Rubi Collocation
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Rubi Collocation, Beauty, cosmetic & personal care, Dhaka.
আসসালামুআলাইকুম 🤝
শুভ সকাল 🌄🌺🥀🌹
কেমন আছেন সবাই 😍😍
25/11/2021
এক ব্যাক্তির স্ত্রীর পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যু হল, সবাই যখন দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দিল।
উনি তখন বললেন স্ত্রীর সবচেয়ে বড় উপহার ছেলে আছে ওকে নিয়েই কেটে যাবে।
ছেলে যখন বয়স্ক হল ছেলেকে সব ব্যাবসা বুঝিয়ে দিয়ে কখনও নিজের আর কখনও বন্ধুর অফিসে সময় কাটাতে লাগলেন।
ছেলের বিয়ের পর উনি আরও বেশি একাকী হয়ে পড়লেন।
তখন পুরো বাসাতে বৌমার অধিকারে দিয়ে দিলেন।
ছেলের বিয়ের এক বছর পরে উনি দুপুরে খাবার খাচ্ছিলেন ছেলেও অফিস থেকে এসে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল।
ছেলে শুনতে পেল বাবা খাবার পর দই চাইল আর বৌ জবাব দিল আজকে ঘরে দই নেই!
খাবার খেয়ে বাবা বাহিরে হাটতে চলে গেল।
কিছু পরে ছেলে তার বৌয়ের সাথে খাবার খেতে বসল।
খাবারে পাত্র ভরে দই ছিল ছেলে কোন প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে খাবার খেয়ে অফিসে চলে গেল।
কিছু দিন পর ছেলে নিজের বাবাকে বললেন ---"আজ আপনাকে কোর্টে যেতে হবে আর আজ আপনার বিবাহ হচ্ছে "।
পিতা আশ্চর্য হয়ে ছেলের দিকে দেখল আর বললেন "বাবা! আমার আর বিয়ের দরকার নেই, আর আমি তোমাকে এত স্নেহ দিই যে তোমারও মায়ের দরকার নেই, তো আবার বিয়ে কেন??
ছেলে বলল "বাবা, না আমি নিজের জন্য মা আনছি, না নিজের স্ত্রীর জন্য শ্বাশুড়ি আনছি!
আমি তো কেবল আপনার জন্য দই এর ব্যাবস্থা করছি! কাল থেকে আমি ভাড়া বাড়িতে আপনার বৌমার সাথে থাকব আর আপনার অফিসের এক কর্মচারীর মত বেতন নেব যাতে আপনার বৌমা জানতে পারে দই এর দাম কত।
*মা-বাবা আমাদের জন্যে ATM কার্ড হতে পারেন*
*কিন্তু তারা আমাদের দয়ায় না বরং আমরা তাদের দয়ায় বেঁচে থাকি। 💖
ইচ্ছে গুলো কে স্বাধীনতা দাও
উড়তে দাও আকাশে ,
লোকের কথা তে কান দিও না
সে রোজই উড়ে চলে বাতাসে।
22/11/2021
আসসালামু আলাইকুম
দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন
বান্দা আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন। যারা তার কাছে দুআ করে, তাদের প্রতি তিনি খুশি হন। যারা আল্লাহর কাছে দুআ করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
মহান আল্লাহ বলেছেন, আর আমার বান্দা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে; আমি তো কাছেই আছি। আমি দুআ কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দুআ করে। (সূরা বাকারাহ:১৮৬)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, আর তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা আরাফ:৫৫)
আল্লাহর চেয়ে উত্তম দাতা ও সাহায্যকারী আর কেউ নেই। একমাত্র তিনিই বান্দার সব অভাব-অভিযোগ পূরণ করতে পারেন।
রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা আল্লাহ তায়ালা চাইলে তিনি খুশি হন। (তিরমিজি:৩৫৭১)
আল্লাহ তাআলার রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। তিনিই অসহায়ের একমাত্র সহায়। সব বিপদাপদ থেকে রক্ষাকারী।
