তিরিশ লাখ মানুষের রক্ত এসে আমাদের জলের রঙ বদলে দিতে দিতে ডিসেম্বর মাসের চৌদ্দ তারিখ এসে উপস্থিত হলো। লিস্ট ধরে ধরে রাজাকারেরা শহীদুল্লাহ্ কায়সার, মুনীর চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষক সহ দেশের অনেক বুদ্ধিজীবীদের কাদা মাখানো বিশেষ এক গাড়িতে করে প্রথমে নিয়ে গেল ফিজিক্যাল কলেজের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। তারপর তারপর তারপর তাঁদেরকে আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম রায়ের বাজারে!!!
চৌদ্দ তারিখে কবির সেই রিকশা ড্রাইভারকেও তুলে নেয়া হয়েছিলো কাদা ল্যাপ্টানো গাড়িতে!!! রিকশা ড্রাইভারের নাম গিয়াসউদ্দিন আহমদ। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং মুহসিন হলের আবাসিক শিক্ষক। পুরো নয় মাস ধরে তিনি মাথায় গামছা বাঁধা লুঙ্গি পরা রিকশা ড্রাইভারের ছদ্মবেশে রিকশা চালিয়ে কবির বাড়ির রেশনের মালামাল পৌঁছে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের নানান গোপন ইউনিটে।
কী বলবো?
কীভাবে বলবো? কীভাবে এক জীবনে আমরা তাঁদের ঋণ শোধ করবো?
মাথা নত করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা জানাই ‘জননী সাহসিকা’ কবি সুফিয়া কামালের প্রতি।
(সংগৃহীত)
#বাংলা_ছবি
03/03/2025
#উত্তমকুমার প্রসঙ্গে #স্মিতা_পাতিল
কলকাতার সাথে আমার সম্পর্কটা এমনিতেই একটু নিবিড়, তবে তা শুধু ছবির কারণেই নয় । এর একটা বড় কারণ হচ্ছে রবীন্দ্রসঙ্গীত, ব্রহ্মসঙ্গীত, রামপ্রসাদ গীতি, টপ্পা এবং বাংলার কৃষ্ণকীর্তন । ভোরের দিকে বা যখন খুব মন খারাপ করে বাংলার এই মনিমুক্তখচিত সংস্কৃতির সাথে একাত্ম হওয়া আমার একপ্রকার অভ্যেস বলতে পারেন । হয়তো অনেক শব্দই বুঝতে পারিনা, কিন্তু এসবের সুরেলা ধ্বনি আমার মনকে যেন প্রশান্তিতে ভরে তোলে । হ্যাঁ আর কলকাতা বলতে আরেকজনকেও অস্বীকার করা যায় না, তিনি হলেন উত্তমবাবু । কলকাতার মানুষ ওনাকে আলাদা চোখে দেখেন । আজ পর্যন্ত চিত্রতারকার এমন জনপ্রিয়তা আমি খুব কম দেখেছি । হ্যাঁ বোম্বেতে রাজেশজী, দেবসাহেবের একটা অসম্ভব ভালো ক্রেজ তো ছিলই কিন্তু সেটা অনেকটাই গ্ল্যামারকেন্দ্রিক । ওনাদের রূপ, ওনাদের হাসির প্রতি কেউ আকর্ষিত না হয়ে থাকতে পারবেন না, বিশেষ করে মহিলারা । যদিও নায়ক মানেই গ্ল্যামার সর্বস্ব, চিত্রনাট্যের দাবীতে অনেকসময় অবাস্তব কিছুও করতে হয়ে থাকে । কিন্তু উত্তমবাবুর ক্ষেত্রে বিশেষ করে আমি লক্ষ্য করেছি গ্ল্যামারকে নিখুঁতভাবে মেইনটেইন করেও তুরীয় স্তরের অভিনয়শৈলীর নিদর্শন রাখেন । জানি না এই অসম্ভবকে উনি কিভাবে সম্ভব করেন । যেমন 'সপ্লপদী', 'নায়ক' ছবি দুটোয় ওঁর গ্ল্যামার ও অভিনয়রস মিশে গিয়ে একটা মাস্টারপিস তৈরি হয়েছে । আবার যেখানে শুধু অভিনয়রসটাই আসল যেমন 'অগ্নিশ্বর' আর 'সন্ন্যাসী রাজা' ছবিতে ও যে অভিনয়রসে আমাদের সিক্ত করেছিলেন ওরকমভাবে গোটা ব্যাপারটাকে তুলে ধরা ভূভারতে কোনো অভিনেতারই নেই । ছবিতে এধরণের একজন অভিনেতা থাকলে পরিচালকেরও খোলা মাইন্ডে কাজ করতে সুবিধে হয়, আমি অনেকসময় দেখেছি পরিচালক যেটা চাইছেন সেটা অভিনেতা বা অভিনেত্রীরা কিছুতেই আনতে পারছেন না । এতে বাধ্য হয়ে পরিচালককে আবার বিকল্প কিছু ভাবতে হয়, ফলে ছবিতেও একটা ইম্প্যাক্ট পড়তে বাধ্য । অথচ পরিচালকেরও কিছু করার নেই এক্ষেত্রে । অভিনেতা অভিনেত্রীদেরও নিজস্ব কিছু দায়িত্ব থেকে থাকে নিজেদের ক্ষমতার গণ্ডিটাকে বারেবারে অতিক্রম করে যাওয়া, আমার মনে হয় উত্তমবাবুও সে ধারার অভিনেতা ।
অনুলিখন :- শুভঙ্কর মুখার্জি
#বাংলা_ছবি
03/03/2025
ট্রেনের একটা কামরায় কয়েকজন ইংরেজের সাথে এক ভারতীয়ও বসেছিলেন। কামরাটা পুরো ইংরেজদের দখলে। তারা সবাই মিলে ভারতীয় লোকটাকে নিয়ে খুব ঠাট্টা-তামাশা করছিল। কেউ বলছিল, "দেখো তো, কেমন লোক ট্রেনে উঠেছে," আবার কেউ তার পোশাক দেখে হাসাহাসি করছিল, বলছিল, "গ্রাম্য ভূত!" কেউ কেউ এতটাই রেগে গিয়েছিল যে, ট্রেনটাকে অভিশাপ দিচ্ছিল আর চিৎকার করছিল, "কেন ওরা একটা ভারতীয়কে ট্রেনে উঠতে দিল? ওকে কামরা থেকে বের করে দাও!"
কিন্তু ধুতি-পাঞ্জাবি, কালো কোট আর মাথায় পাগড়ি পরা লোকটার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছিল না। তিনি শান্ত আর গম্ভীর মুখে বসেছিলেন, যেন গভীর কিছু ভাবছেন।
ট্রেনটা দ্রুত গতিতে ছুটছিল, আর ইংরেজরাও সমান তালে লোকটাকে উপহাস আর অপমান করছিল। হঠাৎ সেই লোকটি নিজের আসন থেকে উঠে জোরে চিৎকার করে বললেন, "ট্রেন থামান!" কেউ কিছু বোঝার আগেই তিনি চেন টেনে দিলেন। ট্রেন থেমে গেল।
এবার মনে হলো, ইংরেজরা যেন রাগে ফেটে পড়ছে। সবাই তাকে গালিগালাজ করতে শুরু করল। অভিধানে যত খারাপ শব্দ ছিল, সবই যেন তারা ব্যবহার করছিল, "অশিক্ষিত, অজ্ঞ" ইত্যাদি। কিন্তু সেই লোকটি চুপ করে গম্ভীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেন কারো কথায় তার কিছু যায় আসে না। তার নীরবতা ইংরেজদের রাগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল।
ট্রেনের গার্ড ছুটে এসে কর্কশ স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "কে ট্রেন থামিয়েছে?"
কোনো ইংরেজ কিছু বলার আগেই লোকটি বললেন, "আমি থামিয়েছি, স্যার।"
"তুমি কি পাগল? তুমি কি প্রথমবার ট্রেনে উঠছ? জানো, কোনো কারণ ছাড়া ট্রেন থামানো অপরাধ?" গার্ড রাগের সাথে বললেন।
"হ্যাঁ, স্যার! আমি জানি, কিন্তু আমি যদি ট্রেনটা না থামাতাম, তাহলে শত শত লোকের প্রাণ যেত।"
লোকটির কথা শুনে সবাই জোরে হাসতে শুরু করল। কিন্তু তিনি অবিচলিত থেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, "এখান থেকে প্রায় এক ফার্লং দূরে রেললাইন ভাঙা। আপনারা চাইলে গিয়ে দেখতে পারেন।"
সেই লোকটি আর কয়েকজন ইংরেজ যাত্রী গার্ডের সাথে গেলেন। পুরো পথটা ইংরেজরা তাকে নানা রকম কটু কথা বলে যাচ্ছিল।
কিন্তু যখন তারা দেখল যে, লোকটি যে দূরত্ব বলেছিলেন, ঠিক সেখানেই রেললাইন ভাঙা, নাট-বল্টু খোলা, তখন সবার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। যে মুখগুলো ভারতীয় লোকটাকে অশিক্ষিত, অজ্ঞ আর পাগল বলছিল, তারা সবাই কৌতূহলী হয়ে তার দিকে তাকাতে লাগল, যেন জানতে চাইছে, এত দূর থেকে তিনি এটা কীভাবে বুঝলেন?
গার্ড জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কীভাবে জানলেন যে, রেললাইন ভাঙা?"
তিনি বললেন, "স্যার, ট্রেনে সবাই নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিল। সেই সময় আমার মনোযোগ ছিল ট্রেনের গতির দিকে। ট্রেনটা স্বাভাবিক গতিতে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আমি রেললাইনের কম্পনের কারণে গতির পরিবর্তন অনুভব করি। এটা তখনই হয়, যখন কিছু দূরে রেললাইন ভাঙা থাকে। তাই এক মুহূর্তও দেরি না করে আমি চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে দিই।"
গার্ড আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ইংরেজরা হতবাক হয়ে গেলেন। গার্ড জিজ্ঞেস করলেন, "এত বিশদ কারিগরি জ্ঞান! আপনাকে তো সাধারণ মানুষ মনে হচ্ছে না। নিজের পরিচয় দিন।"
লোকটি খুব বিনীতভাবে উত্তর দিলেন, "স্যার, আমি ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার মোক্ষগুণ্ডম বিশ্বেশ্বরাইয়া..."
হ্যাঁ! সেই অসাধারণ মানুষটি আর কেউ নন, "ডঃ বিশ্বেশ্বরাইয়া"।
© NIOS NEWS
26/02/2025
‘আনন্দের সাথে শিখি’ স্লোগান ধারণ করে আমাদের যাত্রা শুরু। শিশুর কোমল মন বিনোদনের সাথে শিখতে আগ্রহী। ‘মাই ফাস্টর্ আর্লি—রাইটিং’ সিরিজের এই হ্যান্ডরাইটিং বা লিখতে শিখি বইগুলোতে আমরা শিশুদেরকে সহজভাবে অক্ষর লিখতে শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। নির্দেশিত প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে তারা সহজেই অক্ষর লেখা আয়ত্ব করতে পারবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
18/1 Naya Paltan, 6th Floor, Masjid Lane
Dhaka
1000
18/03/2025