Captured By Rinad
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Captured By Rinad, Cinematographer, Dhaka.
10/10/2025
হায়রে জীবন 😐
10/10/2025
এই দুঃখ সই কেমনে...!
যেটা আজকে পারিনি, সেটা আরেকদিন পারবো ইনশাআল্লাহ !
09/10/2025
অক্টোবর ৭
Part 11
ইচ্ছা
“বলেছিলি ভাই কে?”, পারিসা একটা থ্রিপিস দেখতে দেখতে শ্রাবণীকে জিজ্ঞেস করে।
“না। স্যারের মন মেজাজ ভালো না। সুযোগ হয় নাই।”, শ্রাবণী একটা টপস বাস্কেটে রেখে বলল।
পারিসা আর শ্রাবণী শপিং করছে একটা শপিংমলে। পারিসার বার্থডে পার্টির জন্য। ভার্সিটির ক্লাস ফাঁকি মেরে এসব তারা প্রায়ই করে।
“কেন, কী হয়েছে?"পারিসা জিজ্ঞেস করলো।
"কী জানি!”, শ্রাবণী কথাটা উড়িয়ে দেয়। জানে সে কারণ কী। তাও পারিসাকে ব্যাপারটা জানানো ঠিক মনে হয় নাই তার কাছে।
মোটামুটি কেনাকাটা শেষ করার পর যখন শপিংমল থেকে শ্রাবণী আর পারিসা বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে তখন শ্রাবণী হঠাৎ কী যেন খেয়াল করলো। পিছে ঘুরে তাকায় শ্রাবণী। দুইজন হেঁটে যাচ্ছে একটু দূরে। শপিং এ ঢুকলো কেবল। দুইজনের একজনকে শ্রাবণীর একটু চেনা চেনা লাগছে। সে ঠিক চিনছে তো? একটু বেয়াদবী হলেও সে আস্তে করে তার ফোন বের করে সেই দুইজনের ছবি তুলে।
“কিরে যাবি না? গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে তো।”, পারিসা দূর থেকে শ্রাবণীকে ডাক দেয়।
শ্রাবণী শেষবারের মতো দুইজনকে দেখে পারিসার দিকে চলে যায়।
***
রিমার মেসেজ আসে রাব্বীর ফোনে-
“আজকে দেখা করার কথা।”
রাব্বী তার ফোনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। রিমার সাথে সে আস্তে আস্তে বেশ ভালোই ক্লোজ হচ্ছে। কিন্তু রাব্বী আসলেই বুঝতে পারছে না তার এটা করা ঠিক হচ্ছে কিনা। সে এতোদিন কোনো সম্পর্কে জড়ায়নাই একটা ভয়েই। কিন্তু সেই ভয়ই বা কতখানি যুক্তি সঙ্গত?
রাব্বী উত্তর দেয়-
“একটু মন মেজাজ খারাপ। কালকে করি? ওইদিনই না হয় ফাইনাল কাজ সারলাম।”
“পার্সোনাল কোনো সমস্যা? চাইলে শেয়ার করতে পারো।”
আচ্ছা যাদের কাছের মানুষ অনেক, তারা সবাই কী এরকম মানুষ পায়? সেইসব মানুষ যারা পাত্তা দেয় অপরজন কোনো কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে কিনা। রাব্বীর এরকম মানুষ অনেক কম। দাদী আছে। চাচা আছে-
চাচার কথা মনে পড়ে রাব্বীর মন মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যায়। রাব্বী তার অফিসরুমের দিকে তাকায়। আশপাশে যা যা দেখতে পারছে রাব্বী, সবই সে পেয়েছে নিজের যোগ্যতায়। কিন্তু সেই যোগ্যতা দেখানোর সুযোগটা সে পেয়ছে কিন্তু চাচার জন্যই। সেই চাচা তার আব্বুকে মারবে, এটা রাব্বীর মানতে কষ্ট হলেও এছাড়া এই সব কিছুর উত্তর কী? আচ্ছা সে কী বাড়াবাড়ি ভাবছে? অথবা সে কী ভুল দিকে এগুচ্ছে?
“???”, রিমা উত্তর না পেয়ে আরেকটা মেসেজ দিয়েছে।
রাব্বী কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দেয়, “আচ্ছা আজকে সন্ধ্যায়?"
“ওকে! ফাইল আনবো না। আজকে কোনো কাজের কথা হবে না।”
রাব্বী মেসেজ দেখে ফোনটা রেখে দিতে যাচ্ছিলো তখন রিমা আরেকটা মেসেজ পাঠায়-
“যদিও আগের দিনও কোনো কাজের কথা বলি নাই।”
রাব্বী নিজের অজান্তেই হেসে দেয়। কাছের মানুষরা মনে হয় যেকোনো অবস্থাতেই অপরজনের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
এদিকে শপিং সেরে অফিসে এসে রাব্বীর রুমের বাইরেই শ্রাবণী আর পারিসা দাঁড়িয়ে ছিলো। তারা এসেই দেখেছে রাব্বীকে মিটিমিটি হাসতে।
“কিরে তুই না বললি ভাইয়ের মন খারাপ?”, পারিসা বলল।
“ছেলেদের সম্পর্কে আমার আইডিয়া অনেক কম।”, শ্রাবণী একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল।
পারিসা শ্রাবণীকে রাব্বীর রুমের দিকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলে, “যা যা বল। এখনই সময়।"
শ্রাবণী নিজেকে পারিসার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রাব্বীর রুমের দরজায় নক দেয়। রাব্বী দরজার দিকে তাকিয়ে ফোনটা তার পকেটে ঢুকিয়ে বলে, “কাম ইন।”
শ্রাবণী প্রথমে মাথা ঢুকিয়ে বলে, “হাই।”
রাব্বী শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় জিজ্ঞেস করে কী অবস্থা।
“আমার কথা বাদ দাও। তোমার কী অবস্থা?”, শ্রাবণী আড়চোখে অফিসরুমের বাইরের দিকে তাকায়। পারিসা এখনো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। উত্তেজিত ফলাফল কী হয় সেটা নিয়ে।
“চলছে।”, রাব্বী উত্তর দেয়।
শ্রাবণী তার সামনের চেয়ারে বসে বলে, “মন মেজাজ ভালো?”
রাব্বী মাথা ঝাঁকায়।
“গুড। ইয়ে-”, শ্রাবণী জানেনা কিভাবে কথাটা তুলবে।
রাব্বী বলে, “বলে ফেলো।"
“পারিসার বার্থডে কালকে।”
রাব্বী রুমের বাইরে তাকায়। পারিসা এখনো রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। রাব্বীর কাছে ধরা খেয়ে পারিসা একটু বিব্রত হয়ে এদিক ওদিক তাকালেও পরে ঠিকই আর না পেরে রাব্বীর দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দেয়। রাব্বী পারিসার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে দুই বুড়ো আঙ্গুল তুলে শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে বলে হ্যাপি বার্থ ডে। পারিসা লজ্জায় মাথা ঝাঁকিয়ে ধন্যবাদ দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
“তো”, শ্রাবণী তার কথা শেষ করতে যায়, “আজকে রাতে পারিসা পার্টি দিয়েছে। সে চায় তুমিও আসো। আমাদের অফিসের আরো কয়েকজন আসবে।”, শ্রাবণী একটু হেসে দিলো, “মেয়েগুলা খুশি হয়ে যাবে তুমি আসলে-”
“পারবো না।”, রাব্বী বলে উঠে শ্রাবণীর কথা শেষ হওয়ার আগেই।
“কেন?”
“ব্যস্ত আছি।”, রাব্বী তার কম্পিউটারে মনোযোগ দেয়।
“কিসে?”, শ্রাবণী জিজ্ঞেস করে। রাব্বী কী কোনো কারণে শ্রাবণীর উপর ক্ষেপে আছে?
“নান অফ ইয়োর বিজনেস ম্যাম।”, রাব্বী বলে বসে।
শ্রাবণী চুপ মেরে যায়। রাব্বী এই প্রথম মনে হয় এমন ভাবে কিছু বলল। শ্রাবণীর কী কিছু বলা উচিৎ? কালকের জন্য ক্ষমা চাবে সে? কিন্তু সে তো কিছুই করে নাই।
“কিরে তোরা এখানে কী করিস?”, পিছন থেকে রাব্বীর চাচার গলা শুনলো শ্রাবণী। শ্রাবণী সাথে সাথে উঠে দাঁড়ায়।
“এই না না, বসো।”, চাচা নিজেও বিব্রত হয়ে যায়, “আমি শুধু এটা জানতে এসেছিলাম যে রিমাদের কোম্পানির সাথে ডিল কী লক হয়েছে নাকী?”
শ্রাবণী রাব্বীর দিকে তাকায়। দেখতে পায় রাব্বী কোনরকম নিজেকে চেপে রেখেছে। অন্য কেউ হলে হয়তো টের পাবে না। কিন্তু এই কয়দিনে রাব্বীকে ভালোভাবেই চিনেছে শ্রাবণী।
“না।”, রাব্বী বলে, “তবে সাপ্লাই চাইলে দেওয়া শুরু করে দিতে পারো। খালি কাগজে সাইন করা বাকি।”
“আচ্ছা গুড। আমি তাহলে কালকে থেকেই ডেলিভারি দিতে বলছি আব্বাসকে।”, বলে চাচা ঘুরে চলে যেতে থাকে।
“চাচা।”, রাব্বী ডাক দেয়।
শ্রাবণী একবার ভয়ে রাব্বীর দিকে তাকায়। আরেকবার তার বসের দিকে।
“হু?”, চাচা ঘুরে তাকায়।
“একটা ফাইল পেলাম।”, রাব্বী বলে।
শ্রাবণীর বুক ধড়ফড় করা শুরু করে। তার সামনেই কেন সব হওয়া লাগবে?
“কিসের?”, চাচার মুখে এখনো হাসি।
“ঐ বহু বছর আগের ডেলিভারির। যেটা মিসিং চলে গেলো, আমরা লস খেলাম।”
“আরে এতো বছর পর ঐ ট্রাকের খোঁজ নিলি হঠাৎ?”, চাচার হাসি আস্তে আস্তে কমে আসছে।
“ঐ ট্রাক আমাদের বাসার রুটে কী করছিলো?”, রাব্বী এখন বরাবর তাকিয়ে আছে চাচার দিকে। পলক পরছেনা।
"কী জানি।”, চাচা রুম থেকে আবার বের হতে হতে বললেন, “বহু বছর আগের কাহিনী রে। বয়স বেড়েছে। ভুলে গেছি। তুই নিজেই বের করে দেখ। হালকা ঘাটালেই পাবি।”
রাব্বী আর শ্রাবণী তাকিয়ে থাকলো চাচার চলে যাওয়ার রাস্তার দিকে। এরপর শ্রাবণী আবার রাব্বীর দিকে তাকায়। বুঝে এখন আর কোনো পরিবেশ নাই কথা বলার। শ্রাবণী বেরিয়ে যায়।
***
"এবার বলো কী হয়েছে?”, রিমা রাব্বীকে জিজ্ঞেস করলো। অনেকক্ষণ গল্প করার পর অবশেষে রিমা জানতে চাইলো রাব্বীর মুখ গোমড়া কেন। সত্যি বলতে রাব্বী ভাবেনি রিমার পুরো ব্যাপারটা মনে থাকবে।
আচ্ছা, রাব্বী কী একবার চেষ্টা করে দেখবে নিজের মনের কথা গুলো কাউকে শোনাতে? আদৌ কী লাভ হয়? এই যে মানুষ বলে হালকা লাগে; কতোখানি সত্য কথাটা? এসবি রাব্বী ভাবছিলো রেস্টুরেন্টে বসে। জায়গাটা বেশ নিরিবিলি আর অনেক দামী। রিমার কথায় এসেছে এইখানে।
“রাব্বী?”, রাব্বীকে চিন্তায় হারিয়ে যেতে দেখে রিমা তাকে বাস্তবে ফেরত আনে।
“ইয়ে-”, রাব্বী আসল জগতে ফেরত আসে, “আসলে কোম্পানিতে কিছু ঝামেলা হচ্ছে।”
“আমি ভাবলাম তোমার পার্সোনাল সমস্যা।”
“আমার কোম্পানি আমার ফ্যামিলি মেম্বারদেরই। তাই বলতেই পারো এটা পার্সোনাল।”
“কাজে ফোকাস করতে পারছো না?”, রিমা ঝুঁকে আসে।
রাব্বীর মনে শ্রাবণীর চেহারা ভেসে উঠে, “কাজের জায়গাটাই এখন যেন কেমন হয়ে গিয়েছে আমার জন্য। কাজে ফোকাস তো দিতেই পারছি না। উল্টা যাদের কোনো দোষ নাই তাদের উপর রাগ করে যা তা বলছি। যেন তারা আমার কোনো ক্ষতি করেছে।”