আল্লাহ বলেছেন, কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয়, যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়? (সূরা নমল:৬২)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। (সূরা আরাফ:৫৬)
রাসুল (সা.) বলেছেন, দুআ মূমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান এবং জমিনের নূর। (মুসলিম:৪৬৫)
যারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাদের হাতকে কখনও খালি ফেরত দেন না।
রাসূল (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার অনেক লজ্জা ও আত্মমর্যাদা আছে। সুতরাং যখন মানুষ চাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দুটিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন। (মুসলিম:৩২১)
দুআর মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া অপেক্ষা কোনো জিনিসই অধিক ফজিলত ও সম্মানের নেই। (তিরমিজি:৩৩৭)
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন, তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। তবে একে অপরের কাছে দুআ চাইতে কোনো নিষেধ নেই।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি আমার বান্দার সঙ্গে তেমন ব্যবহার করি, আমার প্রতি সে যেমন ধারণা রাখে আর সে যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার সঙ্গেই থাকি। (মুসলিম:৬৮২৯)
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সর্বদা দুআ করার তাওফিক দিন।
20/11/2021
একজন মেয়েকে ৫০/৬০ সাপের উপর কবর দেওয়া হয়েছিলো, ১৯৮৬ সালে করাচির এক পত্রিকায় সেই মায়ের লিখা চিঠি প্রকাশ পায়।
তিনি লিখেছিলেনঃ-
আমার বড় মেয়ে কিছুদিন আগে মারা গেছে তাকে দাফন করার জন্য কবর খনন করা হরে সেখানে ৫০/৬০ টা সাপ কিলবিল করছে।
এই অবস্থা দেখে ২য় ৩য় বারও কবর খনন করা হয় কিন্তু প্রতিবারই সাপ দেখা যাচ্ছিল। অতপর,সকলের সাথে পরামর্শ করে ওই সাপের ওপরই কবর দেওয়া হয়েছিল।
মেয়েকে কবর দেওয়ার পর তার বাবা অর্থাৎ আমার স্বামী নিজের মাথার চুল ছিড়া শুরু করছিলো আর বলছিল,
আমার মেয়ে নামাজ রোজা সব কিছু করত, কিন্তু পর্দা করত না। তাকে পর্দা করতে বলা হলে সে যা ইচ্ছা তা শুনিয়ে দিত, এক কথায় আমি ছিলাম ব্যর্থ বাবা।
অথচ, আজ সে কবরে ধনুকের ন্যায় বেঁকে আছে।
১৪ শ ১৪ হিজরি শাবান মাসে আমার এক বন্ধু সে আমাকে জানালো করোংগি এলাকার একটি ঘটনা,
আমার আত্নীয়র এক যুবতি মেয়ে মারা গেছে, মেয়েকে কবর দেওয়ার জন্য মেয়ের বাবাও কবরে নেমেছিল।বা
ড়ি ফিরে এসে তার মনে পরে সে তার ম্যানিব্যাগ কবরে ফেরে এসেছিল যার মধ্যে ছিল অতি প্রয়োজনীয় কাগজ তাই তাকে বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়।
আবার, কবর খুড়ে কাগজ আনতে গিয়ে মাটি সরিয়ে কাঠ সরানোর পর মৃত মেয়ে অবস্থা দেখে বাবা জোরো চিৎকার করে দুরে সরে এলো, কেন চিৎকার করেছে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়,
আমি দেখেছি।
তার সাদা কফনের কাপড় নেই তার মাথার চুল দিয়ে তার পা বাধা ভয়ংকর কিছু বিচ্ছু ন্যায় প্রানি তাকে গ্রাস করে সারা দেহে লেপ্টে আছে।
অতপর,মেয়েটির ব্যাপারে খোঁজ নিলাম।জানা গেলো না তার কোনো খারাপ দিক।
শুধু তার বাবা মা বলে ছিল, তাদের সন্তান ফ্যাশন প্রিয় ছিল।
সে কখনিই পর্দা করেনি। 🍂
কবরের আজাবের বই থেকে
লেখক : মাওলানা তারিক জামিল!!
