Eventholic

Eventholic

Share

Event management and Talent agency

আজম খান কেন ‘ঝাঁকি আর দোলা’ বেছে নিলেন 05/06/2026

আজম খান কেন ‘ঝাঁকি আর দোলা’ বেছে নিলেন আজ রকসম্রাট আজম খানের মৃত্যুদিন। বাংলা গানের প্রথা ভাঙা বিপ্লবী আজম খান কেন বেছে নিয়েছিলেন রকের রুক্ষ পথ? সুরের জ....

23/09/2025

গতকাল ছিল কলকাতার বিখ্যাত বাংলা ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাপস বাপী দাসের জন্মদিন। ১৯৫৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মানো এই শিল্পীর পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল বাংলাদেশে।

এ দেশে গান গাইতে আসার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর। ২০২৩ সালে মারা যাওয়ায় এ ইচ্ছা তাঁর পূরণ হয়নি।

বিস্তারিত কমেন্টে👇

20/09/2025

সুবীর নন্দীকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। কেন জানেন?

আধুনিক বাংলা গানের চেনা মুখ সুবীর নন্দীর মধ্যে সাংগীতিক গোঁড়ামি ছিলনা। তিনি নতুনকে গ্রহণ করতে পারতেন।

সেই আশির দশক থেকে অনেকেই, অনেক শিল্পীরা ব্যান্ডসংগীতকে অপসংস্কৃতি বলতেন। নাক সিঁটকাতেন। তরুণ প্রজন্ম নাকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এইসব ব্যান্ডসংগীতের কারনে। এখনো অনেক মুরুব্বীই এমন করেন।

সুবীর নন্দী ছিলেন সেইসব প্রতিষ্ঠিত মূলধারার আধুনিক সংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন, যিনি ব্যান্ড কালচারকে অপসংস্কৃতি বলেননি। উৎসাহ দিয়েছেন। নিজে অংশও নিয়েছেন। প্রশংসা করেছেন।

বিটিভির বিখ্যাত জলসা অনুষ্ঠানে 'ফিডব্যাক' এর গান, গীতি কবিতা ২ (ধন্যবাদ ভালোবাসা) সুবীর নন্দীর কণ্ঠে শোনা যায়। ভিডিও আছে। ফিডব্যাকের সদস্যরা বাজিয়েছিলেন, তিনি গেয়েছিলেন। আমার ভালো লাগে এই ভার্সনটা।

এই জলসা অনুষ্ঠানটি একেবারে অন্যরকম ছিলো। ব্যান্ড এবং আধুনিক-তখনকার মূলধারার গানের বিখ্যাত শিল্পীরা সেখানে ছিলেন। সুন্দর তর্ক-বিতর্ক, দুই ধরণের গান নিয়ে প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি কী, সেই কথাবার্তা হয়েছিলো। সেখানে যার যার বিপরীত জনরার গান পরিবেশন করেছিলেন শিল্পীরা।

প্রথম আলোতে দেওয়া একটি সুবীর নন্দী ব্যান্ড অপসংস্কৃতি কি না, এই আলাপে বলেছিলেন,
‘আমি বিশ্বাস করি, সংগীত সবটাই সংগীত। সংগীতে ‘অপ’ বলতে কিছু নেই। আমাদের দেশে অনেক পণ্ডিতশ্রেণির সমালোচক পপ সংগীত কিংবা ব্যান্ড সংগীতকে নাক সিটকান। এটা আমাকে খুব ব্যথিত করে। একটা জিনিসকে আমি জানলাম না ভালো করে, বলে ফেললাম জাত গেল, জাত গেল। এটা ঠিক নয়। কারণ, আমাদের পপ ও ব্যান্ডের আন্দোলন অনেক এগিয়ে গেছে।''

এটাই তো হওয়া উচিত। কাউকে না বুঝে খারিজ করায় কোনো মহত্ব নেই। বিকশিত হতে দিতে হয়। সময় পালটায়। ধরণ ও ধারণ পালটায়। স্বাগত জানাতে হয়। দশকে দশকে তো পালটায় গানের গতিপ্রকৃতি, আজকাল। মোটা দাগে।

হঠাৎ টিএসসি নিয়ে গান, কী বললেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজু | Dhaka Stream

রাত পোহালেই ডাকসু নির্বাচন। সম্প্রতি সহজিয়া ব্যান্ড প্রকাশ করেছে নতুন গান ‘টিএসসি জানে’। টিএসসি থেকেই শুরু হয়েছিল সহজিয়ার যাত্রা। নতুন গান নিয়ে ব্যান্ডের ভোকাল ও লিরিসিস্ট রাজিব আহমেদ রাজু কথা বলেছেন ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে। 

রাজিব আহমেদ রাজুর কথায় উঠে এসেছে ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে ‘টিএসসি জানে’র সংযোগ। বলেছেন, টিএসসির বন্ধুদের উৎসর্গ করা গানের কথায় মিশে থাকা ব্যক্তিগত অনুভূতি, সহজিয়ার দেড় দশকের পথচলায় টিএসসির ভূমিকা এবং আগামীকালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশার কথাও।

#ducsuelection #ducsu #studentpolitics #tsc #টিএসসিজানে #Shohojia #bangladeshnews #dhakastream #ডাকসুনির্বাচন #ডাকসু 08/09/2025

হঠাৎ টিএসসি নিয়ে গান, কী বললেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজু | Dhaka Stream রাত পোহালেই ডাকসু নির্বাচন। সম্প্রতি সহজিয়া ব্যান্ড প্রকাশ করেছে নতুন গান ‘টিএসসি জানে’। টিএসসি থেকেই শুরু হয়েছিল সহজিয়ার যাত্রা। নতুন গান নিয়ে ব্যান্ডের ভোকাল ও লিরিসিস্ট রাজিব আহমেদ রাজু কথা বলেছেন ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে। রাজিব আহমেদ রাজুর কথায় উঠে এসেছে ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে ‘টিএসসি জানে’র সংযোগ। বলেছেন, টিএসসির বন্ধুদের উৎসর্গ করা গানের কথায় মিশে থাকা ব্যক্তিগত অনুভূতি, সহজিয়ার দেড় দশকের পথচলায় টিএসসির ভূমিকা এবং আগামীকালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশার কথাও। #ducsuelection #ducsu #studentpolitics #tsc #টিএসসিজানে #Shohojia #bangladeshnews #dhakastream #ডাকসুনির্বাচন #ডাকসু

01/09/2025
28/08/2025

জেমসের কবিতা!
হ্যাঁ। জেমস কিন্তু শুধু লিরিক নয়, কবিতাও লিখেছেন।

জেমস গান লিখতে পারেন না! এই কথা কারো কারো মুখে শুনেছি। সত্যিই কি তাই?

না, এটা মিথ্যা। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে জেমস কিন্তু গান লিখতেন। ১৯৮৭ সালে বের হয় জেমসের ব্যান্ড 'ফিলিংস'-এর প্রথম অ্যালবাম 'স্টেশন রোড'। এই অ্যালবামের ৫টি গানের গীতিকারই কিন্তু জেমস।

জেমস অবশ্য খুব বেশী গান লেখেননি। এর বাইরে বেশকিছু গান দ্বৈতভাবে লিখেছেন বিষু শিকদার, আনন্দ, দেহলভি'র সাথে মিলে। আবার কিছু গানের কনসেপ্ট লিরিসিস্টকে জেমসই দিয়েছেন।

লিরিকের প্রসঙ্গ বাদ দেই। কবিতার প্রসঙ্গে আসা যাক। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে ব্যান্ড মিউজিক কমিউনিটি রিলেটেড একটা গ্রুপে জেমসের একটি কবিতা পেলাম। কবিতার নাম 'চিঠি'। ছবিটা কে আপলোড দিয়েছেন, মনে নেই।

কবিতা আমরা অনেকেই লিখি। চেষ্টা করি। আমিও লিখি, মানে লিখতাম। আমি কি কবি?

জীবনানন্দ দাস লিখছিলেন 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি'। কবিতা লিখলেও আমি বা আমরা অনেকেই কবি না। শখ করে লিখি আরকি। কবিতা তো অন্য ব্যাপার। যাপনের ব্যাপারও আছে। সাঁতার পারলেই তো আমি সাঁতারু না। কবিও তাই। জেমসের ব্যাপারটাও তাই। ভাল্লাগছিলো, লিখেছিলেন হয়তো। ইচ্ছা।

জেমস রকস্টার। বাংলা রকের তেজী ঘোড়া। ব্যান্ডসিনে দুইজন জনমনে 'গুরু' হতে পারছেন। এক. আজম খান। দুই. জেমস। জেমস তো জনতার।

যাই হোক, জেমস হয়ত আরো কবিতা লিখেছেন। কিংবা লেখেননি। জানা নেই। জানার চেষ্টা করবো। খুঁজে দেখি।

গৌতম কে শুভ
২৮-০৮-২৫
ঢাকা

ব্যান্ড মিউজিকে নজরুল: রক ভার্সনে বিদ্রোহ 27/08/2025

অনেকের আগে ধারণা ছিল, নজরুলের গান ব্যান্ড শিল্পীরা কি গাইতে পারবেন? তাঁর লেখা বিদ্রোহের গানগুলো কি রক মিউজিকের আবহে করা সম্ভব? কিন্তু দেখা গেছে, নজরুলের কিছু গান বাংলা ব্যান্ডে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে।

ব্যান্ড মিউজিকে নজরুল: রক ভার্সনে বিদ্রোহ মূলত নজরুলসংগীত নিয়ে নতুনভাবে কাজ করার পথটা দেখায় আর্টসেল। তাদের মাধ্যমে বড় অংশের রকশ্রোতার সামনে নজরুলের গান ন....

আজ মহীনের ঘোড়াগুলির আদি ঘোড়া তাপস বাপী দাসের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। কেমন ছিল তাঁর শেষ দিনগুলো, জানা যাবে এই লেখায়।

আজ থেকে ২ বছর আগের কথা। ২০২৩ সালের ২৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে যখন ফোনে ভেসে এল, ‘বাপীদা আর নেই।’ এরপর কয়েক মিনিট আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কিছুই। হঠাৎ মৃত্যুসংবাদ শুনে বিশ্বাস না করতে পারার ব্যাপার হয়ে থাকে অনেক সময়। না, আমার ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। কারণ, আগের দিন রাতেও সুতপা দিদির (বাপীদার স্ত্রী) সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার বাপীদার শরীরটা বড্ড খারাপ।’ তখন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ক্যানসারের রুটিন চিকিৎসা ইমিউনোথেরাপি চলছিল তাঁর। 

বলছিলাম কলকাতার বিখ্যাত ও প্রবাদপ্রতিম ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাপস বাপী দাস, আমাদের সবার ‘বাপীদা’র কথা। বাপীদা মননে ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক বাঙালি। ‘ছিলেন’ কেন বলছি! তিনি তো আজীবন থাকবেন এই পৃথিবীর আস্তাবলে, মহীনের ঘোড়া হয়ে চরে বেড়াবেন জ্যোৎস্নার প্রান্তরে। 

ফুসফুস ক্যানসারের সঙ্গে বাপীদার লড়াই ছিল বছরখানেকের। আরও অনেক বছর ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু কখনো থেমে থাকেননি। কাজ করে চলেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন হাঁটতে না পারলেও এই আদি তেজি ঘোড়ার তেজের কমতি কখনোই হয়নি। টগবগিয়ে ছুটেছেন জীবনজুড়ে। 

বাপীদা সত্তরের আত্মা। সক্রিয় থেকে ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সাংগীতিক দর্শন বুকে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন একমাত্র তিনিই। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র প্রধান গৌতম চট্টোপাধ্যায় মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর, ২০০৩ সালে বাপীদা নতুনদের নিয়ে ‘মহীন এখন ও বন্ধুরা’ নামে ব্যান্ড করলেন। এর পর থেকেই গানে কিংবা লেখায় সক্রিয় থেকেছেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি থেকে গেলেন মহীনের কাউন্টার কালচারের অন্যতম আদি ঘোড়া হয়ে। আপস করলেন না কখনোই, তাঁর গুরু গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মতো।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক তাঁর ছোট একটি অপারেশন হয়েছিল। আমি তখন কলকাতায় আমার বাবার চিকিৎসা করাচ্ছি। তখনো কিন্তু বাপীদার ক্যানসার ধরা পড়েনি। আমি দেখা করতে গেলাম হাসপাতালে। এখানেই নাকি বাপীদা গত ১০ বছরে চারবার ভর্তি হয়েছেন। তাই এখানে সবাই তাঁকে চেনে ‘মহীনের জ্যেঠু’ নামে। বাপীদা আমাকে দেখেই বললেন, ‘কত কথা বলার আছে তোমার সঙ্গে! কিন্তু আমি এখন এই অবস্থায়!’ আমি বললাম, আপনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন। এরপর আমরা আমাদের প্রজেক্টগুলো নিয়ে কথা বলব। 
বাপীদা এরপর আর সুস্থ হননি। আমার সেই সব প্রজেক্ট নিয়ে আর এগোনো হয়নি। 

প্রায় ঘণ্টা তিনেক ছিলাম সেখানে। তখনই দেখলাম, আগামী মাসে কয়েকটা কনসার্ট আছে ‘মহীন এখন ও বন্ধুরা’র। বাপীদা সেগুলো নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায় হেলান দিয়েই। যদি পুরোপুরি সেরে না ওঠেন, তবে অসুস্থ শরীর নিয়ে কোন কোন গান তিনি গাইতে পারবেন, সেগুলো নিয়েও আলাপ করলেন। সুতপাদি জানালেন, আজ যতটা স্বাভাবিক প্রাণবন্তভাবে কথাবার্তা বললেন, গত ১৫ দিনে নাকি অসুস্থতার জন্য এতটা কথাই বলেননি কারও সঙ্গে। 

বাপীদা সেদিন একনাগাড়ে আমাকে বলে যাচ্ছিলেন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সেই সব দিনের কথা। তাঁর মণিদার (গৌতম চট্টোপাধ্যায়) সব পাগলামির কথা। মণিদা সাগরেদদের নিয়ে কীভাবে চষে বেড়িয়েছেন গোটা শহর। ১৯৭৯ সালে কলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে একমাত্র ভারতীয় ব্যান্ড হিসেবে পারফর্ম করেছিল ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’, সেই গল্প করলেন

আদতে বাপীদার সঙ্গে আমার যোগাযোগ অনেক দিনের। তিনি জানতেন আমি বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছি। তাই আমাকে বলছিলেন, কলকাতার ষাট-সত্তরের জ্যাজ মিউজিকসিনের কথা; এবং সেটা কীভাবে হাতছাড়া হয়ে অন্য একটি ধারায় ঢুকে গেল। গোটা পালাবদলটা যে আদতে ভূরাজনৈতিক, সেটা বোঝালেন। এসব তাঁর নিজের চোখে দেখা। আমি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংগীত নিয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান দেখে!

এর দিন সাতেক পর জানতে পারলাম, বাপীদার শরীর ঠিক হয়নি। আমি তখন ঢাকায় ফিরেছি। চিকিৎসকের রিপোর্টগুলো চাইলাম। সেই রাতে রিপোর্ট ভালোভাবে পড়ে, বুঝে তখনই সুতপা দিদিকে ফোন করলাম। জানালাম, রিপোর্ট পড়ে যেটুকু বুঝলাম, তাতে সন্দেহ হচ্ছে যে ফুসফুসে সমস্যা আছে। পরামর্শ দিলাম, কলকাতা টাটা মেডিকেলে দেখানোর, আমার বাবারও সেখানে চিকিৎসা চলছিল। 

এরপর সেখানে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হলো। পরীক্ষা করে জানা গেল, বাপীদার ক্যানসার। তৃতীয় ধাপে আছে, কেমোথেরাপি দিতে হবে। সেদিনই চিকিৎসা শুরু হলো। মাসখানেক পর আবার কলকাতায় গেলাম। তখন বাপীদার দ্বিতীয় দফার কেমোথেরাপি চলছে। বাপীদার মনের জোর ঈর্ষা করার মতো। একবারের জন্যও ভেঙে পড়েননি তিনি। 

আমার বাবার চিকিৎসার জন্য সে সময় প্রায়ই আমাকে কলকাতায় যেতে হতো। আমি কলকাতায় গেলে মাঝেমধ্যেই অক্সিজেনের নল খুলে আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করতেন বাপীদা। একবার জানালেন, এবার সুস্থ হলে আমরা যেন তাঁকে বাংলাদেশে গাইতে ডাকি। বাপীদার পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশে। 

তাই আমার সঙ্গে যখনই কথা হতো, জানাতেন, তিনি বাংলাদেশে যেতে চান। তখন কথাপ্রসঙ্গে আমি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত নিয়ে কথা বললাম তাঁর সঙ্গে। বাংলাদেশে এখনো ওপেন এয়ার কনসার্টে দশ হাজার মানুষ টিকেট কেটে গান শুনতে যায় জেনে বাপীদা তাঁদের ১৯৭৫-৮১ সালের ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র লড়াইয়ের গল্প শোনালেন। 

গত ২০ বছরে তিনি আরও অনেক কিছু করতে পারতেন, প্রবল ইচ্ছা থাকার পরও কেন সেসব পারেননি, সেই আক্ষেপের কথা জানালেন। বিছানায় শুনেই অনর্গল বলে গেলেন ‘মহীনের ঘোড়া’দের ইতিহাস, একেকটা গান তৈরির কথা। সেসব ইতিহাস মাথায় নিয়ে আমি কয়েক দিন পর ঢাকায় ফিরে এলাম।

তারপর আবার ডিসেম্বরের শুরুতে গেলাম সেখানে। সুতপা দিদির কাছে এর মধ্যেই জেনে গেছি, ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর জমানো টাকা সব শেষ। কিন্তু তিনি ও সুতপা দিদি—কেউই কোনোভাবেই কোনো আর্থিক সাহায্য নিতে চান না। এমনকি বাপীদার ক্যানসারের কথাও যেন কাউকে না জানাই, এমন বললেন আমাকে।

ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের বাড়িতে গেছে আর্থিক সাহায্য নিয়ে, বাপীদা সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না, তাঁর চিকিৎসা তাহলে চলবে কীভাবে!
কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে ভাবলাম কয়েক দিন। কয়েকজন সিনিয়র প্রবাসী শিল্পীকে জানালাম বাপীদার আর্থিক অবস্থার কথা, যাঁরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়। তাঁদের দুজন বেশ ভালো অঙ্কের টাকা পাঠালেন তাঁকে। কিন্তু এই চিকিৎসা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় খরচের তুলনায় এমন পরিচিতজনদের আর্থিক সহায়তা ছিল বেশ সামান্যই। তাই সুতপা দিদিকে অনুরোধ করলাম, তাঁরা যেন অন্তত সবাইকে জানান যে বাপীদা ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন

পরে আমি একপ্রকার বাধ্য হয়ে ফেসবুকে বাপীদার ক্যানসারের কথা জানিয়ে ফেসবুকে লিখলাম। আর্থিক সাহায্য দরকার; সেটা সরাসরি না লিখে লিখলাম, আমাদের উচিত তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া। কিছু লাগলে সেটার ব্যবস্থা করা। কলকাতার কয়েকজন পরিচিত সাংবাদিকসহ পরিচিত বন্ধুদের জানালাম। 

জনপ্রিয় এক ব্যান্ড তারকা ব্যাপারটি জানতে পেরে চিকিৎসার কথা ফেসবুকে লিখলেন। মূলত তাঁর মাধ্যমেই সবার কাছে পৌঁছে গেল বাপীদার অসুস্থতার কথা। তখন কলকাতার শিল্পীরা এগিয়ে এলেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে কনসার্টের আয়োজন করে, অনলাইনে গান গেয়ে চিকিৎসায় সহায়তার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে লাগলেন। 

কিছুদিন পর রাজ্য সরকার থেকে সুতপা দিদিকে জানানো হলো, বাপীদার সব  চিকিৎসার দায়িত্ব তারা নিচ্ছে। আমি তখন টাটা মেডিকেলে সুতপা দিদির পাশে বসা। ফোন রেখেই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গৌতম, আমরা এখন কী করব?’ কারণ, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা নিতে চান না। আমরা পাশে যাঁরা ছিলাম, তাঁরা বোঝালাম, এটা কোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়া সুবিধা নয়, এটা একজন কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে বাপীদার প্রাপ্য অধিকার রাষ্ট্রের কাছে। তার পর থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালে বাপীদার চিকিৎসা চলছিল। 

আমি তারপর আরও কয়েকবার বাপীদার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ফোনে নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছি। বাপীদা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, সেটা আমি কখনো লিখে প্রকাশ করতে পারব না। 

আমরা বাংলাদেশ থেকেও তাঁর চিকিৎসার সহায়তায় কনসার্টের আয়োজন করেছিলাম, সেখানে বাংলাদেশের ৩৫ শিল্পী ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র গান গাইবেন। ব্যাপারটা যখন প্রথম বাপীদার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম, তখন খুব খুশি হয়েছিলেন। কারণ, তিনি নিজে আর বাংলাদেশে আসতে না পারলেও তাঁকে স্মরণ করে আমরা কিছু করতে চলেছি, এটা তাঁর ভালো লেগেছিল। 

মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগেও তিনি আমাদের কনসার্টের জন্য স্মারক টি-শার্টে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর সেই কনসার্ট আমরা করেছিলাম। বাপীদা স্মরণে সেই কনসার্টে তাঁর ব্যান্ড 'মহীন এখন ও বন্ধুরা' এসেছিল। কনসার্ট থেকে অর্জিত টাকা তুলে দিয়েছিলাম সুতপাদির হাতে।

আসলে তাপস দাস বাপীরা মরেন না। তাঁরা আজীবন বেঁচে থাকেন আমাদের হৃদয়ে। আমরা যখন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র ‘ভেসে আসে কলকাতা’, ‘সংবিগ্ন পাখিকুল’, ‘হায় ভালোবাসি’, ‘সুধীজন শোনো’, ‘এই সুরে বহু দূরে’—তাঁর লেখা বা সুর করা বা গাওয়া এসব গান শুনব, তখন ঠিকই আমাদের স্মৃতির মানসপটে বাপীদা নামক এক দৃশ্যের জন্ম হবে।

প্রিয় বাপীদা, আপনি এই পৃথিবীর আস্তাবলের নালহীন এক ঘোড়া হয়ে থেকে যাবেন।

** এই লেখাটি বাপীদার মৃত্যুর পর প্রথম আলোতে প্রকাশিত **

(ভিডিও শিল্পী সৌমিত্র রায়ের সৌজন্যে। বাপীদা কেমো দেওয়া কালেই নাকে নল লাগিয়ে গাইছেন, তাঁর ব্যান্ড 'মহীন এখন ও বন্ধুরা'র সাথে। কলকাতায় ক্রিসমাস সন্ধ্যায়, দেশপ্রিয় পার্কে।) 25/06/2025

আজ আমাদের বাপীদার ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। তাপস দাস বাপীদা মহীনের ঘোড়াগুলির অন্যতম আদি ঘোড়া।

আজ মহীনের ঘোড়াগুলির আদি ঘোড়া তাপস বাপী দাসের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী। কেমন ছিল তাঁর শেষ দিনগুলো, জানা যাবে এই লেখায়। আজ থেকে ২ বছর আগের কথা। ২০২৩ সালের ২৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় কলকাতা থেকে যখন ফোনে ভেসে এল, ‘বাপীদা আর নেই।’ এরপর কয়েক মিনিট আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কিছুই। হঠাৎ মৃত্যুসংবাদ শুনে বিশ্বাস না করতে পারার ব্যাপার হয়ে থাকে অনেক সময়। না, আমার ক্ষেত্রে এমনটা হয়নি। কারণ, আগের দিন রাতেও সুতপা দিদির (বাপীদার স্ত্রী) সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার বাপীদার শরীরটা বড্ড খারাপ।’ তখন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ক্যানসারের রুটিন চিকিৎসা ইমিউনোথেরাপি চলছিল তাঁর। বলছিলাম কলকাতার বিখ্যাত ও প্রবাদপ্রতিম ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তাপস বাপী দাস, আমাদের সবার ‘বাপীদা’র কথা। বাপীদা মননে ছিলেন একজন আন্তর্জাতিক বাঙালি। ‘ছিলেন’ কেন বলছি! তিনি তো আজীবন থাকবেন এই পৃথিবীর আস্তাবলে, মহীনের ঘোড়া হয়ে চরে বেড়াবেন জ্যোৎস্নার প্রান্তরে। ফুসফুস ক্যানসারের সঙ্গে বাপীদার লড়াই ছিল বছরখানেকের। আরও অনেক বছর ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিন্তু কখনো থেমে থাকেননি। কাজ করে চলেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন হাঁটতে না পারলেও এই আদি তেজি ঘোড়ার তেজের কমতি কখনোই হয়নি। টগবগিয়ে ছুটেছেন জীবনজুড়ে। বাপীদা সত্তরের আত্মা। সক্রিয় থেকে ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সাংগীতিক দর্শন বুকে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন একমাত্র তিনিই। ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র প্রধান গৌতম চট্টোপাধ্যায় মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর, ২০০৩ সালে বাপীদা নতুনদের নিয়ে ‘মহীন এখন ও বন্ধুরা’ নামে ব্যান্ড করলেন। এর পর থেকেই গানে কিংবা লেখায় সক্রিয় থেকেছেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি থেকে গেলেন মহীনের কাউন্টার কালচারের অন্যতম আদি ঘোড়া হয়ে। আপস করলেন না কখনোই, তাঁর গুরু গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মতো। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক তাঁর ছোট একটি অপারেশন হয়েছিল। আমি তখন কলকাতায় আমার বাবার চিকিৎসা করাচ্ছি। তখনো কিন্তু বাপীদার ক্যানসার ধরা পড়েনি। আমি দেখা করতে গেলাম হাসপাতালে। এখানেই নাকি বাপীদা গত ১০ বছরে চারবার ভর্তি হয়েছেন। তাই এখানে সবাই তাঁকে চেনে ‘মহীনের জ্যেঠু’ নামে। বাপীদা আমাকে দেখেই বললেন, ‘কত কথা বলার আছে তোমার সঙ্গে! কিন্তু আমি এখন এই অবস্থায়!’ আমি বললাম, আপনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন। এরপর আমরা আমাদের প্রজেক্টগুলো নিয়ে কথা বলব। বাপীদা এরপর আর সুস্থ হননি। আমার সেই সব প্রজেক্ট নিয়ে আর এগোনো হয়নি। প্রায় ঘণ্টা তিনেক ছিলাম সেখানে। তখনই দেখলাম, আগামী মাসে কয়েকটা কনসার্ট আছে ‘মহীন এখন ও বন্ধুরা’র। বাপীদা সেগুলো নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায় হেলান দিয়েই। যদি পুরোপুরি সেরে না ওঠেন, তবে অসুস্থ শরীর নিয়ে কোন কোন গান তিনি গাইতে পারবেন, সেগুলো নিয়েও আলাপ করলেন। সুতপাদি জানালেন, আজ যতটা স্বাভাবিক প্রাণবন্তভাবে কথাবার্তা বললেন, গত ১৫ দিনে নাকি অসুস্থতার জন্য এতটা কথাই বলেননি কারও সঙ্গে। বাপীদা সেদিন একনাগাড়ে আমাকে বলে যাচ্ছিলেন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র সেই সব দিনের কথা। তাঁর মণিদার (গৌতম চট্টোপাধ্যায়) সব পাগলামির কথা। মণিদা সাগরেদদের নিয়ে কীভাবে চষে বেড়িয়েছেন গোটা শহর। ১৯৭৯ সালে কলকাতায় ইন্টারন্যাশনাল জ্যাজ ফেস্টিভ্যালে একমাত্র ভারতীয় ব্যান্ড হিসেবে পারফর্ম করেছিল ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’, সেই গল্প করলেন আদতে বাপীদার সঙ্গে আমার যোগাযোগ অনেক দিনের। তিনি জানতেন আমি বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছি। তাই আমাকে বলছিলেন, কলকাতার ষাট-সত্তরের জ্যাজ মিউজিকসিনের কথা; এবং সেটা কীভাবে হাতছাড়া হয়ে অন্য একটি ধারায় ঢুকে গেল। গোটা পালাবদলটা যে আদতে ভূরাজনৈতিক, সেটা বোঝালেন। এসব তাঁর নিজের চোখে দেখা। আমি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংগীত নিয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান দেখে! এর দিন সাতেক পর জানতে পারলাম, বাপীদার শরীর ঠিক হয়নি। আমি তখন ঢাকায় ফিরেছি। চিকিৎসকের রিপোর্টগুলো চাইলাম। সেই রাতে রিপোর্ট ভালোভাবে পড়ে, বুঝে তখনই সুতপা দিদিকে ফোন করলাম। জানালাম, রিপোর্ট পড়ে যেটুকু বুঝলাম, তাতে সন্দেহ হচ্ছে যে ফুসফুসে সমস্যা আছে। পরামর্শ দিলাম, কলকাতা টাটা মেডিকেলে দেখানোর, আমার বাবারও সেখানে চিকিৎসা চলছিল। এরপর সেখানে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হলো। পরীক্ষা করে জানা গেল, বাপীদার ক্যানসার। তৃতীয় ধাপে আছে, কেমোথেরাপি দিতে হবে। সেদিনই চিকিৎসা শুরু হলো। মাসখানেক পর আবার কলকাতায় গেলাম। তখন বাপীদার দ্বিতীয় দফার কেমোথেরাপি চলছে। বাপীদার মনের জোর ঈর্ষা করার মতো। একবারের জন্যও ভেঙে পড়েননি তিনি। আমার বাবার চিকিৎসার জন্য সে সময় প্রায়ই আমাকে কলকাতায় যেতে হতো। আমি কলকাতায় গেলে মাঝেমধ্যেই অক্সিজেনের নল খুলে আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করতেন বাপীদা। একবার জানালেন, এবার সুস্থ হলে আমরা যেন তাঁকে বাংলাদেশে গাইতে ডাকি। বাপীদার পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশে। তাই আমার সঙ্গে যখনই কথা হতো, জানাতেন, তিনি বাংলাদেশে যেতে চান। তখন কথাপ্রসঙ্গে আমি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত নিয়ে কথা বললাম তাঁর সঙ্গে। বাংলাদেশে এখনো ওপেন এয়ার কনসার্টে দশ হাজার মানুষ টিকেট কেটে গান শুনতে যায় জেনে বাপীদা তাঁদের ১৯৭৫-৮১ সালের ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র লড়াইয়ের গল্প শোনালেন। গত ২০ বছরে তিনি আরও অনেক কিছু করতে পারতেন, প্রবল ইচ্ছা থাকার পরও কেন সেসব পারেননি, সেই আক্ষেপের কথা জানালেন। বিছানায় শুনেই অনর্গল বলে গেলেন ‘মহীনের ঘোড়া’দের ইতিহাস, একেকটা গান তৈরির কথা। সেসব ইতিহাস মাথায় নিয়ে আমি কয়েক দিন পর ঢাকায় ফিরে এলাম। তারপর আবার ডিসেম্বরের শুরুতে গেলাম সেখানে। সুতপা দিদির কাছে এর মধ্যেই জেনে গেছি, ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাঁর জমানো টাকা সব শেষ। কিন্তু তিনি ও সুতপা দিদি—কেউই কোনোভাবেই কোনো আর্থিক সাহায্য নিতে চান না। এমনকি বাপীদার ক্যানসারের কথাও যেন কাউকে না জানাই, এমন বললেন আমাকে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের বাড়িতে গেছে আর্থিক সাহায্য নিয়ে, বাপীদা সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না, তাঁর চিকিৎসা তাহলে চলবে কীভাবে! কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে ভাবলাম কয়েক দিন। কয়েকজন সিনিয়র প্রবাসী শিল্পীকে জানালাম বাপীদার আর্থিক অবস্থার কথা, যাঁরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়। তাঁদের দুজন বেশ ভালো অঙ্কের টাকা পাঠালেন তাঁকে। কিন্তু এই চিকিৎসা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় খরচের তুলনায় এমন পরিচিতজনদের আর্থিক সহায়তা ছিল বেশ সামান্যই। তাই সুতপা দিদিকে অনুরোধ করলাম, তাঁরা যেন অন্তত সবাইকে জানান যে বাপীদা ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন পরে আমি একপ্রকার বাধ্য হয়ে ফেসবুকে বাপীদার ক্যানসারের কথা জানিয়ে ফেসবুকে লিখলাম। আর্থিক সাহায্য দরকার; সেটা সরাসরি না লিখে লিখলাম, আমাদের উচিত তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া। কিছু লাগলে সেটার ব্যবস্থা করা। কলকাতার কয়েকজন পরিচিত সাংবাদিকসহ পরিচিত বন্ধুদের জানালাম। জনপ্রিয় এক ব্যান্ড তারকা ব্যাপারটি জানতে পেরে চিকিৎসার কথা ফেসবুকে লিখলেন। মূলত তাঁর মাধ্যমেই সবার কাছে পৌঁছে গেল বাপীদার অসুস্থতার কথা। তখন কলকাতার শিল্পীরা এগিয়ে এলেন। তাঁরা বিভিন্নভাবে কনসার্টের আয়োজন করে, অনলাইনে গান গেয়ে চিকিৎসায় সহায়তার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে লাগলেন। কিছুদিন পর রাজ্য সরকার থেকে সুতপা দিদিকে জানানো হলো, বাপীদার সব চিকিৎসার দায়িত্ব তারা নিচ্ছে। আমি তখন টাটা মেডিকেলে সুতপা দিদির পাশে বসা। ফোন রেখেই আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গৌতম, আমরা এখন কী করব?’ কারণ, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা নিতে চান না। আমরা পাশে যাঁরা ছিলাম, তাঁরা বোঝালাম, এটা কোনো রাজনৈতিক দলের দেওয়া সুবিধা নয়, এটা একজন কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে বাপীদার প্রাপ্য অধিকার রাষ্ট্রের কাছে। তার পর থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালে বাপীদার চিকিৎসা চলছিল। আমি তারপর আরও কয়েকবার বাপীদার সঙ্গে দেখা করে এসেছি। ফোনে নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছি। বাপীদা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, সেটা আমি কখনো লিখে প্রকাশ করতে পারব না। আমরা বাংলাদেশ থেকেও তাঁর চিকিৎসার সহায়তায় কনসার্টের আয়োজন করেছিলাম, সেখানে বাংলাদেশের ৩৫ শিল্পী ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র গান গাইবেন। ব্যাপারটা যখন প্রথম বাপীদার সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম, তখন খুব খুশি হয়েছিলেন। কারণ, তিনি নিজে আর বাংলাদেশে আসতে না পারলেও তাঁকে স্মরণ করে আমরা কিছু করতে চলেছি, এটা তাঁর ভালো লেগেছিল। মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগেও তিনি আমাদের কনসার্টের জন্য স্মারক টি-শার্টে স্বাক্ষর করেছেন। এরপর সেই কনসার্ট আমরা করেছিলাম। বাপীদা স্মরণে সেই কনসার্টে তাঁর ব্যান্ড 'মহীন এখন ও বন্ধুরা' এসেছিল। কনসার্ট থেকে অর্জিত টাকা তুলে দিয়েছিলাম সুতপাদির হাতে। আসলে তাপস দাস বাপীরা মরেন না। তাঁরা আজীবন বেঁচে থাকেন আমাদের হৃদয়ে। আমরা যখন ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র ‘ভেসে আসে কলকাতা’, ‘সংবিগ্ন পাখিকুল’, ‘হায় ভালোবাসি’, ‘সুধীজন শোনো’, ‘এই সুরে বহু দূরে’—তাঁর লেখা বা সুর করা বা গাওয়া এসব গান শুনব, তখন ঠিকই আমাদের স্মৃতির মানসপটে বাপীদা নামক এক দৃশ্যের জন্ম হবে। প্রিয় বাপীদা, আপনি এই পৃথিবীর আস্তাবলের নালহীন এক ঘোড়া হয়ে থেকে যাবেন। ** এই লেখাটি বাপীদার মৃত্যুর পর প্রথম আলোতে প্রকাশিত ** (ভিডিও শিল্পী সৌমিত্র রায়ের সৌজন্যে। বাপীদা কেমো দেওয়া কালেই নাকে নল লাগিয়ে গাইছেন, তাঁর ব্যান্ড 'মহীন এখন ও বন্ধুরা'র সাথে। কলকাতায় ক্রিসমাস সন্ধ্যায়, দেশপ্রিয় পার্কে।)

25/01/2025

সংবিগ্ন পাখিকূল
(রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ নেই শূন্যতা)

কাভার: সিনা হাসান
গিটার: আহনাফ খান অনিক, নিশাত এ.কে.
[বাংলা ফাইভ]

★ অ্যালবাম - সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক (১৯৭৭)

ভালোবাসি জ্যোস্নায়...
মহীনের গানে গানে; 'স্মরণে বাপীদা'
১৪ জুলাই, ২০২৩
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা

(নোট: আজ সিনা হাসানের জন্মদিনে প্রকাশিত হলো গানটি)

Sina Hasan, Sina Hasan, Bangla Five Band

22/01/2025

মেঘদল-এর বাইশ!

ইভেন্টহোলিক এর পক্ষ থেকে শুভকামনা। নতুন দিনের বাংলা গানে মেঘদলের সক্রিয়তার কারণে যুগ যুগ মেঘদল বেঁচে থাকুক গানপ্রেমীদের হৃদয়ে।

নিশ্চয়ই ইভেন্টহোলিক এর উদ্যোগে 'শরতে মেঘদল' একক কনসার্টের কথা মনে আছে আপনাদের। শীঘ্রই আবার দেখা যেতে পারে মেঘদলের আরেকটা একক কনসার্টের; ২২ বছর পূর্তিতে।

Want your business to be the top-listed Event Planning Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


36/7 Mirpur Road, Boshundhora Goli, Science Laboratory, New Market
Dhaka
1205