JS Ema
প্রতিদিন একটু হাসি, একটু ভালো লাগা 💜
গল্প | অনুভূতি | মন ভালো কথা
Cousin-এর বিয়ে।
সাল ২০২২। রাতের বিয়ে। Ready হয়ে বের হবো। হঠাৎ মনে পড়লো মেডিকেলের সামনে দিয়েই তো যাবো — গ্রামের এক patient neurosurgery ward-এ admit আছে , দেখে যাই।
গিয়ে দেখি, পুরো ward-এ শুধু একজন আপু duty-তে আছেন। Patient-এর ব্যাপারে কথা বলছি, এমন সময় এক ward boy দৌড়ে এসে বললো,
— “Madam, একটা খারাপ patient আসছে।”
আপু দ্রুত বাইরে গেলেন। আমিও পেছনে পেছনে।
Patient তখনও trolley-এর উপর। বয়স ২০-২২ হবে, সাথে husband — হয়তো ২৭-২৮।
আপু pulse দেখলেন। চোখে light ফেললেন। তারপর নিঃশব্দে মাথা নাড়লেন।
আমি বুঝে গেলাম। Patient আর নেই।
আমি তখন 3rd year-এ। Hospital environment তখনও পুরোপুরি চেনা হয়নি। Young একটা মানুষ মারা গেছে — বিষয়টা মাথায় নিতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু তার থেকেও বেশি ভয় লাগছিল একটা জিনিস ভেবে — “এটা patient party-কে কীভাবে বলা হবে?”
আপু room-এ এসে লিখলেন,
“Patient brought dead.”
আমি তখনও ভাবছি, ওনারা কি বুঝতে পারছেন patient মারা গেছে?
এর মাঝেই husband room-এ ঢুকলো।
কাঁপা গলায় বললো,
— “Madam, কিছু বলতেছেন না যে! কী হইছে ওর?”
আপু শান্ত গলায় বললেন,
— “আপনার patient বেঁচে নাই… মারা গেছে।”
তারপর কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
হঠাৎ ছেলেটা doctors’ room-এর thigh glass এর দরজায় মাথা দিয়ে আঘাত করলো।
Glass ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। রক্তও বের হচ্ছিল। মানুষটা পুরো uncontrollable হয়ে গেল। চিৎকার, ছটফট…
আমি কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। Ward boy এসে somehow বাইরে নিয়ে গেল।
সেদিন একটা জিনিস খুব মনে হয়েছিল — যদি আপু একা থাকতেন? যদি লোকটা attack করতো?
আপন মানুষ হারালে মানুষের পৃথিবীটা সত্যিই অন্ধকার হয়ে যায়।
আর আমরা বাঙালি — খুব emotional জাতি। তাই অনেক সময় শোক সামলাতে না পেরে মানুষ অস্বাভাবিক aggressive হয়ে যায়।
তাই বলে hospital ভাঙচুর? Doctor, nurse মারধর?
দুঃখজনক হলেও সত্যি — এখন এগুলো প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে treatment error বা negligence থাকে।
কিন্তু একই সাথে এটাও সত্য —
সরকারি হাসপাতালের endless serial, bed shortage, medicine shortage, staff shortage… সাধারণ মানুষের frustration-টা এখন ভয়ংকর জায়গায় পৌঁছে গেছে।
ফলে কেউ মারা গেলে মানুষ এখন সহজেই ধরে নেয় — “Doctor-দের দোষ।”
বাংলাদেশ সত্যিই খুব কঠিন একটা সময় পার করছে।
Dr. Yeasinur Rahman Rakib
Intern Doctor,
Chittagong Medical College Hospital.
এক গর্ভবতী মহিলাকে তার পরিবারের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপভাবে গর্ভপাত করিয়েছে , কিন্তু রোগির রক্তক্ষরণ হয়েছে অনেক। সকাল থেকে শুরু করে রাত ৯ টা অবধি রক্তক্ষরণে রোগি একেবারে সাদা হয়ে গেছে।
রাত ৯ টায় রোগিকে হাসপাতালে এনেছে। রোগির অবস্থা খুব খারাপ, অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অপারেশনের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে হবে। রক্ত লাগবে কয়েক ব্যাগ। রক্তের কথা বলার পর দেখি রোগির আত্মীয়স্বজন হারায়ে গেছে, স্বামী একা দাঁড়িয়ে আছে। রক্ত জোগাড় করতে বললাম, সে বলল কোনভাবেই সম্ভব না। অনেক ঝাড়ি দিয়েও কাজ হল না।
কি ভাবছেন? রক্তের অভাবে রোগি মরে গেছে? অপারেশন করা হয় নি?অপারেশন হয়েছে, রোগিও সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে।
রক্ত কই পেলাম? রোগির স্বামীকে হাসপাতালের পিছনে মেডিকেল হোস্টেলে পাঠিয়েছিলাম, ৩ জন মেডিকেল স্টুডেন্ট রক্ত দান করেছিল আর রোগির আত্মীয়রা রক্ত দেয়ার ভয়ে পালিয়েছিল।
বড়ই বিচিত্র এই দুনিয়া। এরাই এসে ডাক্তারদেরকে সভ্যতা ও মানবতার বাণী শুনিয়ে যায়!
~ ডা.তরফদার জুয়েল
আমি এখন আর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে যাই না।
একসময় প্রতি মাসে অন্তত একবার হলেও কোনো না কোনো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে যুক্ত থাকতাম—সরাসরি বা পরোক্ষভাবে। মনে হতো, গরিব মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে, আমরা মানবসেবা করছি, সওয়াবও হচ্ছে। সত্যি বলতে তখন খুব ভালো লাগত।
গত বছরের ডিসেম্বরে, টাঙ্গাইলে এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প শেষ করে এক বড় ভাইয়ের চেম্বারে গেলাম। প্ল্যান ছিল একসাথে ঢাকায় ফিরব।
গিয়েই ভাই বলল,
— “আজ খারাপ টাইমে আসছিস। এই সময় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প হয়, তাই আমার চেম্বারে রোগীর চাপ বেশি থাকে।”
আমি অবাক!
বললাম,
— “উল্টা হওয়ার কথা না? সবাই তো ফ্রি দেখাচ্ছে, তাহলে আবার টাকা দিয়ে আপনার কাছে আসবে কেন?”
ভাই শুধু হেসে বলল,
— “এক ঘণ্টা বস, বুঝবি।”
মাগরিবের পর যা দেখলাম, সত্যি হতবাক হয়ে গেলাম।
একটার পর একটা রোগী আসছে। অধিকাংশই সেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ঘুরে আসা রোগী। আরও অবাক হলাম যখন দেখলাম, তিন সপ্তাহ আগে আমি নিজে যাকে ফ্রি প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলাম, সেই বৃদ্ধ লোকও আবার এসেছে। আমাকে দেখেও চিনল না।
৭ জন রোগী দেখার পর ৮ নম্বর রোগীকে দেখে মনে হলো শিক্ষিত, কলেজপড়ুয়া টাইপ।
ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
— “আপনি কি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দেখিয়েছিলেন?”
সে বলল,
— “জ্বি স্যার। এই যে প্রেসক্রিপশন।”
দেখি, আমাদেরই এক শ্রদ্ধেয় স্যার তাকে দেখেছেন—BCS, D-Card, FCPS সবকিছু করা একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক।
আমি একটু হতাশ হয়ে বললাম,
— “আপনাকে তো অনেক বড় স্যার দেখেছেন। যার ডিগ্রি করতে যত সময় লেগেছে, হয়তো আপনার বয়সও তত না। তাহলে আবার এখানে কেন?”
লোকটা হেসে যে উত্তর দিল, সেটা এখনও কানে বাজে।
সে বলল,
— “ভাই, এত বড় ডাক্তার হইলে ফ্রি দেখে কেন? যত বড় ডাক্তার, তত বড় ভিজিট হওয়ার কথা। বাদ দেন, আপনি বলেন তো—ও ঠিকঠাক লিখছে নাকি?”
সত্যি বলতে, ওই মুহূর্তে খুব লজ্জা লেগেছিল।
আমাদের দেশের অনেক মানুষ “ফ্রি” জিনিসকে মূল্য দিতে শেখেনি। ফ্রি হলে সন্দেহ করে, আবার না নিলেও ছাড়ে না। ফ্রি ইঁদুর মারার বিষ দিলেও অনেকে বাটি নিয়ে লাইনে দাঁড়াবে—এটাই বাস্তবতা।
সরকারি হাসপাতালে দেশের সেরা স্যাররা ১০ টাকার টিকিটে রোগী দেখেন। কিন্তু অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য না, যায় শুধু ফ্রি ওষুধ নিতে।
দিনশেষে বুঝলাম—
মানবসেবার আবেগটা হয়তো আমরা চিকিৎসকরাই বেশি অনুভব করি।
আর ওষুধ কোম্পানি এবং ডায়ানষ্টিক সেন্টার এই “ফ্রি মেডিকেল”কে ব্যবহার করে নিজেদের প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে।
শুধু “মানবসেবা” ভাবতে ভাবতেই শেষ পর্যন্ত ধরা খাই আমরা নিজেরাই।
~ডাঃ সাদীদ হোসেন
একবার একজন আপু বলছিলেন, উনার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ছেলের পরিবার আর ছেলের সাথে উনি বিয়ের গয়না কিনতে গিয়েছিলেন।
ওখানে গয়না দেখতে দেখতে হবু জামাই দোকানদারের সাথে কথা বলতে বলতে একটা জোক্স করেছিলো। খুব সম্ভব "পকেট ভর্তি টাকা থাকলে আর বউকে শরীর ভর্তি গয়না দিতে পারলে কোন মেয়েকে লাথি দিলেও সংসার ছেড়ে যাবে না" - এই টাইপের কিছু একটা, আমার এক্স্যাক্ট জোক্সটা মনে নাই।
সেই আপু বাসায় ফিরে দরজা দিয়ে ঢুকেই বলেছিলেন উনি এই বিয়ে করবেন না।
এত 'ভালো' (মানে সম্পদশালী!) ছেলে আর পাওয়া যাবে না, কী না কী বলেছে দোকানদারকে ফাইজলামি করতে গিয়ে - তা এত সিরিয়াসলি নেয়ার কী আছে, মেয়েদের এত দেমাগ থাকা ভালো না - এই সেই দুনিয়ার এমন কোন ধমকা ধমকি নাই যা ঐ আপুকে উনার পরিবার করেনি।
উনার বাবা এমনকি হার্ট এটাক্ হওয়ার ভান করেছিলেন!
কিন্তু ঐ আপু ঐ বিয়ে করবেন না তো নাইই। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো- ঐ আপুর বড়ভাই ঐ সময় উনার সাথে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বড়ভাই ঢাল হয়ে থাকাতে সেই বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন ঐ আপু।
মেয়েরা, যদি চান পুরুষদের উপর থেকে আপনার বিশ্বাস উঠে না যাক, যদি ব্যক্তি জীবনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে চান, তাহলে শুধুমাত্র এমন পুরুষদেরকেই আপনার লাইফে থাকার অনুমতি আর স্কোপ দিন যারা মেয়েদের ডিগনিটিকে শ্রদ্ধা করে।
কোনো পুরুষ মানুষ আসলে কেমন, তা বুঝতে খেয়াল করুন সে তার আশেপাশের নারীদের সাথে কী ধরণের ব্যবহার করে, কীভাবে কথা বলে।
মেয়েদেরকে নিয়ে সে কী ধরণের জোক্স করে।
বিশেষ করে কারো সাথে বিয়ে ঠিক হলে খুব খুব ভালো করে খেয়াল করুন - পরিচিত বা অপরিচিত মেয়েদের সাথে তার কথাবার্তা কেমন। ব্যবহার কেমন।
তার নিজের মা- বোনকে সে শ্রদ্ধা করে কিনা। যে ছেলে নিজের আশেপাশের মেয়েদেরকে শ্রদ্ধা করে না, সে ছেলে আপনার জন্য যদি ভালবেসে দিওয়ানাও হয়ে যায়, সোওওওওজা উল্টা দিকে দৌঁড় দিন! ভুলেও সে ছেলের দিকে ফিরে তাকাবেন না।
মেয়েদেরকে নিয়ে যে ছেলে অশ্রদ্ধামূলক জোক্স করে, সেক্সিষ্ট জোক্স করে, সেই ছেলে কোনোদিন আপনাকে মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করতে পারবে না।
শুরুতে যে আপুর কথা বললাম, উনার ঘটনা এখনো শেষ হয়নি। বাকীটুকু বলি।
তো সে আপুর অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছে। কয়েক বছর পর উনারা মালয়েশিয়া গিয়েছেন ঘুরতে। ওখানে গিয়ে সেই লোকটার সাথে দেখা, যার সাথে আপু বিয়ে করতে অস্বীকার করেছিলেন!
আপুর জামাইয়ের সামনেই সেই লোক এসে জিজ্ঞেস করলো আপু কেনো উনাকে বিয়ে করতে মানা করেছিলেন!
আপু যখন সেই গয়নার দোকানের সেলসম্যানের সাথে উনার ঐ জোক্সের কথা বললেন, তখন লোকটা ভীষণ অবাক হয়ে বললো - ঐ জোক্সে উনি খারাপ কী বলেছেন?!
আপুর জামাই এতক্ষণ চুপ ছিলো।
কিন্তু লোকটা যখন উল্টা জেরা করা শুরু করলো ঐ জোক্সে ভুল কী বলেছে, তখন আপুর জামাই আপুর সামনে এসে আপুকে আড়াল করে লোকটাকে বলেছে- "ভাই, আপনি এই যে বুঝতে পারছেন না আপনার ঐ কথায় ভুল কী আছে, এটাই আপনাকে বিয়ে না করার জন্য যথেষ্ঠ!"
তো, যে কথা বলতে এত কথা বলা- যখন ধর্মের কথা আসবে, একটা বেইস লাইন মনে রাখবেন প্লীজ - আল্লাহ'র সামনে ছেলে হোক বা মেয়ে, মানুষ হিসেবে আপনার মর্যাদা সমান। আপনার ডিগনিটিও সমান।
এবার পৃথিবীর যত বড় ধর্মীয় স্কলার আসুক, দায়ী আসুক, ওয়ায়েজ আসুক, যেইই আসুক, যখনই দেখবেন ঐ লোক বা মহিলা ধর্মের নাম দিয়ে এমন কথা বলছে যা আপনার ডিগনিটিতে আঘাত করছে-
সোওওওওওজা উল্টা দিকে দৌঁড়ান!
এমনভাবে দৌঁড়াবেন যেন আপনি উল্কা!
ভুলেও পিছন ফিরে তাকাবেন না।
উর্ধ্বশ্বাসে উল্টাদিকে জানপ্রান বাজি রেখে দৌঁড় দিবেন।
আল্লাহ্ আপনাকে মানুষ হিসেবে যে সম্মান আর মর্যাদা দিয়েছে, পৃথিবীর কাউকে সে সম্মান আর মর্যাদার সাথে কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ দিবেন না। কাউকে না।
©
09/05/2026
কী ভয়ংকর!
২/৩ মাসের প্রেগনেন্সি গোপন করেই বিয়ে বসেছিলো বাচ্চার মা।
পরবর্তীতে বাচ্চা হওয়ার পর মা এবং মায়ের নতুন স্বামী (বাচ্চার বাবা নয়) দুজনে মিলে গলায় ব্লেড দিয়ে জ"বাই করে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।
পুলিশ দুজনকেই গ্রেফতার করছে।
03/05/2026
শাশুড়ী বনাম মা
দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো বাঙালির জাতিগত স্বভাব। এজন্য কখনো কখনো পস্তাতেও হয়। নব বিবাহিত মেয়েদের মাঝে এটা মারাত্মকভাবে দেখা যায়। শাশুড়ীর দু-একদিনের যত্ন-আত্তি পেয়ে আবেগে ভেসে যায়। মা ভেবে বসে। এমন মনোভাব ও আত্মতুষ্টি বাস্তবে আত্মপ্রবঞ্চনার শিক্ষা অবশ্য পরিবার থেকেই দেওয়া হয়। আর এটাকেই শ্রেষ্ঠ পারিবারিক শিক্ষা মনে করা হয়।
মানুষ কিভাবে এমন ভুলভাল শেখায় তা-ও শেকড়ের বাঁধন ছেড়ে চলে যাবে এমন একটা মানুষকে! আমি ভেবে পাই না। শাশুড়ী আমার মা হতে যাবেন কেন! স্বামীকে কি তাহলে ভাই ডাকব নাকি! বাঙালির আবেগ এত অন্ধ কেন!
মা-মেয়ে ও শাশুড়ী-বউয়ের কিছু চিত্র তুলে ধরা যাক।
সকাল ৮/১০ টায় কোন মেয়ে ঘুম থেকে উঠে। বিছানা এলোমেলো করে রাখে। ঘরের কাজে মনে চাইলে হাত দেয় না চাইলে না। যখন-তখন তর্কাতর্কি করে। চিল্লিয়ে কথা বলে। রাগ করে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। এছাড়া আরও অনেক বদরাগ ও বদঅভ্যাস আছে এখনকার টিনেজারদের। (কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে সে মিথ্যাবাদী।) মায়েরা এসব কখনো সহ্য করেন, কখনো অসহ্য হয়ে বকাবকি করেন, কোন কোন মা-তো বাপের বংশও উদ্ধার করে ফেলেন বকতে বকতে। আবার কখনো বেশি অসহ্য হয়ে গেলে ঠাস করে একটা মাইর বসিয়ে দেন পিঠে। কিছু সময় পরই মিটমাট হয়ে যায় মা-মেয়ের ঝগড়া। প্রতিদিন দুয়েকবার এমন হলেও সম্পর্কে কোনরূপ ফাটল ধরে না। মেয়েকে অবুঝ মনে করে মা ভুলে যান সব। মনে মনে হেসে বলেন, পাগলী একটা! আর মেয়ের কাছেও মা মারলে মনে হয় আদরই করেন। এখন না মনে হলেও বিয়ের পর ঠিকই মনে হবে।
একই কাজ যদি বউমা করে! শাশুড়ী কি সহজভাবে নিবেন! বা বাবার বংশ উদ্ধার করে কিছু বললে বউমা কি সহজে মেনে নিবেন! এখানে একপক্ষের কটুকথায় সারাজীবনের জন্য দাগ পড়ে যায় আরেকজনের হৃদয়ে। তাহলে শাশুড়ী মা হলো কিভাবে! শাশুড়ীকে মায়ের সাথে তুলনা করাই মূর্খতা। মায়ের স্থান কেউ নিতে পারে না। আমার কাছে আমার মা সেরা। স্বামীর কাছে তার মা।
শাশুড়ী থাকবেন শাশুড়ীর জায়গায়। একটি ভিন্ন ও নতুন সম্পর্ক। এটাকে পুরাতন সম্পর্কের সাথে গুলিয়ে কঠিন করে ফেলার কি দরকার! বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে গড়ে নিতে হয় যে সম্পর্ককে তাকে তৈয়ার সম্পর্কের সাথে তুলনা করাটা বড্ড বোকামি। বাঙালি ভুল শিক্ষা দেয়। ফলে অবলা বোকা মেয়েগুলোও প্রতিদিন শাশুড়ীর মাঝে মা'কে খুঁজতে যেয়ে ছ্যাঁকা খেয়ে বেঁকা হয়ে যায়। অযথাই দুঃখ পায়। ফালতু আবেগ আর ফালতু সব এক্সপেক্টেশন কেবল কষ্টই দিতে জানে। তাই বিয়ের আগে বাস্তবতা শিখিয়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
শাশুড়ী আমার মা নন। তবে স্বামীর মা। তার জান্নাত। তার প্রথম ভালোবাসা। সংসারের মুরুব্বি। আমার শ্রদ্ধার পাত্রী। আমার মায়ের কাছে আমি অবুঝ বা ছোট হতে পারি। কিন্তু তার কাছে প্রাপ্তবয়ষ্ক ছেলের বউ। তাই তার সাথে আমার আচার-আচরণও হতে হবে পরিশুদ্ধ ও সুচিন্তিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)- বলেছেন,
أَنْزِلُوا النَّاسَ مَنَازِلَهُمْ
তোমরা মানুষের সঙ্গে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৪২).