😢😥😢😥😥
,, মাটির দেহ নিয়ে কখনো করিওনা বড়াই, দুচোখ বন্ধ হলে দেখবে পাশে কেউ নাই। যাকে তুমি আপন ভাবো সে হবে পর, আপন হবে নামাজ রোজা অন্ধকার কবর।
শুভ রাত্রি 😴 জুম্মা মোবারক ,,
16/11/2021
১ মিনিট ধৈর্য ধরে পড়ুন...
জিবরাঈল (আঃ)কে আল্লাহ তায়ালা তৈরী করলেন।
জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহ তায়ালাকে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আপনি কিসে খুশি হন??
আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হই আমার বান্দা যখন আমাকে সিজদা করে। অত:পর জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহ তায়ালা কে সিজদা করলেন ৩০ হাজার বছর ধরে।
জিবরাঈল (আঃ) মনে মনে খেয়াল করলেন আমার থেকে এত বড় দামি, এত বড় লম্বা সিজদা দুনিয়ার আর কেউ করতে পারবে না।
আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয় আমার প্রতি খুশি হবেন।
জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহ তায়ালার দিকে মুতাহজ্জির হয়ে রইলেন কিন্তু আল্লা তায়ালার পক্ষ থেকে কোন খুশির বাণী জনান হল না, জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহ তায়ালা কে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ আমি যে এত লম্বা সিজদা করলাম আপনি কি আমার সিজদার প্রতি কোন খুশি হন নাই? আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিলেন - জিবরাঈল তোমার জবাব আমি দেব তার আগে তুমি একটু আরশে আজিমের দিকে তাকাও, জিবরাঈল (আঃ) তাকিয়ে দেখলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরশে আল্লাহর কুদরতী নূর দ্বারা লিখা রয়েছে- ''লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ''
জিবরাইল (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহ্!! আমার সিজদার সংগে এই কালিমার কি মিল?? আল্লাহ তায়ালা বললেন, ও জিবরাইল শোন আমি আল্লাহ এ দুনিয়া তৈরী করব ওই দুনিয়ার মানব জাতি ও জিন জাতির হিদায়াতের জন্য লক্ষাধিক নবি-রাসূলগনকে পাঠাব সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ কে পাঠাব
এই নবীর উম্মতের উপরে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করব আর প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে সতেরটা করে রাকাত আমার জন্য ফরয করব প্রত্যেকটা রাকাতের মধ্যে দুটি করে সিজদা হবে আর প্রত্যেকটা সিজদার মধ্যে ওই নবির উম্মত তিনবার করে "সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা-" পাঠ করবে। জিবরাইল তুমি জেনে রাখ আমার ওই মাহবুব নবীর উম্মত যখন সিজদায় গিয়ে "সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা-" বলে আমাকে ডাক দিবে, জিবরাইল তুমি ৩০ হাজার বছর সিজদা করে যে নেকি পেয়েছ, আমি আল্লাহ্ আমার বান্দার আমল নামায় এর থেকেও ৪০ হাজার গুন বেশি নেকি লিখে দিব, সুবহানাল্লাহ...!!
এই জন্য মুসা (আঃ) কাঁদছেন, আল্লাহ!! আমাকে ওই নবীর উম্মত বানাইয়া দাও, যে নবীর উম্মত এক সিজদায় জিবরাঈল (আঃ) এর সারা জীবনের ৩০ হাজার বছরের সিজদার নেকি নিয়ে গেল।।
আমরা সেই নবীর উম্মত আমাদের কি করা উচিত আর আমরা কি করছি...?
