Vet Ahmed Rafi
Doctor of Cats and Birds
26/04/2026
পাখি পালক দের জন্য রিমাইন্ডার:
পাখিদের শরিরে কোন ঘাম গ্রন্থি নাই। যার কারনে পাখিরা গরমের সময় ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না। এজন্য গরমের সময় নিয়মিত পাখি কে গোসল দিন এবং পর্যাপ্ত পরিমান পরিস্কার খাবার পানি দিন
26/02/2026
Assembling and calibrating microscope for Care and Cure Vet Pathology Lab
24/02/2026
Setting up ICU for Dhanmondi Pet Care
ক্যাট ফ্লী এর ব্যপারে যেসব জিনিস পেট প্যারেন্টস দের অবশ্যই জানা প্রয়োজনীয়:
কিভাবে বুঝবেন আপনার বিড়ালের দাতে কোন সমস্যা আছে কি না?
21/12/2025
Representing dhanmondi pet care at 1st BASAVA conference 2025
01/05/2024
গরম আসার পর থেকে লক্ষ করতেছি প্রায় প্রতিদিন ই প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে বিড়াল কুকুর আসতেছে। এর প্রধান কারন হলো প্রস্রাব কম প্রোডাকশন হওয়া।
গরমে বিড়ালের শরীর থেকে প্রচুর পানি ঘাম হিসেবে বেরিয়ে যায় অথবা প্যান্টিং করার সময় (মুখ হা করে শ্বাস নেওয়ার সময়) জিহবা থেকে বাস্পায়িত হয়ে যায়। যার ফলে এমনিতেই শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু অনেক বিড়াল পানি খেতে চায় না বা চাহিদা অনুসারে পানি খাওয়ার পরিমান বাড়ায় না। ফলে প্রস্রাব প্রোডাকশন হয় কম। আর এর সুযোগেই দেখা দেয় প্রস্রাবের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন পাথর, ইনফেকশন ইত্যাদি।
তাই গরমে বিড়াল কে প্রস্রাবের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে,
1. পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার খাওয়ান
2. ড্রাই ক্যাটফুড যত সম্ভব এড়িয়ে চলুন
3. ঠিকমত প্রস্রাব করতেছে কি না চেক করুন
4. প্রস্রাবের সময় কান্নাকাটি করে কি না অথবা প্রস্রাবের পরিমান আগের থেকে কমে গেছে কি না খেয়াল রাখুন
5. লিটার বক্স নিয়মিত পরিস্কার রাখুন
6. কোন অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে দ্রুত ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হোন
ডা. আহমদ রাফি
সিনিয়র কনসালটেন্ট,
কেয়ার এন্ড কিউর ভেটেরিনারি ক্লিনিক,
ধানমন্ডি, ঢাকা
25/03/2024
#প্রসঙ্গঃ কুকুর-বিড়ালের স্কিন ইনফেকশন (ডার্মাটাইটিস)ও লোম পড়া।
আমরা যারা কুকুর-বিড়াল পালি তাদের সবাইকেই একটা সমস্যা মোটামোটি ফেস করতেই হয়। সেটা হলো ছবির মতো চোপ ছোপ লোম পড়া এবং ঐ জায়গায় চুলকে ঘা করে ফেলা। ভেটেরিনারি ডার্মাটোলজির ভাষায় যা ডার্মাটাইটিস নামে পরিচিত।আমাদের ইনবক্স এ অনেকেই এটা নিয়ে লিখার অনুরোধ করায় আমরা আজকে এটা নিয়ে লিখছি। তো চলুন জেনে নেয়া যাক এটা কেন হয় এবং এটা থেকে বাচার উপায় কি? (আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে আসল মেডিকেল টার্ম ব্যবহার না করে আমরা এই পোষ্ট এ সাধারন ভাবে স্কিন ইনফেকশন শব্দ টি ব্যবহার করছি)