লিখা: Maria Mim
একবার ইন্টার্ন থাকাকালীন মেডিসিন ওয়ার্ডে প্লেসমেন্টের প্রথম দিকে মাঝ রাতে ২৯ বছরের এক মেয়ে ভর্তি হন অস্থির লাগছিল এই কমপ্লেইন নিয়ে ।।১০-১৫ মিনিটে তার অবস্থা অবনতি হতে থাকে ।সি এ ভাইয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে সকল চিকিৎসা শুরু করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু রোগী কোন চিকিৎসা নিতে রাজি হয়নি শুধু বল্লেন আমার খারাপ লাগছে না ।আমাদের ২ জনের মধ্যে এক জন তার হাজবেন্ডকে বলতে গেলেন রোগীর ইমার্জেন্সি ICU লাগবে বাট তারা রাজি হয়নি ।অনেক জোর করে ও রাজি করানো যায়নি ।।৩০-৩৫ মিনিট পর রোগী মারা যায় ।মারা যাবার আগে আমি হাত ধরে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপু আপনার কি সত্যিই খারাপ লাগছে না ??চোখে পানি নিয়ে বল্লেন না ।আবার জিজ্ঞেস করলাম স্বামীর সাথে কি কথা বলবেন ??উত্তর দিলেন না ।।আমরা এর মাঝে জোর করে রোগীকে ICU তে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলাম কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই মেয়েটি মারা গেলেন কার্ডিয়াক এরেস্টে ।
এর মাঝে মেয়েটির স্বামীর মুখে একটা লাইন কানে আসলো যা হয় হবে নাটক করে 🥲তখন বুঝতে পারলাম আসলে মেয়েটি কেনো চিকিৎসা নিতে চায় নি ,কেনো এই যন্ত্রণা কে কষ্ট মনে করে নি ,কেনো সব থেকে কাছের মানুষ কে শেষ বার দেখতে ও চান নি ।।
মাঝে মাঝেই ওই মেয়ের কথা কেনো যেন মনে হয় ,কি কষ্ট ছিল খুব জানতে ইচ্ছা করে 😥😥
ডাঃ মানসুরা শিমু
"শ্বাস নিতে পারছে না,শ্বাস নিতে পারছে না" বলে ইমারজেন্সি তে এক ঝাক মানুষের আগমন
প্রত্যেকের পরিধেয় কাপড় দেখে প্রতিয়মান হচ্ছে
উহারা বিয়ে বাড়ি হতে আগত জনগোষ্ঠী
জনগোষ্ঠী কহিলাম কারন এক বা দুই নয় ২৫/৩০জনের বহর
১৭/১৮ বছরের মেয়ে
বড়, বড় হা করে নি:শ্বাস নিচ্ছে ঠিক পানি থেকে মাছ ডাঙায় তুললে যেমন হা করে শ্বাস নেয় ঠিক তেমন করে "বড় বড় চোখ করে হা করে আছে"
মনে প্রানে শ্বাস নিতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না
ধরাধরি করে তাকে ইমারজেন্সি র বেডে দেয়া হলো
পুরো বেড ঘিরে মানুষ
মেয়ের মা,নানী, চাচী,বোন,চাচা,স্বামী আরো নাম না জানা আত্নীয়
মেয়ে বাংলা সিনেমায় সাইড হিরো/হিরোইন মারা যাওয়ার সময় যেভাবে শেষ কথা বলে যায়, ঠিক সেভাবে কথা বলার চেষ্টা করছে...
মেয়ের হাত ধরে আছে বোন, পা ম্যাসাজ করছে মা
মাথার কাছে প্রাণের স্বামী
মেয়ে সেকেন্ডে সেকেন্ডে বাংলা সিনেমার আনোয়ারের মত "আমেনার মা, আ আ " বলে বুকে হাত দিয়ে মিলিসেকেন্ডে র জন্য নকল apnea তে চলে যাচ্ছে
Myocardial infarction এর রোগীর মত বুকে হাত দিয়ে শ্বাস আটকে ফেলছে বার বার
সেই বুকে ব্যাথার চিকিৎসা হিসেবে
অতি ভালোবাসায় আক্রান্ত চিন্তিত স্বামী তার chest massage করে দিচ্ছে
"ও শ্বাস নিতে পারছে না,শ্বাস নিতে পারছে না,দম আটকে গেছে দেখেন তাড়াতাড়ি "
বলে বার বার তাগাদা দিচ্ছে মেয়ের মা,বোন আর স্বামী
প্রেশার দেখলাম নরমাল
অক্সিমিটার নষ্ট তাই নিরুপায়,
স্যাচুরেশন দেখতে পারছি না
তবে আমি বুঝে নিয়েছি এটা HCR
তবুও জানতে চাইলাম
"কিছুখনের মধ্যে কিছু হয়েছে??
ইতিহাস ঘাটিয়া শুনিতে পারিলাম
মেয়ে র সমবয়সী ছোটো খালা র বিয়ে হয়েছে আজ
খালার বিদায়ের সময় ভাগ্নীর মানে আমার রোগীর কাঁদতে কাঁদতে শ্বাস আটকে গেছে অর্থাৎ Emotional breakdown
বিয়ে বাড়ির অর্ধেক লোক ইমারজেন্সি তে
সুন্দর সুন্দর ঝলমলে কাপড় পরিহিত মানুষে
ইমারজেন্সি রুম গিজ গিজ করছে
আমি placebo নীতি তে চলে গেলাম,
মেয়ে কে অক্সিজেন দিলাম কারণ উত্তেজিত জনতা কে দমাতে অক্সিজেনের বিকল্প নাই
নচেৎ কিছুই করছি না র অভিযোগে
পিঠে কিল পরিতে পারে
আর কিল পরিয়া কাইত হইয়া গেলে, আমার মাথার পাশে বসার কেহ নাই আপাদত
ইসিজি করানো শুরু করলাম
পুরো গ্রুপের মধ্যে বিচক্ষণ মনে হলে নানী কে
নানী র বয়স মায়ের চেয়েও কম মনে হচ্ছে যাইহোক
নানী কে ইশারায় বললাম "কিছু হয়নি উনার কিন্তু এরকম করতে থাকলে আমার কিছু করার থাকবে না"
সে বললো "আমি বুঝছি বিষয় টা"
মেয়ে যেভাবে হা করে করে শ্বাস নিচ্ছে তাতে যেকোনো সময় lock jaw হয়ে যাবে নইলে অতিরিক্ত hyperventilation এর জন্য Tetany
বহু বুঝিয়ে ও তার মুখ বন্ধ করতে পারছি না
নানী ও বুঝাতে লাগলো
"মিষ্টি (ছদ্দ নাম) তুই একটু শান্ত হ,এরকম করলে দম আটকে যাবে শান্ত হ"
একজন কে বললাম জ্যুস কিনে নিয়ে আসেন
উদ্দেশ্য জ্যুস মুখে দিলে অন্তত হা করা মুখ টা বন্ধ হবে
মেয়ে এক সিপ নিয়ে গরগরার মত গলার মধ্যে রেখে দিলো
না গিলছে, না ফেলছে এ আরেক মহা মুশকিল
এরমধ্যে ইমারজেন্সি তে আরো ৬/৭ টা রোগী জমে গেলো(এদের গল্প পরে আরেকদিন বলবো)
MLSS রেজা বেশ বিরক্ত হয়ে গেটে দাড়িয়েঁ আছে, কাউকে ভেতরে আসতে দিচ্ছে না,বার বার আমাকে ইশারায় HCR কে যাতে বিদায় করি বলছে,ও চাচ্ছে একদল গেলে আরেক দল আসুক
আমার জ্যুস আইডিয়া ফেল হলেও আমি হার মানলাম না
মিষ্টি কে অক্সিজেন দিয়ে
ওদের কে বললাম "মিষ্টি কি খেতে পছন্দ করে??
সবাই একযোগে বলে উঠলো "দুধ চা"
মিষ্টির প্রাণের স্বামী কে বললাম:
"এখনি ভালো করে দুধ চা নিয়ে আসেন বাইরে থেকে,
ও যেভাবে চিনি দুধ দিয়ে খায় সেভাবে,ফার্স্ট ক্লাস দুধ চা নিয়ে আসেন"
কয়েকজন চা আনতে চলে গেলো ততক্ষণে আমি অন্য রোগী দেখা শুরু করলাম
এরমধ্যে এক এসল্টের মেয়ে এসেছে স্বামীর কাছে উদোম কেলোনি খেয়ে(এই Rapunzel এর গল্প ও পরে বলবো)
Rupanzel মাইর খেয়েছে শুনে
মিষ্টির মা বলে উঠলো
"তুই মাইর খাস কেন??জামাই তোর গলা কাটার আগে, ওর গলা কেটে তুই জেলে যাবি,
তুই মরতে যাবি কেন,আগে মাইরা তারপর মরবি"
চা গরম চলে এসেছে
মিষ্টি কে বসানো হলো
আমি অনান্য রোগী দেখছে আর পাশাপাশি মিষ্টির দিকেও খেয়াল রাখছি
মিষ্টির পরিবার Hum sath sath hein র পরিবার
অনেকেই নিজেকে মিষ্টি র বাবা মা নামে অবিহিত করছে যেকারণে বুঝা যাচ্ছে না কে আসল বাবা মা
মিষ্টি চা খেলো অল্প
আমি অন্য রোগী দেখার পাশাপাশি গল্প করছি
সবাই বললো "মিষ্টি ভাত না খেয়ে চা খায় তাই ওর চা খাওয়া নিষেধ, এজন্য ও চুরি করে চা খায়"
এতক্ষণে আমার তীর সঠিক নিশানা য় গিয়ে পরেছে
আমি: আজ কোনো নিষেধ নাই,
আরো দুই কাপ চা এনে দেন ওকে ,বিল আমি দিবো আজ
বিয়ে বাড়ির অর্ধেক লোক চলে এসেছে
স্টেজে কনে দেখার মত করে ইমারজেন্সি রুমে
একের পর এক নানী,দাদী,মামী,মামা এসে মিষ্টি কে দেখে যাচ্ছে
আমি: সব তো এখানেই চলে এসেছেন
আপনাদের হাসপাতালে ই বিয়ের আয়োজন করা উচিৎ ছিলো,সেই সুবাদে একটা বিয়ে খেতে পারতাম
পোলাও মাংস মিস হয়ে গেলো আমার
সবাই হেসেঁ বলে, ঠিক ঠিক
ঘড়ির কাটায় ১০টা,
মেয়ে উঠে বসেছে, স্বামী বোনের কানে কানে বললো
"বাসায় যেতে চায়"
আমি বললাম: আচ্ছা যার আজ বিয়ে হলো সে কেদেঁছে??
এই প্রশ্নে দুই পক্ষ তৈরি হলো
একদল হ্যা কাদঁছে, আরেকদল না কাদেঁনি বলে
তর্কে জড়ালো
আমি: আচ্ছা ওর নিজের বিয়েতে ও কেদেঁছে??
সবাই: নাহ,ও হাসঁছে
আমি: হুম,প্রেম কাহিনি নিশ্চয়ই??
সবাই হাসেঁ
সামনে উপবিষ্ট সবাই কে বললাম:
এখন ওর ট্রিটমেন্ট হলো এরপর থেকে যে বিয়েতে গেলে ও কাদঁবে সে বিয়েতে ওকে নেয়া যাবে না,
কাদঁলে বিয়ে বা বিদায়ে যাওয়া নিষেধ আজ থেকে
মেয়ের চাচা: আচ্ছা, যে বিয়েতে গেলে হাসঁবে সে বিয়েতে নিয়ে যাবো
যাওয়ার আগে মেয়ের বাবা,চাচা,স্বামী বললো:
ধন্যবাদ ম্যাডাম
আপনি দেখে এতখন রেখে চিকিৎসা দিলেন অন্য কেউ হলে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিত,আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
আমি: যাওয়ার আগে আপনাদের ছবি তুলে নেই
এলবামে থাকুক,বসেন সবাই
আমি মানুষ জন্মের বদরাগী হইলেও মাঝে মইধ্যে আমি ভালা
অত:পর বিয়ে বাড়ির মেহমান বিদায় দিয়ে আরো জটিল কেসে মনোনিবেশ করিলাম
তোমার মনের অস্থিরতায় দিও আমায় ঠাঁই
জ্বরের ঘোরে, প্রলাপের ভিরে আছি সর্বদাই
Ismat Alo
MBBS,BCS,MD(Paediatrics)
আজীবনের মেডিকেল অফিসার
28/04/2026
ছবিটা কোনো সাধারণ মাংসপিণ্ড না।
এটা একটা মানুষের কিডনি।
একজন বড় ভাইয়ের কিডনি।
যেটা কেটে ফেলা হয়েছে
কারণ?
তার নিজের ছোট ভাই ছুরি মেরেছে।
চাচাতো না।
সৎ ভাই না।
একই মায়ের পেটের আপন ভাই।
কারণ?
জমিজমা নিয়ে বিরোধ।
ভাবতে পারেন?
যে ভাই ছোটবেলায় হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছে…
বৃষ্টির দিনে নিজের কাপড় ভিজিয়ে আপনাকে শুকনো রেখেছে…
মেলায় গেলে কাঁধে তুলে নিয়েছে…
যার হাত ধরে শিখেছেন হাঁটা,
সেই ভাইয়ের পেটেই একদিন ছুরি ঠুকিয়ে দিলেন.?
অপারেশন থিয়েটারে যখন কাটা কিডনিটা ট্রেতে রাখা হল, তখন হঠাৎ মনে হচ্ছিল,
মানুষ আসলে কবে এত বদলে গেল?
ডাক্তাররা প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু কিডনি আর ইউরেটার এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতেই হয়েছে।
কিছু জমি…
কয়েক হাত মাটি…
এগুলোর দাম কি সত্যিই একটা সম্পর্কের চেয়ে বেশি?
আজকাল মানুষ জমির ভাগ ঠিকই বুঝে,
কিন্তু রক্তের সম্পর্কের মূল্যটা ভুলে যাচ্ছে।
ধর্মীয় শিক্ষা কোথায়?
মানবতা কোথায়?
কোথায় সেই ভয়,
যেখানে মানুষ অন্তত নিজের ভাইয়ের গায়ে ছুরি তোলার আগে একবার কেঁপে উঠত?
সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো,
এখন মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ না।
যে ভাই একসময় “ভাইয়া” বলে জড়িয়ে ধরত,
সেই হাতই একদিন ছুরি ধরে।
এই সমাজ আসলে কোথায় যাচ্ছে?
ডা.আব্দুর রহমা
এক সৌদি ডিভোর্সী, নিঃসন্তান নারীকে ভালোবেসেছিলাম।। আমি সামান্য তাদের বাগানের কর্মচারী হয়ে।। ঘটনা টা শুরু ২০০২ সালের।। আমি তখন বাগানের ভিসায় সৌদিতে গিয়েছি।। ১ম এ তাদের বড় বাগানে ছিলাম ২ বছর। এরপর তাদের ঘরের পাশেই ছোট্ট বাগানে আমাকে নিয়ে আসে।।
থাকা খাওয়া মালিকের ছিলো। বাগানে কাজ করার পাশাপাশি আমি তাদের ঘরে ও কাজ করতাম।। আমার মালিক খুবই ভালো মানুষ ছিলো আমাকে মোহাম্মদ বলে ডাকতো। আমি তাদের বাবা মা ডাকতাম।। তাদের এক মেয়ে ও ২ ছেলে।।
উনার ছেলেরা স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশের বাহিরে থাকতো কাজের সুবাদে। মাঝে মাঝে এসে কয়েকদিন থেকে যেতো।।
উনার মেয়ে লন্ডনে থাকতো স্বামীর সাথে ।।
উনাদের আত্মীয় স্বজনরা আসতো ঘরে।। উনারা যেতো এভাবেই বয়স্ক দম্পতির জীবন অতিবাহিত হতে লাগলো। একদিন আমাকে আমার মালিক মা বললেন তুই বাঙালি রান্না করে খাওয়া আমাকে।।
তো আমি বললাম কি খাবেন। উনি বললও তোর যা ইচ্ছে রান্না করে খাওয়া। উনারা আবার ঝাল খেতে পারতো না। তখন আমি বাকালাতে(দোকান) গিয়ে সেমাই নিয়ে আসি এবং উনাদের রান্না করে খাওয়াই। খুবই পছন্দ করে উনারা ।
এরপর মাঝে মাঝে আমাকে বলতো সেমাই রান্না করে খাওয়াতে। আমি আবার রান্না করতে জানতাম তখন আমি তাদের সেমাই পায়েস এটা সেটা রান্না করে খাওয়াতাম।
এর মধ্যে আমার মালিক বাবা আমাকে গাড়ি চালানো শিখতে বললও।
আমি তখন উনার সহায়তায় গাড়ি চালানো শিখলাম। এবং উনি আমাকে লাইসেন্স বানিয়ে দিলাম। উনারা আমাকে খুবই বিশ্বাস করতো। আমি কখনও উনাদের বিশ্বাস ভাঙিনি।।
উনারা কখনও আমাকে তাদের গো*লামের বা দাসের নজরে দেখে নি। সন্তান এর মত স্নেহ করতো।
এভাবে উনাদের বাড়িতে আরো ২ বছর কাটলো আমি ছুটিতে দেশে আসলাম।
দেশে আসার সময় উনারা আমাকে অনেক কিছু দিলেন। এবং উনাদের ব্যবহারিক অনেক নতুন নতুন জিনিস যা উনারা ব্যবহার করেন না তা আমাকে দিয়ে দিলেন বললেন দেশে গরীবদের দিয়ে দিস।।
দেশে আমি এসে ২ মাস থাকলাম।
আমার মালিক ফোন করে বললও চলে আয় তোকে ছাড়া এদিকে কাজের সমস্যা হচ্ছে এবং গুছানো বেশ কষ্ট সাধ্য হয়ে গিয়েছে। আমি ও চলে গেলাম। আমার ও তেমন ভালো লাগছিলো না এখানে।।
আমার দেশে মা আর ২ ভাই ছিলো।। বাবা ছোটবেলায় মারা গিয়েছে।। মায়ের ও বয়স হয়েছে।।
আমি দেশে টাকা পাঠাতাম যখন যা লাগতো। বড় ভাইকে ব্যবসা ধরিয়ে দিয়েছি। ছোট্ট ভাইকে পড়ালেখার সমস্ত খরচ বহন করতাম।।
আমি ছুটি শেষে সৌদিতে যাওয়ার পর দেখি ঘরে উনাদের মেয়ে এসেছে।। আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। আমি শুধু সালাম দিলাম উনি সালাম নিলেন আর কথা বললেন না।।
হালকা করে একটু দেখেছি দেখে উনাকে অনেক অসুস্থ মনে হলো।।
আমি দেশ থেকে উনাদের জন্য বিভিন্ন করম পিঠা এবং আমাদের দেশীয় ফলমূল খাবার এবং আমার মালিক মায়ের জন্য শাড়ী নিয়ে গিয়েছিলাম।।
কিন্তুু আমার মালিক মা শাড়ী কিভাবে পড়ে জানতেন না। আমি ব্লাউজ বা পেটিকোট নিয়ে ও যাই নি।।
তখন উনার সামনে আমি নিজে শাড়ী পড়ে উনাকে দেখালাম। উনি হাসতে হাসতে শেষ।
উনি বললেন দাড়া একদিন আমি পড়বো।।
তো একদিন রাতে দেখলাম উনি কোনো ভাবে পেঁচিয়ে শাড়ী পড়ে আমাকে ডাকলেন। তখন আমার মালিক বাবা ও সাথে ছিলেন উনার। উনি হাসতে হাসতে শেষ।।
উনাদের রান্না গুলো খুব একটা খেতে পারতাম না। মাঝে মাঝে আমি নিজের রান্না নিজে করতাম। তখন উনারা ওখান থেকে হালকা করে খেতেন। উনাদের ভালো লাগতো বাঙালি খাবার।।
এর মধ্যে উনাদের মেয়েকে নিয়ে আমি এখানে সেখানে যেতাম।। আত্মীয় দের বাড়িতে কিংবা কখনও মার্কেটে।।
উনি কখনও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেন না আমার সাথে।।
এর মধ্যে একদিন শুনি উনার স্বামীর সাথে উনার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে।
উনার স্বামীর আরো ২ টি বউ ছিলো। উনি বড় ছিলেন উনার ঘরে সন্তান না হওয়ার কারণে উনার স্বামী আবার বিয়ে করেন এবং সেখানে বউদের সন্তান হয়। উনাকে অবহেলা করত শুরু করলেন এবং উনার মনে হলো এ সম্পর্কে আর ভালোবাসা বিদ্যামান নেই ।। ডাক্তার বলেছে উনার থেকে আর সন্তান হবে না। দীর্ঘ ১৩ বছর সংসার করার পর উনি ডিভোর্স নিয়ে নেন।।
এটা নিয়ে উনি প্রায় সময়ই কাঁদতেন এবং উনি উনার স্বামীকে ভালোবাসতেন এবং খুব জঘন্য ভাবে ঘৃণা করতেন।।
২০০৬ সাল উনারা বড় হজ্ব করবেন। ঘরের সবাই। উনাদের কেয়ার করার জন্য আমাকে ও উনারা সাথে নিবে বড় হজ্বে। সমস্ত খরচ আমার মালিক বাবা মা বহন করলেন। তখন তো খুবই গরম ছিলো এবং এতটা উন্নত ছিলো না।
উনাদের সাথে আমি বড় হজ্ব করলাম। উনাদের যতটুকু পেরেছি আমি আমার সাধ্য মত কেয়ার করেছি।।
বড় হজ্ব থেকে আসার পর থেকে উনি আমার সাথে কিছু টা ভালো ব্যবহার করতেন। আগে খারাপ ব্যবহার করতেন না কিন্তুু উনি আমাকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। বাবা মাকে মানা করতেন আমাকে এভাবে বেশি মূল্যায়ন না করতে।। উনি আবার উনার বাবা মায়ের কলিজার টুকরো ছিলো।
উনাকে উনার বাবা মা সবাই বলে ছিলো আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে। কিন্তুু উনি করেন নাই।।
উনার ইচ্ছে নেই এমন বললও।
এর মধ্যে দেশ থেকে খবর আসলো আমার মায়ের খুবই শরীর খারাপ অসুস্থ।।
আমি আমার মুনিব দের জানালাম তারা আমাকে টিকেট করে দিলো দেশে যাওয়ার জন্য।।
আমি দেশে আসার ১০ দিন পর আমার মা মারা গিয়েছে।।
২ মাস থেকে আমি আবার সৌদিতে ফিরে গিয়েছি৷।
আমাকে আমার মালিক মা বললও আমি তোর মা তুই চিন্তা করিস না।।
আমি সবসময় উনাদের সাথে সাথে সন্তান এর মত থাকতাম আমার মনে ও হারামি ছিলো না।
আমি আমার মায়ের ও বাবার অনেক সেবা করতাম৷
আমি উনাদের মাথা পযন্ত আঁচড়িয়ে দিতাম।।
এর মধ্যে উনাদের মেয়ের সাথে আমার সখ্যতা গড়ে উঠে।
আমি শার্ট এবং প্যানট পড়তাম উনি বলতেন এসব না পড়ে যেন উনাদের দেশীয় জামা পড়ি। আমাকে কয়েকটি জুব্বা জামা ও কিনে দিলেন উনি। আমি ওসবই পড়তাম।।
একদিন আমাকে উনি বললেন বিয়ে করবি আমাকে। আমার কোনোদিন সন্তান হবে না।
সবসময় উনি বিষন্ন থাকতেন।। আমি ভয় পেয়ে গেলাম উনাকে অনুরোধ করে বললাম আমি আপনাকে সবসময় বড় আপার নজরে দেখেছি।। আমাকে দয়া করে এমন বলবেন না।বাকী জীবন আমি আপনাদের সাথে কাটাতে চাই অনুরোধ। এসব বাবা মা শুনলে আমাকে ভুল বুঝবে বের করে দিবে। আমার খুব কষ্ট হবে উনাদের জন্য।।
উনি চুপ করে রইলো।। তারপর একদিন উনি আমাকে ডেকে বললেন তুই মেহেদী পড়াতে জানিস।
আমি বললাম আমি ছেলে মানুষ কিভাবে মেহেদী পড়াবো আমি এসব জানি না কখনও করি নাই।।
উনি বললও যেভাবে ইচ্ছে পড়া। উনার মা ও এসেছেন। বললেন আমাকে ও পড়িয়ে দে।
আমি তখন চেষ্টা করলাম এবং উনারা মা মেয়ে হাসতে হাসতে শেষ তখন আবার ঘরে আবার বাবা ও আসলেন উনি ও হাসতে হাসতে শেষ।
এবার উনি বললেন দে তোর হাত দে আমি হালকা লাগিয়ে দি। আমি বললাম না না আমি ছেলে মানুষ এসব আমি দিব না৷
উনি জোর করে উনার নামের ১ম অক্ষর আমার হাতে লিখে দিলেন।
উনার বাবা মা খেয়াল করে নি। আমি তাড়াতাড়ি মুছে ফেললাম।
এবং রাতের দিকে উনার বাবার পায়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে সব বললাম৷
এবং বললাম বাবা আমি মিথ্যা অপবাদ নিয়ে এদেশ থেকে যেতে চাই না দয়া করে আপনি আমাকে সম্মানে দেশে পাঠিয়ে দিন।
তখন উনি বললেন আমি তোকে বিশ্বাস করি।।
উনি উনার মেয়ে কে বিষয় টা নিয়ে বললেন এবং শাসন করলেন।
আমি এমনি শুনেছি।।
পরে কি হলো উনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় আমি জানি না।।
কয়েকদিন উনি আমার সাথে কথা টথা বললেন না। এবং আমার মালিক মা আমায় বললও যা হয়েছে ভুলে যা।।
কিছু মনে করিস না৷।
একদিন সনধ্যার পর আমায় উনি বললেন একটু এক আত্নীয় এর ঘরে দিয়ে আসতে। উনার বাবার সাথে আমি তখন কাজ করছিলাম। আমি বাবাকে বললাম বাবা আমি যেতে চাই না।।
বাবা বললেন যা কিছু হবে না ওসব মাথা থেকে ফেলে দে।
আমি বাবার কথা রাখতে উনার সাথে গেলাম।।
গিয়ে দেখি ওই আত্মীয় এর বাসায় কয়েকজন।
উনি আমাকে গাড়ি পাকিং করে ভিতরে আসতে বললেন আমি বললাম যাব না।।
তখন উনার আত্মীয় রা জোর করে নিয়ে গেলেন। যাদের আমি আগে থেকেই চিনি। যিনি আমার মালিক মায়ের আপন বোন এবং ফাতিমার কয়েকজন বান্ধবী।।
তখন ভিতরে গিয়ে দেখি ওরা আমাকে সবাই বললও এখন তোমাকে ফাতিমাকে বিয়ে করতে হবে।।
আমি জানি না ফাতিমা সবাইকে কিভাবে মানালো বা বুঝালো।
উনার আপন খালা ছিলেন এবং উনার খুব কাজের কয়েকজন বান্ধবী ছিলেন আর কেউ না।।
আমি বললাম না আমি বাবা মায়ের সাথে বেইনসাফি করতে পারবো না।
তখন বললাম জীবন থাকতে বিয়ে করবো না আমি।।
আমি সেদিন গাড়ি রেখে একাই চলে এসেছি অন্য একটা গাড়িতে করে।
এসে বাবা মাকে সব বললাম এবং বললাম দূরের বাগানে পাঠিয়ে দিন আপনার উঠের পালের দেখাশোনা ও করবো৷। বাবা মা বললও ঠিক আছে।
রাতের দিকে উনি চলে আসলেন। আসার পর উনাকে অনেক বকাঝকা করলেন।
এবং রাতে উনি সুই-সাইডের চেষ্টা করেছেন।
উনি যথেষ্ট শিক্ষিত সুন্দরী ছিলেন আমার মত সামান্য দাসকে কেন বিয়ে করতে চাইছেন তা মাথায় আসলো না আমার।।
গলায় ফাঁ*সি দিয়েছেন উনার মা দেখে ফেলাতে সেই যাএায় তিনি বেঁচে ফিরেন।।
উনার বাবা মা উনার শুধু বড় ভাইকে জানালেন।
ফাতিমা বললেন আমি শুধু ভালোবাসা চাই আর কিছু না।
পরে আর কি করার উনার বাবা মা আমাকে বললেন তুমি রাজি কিনা। তখন আমি বললাম আপনারা যা বলবেন তা।।
২০০৯ সালের ১৭ জানুয়ারি রাত ৯ টায় আমার আর ফাতিমার বিবাহ হয়।
আমি বাংলাদেশী টাকায় নগদ ৪ লাখ টাকার দেনমোহরে ফাতিমাকে বিবাহ করি এবং ৩ লাখ টাকা গয়না উপহার দি।
যা এত বছরের প্রবাস জীবনে আমার জমানো অর্থ ।।
বয়সে ফাতিমা আমার চেয়ে ৭ বছরের বড় ছিলো। কিন্তুু বিশ্বাস করুন আমি ফাতিমার চোখে আমার জন্য সম্মান মায়া ভালোবাসা দেখেছি আমি তাদের দাস হয়ে ও।।
সে এক অদ্ভুত ভালোবাসা আমার আর ফাতিমার।।
বিয়ের পর ৩ দিন পর আমি আর ফাতেমা ওমরাহ তে গিয়েছি। আমরা জেদ্দা শহরে থাকতাম।
কাবা বেশি দূর ছিলো আমাদের থেকে।।
আমি ওর হাতে হাত রাখতে ১ম ১ম ভয় পেতাম চোখে চোখ রাখতে ভয় পেতাম৷ দ্বিধা বোধ কাজ করতো।।
কিন্তুু ফাতিমা সেই দ্বিধা কাটিয়ে দেয়।।
ও আমার থেকে কথা নিয়েছে কখনও বেইমানি যেন না করি সাথে ও কথা দিয়েছে ও কখনও আমার সাথে বেইমানি করবে না।।
১ম ১ম বিবাহ টা সবার কাছে প্রকাশ করে নি। শুধু হাতেগোণা কয়েকজন আত্মীয় স্বজনরা জানতো।।
আমরা সারারাত গল্প করতাম হাতে হাত রেখে হাঁটতাম।।
আমি ভালোবেসে আমার ফাতিমাকে বাঙালি বধু সাজিয়ে দি।
কি যে অপরুপ সুন্দর লেগেছে আমার ফাতিমাকে।।
একদিন আমার বাবা আমায় বললেন তোমাকে একটা জেদ্দাতে দোকান নিয়ে দি তুমি ব্যবসা করো। আমার মেয়ের জামাই তোমার নিজের সম্মান রয়েছে সাথে আমার ও সম্মান রয়েছে।।
তখন বললাম ঠিক আছে তবে ব্যবসা করে আমি সমস্ত টাকা পরিশোধ করে দিবো।।
আলহামদুলিল্লাহ জেদ্দাতে দোকান দেওয়ার পর ২০১১ এর মধ্যে আমাকে এত বরকত দেয় বলার মতো না।।
খুব চেষ্টা করতাম ফাতিমাকে একটা বাড়ি কিনে দিতে।।
২০১২ সালে মক্কাতে দোকান দি।।
আমাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি৷
এর মধ্যে ২০১৫ তে আমার ফাতিমা আর আমার সন্তান হয়৷
আমার ফাতিমা যেন বিশ্বাস করতে পারে না।।
আল্লাহ তাকে এত বড় উপহার দিয়েছে।। সে রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করে।।
২০১৭ তে আমি ফাতিমাকে একটা বাড়ি কিনে দি।।
পরিবার বলতে শুধু আমার ফাতিমা আর আমার জেহের।।
ফাতিমাকে বলতাম তোমাকে এত ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় কেন।। তোমাকে ভালোবাসার স্বাদ কেন আমার মিটে না।
আমার ফাতিমা শুধু হাসতো।।
ফাতিমার পরিবারের সবাই আমাদের মেনে নেয়। ২০১৭ তে আমার শাশুড়ী মা আল্লাহ কাছে চলে যান। খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ উনি আমার মা ছিলেন। আমার জন্য খুব দোয়া করে গিয়েছেন তিনি।।
২০১৯ এ আমার আর ফাতিমার আরেকটা সন্তান হয়।।
আমার জীবনে আমার রব সব দান করেন।।
ফাতিমা সন্তানদের পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পান।
আমার শশুর তখন আমাদের সাথে থাকা শুরু করলেন।
এর মধ্যে করোনা আসে।।
কভিড এর টাইমে আমার ফাতেমা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে।।
ওর করোনা ধরা পড়ে। এত সচেতন থাকার পরে ও কিভাবে করোনা হয় আল্লাহ জানেন।।
আমাকে হাসপাতালে থাকতে দেয় হচ্ছিলো না কিন্তুু আমি পাগল হয়ে গিয়েছি ফাতিমার জন্য হাসপাতালের বাহিরে অপেক্ষা করতাম।
এর মধ্যে একদিন মাঝরাতে আমার ফাতিমা করোনাতে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।
সেই শোক আমি আজও ভুলতে পারি নাই। পাগলের মতো কেঁদে ছি।
আমি আমার দুনিয়া সুখ আনন্দ সব হারিয়ে ফেলেছি।
সব মানে সব। আমার জীবনে আর কিছুই নেই।
আমার ফাতিমা ছিলো একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী, আমার দুনিয়া।।
আমি রাতে এখনও ঘুমাতে পারি না। ওর কবরে গিয়ে কুরআন তেলওয়াত করে আসি।।
ওর সন্তান রা ওর এত প্রিয় ছিলো সন্তানদের ছাড়া ও আজ বহুবছর আল্লাহ কাছে।।
আমি আমার শশুর সন্তানদের নিয়ে থাকি।।
আমার শশুর এর ও বয়স হয়েছে।। উনার ছেলেরা নিতে চেয়েছে কিন্তুু উনি যান নাই ফাতিমার সন্তান দের ছেড়ে।। উনারা ও আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসেন এবং আদর করেন।।
আমি বেঁচে আছি ফাতিমাকে ছাড়া ফাতিমার সন্তান দের নিয়ে।।
বেঁচে থাকতে হবে ফাতিমার সন্তান দের জন্য।।
একটা মুহুর্তের জন্য ও ওকে ভুলতে আমি পারি নি।
সন্তানদের জন্য বেঁচে আছি।।
আমার জীবন সময় সব থমকে গিয়েছে শুধু আমার ফাতিমার জন্য।
ইনশাআল্লাহ জান্নাতে একসাথে থাকবো আমরা।
আমি সারাদুনিয়াকে বলতে চাই শুনছো দুনিয়া আমি শুধু ফাতিমার স্বামী।।।
collected
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka