Ne El
story Hub
04/09/2025
চিন্তায় আমার কিছু ই ভাল্লাগে না । ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি। দুয়ে দুয়ে চার যেনো মিলছেই না। হয় তিন নয় পাঁচ হচ্ছে। জীবনের করা ৬ বছর আগের পাপ যেনো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি। ভুল তো করে ফেলছি সে কবেই, এখন ইচ্ছে করলেও আমি তা ঠিক করতে পারব না। নাহ, কেউ পারবে না। তবে পুরোনো জিনিস টা এখন, এভাবে কেন? এই পাঁচ টা বছর তো আমি সুখেই ছিলাম, কোন পাপ পিছু টানে নাই তবে আজ কেন? এগুলো ভাবতেই, হঠাৎ ছাদের দরজাটা চিকন উদ্ভুত শব্দে খুলে গেলো। মৃদু আলোতে কেউ দাঁড়িয়ে আছে, আমি তার দিকে তাকালাম....
আমি ধ/র্ষক! হা, সত্যি! ছয় বছর আগে একটা নিরীহ মেয়েকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে আমরা ছয় বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে মেয়েটির লাশ পুরিয়ে ফেলেছি। মেয়েটি দেখতে ছিলো লোভনীয়, নামে মতো, এ্যালিনা। আজ ও কেউ জানে না এই খবর। গরীব ঘরের মেয়ে, তার বাবা মা হাল্কা পাতলা কেইস করছে, আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে, তাই আব্বা তখন এই ঘটনা কে ধামাচাপা দিয়েছে খুব ইজিলি। এতো বছর পর পুলিশ সেই কেইসের সূত্র ধরে একটু আগে আমার বাসায়।
যদিও কোনো প্রমাণ পায় নাই তবে, আমার স্ত্রী আমার দিকে নিরব চোখে তাকিয়ে দুফোঁটা জল ফেলে, মেয়েকে নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। আমার একটা সাফাই শুনতে চাইল না।
ছাদের দরজা থেকে, গাঢ় বাদামী রঙের দু_জোড়া শীতল চাহনি আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে রহস্যময় হাঁসি, যেনো আমার সামনে স্বয়ং এ্যালিনা দাঁড়িয়ে আছে। আমি একটু ভয় পেলাম বটে তবে তা মুখের এক্সপ্রেশন এ বুঝতে দিলাম না। নিজেকে একটু ঠিক করে, আবার তাকালাম......
পাঁচ বছর বয়সী এই ছোট্ট মেয়েটির চোখে এতো অদ্ভুত শক্তি, মূহুর্তে ই আমি আমার চিন্তাধারার বিচরণ করতে লাগলাম। গুনে গুনে ৫ টা খুন হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এর মূল পর্যন্ত যেতে পারে নাই পুলিশ।
ভাবছেন? এতে আমার কি? আসলে সেই ৫ জন আমার খুব কাছের বন্ধু। যৌবন বয়সের সব কৃর্তিকলাপ যাদের সাথে করেছি! প্রত্যেকে মৃত্যুর আগে আমাকে ই কল দিয়েছিলো, বলেছিলো - ৬ বছর আগে আমরা ভুল করেছি, পাপ করেছি, যার ক্ষমা হয় নাই, আজ মাশুল দিচ্ছি....." তারপর ই কল কেটে যায়।
সাধারণ খুনের মতো এই খুনগুলো হয় নাই, যেনো প্রতিটি সূক্ষ্ম গনিত ক্যালকুলেশন করে করা হয়েছে। তবে এদের মধ্যে একটা ইন্টার কানেকশন আছে, পুলিশ জানালো, আমাদের বাড়ির এই পাঁচ বছর বয়সী মেয়েটা।
আমি এগুলো এতোটাই ভাবতেছি, যে কখন আমার অতি নিকটে মেয়েটি চলে এসেছে আমি টের ই পেলাম না। হঠাৎ করেই সে আমার হাতে ধরলো, আমি চমকে উঠলাম। ইশারায় আমাকে বসতে বললো। আমি ও বাধ্য হয়ে হাঁটু গেড়ে বসলাম। আমার কানে ফিসফিস করে বলল - " পুনর্জন্ম আর হবে না, মেনে নাও, না হয় প্রতিশোধ নিতে ফিরে এসো নয়া নয়া রুপে...."
আমি চমকে উঠে দাঁড়ানো চেষ্টা করতেই, মেয়েটা আমাকে ধাক্কা দিলো, ছাদে রেলিং নেই, আমি আর সামলাতে পারলাম না, নিচে পরে যাচ্ছি। পাঁচ তলা থেকে নিচে পরতে পরতে দেখলাম মেয়েটা একটা মহিলা কে জড়িয়ে ধরে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বাবা বলে চিৎকার দিলো । সাথে সাথে ই আমি জমিতে আছড়ে পরলাম। মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, তবুও আমি উপরের দিকে তাকিয়ে আছি, মেয়েটা মহিলাটিকে জড়িয়ে ধরলো, মহিলাটি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে! সে যেনো তৃপ্তি নিয়ে দেখছে? মহিলাটি কে? এ্যালিনা ?
#এ্যালিনা
(ছোট গল্প)
(নীল_নূর)
অভিশাপ দিচ্ছি না!!
তুমি যদি মনে করো আমার সাথে তুমি যা করেছো সব ঠিক, তাহলে তোমার জীবনে যেন সেই ঠিক গুলো প্রতিনিয়ত অক্ষরে অক্ষরে হয়!!😅😅
22/10/2024
অথচ আমি কতটা ভিন্ন ভাবতাম !!!
রোজ কুয়াশায় ভেজা শিউলি ফুলের মত,
আমি নামক কথার বান্ডুলী ঝরে পরে 🥀🥀
18/10/2024
হুড়্রে💃💃
17/10/2024
তুমি আমার না হয়েই ভালো করছো।
তুমি আমার হয়ে গেলে, ৬৩ বছর পর যখন তোমাকে রেখে মা'রা যেতাম
'সারাজীবন তোমার পাশে থাকবো' বলে তোমাকে দেওয়া কথাটা তখন ভু'ল প্রমাণিত হতো। কথা দিয়ে কথা না রাখার অপ'রাধে সৃষ্টি কর্তার কাছে দায়ী থাকতাম আমি।
তুমি আমার হয়ে গেলে, কোনো কারণে যখন রা'গ করতাম তোমার সাথে তখন আমাকেই খারা'প লাগতো খুব। তোমার চোখের পানিতে ভেসে যেত আমার কুল। তখন আমার মনে তোমাকে নিয়ে আফসোস জন্মাতো।
তুমি আমার হয়ে গেলে, আমাকেই শুধু ভালোবাসা লাগতো তোমার, অনেক অনেক ভালোবাসা লাগতো আমায়। অন্য কারো সাথে তোমার ফ্রি-মাইন্ডের বলা কথা গুলোয় আমার হিং'সে হতো খুব। তোমার প্রতি একটা অভি'যোগ জন্ম নিতো আমার।
তুমি আমার হয়ে গেলে, সারাজীবন ব'ন্ধি থাকতে হতো আমাতে। তুমি যখন অন্য কারো সাথে হেসে হেসে কথা বলতে, আমার সহ্য হতো না। আমি রে'গে যেতাম খুব এবং তুমি ক'ষ্ট পেতে। তোমার ক'ষ্টে আবার আমিই ক'ষ্ট পেতাম।
তুমি আমার হয়ে গেলে, বিড়াট বড় সম'স্যা হয়ে যেতো তোমার। এই ধরো, সারাদিন তোমার খোঁজ খবর নিতাম, খেয়েছো কি'না, কি করো অথবা ঘুমানোর সময় তোমাকে বুকে শ'ক্ত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে যেতাম। কিন্তু তোমার তো গায়ে কারো স্পর্শ লাগলেই ঘুম হয় না;
তুমি আমার হয়ে গেলে, কোনো কারণে যখন মায়ের সাথে ঝ'গ'ড়া করতে তখন তোমার সাহসিকতার জন্য তোমাকে প্রচুর ব'কা-ঝ'কা করতাম কিংবা আব্বার যত্ন নিতে গিয়ে যখন বির'ক্তির চিহ্ন চোখে মুখে মে'খে নিতে আমি প্রচুর ক'ষ্ট পেতাম।
তুমি আমার হয়ে গেলে, তোমার জি'দের কারণে যদি কখনো মনে হতো 'তোমাকে ভালোবাসাটাই ভু'ল ছিল' তখন তোমার প্রতি একটা আ'ক্ষে'প জন্মাতো। একটা ঘৃ'ণার জন্ম হতেই পারতো তোমার জন্য। এই ঘৃ'ণা'টার জন্ম না দেওয়া জন্য হলেও তুমি অ'ন্যের হয়ে বেশ উপকার করেছো।
তুমি আমার হয়ে গেলে, আমার পরিবারের লোকজন যখন তোমাকে কোনো কারণে ভু'ল বুঝতো বা কথা শো'নাতো তখন তুমি মন খারা'প করতে ভী'ষণ। রাতে যখন কাজ শে'ষে বাসায় ফিরতাম তখন আমার পরিবারের কথা আমা'কেই বানিয়ে বানিয়ে বলতে তুমি। খুব ক'ষ্ট হতো আমার;
তুমি আমার হয়ে গেলে, বৃদ্ধ বয়সে যখন আমাদের বউমা আমার সামনে তোমাকে কথা শোনাতো, আমার কাঁ'ন্না পেতো ভীষ'ণ; অথবা তোমার সামনেই যখন আমাদের ছেলে তার বউয়ের কথায় আমাকে গা'লি-গা'লা'জ করতো কিংবা অ'যত্নে রাখতো তোমার স'হ্য হতো না এসব।
তুমি আমার হয়ে গেলে, বৃদ্ধ বয়সে যখন আমাদের ছেলেরা আমাদের ভরণ পোষণের দা'য়িত্ব থেকে ব'ঞ্চিত থাকতো, তখন তোমাকে ভালো রাখতে না পারার ক্ষো'ভে বুকটা ফে'টে যেতো আমার। তোমার চোখে পানি আসতে না দেওয়ার সং'গ্রামে আমিই হা'উ'মা'উ করে কেঁ'দে দিতাম।
তুমি আমার হয়ে গেলে, মৃ'ত্যু স'য্যায় তোমাকে নিয়ে চিন্তা হতো খুব আমার, আমি ম'রে গেলে কে তোমায় ভালোবাসবে, কে তোমায় বুকে নিয়ে ঘুমাবে, কার বুকে তুমি মাথা গু'জবে, এসবের ভ'য়ে একটা দায়িত্ব'হী'নতায় ভু'গে ম'রতে হতো আমাকে।
তুমি আমার হয়ে গেলে, তোমাকে যখন সারাজীবনের জন্য এ'কা করে ওপারে চলে যেতাম- পৃথিবীর বুকে তুমি হয়ে যেতে একা। ম'রে গিয়েও শান্তি হতো না আমার; আমার মৃ'ত্যুতে শো'কাহ'ত হতে তুমি; তোমার অ'সুস্থ পাতলা শরীরটা আরও রো'গা হয়ে যেত; তুমি আমার শো'কে, না খেয়ে- না খেয়ে রাতের পর রাত পার করতে, ভালো থাকতে না তুমি।
তুমি আমার হয়ে গেলে, যখন আমি দুনিয়া ছে'ড়ে চলে যেতাম 'তোমাকে কখনো ছে'ড়ে যাবো না' কথা'টা ভু'ল হয়ে যেতো। তোমার বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে একা হয়ে আসতা এ বাড়িতে আমার ভরসায়। কিন্তু ম'রে গিয়ে তোমাকে আবার একা করে যেতাম আমি।
সবশে'ষে তুমি আমার না হয়েই ভালো করছো
আমার হয়ে গেলে, তোমাকে ভালোবাসতাম ঠিকিই কিন্তু আমার দ্বারা ক'ষ্টও তো পেতে পারতে তুমি; এখন তুমি অন্য কারো, তোমার আমার দ্বারা ক'ষ্ট পাবার নিশ্চয়তা শতভাগ নেই। তবে
তুমি অন্যের হয়ে আমারই বেশ সু'বিধা করে'ছো, তোমাকে আমি দূর থেকে ভালোবাসার সুযোগ পেয়েছি। মোনাজাতে চোখের পানি ফেলার মতো ক'ষ্ট পেয়ে'ছি, মোনাজাতেও প্রতিনিয়ত তোমার ভালো চেয়েই চলেছি।
ভালো থেকে তুমি...
~ কবি মশাই
05/10/2024
ুদ্ধতার_চাদরে
৭
কেটে গেল আরো দুই দিন। জীবনের ভালো সময়গুলোর মধ্যে এই দুটি দিনের সময় ও খুব সুন্দর। অপরিচিত মানুষের কাছে কয়দিন ই বা সুখ কুঁড়াবো? তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজের জন্য একটা চাকরি খুঁজব। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, কারন এ দুনিয়ায় আমি আমার ছাড়া আর কেউ ই নেই....
দুনিয়া বড্ডই জটিল। তার চেয়ে বেশি জটিল এ সমাজে মেয়ে হয়ে টিকে থাকা। তার উপর যদি আমার মতো সর্বোহারা হয়, তাহলে এই দুঃখের কোন শেষই নেই....
চাকরি খুঁজতে এসে দেখলাম, টাকা প্রয়োজন, মামা খালু প্রয়োজন, সর্বশেষ সার্টিফিকেট প্রয়োজন। দিনশেষে যার আছে, সেই ই চাকরি পায়।
পড়ন্ত এক বিকেল, ঢাকা শহরে সবকিছু ই নিজস্ব নিয়মে চলমান, এক আমি ই নিজ স্থানে স্তব্ধ!! বিস্তৃত এক খোলা জায়গা, সম্ভবত এরকম জায়গা কেই পার্ক বলে। আশেপাশে কতো রঙ্গ কাহিনী। চোখ মেলে একবার তাকালাম, ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছা টা আরো তীব্র হলো।
ফাঁকা একটা স্থান এ বসলাম। খুব করে মা বাবা কে মনে পরছে। গত মাস খানেক আগেও আমার জীবনে মা ছিলো, ভাই ছিলো!! আমি আমার বলতে আপনজন কে চিনতাম, তবে আজ আমি নিঃস্ব। জায়গার স্থান নেই, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার কেউ নেই, নেই কোথাও কেউ নেই.....