আল্লাহ আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার তৌফিক দিন।
আমিন..
12/11/2021
Assalamuallaykum 🤝
Jar jeta pocndo inbox me
11/11/2021
সিজদাহ দীর্ঘ করবেন কেন?
সালাতের সবচেয়ে মধুর অংশ সিজদাহ।
এ সময় মানুষ আল্লাহর সবচেয়ে কাছে থাকে। আল্লাহকে ডাকার,
আল্লাহর কাছে মনের আবদারগুলো তুলে ধরার,
না-পাওয়া চাওয়াগুলো,
মনের গভীরের ব্যথাগুলো ব্যক্ত করার
সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এটা।
আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও অনুগ্রহ),
তিনি বলেছেন জুতোর ফিতে চাইলেও যেন
আল্লাহর কাছে চাই
সিজদার এই মাহাত্ম কেউ যখন বোঝে,
তখন সিজদাহ হয় পরম আরাধ্য।
দীর্ঘ হয় সিজদাহ।
নত মাথায় একের পর এক তুলে ধরতে থাকে
বুকের জমানো ব্যথাগুলো।
একান্ত মিনতিগুলো।
দুনিয়া ও আখিরাতের সব চাওয়াগুলো।
এ এক অদ্ভুত কথোপকথন।
স্রষ্টা আর সৃষ্টির মাঝে কোনো ব্যবধান নেই।
কোনো মাধ্যম নেই।
সৃষ্টি তার স্রষ্টার সঙ্গে কথা বলছে সরাসরি।
স্রষ্টা সেগুলো শুনছেন।
প্রস্তুত করছেন প্রতিদান।
সব প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা সেই আল্লাহর জন্য,
যিনি আমাদেরকে সিজদার মতো একটি
অনুগ্রহ দান করেছেন।
অন্তরের বাসনাগুলো চাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
চাকুরি পাচ্ছেন না?
সিজদায় পড়ে আল্লাহকে জানান।
চাকুরি পেয়েছেন,
সিজদায় যেয়ে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। সংসারে সমস্যা?
আল্লাহকে বলুন।
সন্তান ইসলামের উপর নেই?
আল্লাহর সামনে নত হয়ে দু‘আ করুন।
নিজে ইসলামে এসেছেন,
কিন্তু পরিবারের প্রিয়জনদের ইসলামের পথে আনতে পারছেন না?
কোনো দীনি ভাই/বোনকে
আল্লাহর জন্য ভালোবাসেন।
কিন্তু তার কোনো কর্মকাণ্ড পছন্দ হচ্ছে না?
সহজ সমাধান — সিজদায় লুটিয়ে পড়ুন।
কী দরকার? শুধু আল্লাহকে বলুন।
যা চাচ্ছেন, তা না দিলেও,
বা তৎক্ষণাৎ না-পেলেও,
আল্লাহ নিজের জ্ঞানে
আপনার জন্য যেটা যখন ভালো মনে করেন,
সেটা তখনই দেবেন — এই বিশ্বাস রাখুন।
আমাদের জন্য আল্লাহর দুয়ার সবসময় খোলা।
আমরা সেই দুয়ারে কড়া নাড়ছি তো?