রিমা কিছুক্ষণ রাব্বীর দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপর হঠাৎ সে তার সিট ছেড়ে রাব্বীর পাশে এসে বসে। রাব্বী নিজেই ভড়কে যায়। একটু নড়েচড়ে বসে। রিমা রাব্বীর পাশে বসে সরাসরি রাব্বীর দিকে তাকায়।
“সব ঠিক হয়ে যাবে রাব্বী।”, রিমা আস্তে করে রাব্বীকে বলে।
রাব্বী কী যেন একটা চেপে আছে নিজের মধ্যে। রাব্বী নিজেই জানে না সেটা কি। কিন্তু এতোটুকু জানে যে এটা চেপে রাখতে তার অনেক কষ্ট হচ্ছে।
রিমা আলতো করে টেবিলের উপর রাখা রাব্বীর হাত ছুয়ে ধরল।
ব্যস! রাব্বীর ভেতরটা যেন ফেটে গেলো। তো এমন অনুভূতি হয় মানুষের যখন হালকা অনুভব করে। এরকম ভালো লাগে যখন পাশে কোনো পছন্দের মানুষ বসে। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। রাব্বী কেন এতোদিন এই অনুভূতিটাকে দূরে ঠেলে রেখেছিলো? যেই ভয়ে সে এইসব কিছু দূরে রেখেছিলো সেটাতে তার কি কোনো লাভ হয়েছে?
রাব্বীর চোখের কোনায় হালকা পানি ঝিলিক দিলো। ভাগ্যিস সেটা রিমার উলটো দিকের চোখ।
***
“তো-”, রেস্টুরেন্টের বাইরে রিমা বলল রাব্বীকে।
“তো?”, রাব্বী জিজ্ঞেস করে।
“কাজের কাজ কিছু তো হলো না”, রিমা একটু হেসে দিয়ে বলল, “সাইনিংটা কী তোমার অফিসেই করবো নাকি বাইরে?”
রাব্বী একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, “বাইরেও খারাপ লাগে না।”
রিমা লজ্জা পেয়ে নিচে তাকালো। রাব্বী দেখলো রিমা কেমন যেন নাড়াচাড়া করছে। এগুলো সে আগে কখনো কাউকে তার সামনে করতে দেখেনি।
“কিছু বলবে?”, রাব্বী জিজ্ঞেস করে।
“না না।”, রিমা সাথে সাথে সোজা হয়ে বলল।
“ওকে, তো আমি গেলাম।”, রাব্বী বলল।
“হ্যাঁ। ঠিক আছে। আমি আবার হেঁটে যাবো। গাড়ি আনি নাই।”
“ড্রপ করে দিবো?”
“সমস্যা হবে না?”
“অন্য প্ল্যান ছিলো। কিন্তু সেটা সমস্যা না।”
“না থাক তাহলে।”, রিমা একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বলে, “আমার বাসা কাছেই।”
“রাত হয়ে গিয়েছে।”
“না বাবা বললাম তো সমস্যা নাই।”, রিমা আবার নিচে তাকালো।
“আচ্ছা আমি গেলাম তাহলে।”
“হু।”, রিমা যাওয়ার কোনো নাম গন্ধ দেখালো না।
রাব্বী এতক্ষণে বুঝতে পারলো রিমা চাচ্ছে না রাব্বী চলে যাক।
কিন্তু রাব্বী প্ল্যান করেছিলো পারিসার জন্মদিনের পার্টিতে যাবে। শ্রাবণীর সাথে সে এমনিতেই নিজের অজান্তে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছিলো। সরি বলা দরকার। আর ওখানে গেলে পারিসাও খুশি হবে। অফিস রুমের বাইরে পারিসাকে দেখে মনে হয়েছিলো তার আসা নিয়ে সে অনেক উত্তেজিত।
রাব্বী এখন কী করবে?
***
“আমার খুবই ইচ্ছা করছে তোমাকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে কিন্তু আসলে আমার আরেক জায়গায় মিটিং আছে তো-”, রাব্বী বলতে থাকলো।
“না না, সমস্যা নেই।”, রিমা রাব্বীকে আটকে বলল, “আমি আমার মতো যেতে পারবো।”
রিমা এরপরও দাঁড়িয়ে রইলো। রাব্বী রিমার দিকে একটু প্রশ্নসূচকভাবে তাকাতেই রিমা নড়েচড়ে উঠে।
“ওহ, সরি।”, বলে রিমা হাঁটা ধরে তার বাসার উদ্দেশ্যে।
রাব্বী কিছুক্ষণ রিমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। এরপর রাব্বী তার গাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা দেয়। গাড়ি তে উঠে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার পর রাব্বী যখন আস্তে আস্তে ঐ এলাকা থেকে বের হতে যায়, তখন রাব্বী ব্যাক মিররে দেখতে পারে পিছনেও কোনো একটা গাড়ির বাতি জ্বলে উঠেছে। রাব্বী সেটা পাত্তা না দিয়ে শ্রাবণীকে কল দেয়।
কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর শ্রাবণী ফোন ধরে, “হ্যালো?”
“পারিসার এড্রেসটা দাও। আমি আসছি।”, রাব্বী ফোনটা লাউড স্পীকার করে শ্রাবণীকে বলে।
“হাউ এবাউট পরের বছর আসো।”, শ্রাবণী টিটকারী মেরে বলে, “আর পরের বছর একটু আগে আগে এসো।"
“পার্টি শেষ?”, রাব্বী জিজ্ঞেস করে।
“ঘড়ি দেখো। কী মনে হয়?”
রাব্বী গাড়ির ঘড়ির দিকে তাকায়। বেশ রাত হয়ে গিয়েছে। রাব্বী জানতে চায়, “তুমি কই?”
“এখনো পারিসার বাসায়। বের হবো একটু পর।”
“ওকে। পারিসাকে হ্যাপি বার্থডে বলো। আর তোমার সাথে দেখা করা লাগবে। একটু দেখা করো।"
“আমি গাড়ি ডাকছিলাম।”
“আমি নামায় দিচ্ছি। সমস্যা নাই।”
শ্রাবণী কিছুক্ষণ কী জানি ভাবে। এরপর বলে, “আচ্ছা। পারিসার বাসার থেকে একটু দূরে একটা রাস্তার মোড় আছে। ওইখানে আমি আসছি। তুমিও আসো। আমি ম্যাপে লোকেশন দিচ্ছি।”
“ঠিক আছে।”, বলে রাব্বী ফোন রেখে দেয়।
রাব্বী ফোন পকেটে ঢুকানোর আগে ব্যাক মিররের দিকে আরেকবার তাকায়। পিছের গাড়িটা এখনো আছে।
***
রাব্বী শ্রাবণীর লোকেশনে আসার পর গাড়ি থেকে বের হয়ে আশপাশে তাকায়। একটু ছিমছাম একটা জায়গা। আলোও খুব একটা নেই। রাতের অন্ধকারই বেশী। মাঝে মধ্যে দূরে দুই একজনকে হেঁটে যেতে দেখছে সে। রাব্বী জায়গাটা চেনে। কাছেই তার দাদীর বাসা। রাব্বী তার গাড়িতে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে শ্রাবণীর জন্য। শ্রাবণীর ফোনে একটা মেসেজও দিয়ে রাখে যে সে এসেছে।
আচ্ছা, তার পিছে তাকে যেই গাড়িটা ফলো করছিলো; তারা কারা? তাদের নিয়ে রাব্বীর কি টেনশন করা উচিৎ? নাকি রাস্তা একটা দেখেই অনেকক্ষণ তার পিছে পিছে আসতে বাধ্য হয়েছে গাড়িটা?
সাথে সাথে রাব্বী ঘাড়ের খুব কাছে কারো শ্বাস অনুভব করে। শ্রাবণী? না। এতো কাছে আসার কথা না। আর তার উচ্চতাও কম। ঘাড়ের কাছে শ্বাস ফেলতে পারার কথা না।
রাব্বী সাথে সাথে চোখের পলকে সময় আটকে ফেলে। আশপাশ সাদাটে হয়ে যায়। রাব্বী সময় আটকে একটু নাড়াচাড়া করার চেষ্টা করে। লাভ করতে পারলো না কোনো। রাব্বী আড়চোখে তার গাড়ির সাইড মিররের দিকে তাকায়। আয়নায় দেখতে পায় একজন রাব্বীর খুব কাছে প্রায় ঝাঁপিয়েই পড়ছে রাব্বীকে আক্রমণ করার জন্য।
রাব্বী মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে কী করা লাগবে। রাব্বী সময় ছেড়ে দেয়। সময় স্বাভাবিক হয়ে গেলে রাব্বী সাথে সাথে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে নিজে বাম দিকে সরে যায়।
পেছনের জন তাকে ধরতে না পেরে রাব্বীর সামনে এসে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
“ক্লায়েন্ট ঠিকই বলেছিলো।”, লোকটা বলল।
রাব্বী এক ঝলকে পিছের দিকে তাকায়। তার পিছে আরো একজন দাঁড়িয়ে আছে। সে বলল, “হ, তাইই তো দেখতেছি।”, বলে সে তার ছুড়িটা বের করে। এরপর ভালো করে গ্রিপ ধরে বলে, “আরেকটু ঝালাই করতে হবে।”
রাব্বী বুঝতে পারছে না কী হচ্ছে। তাও সে সবচেয়ে বাজে কোনো কেসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকে।
“আপনাদের কে পাঠিয়েছে? আপনাদের ক্লায়েন্ট কে?”, রাব্বী জানতে চাইলো।
“মনে করো তোমারই আপন কেউ।”, সামনের জন রাব্বীর উত্তর দিলো।
আপন কেউ? রাব্বীর আর বুঝতে বাকি রইলো নাকে সে। রাব্বীর নিজের চাচার কাজ এইটা। কিন্তু কেন? চাচাকে প্রায় ধরা খাওয়াতে নিয়েছিলো তাই? এইসব করে চাচার লাভ কী? ঝামেলাটা কতো গভীরের ঝামেলা?
সাথে সাথে পিছনের জন তাকে আক্রমণ করতে আসলো। রাব্বী টের পাওয়ার সাথে সাথে আবার চোখের পলকে সময় আটকে সময়টাকে স্বাভাবিক করে সরে যায়। এরপর বেদম জোরে ঘুষি মারে। এতো জোরে মারে যে সে নিজেই হাতে ব্যথা পায়। হাত ধরে রাব্বী গোঙাতে থাকে। রাব্বী ঐ লোকের দিকে তাকায়। লোককে দেখে মনে হলো না খুব একটা বেশী ব্যথা দিতে পেরেছে রাব্বী।
এরপর দ্বিতীয় জনও তার দিকে ছুটে আসে। রাব্বী এবার সরে গিয়ে ধাক্কা দেয়। পরের কিছু মুহূর্ত এটাই চলতে থাকে। রাব্বীকে কেউ আক্রমণ করতে আসে। রাব্বী সময় আটকে সরে যায়। এরপর হয় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। অথবা একটু মারার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছিলো না। এক পর্যায়ে রাব্বীকে দুইজন একসাথে আক্রমণ করতে আসে। রাব্বী সময় আটকায় ঠিকই। কিন্তু বেকায়দায় পরে যায়। একজনকে আটকাতে গেলে আরেকজনের কাছে মার খেতেই হবে। রাব্বী হিসাব কষতে থাকে। একজনের হাতে ছুড়ি। আরেকজন তার পেট বরাবর ঘুষি মারতে আসছে। রাব্বী বেছে নিলো কাকে আটকাবে।
রাব্বী সময় স্বাভাবিক করে ছুড়ি হাতের লোকটার ছুড়ি আটকে ফেলে। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে আরেকজনের হাতে তার পেট বরাবর বেদম একটা ঘুষি খায়। মাটিতে বসে পড়ে রাব্বী।
“কিরে! এটাতো পারলো না।”, যে ঘুষি মেরেছে সে বলল।
তার কী পারার কথা?
“আচ্ছা শেষ ট্রাই।”, বলে ছুড়ি হাতের লোক রাব্বীর পিঠ বরাবর একটা কোপ মারতে যায়।
রাব্বী সময় আটকে ফেলে। একে তো কেবল ঘুষি খেয়েছে। নাড়াচাড়া করতে পারছে না। এর উপর পিছে যাওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। সামনে বামে দুইজন দাঁড়িয়ে আছে। ডানে তার গাড়ি। কিন্তু পিছনে যে সে যাবে, যেভাবে বসে আছে যেতে পারবে কিনা সেটাই একটা অনেক বড় প্রশ্ন।
রাব্বী সময় ছেড়ে দিয়ে পিছে ডিগবাজী দিতে যায়। কিন্তু পিছে তো যেতে পারেইনি, উল্টা তার পা মচকে যায়। রাব্বী দেখতে পায় ছুড়ি হাতে লোকটার কোপ প্রায় তার মুখ বরাবর এসে পড়ছে।
সাথে সাথে রাব্বী দেখতে পায়। একটা হাত এসে খপ করে ছুড়িওয়ালা হাতটাকে থামিয়ে দিয়েছে।
“শ্রাবণী!", রাব্বী চিৎকার দিয়ে উঠে।
“দেখলা? আমি তোমার মতো লেইট করি নাই।”, শ্রাবণী বলল। একটা মানুষ কতোটা ঠাণ্ডা থাকলে এমন অবস্থাতেও মজা নিতে পারে।
শ্রাবণী কিভাবে কিভাবে যেনো মুহূর্তের মধ্যেই লোকটার হাত পেচিয়ে তার হাত থেকে ছুড়িটা ফেলে দেয়। এরপর লাফ দিয়ে তার মুখ বরাবর লাথি মেরে বসে। লোকটা আচমকা লাথি খেয়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে যায়।
আরেকজন লোক শ্রাবণীর মুখ বরাবর মারতে আসে। শ্রাবণী আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ছিলো। রাব্বী সাথে সাথে সময় আটকে লোকটার গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করে। যখন বুঝে যায়, সাথে সাথে সে সময় ছেড়ে দেয় আর ঐ লোকটা বরাবর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দুইহাত দিয়ে খপ করে ধরে ফেলে ঐ লোকের হাত।
শ্রাবণী যখন টের পায়, সে আর দেরী না করে বেদম ঘুষি মেরে বসে ঐ লোকের মুখ বরাবর। এরপর রাব্বীর দিকে তাকিয়ে বলল, “এটা কিভাবে করলা তুমি?”
রাব্বী সেটার উত্তর না দিয়ে সাথে সাথে আবার সময় আটকে আড়চোখে তাকায় একটু আগে মাটিতে লুটিয়ে পড়া লোকটার দিকে। যা ভেবছে তাই। লোকটা আবার শ্রাবণীকে মারতে ছুড়ির জন্য এগিয়ে যাচ্ছে।
রাব্বী সাথে সাথে সময় ছেড়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে, “শ্রাবণী পিছে দেখো।”
শ্রাবণী পিছে তাকিয়ে দেখতে পায় লোকটা তার হাতের ছুড়ি শ্রাবণী বরাবর ছুরে মেরেছে। শ্রাবণী সাথে সাথে দুই হাত উঁচু করে নিজের মুখ বাচিয়ে নেয়। আরেকটু পরে হলেই ছুড়িটা হয়তো তার মুখ বরাবর গিয়ে বিঁধত।
নিজের মুখটাকে বাঁচাতে পারলেও ছুড়িটা শ্রাবণীর হাত বরাবর ঢুকে যায়। শ্রাবণী দাঁতে দাঁত চেপে ব্যথাটা হজম করে নেয়।
“শ্রাবণী!”, রাব্বী ভয় পেয়ে যায়।
“আমি ঠিক আছি। আমি জানিনা তুমি কিভাবে করছো এগুলা। কিন্তু প্লিজ চালিয়ে যাও। দরকার আছে।”
“তো- তোমার হাতে ছুড়ি-”
“থাকুক অভাবেই। বের করলে উল্টা আরো ব্লিডিং হবে।”
শ্রাবণী আর রাব্বী পিঠে পিঠ লাগিয়ে দাড়ায়। দুইজনের মধ্যে আরেকজন, যার ছুড়ি শ্রাবণীর গায়ে বিধে নেই, সে তার ছুড়ি বের করে। ভালো ভাবে গ্রিপ ধরে।
এরপরের কিছু মুহূর্ত রোলার কোস্টার রাইড ছিলো। কেউ তাদের দুইজনকে মারতে আসে। শ্রাবণী টের পাওয়ার আগেই রাব্বী টের পেয়ে যায়। শ্রাবণীকে সাথে সাথে বলে দেয়। আর শ্রাবণী রাব্বী কথা মতো নিজেকে বাচিয়ে কাউন্টার মারতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর লোক দুইজন যখন দেখছিলো কোনো লাভ করতে পারছে না, একজন আরেকজনকে ইশারা দেয়।
দুইজন তখন দুই দিকে দৌড় লাগায়। রাব্বী “এই"বলে একটা হাক দিয়ে একজনের পিছু পিছু ছুটতে থাকে। তার বহু কিছু জানার বাকি আছে এদের কাছ থেকে। একজনকে ধরতে পারলেও হবে।
“রাব্বী।”, শ্রাবণী রাব্বীকে ডাক দেয়।
রাব্বী ঘুরে তাকায়। শ্রাবণী দাঁড়িয়ে আছে। কিরকম যেন দুর্বল ভাবলেশহীন একটা চেহারা নিয়ে। রাব্বী পরক্ষণেই দেখতে পায় মাটিতে শ্রাবণীর হাতে বিধে যাওয়া ছুড়িটা পরে আছে। মারামারি করতে করতে কখন যে সেটা হাত থেকে বের হয়ে গিয়েছে রাব্বী সেটা টেরই পায়নাই। শ্রাবণীর হাত থেকে অনেক ব্লিডিং হচ্ছে এখন। কিন্তু কতক্ষণ ধরে হচ্ছে?
রাব্বী একবার ছুড়ির দিকে তাকায়। একবার শ্রাবণীর দিকে তাকায়। আর সাথে সাথে দেখতে পায় শ্রাবণী মাটিতে আস্তে আস্তে লুটিয়ে পড়ছে।
রাব্বী শ্রাবণীর দিকে দৌড়ে আসে। শ্রাবণী এখনো শ্বাস নিচ্ছে। রাব্বী প্রথমে পকেট হাতড়াতে থাকে। জানে পকেটে কিছু নাই। তারপরেও রুমাল টাইপ কিছু যদি পেয়ে যায়? মোবাইল ছাড়া কিছু না পাওয়ার পর সে তার শার্ট খুলে ফেলে। এরপর দাঁত দিয়ে কোনো মতে শার্টের হাতার বিরাট বড় একটা টুকরা ছিঁড়ে ফেলে। সেই কাপড় দিয়ে শ্রাবণীর ক্ষত শক্ত করে বেধে ফেলার পর শ্রাবণীকে নিজের কোলে তুলে বলে, “খবরদার ঘুমাবা না। বা চোখ বন্ধ করবা না।”
“আরে পুরা সেই সেক্সি লাগছে।”, খালি গায়ে রাব্বীকে দেখে শ্রাবণী বলল, “বি গ্রেডেড সিনেমার নায়কের মতো।"
শ্রাবণী এখনো মশকরা করছে।
রাব্বী ডানে বামে তাকায়। তার গাড়ি সাথেই আছে। কিন্তু আশপাশে কোনো হাসপাতাল নেই। দূরে যেতে যেতে আবার না জানি কী হয়ে যায়। কী করবে সে?
সাথে সাথে রাব্বীর মাথায় একটা আইডিয়া আসে। ফোন বের করে একজনকে কল দিয়ে বলে, “হ্যাঁ হ্যালো দাদী-”
মাঝে মধ্যে মনে হয়, এ দেশের আইন ব্যবস্থাকেই আইনের আওতায় আনা উচিত, 😐🤔
ছেলেটা একা রান্না করে খেতো, কষ্ট কমানোর জন্য সে একটা বিয়ে করলো.. এখন ছেলেটা দুজনের জন্য রান্না করে।🫡
কেউ নেয় চাঁদা, কেউ নেয় ডোনেশন, আবার কেউ নেয় হাদিয়া, তুমি নিলে কাবিন আর আমি নিলে যৌতুক! 🌚😊
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka