Ornil Riaz
I will learn myself and I will teach you too
বিদায় বেলায় ড. ইউনূস: ১৮ মাসের 'মেটিকিউলাস' শাসন নাকি এক বড় দীর্ঘশ্বাস?
আগামী দুই দিন পর শেষ হতে যাচ্ছে ড. ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন। ব্যক্তি ড. ইউনূসের প্রতি একসময় প্রবল সমর্থন থাকলেও, শাসক ড. ইউনূসকে নিয়ে গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু নির্মম সত্য মেনে নিতেই হচ্ছে। একজন নোবেলজয়ীর কাছে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু প্রাপ্তি? চলুন মিলিয়ে দেখি।
❌ যেখানে চরম ব্যর্থতা:
১. আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস: ১৮ মাসে মব জাস্টিসে ৩০০ মানুষের মৃত্যু, রাজধানীতে ৬৪৩টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং নদী থেকে রোজ লাশ উদ্ধারের ঘটনা—এটা কি কোনো সভ্য দেশের চিত্র? দীপু দাস বা খোকনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাগুলো এই শাসনামলের কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
২. কূটনীতি ও পাসপোর্ট: 'আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়' তকমা থাকলেও পাকিস্তান ছাড়া আর কারো সাথে সুসম্পর্ক গড়তে পারেননি। উল্টো ভারতের সাথে সম্পর্ক তলানিতে, মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্টের মান নামতে নামতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন-ফিলিস্তিন লেভেলে।
৩. স্বজনপ্রীতি: ট্যাক্স মওকুফ থেকে শুরু করে নিজের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের সরকারের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানো—আগের সরকারের সাথে এই সরকারের আচরণের পার্থক্য কোথায়?
৪. নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষা: নারী সংস্কার কমিশন ব্যর্থ, নারীদের পোশাক নিয়ে ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ৪%-এ নেমে আসা—এ এক ভয়াবহ পশ্চাৎপসরণ। ক্যাম্পাসে এখনো শিক্ষার পরিবেশ ফেরেনি, বরং ভিসি নিয়োগে দলীয়করণই দেখা গেছে।
৫. বিনিয়োগ ও অর্থনীতি: বিদেশি বিনিয়োগ তলানিতে (মাত্র ১৪০ কোটি ডলার)। ঋণ বেড়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনিশ্চয়তা আর দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী দামে জনজীবন অতিষ্ঠ।
✅ যেখানে কিছুটা স্বস্তি:
১. রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স: স্বীকার করতেই হবে, রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ৩৩ বিলিয়নে (সরকারি মতে) দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীরা দুহাত ভরে টাকা পাঠিয়েছেন (রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২%)।
২. ব্যাংকিং খাত: ব্যাংক একীভূতকরণ ও অনাদায়ী ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার ভালো মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে।
📝 শেষ কথা:
২০০১ সাল থেকে রাজনীতি দেখছি, কিন্তু গত দেড় বছরের মতো অস্থিতিশীলতা ও বিভাজিত দেশ আগে দেখিনি। দেশটাকে এক করার সুযোগ ছিল ওনার, কিন্তু উনি জাতিকে বিভক্ত করে বিদায় নিচ্ছেন। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ে পরিবর্তন এসেছিল, তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি।
ব্যক্তি হিসেবে তিনি সফল হতে পারেন, কিন্তু শাসক হিসেবে তিনি দেশের জন্য খুব একটা সুখকর স্মৃতি রেখে যেতে পারলেন না।
আমার রেটিং: ৩/১০ (বাকি ৭ কাটা গেল মব জাস্টিস, কূটনৈতিক ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্য আর স্বজনপ্রীতির কারণে।)
🛑 এই মুহূর্তে ঝোঁকের মাথায় চাকরি ছাড়ার আগে দু'বার ভাবুন!
দেশের চাকরির বাজার এখন অত্যন্ত খারাপ। এই পরিস্থিতিতে যেখানে আছেন, সেখানেই স্থির থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি না খুব বেশি প্রয়োজন হয়, অন্তত আগামী ৬ মাস কোনো ধরনের সুইচ করার কথা ভাববেন না।
📉 বর্তমান অর্থনীতির চিত্র: কেন এই সতর্কতা?
* বিদেশি বিনিয়োগ নেই: নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
* ব্যাংক লোনে কড়াকড়ি: ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের হাতেও অর্থের টান।
* অনেক বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ: কর্মসংস্থান উল্টো কমছে।
* অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাব: দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানেই এক ধরনের স্থবিরতা চলছে।
⚠️ একটি কঠিন বাস্তবতা: নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়ে যতই ক্ষোভ থাকুক না কেন—একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, সেই 'লুটপাটের' একটি অংশ হলেও দেশে বিনিয়োগ হয়, কলকারখানার চাকা ঘোরে। দুর্নীতি আমাদের সমাজের একটি চলমান ব্যাধি, আর আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে সহসাই এটি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।
🏦 আমাদের দেশের ভরসা কী?
আমাদের পর্যটন বা খনিজ সম্পদ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ আনার সুযোগ সীমিত। আমাদের অর্থনীতির মূল ভরসা হলো ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কিছু সেক্টর হয়তো সামান্য উন্নতির মুখ দেখছিল, কিন্তু সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে।
এটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য ঘোর অশনিসংকেত।
🎯 আপনার জন্য অনুরোধ:
নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে, খুব বেশি প্রয়োজন না হলে দয়া করে বর্তমান প্রতিষ্ঠানেই থাকুন। এই সময়টা ধৈর্য ধরে পার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
#চাকরিরবাজার #অর্থনীতি #সাবধানতা #কর্মসংস্থান #বাংলাদেশ
⚠️ বর্তমান চাকরির বাজারে সতর্কতা: হুটহাট চাকরি ছাড়ার আগে দু’বার ভাবুন! ⚠️
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে উঠে আসা উদ্বেগজনক তথ্যগুলো আমাদের সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। চাকরির বাজার এখন আর আগের মতো স্থিতিশীল নয়, বরং অনেক বেশি অস্থির ও প্রতিযোগিতামূলক।
📉 উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান (২০২৩–২০২৪):
* প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে।
* চলতি বছরে আরও প্রায় ৮ লাখ মানুষ বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে।
* দারিদ্র্যের হার ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২১.২% হওয়ার আশঙ্কা।
এই পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাদের এখন প্রতিটি কেরিয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কভাবে।
🚫 কেন এখন চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ?
আবেগ, রাগ বা সাময়িক অসন্তোষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া এই মুহূর্তে হতে পারে সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত।
কারণ:
* নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন: নতুন সুযোগ খোঁজা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
* চরম প্রতিযোগিতা: একেকটি পজিশনে আবেদনকারীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
* ইন্টারভিউ কল কম: প্রত্যাশিত সংখ্যক ইন্টারভিউ কল পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
* কঠিন হচ্ছে প্রতিযোগিতা: স্কিল ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হচ্ছে।
চাকরি ছাড়ার হুটহাট সিদ্ধান্তে নতুন সুযোগের জন্য আপনাকে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রাম করতে হতে পারে।
✅ বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী?
যেখানে আছেন, সেখানেই নিজেকে আরও উন্নত করুন এবং বাজারের জন্য প্রস্তুত হন:
* নতুন স্কিল শিখুন, নিজের ভ্যালু বাড়ান: নিজেকে অপরিহার্য করে তুলুন।
* পরিকল্পনা করুন: পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কেরিয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটি ব্যাকআপ প্ল্যান তৈরি রাখুন।
* বাজার পরিস্থিতি বুঝুন: চাকরির বাজারের গতি-প্রকৃতি বোঝার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।
* পরামর্শ নিন: অভিজ্ঞ রিসোর্স পারসন এবং কেরিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
এই অস্থির সময়ে, আপনার বর্তমান চাকরিটি ধরে রাখা—এটাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।
মনে রাখবেন---
চাকরি শুধু একটি ইনকামের উৎস নয়— এটি আপনার কেরিয়ার গড়ে তোলার প্ল্যাটফর্ম।
হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে, স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিন এবং নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করুন।
#বেকারত্ব #চাকরি #কেরিয়ার #বাংলাদেশ
আজকের IELTS পরীক্ষা: একটি আশার ঝলক, নাকি গভীর ক্ষত?
আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী IELTS পরীক্ষায় বসেছে। এই ভিড় কি আমাদের জন্য একটি আশার আলো, নাকি সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক বড় সমস্যার ইঙ্গিত?
আমরা দেখছি, দেশের বেশিরভাগ তরুণই কোনো না কোনোভাবে এই দেশ ছাড়তে চাইছে। কেউ স্টুডেন্ট ভিসায়, কেউ শ্রমিক ভিসায়। অথচ আমরা সবাই জানি, বিদেশে জীবন মোটেই সহজ নয়। তবুও কেন বিদেশ থেকে একটাই আওয়াজ আসে – 'আগে বাংলাদেশ থেকে বাইর হইয়া আয়'?
ডেইলি মেসেঞ্জারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে শুধু লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথেই আট হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ১৭-১৮ লাখ টাকা খরচ করে যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে চান, সেই একই টাকায় কেন তারা নিজেদের দেশেই একটু কম ঝুঁকি নিয়ে থাকতে চান না? এটা কি কেবলই টাকার লোভ?
যদি শ্রমিকদের কথা বলি, হয়তো তাদের জন্য অর্থের লোভ একটি বড় কারণ। কিন্তু আমাদের দেশের মেধাবীরা কেন থাকতে চায় না?
তাদের জিজ্ঞেস করলে সরল উত্তর আসে: 'কারণ এই দেশে জীবনের নিরাপত্তা নেই, সম্মান এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং লিগ্যাসি থেকে আসে।'
চীনের মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা করে আবার নিজেদের দেশে ফিরে আসে। কারণ তাদের দেশ তাদের জীবন ও সম্মান দুটোই নিশ্চিত করে। কিন্তু আমাদের দেশের মেধাবীরা উচ্চশিক্ষা শেষে আর ফিরতে চায় না। এর কারণ কী?
কারণ, এখানে জীবন ও সম্মানের নিরাপত্তা নেই। বরং উল্টো চিত্র:
* আপনার সন্তান ভেজাল খাবার খেয়ে অসুস্থ হতে পারে, এমনকি প্রাণও হারাতে পারে।
* আপনার মেয়ে বা স্ত্রী বাইরে বের হলে ধর্ষণের ঝুঁকিতে থাকে।
* ফিটনেসবিহীন একটি বাস যেকোনো সময় পুরো পরিবারকে চাপা দিতে পারে।
* স্কুলে পাঠানো সন্তান ঘরে ফিরতে পারে লাশ হয়ে।
* রেস্টুরেন্টে খেতে বসেও পুরো পরিবারসহ পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
* ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে ট্রলার ডুবিতে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে।
* একজন রাজনৈতিক চামচা যেকোনো পরিস্থিতিতে যে কাউকে অসম্মান করতে পারে।
আমাদের দেশের দুর্নীতি, বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতার অভাব প্রতিটি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পরিস্থিতি এমন যে, এই দেশে ঘুষ না খাওয়াটাই যেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ! কিছুদিন আগে একজন বিএনপি নেতা ইউএনও-কে ফোন করে বলেছিলেন, '১৭ বছর পর কাজ পেয়েছি। মাতব্বরি করে ঝামেলা পাকাতে এসো না। ঝামেলা করলে ঝামেলা বাড়বে।' এমন অবস্থায় কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেটাই বোঝা মুশকিল।
ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে আমরা দেখি, পরিবার-পরিজন ছেড়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছে তরুণরা। ১৫-১৬ লাখ টাকা খরচ করে তারা বিদেশে গিয়ে Odd Job করছে। পড়াশোনা সামলিয়ে নিজেদের রান্না নিজেদেরই করতে হচ্ছে। তবুও তারা সন্তুষ্ট। অন্তত তারা নিরাপদ!
আপনার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করুন, ১৬-১৭ লাখ টাকা খরচ করে দেশে ব্যবসা না করে কেন তারা বিদেশে গিয়ে Odd Job করছে? গ্রামে অনেক নতুন উদ্যোক্তা দেখি, উৎসাহ নিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু পরের দিনই চাঁদা না দিলে পুকুরের মাছ মরে ভেসে ওঠে, লাগানো গাছ কেটে ফেলা হয়। যে কৃষি দিয়ে চীন বিপ্লব ঘটিয়েছিল, আমাদের দেশে সেই কৃষিই কৃষকের পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে।
আমাদের মেধাবী ডাক্তাররা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া চলে যান, আর আমাদের মন্ত্রীরা চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যান। এমনকি ছোটখাটো সমস্যার জন্যও ভারত থেকে চিকিৎসক আনতে হয়।
কেন?
দেশে যে মেধাবীরা আছেন, তারাও আটকা পড়েছেন বিসিএস নামক এক স্বপ্নাতুর জালে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করে এই বিসিএস ক্যাডাররাই। কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে সে দেশের কৃষক ধমক দিলেও কৃষকের কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু আমাদের দেশে বিসিএস ক্যাডারকে 'স্যার' না ডাকলে বিপদ হয়ে যায়!
চীন তাদের মেধাবীদের কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে দাপট দেখাচ্ছে, ইরান তাদের মেধাবীদের দিয়ে ওয়ার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর আমরা আমাদের মেধাবীদের শিখিয়েছি কিভাবে মেধাবী হয়ে সামাজিক স্ট্যাটাস বাড়াতে হয়, কিভাবে নিজের 'হ্যাডম' দেখাতে হয়। একজন ম্যাজিস্ট্রেট হলেই যেন তার চৌদ্দগোষ্ঠীর ক্ষমতা চলে আসে, যা ইরান বা আমেরিকারও নেই!
অন্যান্য দেশ যখন তাদের মেধাবীদের ফিরিয়ে আনছে, আমরা তখন আমাদের মেধাবীদের পাচার করছি। মেধাবীদের একটি ভুল সিস্টেমে ঢুকিয়ে দিয়ে আমরা তাদের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে স্বাধীনতার ৫০ বছরে কেন, স্বাধীনতার ১০০ বছরেও এই দেশের পরিবর্তন আসবে না। তারপর কোনো এক দুর্ঘটনার পর আবার কেউ বুক চাপড়ে বলে উঠবে, 'আমি আর এই দেশে থাকব না...!'
কনটেন্ট মনিটাইজেশন: রুচি ও ব্যক্তিত্বের সংকট
কনটেন্ট মনিটাইজেশনের হাত ধরে যেমন নতুন আয়ের পথ খুলেছে, তেমনি এর অপব্যবহার আমাদের সমাজের মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত রুচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অর্থ উপার্জনের নেশায় অনেকে এতটাই মত্ত হয়ে উঠছেন যে, নিজের অবস্থান এবং ব্যক্তিত্বের সম্মান সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন হয়ে পড়ছেন।
আমরা প্রায়শই দেখছি পুরুষ শিক্ষকরা মেয়েদের শাড়ি-ব্লাউজ পরে অদ্ভূত নাচানাচি করছেন, যা শিক্ষকতার মতো একটি মহান পেশার गरिমাকে ক্ষুন্ন করছে। আবার নারী শিক্ষিকারাও তাদের সন্তানের মতো নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন সব উদ্ভট কার্যকলাপে মেতে উঠছেন যা তাদের দায়িত্ববোধের সাথে সাংঘর্ষিক।
পারিবারিক পরিসরেও এই অবক্ষয় চোখে পড়ছে। স্বামী-স্ত্রী নিজেদের শোবার ঘরে রাতের পোশাকে সস্তা আহ্লাদী সংলাপ দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে পরিবারের সকলে মিলে বেমানান বা হাস্যকর পোশাক পরে রাস্তায় বেরিয়ে ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল করছেন। এক্ষেত্রে কার পোস্টে কার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে, সেই বোধটুকুও যেন লোপ পেয়েছে।
'প্র্যাঙ্ক ভিডিও'র নামে মানুষকে আকস্মিকভাবে বিব্রত করা হচ্ছে, আর সেই বিব্রতকর নিষ্পাপ চেহারাগুলোকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসি-তামাশার বন্যা বইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব দেখে মনে হয়, আমাদের সংবেদনশীলতার সীমা যেন দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
নিঃসন্দেহে কনটেন্ট মনিটাইজেশন একটি ভালো উদ্যোগ। কিছু অতিরিক্ত উপার্জন হলে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই উপার্জনের জন্য আমরা কোন মূল্য দিচ্ছি? আপনার যে বিষয়ে দক্ষতা বা পারদর্শিতা আছে, তা যদি রুচি এবং শালীনতার সীমারেখার মধ্যে থেকে মানুষের মনে ঝড় তুলতে পারে, সেটাই তো প্রকৃত সার্থকতা।
আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের অনুভূতির সীমা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা রাখা।
কেবল অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে এমন কিছু করা উচিত নয় যা ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বকে আঘাত করে। মনে রাখতে হবে, ভার্চুয়াল জগতের ক্ষণিকের খ্যাতি যেন আমাদের বাস্তব জীবনের মৌলিকত্বকে কেড়ে না নেয়।
ব্যর্থতার সবচেয়ে খারাপ সময় "যারে কোনোদিন Baaল দিয়াও গুনি নাই সেও আইসা কথা শুনায়" 😆💔
অফিসের জটিল রাজনীতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার ১০টি সহজ কৌশল
অফিস মানে শুধু কাজ আর মিটিং নয়, এর ভেতরে চলে এক নীরব প্রতিযোগিতা। যাকে আমরা বলি 'অফিস পলিটিক্স'। এতে যারা চালাক, তারা অনেক সময় যোগ্যদেরও পেছনে ফেলে দেয়। কিন্তু কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে আপনিও এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। এই ১০টি কৌশল আপনাকে পেশাদার থাকতে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে সাহায্য করবে।
১. কাজই আপনার পরিচয়: গসিপ বা পরচর্চা থেকে দূরে থাকুন। ব্যক্তিগত জীবনে কী হচ্ছে তা অফিসে টেনে আনবেন না। সময়মতো এবং মনোযোগ দিয়ে নিজের কাজ শেষ করুন। আপনার কাজই আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
২. কম কথা বলুন, বেশি শুনুন: অফিসের আড্ডায় নিজেকে জড়াবেন না। প্রয়োজন ছাড়া কথা কম বলুন। এতে অপ্রয়োজনীয় ভুল বোঝাবুঝি ও ঝামেলা এড়ানো যায়।
৩. সবাইকে বিশ্বাস করবেন না, কিন্তু সন্দেহপ্রবণও হবেন না: সবার সাথে মিশুন, কিন্তু সবাইকে সবকিছু বলবেন না। আপনার ব্যক্তিগত বা পেশাগত দুর্বলতা প্রকাশ না করাই ভালো। তবে অকারণে কাউকে সন্দেহ করলে নিজেই মানসিক চাপে পড়বেন।
৪. দলবাজি নয়, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন: অফিসে কোনো বিশেষ গ্রুপ বা দলে যোগ দেবেন না। সবার সঙ্গে ভদ্র ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন। এতে আপনি নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন।
৫. নিজের সীমা নির্ধারণ করুন: সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে 'না' বলতে শিখুন। যারা আপনার সময় নষ্ট করছে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।
৬. আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে ভাবুন: কেউ আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করলে বা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করুন। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।
৭. দক্ষতা বাড়াতে থাকুন: আপনার কাজের দক্ষতা আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখুন এবং নিজেকে আপডেটেড রাখুন। মনে রাখবেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই চিরস্থায়ী নয়। তাই নিজের স্কিল বাড়াতে থাকলে আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।
৮. নম্র থাকুন, সম্মান হারাবেন না: নম্রতা মানে এই নয় যে সবার কথায় সায় দেওয়া। আপনার যদি কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকে, তবে তা ভদ্রভাবে প্রকাশ করতে পারেন। বিনয়ী আচরণ আপনাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
৯. একজন নির্ভরযোগ্য সহকর্মী খুঁজুন: একজন বিশ্বস্ত সহকর্মী বা মেন্টর খুঁজে বের করুন, যার সঙ্গে আপনি আপনার মনের কথা বা অফিসের সমস্যাগুলো শেয়ার করতে পারেন। এটি আপনাকে মানসিক শান্তি দেবে।
১০. অফিসের দুশ্চিন্তা অফিসে রাখুন: অফিসের টেনশন বাড়িতে নিয়ে যাবেন না। পরিবারকে সময় দিন, পছন্দের কাজ করুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। এতে আপনার মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং আপনি নতুন উদ্যমে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।
মনে রাখবেন, অফিসে রাজনীতি পুরোপুরি এড়ানো কঠিন হলেও, এসব কৌশল মেনে চললে আপনি সম্মান নিয়ে টিকে থাকতে পারবেন।
"চুপচাপ থেকেও ঝড় সামলানো যায়, যদি ভিতরটা হয় শক্ত।" 💪
এই গাইডটি আপনার কাজে লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যদেরকেও সাহায্য করুন! 🙏
#অফিসপলিটিক্স #কাজেরজায়গা #পেশাদারিত্ব #সাফল্য #কর্মজীবন #কেরিয়ার
"বিবেকের কাঠগড়ায় এক মানবিক বিপর্যয়"
গতকালের বিমান দুর্ঘটনা কেবল একটি উড়োজাহাজের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল না, এটি ছিল আমাদের মানবিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। দুর্ঘটনার পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
প্রচণ্ড গরমে উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের যখন পানির প্রয়োজন ছিল, তখন কলেজের ক্যান্টিন তাদের পানি বিক্রি করতে বাধ্য করে। মানবিকতার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন এমন দৃশ্যই দেখা যায়। এমনকি, যখন সবচেয়ে বেশি পানির দরকার ছিল, তখন ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ "পানির টাকা কে দেবে?" – এই প্রশ্নটিই যেন মানবিকতার ঊর্ধ্বে স্থান পায়।
আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে যখন ছোট ছোট শিশুরা বের হয়ে আসছিল, তখন সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে উৎসুক জনতা ব্যস্ত ছিল মোবাইলে ভিডিও ধারণে। মানবিক সাহায্য প্রদানের চেয়ে "ভিডিওতে বেশি ভিউ" এবং "টাকা ইনকাম"-এর মানসিকতা আমাদের কোন অতলে নামিয়েছে, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে।
ঝলসানো শরীর নিয়ে বেরিয়ে আসা আহতদের হাসপাতালে নিতে রাজি হয়নি কোনো সিএনজি, রিকশা বা এমনকি কাছাকাছি থাকা কোনো প্রাইভেট কার। কারণ, "এরা কেউ তার নিজের সন্তান নয়।" এই বাক্যটি আমাদের সমাজের চরম স্বার্থপরতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ।
দুর্ঘটনার শিকারদের জন্য পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অমানবিকতার চিত্র। মাইলস্টোন কলেজ থেকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে সিএনজি ভাড়া ১০০০ টাকা, যেখানে উত্তরা-উত্তর মেট্রোর নিচ থেকে মনসুর আলী মেডিকেলে রিকশা ভাড়া ১০০ টাকা – এই বৈষম্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয় সংকটের সময়ও কিছু মানুষ কীভাবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে।
দুর্ঘটনায় আহত বা আতঙ্কিত শিশুদের আইডি কার্ডে অভিভাবকদের ফোন নম্বর না থাকাটা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার দিকে ইঙ্গিত করে। শিশুরা এতটাই আতঙ্কিত যে তারা তাদের ঠিকানা বা অভিভাবকদের ফোন নম্বর বলতে পারছে না, অথচ তাদের সুরক্ষার জন্য ন্যূনতম তথ্যটুকুও আইডি কার্ডে নেই।
সবশেষে, ১৯৭৬ সালের মডেলের একটি যুদ্ধবিমানের দুর্ঘটনা ইঙ্গিত দেয় আমাদের দেশের প্রযুক্তিগত দৈন্যদশা এবং সম্ভবত রক্ষণাবেক্ষণেও ঘাটতির।
এটাই হয়তো আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র।
এটাই আমাদের বিবেক এবং মনস্তত্ত্ব। এই ঘটনাগুলো আমাদের বাঙালি পরিচয়ের এক ভিন্ন দিক উন্মোচন করে।
যে শিশুরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের এই দুনিয়ার 'জাহান্নাম' থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
21/07/2025
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির: এক অসম সাহসিকতার গল্প, এক মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী 💔
একটা বোতাম চাপলেই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ফিরে যেতে পারতেন তাঁর পরিবারের কাছে, জীবনের কাছে। নিজেকে বাঁচানোর সুযোগ ছিল তাঁর হাতে। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি চেষ্টা করেছেন বিমানটিকে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যেতে, যাতে জনবসতিতে বড় ধরনের ক্ষতি না হয়। নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঁচিয়েছেন অজস্র প্রাণ। 🙏
তাঁর সেই বিমানটি ছিল পুরনো এক F-7 যুদ্ধবিমান। যে বিমান হয়তো ২০২৫ সালের আকাশে থাকার কথা নয়, সেটাই উড়ছিল। কেন? কারণ দুর্নীতি এখনও এই দেশের আকাশে উড়ছে, আর সেই দুর্নীতির ভার বইছে আমাদের প্রজন্মের সাহসী সন্তানেরা। 😡
তৌকির আকাশে মারা যাননি। তিনি মরে গিয়েছিলেন সেদিন, যেদিন বাজেট চুরি হয়েছিল, যেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল ১৯৭৬ সালের বাতিল বিমান দিয়েই চলবে আধুনিক যুগের প্রশিক্ষণ। এই সিস্টেম তাঁর জন্য কিছুই রাখেনি – না কোনো নিরাপত্তা, না কোনো বিকল্প। রেখে গেছে কেবল ঝুঁকি, মরচে ধরা লোহা, আর এক তরুণ অফিসারের নিশ্চিত মৃত্যু।
উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের এই ভয়াবহ ঘটনায় শুধু তৌকির নন, প্রাণ হারিয়েছেন আরও অনেকে। তাঁদের সবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁদের পরিবার-পরিজনের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা।
আহত যারা হয়েছেন, আল্লাহ যেন তাঁদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন।
আর যেন কোনো তরুণ তৌকিরকে, একটা মরচে ধরা বিমানের সঙ্গে এমন করুণভাবে জীবন বিসর্জন দিতে না হয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
#ফ্লাইটলেফটেন্যান্টতৌকির #শোক #দুর্নীতি_বন্ধ_হোক #নিরাপদ_আকাশ_চাই #বিমানদুর্ঘটনা #সালাম_তৌকির
জাস্টিন বিবারের গল্পটা জানেন তো? 🎤 একসময় দুনিয়া কাঁপানো 'বেবি' গায়ক, সাফল্যের চূড়ায় উঠেছিলেন। নাম, যশ, টাকা, খ্যাতি - সব ছিল হাতের মুঠোয়। প্রাইভেট জেটে নেশার জিনিস নিয়ে ওড়াউড়ি ছিল রোজকার ব্যাপার। কিন্তু জীবন ঠিকই তার হিসাব নিয়ে নেয়! 😔
আজ সেই বিবার $৩১.৫ মিলিয়ন ডলারের বিশাল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। যে হাত মাইক্রোফোন ধরতো, সে হাত এখন স্ত্রীর সাহায্য চাইছে। যে মানুষ কোটি কোটি ডলারের চেক সাইন করতেন, তিনি এখন স্ত্রী হেইলির কসমেটিক ব্র্যান্ড 'রোড'-এর বিক্রির অর্থের দিকে তাকিয়ে আছেন। জীবনটা পুরোপুরি উল্টে গেছে।
আসলে, আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা যখন অহংকার, নেশা আর বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়, তখন নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলাটা খুব সহজ। সাফল্যের কোলাহলে ভেতরের সতর্কবাণীও চাপা পড়ে যায়। 😢
আজ তিনি অসুস্থ, ক্যারিয়ার ধুঁকছে, একের পর এক কনসার্ট বাতিল হচ্ছে। অথচ একসময় তার কনসার্টের টিকিট পাওয়া ছিলো ভাগ্যের ব্যাপার! ২০০ মিলিয়ন ডলারে নিজের মিউজিক ক্যাটালগ বিক্রি করা মানুষটিই এখন ট্যাক্স, আইনজীবী আর ম্যানেজারের বিল মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
জীবনের এই ওঠাপড়া থেকেই আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে:
* সাফল্য যদি হিসাব না জানে, তবে সে শত্রু। 💸
* শরীর, সম্পর্ক আর অর্থের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে জীবন ধ্বংসের দিকে গড়াতে পারে। 🧘♂️❤️💰
* প্রতিটি উত্থানের পেছনেই এক সম্ভাব্য পতনের গল্প থাকে; প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। 📈📉
* আর সবচেয়ে বড় কথা, পাশে দাঁড়ানো মানুষই জীবনের আসল সম্পদ। 💪
জাস্টিন বিবার আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন - তারকা মানেই অমরত্ব নয়, সাফল্য মানেই স্থায়িত্ব নয়। তবে ভুল থেকে ফিরে আসাটাই আসল জীবন। হয়তো এই অভিজ্ঞতা তাকে নতুন করে জন্ম দেবে, আর আমাদের দেবে আরও একটা গভীর শিক্ষা।
কারণ, পতন কখনো শেষ নয়, যদি শেখা শুরু হয়। 🙏
#সাফল্য #শিক্ষা #বাস্তবতা #জীবনযুদ্ধ
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1213