— — — — — — — — — — —
“সিজদাহ করে আল্লাহর কাছাকাছি হও।”
[সূরাহ আল-‘আলাক়, ৯৬:১৯]
“তোমাদের প্রতিটা প্রয়োজনের জন্য
আল্লাহর কাছে চাও।
সেটা যদি লবণ হয়,
এমনকি জুতোর ফিতে যদি ছিঁড়ে যায় তবুও।”
[জামি‘ আত-তিরমিযি,
হাদীস নং ৩৬০৪, হাসান]
07/10/2021
রাসূল সাঃ ছিলেন ভীষণ রোমান্টিক একজন স্বামী। স্ত্রীদেরকে ভালোবাসার কথা অকপটে জানাতেন। রাতের বেলা আয়েশা রাঃ-কে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। হালকা গল্প করতেন। দু’জন একসাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। হেরে গেলে পরেরবার আয়েশা রাঃ-কে হারিয়ে তার প্রতিশোধ নিতেন।
আয়েশা রাঃ পাত্রের যে দিক থেকে পান করতেন উনিও সেখান থেকে পান করতেন। আয়েশা রাঃ হাড্ডির যে স্থান থেকে কামড় দিয়ে খেতেন, উনি সেই স্থানেই কামড় দিয়ে খেতেন। একবার হাবশিরা যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলছিল। রাসূল সাঃ আয়েশা রাঃ-কে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। তারপর আয়েশা রাঃ সে খেলা দেখতে থাকেন রাসূল সাঃ-এর কাঁধ ও কানের মধ্যে দিয়ে। আয়েশা রাঃ যে খেলা দেখা খুব উপভোগ করছিলেন, তা কিন্তু না। তিনি দেখতে চাইলেন রাসূল সাঃ কতক্ষণ তার জন্য এভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। একসময় আয়েশা রাঃ-ই ধৈর্য হারিয়ে চলে গেলেন।
আরেকবার আয়েশা রাঃ তাঁকে বিশাল এক গল্প বলা শুরু করলেন। উনি ধৈর্য ধরে পুরো গল্পটা শুনে গেলেন। শুধু তাই না, গল্প নিয়ে সুন্দর মন্তব্যও করলেন। মৃত্যুর ঠিক আগে আয়েশা রাঃ-এর ব্যবহার করা মিসওয়াক তিনি ব্যবহার করেছিলেন। দু'জনের লালা এক হয়ে গিয়েছিল। আর আয়েশা রাঃ-এর কোলে মাথা রেখেই তিনি আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করেন।স্ত্রীদের আদর করে ছোট ছোট নামে ডাকতেন তিনি। কখনো ভালোবেসে আলাদা একটা নামই দিয়ে দিতেন।
আয়েশা রাঃ-কে আদর করে ডাকতেন ‘হুমাইয়ারা’ (লাল-সুন্দরী) নামে।আয়েশা রাঃ কখনোই মা হতে পারেননি। তাই যখন তার বোন একটি ছেলে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন রাসূল সাঃ বললেন, “ছেলেটার নাম হবে ‘আব্দুল্লাহ’। আর আজ থেকে তুমি হচ্ছো ‘উম্মে আব্দুল্লাহ’ (আব্দুল্লাহর মা)।" সবাই এরপর থেকে আয়েশা রাঃ-কে ‘উম্মে আব্দুল্লাহ’ নামেই ডাকত। অনেকেই তাদের স্ত্রীকে আদর করে ‘ময়না-পাখি’, ‘জানু’- এসব নামে ডেকে থাকেন। তারা হয়তো জানেনও না যে, নিজের অজান্তেই তারা রাসূল সাঃ-এর একটি সুন্নাহ অনুসরণ করছেন।
সাফিয়া রাঃ ছিলেন খাটো গড়নের। তাই যখন তিনি বাহনে আরোহণ করতেন তখন রাসূল সাঃ তাকে ঢেকে দিতেন। তারপর হাঁটু বিছিয়ে দিতেন। সাফিয়া রাঃ সেই হাঁটুতে পা দিয়ে বাহনে আরোহণ করতেন। প্রত্যেক স্ত্রীই তাঁর কাছে ছিলেন রাণীর মতো। একজন রাণী রাজার কাছ থেকে যতোটা মর্যাদা পান, তাঁর স্ত্রীরা তার চেয়েও বেশি সম্মান পেতেন। প্রিয়তমাদের অনুভূতির দিকেও রাসূল সাঃ সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। নিজের জীবনে দুঃখ-কষ্টের কোন শেষ ছিল না,
তারপরেও স্ত্রীদের কষ্ট তাঁর চোখ এড়িয়ে যেত না। একবার আয়েশা রাঃ-কে বললেন, “আয়েশা! তুমি কখন আমার উপর সন্তুষ্ট হও, আর কখন রাগ করো, আমি কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারি।” আয়েশা রাঃ অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, “কীভাবে আপনি তা বোঝেন?” রাসূল সাঃ বললেন, “যখন আমার উপরে সন্তুষ্ট থাকো, তখন তুমি বলো, ‘এমন নয়; মুহাম্মাদের রবের কসম।' আর যখন কোন কারণে রাগ করো, তখন বলো, ‘এমন হয়; ইব্রাহীমের রবের কসম।’
একবার সব স্ত্রীদের নিয়ে রাসূল সাঃ ভ্রমণে বের হলেন। হঠাৎ করেই সাফিয়া রাঃ-এর উটটি অসুস্থ হয়ে বসে পড়ল। সাফিয়া রাঃ এ অবস্থা দেখে কেঁদে ফেললেন। তখন রাসূল সাঃ এসে তার চোখের পানি নিজ হাত দিয়ে মুছে দিলেন। বিদায় হজ্জের সময় তিনি লক্ষ্য করলেন যে আয়েশা রাঃ কাঁদছেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আয়েশা রা-এর মাসিকের সময় শুরু হয়েছে। তাঁকে সান্তনা দিয়ে বললেন, “সকল নারীদের জন্যই আল্লাহ্ এটা নির্ধারিত করে দিয়েছেন। হজ্জ করতে যা করা প্রয়োজন তুমি তার সবই করো, শুধু তাওয়াফটা করো না।” অনেক স্বামীই স্ত্রীদের মাসিক শুরু হলে তাদের অছ্যুৎ মনে করে দূরে দূরে থাকেন। রাসূল সাঃ মোটেও এমন করতেন না। আয়েশা রাঃ-এর মাসিকের সময়েও তিনি তাঁর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন। সে অবস্থাতেই তিনি রাসূল সাঃ-এর চুল আঁচড়ে দিতেন। একরাতে তিনি মায়মুনা রাঃ-এর সাথে একই চাদরের নিচে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ মায়মুনা রাঃ-এর মাসিক শুরু হলে তিনি দ্রুত উঠে পড়েন যাতে রাসূল সাঃ-এর পবিত্র দেহে রক্ত না লাগে। রাসূল সাঃ সব বুঝতে পেরে তাঁকে ডেকে কাছে নিয়ে আসেন। দুজন আবার একই চাদরের নিচে শুয়ে থাকেন।
স্ত্রীরা অসুস্থ হলে তিনি নিজে তাঁদের রুকিয়া করে দিতেন। জীবনসঙ্গিনীদের কাজের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে কষ্ট দিতেন না। নিজের কাজ নিজেই করতেন। নিজের জুতো নিজ হাতেই ঠিক করতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন, নিজেই নিজের কাপড় ধুতেন। ছাগলের দুধ দোয়াতেন। স্ত্রীদেরকে ঘরের কাজে সাহায্য করতেন। ঘন ঘন মিসওয়াক করতেন। সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। শরীরে যাতে কোন দুর্গন্ধ না থাকে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। কখনোই কোন নারীকে তিনি প্রহার করেননি। মানুষদেরকে স্ত্রীদের প্রতি সদয় হবার নির্দেশ দিতেন। বলতেন, “নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে পাজরের বাঁকা হাড় থেকে। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে কিন্তু ভেঙ্গে ফেলবে।”
বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি পুরুষদেরকে নারীদের প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। মক্কার কুরাইশ নারীরা ছিল স্বামীর প্রতি অনুগত। অপরদিকে, মদিনার নারীরা ছিল কিছুটা বিপ্লবী মনোভাবের। হিজরতের পর কুরাইশ নারীরা আনসার নারীদের সাথে মেলা-মেশা করেন। ফলে তাঁদের মধ্যেও প্রবল আত্নসম্মানবোধের উদয় হয়। এ অবস্থা দেখে রাসূল সাঃ তাঁর স্ত্রীদের সাথে কুরাইশ পুরুষদের মতো আচরণ করেননি, বরং একজন আনসার যেভাবে তার স্ত্রীদের সাথে আচরণ করতেন, তিনিও সেরকম আচরণ করতেন। সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখিয়েছেন তিনি। একবার তিনি আয়েশা রাঃ-এর ঘরে থাকাকালে সাফিয়া রাঃ খাবার পাঠালেন। আয়েশা রাঃ ঈর্ষাকাতর হয়ে সে পাত্র ভেঙ্গে ফেললেন। অনেক পুরুষই এ ক্ষেত্রে ক্ষেপে যেতেন। কিন্তু রাসূল সাঃ রাগ করলেন না। নিজ হাতে ভাঙ্গা পাত্রের টুকরো কুড়াতে কুড়াতে ভৃত্যকে বললেন, “তোমাদের মায়ের (আয়েশার) ঈর্ষা এসে গেছে।”.
আবার, রূপকথায় যেমন ‘অতঃপর রাজা-রাণী একত্রে সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল’- এমন দেখা যায়, তাঁর জীবন তেমনও ছিল না। তাঁর স্ত্রীরা কখনো কখনো রাগ করে তাঁর সাথে সারাদিন কথা বলতেন না। তিনি সহ্য করতেন। একবার তিনিই রাগ করে এক মাস তাঁর স্ত্রীদের সাথে দেখা করেননি। কারো কোন আচরণে কষ্ট পেলে কখনোই উগ্রপন্থা অবলম্বন করতেন না। যে স্ত্রীর প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হতেন, তাঁর সাথে কথা বলা কমিয়ে দিতেন। হাসি-ঠাট্টা করা কমিয়ে দিতেন। এক সময় সেই স্ত্রীই নিজের ভুল বুঝতে পারতেন। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতেন। স্ত্রীদের প্রতি আচরণে কখনো পক্ষপাতিত্ব করতেন না।
একবার আয়েশা রাঃ সওদা রাঃ-এর গালে খাবার মাখিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূল সাঃ হাসতে হাসতে সওদা রাঃ-কে বললেন, তিনি যাতে আয়েশা রাঃ-এর গালে খাবার মাখিয়ে দেন। দুই সতীনের গালে খাবার মাখামাখি হয়ে একাকার হলো। যয়নাব রাঃ একবার আয়েশা রাঃ-কে কড়া কথা শোনালে আয়েশা রাঃ তার যথাযথ জবাব দেন। রাসূল সাঃ তখন আয়েশা রাঃ-এর পক্ষ নেন। আবার আয়েশা রা যখন সাফিয়া রাঃ-এর খাটো অবয়ব নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছিলেন, তখন তিনি ঠিকই সাফিয়া রাঃ-এর পক্ষ নিয়েছিলেন। আয়েশা রাঃ-কে সাবধান করে বলেছিলেন, “তুমি এমন কথা বলেছো, যেটা সমুদ্রে নিক্ষেপ করলে গোটা সমুদ্রের পানি দূষিত হয়ে যেতো।”
একদিন ঘরে এসে দেখলেন সাফিয়া রাঃ কাঁদছেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন, হাফসা রাঃ সাফিয়া রাঃ-কে ‘ইহুদীর মেয়ে’ বলেছেন। তিনি সাফিয়া রাঃ-কে সান্তনা দিয়ে বললেন, “তুমি একজন নবীর (হারুন আঃ) কন্যা, একজন নবী (মূসা আঃ) তোমার চাচা, আরেক জন নবী তোমার স্বামী। কীভাবে সে (হাফসা রাঃ) তোমার থেকে উত্তম হয়?” স্ত্রীদের হাতে কলমে ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। রমজানের শেষ দশকে রাতে সব স্ত্রীদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। আল্লাহর ইবাদত করতে বলতেন। আয়েশা রাঃ-কে বলতেন, “একটি খেজুর দিয়ে হলেও আগুন থেকে বাঁচো।” আয়েশা রাঃ-কে ছোট ছোট গুনাহের ব্যাপারে সাবধান করে দিতেন। আবার তাঁর স্ত্রীরা যাতে ইবাদতে উগ্রপন্থায় চলে না যান, সেদিকেও খেয়াল করতেন। সুযোগ পেলেই স্ত্রীদের সাথে হাসি-তামাশা করতেন।
ছোটবেলায় আয়েশা রাঃ পুতুল নিয়ে খেলতেন। রাসূল সাহ তাঁর একটি পুতুল দেখিয়ে বললেন, ‘এটা কী?’ আয়েশা রাঃ জবাব দিলেন, ‘ঘোড়া।’ রাসূল সাঃ আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘোড়ার মধ্যে এ দুটি কী?’ আয়েশা রাঃ বললেন, ‘এটা হচ্ছে ঘোড়ার ডানা।’ রাসূল সাঃ কৌতুক করে বললেন, ‘ঘোড়ার আবার দুইটা ডানাও রয়েছে?’ আয়েশা রাঃ কম যান কীসে? সেই বয়সেই তিনি জবাব দিলেন, ‘বারে! আপনি কি জানেন না যে, সুলাইমান আঃ-এর ঘোড়ার দুইটা পাখা ছিল।’ আয়েশা রাঃ-এর জবাব শুনে রাসূল সাঃ এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর দাঁতের মাড়ি প্রকাশ পেয়ে গেলো।
আরেকদিন ঘরে এসে দেখলেন আয়েশা রাঃ মাথা ব্যাথায় অতিষ্ঠ হয়ে বলছেন, “হায়! মাথা ব্যাথা।” রাসূল সাঃ মজা করে বললেন, “আয়েশা! বরং আমার মাথায় ব্যথা হয়েছে। তোমার কোন সমস্যা নেই। তুমি যদি আমার পূর্বে মারা যাও তবে আমি তোমার পাশে থাকব, তোমাকে গোসল দিব, তোমাকে কাফন পরাব এবং তোমার জানাযার সলাত আদায় করব।” আয়েশা রাঃ বললেন, “হু! আমি মারা যাই (আর সে রাতেই আপনি আমার ঘরে অন্য বিবিকে নিয়ে থাকেন।)” জবাব শুনে রাসূল সাঃ হেসে ফেললেন।
রাসূল সাঃ-এর জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই উমার রাঃ-এর মতো কঠোর স্বভাবের মানুষ পর্যন্ত বলেছিলেন, “একজন মানুষের উচিত তার স্ত্রীর সাথে শিশুর মতো খেলা করা। আর যখন প্রয়োজন তখন বাইরে আসল পুরুষের মতো আচরণ করা।”রাসূল সাঃ ছিলেন স্বামী হিসেবে পৃথিবীর সকল স্বামীর রোল-মডেল। তাঁর স্ত্রীরাই সে কথার সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। আয়েশা রাঃ তাই তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলতেন, “কেন আমার মতো একজন নারী আপনার মতো একজন পুরুষকে নিয়ে সম্মানবোধ করবে না?” সাফিয়া রাঃ নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন,“আমি আল্লাহর রাসূলের চেয়ে উত্তম আচরণের কোন ব্যক্তিকে দেখিনি 💕💕💕💕💜
"যেমন ছিলেন তিনি"—১ম খন্ডের ১ম অধ্যায়,,,
"পর্ব ১ —স্ত্রীদের সাথে আচরণ"
শায়খ সালিহ আল মুনাজ্জিদ (সৌদি আরব) book: "interactions of the greatest leader"
26/09/2021
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka