TravelBD24.com
Feel the Difference...
Safe...Comfortable...Reliable
Coming soon
Cox bazar somporke kicu information.
19/08/2017
বান্দরবান জেলার পর্যটন অঞ্চল/দর্শনীয় স্থান সমূহ :
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি এবং কক্সবাজার থেকে বান্দরবান বাস যোগাযোগ রয়েছে। বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির। এটি সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার মন্দিরগুলোর অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ মুর্তিটি এখানে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি হলো "বুদ্ধ ধাতু জাদি"। এছাড়া শহরের মধ্যেই রয়েছে জাদিপাড়ার রাজবিহার এবং উজানীপাড়ার বিহার। শহর থেকে চিম্বুকের পথে যেতে পড়বে বম ও ম্রো উপজাতীয়দের গ্রাম। প্রান্তিক হ্রদ, জীবননগর এবং কিয়াচলং হ্রদ আরও কয়েকটি উল্লেখ্য পর্যটন স্থান। রয়েছে মেঘলা সাফারী পার্ক, যেখানে রয়েছে দুটি সম্পূর্ণ ঝুলন্ত সেতু। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণ, ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য হতে পারে একটি মনোহর অভিজ্ঞতা। বান্দরবান শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শৈল প্রপাত একটি আকর্ষণীয় পাহাড়ি ঝর্ণা।
এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং এবং বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং এই বান্দরবান জেলাতেই অবস্থিত। মৌসুমগুলোতে এই দুটি পর্বতশৃঙ্গে আরোহন করার জন্য পর্যটকদের ভীড় জমে উঠে। পর্যটকরা সাধারণত বগা লেক থেকে হেঁটে কেওক্রাডং এ যান। অনেকেই আছেন যারা কেওক্রাডং না গিয়ে বগা লেক থেকে ফিরে আসেন। এই হ্রদটিও বিশেষ দর্শনীয় স্থান। হ্রদসন্নিহিত এলাকায় বম উপজাতিদের বাস। এছাড়া অন্যান্য আকর্ষণের মধ্যে আছে:
চিম্বুক পাহাড়
পুরো বান্দারবান জেলাই প্রাকৃতিক দৃশ্যে ভরপুর।বান্দরবান থেকে পুরো রাস্তা আকাবাঁকা উচুনিচু। চিম্বুকে যাওয়ার পথের পাশে রয়েছে অসংখ্য উপজাতির আবাসস্থল। ঘরগুলো মাচার মতো উঁচু করে তৈরি। চিম্বুকের চূড়া থেকে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের দৃশ্য চোখ জুড়ানোর অবস্থা। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে প্রবাহমান সাংগু নদী যা আপনাকে নিয়ে যাবে অনেক দূরে। স্থানীয় উপজাতীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চিম্বুকের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অনেক সময় মেঘও ধরা যায়।
ঢাকা থেকে বাস/ট্রেন/বিমানযোগে চট্রগ্রাম এসে সেখান থেকে বাসে বান্দরবান যাওয়া যায়। বান্দারবান থেকে চিম্বুকে যেতে হবে জিপ গাড়িতে। যাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় চান্দের গাড়ি। চান্দের গাড়িতে গেলে নামতে হবে বুলি বাজারে। ভাড়া করা জিপ নিয়ে সরাসরি চূড়ায় যাওয়া যায়। নিজস্ব জিপ নিয়েও যাওয়া যায়। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৩৬৪ টি ছোট-বড় মোড় অতিক্রম করে ২৬ কিঃমিঃ দূরে চিম্বুকে যেতে হবে।
বান্দারবানে থাকার জন্য রয়েছে নানা রকম আবাসিক হোটেল। এছাড়া সরকারী রেস্টহাউসসহ জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ, বন বিভাগ, এলজিইডি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউসও রয়েছে। এখানে থাকার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি মনোরম কটেজ ঘর ও ডরমিটরি। কটেজগুলোর একক ভাড়া ৭৫০ টাকা দুজন ১০০০ টাকা। পুরো কটেজ ভাড়া নেওয়া যায়। বোম ঘরের ভাড়া একক ৪৫০ টাকা, দুজন ৭০০ টাকা, মারমা ঘরের ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা, দুজনের ৪০০ টাকা, ডরমিটরির ভাড়া প্রতি বেড ১৫০ টাকা । বেশি বেড নিলে ভাড়া কম।
নীলগিরি
নীলগিরি : বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোইমটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে বান্দরবান-থানছি সড়কে পাহাড় চূড়ায় নীলগিরি পর্যটন কেন্দ অবস্থিত। যে কোনো গাড়িতে চড়ে সরাসরি নীলগিরিতে যাওয়া যায়। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে এর উচ্চতা ২ হাজার ২ শত ফুট। একানকার প্রকৃতির কারুকাজ সবাইকে মুগ্ণ করে । এই রোদ, এই বৃষ্টি, আকাশে মেঘের গর্জন সেই সাথে রংধনুর হাসিমাখা আলোএক রুশ্মি, বাতাসের সাথে ছন্দ আর তাল মিলিয়ে প্রকৃতির বৈবিত্র্যময় এই পরিবর্তনের এই পরিবর্তনের দৃশ্যগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক চিম্বুক-থানচি সড়কটি নির্মাণের সময় ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বান্দরবান থানিছ সড়কের কাপ্রু পাড়া এলাকায় প্রথমে নিরাপত্তা চৌকি হিসেবে এটি নিমিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাএদর পরিকল্পনায় এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রের পূর্ণতা লাভ করে। এখানে মেঘদূত, আকাশনীলা, নীলাঙ্গনা, মারমা হাউজসহ নানা নামের আকর্ষীয় কটেজ রয়েছে। আছে একটি ক্যাফেটেরিয়া। বর্তমানে দেশি বিদেশি পর্যটকরা প্রতিদিনই নীলগিরি ভ্রমণে আসছেন।
দিনের বেলায় এই স্থান থেকে খালি চোখে বঙ্গোপসাগর ও জাহাজ চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া ছোট পাহাড়ের কোল ঘেয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর আকাবাকা দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য সকলকে আকর্ষণ রে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই নীলিগিরি রিসোর্টে অবস্থান ও রাত্রিযাপনের জন্য সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড হেডকোয়াটার এর সাথে আগাম যোগাযোগ করতে হয়। প্রকৃতির অপরুপ মনমুগ্ধকর নয়নাভিরাম এই দৃশ্যগুলি পর্যটকদের স্মৃতিতে ধরে রাখার জন্য নীলগিরি রিসোর্ট অত্যন্ত চমকার একটি স্থান। এই স্থানটি অনেকের নিকট বাংলার দার্জিলিং নামে পরিচিত।
মেঘলা পর্যটন কমপেস্নক্স
বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশে পাহাড়বেষ্টিত স্বচ্ছ জলোর মনোরম লেক। বান্দরবান শহর থেকে ৪.৫ কিলোমিটার দূরে এই কমপেস্নক্স রয়েছে চিত্তবিনোদনের নানাবিধ উপকরণ। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি চিড়িয়াখানাসহ পর্যটন কেন্দটি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রবেশ মূল্য : জনপ্রতি ৩০ টাকা
অবস্থান : শহর এথেক ৪ কি: মি: দূরে জেলা পরিষদের বিপরীতে সুন্দর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত।
বিশেষ আকর্ষণ : এখানে একটি মনোরম কৃত্রিম হ্রদ, শিশু পার্ক, সাফারী পার্ক, পেডেল বোট, ঝুলন্ত ব্রিজ , চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট রয়েছে।
অবকাশ : এখানে জেলা প্রশাসন পরিচালিত একটি সুন্দর রেস্ট হাউজ রয়েছে, যেখানে রাত্রিযাপন করা যায়। রেস্ট হাউজটি দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়ায় পাওয়া যায়।
ভাড়া : মেঘলা রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপনের জন্য চারটি কক্ষ রয়েছে। প্রতিকক্ষের ভাড়া ২০০০/ - (প্রতিদিন)।
যাতায়ত :
শহর থেকে চান্দের গাড়ি বেবি টেক্সি, জীপ, কার যোএগ যাওয়া যায়।
বগালেক
সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট বগালেক। কেওকারাডাং এর কোল ঘেঁষে বান্দারবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এবং রুমা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
পাহাড়ের উপরে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বগালেক। এ পানি দেখতে প্রায় নীল রঙের। এ লেকের পাশে বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র উপজাতীয় বম ও খুমী সম্প্রদায়। অদ্ভুদ সুন্দর এই নীল রঙ্গের লেকের সঠিক গভীরতা বের করা যায়নি এখনও পর্যন্ত। স্থানীয়ভাবে দুইশ' থেকে আড়াইশ' ফুট বলা হলেও সোনার মেশিনে ১৫১ ফুট পর্যন্ত গভীরতা পাওয়া গেছে। এটি সম্পূর্ণ আবদ্ধ একটি লেক। এর আশেপাশে পানির কোন উৎসও নেই। তবে বগালেক যে উচ্চতায় অবস্থিত তা থেকে ১৫৩ মিটার নিচে একটি ছোট ঝর্ণার উৎস আছে যা বগাছড়া (জ্বালা-মুখ) নামে পরিচিত। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে লেকের পানি প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসে হয়ে যায় ঘোলাটে।
রাত্রি যাপনের জন্য বগালেকে জেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি রেষ্টহাউস নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বম উপজাতী সম্প্রসাদায় কিছু ঘর ভাড়ায় দিয়ে থাকে । বগালেকের পাড়েই বসবাসরত বম সম্প্রদায় পর্যটকদের জন্য রান্না-বান্নার ব্যবস্থা করে থাকে । রুমা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ক্রয় করে নেওয়াই শ্রেয়।
উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তার জন্য রুমা ও বগালেক সেনা ক্যাম্পে পর্যটকদের রিপোর্ট করতে হয়। স্থানীয় গাইড ছাড়া পায়ে হেটে রুমা থেকে অন্য কোন পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া উচিত নয়।
যাতায়তঃ
শুষ্ক মৌসুমে বান্দরবান জেলা সদরের রুমা জীপ ষ্টেশন থেকে রুমাগামী জীপে করে রুমা সেনা গ্যারিসন (রুমা ব্রীজ) পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে নৌকায় করে ২০ মিনিট পথ পাড়ি দিয়ে রুমা উপজেলা সদরে যেতে হয়। বর্ষাকালে রুমাগামী জীপ কইক্ষ্যংঝিড়ি পর্যন্ত যায় । তারপর ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে প্রায় ১ ঘন্টার অধিক পথ পাড়ি দিয়ে রুমা সদরে যেতে হয় । রুমা থেকে পায়ে হেটে অথবা জীপে করে বগালেক যেতে হয় । বর্ষা মৌসুমে বগা লেক যাওয়া নিতান্তই কষ্টসাধ্য তাই বগালেক ভ্রমনে শীতকালকে বেছে নেওয়া শ্রেয়ে। বান্দরাবন থেকে রুমা উপজেলা সদরে যেতে খরচ হবে জন প্রতি ৮০/ - অথবা পুরো জীপ ভাড়া করলে ২২০০-২৫০০/ - আর রুমা থেকে বগালেক যেতে জনপ্রতি ৮০-১০০/ - অথবা পুরো জীপ ভাড়া করলে ২২০০-২৫০০/ - পর্যন্ত ।
শৈলপ্রপাত
বান্দরবান রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি। ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে সর্বদা বহমান। এই ঝর্ণার পানিগুলো খুবই স্বচ্ছ এবং হীম শীতল। বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা দুস্কর, বছরের বেশীর ভাগ সময় দেশী বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে। রাস্তার পাশে শৈল প্রপাতের অবস্থান হওয়ায় এখানে পর্যটকদের ভিড় বেশী দেখা যায়। এখানে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেশা আদিবাসী বম সম্প্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা।
বান্দরবান শহর থেকে টেক্সি, চাঁদের গাড়ি কিংবা প্রাইভেট কার ও জীপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়। শহর থেকে জীপ গাড়ীতে ৬০০-৭০০ টাকা এবং চাঁদের গাড়ীতে ৪৫০-৫০০ টাকা লাগবে।
প্রান্তিক লেক
প্রান্তিক লেক-যেমন তার কাব্যিক নাম, ঠিক তেমনই কাব্যিক আর মোহনীয় রূপ নিয়ে সবুজ আর নীলের আঁচল বিছিয়ে শুয়ে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মন্ডিত কুমারী হ্রদটি। বান্দরবান থেকে কেরাণীহাট যাবার পথে হলুদিয়া নামক স্থানে এটি অবস্থিত। কেরাণীহাট থেকে ২০ মিনিট গাড়ি চালালে এ লেকে পৌছানো সম্ভব। জেলা সদর থেকে প্রান্তিক লেকের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার।
প্রায় ২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রান্তিক লেকের অবস্থান। এল,জি,ই,ডি এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই লেকটি একটি অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান। অপূর্ব সুন্দর এ লেকের চারিপাশ বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালিতে ভরপুর। লেকের পাশে পাহাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস। পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত থাকে সারাটি বেলা। লেকের নীল জল আর পাড়ের সবুজ বনানী এখানে তেরি করেছে একটি ভিন্ন মাত্রা। গাছের শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাস আপনার সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। চাইলে লেকের জলে মাছ শিকারে মেতে উঠতে পারেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এখানে মাছ শিকার করা সুযোগ রয়েছে।। সেটা হবে আপনার জন্য একটি বাড়তি পাওনা। অথবা পরিবার পরিজন নিয়ে আয়েশ করে ঘুরে বেড়াতে পারেন প্যাডেল বোট নিয়ে। সারাদিন নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। পর্যটকদের যাতায়তের জন্য কর্তৃপক্ষ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পাশেই রয়েছে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জ। চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন।
যেভাবে যেতে হবে:
বান্দরবান শহর থেকে প্রান্তিক লেকের দুরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার। বান্দরবান শহর থেকে চট্টগ্রাম বা কেরাণীহাট গামী বাসে হলুদিয়া নামক স্থানে নেমে টেক্সি বা রিক্সা করে ৩ কিলোমিটার যেতে হবে যা অনেকটা কষ্টসাধ্য। বান্দরবান শহর থেকে টেক্সি বা ল্যান্ড ত্রুজার রির্জাভ করে নিয়ে যাওয়াই ভাল।
কোথায় থাকবেন:
প্রান্তিক লেকে খাবার ও রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই। দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হবে। এখানে পর্যটকদের নিজেদের খাবার ও পানি নিয়ে যেতে হবে। রাত্রি যাপনের জন্য মেঘলা অথবা বান্দরবান শহরে ফিরে যেতে হবে।
তাজিংডং বিজয়
বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলার মধ্যে একটি বান্দরবান, বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিসম্পন্ন স্থান। বাংলাদেশের ভিতরে, বান্দরবানকে ঘিরে রয়েছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি। অন্যদিকে রয়েছে মায়ানমারের চিন প্রদেশ এবং আরাকান প্রদেশের সীমান্ত। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (১০০৩ মিটার) বান্দরবান জেলায় অবস্থিত, যা "বিজয়" বা "মদক মুয়াল" নামেও পরিচিত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ "কেওক্রাডং" (৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল "রাইখিয়াং" এই জেলায় অবস্থিত।
অবস্থানঃ রুমা উপজেলা
দূরত্বঃ বান্দরবান সদর হতে প্রায় ৭০ কিলোমিটার
যাতায়াতঃকেবলমাত্র শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি করে কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব। বান্দরবান সদর হতে অথবা রুমা উপজেলা সদর হতে চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।
রাত্রিযাপনঃ রুমাতে জেলা পরিষদসহ অন্যান্য রেস্ট হাউসে থাকার সুবিধা আছে।
কেওক্রাডং
কিভাবে যাওয়া যায়:
বগালেক থেকে শুষ্ক মৌসুমে চাঁন্দের গাড়িতে পাহাড় চূড়ায় পৌছা যায়। তবে এ জাতীয় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম বিধায় গমনের পূর্বেই গাড়ী ভাড়া করতে হবে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেওক্রাডং পাহাড় সফর করেছেন। তিনি এখানে একটি স্মৃতি ফলক উন্মোচন করেন।
কেওক্রাডং :
এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পবতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা প্রায় 4330 ফুট।
অবস্থান : রুমা উপজেলা।
দূরত্ব : রুমা উপজেলা সদর হতে 30 কি. মি.। (বগালেক থেকে 15 কি. মি দূরত্ব)
বিশেষ পরামশ : বগালেক থেকে শুষ্ক মৌসুমে চাঁন্দের গাড়িতে পাহাড় চূড়ায় পৌছা যায়। তবে এ জাতীয় গাড়ির সংখ্যা খুবই কম বিধায় গমনের পূর্বেই গাড়ী ভাড়া করতে হবে।
স্বর্ণমন্দির
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম এই "বৌদ্ধ ধাতু জাদী" কে স্বর্ণমন্দির নামকরণ করা হয়। এটি বৌদ্ধ ধর্মাম্বলীদের একটি উল্লেখযোগ্য উপাশনালয়। মায়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পল গুলোর আদলে তৈরি এই উপাশনালয়টি বান্দরবান শহর থেকে ৪ কি:মি: উত্তরে বালাঘাট নামক এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত।
নীলাচল
নীলাচল এমন একটি জায়গা যা দেখে প্রথমেই আপনার মনে হবে আকাশের নীল আচল ছড়িয়ে দিয়েছে সবুজের জমিনে। যেখানে হাত বাড়ালেই মেঘ ছুঁয়ে যায়। বান্দরবান শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হল নীলাচল। বান্দরবান জেলা পরিষদ ভ্রমণপিপাসু মানুষের স্বার্থে একটি রিসোর্ট তৈরি করেছে।
কিভাবে যাবেন
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া এলাকা। সেখানেই আপনি দেখতে পাবেন নীলাচল পর্যটক কমপ্লেক্স। শহর ছেড়ে চট্টগ্রামের পথে প্রায় তিন কিলোমিটার চলার পরেই হাতের বাঁ দিকে ছোট একটি সড়ক পাবেন যা এঁকেবেঁকে চলে গেছে নীলাচলে। এ পথে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাহাড় বেয়ে পৌঁছুতে হয়।
কক্সবাজার ভ্রমণের বিস্তারিত-
কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. বিস্তৃত। কক্সবাজা্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্র। বাংলাদেশের ভিতরে কোথাও ভ্রমনের চিন্তা করলে সবার প্রথমে অবশ্যই কক্সবাজারের নাম আসবে। শুধু মাত্র দেশীয় পর্যটকই না, দেশের বাইরে থেকেও প্রতিবছর প্রচুর বিদেশী পর্যটক এই সমুদ্র সৈকত দেখতে আসেন। বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ, সমুদ্রে চলা মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার, সকালবেলা পাহাড় ভেদ করে রক্তবর্ণের থালার মতো সূর্য, সন্ধ্যায় দিগন্তে সূর্যাস্তের মায়াবী আলো এসব সৌন্দর্যের পসরা নিয়েই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে রচনা করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।
কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণে-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং চট্টগ্রাম প্রশাসনিক বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। এটি ২০০ ৩০´´ থেকে ২১০ ৫৬´´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০ ২৩´´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ২৪৯১.৮৬ বর্গ কি.মি.। এর উত্তরে চট্টগ্রাম, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মায়ানমার, পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। কক্সবাজার জেলা চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্হিত এবং ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কিঃমিঃ। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক এবং বিমানপথে কক্সবাজার যাওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার অবধি রেললাইন স্থাপনের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। প্রকল্প সম্পন্ন হলে ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়া যাবে।
কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানঃ কক্সবাজার বিচের মেরিন ড্রাইভ ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে আপনি হবেন বিমোহিত। কক্সবাজার গেলে যেসব দর্শনীয় স্থান আপনাকে হাতছানি দিবে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে-
লাবনী পয়েন্ট ও কলাতলী বিচঃ কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট এবং কলাতলী বিচ পর্যটকদের কাছে প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী বিচ হেটে যেতে ১৫ মিনিট লাগবে। লাবণী পয়েন্টে পাবেন ঝিনুক মার্কেট এছাড়াও ছোট বড় অনেক দোকান যেখানে নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া কলাতলী বিচে আছে সমুদ্রের ধার ঘেষে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট যেখানে খেতে খেতে মনোরম সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন।
কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বাসে বা বিমানে করে যেতে পারেন। তাছাড়া ট্রেনে করে চিটাগাং গিয়ে সেখান থেকে বাসে করেও কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১১/১২ ঘন্টা, বিমানে প্রায় ৫৫/৬০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া পরবে ৮০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার নামী-দামী সব ধরনের বাস। উল্লেখযোগ্য হলো গ্রীন লাইন পরিবহন, সোহাগ পরিবহন , টিআর ট্রাভেলস , দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলী, হানিফ, সৌদিয়া, ঈগল, এস আলম, সিল্ক লাইন, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য বিমান সংস্থা হলো- বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। রাউন্ড ট্রিপ ইকোনমি ক্লাসে ভাড়া পরবে প্রায় ১০০০০-১২৫০০ টাকা।
কোথায় থাকবেনঃ কক্সবাজারে থাকার জন্য ৫ তাঁরকা সমমানের অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এছাড়াও ৪ তাঁরকা, ৩ তাঁরকা এবং আরো নিম্নমানের হোটেলও আছে। তবে বিচের আশেপাশের বেশীর ভাগ হোটেলই ভাল মানের হোটেল। বেশীর ভাগ হোটেল ও রিসোর্ট কলাতলী বিচ ও লাবনী পয়েন্টের আশেপাশে অবস্থিত। ইনানি বিচের আশেপাশে থাকার জন্যও বেশ কিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এছাড়াও এর বাইরে আছে ইকো রিসোর্ট। এসব হোটেল ও রিসোর্টে পিক টাইম ও অফ-পিক টাইম অনুযায়ী রুমের ভড়া ভিন্ন হয়। সাধারনত সেপ্টেম্বর-এপ্রিল পিক টাইম এবং মে-আগস্ট অফ-পিক টাইম হিসাবে ধরা হয়। অফ-পিক টাইমে রুম ভাড়া হোটেল ভেদে ২০-৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেয়া হয়। তবে বিশেষ উপলক্ষ যেমন ঈদ, পুজা ইত্যাদি সময় এই ডিসকাউন্ট কার্যকর থাকেনা। পিক টাইমে হোটেল ভেদে সর্বনিম্ন রুমের ভাড়া ২০০০-৮০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিচ থেকে দূরে শহরের মধ্যে বেশ কিছু কমদামী হোটেল পাওয়া যাবে তবে তার মান ভাল হবে না।
কক্সবাজারে থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হচ্ছে -হোটেল জামান সী হাইটস, হোটেল লাগুনা বীচ, হোটেল হোয়াইট বীচ, হোটেল কক্সস হিলটন, হোটেল ডি. ওসেনিয়া, হোটেল সী আলিফ, হোটেল মেরিন প্লাজা, হোটেল অস্টার ইকো, হোটেল পিংক শোর, হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইস, প্রিন্স হেভেন রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট, ডাইনামিক এস এইচ রিসোর্ট, হোটেল সমুদ্র বিলাস ইত্যাদি।
কোথায় খাবেনঃ সাধারনত প্রত্যেক হোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী হবে। বেশীর ভাগ হোটেলে সকালের নাস্তা কমপ্লিমেন্টারী থাকে (রুম ভাড়ার সাথে যুক্ত)। যদি দুপুরে ও রাতে বাইরে খেতে চান তবে কক্সবাজারে অনেক রেস্টুরেন্ট পাবেন। বেশীর ভাগ রেস্টুরেন্ট কলাতলী রোডে অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্টগুলো হচ্ছে – পৌশী রেস্টুরেন্ট, ঝাউবন রেস্টুরেন্ট, লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব এন্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, ডিভাইন সী স্টোন ক্যাফে, কয়লা, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা রেস্টুরেন্ট, কাশবন রেস্টুরেন্ট, পানকৌড়ী রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। এসব হোটেল ভাত, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাবেন। তবে খাবার অর্ডার দেয়ার আগে দাম জেনে নিবেন। কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশ কিছু রেস্তোরা আছে সেখানে বিকালের নাস্তা খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও সুর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন।
সতর্কতাঃ শুধুমাত্র একটু সতর্কতার অভাবে প্রতি বছর অনেক পর্যটক সমুদ্রের পানিতে গোসল করতে গিয়ে প্রানহানির শিকার হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী বিচ পর্যন্ত গুপ্ত খাল রয়েছে এবং বেশীর ভাগ পর্যটক ভাটার সময় নেমে এই গুপ্ত খালে পরে প্রান হারান। তাই ভাটার সময় সৈকতে গোসল করা পরিহার করুন। ভাটা ও জোয়ারের সময় অনুযায়ী সৈকতে লাল ও সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়। যখন সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হবে তখন গোসল করা নিরাপদ। গোসলের সময় বিচের বেশী গভীরে না যাওয়াই ভাল। প্রয়োজনে লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখতে পারেন। ইনানি বিচে প্রবালের উপর হাটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে নতুবা পা কেটে যেতে পারে। বিচের বালু বা পানিতে কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, সিগারেটের ফিল্টার ইত্যাদি ফেলা থেকে বিরত থাকুন। এর সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। যেহেতু সমুদ্র দেখতে যাচ্ছেন তাই যাবার পূর্বে আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য জেনে নিন।
সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড - বাংলার অজানা বিস্ময়
23/03/2017
23/03/2017
Messenger codes make it easy to start conversations with Pages. To get in touch our page simply scan this code using the Messenger app.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Nikunja-2, Khilkhet
Dhaka
1229