আসলে স্কিন ইনফেকশন আপনার ফার বেবির(কুকুর-বিড়ালের) খুব কমন সমস্যা। এটা সাধারনত বিভিন্ন ধরনের এলার্জেন(ধুলাবালি, ফুলের রেনু, ক্যামিকেল, পোকার কামড় ইত্যাদি) এর প্রতি হাইপার সেনসিটিভিটি বা এলার্জির কারনে হয়ে থাকে। এছাড়াও ফ্লী, মাইট এবং বিভিন্ন ধরনের বহিঃপরজীবি দ্বারা হয়ে থাকে। ফ্লী সম্পর্কে যেহেতু আমাদের পোষ্টে আগে আলোচনা করা হয়েছে তাই ফ্লী বাদ দিয়ে নন ফ্লী এলার্জিক ডার্মাটাইটিস নিয়ে আজকে কথা বলবো।
#কারনঃ
১.বিভিন্ন ধরনের এলার্জিক খাবার (প্রানী ভেদে ভিন্ন হয়)
২. খাবার ছাড়া বিভিন্ন ধরনের এলার্জেন যেমনঃ
✔ধুলাবালিঃ এক্ষেত্রে সাধারনত বাইরে খেলাধুলার পর, ধুলো জমা কার্পেট এ বসলে বা খেলাধুলা করলে চুলকানি বেশি হয়। আমাদের দেশে শীতকালে এমন সমস্যা বেশি দেখা যায়
✔ফুলের রেনুঃ সাধারনত বসন্ত কালে এ সমস্যা টা বেশি হয়
✔পোকামাকড়ঃ বিছা, চ্যালা, মশা ইত্যাদি
✔শ্যাম্পু, পিওর ভিনেগার (এজন্যই পানি মিশিয়ে ইউজ করা হয়), বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল
৩.এক্সটার্নাল প্যারাসাইট
৪. ফাংগাল ইনফেকশন
৫. প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার দেওয়া (মুখের চার পাশের স্কিন এ ইনফেকশন হয়) ইত্যাদি।
#লক্ষনঃ
১. ছোপ ছোপ হয়ে চুল পড়া, বিশেষত পিঠে, ঘাড়ের কাছে, কানের গোড়া ও দুই কানের মাঝখানে, কুচকিতে, লেজের গোড়ায় ইত্যাদি জায়গায়
২. চামড়া লাল হয়ে যাওয়া বা চামড়ার রং পরিবর্তন হওয়া
৩. পা দিয়ে চুলকানো
৪. আক্রান্ত জায়গা চাটার চেষ্টা করা
৫. সিভিয়ার কেস এ চামড়া ওঠে যাওয়া এবং ঘা হওয়া
#চিকিৎসাঃ
দুঃখিত। যেহেতু অনেক কারনেই হয় এবং কুকুর-বিড়ালের স্কিন খুবই সেনসিটিভ এবং প্রত্যেকের স্কিন আলাদা তাই ইন জেনারেল কোন হোম রেমিডি বলা সম্ভব নয়। কারো পরামর্শ না নিয়ে যত দ্রুত পারেন ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হোন। ডাক্তার রোগের কারন, স্কিন এর ধরন বুঝে স্পেসিফিক চিকিৎসা দিবেন। মনে রাখবেন, আপনার আদরের প্রানীটার জন্য এলার্জিক ডার্মাটাইটিস খুবই বিরক্তিকর এবং একইসাথে এর চিকিৎসা খুবই সময় সাপেক্ষ ও চিকিৎসা ছাড়া খুবই দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই যত দ্রুত ডাক্তার এর স্মরনাপন্ন হবেন চিকিৎসার খরচ ও সময় ততো কম লাগবে।
#প্রতিরোধের_উপায়ঃ হ্যা, এটাই আমার আজকের পোষ্টের মুল টার্গেট। কথায় আছে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধই উত্তম। আর এটা স্কিন ইনফেকশন এর ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ সত্যি। কেননা একবার এই সমস্যা শুরু হলে যেমন অনেক দিন লাগে সারতে, একই সাথে বেশিরভাগ সময়ই স্কিন টা আর আগের মতো হয় না। কিছুটা প্রমান থেকেই যায়। আবার নন ফুড এলার্জেন এর কারনে হওয়া এলার্জির কোন স্থায়ী সমাধান ও নেই। তাই সচেতনতাই এক্ষেত্রে মুল চাবি। এক্ষেত্রে যেসকল বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলোঃ
১. প্রথমেই মনে রাখবেন ডার্মাটাইটিস খুবই ছোয়াছে। এবং খুব দ্রুতই একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। তাই বাসায় একটা প্রানী আক্রান্ত হলে তাকে অন্যদের থেকে দ্রুতই আলাদা করুন।
২. তার ব্যবহৃত বিছানা-কার্পেট পরিস্কার করুন
৩. অন্য কুকুর বিড়ালের সংস্পর্শে আসা থেকে নিজের প্রানীটাকে যতদুর পারেন বিরত রাখুন। বিশেষত লং হেয়ার ব্রীড গুলো
৪. যেসকল স্থানে অনেক কুকুর-বিড়াল একসাথে হয় সেসকল স্থানে গেলে সাবধানে থাকুন। যেমনঃ পেট শো, পার্ক, পেট শপ।
৫. বিষেষ করে আমাদের দেশে যেসকল পেট শপ আছে, আই মিন যেগুলোতে লাইভ এনিম্যাল বিক্রি করা হয় সেগুলোতে নিজের পোষা প্রানী না নিয়ে যাওয়াই বেস্ট
৬.প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার দেওয়া পরিহার করুন
৭.ধুলাবালি থেকে দুরে রাখুন
৮. যদি কোন খাবারে এলার্জি থাকে তাহলে সে খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৯. নিয়মিত গ্রুমিং করুন
১০. লং হেয়ার ব্রীড গুলোকে নিয়মিত গোসল করান
১১. তাদের জন্য স্পেশাল শ্যাম্পু পাওয়া যায়। মানুষের শ্যাম্পু ইউজ না করে সেগুলো ইউজ করবেন
১২. নিয়মিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সম্পন্ন খাবার দিন
১৩. নিয়মিত কৃমিনাশক খাওয়ান
১৪.কোন নতুন স্কিন প্রোডাক্ট বা শ্যাম্পু বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
১৫. ট্রিটমেন্ট করালে একইসাথে ঘরের সকল প্রানীকে করান।নাহলে আবার হতে পারে।
#প্রশ্নঃ লোম পড়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে না পারলে কি করতে পারি?
উত্তরঃ লোম পড়া বন্ধের জন্য এভাবে সাধারন ভাবে কোন সমাধান দিবো না, এটা এনিম্যাল টু এনিম্যাল ভ্যারি করে। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে যদি এক দুই দিন দেরি হয় তবে সেই সময়ের মাঝে যেন চামড়া তুলে না ফেলে বা ঘা না হয় সেজন্য একটা পরামর্শ হলোঃ
"কলার পরিয়ে দিন।" কুকুর-বিড়াল চামড়াতে চুলকালে চেষ্টা করে জায়গাটা চাটার (বিড়াল) অথবা কামড়ানোর (কুকুর) কারন খেয়াল করলে দেখবেন বিড়ালের জিহবাতে ভিতরের দিকে বাকানো কাটার মতো থাকে। সেটা দিয়ে চাটলে জায়গা টা তে চুলকানোর মতো আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হলো বেশি চুলকানোর ফলে ঔ জায়গার চামড়া ওঠে যায় এবং সেখানে মুখের ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে ইনফেকশন হয়। ঘা এবং পুজ থাকার ফলাফল স্বরুপ ট্রিটমেন্ট আরো সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়। তাই এমন অবস্থা প্রতিরোধে ছোপ ছোপ লোম পড়া দেখলেই কলার ব্যবহার করা শুরু করুন এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। মনে রাখবেন স্কিন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ডিফারেন্ট। তাই একজনের কুকুর/বিড়াল এই পদ্ধতি তে ভালো হইসে মানে এটা নয় যে আপনার টাও একই পদ্ধতি তে ভালো হবে। হতেও পারে আপনার প্রানীটির গায়ে দেওয়ার সাথে সাথে সিভিয়ার এলার্জিক কন্ডিশন তৈরি হলো। অবস্থা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেলো। আবার বিষয় টা এমন ও না যে, এই প্রোডাক্ট এ আপনার বিড়ালের লোম পড়ে তাই অন্য সবার বিড়ালের ও লোম পড়বে। আপনার বিড়াল ওই নির্দিষ্ট জিনিস এর প্রতি এলার্জিক হতেই পারে যেটা সাধারন সব বিড়ালের জন্য এলার্জিক না। তাই এই ব্যপারে অন্য কারো পরামর্শ নেওয়ার আগে ডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিন এবং দরকার পড়লে একবারের জায়গায় ডাক্তার কে একশবার বিরক্ত করুন। মনে রাখবেন, প্রানীদের স্কিন মানুষের তুলনায় অনেক সেন্সিটিভ.. তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন স্কিন প্রডাক্ট ইউজ করবেন না। কারন কিছু হলে ভোগান্তিতে পড়বে আপনার আদরের প্রানীটাই।
যেহেতু প্রত্যেকের স্কিন ভিন্ন তাই স্কিন এর ব্যপারে কিছু জানতে হলে কমেন্ট এ ইন জেনারেল কোন সাজেশন না চেয়ে আপনার প্রানীটির ডিটেলস এবং ছবি সহ ইনবক্স করুন।
ডা. আহমদ রাফি,
সিনিয়র কনসালটেন্ট,
কেয়ার এন্ড কিউর ভেটেরিনারি ক্লিনিক,
ধানমন্ডি, ঢাকা
24/03/2024
প্রসঙ্গঃ পাখির পালক ঝরা এবং তার প্রতিকার। (পর্ব-১)
আমরা যারা পাখি পালন করি তাদের একটা কমন সমস্যা হলো পাখির পালক ঝরে যাওয়া।
চলুন দেখে নেই কি কি কারনে পাখির পালক ঝরে এবং এ থেকে প্রতিকারের উপায় কি...
পাখির স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিদিন কিছু পালক ঝরে পড়ে। তাই প্রথমেই এটা খোজে বের করা দরকার পালক ঝরে পড়া স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক.. আপনাদের বুঝার, মনে রাখার এবং আমাদের আলোচনার সুবিধার্থে আমরা পাখির পালক ঝরার কারন গুলোকে তাই স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিচ্ছি।
১. স্বাভাবিক কারনঃ
স্বাভাবিক ভাবে ২ টা কারনে পাখির পালক ঝরে.. সেগুলো হলোঃ-
ক. মোল্টিংঃ প্রজাতি ভেদে সকল পাখিই বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময় তাদের আগের পালক ফেলে নতুন পালক গজায়। এটি মোল্টিং নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে মোল্টিং প্রসেস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কন্টিনিউয়াস শেডিং হয় কিন্তু এক্ষেত্রে কখনোই এমন ভাবে পালক ঝরে পড়বে না যাতে একদম চামড়া দেখা যায়।
খ. রিপ্লেসমেন্টঃ এছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে যেকোন সময় দুই একটা পালক কোন কারনে নষ্ট হয়ে গেলে অথবা পুরাতন হয়ে গেলে পাখি ঠোট দিয়ে সেটা তুলে ফেলে দেয়। এবং সেখানে নতুন পালক গজায়।
এগুলো স্বাভাবিক ব্যপার। তাই এইক্ষেত্রে তেমন কিছু না করলেও চলে। তবে মোল্টিং এর সময় সাপোর্টিভ হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শমতো ভিটামিন, মিনারেল এবং এসেন্সিয়াল এমাইনো এসিড সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যায়.. ও হ্যা, স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক পালক ঝরার মাঝে পার্থক্য করার সহজ উপায় হলো, স্বাভাবিকভাবে পালক ঝরলে কখনোই চামড়া দেখা যাবে না, কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবে পড়লে যে জায়গা থেকে পড়তেছে সে জায়গা একদম খালি হয়ে যাবে (আবুল হায়াত স্যারের মাথার মতো)
২. অস্বাভাবিক বা প্যাথলজিকাল কারনঃ স্বাভাবিক দুটো কারন ছাড়াও যেসকল সমস্যার কারনে পালক ঝরে যায় সেগুলো হলোঃ
১. মারামারি
২. আঘাত
৩. বিহেভিওরাল প্রবলেম
৪. বিভিন্ন স্কিন ডিজিজ
৫. স্কিনের রোগ ব্যতিত অন্য কোন সিস্টেমের রোগ
৬. প্যারাসাইট/কৃমি ইত্যাদি।
আজ এ পর্যন্তই। পোষ্ট লম্বা হলে মনে থাকবে না তাই বাকিটুকু পরের পর্বের জন্য রেখে দিলাম। আপনাদের রেসপন্স পেলে পরের পর্বে অস্বাভাবিক কারন গুলো সম্পর্কে ডিটেলস এবং এগুলো থেকে বেচে থাকার উপায় সম্পর্কে লিখবো।
ডা. আহমদ রাফি,
সিনিয়র কনসালটেন্ট,
কেয়ার এন্ড কিউর ভেটেরিনারি ক্লিনিক
23/03/2024
প্রসঙ্গঃ #কুকুর_বিড়ালের_বমি_ডায়রিয়া_এবং_পারবোভাইরাস
বর্তমানে পেট এনিম্যাল প্র্যাক্টিশনার দের কাছে যে কয়টা সিরিয়াস কেস আসে তার একটা বড় অংশ হলো বমি-ডায়রিয়ার রোগী। আর বমি-ডায়রিয়ার কথা শুনলেই যে বিষয় টা অনেক পেট ওনার এর মাথায় আসে সেটা হলো ফ্লু ভাইরাস (প্যানলিউকোপেনিয়া অথবা পারভো ভাইরাস)। গত কিছু দিন আগেই আমাদের মাঝে অনেকেই নিজেদের পছন্দের কুকুর-বিড়াল হারিয়েছি শুধু মাত্র পারবোভাইরাস ইনফেকশনের কারনে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে পার্বো,প্যানলিউকোপেনিয়া ভাইরাস ছাড়াও আরো অনেক কারনে কুকুর-বিড়ালের বমি-ডায়রিয়া হতে পারে যেমনঃ ফুড পয়জনিং, অভার ফিডিং, গ্যাস্ট্রাইটিস, হুট করে খাবার পরিবর্তন করা, হিট স্ট্রোক, বিভিন্ন ইনফেকশাস ডিজিজ ইত্যাদি। কিন্তু যেই কারনেই হয়ে থাকুক বমি-ডায়রিয়া তে খুব দ্রুতই অবস্থার অবনতি হয় এবং ভেটের কাছে নিয়ে যেতে যেতে দেখা যায় খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে। অনেকক্ষেত্রেই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারি না। অথচ খুব সিম্পল কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা জানা থাকলেই হয়তো আমরা খুব সহজেই এমন পরিস্থিত এড়িয়ে যেতে পারতাম। তাই চলুন জেনে নেই ভেট এর কাছে পৌছানোর আগ পর্যন্ত কিভাবে বমি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রানীর প্রাথমিক চিকিৎসা করবোঃ
১. যে কারনেই ডায়রিয়া হোক না কেন, হোক সেটা মানুষ বা অন্য কোন পোষা প্রানী, প্রথমেই মনে রাখবেন ডায়রিয়ার রোগী অন্য কারনে মারা যায় না, মারা যায় বেশিরভাগ সময় ই শুধুমাত্র পানিশূন্যতা এবং খনিজ লবনের ঘাটতি থেকে। তাই আপনার প্রথম টার্গেটই হলো দেহে পানিশূন্যতা পুরন করা।
আর এর একমাত্র উপায় হলো বার বার খাবার স্যালাইন খাওয়ানো।
২. ডায়রিয়া হলেই যে সেটা ফ্লু ভাইরাস এমন কোন কথা নাই। কিন্তু মনে রাখবেন, পারবোভাইরাস অত্যন্ত ছোয়াছে এবং খুব দ্রুতই ছড়ায়। আবার ডায়রিয়া-বমিতে আক্রান্ত কুকুর-বিড়াল অন্যগুলার থেকে দুর্বল। তাই তাকে যত দ্রুত সম্ভব অন্য কুকুর-বিড়ালের থেকে আলাদা করতে হবে এবং চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
৩. ডায়রিয়া হলে অন্য সময়ের মতো সাধারন খাবারই খাওয়াতে হবে তবে দুধ, পেপে, কাচা মাছ-মাংস খাওয়ানো যাবে না.. আর বমি খুব বেশি হলে কখনোই মুখে খাবার দেওয়া উচিত না.. বরং যত দ্রুত সম্ভব ভেট এর কাছে নিয়ে যেতে হবে কারন মুখে খাওয়ালে আবার বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে..(ভেট দেখার পর মুখে খাওয়াতে বললে সমস্যা নাই)
৪. ডায়রিয়া তে শুকনো ক্যাটফুড না খাওয়ানোই ভালো। কারন এটা হজম করতেও পানি লাগে।
৫. শরিরের তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিক এর থেকে খুব বেশি হয় তাহলে ভেজা তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে শরির মুছে দিতে হবে আবার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে তাকে অল্প গরম জায়গায় রাখতে হবে অথবা টাওয়েল দিয়ে প্যাচিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে হট ওয়াটার ব্যাগ ইউজ করতে পারেন।
৬. যদি ডায়রিয়ার সাথে বমি থাকে তবে বা মুখে কিছু দিলেই বমি করে এমন হয় তাহলে মুখে কিছু না খাওয়ানোই ভালো। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এমন অবস্থায় মুখে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে খুব দ্রুতই অবস্থার অবনতি ঘটে
#খাবার_স্যালাইন_খাওয়ানোর_নিয়মঃ
প্যাকেটে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী স্যালাইন প্রস্তুত করে বার বার অল্প অল্প করে মুখে খাওয়াতে হবে। যদি নিজের থেকে না খায় তাহলে ড্রপার দিয়ে খাওয়াতে হবে তবে খেয়াল রাখবেন যেন একসাথে ২-৩ ড্রপের বেশি না যায়... এতে করে ফুসফুসে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর চেয়ে সময় নিয়ে ২-৩ ড্রপ করেই দেওয়াই ভালো। ২-৩ ড্রপ মুখে দেওয়ার পরেই তাকে সেটা খাওয়ার জন্য সময় দিতে হবে.. এভাবে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ৫-১০ মিলি করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে... এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন স্যালাইন যেন প্যাকেটের পরিমিত মাত্রায়ই তৈরী করা হয়.. নাহলে পানিশূন্যতা পুরনের বদলা উল্টা শরীর থেকে পানি বের করে নিতে পারে।
ুঝবো_আমার_বিড়ালকে_খাবার_স্যালাইন_দিতে_হবেঃ
প্রথমবার ডায়রিয়া হওয়ার সাথে সাথেই যেমন খাবার স্যালাইন শুরু করে দেওয়ার দরকার নাই তেমনি একের অধিকবার ডায়রিয়া হলে দেরি করাও কোন ভাবেই কাম্য নয়। কুকুর-বিড়ালের পানিশুন্যতা বুঝার জন্য সব থেকে সহজ উপায় হলো তার ঘাড়ের চামড়া কমেন্ট এ প্রদত্ত ছবির মতো অল্প একটু টেনে ছেড়ে দেওয়া। যদি চামড়া ২ সেকেন্ড এর মধ্যে আগের অবস্থায় ফিরে আসে তাহলে বুঝতে হবে বিড়ালের পানিশুন্যতা নাই.. কিন্তু যদি ২-৪ সেকেন্ড সময় লাগে তাহলে আপনাকে অবশ্যই মুখে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। কিন্তু যদি সেটি আগের অবস্থায় আসতে ৪-৬ সেকেন্ড বা তার থেকেও বেশি সময় লাগে তাহলে আর দেরি করার উপায় নাই... যত দ্রুত পারেন ভেট এর কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং সাথে মুখে স্যালাইন চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনার পোষা প্রানীকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে।
#ভেট_এর_কাছে_নিয়ে_যাওয়ার_সময়_যে_সকল_বিষয়_খেয়াল_রাখতে_হবেঃ
একজন ডাক্তার রোগ নির্ণয়ের জন্য যে সকল বিষয়ের উপর নির্ভর করেন তার মাঝে সব থেকে বড় জিনিস হলো ক্লিনিকাল হিস্ট্রি অর্থাত রোগীর মুখের বর্ণনা.. আমাদের পেশেন্ট যেহেতু কথা বলতে পারে না তাই আমাদেরকে আপনাদের থেকেই তথ্য গুলো জেনে নিতে হয়। তাই মনে রাখবেন, অনুমান করে অথবা ভুল তথ্য দিলে ডাক্তার বিভ্রান্তই হবেন না শুধু, আপনার প্রানীটির জীবন নিয়েও টানাটানি পড়তে পারে। আবার গুছিয়ে দেওয়া তথ্য অনেক সময়ই ডাক্তার কে সঠিক রোগ নির্নয়ে সাহায্য করে। তাই ভেট এর কাছে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল করতে হবে। ভালো হয় কাগজে লিখে নিয়ে গেলে। যেমনঃ
১. কতদিন থেকে বমি-ডায়রিয়া হচ্ছে
২.কতবার হয়েছে
৩. কুকুর-বিড়ালের বয়স কত
৩. বাসায় আর কোন কুকুর-বিড়াল আছে কি না? থাকলে তাদের কেউ অসুস্থ কি না বা রিসেন্টলি ছিলো কি না
৪.বমি-ডায়রিয়ার সাথে আর কোন সমস্যা আছে কি না
৫. বমি-ডায়রিয়ার রং কেমন(এক্ষেত্রে ছবি তুলে নিতে পারেন দেখানোর জন্য), দুর্গন্ধ আছে কি না, বমি-ডায়রিয়া তে কোন কৃমি দেখা যায় কি না
৬. সাধারনত কি খাওয়ান
৭. নতুন কোন খাবার দিয়েছেন কি না
৮. গতকালকে এবং আজকে কি কি খাইয়েছেন
৯. হঠাৎ করে খাবার পরিবর্তন করেছেন কি না
১০. দুই একদিনের মধ্যে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে গেছেন কি না
১১. ভ্যাক্সিন দেওয়া কি না
১২. শেষ কবে কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে
১৩. বমি-ডায়রিয়ার জন্য বা অন্য কোন কারনে কোন ঔষধ খাওয়ানো হয়েছে কি না
এই কয়টা বিষয় খেয়াল রাখলেই এবং সময় মতো দ্রুত পদক্ষেপ নিলেই আপনি খুব সহজেই নিজের পোষা প্রানীটাকে আসন্ন বিপদ থেকে অনেকাংশেই বাচিয়ে দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন পানিশুন্যতা অবহেলার বিষয় নয়। যত দ্রুত পারেন ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হোন।
ডা. আহমেদ রাফি,
সিনিয়র কনসালটেন্ট,
কেয়ার এন্ড কিউর ভেটেরিনারি ক্লিনিক,
ধানমন্ডি, ঢাকা।
(বিদ্রঃ এই পোষ্ট এ ইনজেনারেল ডায়রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হলেও আপনাদের আগ্রহ থাকলে সামনে শুধুমাত্র প্যানলিউকোপেনিয়া এবং পার্বোভাইরাস নিয়ে ডিটেলস একটা পোষ্ট পাবেন ইনশা আল্লাহ)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
House91/i, Road 7/A, Satmasjid Road,Dhanmondi,Dhaka.
Dhaka
1209