হাল্কা শিশিরে ভেজা ঘাস গুলোর উপর বসে আকাশের দিকে তাকালাম। আসেপাশে দেখার কোনো ইচ্ছা নেই। মনে ব্যাথা, পড়ন্ত বিকেলের আকাশ টা বড্ড লোভনীয়। আকাশের দিকে তাকালাম। না চাইতেও চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরছে, আর আমি আমার কল্পনার জগতে প্রবেশ করতে শুরু করছি, এই সময়ে নিজেকে থামানোর বিন্দুমাত্র ও ইচ্ছা জাগলো না, মন বলছে, এই ব্যাথা থেকে একটু দূরে নির্জনতায় হারিয়ে যাই....
হঠাৎ করেই কারো কথার তীরে কল্পনার জগতে প্রবেশ করেও বাস্তবে ফিরে এলাম। কথার তীরটা মস্তিষ্কে প্রবল পরিমানে আঘাত করলো। এই কন্ঠস্বর কোথাও শুনেছি। কেউ একজন বললো - ওয়াও!! মিস. বিউটি উইথ নো ব্রেন!! হোয়ট অ্যা সারপ্রাইজ।
ধ্যান ভাঙল। মাথা হেলিয়ে অপর পাশে তাকিয়ে হুডি পড়া ছেলেটিকে দেখে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম। চেনা পরিচিত মনে হচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই, সে হুডি টা খুলে ফেলল, বলল- উপকারীর উপকার তো করলেন ই না, কৃতজ্ঞতা ও স্বীকার করছেন না, উল্টো চিনতেই পারছেন না!! (বলেই হেঁসে উঠলো)
চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছে এতোক্ষণ এ আমার। কি অদ্ভুত লোক রে বাবা। আরে ভুলেই তো গেছিলাম, এই লোকটির কথা। কি যেন নাম.... রুদ্র!! হা, মনে পরেছে, আমি কিছু বলার আগেই রুদ্র মানব বলে উঠলো...
রুদ্র - মিস. বিউটি উইথ নো ব্রেন!! এটা ঢাকা শহর। কেউই কারো আপন নয়। এখানে সবাই স্বার্থ খোঁজে। তাই পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। শুনলাম, আপনার নাকি চাকরি প্রয়োজন!!!
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। চোখে মুখে কিউরিওসিটি জেগে উঠলো। এর ই মধ্যে রুদ্র তার পকেট থেকে একটা কার্ড বের করলো, আমার সামনে রেখে বললো, যদি কাজ করতে চান, কাল এই ঠিকানায় চলে আইসেন।(একটু বাঁকা হাঁসি দিয়ে) কাজের শর্ত কিন্তু দারুণ হ্যান্ডসাম, আপনি যা চান তাই পাবেন আর আমি (হো হো হো করে হেসে উঠলো)
রুদ্র দাঁড়িয়ে গেল। হুডি টা দিয়ে নিজেকে আবারো আড়াল করে ফেললো। হাতে থাকা বই টি দেখে তৃতীয়বারের মতো অবাকের শীর্ষচূড়ায় পৌঁছে গেলাম। ব্রেট ইস্টন এলিস এর দ্বিতীয় উপন্যাস, আমেরিকান সাইকো!!
চশমা টা পড়ে, গুনগুনিয়ে গান ধরলো....
....তোমারও জানালা কি ভিজেছে এমন?
তুমিও কি আমাকে ভেবেছো আনমনে?
এমন শ্রাবণ দিনে,এ ভীষণ প্লাবনে
হয়তো কোথাও আছো তুমি
তোমারও জানালা কি ভিজেছে এমন?
অনেকদিনের পরে চিলেকোঠায় এই ঘরে
রিমঝিম অঝর শ্রাবণ
আমিও আছি তেমন
সেদিনও ছিলাম যেমন ঘোর বরষায়
তোমারও জানালা কি ভিজেছে এমন?
তুমি কি তেমনই আজও মেঘমল্লারে বাজো
খোলা ছাদের তুমুল স্রোতে
আকাশে দু' হাত পেতে
কী যেন বলতে তুমি মেঘের কানে
তোমারও জানালা কি ভিজেছে এমন....
রুদ্র খুব ই দ্রুত চোখের আড়াল হয়ে গেল। আমার হুঁশ ফিরল। এতো_ক্ষনের ঘটনা মাথায় আসতেই, শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল।
কি আজব লোক রে বাবা, এলো!! নিজের মতো বকবক করলো, আবার চলেও গেলো। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই লোকটি সামনে এলে আমি কেন স্তব্ধ হয়ে যাই? নিঃসন্দেহে বলতে হবে, এই লোকটির আচমকা প্রবেশ, কথা বলার স্টাইল সবকিছু তেই মানুষ কে ধ্যান মগ্নে নিয়ে যাওয়ায় সেরা। যেন হিপনোটাইজ!!
আমি ও হঠাৎ করেই গুনগুনিয়ে রুদ্রের গাওয়া গান টা বললাম,....তোমারও জানালা কি ভিজেছে এমন?
তুমিও কি আমাকে ভেবেছো আনমনে?
ধুর!! এই লোকটির দ্বিতীয় সাক্ষাতে ই আমার মাঝে কি সব উল্টা পাল্টা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রুদ্রের রেখে যাওয়া কার্ডটা হাতে নিলাম। এর মধ্যেই সন্ধ্যার আযান ভেসে এলো। চারদিকে আলো কমে আসা শুরু হয়েছে, অন্ধকার বিরাজ করছে। আশেপাশে মানুষ জন নেই। আমি ও দ্রুত বের হওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমি কোনদিক থেকে ভেতরে এসে ছিলাম তা ভুলে গিয়েছি।
অন্ধকার বাড়ছেই। ভয়ে ভয়ে আমি হাঁটছি। লোকজন নেই তেমন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন অন্ধকার হয়ে গেল চারপাশ। হাল্কা শীত ও পরেছে বেশ। বুঝতে পারি নাই এতো লেইট হয়ে যাবে। আমি মনে হয় উল্টো পথে চলে এসেছি। পিছনে ফিরতে ই কেউ মনে হয় খুব জোরে মাথায় বারি দিলো, আমি সাথে সাথেই মাটি তে ঢলে পরলাম।
_______
জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে রাস্তার ফুটপাতের কিনারে পাই। মাথা ফেটে সেখানে রক্ত আবারো জমে আছে। গায়ে জামার একাংশ ছিঁড়ে। উড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে নিলাম। রাস্তায় গাড়ির চলাচল কমছে। রাত দীর্ঘ হচ্ছে। পাশেই আমার ফাইলটা পরে আছে। ফাইলটা হাতে নিয়ে নিজ গন্তব্যে রওনা দিলাম......
দারোয়ান চাচা আমাকে এই অবস্থায় দেখেই বাড়ির দিকে ছুটলো। আমি ঢুলো ঢুলো পায়ে গেইট দিয়ে প্রবেশ করলাম। দূর থেকে দুজন ব্যক্তি, নানা আর নানুকে এদিকে ছুটে আসতে দেখলাম। মাথার প্রচন্ড ব্যাথায় আমি আবার ও জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
__________
জ্ঞান ফিরতেই আমি নিজেকে আবারো একই রুমে পেলাম। পাশেই নানু বসে ঘুমিয়ে আছে। আমি আড়মোড়ে উঠে বসলাম....
চলবে....
03/10/2024
ুদ্ধতার_চাদরে
৬
মধ্যরাত!! দিগ দিগন্ত থেকে শোনা যায়, মধ্য রাতে শয়তানদের জোর বাড়ে। কোথাও সত্যি সত্যি অপকর্ম হয়, কোথাও যেখানে সাধারণ দৃষ্টিতে অন্যায় সেটাকে কেউ অন্য দৃষ্টিতে সঠিক বলে রুপান্তরিত করার চেষ্টায় অভ্যান্তরিত হয়...
ঊনবিংশ পেরিয়ে বিংশে পা দেওয়া এক রমনী, যার চুলগুলো এলোমেলো, দুহাত ভর্তি র/ক্তের ছড়াছড়ি। মুখে বিস্তার এক হাঁসি, পরিতৃপ্তির এক হাঁসি। এইতো মিনিট খানেক আগে, তাহার হাতেই ছিল একটা র/ড, যা দিয়ে দুজন পরিপূর্ণ পুরুষের মাথায় একের পর আরেক আ/ঘাত করেই যাচ্ছিলো সে। এখন সেই মাথাদুটির খু/লির অংশ ছিন্নভিন্ন, আহা কি ভয়ংকর দৃশ্য....
_______
সারাদেশের নেট দুনিয়ায় তোলপাড়, যশোর টু ঢাকা বিশ্বরোড এলাকায় এক ড্রাইভার সহ কন্টাক্টরের খু/ন। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাহাদের মাথার কোনো অংশ ই আ/স্ত নেই। তাছাড়া নি/ম্নাংশের অংশ কাঁ/টা এবং থেঁতলে দেওয়া হয়েছে।
রোডে রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে, "নারীর ই/জ্জত হায়নাকারী সকলের এমন মৃ/ত্যু কাম্য।"
কেটে গেছে আরো দুই দিন। পুলিশ এই কেইস স্টাডি করতেছে। কিন্তু তাদের কাছে কোনো ক্লু নেই। ইন্সপেক্টর রতন গালে হাত রেখে খুব গভীর থেকে গভীরতর ভাবে হিসাব মিলাচ্ছেন। কিন্তু পরিশেষে শূন্য!! হঠাৎ করেই কন্সটেবল হায়দার দৌড়ে এলো, ইন্সপেক্টর রতনকে কিছু বলতেই, রতনের মুখে খুশির আবির্ভাব ফুটে উঠলো।
_________
বিস্তর এই কোলাহল শহরে , দৈত্যাকার ব্লিডিং আর ব্লিডিং!! শো শো শব্দে চলছে মস্তিষ্ক খাওয়ার মিশিন(গাড়ি), দূষিত এই বাতাস, তবুও এই শহরের মানুষের অহংকার কমে না, হৃদয় কুঞ্জে একখান মায়া ও জন্মে না।
নিস্তব্ধ আরো একটি রাত। আজ ঢাকায় আমি তিনদিন। এই দুয়ারে, সেই দুয়ারে, কতো দুয়ারে করাঘাত করলাম। একটা চাকরি, একটু থাকার জায়গা আর একমুঠো খাওয়ার আশায়। সবকিছু তে ই ব্যর্থ। এই শহরের মানুষ স্বার্থ চিনে, স্বার্থ ছাড়া কেউ ই কারো নয়...
কাঁধ থেকে ব্যাগ টা নামালাম। পথের পাশেই টপ করে বসে পরলাম। ব্যাগের সাইড পকেটে হাত দিলাম, মাত্র আর পাঁচশ টাকা আছে হয়তো। খুব ক্ষুদা লেগেছে, সেই সকালে একটা পাউরুটি খেয়েছি, এখন ও না খাওয়া। দশটা টাকা নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। রাস্তা টা পার হবো, ওপারে একটা টং দোকান আছে, সেখান থেকেই না হয় কিছু খেয়ে নেই।
রাস্তায় পা বাড়াতেই, মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো, নিমিষেই চোখে আবছা আবছা দেখছি, আজ তিন দিন পর আবারো একই অনুভূতি, হুট করে কানে গুঞ্জন ভেসে আসছে, কেউ যেন বলছে - "এমা !! এমা !! নিজের সাথে সাথে আমাকে ও কষ্ট দিচ্ছিস, কেন? আমাদের কষ্ট দেওয়া সবাইকে আমি কে/টে কুচি কুচি করে ফেলতে পারি, কিন্তু তোকে কি করবো? আমি কতটা সময় জগত দেখি না..."
নিজের মাথার এই খামখেয়ালি বেড়াম টা কে নিয়ে কি যে করি!! কেন আমি চোখ জাপ্টালে অন্য এক অস্তিত্ব খুঁজে পাই, কেন? "এমা" নিজের এই ছোট্ট নামটা অন্য এক অস্তিত্ব পরিচয় হিসেবে বহন করে.... ইশ্!! কি জটিল এই অঙ্ক, এর জবাব কোথায় পাবো? আমায় কে মিলিয়ে দিবে....?
পেটে গুড়ুম গুড়ুম হাঁক দিলো, সব চিন্তা সাইডে রেখে, নিজেকে সতেজ রাখার এক আকাশ সম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেই, রাস্তা পার হওয়ায় মনযোগ দিলাম। মূহুর্তে ই, মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো, মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলাম, ওপাশ থেকে একটা লাইট আমার দিকে এগিয়ে এলো, মাথাটা কিছুর সাথে বারি খেলো, সাথে সাথে ই আমি ছিটকে কয়েক হাত দূরে ছিটকে পরলাম। সবকিছু আলো থেকে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, আর আমি হারিয়ে যাচ্ছি, হারিয়ে যাচ্ছি.....
_________
জ্ঞান ফিরতেই আমি নিজেকে বিশাল বড় একটা রুমে পেলাম। পাশেই একজন ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক মহিলাকে দেখে আমি লাফিয়ে উঠলাম। বললাম - আমি কোথায়? কে আপনি? এখানে কি করে এলাম....
আমার এতো এতো প্রশ্নে মহিলাটি হেঁসে উঠলো। উফ্ কি সুন্দর হাঁসি। গভীর করে তাকালাম। কোথাও দেখেছি মনে হয়। কিন্তু কোথায়?
মহিলা টি মুখে হাসি রেখেই বলল - আমি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছি। তুমি রাস্তায় আমাদের গাড়ির সামনে হঠাৎ মাথা ঘুরে পরে গেছো। ভাগ্য ভালো, তোমার কোনো আঘাত লাগে নি। কত ডাকলাম, তুমি জেগে উঠলে না। পরে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এলাম!! ডাক্তার বললো, তুমি দু-তিন ধরে খাচ্ছো না ঠিক মতো, শরীর অনেক ক্লান্ত থেকে ক্লান্ত। তাই মাঝ রাস্তায় মাথা ঘুরিয়ে পরে গেছো।
মনে মনে খুবই অপরাধবোধ কাজ হলো। আমার জন্য একটা ভালো মানুষ কে কতোটা কষ্ট করতে হলো। আমি মাথা নিচু করে বললাম - আমি দুঃখিত। আপনাকে শুধু শুধু কষ্ট দিয়েছি...
আর কিছু বলার আগেই মহিলা টি হেঁসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। মূহুর্তে ই আমার হৃদপিন্ড কেঁপে উঠলো, যেনো আমার মা স্বয়ং আমাকে ছুঁয়ে দিলেন। আমি হু হু করে কেঁদে উঠলাম। মহিলা টি আমাকে জড়িয়ে ধরলো....
__________
এই বাড়িতে আছি অনেকক্ষন হলো। আমি যে কতগুলো খাবার খেয়েছি, আল্লাহ ভালো জানেন। বাব্বাহ, কতো বড় বাড়ি। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, লোকজন নেই। ওওওও হাঁ, আমি এই মহিলা আর তার স্বামী কে নানা ও নানু বলে ডাকি।
সারাটা দিন ভালো ই গেলো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই আমার মনে আবার ও মেঘ হানা দিলো। এটা তো আমার বাড়ি নয়, তারা আমাকে সাহায্য করেছে, একটা মানুষ আমাকে একদিন সাহায্য করতে পারে, দুই দিন বড়জোর হলে তিন দিন পর্যন্ত, কিন্তু দিনশেষে আমাকে আমার রাস্তায় বিনা সাহায্যে হাঁটতে হবে।
কি করবো বুঝতে পারছি না। আমি চুপচাপ রুমে বসে আছি। চলে যেতে হবে। কিন্তু আমার সকল কাগজপত্র, ব্যাগ তো ঐ নানুর কাছে। আমি উঠে দাঁড়ালাম, গন্তব্য নানুর কাছে নিয়ে আমার জিনিস পত্র গুলো নিয়ে তাদের বিদায় দেওয়া। আমি কখনো ই তাদের মতো ভালো মানুষদের ভুলতে পারবো না.....
________
নানা আর নানু দুজন ই তাদের ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে টিভি দেখছিল। আমি সেখানে যেতেই, নানা মশাই হাতের ইশারায় আমাকে ডাক দিলেন। পাশে বসতে বললেন। আমি ও চুপচাপ গিয়ে বসলাম।
তারা দুজন খুব মনোযোগ দিয়ে টিভি দেখছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই টিভির চ্যানেল পরিবর্তন হয়ে, নিউজে চ্যানেল এলো। সেখানে সেদিনের ঢাকা টু বিশ্বরোড এর সেই খবরটা আবার ও দেখানো হচ্ছে। আমি দেখেই, হুট করে বলে উঠলাম - আমি ও তো এই গাড়িতে করে ই ঢাকায় রওনা দিয়েছিলাম।
কথাটা বলতেই নানা আর নানু দুজন ই আমার দিকে তাকালো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম।
নানা - তুমি কি কিছু জানো? দেখেছো কিছু? ইশ্!! কি সাংঘাতিক ভাবে মে/রেছে। যদিও এরকম নরপশুদের এভাবে মে/রে ফেলা উচিত!
আমার ভয়টা কমলো কিছুটা। আমি বললাম - না। আমি জানি না। সেদিন আমাদের গাড়িটা মাঝ রাস্তায় নষ্ট হয়ে গেছিলো। তারা ঠিক করতেছিল। অনেক সময় লাগবে বলেছিলো। তারপর যাত্রীরা এক এক করে যার যার মতো ঢাকার আসার অন্য ব্যবস্থা নেয়। আমি ও কয়েকজন আন্টি দের সাথে অন্য বাসে করে ঢাকায় এসেছি.....
নানু - এই তুমি এই খবরের চ্যানেল পরিবর্তন করো তো।
নানা খবরের চ্যানেল পরিবর্তন করলেন। আমি ও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। যদিও প্রথম অংশ আমি সত্যি বলেছি, কিন্তু দ্বিতীয় অংশ মিথ্যা। কারন আমি নিজেও জানি না আমি ঢাকায় কি করে পৌঁছালাম। মূলত আমার মনে আছে আমি মাঝ রাস্তায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি, এবং সকালে উঠে নিজেকে ঢাকার একটা যাত্রী ছাউনী তে পাই।
নানু - এই মেয়ে, এই স্নিগ্ধা!! কি ভাবছো...
নানুর কথায় আমার ধ্যান ভাঙল। আমি জোর পূর্বক হাঁসি রেখে বললাম- নানু আমাকে একটা কাজ দিতে পারবেন। এই ঢাকা শহরে আমার থাকার জায়গা নাই, কেউ নেই। যাদের খোঁজে এসেছি, জানি না তারা আমাকে মেনে নিবে কি না। আমাকে একটা কাজ দেন...(বলতে বলতে কান্না করে দিলাম)
নানা - ওওওও ভালো কথা মনে করিয়েছো। তোমার পরিবার_পরিচয় কিছু ই তো জানলাম না। তুমি কি হারিয়ে গেছো? তোমার মা বাবা কোথায়!! পরিবার কোথায়?
আমার কান্না যেনো আরো বাড়তে লাগলো। কান্না করতে করতে ই তাদের সবকিছু খুলে বলতেই, নানু বলল - সেই যে, যশোরের অজপাড়া গাঁয়ে এক সাইকো তিননম্বর খু/ন রাকিব না সাকিব কি যেনো ছিলো, সেটা তোমার ভাই ছিলো?
আমি সবকিছু ই বললাম।
নানা - আচ্ছা, ঢাকা শহরে তুমি যাদের খোঁজে এসেছো আমি খুঁজে দিবো। তুমি রেস্ট নেও। কি সুন্দর মেয়েটা কেমন হয়ে গেছে। আগে ঠিক হও...
আমি মুখে হাসি ফুটিয়ে বললাম - আল্লাহ তোমাদের মতো ভালো মানুষদের জন্য ই হয়তো পৃথিবী এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। নানু, এভাবে কয়দিন আমাকে তোমরা খাওয়াবা। আমাকে বাঁচিয়েছো এটাই অনেক, আমি কাজ করতে পারি। আমাকে একটা কাজ দাও, তোমাদের ঘরে তো খাবার দাবার, রান্না সহ কতো কাজ থাকে, আমি না হয় তা করে দিবো.....
নানা উঠে দাঁড়ালো, মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো- তুই ঠিক আমার শেফালীর মতো!! তোকে দেখতে ও ঠিক ওর মতো!! এতো কিছু করা লাগবে না, নিজের বাড়ির মতো থাক...(বলেই চলে গেলো)
নানু আমার দিকে গভীর করে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে....কি অদ্ভুত!! তাদের এই কান্নারত মুখ দেখে আমার মন ও কান্না করছে....
চলবে.....
02/09/2024
ুদ্ধতার_চাদরে
•একাংশ (২)
বিস্তর এই কোলাহল শহরে , দৈত্যাকার ব্লিডিং আর ব্লিডিং!! শো শো শব্দে চলছে মস্তিষ্ক খাওয়ার মিশিন(গাড়ি), দূষিত এই বাতাস, তবুও এই শহরের মানুষের অহংকার কমে না, হৃদয় কুঞ্জে একখান মায়া ও জন্মে না।
নিস্তব্ধ আরো একটি রাত। আজ ঢাকায় আমি তিনদিন। এই দুয়ারে, সেই দুয়ারে, কতো দুয়ারে করাঘাত করলাম। একটা চাকরি, একটু থাকার জায়গা আর একমুঠো খাওয়ার আশায়। সবকিছু তে ই ব্যর্থ। এই শহরের মানুষ স্বার্থ চিনে, স্বার্থ ছাড়া কেউ ই কারো নয়...
কাঁধ থেকে ব্যাগ টা নামালাম। পথের পাশেই টপ করে বসে পরলাম। ব্যাগের সাইড পকেটে হাত দিলাম, মাত্র আর পাঁচশ টাকা আছে হয়তো। খুব ক্ষুদা লেগেছে, সেই সকালে একটা পাউরুটি খেয়েছি, এখন ও না খাওয়া। দশটা টাকা নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। রাস্তা টা পার হবো, ওপারে একটা টং দোকান আছে, সেখান থেকেই না হয় কিছু খেয়ে নেই।
রাস্তায় পা বাড়াতেই, মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো, নিমিষেই চোখে আবছা আবছা দেখছি, আজ তিন দিন পর আবারো একই অনুভূতি, হুট করে কানে গুঞ্জন ভেসে আসছে, কেউ যেন বলছে - "এমা !! এমা !! নিজের সাথে সাথে আমাকে ও কষ্ট দিচ্ছিস, কেন? আমাদের কষ্ট দেওয়া সবাইকে আমি কে/টে কুচি কুচি করে ফেলতে পারি, কিন্তু তোকে কি করবো? আমি কতটা সময় জগত দেখি না..."
নিজের মাথার এই খামখেয়ালি বেড়াম টা কে নিয়ে কি যে করি!! কেন আমি চোখ জাপ্টালে অন্য এক অস্তিত্ব খুঁজে পাই, কেন? "এমা" নিজের এই ছোট্ট নামটা অন্য এক অস্তিত্ব পরিচয় হিসেবে বহন করে.... ইশ্!! কি জটিল এই অঙ্ক, এর জবাব কোথায় পাবো? আমায় কে মিলিয়ে দিবে....?
পেটে গুড়ুম গুড়ুম হাঁক দিলো, সব চিন্তা সাইডে রেখে, নিজেকে সতেজ রাখার এক আকাশ সম প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেই, রাস্তা পার হওয়ায় মনযোগ দিলাম। মূহুর্তে ই, মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো, মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলাম, ওপাশ থেকে একটা লাইট আমার দিকে এগিয়ে এলো, মাথাটা কিছুর সাথে বারি খেলো, সাথে সাথে ই আমি ছিটকে কয়েক হাত দূরে ছিটকে পরলাম। সবকিছু আলো থেকে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, আর আমি হারিয়ে যাচ্ছি, হারিয়ে যাচ্ছি.....
~নীল_নূর
এক ভাইয়ে গণভবনের দলিল খোঁজে 🙂
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka