JNU Islamic Library - Female Zone
Islamic Library Association (ILA) কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত অরাজনৈতিক লাইব্রেরি প্লাটফর্ম ✨
"বইয়ের আলোয় ঈমানের পথে"
18/06/2026
সূরা ইখলাস – ৩ বার পড়লে পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব, কিন্তু কেন?
৪ আয়াত।
পড়তে ১০ সেকেন্ড।
কিন্তু নবীজি ﷺ বলেছেন – সূরা ইখলাস তিনবার পড়লে পুরো কুরআন একবার খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়।
মানে আপনি যদি প্রতিদিন ৩ বার সূরা ইখলাস পড়েন – আপনি প্রতিদিন একটি কুরআন খতম করছেন।
কিন্তু একটা কথা আছে –
আমরা এই সূরা পড়ি, প্রতিদিন কয়েকবারই পড়ি – নামাজে, ঘুমানোর আগে, মাঝে মাঝে এমনিই। কিন্তু এই সূরার ভেতরে কী লুকানো আছে যে আল্লাহ এত বড় সওয়াব রেখেছেন – সেটা আমরা ভাবিই না।
আজকের এই পোস্টে সূরা ইখলাসের ৪টি শিক্ষা – যেগুলো বুঝলে এই ১০ সেকেন্ডের আমলটা আপনার জীবনের সবচেয়ে দামী অভ্যাস হয়ে যেতে পারে।
সূরা ইখলাস সম্পর্কে সংক্ষেপে
সূরা ইখলাস মক্কী সূরা। আয়াত সংখ্যা ৪। নাম "ইখলাস" – যার অর্থ "বিশুদ্ধতা।" এটি কুরআনের তাওহীদের সবচেয়ে ঘনীভূত ঘোষণা।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত – এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে সূরা ইখলাস বারবার পড়তে শুনলেন। সকালে তিনি নবীজি ﷺ-এর কাছে এসে বিষয়টি বললেন, যেন এটাকে কম মনে করছিলেন। নবীজি ﷺ বললেন:
"যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ – এই সূরা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।"
(সহীহ বুখারী: ৫০১৩)
আরেকটি হাদিসে আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত – নবীজি ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের কেউ কি এক রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়তে পারবে না?" সাহাবারা বললেন – "এটা কীভাবে সম্ভব?" নবীজি ﷺ বললেন – "কুল হুয়াল্লাহু আহাদ – কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।"
(সহীহ মুসলিম: ৮১১)
তিনবার পড়লে – তিন এক-তৃতীয়াংশ – পূর্ণ কুরআন।
কিন্তু কেন এত সওয়াব? কী এমন আছে এই ছোট্ট সূরায়?
পুরো সূরাটি পড়ুন –
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।
'বলো, তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।'
(সূরা ইখলাস: ১-৪)
এবার একটি একটি করে দেখুন – এই ৪ আয়াতে আল্লাহ আমাদের কী শেখাচ্ছেন।
শিক্ষা ১: "কুল" – আল্লাহ আদেশ দিচ্ছেন ঘোষণা করতে
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ।
'বলো, তিনিই আল্লাহ, এক।'
খেয়াল করুন – আল্লাহ 'কুল' দিয়ে শুরু করেছিলেন। অর্থ – 'বলো।' এটা শুধু বিবৃতি না, এটা একটা আদেশ।
আল্লাহ চান এই কথাটা আপনি শুধু মনে রাখবেন না – মুখে উচ্চারণ করবেন। জিহ্বা দিয়ে বলবেন। আপনার সত্তা ঘোষণা করবে।
এবং 'আহাদ' শব্দটা – এটা 'ওয়াহিদ' থেকে আলাদা। ওয়াহিদ মানে 'এক' – যার পরে দুই, তিন আসতে পারে। কিন্তু 'আহাদ' মানে এমন এক – যার কোনো দ্বিতীয় নেই, কোনো অংশ নেই, কোনো সমকক্ষ নেই। চূড়ান্ত একত্ব।
আজকের জীবনে এটা ভেবে দেখুন।
আমাদের জীবনে কত কিছু 'আহাদ' হয়ে দাঁড়িয়েছে। টাকা – যেন টাকাই সব। চাকরি – যেন চাকরিটা চলে গেলে জীবন শেষ। সন্তান – যেন সন্তানের সাফল্যই আমাদের একমাত্র শান্তি।
সূরা ইখলাস বলছে – শুধু আল্লাহই আহাদ। বাকি সব মাধ্যম। বাকি সব আসবে এবং যাবে। কিন্তু তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন।
দিনে যখন আপনি এই সূরা পড়েন – আপনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন নিজেকে: আমার জীবনে শুধু একজনই আহাদ। বাকি সবকিছু তাঁর কাছে কিছুই না।
নিজেকে প্রশ্ন করুন: আজ আপনি কোন জিনিসকে অজান্তেই 'আহাদ'-এর জায়গায় বসিয়েছেন?
শিক্ষা ২: "আস-সামাদ" – যাঁর কাছে সবাই যায়, যিনি কারো কাছে যান না
اللَّهُ الصَّمَدُ
উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ।
'আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।'
'সামাদ' শব্দটির অর্থ একটানা ব্যাখ্যা করা কঠিন। আরবিতে এটা এমন একজনকে বোঝায় – যাঁর কাছে সবাই প্রয়োজনে আসে, কিন্তু যাঁর কারো কাছে কোনো প্রয়োজন নেই।
ইবনে আব্বাস (রা.) "সামাদ"-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন – "এমন প্রভু, যাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্বে কোনো ঘাটতি নেই।"
(তাফসীর তাবারী, সূরা ইখলাস)
ভাবুন একবার।
দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী মানুষেরও কারো কাছে যেতে হয় – ডাক্তারের কাছে যখন অসুস্থ হন, প্লাম্বারের কাছে যখন পানির পাইপ ফাটে, বন্ধুর কাছে যখন মন খারাপ হয়। সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজারও খাবার লাগে, ঘুম লাগে, বাতাস লাগে।
কিন্তু আল্লাহ – তাঁর কারো কাছে কিছু লাগে না। তিনিই সবার অভাব মেটান। তিনি কারো অভাবী নন।
আজকের জীবনে এটা কেমন কাজ করে?
আপনি যখন রিজিকের কষ্টে দিশেহারা – তখন কার কাছে যাবেন? বসের কাছে বেতন বাড়ানোর জন্য কাকুতি? আত্মীয়ের কাছে ধার? ব্যাংকে লোন?
এরা সবাই 'সামাদ' না। এদের নিজেদেরই সীমাবদ্ধতা আছে। বস হয়তো না করবে, আত্মীয় হয়তো এড়িয়ে যাবে, ব্যাংক হয়তো reject করবে।
কিন্তু আল্লাহ "আস-সামাদ।" তাঁর ভাণ্ডারে ঘাটতি নেই। তিনি কোনোদিন বলেন না – "আমার সম্পদ ফুরিয়ে গেছে।" কোনোদিন বলেন না – "আজ ব্যস্ত আছি, পরে আসো।"
দিনে তিনবার যখন আপনি বলেন "আল্লাহুস সামাদ" – আপনি নিজের অন্তরে ঠেলে দিচ্ছেন এই সত্যটা: আমার একজন অসীম শক্তিশালী প্রভু আছেন, যাঁর কাছে আমি যেকোনো সময় যেতে পারি।
নিজেকে প্রশ্ন করুন: শেষ কবে আপনি কোনো মানুষের কাছে যাওয়ার আগে আল্লাহর কাছে গেছেন?
শিক্ষা ৩: "লাম ইয়ালিদ" – তাঁর কোনো সন্তান নেই, কারণ তিনি অভাবী নন
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ।
'তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।'
এই আয়াতটা সরাসরি ভুল আকীদা ভাঙার জন্য নাযিল হয়েছে।
মানুষ কেন সন্তান চায়? নিজের বংশ continuation-এর জন্য, বৃদ্ধ বয়সে সাহায্যের জন্য, নিজের সম্পদের উত্তরাধিকারীর জন্য, মৃত্যুর পর কেউ যেন মনে রাখে – এই সব মানুষী প্রয়োজন থেকে।
কিন্তু আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বৃদ্ধ হন না, তাঁর মৃত্যু নেই, তাঁর সম্পদ ফুরায় না, তাঁকে কেউ মনে রাখুক বা না রাখুক – তাঁর কিছু আসে যায় না।
তাহলে তাঁর সন্তান থাকার কোনো প্রয়োজনই নেই।
এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। তিনি চিরন্তন। অনাদি। তাঁর শুরু নেই।
আজকের জীবনে এটা কীভাবে আঘাত করে?
আমরা প্রায়ই আল্লাহকে মানুষের মতো ভেবে ফেলি। মনে হয় – তিনিও হয়তো আমাদের মতো ক্লান্ত হন, ভুলে যান, দয়া কম পড়ে যায়।
কষ্টের সময় ভাবি – "আল্লাহ কি আমাকে ভুলে গেছেন?"
দুঃখের সময় ভাবি – "আল্লাহ কি ক্লান্ত হয়ে গেছেন আমার দোয়া শুনতে?"
পাপের পর ভাবি – "আল্লাহ আর কতবার আমাকে মাফ করবেন?"
সূরা ইখলাস বলছে – থামুন। আল্লাহ মানুষের মতো নন। তাঁর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তিনি ক্লান্ত হন না, ভোলেন না, তাঁর রহমত কমে না।
দিনে তিনবার এই আয়াতটা পড়ার অর্থ – আপনি প্রতিদিন তিনবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন নিজেকে: আমি যে আল্লাহকে চিনি, তিনি মানুষের সীমা থেকে মুক্ত। আমার দোয়া তাঁর কাছে পুরোনো হয় না।
নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনি কি কখনো নিজের অজান্তেই আল্লাহকে মানুষের মতো ভেবে ফেলেছেন?
শিক্ষা ৪: "কুফুয়ান আহাদ" – তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।
'আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।'
'কুফু' শব্দটি বিয়ের প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয় – সমকক্ষতা, সমান মর্যাদা। যেমন কেউ বলে – "এই ছেলেটি আমার মেয়ের কুফু না" – মানে সমান না।
আল্লাহ বলছেন – সৃষ্টির কেউই তাঁর কুফু না। কেউ তাঁর সাথে তুলনানির্ভর না।
এই আয়াতটা পৌত্তলিকদের ভুল ভাঙার জন্য নাযিল হয়েছিল – যারা পাথরের মূর্তিকে আল্লাহর শরিক ভাবত, বা ফেরেশতাদের আল্লাহর সন্তান ভাবত।
কিন্তু আজকের যুগে আমরা মূর্তি পূজা করি না। তাহলে এই আয়াত আমাদের জন্য কী বার্তা বহন করে?
আজকের জীবনে – শিরক এসেছে নতুন রূপে।
আমরা কাউকে এমনভাবে ভালোবাসি, যেন সে-ই আমাদের সব। সম্পর্কে এত নির্ভরশীল হয়ে যাই – সে চলে গেলে মনে হয় বাঁচব না।
আমরা চাকরিতে এত আশা রাখি – যেন বস-ই আমাদের রিজিকদাতা।
আমরা টাকার এত পেছনে দৌড়াই – যেন টাকাই নিরাপত্তা।
এগুলো মূর্তি নয়, কিন্তু আমাদের মনে এদের মর্যাদা আল্লাহর কাছাকাছি হয়ে যায়। এটাই সূক্ষ্ম শিরক – যা আমাদের অজান্তেই আমাদের ভেতর জন্ম নেয়।
সূরা ইখলাস বলছে – কেউ তাঁর কুফু না। কোনো মানুষ না, কোনো সম্পর্ক না, কোনো সম্পদ না, কোনো পদ না।
দিনে তিনবার এই ঘোষণা পুনরাবৃত্তি করার মানে – আপনি নিজের অন্তর থেকে ছোট ছোট মূর্তি ভেঙে ফেলছেন। প্রতিদিন।
নিজেকে প্রশ্ন করুন: আজ আপনি কাকে বা কী জিনিসকে অজান্তেই আল্লাহর কাছাকাছি মর্যাদা দিয়ে ফেলেছেন?
৪টি শিক্ষা – এক নজরে
শিক্ষা ১ – শুধু আল্লাহই 'আহাদ।' বাকি সব মাধ্যম, চূড়ান্ত নয়।
শিক্ষা ২ – তিনি 'আস-সামাদ।' সবাই তাঁর কাছে যায়, তিনি কারো কাছে যান না।
শিক্ষা ৩ – তিনি মানুষী সীমার বাইরে। তিনি ক্লান্ত হন না, ভুলেন না।
শিক্ষা ৪ – তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। অন্তরের ভেতরের ছোট ছোট মূর্তি ভাঙুন।
আমল পদ্ধতি –
আজ থেকে প্রতিদিন এই রুটিনটা শুরু করুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে – ৩ বার সূরা ইখলাস।
সন্ধ্যায় মাগরিবের পরে – ৩ বার সূরা ইখলাস।
রাতে ঘুমানোর আগে – ৩ বার সূরা ইখলাস, ৩ বার সূরা ফালাক, ৩ বার সূরা নাস। তারপর হাতে ফুঁ দিয়ে শরীর মুছে নিন। (সহীহ বুখারী: ৫০১৭)
৩০ সেকেন্ডের কম লাগে পুরোটাতে। কিন্তু আপনি প্রতিদিন একটি কুরআন খতম করছেন। আপনি প্রতিদিন তিনবার তাওহীদ ঘোষণা করছেন। আপনি প্রতিদিন নিজের অন্তরের মূর্তি ভাঙছেন।
c
وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِٱللَّهِ وَءَايَٰتِهِۦ وَرَسُولِهِۦ كُنتُمْ تَسْتَهْزِءُونَ
আর যদি তুমি তাদেরকে প্রশ্ন কর, অবশ্যই তারা বলবে, ‘আমরা আলাপচারিতা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বল, ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলের সাথে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে’?
At-Tawba: Ayah No. 65
لَا تَعْتَذِرُوا۟ قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَٰنِكُمْ إِن نَّعْفُ عَن طَآئِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَآئِفَةًۢ بِأَنَّهُمْ كَانُوا۟ مُجْرِمِينَ
তোমরা ওযর পেশ করো না। তোমরা তোমাদের ঈমানের পর অবশ্যই কুফরী করেছ। যদি আমি তোমাদের থেকে একটি দলকে ক্ষমা করে দেই, তবে অপর দলকে আযাব দেব। কারণ, তারা হচ্ছে অপরাধী।
At-Tawba: Ayah No. 66
“অতএব তাদেরকে ছেড়ে দাও; তারা বেহুদা কথায়
মগ্ন থাকুক এবং খেল-তামাশায় মত্ত থাকুক, যতক্ষণ না তারা সেই দিনের সম্মুখীন হয়, যার প্রতিশ্রুতি তাদেরকে দেওয়া হয়েছে।” সূরা আয-যুখরুফ, ৪৩:৮৩
c
09/06/2026
আলহামদুলিল্লাহ্ 🌷
Islamic Library Association
Book distribution /Magazine /Other activity
May 2026
JNU Islamic Library - Female Zone : 17/0/book distribution
পাবিপ্রবি ইসলামিক লাইব্রেরী ফিমেল জোন : 14/2
নওগাঁ সরকারি কলেজ ইসলামিক লাইব্রেরি-ফিমেল জোন : 11/0/0
IIUC Book Readers Club -Female Zone : 7/0/জিলহজ্জ প্ল্যানার বিলি
⚡ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তির মর্যাদা ও ছাঁয়া
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে কিয়ামতের সেই কঠিন দিনে তাঁর নিজের বিশেষ ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নির্জনে একা বসে আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং তাঁর চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে। তিনি অত্যন্ত বিনম্র চিত্তে এবং পূর্ণ একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন দেন। এই মহান মর্যাদা তাদের জন্যই, যারা লোক দেখানো ইবাদত থেকে মুক্ত থেকে কেবল আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকেন। কিয়ামতের ময়দানে যখন সূর্যের তাপ মাথার খুব কাছে চলে আসবে এবং মানুষেরা তাদের কৃতকর্মের হিসাবের জন্য উৎকণ্ঠায় অস্থির হয়ে পড়বে, তখন এই সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া লাভ করবেন। আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী সেই ব্যক্তি, যিনি অন্তরের গভীর থেকে আল্লাহকে ভয় করেন এবং গুনাহের কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হন, তিনি আল্লাহর রহমতের অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়ে যান। এই অশ্রু আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়, যা তাঁর বান্দার অন্তরের খাঁটি বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন করে। মুমিনের অন্তর যখন আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হয় এবং তার চোখ দিয়ে পানি ঝরে, তখন আল্লাহ তাআলা সেই বান্দার ওপর তাঁর রহমতের চাদর বিছিয়ে দেন এবং তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করেন।
Reference: সহীহ বুখারী ৬৬০, সহীহ মুসলিম ১০৩১।
Key Points:
✧ নির্জনে আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা একজন মুমিনের ঈমানের গভীরতার পরিচয় এবং এটি তাকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিশেষ ছায়ায় স্থান করে দেয়। ✧ লোক দেখানো ইবাদতের চেয়ে একাকী আল্লাহর কাছে বিনীত হওয়া এবং গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়। ✧ কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তা লাভের জন্য অন্তরের ভীতি এবং আল্লাহর প্রতি ধ্যানে নিমগ্ন থাকা অত্যন্ত কার্যকর আমল।
03/06/2026
মে মাসের বই বিলি আপডেট।
আরাফাহর দিনের আমল এবং আগের রাতের প্রস্তুতি:
1. আরাফাহর আগের রাত মাগরিবের পর থেকে বেশি বেশি তাকবির, ইস্তিগফার ও দরুদ পাঠ করুন। জামাতের সাথে ইশার নামাজ আদায় করুন। রাতে সূরা বাকারাহর শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
2. আগের রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ুন। ভোর রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, দু’আ করুন, এরপর সাহরি করুন। সারাদিনে কী কী আমল করবেন, সেগুলোর একটি ছোট তালিকা করে নিন। এরপর জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করুন।
3. আরাফাহর রোজা পালন করুন।
4. রাসূলুল্লাহ ﷺ যা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, আরাফাহর দিনের শ্রেষ্ঠ দু’আ ও যিকির:
لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْر
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
সারাদিন এই যিকিরটি বেশি বেশি পড়ুন। সম্ভব হলে কমপক্ষে ১০০ বার পড়ুন।
5. ৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক পড়ুন:
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। আর সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
6. সারাদিন বেশি বেশি সাধারণ তাকবির পাঠ করুন:
اللهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার
অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
7. যতটুকু সম্ভব মসজিদে অবস্থান করুন। ইতিকাফের নিয়্যাতে বসতে পারলে আরও ভালো।
8. সারাদিন বেশি বেশি দু’আ করুন। দু’আর শুরুতে ও শেষে আল্লাহর প্রশংসা এবং নবীজি ﷺ এর উপর দরুদ পড়ুন। নিজের জন্য, পরিবার, মা-বাবা, উম্মাহ, মৃত মুসলিম, অসুস্থ, ঋণগ্রস্ত, মজলুম এবং পথহারা মানুষদের জন্যও দু’আ করুন।
9. ন্যূনতম একটি হাদিস পড়ুন।
10. আরাফাহর দিনেও সূরা বাকারাহর শেষ দুই আয়াত পড়ুন।
11. সময় ও সুযোগ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করুন। ইচ্ছা হলে সূরা কাহফ, ইয়াসিন, মুলক, আর-রহমান ইত্যাদিও পড়তে পারেন।
12. অন্তত ১ টাকা হলেও সাদাকাহ করুন।
13. সারাদিন বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পাঠ করুন।
ইস্তিগফার:
أَسْتَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
দরুদ:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলা আলে মুহাম্মাদ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
চাইলে দরুদে ইবরাহিমও পড়তে পারেন।
14. কমপক্ষে তিন বার সূরা ইখলাস পড়ুন, আয়াতুল কুরসী পড়ুন, এবং যতটুকু পারেন আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করুন।
যারা পারেন, এগুলো মুখস্থ করে নিন। না পারলে দেখে দেখে পড়ুন।
নিজে আমল করুন এবং দাওয়াহর নিয়্যাতে অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিন।
“ এতদিন যে আমল উত্তম ছিলো, জিলহজ্জে এসে সে আমল উত্তমতর হয়ে গেছেঃ-
জুমা ছিল সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। জিলহজ্জের বরকতে জুমা হয়ে পড়েছে শ্রেষ্ঠতম দিনে।
এই দশকে আমার প্রতিটি আমলই শ্রেষ্ঠতম বলে বিবেচিত হবে। ”
- শাইখ আতিক উল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ
“ জিলহজ্জের দশকে জুমার দিন, অন্য সময়ের জুমার চাইতে উত্তম;
কারণ এতে দুই ফজিলত একত্র হয়। ”*
— ইমাম ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহ
[ ফাতহুল বারীঃ ২/৪৬০ ]
*দুই ফজিলত বলতে বুঝানো হয়েছে — জুমার দিনের ফজিলত এবং জিলহজ্জ প্রথম দশকের ফজিলত।
হে আমাদের রব! যখন তুমি আমাদের সোজা পথে চালিয়েছো তখন আর আমাদের অন্তরকে বক্রতায় আচ্ছন্ন করে দিয়ো না। তোমার দান ভাণ্ডার থেকে আমাদের জন্য রহমত দান করো কেননা তুমিই আসল দাতা।
— সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ০৮
#সীরাহ
18/05/2026
আগামীকাল আমরা থাকছি কেন্দ্রীয় কমনরুমে, সকল বোনেরা আমন্ত্রিত।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka