Smile With Noor
Mother||Teacher
সুস্থ শিশু, সচেতন মা আর শিক্ষিত সমাজই পারে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে।
শেহজিলের সাথে আমার মা হয়ে উঠার জার্নি......
05/06/2026
নিজের ভুল স্বীকার করার মতো মানসিকতা নেই, উনারা ও আবার প্যারেন্টিং পেজ চালায়।
বাচ্চাকে ঠিক ভুল শেখানোর, সিম্প্যাথী,এমপ্যাথী, বাউন্ডারি,উদার,মহৎ হওয়া শেখায়।
এক হোম স্কুলিং করানো,জেন্টেল প্যারেন্টিং শেখানো আপা তার বাচ্চার বয়সের হিসাব লিখছে ভুল। ভুল মানুষ মাত্রই হতে পারে। সবাই সব জানবে এটা ভাবাই বরং অস্বাভাবিক।
আমি শুধু ভদ্রতার খাতিরে ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে একটা সাধারণ কমেন্ট করেছিলাম।
উনি প্রথমে আমার সাথে আর্গু করলেন যে উনিই রাইট। দ্যান আমি উনাকে আরো ভাল ভাবে বুঝালাম এবং জেমিনি থেকেও একটা স্ক্রিন শর্ট দিয়ে বুঝালাম যে উনার বয়সের হিসাব টা ভুল।
তারপর উনি করলেন কি, আমার কমেন্ট টা ডিলিট করে দিয়ে চুপি চুপি পোস্টের ভুল অংশ টুকু সংশোধন করে দিলেন।
আমার কমেন্ট টা ওখানে থাকলে উনার সবজান্তা হওয়ার যে ভাব ধরাটা আছে ওই ইমেজে হয়ত এফেক্ট পড়ত উনার ধারণা।
যিনি নিজে এতটুকু সহনশীল না, এতটুকু ম্যাচিউর না সে কি প্যারেন্টিং শেখায় আল্লাহ জানেন।
এর আগেও একবার নিজের বাচ্চাকে গোলামের পুত বলে পোস্ট করেছিল পরে সমালোচিত হয়ে বলেছিল উনি "আল্লাহর গোলামের পুত " মিন করেছে।
ভুল মানুষ মাত্রই করতে পারে, সেটা পেজের এডমিন হোন আর সাধারণ মানুষ। কিন্তু ভুলটা লুকিয়ে, শুধরে দেওয়া মানুষের কমেন্ট ডিলিট করে দেওয়াটা কিন্তু খুব একটা পজিটিভ আচরণ হলো না!
মুখে ইতিবাচকতার কথা বলে, নিজের ছোট একটা ভুল মেনে নেওয়ার মতো উদারতা দেখাতে না পারাটা একটু দুঃখজনক।
যাই হোক, শেষ পর্যন্ত পোস্টটা যে সঠিক হয়েছে, তাতেই শান্তি! পরোক্ষ মেন্টরশিপ আর কাকে বলে!
জেন্টেল প্যারেন্টিং বা ইতিবাচক অভিভাবকত্ব নিয়ে যিনি পেজ চালান, তার নিজের আচরণে আরেকটু ‘জেন্টেল’ বা সহনশীল হওয়া উচিত ছিল।
সঠিক তথ্যটা গ্রহণ করে একটা ধন্যবাদ দেওয়াটাই ছিল সুন্দর আচরণ। সেটা না করে কমেন্ট ডিলিট করে দিয়ে, আবার গোপনে পোস্ট এডিট করে ফেলা—এটা আসলে উনার ইগো বা অহমিকার বহিঃপ্রকাশ।
বাচ্চাকে জেন্টেল হতে শেখানোর আগে,নিজেকে জেন্টেল হিতে হবে। জেন্টেল প্যারেন্টিং এর বুলি আর লেকচার শুধু ফেসবুক ফিড পর্যন্ত আর নিজের ফেসভ্যালু তৈরী করার জন্য হলে আলাদা বিষয়।
বাই দা ওয়ে, শেহজিলের বয়স এখন ২৩মাস +। ২৩ মাস ১৩ দিন।
চলাচলি আর পড়াপড়ির হিসাব করলে ২৩ মাস শেষ হয়ে ২৪ মাস চলে। ২৩ চলে না কিন্তু🤣
05/06/2026
নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হওয়ার পরে এত গুরুতর অসুস্থ শেহজিল আর কখনো হয়নি।
গত ৩১ তারিখ আমার একমাত্র বোনের বিয়ে ছিল। বিয়ের দিন সকাল থেকে সারাদিন আমরা শেহজিল কে নিয়ে হাসপাতাল ছিলাম।
আমাদের প্ল্যান থাকে একরকম। আর আল্লাহর প্ল্যান থাকে একরকম।
এই বিয়ে নিয়ে কত প্ল্যাণ,কত প্ল্যান, কত কত শপিং করেছি। অথচ কিছুই পড়তে পারিনি। বিয়েতেই থাকতে পারিনি।
শেহজিল আমাদের বাড়ির একমাত্র নাতি, পুরো প্রোগ্রামে যেখানে সবার আগে ওর থাকার কথা ছিল। সেখানে ও, আমি আমরা কোথাও নেই। একটা ছবি পর্যন্ত নেই
গত ২৫ তারিখ সকালে ওর জ্বর আসে,সাথে সর্দি। সেদিন ই ডক্টর দেখানো হয়।
কিন্তু ৫/৬ ঘন্টা পর পর সাপোজিটারি রিপিট করেও ওর জ্বর ১০১ এর কাছাকাছি, ঘন্টা খানেকের জন্য ১০০ বা তার নিচে নামে। তার সাথে সর্বক্ষণ গা স্পঞ্জ, জলপট্টি তো আছে।
ঈদের পরেরদিন ২৯ তারিখ আবার ডক্টর দেখালাম। উনি বুকের এক্সরে,ডেঙ্গু,সাথে কিছু ব্লাড টেস্ট করিয়ে এন্টিবায়োটিক চেঞ্জ করে দিলেন। সাথে প্যারাসিটামল না দিয়ে জ্বরের জন্য আইবুপ্রুফেন সিরাপ আর ডাইক্লোফেনাক সাপোজিটারি দিলেন।
শেহজিল জ্বর তবুও নামে না।
দুপুর ২ টায় ডাইক্লোফেনাক সাপোজিটারি দিয়ে রাত ৮ টায় আইবুপ্রোফেন দেয়া হল। তারপরেও জ্বরে ওর কাঁপুনি উঠে গেল। আবার আধা ঘন্টার মধ্যে নাপা সাপোজিটারি দেয়া হল। তবুও জ্বর নামে না।
এতদিন তাও জ্বর কমলে খেলত,আর জ্বর আসলে কাঁদত।
কিন্তু ৩০ তারিখ মানে গায়ে হলুদের দিন সকাল থেকে আর মাথাই তোলে না।সকালে জ্বর আসার পর ডায়ক্লোফেনাক সাপোজিটারি দেয়ার পর জ্বর গায়ে ছিল না তবুও সে মাথা তোলে না। যা ই তোলে ভাল ভাবে তাকায় না, হাসে না। সন্ধ্যা থেকে টানা কান্নাকাটি শুরু হল।
সারা রাত কাঁদল। সকালের দিকে একদম নেতিয়ে গেল,গায়ে জ্বর,কাশি,সর্দি,ঠোট,-চোখ সব ফুলে গেছে, মুখের ভিতরে কালা, থুতু মোটা হয়ে জমে সাদা হয়ে গেছে ঢোক গিলতে পারে না। পি আই সি ইউ তে থাকা কালীন আমার ছেলে চোখ বন্ধ করেনি ঘুম ছাড়া,অসুস্থতার জন্য তার স্বরে চিৎকার করত।
কিন্তু এবার সে এতটাই দূর্বল হয়েছে সে চোখ বন্ধ করে কাঁধে পড়ে ছিল।
এদিকে আইবুপ্রুফেন, ডাইক্লোফেনাক দুটোই একইজাতীয় মেডিসিন, NSAID, সাথে আবার প্যারাসিটামল সাপো ও দিয়েছি। আমার ভয় হচ্ছিল ওভারডোজড হয়ে গেল না তো!
বিয়ের দিন সকাল সাড়ে ৭ টায় আমরা স্কয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আগে থেকে গাড়ি বুক করা ছিল না। অটো নিয়ে যাচ্ছিলাম মাইক্রো স্ট্যান্ড। একদম স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে আমাদের পুরো অটো উলটে গেছে। একেই মনে হয় বলে 'মরার উপর খারার গা"
আল্লাহর অশেষ রহমত,কেউ তেমন ব্যথা পাইনি। শেহজিল ওর বাবার কোলে ছিল,তাই ব্যথা পায়নি। ওর বাবা ওকে শক্ত করে ধরে রেখে নিজের পা,হাত দিয়ে সেফ করেছে। এতে শেহজিলের বাবা ব্যথা পেয়েছে কিছুটা।
আমার কোলে থাকলে আমি হয়তো এভাবে ধরে রাখতে পারতামনা।
গায়ে জ্বর বলে প্রথমে ইমার্জেন্সি তে ঢুকলাম। পেসক্রিপশন গুলো দেখিয়ে হিস্ট্রি বলে জিজ্ঞেস করলাম -আইবুপ্রুফেন কি ওভারডোজড হয়ে গেছে? শুধু জ্বর-সর্দিতে এতটা খারাপ অবস্থা তো হওয়ার কথা না।
উনারা বলল,ওভারডোজ তো অবশ্যই হয়েছে, আপনি এতবার কেন দিলেন আইবুপ্রোফেন?
আমি যখন বললাম,আমি পেসক্রিপশন অনুযায়ী ই দিয়েছি।
উনারা বলল ৬ দিন ধরে জ্বর,রোগীর অবস্থাও এমন এডমিশন নেন।
আমি বললাম,ও রাজ স্যারের পেশেন্ট,স্যার কে আগে দেখিয়ে নেই।
এপোয়েন্টমেন্ট ডেস্ক থেকে বলল- স্যারের আজ ওয়েটিং সিরিয়াল ও বুকড। সম্ভব না। অন্য কাউকে দেখান। কিন্তু আমার জোরাজুরিতে উনারা বললাম, আচ্ছা উপরে গিয়ে দেখেন,আপনিতো মা, যতই বুঝাই-বুঝবেন না।
তারপর নার্স ডেস্কে যাওয়ার শেহজিলের অবস্থ্যা দেখে নার্স রা বলল- আপনি মন খারাপ করবেন না, স্যার আসুক দেখিয়ে দিব।
এদিকে টানা ৬/৭ দিন নির্ঘুম থাকায় আমি ও মাথা তুলে রাখতে পারছিলাম না অই মুহুর্তে। আমি চেয়ারের মধ্যেই মাথা দিয়ে শুয়ে পড়েছি। শেহজিলের বাবা এক কাঁধে শেহজিল কে নিয়ে আরেক হাতে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
কি একটা কঠিন অবস্থা।
স্যার আসল ১১ টায়। এপোয়েন্ট ছাড়া পেমেন্ট ই নিচ্ছিল না।সিস্টারদের কাছে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ। উনারা পেমেন্ট ডেস্কে রেফার করে পেমেন্ট নেওয়ালেন এবং এপোয়েন্টমেন্ট ছাড়া উনারা আমাকে একদম প্রথম সিরিয়ালে দেখানোর ব্যবস্থা করেছেন।
তারপর স্যার দেখে মেডিসিন দিলেন, যেই আইবুপ্রোফেন এবং ডাইক্লোফেনাক ওভারডোজ হওয়া নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম, স্যার বলল -ডোজ টা কম ছিল, আমি বাড়িয়ে দিচ্ছি।
উনি আইবোপ্রোফেনের ডোজ ২.৫ মিলি থেকে বাড়িয়ে ৫ মিলি করে দিলেন।
কিছু টেস্ট দিলেন, রিপোর্টে সামান্য ইনফেকশন পাওয়া গেল।
টেস্টের রিপোর্ট পেয়ে দেখাতে দেখাতে বিকাল হল। ঢাকা থেকে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রুওনা দিয়েছি এরাউন্ড বিকাল ৫ টার আশেপাশে।
বাড়ি এসে শুধু বোনকে বিদায় দিয়েছি। তারপর রিসিপশনে ও যাইনি শেহজিল অসুস্থ বলে।
এখনো সুস্থ হয়নি ও। জ্বর ঠিক হল এই ২ দিন।
টানা ৯ দিন ও শুধুমাত্র ফর্মূলা এবং ব্রেস্টফিড করে ছিল। তাও ১ কৌটা ফর্মূলা শেষ হতে সময় লাগল ১১ দিন। ২ বছরের একটা বাচ্চা ১২০ মিলি ফর্মূলা ও শেষ করতে পারত না একবারে। এক দানা, একটা সিংগেল দানা সলিড ও মুখে দেয়নি টানা ৯ দিন,মাঝখানে একদিন শুধু অল্প একটু জাউভাত মুখে দিয়েছিল।
গত পরশু সারাদিনে প্রসাব করেছে মাত্র ২ বার।
ও প্রায়ই অসুস্থ হয়। কিন্তু এরকম ভয়াবহ অসুস্থ সে এই ২০/২১ মাসে হয়নি। প্রায় ৬ মাস পর সর্দি লেগেছে এবার৷ কিন্তু কেন কিভাবে এতটা এফেক্টেড হল বুঝলাম ই না।
অসুস্থ হলে সে অলওয়েজ ই ট্যান্টার্ম বেশি করে।
এবার ও জ্বর থাকলে টানা কাঁদত, জ্বর নামলে খেলত। কিন্তু ৩০ ৩১তারিখ যেমন নেতিয়ে গিয়েছিল এরকম টা কখনো ই হয়নি। একেবারেই শরীর ছেড়ে দিয়েছিল,চোখ ই খোলেনি। যখন অই আই সি ইউ তে ছিল তখন ওআমার ছেলে তার স্বরে চেঁচাত৷ এভাবে চোখ বন্ধ করে ফেলেনি।
আল্লাহ ওকে রক্ষা করেছে। আল্লাহ'র দরবারে হাজার হাজার শুকরিয়া।
কি ঈদ, কি বিয়ে বাড়ি কিভাবে সব গেল একমাত্র আল্লাহ জানে।
আমার ছেলের ঈদের পাঞ্জাবী,হলুদের পাঞ্জাবি, বিয়ে-রিসিপশনের নতুন ড্রেস সবকিছু যেমন টা ভাজ করা ছ তেমন টা আছে। পড়তেই পারল না।
আমি কাঁদি আমার ছেলে নতুন জামা পড়তে পারলনা, আনন্দ করতে পারল না। আর আমার কাঁদে তার মেয়ে কত শখ করে শপিং করেছে, জামদানী পল্লী থেকে গিয়ে শাড়ি কিনেছে কিছুই পড়তে পারল না, শখ আহ্লাদ করতে পারলনা।
নাতির জন্য তো সাথে আবার ফ্রী কান্নাকাটি আছেই।
এই ছবিটা ১.৫ মাস বয়সের। যখন নিউমোনিয়ার জন্য ওকে নিয়ে হাসপাতালে এডমিট ছিলাম।
28/05/2026
আমার ছেলের আজ ৪ দিন যাবৎ জ্বর,সর্দি। গতকাল সন্ধ্যা থেকে জ্বর ছিল না। কিন্তু আজ বিকাল থেকে আবার জ্বর।
৩/৪ টা ছবি তুলে রেখেছি ঈদের দিনের মেমোরির জন্য শুধু।
25/05/2026
এটি আরো একটি নির্ঘুম রাত।
এখন সময় ভোর ৩.৫৬ মিনিট। যখন যখন শেহজিলের জ্বর হয় আমি পুরো রাত জেগে থাকি। কারণ জ্বর কখন বাড়ে, কখন কমে সেটা আমি ঘুমালে টের পাব না। কিছুক্ষণ পর পর জ্বর মাপি। জল পট্টি দেই,গা স্পঞ্জ করি। কারণ এটলিস্ট ৪ ঘন্টার আগে প্যারাসিটামল ডোজ রিপিট করা যাবে না। বার বার ঘড়ি দেখি ডোজ দেয়ার পর ৫ ঘন্টা হতে কত সময় বাকি?
আর যেহেতু ওর এপিলেপসি আছে তাই আরো সতর্ক বেশি থাকতে হয়।
আল্লাহ সহজ করে দিক আমার ছেলের জন্য সবকিছু।
25/05/2026
এই বাবা ছেলে দুজনের ই জ্বর। সম্ভবত পাবনা টু নরসিংদী জার্নি তারপর ও পর পর দু দিন এদিক সেদিন জার্নির কারণেই হয়েছে
২৮ তারিখ ঈদ আর ৩১ তারিখ আমার বোনের বিয়ে।
এখন যার বিয়ে তার ও জ্বর, শেহজিলের ও জ্বর, শেহজিলের বাবার ও জ্বর।
জ্বরের কাহিনী লেখতে বসিনি।
যেটা বলব, সেটা হচ্ছে- ঘরে বাচ্চা থাকলে অবশ্যই সবসময় থার্মোমিটার (ক্লিনিক্যাল), "নাপা সিরাপ/ড্রপ" এবং "নাপা সাপোজিটারি" রাখবেন।
কারণ জ্বর রাত-বিরাত,ভোর যখন তখন আসতে পারে। তখন সাথে সাথে ঔষধ না দিতে পারলে রিস্কি। জ্বরের তাপমাত্রার সাথে সাথে খিঁচুনি আসতে পারে।
যে শিশুদের খিঁচুনি আছে, তাদের নাপা সিরাপ এবং সাপোজিটারির সাথে "Easium/Sedil (ইজিয়াম/সেডিল সাপোজিটারি)" রাখবেন। খিঁচুনি উঠলে বয়স ও ওজন অনুযায়ী পায়ুপথে ডোজ দিয়ে দিবেন।
যে শিশুদের ফেব্রাইল সিজার মানে জ্বরের সাথে খিঁচুনি আসে তারা অবশ্যই বাকি মেডিসিন (নাপা সিরাপ,সাপোজিটারি, ইজিয়াম সাপোজিটারি) গুলোর সাথে "sedil (সেডিল ট্যাবলেট)" ও রাখবেন।
ডক্টরের পরামর্শে জ্বর আসার দিন থেকে তিন ডোজ চালিয়ে যাবেন।
আমি আবার ও বলছি বিশেষ করে যাদের খিঁচুনি অথবা জ্বরজনিত খিঁচুনির ইতিহাস আছে তারা সবসময় প্যারাসিটামল সিরাপ, প্যারাসিটামল সাপোজিটারি, ইজিয়াম সাপোজিটারি এবং সেডিল ট্যাবলেট ফরজ হিসাবে ঘরে রাখবেন।
জ্বরজনিত খিঁচুনির কারণে অনেক সুস্থ বাচ্চা ব্রেইন ড্যামেজ হওয়ার অনেক ইতিহাস আছে। অনেক বাবা-মা ই এই মেডিসিন গুলোর ক্ষেত্রে অবহেলা করে ডক্টরের নির্দেশনা থাকা স্বত্তেও।
সাধারণত ভফিবারের ক্ষেত্রে ৩ দিনে ও না কমলে ডক্টর দেখাতে বলা হয়। কিন্তু যেহেতু আমরা বুঝি না কোনটা ভাইরাল আর কোনটা ব্যাক্টিরিয়াল সেজন্য এবং বিশেষ করে যে বাচ্চাদের খিঁচুনির ইতিহাস আছে তাদের অবশ্যই অবশ্যই যেদিন জ্বর, সেদিন ডক্টরের সাথে পরামর্শ করার পক্ষপাতী আমি।
থার্মোমিটারে মেপে জ্বর ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে তবেই নাপা সিরাপ দিবেন। হাত মেপে গরম লাগলেই প্যারাসিটামল দিয়ে দিবেন না। ১০২ ডিগ্রী ফারেন হাইট হলে নাপা সাপোজিটারি। যে শিশুদের খিঁচুনির ইতিহাস আছে তাদের ১০১ ডিগ্রী হলেই সাপোজিটারি দিয়ে দিবেন।
এক বার প্যারাসিটামল ডোজ দেয়ার কমপক্ষে ৫/৬ ঘন্টা পর আবার ডোজ দিবেন। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৪ ঘন্টা পরেও ডোজ রিপিট করা যাবে। কিন্তু এটা বার বার করা যাবে না।
নাপা সিরাপ দেয়ার পরেও যদি জ্বর ১০২ উঠে যায় তবে বিশেষ ক্ষেত্রে চার ঘন্টা পরে সাপোজিটারি দিয়ে দিতে পারবেন।
আর সাথে পাতলা জামা কাপড় পড়াবেন। ভারী জামা কাপড় পড়াবেন না। আলো বাতাস পূর্ণ রুমে রাখবেন। শরীর কুসুম গরম পানি অথবা স্বাভাবিক কক্ষ তাপমাত্রার পানি দিয়ে স্পঞ্জ করে দিবেন, ঠান্ডা পানি নয়। অনেকে শুধু মাথা ও কপাল মোছায় যেটা ভুল। পুরো শরীর ই মুছিয়ে দিতে হবে।
স্বাভাবিক সব খাবার দিবেন। নরম ও তরল খাবার বেশি বেশি দিবেন। মায়ের বুকের দুধ খাওয়া চালিয়ে যাবেন।
এখন এই পোস্ট লেখড় জন্য কেউ আমাকে বলবেন না যে আপনি কি ডাক্তার? মেডিসিনের ব্যাপারে লিখেন কেন?
আমি ডাক্তার নই। কিন্তু এসব মোস্ট অফ ওভার দা কাউন্টার মেডিসিন। যেগুলো পরিস্থিতি অনুযায়ী ফার্স্ট এইড হিসাবে তাৎক্ষনিক দিতে হয় ইমার্জেন্সী সিচুয়েশন হ্যান্ডেলের জন্য।
এবং এগুলোর ব্যাপারে প্রত্যেক্টা গার্ডিয়ানের জানা থাকা উচিৎ।
#শেহজিল_২২মাস
#শেহজিলের_গল্প
#পলিনুর_ফার্স্টএইডটিপস
24/05/2026
গত বুধবারের ঘটনা। শেহজিল কে নিয়ে স্কুলে গিয়েছি। সে ১২.২০ এর দিকে ঘুমিয়ে গেছে।
তখন আমার অফ পিরিয়ড। তারপর টিফিন পিরিয়ড।ক্লাস টাইম আবার ২ টায়। চাইলে বাড়ি চলে আসতে পারতাম তখন।
কিন্তু শেহজিল মাত্র ঘুমিয়েছে বলে ওকে ঘুম থেকে তুলিনি। খাদেমা আন্টিকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম। বাসায় কিছু কাজ ছিল এই ফাঁকে করা হয়ে যাবে। এদিকে স্কুলে কারেন্ট চলে গেছে।
বসে বসে ওকে বাতাস করলাম। আমি বোরকা হিজাব পড়া গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার।
দুপুর ১ টায় টিফিন দেয়ার পর ওকে ঘুমের মধ্যেই কোলে নিয়ে বাসায় আসলাম। আমার পায়ে এমনিতেই সমস্যা তারপর এই গরমে দুপুর ১ টার রোদে হিজাব নিকাব পড়ে কাঁধে ভারী ব্যাগ এবং ঘুমের বাচ্চা কোলে নিয়ে ৭/৮ মিনিট হেটে বাসায় গিয়ে আমার গরমে শরীরে ফেটে যাচ্ছিল সাথে পিঠ,ঘাড় ব্যাথায় ভেঙে যাচ্ছিল।
ওকে শুইয়ে দেয়ার পর ও কান্না শুরু করল। ব্রেস্ট ফিডিং করে আবার ঘুমিয়ে গেল। তখন অলরেডি ১.৩০ মিনিট বেজে গেছে। আমি বোরকা না খুলেই মুখে একটু পানি দিয়ে হাত পা ধুয়ে লাঞ্চ করলাম। শেহজিলের দুধ নিলাম এবং ওর জন্য দুপুরের খাবার নিলাম বক্সে।
খাদেমা আন্টিকে বললাম আপনি গোসল করে খেয়ে স্কুলে আসেন।
তারপর আমি আবার ঘুমের শেহজিল কে কোলে নিয়েই স্কুলে চলে গেলাম।
আমি চাইলে স্কুলে শেহজিল ঘুমানোর পর শেহজিলের কাছে খাদেমা আন্টিকে রেখে একা বাসায় আসতে পারতাম। নিজে শান্তিতে লাঞ্চ করে ওদের খাবার প্যাক করে নিয়ে যেতে পারতাম।
বা বাসায় যখন শেহজিল ঘুমাচ্ছিল তখন ওকে খাদেমা আন্টির কাছে বাসায় রেখে আমি একা স্কুলে যেতে পারতাম।
কিন্তু করিনি। ঘুমের ছেলেকেই কোলে করে বাসায় নিয়ে আসছি আবার ঘুমের ছেলেকেই কোলে করে স্কুলে নিয়ে গিয়েছি।
কেন?
শুধুমাত্র সিকিউরিটি পার্পাসে। এই ঘন্টা খানেক ছেলেকে ছাড়া থাকলে আমার বা ছেলের এমন কোন সেপারেশন এংজাইটি হত না যে থাকতে পারতাম না।
শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র সিকিউরিটি পার্পাসে আমি আধা ঘন্টাও ওকে একা ছাড়িনি।
কারণ আমার ছেলে আমার চোখের আড়ালে একা অন্য কারোর দায়িত্বে থাকবে সেই ভরসা আমি বাইরের কাউকে করতে পারিনা।
যখন ঘুমের ছেলে কাঁধে করে অফিসে ঢুকি।কেউ কেউ হয়তো ভাবতে পারে যে - বাড়িতে রেখে এলেই তো পারত। অযথা বাচ্চার কষ্ট।এসব কি বাড়াবাড়ি করে!
কিন্তু আমার কাছে এই টুকু কষ্টের চেয়ে বাচ্চার নিরাপত্তা বেশি ইম্পর্টেন্ট।
আমি অনেক কেই দেখি একটা ২ বছরের বাচ্চাকে আরেক ৫ বছরের বাচ্চার দায়িত্বে ছেড়ে দেয়।
এক দেড় বছরের বাচ্চা কে আরেক বাচ্চার কাছে তাও প্রতিবেশীর বাচ্চার দায়িত্বে ছেড়ে গার্ডিয়ান এদিক সেদিক বিভিন্ন কাজ সারতে যান।
পরিবারের বাইরের লোকের কাছেও ইভেন বাচ্চাদের কাছেও নিজের শিশুকে দিয়ে ঘুরতে পাঠিয়ে দেয় বাইরে। এই ফাঁকে মা তার সংসারের কাজ সারেন।
৫ বছরের ও কম বয়সী বাচ্চাকে বাসায় একা রেখে মা-বাবা অফিসে চলে যায়।
এসব শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং তাদের বাবা-মায়েদের সচেতনতার কথা ভাবলে আমার খুবই খারাপ লাগে।
আমি কখনোই মেয়েদের কাজের বিপক্ষে না। কিন্তু আপনার ক্যারিয়ার যদি আপনার শিশুর নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয় তবে বাবা অথবা মা যে কোন একজন কে ক্যারিয়ার কনসিডার করতেই হবে।
কারণ যে চাকরির জন্য আপনার শিশুকে আপনারা নিরাপত্তা দিয়ে রাখতে পারেন না সে চাকরি করার তো কোন দরকার নেই।
চাকরিজীবী মায়েদের সন্তানদের লাইফ গৃহিনী মায়েদের সন্তানদের থেকে আলাদা হয় এটা স্বাভাবিক। তাদের একটু এডজাস্ট করতে হয় এটা স্বাভাবিক। এই যেমন,ঘুমন্ত অবস্থায় শেহজিল স্কুল টু বাসা যাতায়াত করল। আমি চাকরি না করলে ও হয়তো পুরোটা টাইম বাসায় ই ঘুমাত।
কিন্তু তাই বলে তাদের অযত্ন বা অবহেলা করা যাবে না।
আপনি চাকরি করেন এবং বাসায় কাজ করেন- এদিকে এজন্য বাচ্চাকে সময় দিতে পারেন না পর্যাপ্ত, বাচ্চা সারাদিন কষ্ট করে, তাকে তার প্রয়োজনীয় এটেনশন দিতে পারেন না বলে সে সারাদিন কাঁদে,
চাকরি করে বাসার কাজ করার সময় পান না বলে বাচ্চাকে বাইরের মানুষ এর ওর কাছে ছেড়ে দেন, একা বাসায় ফেলে রাখেন- এসব তো আপনার সন্তান ডিজার্ভ করেনা। এগুলো বাচ্চার হক নষ্ট।
আমি বলছি না আপনার ২৪ ঘন্টাই বাচ্চার সাথে লেপ্টে থাকতে হবে। কিন্তু আপনার বাচ্চা যদি সারাদিন ই কষ্ট পায় আর কাঁদে কারণ আপনি তাকে প্রপারলি হ্যান্ডেল করতে পারছেন না জাস্ট বিকজ অফ ইয়্যুর ওয়ার্ক প্রেশার। তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই ওয়ার্ক প্রেশার কমাতে হবে। হয় কাউকে চাকরি ছাড়তে হবে নয়তো বাসায় সাহায্যকারী রাখতে হবে।
আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনার সন্তানের যত্ন তার হক এবং নিরাপত্তা পুরোপুরি এনশিউর হচ্ছে কি না।
আর যদি সেটা না পারেন তবে বাবা-মা যেকোন একজন ঘরে থাকুন। সন্তানকে আপনারা আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে এনেছেন তারা সেধে সেধে আসেনি।
তাই তাদের অবহেলা,অযত্ন করার কোন রাইট আপনার নেই।
বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা একদম ই নেই,একদম ই নেই।
অজস্র ঘটনা প্রতিদিন চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।
তবুও এখন ও যদি আপনারা এডুকেটেড সোসাইটির মানুষেরাও এটুকু সচেতন না হোন, তবে আমাদের সন্তানেরা নিরাপত্তা কিভাবে পাবে?
20/05/2026
৬০০ টাকার খেলনা ৪৫০ টাকায় কিনেছি। জিতসি না?
19/05/2026
আমার বাচ্চা একটা। এখন দুই বাচ্চার কোন মা যখন তার বাচ্চার গায়ে হাত তোলে তাদের যদি আমি নিষেধ করি- বাচ্চার গায়ে হাত তুলতে হয় না।
তখন তারা আমাকে বলে দুই বাচ্চা নাই তো, বুঝবেন না। আগে দুইটা হোক, পরে বুঝবেন।
তখন আমি যদি বলি- দুইটা বাচ্চা নাই, আমি বাইরে কাজ করি। এটাও একটা বাচ্চার ই মত। তাও বাচ্চার গায়ে হাত তুলি না।
তখন আবার তারা ব্যাজার হয় যে আমি নাকি চাকরির খোটা দিসি। কিন্তু তারা যে আমাকে বাচ্চার খোটা দিল সেই বেলা কিছুই না।
সত্যি কথা হচ্ছে- চাকরি, ২ বাচ্চা, চঞ্চল বাচ্চা,সংসারের কাজ কোন পরিস্থিতিই বাচ্চার গায়ে হাত তোলাকে জাস্টিফাই করতে পারেনা। আপনি হাত তুলেছেন মানে আপনার ভুল।
17/05/2026
আমার পা সিভিয়ার ক্রাশড হওয়ার পর ২ মাস আমার ১ পা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড ছিল। ২জায়গায় ফ্র্যাকচার হয়েছিল সাথে ডক্টর কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রোম বলেছিলেন।
মানে আঘাতের কারণে পায়ের ভিতরে প্রেশার বেড়ে পা এত ফুলেছিল যে প্রেশার রিলিজ না হয়ে পা পার্মানেন্ট ড্যামেজ,গ্যাগরিনের সম্ভাবনা ছিল। উনি ফ্যাসিওটমির প্ল্যান করেও সেটা করেন নি। না করার সিদ্ধান্ত টা হয়তো ভুল ছিল। ফ্যাসিওটমি মানে পা চিড়ে দিয়ে প্রেশার রিলিজ করা।
৩ মাস কোমড় থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত প্লাস্টার দেয়া হয়েছিল। পায়ে ঘা হওয়ার কারণে ৩ মাসে ৫ টা প্লাস্টার চেঞ্জ করতে হয়েছিল।
৪ মাস পর আমি সাপোর্ট ছাড়া পা টা হাফ ইঞ্চি উপরে তুলে একটা হাফ ইঞ্চির ছোট স্টেপ দিতে পেরেছি।
চিকিৎসা নিয়েছি স্কয়ার হসপিটালে। বাংলাদেশের মোস্ট এক্সপেন্সিভ এবং প্রথম সারির হাসপাতাল গুলোর একটি।
গত বছর আগস্টে এক্সিডেন্ট হয়েছে। এখনো পুরোপুরি হাটতে পারিনা।
MRI, নার্ভ টেস্ট, এক্সরে,আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে এবং লাস্টে মাসল ও নার্ভ টেস্ট সাজেস্ট করে ডক্টর আন্দাজ করছে কম্পার্টমেন্ট সিন্ড্রোমের কারণেই হয়তো ব্লাড অক্সিজেন না পৌছাতে পেরে পায়ের কোন জায়গার মাংসপেশি মারা গেছে। যাকে VIC ( ভকম্যান ইসক্যামিক কন্ট্রাকচার (Volkmann's Ischemic contracture) বলা হয় মেডিক্যালের ভাষায়।
বর্তমানে ফিজিওথ্যারাপি চলছে। ফিজিওথ্যারাপি তে ভাল না হলে সার্জারী করতে হবে।
স্কয়ারে ট্রীটমেন্ট নিয়েও কোথাও হয়তো ভুল ছিল। হয়তো আমার সার্জারী লাগত, হয়তো ফ্যাসিওটমি লাগত। যদিও আমার পা সার্জারী করার উপযুক্ত ই হয়েছি ভাঙার এক/ দেড় মাস পর। এর আগে সার্জারী সম্ভব ছিল না।
এখন যখন আমার এক্সিডেন্টের কথা শুনে কেউ বলে- পাতা বাধো নাই কেন? পাতা বাঁধলে ঠিক অই যাইত। সময় মত টিপম্যান নিলে এত কষ্ট করতে অত না। প্রথম থেকেই টিপম্যান নেয়া লাগত।
তখন আমি হাসি মুখে বলি, আসলে তখন তো বুঝতে পারিনাই, পাতা বাঁধে কোথায়? ঠিকানা টা দিয়েন তো।
তারপর এই পাতা বাঁধা বিষয়ক কয়েক মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ করে চলে আসি।
এই ঘটনা টা বললাম, কারণ আপনাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ ই আছে যারা সব ব্যাপারেই আপনার পরিস্থিতি এবং আপনার এফোর্ট না জেনেই আপনাকে টিপম্যান শেখাতে আসবে।
তাদের কথায় মেজাজ খারাপ করবেন না বা দূঃখ ও পাবেন না। কারণ তারা এবং আপনি প্যারালাল ইউনিভার্সে বসবাস করেন ধরতে পারেন।
14/05/2026
একজন লাইভ প্রেজেন্টার একটা লাইভে ১০/২০ টা ড্রেস দেখায়। একজন ইনফ্লুয়েন্সার ডেইলি ২/৩ টা ড্রেস প্রমোট করে। আপনি কি সেই ২০ টা ড্রেস ই কিনেন?
একজন প্রোমোটারের ওয়্যারড্রোবে যতগুলো ড্রেস এক্সাসরিজ থাকে সে সব আপনি কেনেন? কেনেন না।
আপনি সেটাই কেনেন যেটা আপনার প্রয়োজন। ২০ টা ড্রেস থেকে প্রয়োজন মত ২/১ টা কিনেন।
ঠিক তেমন একজন প্যারেন্টিং কনেন্ট ক্রিয়েটর বা বেবি বেজ কন্টেন্ট মেক করে সেই পেজ গুলো যত খেলনা, যত খাবার,যত ফুডওয়্যার, যত এক্সেসরিজ দেখায় সব কিনতে ব্যস্ত হয়ে যাবেন না।
যিনি তার বাচ্চাকে সব প্রোডাক্ট দিয়ে ব্যবহার করিয়ে করে দেখাচ্ছেন, তিনি প্রমোশনাল কাজ করেন। প্রমোশন পার্পাসে তার কাছে অনেক অনেক জিনিস যায়,সেই সব ই কিন্তু আপনার বাচ্চার প্রয়োজন নেই।
উনারা এমন ও অনেক জিনিস দেখায়, সেটা যিনি দেখাচ্ছেন তার বাচ্চার ও প্রয়োজন নেই বা সেটা ইউজ করার বয়স হয়নি। জাস্ট বেবিকে দিয়ে একটা ভিডিও মেক করেছে কারণ এটা উনার কাজ।
অনেকে প্রমোশনাল কাজের জন্য শুধু সেই আইটেম ই ফ্রী নেন না, রিমোনারেশন ও নেন।
তাই একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর প্রমোশনাল পার্পাসে প্রতিদিন নিত্য নতুন জিনিস দেখাচ্ছে আর আপনি হতাশায় ডুবে গেলেন যে,উনার বাচ্চাকে উনি কত জিনিস দিচ্ছে, আমি পারছি না কেন? এটা কিন্তু অনুচিৎ।
বিশ্বাস করেন, আপনার বাচ্চার এই সব জিনিসের প্রয়োজন নেই। আপনি উনার দেখানো জিনিস গুলো থেকে সেটাই কিনবেন যেটা আপনার প্রয়োজন। এবং আপনাকে অনলাইন থেকেই কিনতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা ও নেই। এই যে শেহজিলের হাতে ম্যাগনেটিক ফিশিং টয় এটা আমি মার্কেট থেকে নিয়েছি এবং অনলাইন থেকে ১৫০/২০০ টাকা কমে কিনেছি।আবার ডেলিভারী চার্জ লাগত ১৫০ টাকা। মানে আমার ৩০০-৩৫০ টাকা সেভ হয়েছে এখানে।
প্রমোটার সব জিনিস উনার বাচ্চাকে দিয়ে দেখাচ্ছেন যাতে আপনারা সমস্ত প্রোডাক্ট গুলো সম্পর্কে জানতে পারেন, এগুলোর ব্যবহার জানতে পারেন।
উনার দেখানো প্রত্যেক টা জিনিস ই প্রত্যেকে কিনবেন সে উদ্দেশ্যে দেখানো হয় না। এখানে সেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বেবি এজ এ মডেল কাজ করে।
কিন্তু আপনি যদি আশা করেন, উনার বাচ্চার কত খেলনা, কত এক্সেসরিজ আমার বাচ্চার ও তাই লাগবে। তাহলে আপনার নিজেকে সংশোধন করা উচিৎ।
কারণ এসব জিনিস সব উনার বাচ্চার ও লাগে না। দেখবেন অনেকেই অনেক প্রোডাক্ট পরে সেল করে দেয়, কারণ এসব উনাদের বাচ্চাদের ২/৩ টা করে জমা হয়ে গেছে বা কাজে লাগে না।
আমি আবার ও বলছি উনারা প্রমোশনাল কাজ করে তাই সব দেখায় যাতে যার যেটা প্রয়োজন সেটা নিতে পারে।
আপনি আপনার বাচ্চার জন্য সেটাই কিনবেন, যেটাতে আপনার বাচ্চা আগ্রহী, যেটা দিয়ে খেলার বয়স আপনার বাচ্চার হয়েছে।
অনেকে দেখবেন- যখন কাজ শুরু করেছিল,খুব মিনিমাল,সিম্পল ছিল সব। কিন্তু ফ্যান ফলোয়ার বেড়ে যাওয়ার পর তার অনেক লাক্সারিয়াস জিনিসপাতি হয়ে গেছে। একটা স্পুন, একটা টাওয়াল, একটা পাপোস পর্যন্ত হাই ফাই।
সেসব অনেক ই তার কাছে প্রমোশনে এসেছে আবার কিছু তিনি কাজের পরিবেশ আপডেট করার জন্য কেনেন।
তাই আপনি সে সমস্ত জিনিস কেনার জন্য স্বামীর অথবা আপনার নিজের মানিব্যাগ ফাঁকা করে দিবেন না। নিজের জীবনে বাঁচুন। ফেসবুকে দেখানো অন্য কারো জীবনে না। ওটা উনার কাজ, মনে রাখবেন।
এই প্রমোশনলনাল কাজে বিজনেস অওনারদের ও লাভ হয়, যে প্রমোশন করে তার ও লাভ হয় আবার ক্রেতাদের ও লাভ হয়। তাই এটাকে বেগেটিভ ভাবে নেয়া ও ঠিক না।
অনেকে তো বলেন " মাগনা পান তাই দেখান"।
উনারা এমনি এমনি ফ্রী পায় না, উনারা মার্কেটিং এর কাজ করে। এখন মার্কেটিং কি উনি নিজের টাকায় প্রোডাক্ট কিনে করবেন? আপনি যদি পারেন এই কাজ আপনাকে ও ফ্রী দিবে। ফ্রী পাওয়ার জন্যও নিজের প্ল্যাটফর্ম তৈরী করতে হয়।
আবার অনেকে শুধু মাত্র প্রমোশন করবে সে কারণে অনেক আজেবাজে ইউজলেস, খারাপ জিনিসের ও প্রমোশন করে দেয়। সেসব ব্যপারে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। মনে রাখবেন উনাদের এটা প্রফেশন/কাজ। আর প্রফেশনে সবাই এথিকস মেইন্টেইন করে না। তাই তাদের থেকে সাবধান।
উনারা জিনিস নিয়ে টাকা পায় আর আপনারা জিনিস নিয়ে টাকা দিবেন।
সূতরাং কষ্টের টাকা কোথায় দিবেন৷ জেনে বুঝে দিবেন। অমুক তার ছেলেকে তমুক খেলনা দিয়েছে তাই আমার ও দিতে হবে এভাবে ভাববেন না।
শেহজিলের প্রত্যেক টা খেলনা দেয়ার আগে আমি বাড়িতে কমদামী ডেমো বানানোর ট্রাই করি নিজে(যেগুলোর সম্ভব হয় আরকি)।
যদি দেখি সে ইন্টারেস্টেড তবেই ইনভেস্ট করি। অন্ধভাবে প্রমোশন দেখে নয়।
আর আপনারা যারা প্রমোশন করেন তারাও প্লিজ প্রমোশনাল জিনিস দেখানোর সময় বলবেন না যে "অর্ডার করেছি"।
"নিয়েছি, পাঠিয়েছে" এসব ও বলা যায়।
তাহলে কাস্টমার ও আর দ্বিধায় পড়বে না যে এটা আপনি একান্ত ই বেবির ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নিয়েছেন নাকি প্রমোশনাল পার্পাসে ভিডিও দিয়েছেন।
কারণ আপনার একটা ফেসভ্যালু আছে, যে জিনিস আপনি টাকা দিয়ে বাচ্চার জন্য কিনেছেন আর সেটা দেখাচ্ছেন সেটা একটা অন্যরকম ভ্যালু এড করে এবং বেশি মূল্যায়ন পায়।
আর যেটা প্রমোশন করেন, সেটা জাস্ট ফর মার্কেটিং পার্পাসে।
অনেকে খুব সুন্দর করে ভিডিওতে ই বলে দেয় যে জিনিস টা প্রমোশনাল বা এমনভাবে ভিডিও মেক করে যে বুঝা যায় এটা প্রমোশনাল ভিডিও। কিন্তু অনেকেই প্রমোশনাল কাজে বলেন যে "এটা আমি অর্ডার করেছি"। ব্যক্তিগত ভাবে এটা আমার ভাল লাগে না।
সো হ্যাপী শপিং ফর ইয়্যুর কিড্ডো❤️
শেহজিলের হাতে মাছের রেলগাড়ি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Website
Address
Dhaka