Taking the First Step
আমাদের পেইজে আপনাকে স্বাগতম,
on behalf post-
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মেয়েটাকে পছন্দ করেছিলাম ২০১৪ সালে। তার পারিবারিক অবস্থা দেখেই তাকে পছন্দ করি। ছোট বেলায় তার বাবা ফেলে চলে যায়, তার মা বয়স্ক একজনকে বিয়ে করে। তার যত আত্মীয় আছে সবাই অন্য ধর্মাবলম্বী, তখন থেকেই তার মা অন্যজনের বাসায় কাজ করে (বুঝার সুবিধার্থে এগুলো বললাম)। ২০১৪ সালে দেখলেও তার সাথে আমার কথা শুরু হয় ২০১৭ সালে। তখন সে একটা সম্পর্কে ছিল। যেহেতু সে একদম টিনেজ ছিল তাই আমি এটাকে অন্যভাবে দেখিনি। তার সাথে কথা হতে থাকে। ২০১৮ সালের দিকে তার মা আমাদের কথা জানতে পারে। এবং আমাকে ডেকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন আমি অপারগ ছিলাম। ২য় তো তার বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। আমি তাকে বলি ২ বছর টাইম দিতে। সে বলে দিবে। কিন্তু ২০১৯ সালে তার টিউটরের সাথে তার বিয়ে হয়। অনেকেই বলে সম্পর্ক করে করেছে। তারপর আমি একদম চুপ হয়ে যাই। ৬ মাসের মতো হয়তো সে সংসার করেছিল এর পর সমস্যা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঐ ছেলে চলে যায় ওকে রেখে। এরপর আরও ৬ মাস যাওয়ার পর সে আমাকে নক করে। এবং সবকিছু বলে। তার ভাষ্যমতে সে আমাকে ভুলেনি, তাকে জোর করে বিয়ে দিছে। ঐ ছেলে আমার কথাও জানত। এসব নিয়ে তাকে কুটা দিতো। সে ওখানে সংসার করবে না।
আমার মনে মায়ার জন্ম হয়। ভেবেছি ঐসময় তার মায়ের কথায় রাজি হলে তো আমার কাছেই বিয়ে দিত। কিন্তু হইনি বলে অন্য জায়গায় দিয়েছে। ওর জীবন এমন হওয়ার পেছনে আমারও হাত আছে। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করি।
বর্তমানে ৪ বছর চলে সম্পর্কের। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে খুবই খারাপ যাচ্ছে। সে পালিত হয়েছিল তার মায়ের ফুফাতো বোনের কাছে। এবং তার একজন ভাই আছে, আর তার বউকে নিয়েই যত সমস্যা।
৬ মাস আগে সে তার ঐ ভাবির সাথে ঘুরতে যায়। সেখানে একটা লোক আসে এবং রেস্টুরেন্টে তাদের খাওয়ায়। লোকটির বয়স ৪০+। তো সেই লোক তাকে পছন্দ করেছে, লোকটি তার ভাবির পরিচিত একজন। আত্মীয় কেউ নয়। অতঃপর লোকটি তার ভাবির কাছে ফেইসবুক আইডি চায়। এবং তার ভাবিও দিয়ে দেয়। এবং আমার প্রেমিকাকে বলে দেয় যেন রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করে। আমার প্রেমিকা এক্সেপ্ট করে এবং ঐদিন থেকেই কথা বলা শুরু করে। কিন্তু একদিনের পরিচিত একজনের সাথে এত কথা বলা যায় আমি ভাবতেও পারি না। যেমন আমার প্রেমিকা রোজ ডের দিন বলছে আমাকে কেউ একদিন একটা ফুল দেয়নি। বলছে, একদিন রান্না করে পাঠায়েন। আমি যদি আপনার কাছে পড়তে পারতাম ইত্যাদি। কখন কি করছে, মষ খারাপ কেন আরও কত কথা। আর ঐ লোকটি তাকে ইমোশনালি নরম করে বুঝাতে চাইছে সে তাকে পছন্দ করে।
প্রেমিকার আইডি আমার কাছে ছিল, কারণ ওটা আমি খুলে দিয়েছিলাম। তখন আমি ঢুকতাম না তার আইডিতে। কিন্তু যখন মেইলে নোটিফিকেশন দেখলাম আইডিতে ঢুকে দেখি এই অবস্থা। তাকে জিজ্ঞেস করা মাত্রই আমার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। আমি ঢুকছি কেন, আমার মাইন্ড খারাপ, চিন্তা খারাপ, নিচু মানসিকতা, তার অনুমতি ছাড়া দেখলাম কেন ইত্যাদি। তার আমিও রাগে তাকে যা তা বলি।
পরে সে আমার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু আমি বলি সে যেন তার ঐ ভাবির সাথে কোথাও না যায়, ছবি না দেয়। কিন্তু এটা সে মানতে পারে না। আরেকদিন সে ঐ লোকের সাথে কথা বলে। এরপর থেকে তার প্রতি আমার সন্দেহ বেড়ে যায়। এবং বেশি বেশি ঝগড়া হয়। তার ভাবি অন্যদের সাথে কথা বলে। এগুলো নিয়ে তার শাশুড়ির সাথে অনেক ঝগড়া হয়। ধীরে ধীরে তার ভাবির সাথে তার সখ্যতা অনেক বাড়ে। ঘন্টার ঘন্টা বসে আড্ডা দেয়। এবং আমার সাথে ঝগড়া হলেই আমি যা যা বলি সব তার ভাবিকে দেখায়। আমি এখন তার ভাবিকে সহ্যই করতে পারছি না। তার ভাবি আমাদের সম্পর্কের কথা জেনেও এমন একটা কাজ করল। প্রেমিকার কথা হলো, সে তো কারো সাথে চলে যায়নি, শুয়ে থাকেনি। সে কোনো দোষ করেনি। থাকে কিছু বললে কখনোই বুঝিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবে না, বরং প্রচুর রিয়েক্ট করে। তার ভাবিকে নিয়ে কিছু বলতেই পারি না, বললে বলে আমি তার পরিবার নিয়ে খারাপ মন্তব্য করি। তার ভাবি তার পরিবার। অথচ আমি তার মা বাবা ভাই নিয়ে কোনোদিন কিছু বলিনি। হে, ঐ ঘটনার পর অতীত নিয়ে বলছি। কিন্তু এটা আমার উচিত হয়নি সেটা আমি জানি।
সে আগে একটা জুনিয়র মেয়ে নিয়ে যখন তখন ঘুরতে চলে যেত। আমি না করেছি বলে আমি তার ঘুরাফেরা দেখতে পারি না। না করার কারণ একদিন ছেলেরা বিরক্ত করছিল। তার কথা আমি তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি। এবং গত ছয় মাস ধরে সে তার ভাবির সাথে আমাকে অবমূল্যায়ন করে আসছে। যে কোনো একটা কথা তার ভাবি সঠিক। তার ভাবি তাকে দিয়ে রিল বানায়, এটাতে তার সমস্যা নেই। অনুমতি লাগে না। আর এখন তো তার পাসওয়ার্ড চাইলে কোনোমতেই পাওয়া যায় না, আরও সে এগ্রেসিভ আচরণ করে। আমি তাকে সন্দেহ করি এই সেই বলে। দুইদিন আগে তার ভাবি আমাকে অনেক কিছু বলছে। আমি দাঁত চেপে সহ্য করেছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে বিয়ে না করার, আপনাদের বিবেক কী বলে?
আরও অনেক বিষয় আছে, পোস্ট লম্বা হওয়ায় বলতে পারিনি।
অনুগ্রহপূর্বক নাম প্রকাশ করবেন না।
আমি যখন ভার্সিটিতে পড়তাম তখন আমার এক ক্লাস মেট ছিলো হুজুর টাইপের। মুখে ধর্মীয় লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি, পাগড়ি, গায়ে থাকতো পাঞ্জাবি পাজামা। পাজামা থাকতো পায়ের টাকনুর ওপরে। সে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। নম্র স্বভাবের। মুখে সব সময় লাজুক হাসি থাকতো। আমরা বন্ধুরা ওকে নিয়ে নানা রকম মজা করতাম। জবাবে সে শুধু লাজুক হাসতো। ওর নাম ছিলো আবদুর রহমান।
আবদুর রহমান নাচ গান এসব থেকে দূরে থাকতো। মেয়েদের সাথে মিশতো না। মেয়েদের দেখলে মাথা নিচু করে ফেলতো।
মজা করার জন্য আমরা ওকে বলতাম,"আবদুর রহমান, তোমার প্রেম করতে ইচ্ছে করে না?"
আবদুর রহমান কিছু না বলে হাসতো।
আমরা তখন বলতাম,"অন্য মেয়েদের সাথে না হয় প্রেম করলে না। কিন্তু ইসলামিক মাইন্ডের কোনো মেয়ের সাথে তো প্রেম করতে পারো?"
আবদুর রহমান শুধু হেসে যেতো। কিছু বলতো না।
বন্ধুদের মধ্যে আমি নারী স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলাম। আবদুর রহমান ছেলে হিসেবে সৎ হলেও একটা কারণে ওকে অপছন্দ করতাম। ও ছিলো গোঁড়া। আমি নিশ্চিত ছিলাম, আবদুর রহমান যে মেয়েকে বিয়ে করবে সে মেয়ের জীবন তছনছ হয়ে যাবে। মেয়েটাকে কঠিন পর্দায় মুড়ে ফেলবে, এবং চার দেয়ালের মধ্যে আটকে ফেলবে।
তবে এই অপছন্দের কথা কখনো ওকে বলতাম না। কারণ বিষয়টা ধর্মীয়। ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা ছিলো।
পড়াশোনা জীবন শেষ করে আমরা কর্মজীবনে ঢুকলাম। এই সময় বন্ধুরা অনেকে বিয়ে করলো। আবদুর রহমানও বিয়ে করলো। সে আরবী লাইনে পড়ছে এমন এক মেয়েকে বিয়ে করলো। মেয়েটা তখন ফাজিল অর্থাৎ ডিগ্রিতে পড়ছিলো। পারিবারিক বিয়ে।
আবদুর রহমানের বিয়েতে আমরা গিয়েছিলাম। ওর বউকে দেখা সম্ভব হয় নি। বউকে লোকসমক্ষে আনা হয় নি। গোঁড়া আবদুর রহমান এমন করবে এটাই স্বাভাবিক ছিলো।
সেদিন আমরা বন্ধুরা একে অন্যকে আফসোস করে বলছিলাম,"বেচারা মেয়েটার জন্য খারাপ লাগছে। মেয়েটার পড়াশোনা এখানেই শেষ। কারণ, গোঁড়া আবদুর রহমান কখনো মেয়েটাকে বিয়ের পর পড়তে দেবে না।"
কিন্তু আমাদের ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে আবদুর রহমানের স্ত্রী বিয়ের পরও পড়তে লাগলো।
ততোদিনে আমিও বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রী চাকরি করতো।
স্ত্রীকে একদিন আবদুর রহমানের কথা বললাম।
তারপর বললাম,"সে তার স্ত্রীকে কেনো পড়াশোনা করাচ্ছে বুঝতে পারছি না। সে তো আর স্ত্রীকে ঘরের বাইরে কাজ করতে দেবে না।"
স্ত্রী বললো,"কেনো করতে দেবেন না?"
"আবদুর রহমান গোঁড়া প্রকৃতির মানুষ। মেয়েদের স্বাধীনতা এবং সমান অধিকার এসব মানে না।"
"কে বললো তিনি এসব মানেন না?"
"দেখছো না, বউকে কেমন কঠিন বোরকার মধ্যে রাখে। বউকে বন্ধুদের সামনে পর্যন্ত আসতে দেয় না। মেয়েটার জীবনটা শেষ হয়ে গেলো।"
"কোনো মেয়ে বোরকা পরলে কিংবা প্রয়োজন ছাড়া পুরুষদের সামনে না এলে তার জীবন শেষ হয়ে যায় না। অনেক মেয়ে আছে এমন জীবনকেই সম্মানের মনে করে। তাই সব মেয়েকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক না।"
আমি আর কিছু বললাম না। তবে মনে মনে বিরক্ত হলাম।
এরপর ব্যস্ততার কারণে বেশ কয়েক বছর আবদুর রহমানের সাথে দেখা হয় নি। একদিন পথে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলো। জানতে পারলাম সে তখন দু সন্তানের বাবা। একটা ছেলে, একটা মেয়ে। আমিও তখন এক ছেলে এক মেয়ের বাবা হয়েছি।
বললাম,"আবদুর রহমান, কোথায় থাকো তুমি? তোমাকে এখন দেখা যায় না কেনো?"
আবদুর রহমান তার স্বভাবগত লাজুক হেসে বললো,"আমি এখন গ্রামের বাড়ি থাকি।"
"তোমার স্ত্রীকেও সেখানে নিয়ে গেছো?"
"হম।"
শুনে আবদুর রহমানের স্ত্রীর জন্য দীর্ঘশ্বাস পড়লো। শহরে বেড়ে ওঠা একটা মেয়ে গ্রামে ভালো থাকার কথা নয়। মেয়েটার জীবনটা বরবাদ হয়ে গেলো।
বললাম,"শহরে তো ভালো ছিলে। ভালো চাকরি করতে। তাহলে হঠাৎ গ্রামে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেনো নিলে?"
"গ্রামে একটা মহিলা মাদ্রাসা দিয়েছি। নিজেদের টাকায় করেছি। আমার স্ত্রী তার প্রিন্সিপাল। আমরা স্বামী স্ত্রী মিলে মাদ্রাসাটা চালাচ্ছি।"
কৌতূহল নিয়ে বললাম,"গ্রামে মহিলা মাদ্রাসা দেয়ার স্বপ্ন তোমার না তোমার স্ত্রীর?"
"আমার স্ত্রীর। আমি সহযোগিতা করেছি মাত্র।"
শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আবদুর রহমান বলে কী! গ্রামে চলে যাওয়ার কথা শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম, আবদুর রহমানের কারণে ওর স্ত্রী গ্রামে চলে গেছে। কিন্তু এখন দেখছি ঘটনা উল্টো। স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের জন্য আবদুর রহমান শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। বিয়ের পর আবদুর রহমান স্ত্রীর পড়াশোনায় কেনো বাধা দেয় নি সেটা এখন বুঝতে পারলাম।
আর এদিকে আমার স্ত্রী সন্তান হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে গৃহিণী হয়ে গেলো। সে অবশ্য চাকরি করে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু আমার মা'র জন্য পারে নি। আর আমিও মায়ের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলি নি।
যে আমি এক সময় মেয়েদের স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলাম, পরবর্তীতে সংসার জীবনের জটিলতায় পড়ে সেই আমি পিছিয়ে গেলাম। নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিতাম যে, মায়ের জন্য পারি নি, নইলে পারতাম। এটা যে অজুহাত, ভালোই বুঝতাম। তবু না বোঝার ভান করতাম।
নারী স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের ক্ষেত্রে গোঁড়া আবদুর রহমান যে আমার চেয়ে এগিয়ে গেলো, এটা আবিষ্কার করে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
বাড়ি ফিরলে স্ত্রী বললো,"কী হয়েছে তোমার? মুখটা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেনো? শরীর খারাপ লাগছে?"
সে কথার জবাব না দিয়ে স্ত্রীর হাত ধরে বললাম,"তুমি আবার চাকরি করা শুরু করো?"
স্ত্রীকে এ কথা বলার কারণ হলো, গোঁড়া আবদুর রহমানের কাছে হেরে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছিলাম না।
স্ত্রী অবাক হয়ে বললো,"কী করে চাকরি করবো? মা তো চান না।"
দৃঢ় গলায় বললাম,"মাকে আমি সামলাবো। তুমি চাকরিটা শুরু করো।"
আমার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ স্ত্রী ধরতে পারলো না। তবে সে পুনরায় চাকরি করা আরম্ভ করলো। আর আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম।
তবে শেষ পর্যন্ত গোঁড়া আবদুর রহমানের কাছে পুরোপুরি হেরে গেলাম। কীভাবে সেটা হয়েছিলো বলিঃ
আমার তখন অবসর জীবন চলছে। ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। নানা, দাদা হয়েছি। জীবনের এই পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজের সম্পত্তিগুলো স্ত্রী ছেলেমেয়েদের মাঝে শরীয়া আইন অনুযায়ী বন্টন করে দেবো। অর্থাৎ স্ত্রী পাবে স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ। আর ছেলে যা পাবে, তার অর্ধেক পাবে মেয়ে।
সম্পত্তি বন্টনের সিদ্ধান্ত নেয়ার কিছুদিন পরই আবদুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেলাম। খুবই দুঃখের সাথে আমরা বন্ধুরা তার জানাজা পড়তে গেলাম।
সেখানে কথায় কথায় জানতে পারলাম, আবদুর রহমান তার সম্পত্তির অর্ধেক দিয়েছে তার স্ত্রীকে, আর বাকি অর্ধেক সমান দুই ভাগে ভাগ করে দুই ছেলে মেয়েকে দিয়েছে।
আবদুর রহমানের কাণ্ড দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। সে সারাজীবন নিখুঁত ভাবে ইসলাম অনুসরণ করে শেষ মুহূর্তে এসে এমন ইসলাম বহির্ভূত কাজ কী করে করলো?
ওর ছেলেকে পরে একদিন জিজ্ঞেস করলাম,"তোমার বাবা যে ভাবে সম্পত্তি বন্টন করেছে সেটা তো কোরআনে নেই। তাহলে সে এটা কী করে করলো? কোরআনের বাইরে কোনো কিছু করার মানুষ তো তোমার বাবা ছিলো না।"
ছেলে জবাবে বললো,"বাবাকে এ প্রশ্ন সবাই করেছিলো। বাবা উত্তরে বলেছিলেন, 'স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তির অর্ধেক দেয়া এবং ছেলে মেয়েকে সমান সম্পত্তি দেয়া কোরআনে নেই বটে, তবে কোরআনের কোথাও এটাও নেই যে, স্ত্রীকে স্বামীর অর্ধেক সম্পত্তি এবং ছেলে মেয়েকে সমান সম্পত্তি দেয়া যাবে না।' বাবা এটাও বলেছেন,'আমার যদি ছেলে মেয়ে না থাকতো তাহলে সম্পত্তির সবটুকু স্ত্রীকে দিয়ে দিতাম'।"
তাজ্জব হয়ে গেলাম আবদুর রহমানের চিন্তা ভাবনা দেখে। সে যে কাজ করেছে সেটা আমি কখনো করতে পারবো না। কারণ, এটা করলে শরীয়া ভঙ্গ করেছি বলে যে আক্রমণের স্বীকার হবো, তা মোকাবিলা করার সাহস এবং জ্ঞান আমার নেই। সেদিন বুঝলাম, সারাজীবন যে আবদুর রহমানকে নিয়ে মজা করেছি, ভেবেছি, ওর মতো ধর্মপরায়ণ মানুষেরা মেয়েদের স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের পথে বড়ো বাধা, সেই আবদুর রহমান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, মেয়েদের স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের ব্যাপারে সে যতোখানি এগিয়ে ছিলো, আমি কিংবা আমরা বন্ধুরা তার ধারে কাছেও ছিলাম না।
আবদুর রহমানের মৃত্যুর কদিন পর আমার ছেলের মধ্যে পরিবর্তন দেখলাম। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করলো। লম্বা দাড়ি রাখলো। পাঞ্জাবি পাজামা পাগড়ি পরা শুরু করলো। ওর এই পরিবর্তন দেখে ছেলে গোঁড়া হয়ে যাচ্ছে বলে আঁতকে উঠি নি। কারণ ততোদিনে বুঝে গেছি, ধর্ম পালন করা গোঁড়ামি নয়। বরঞ্চ ধর্ম পালনকারীদের যারা গোঁড়া বলে তারাই মূলত গোঁড়ামিতে নিমজ্জিত। যেমন আমি গোঁড়ামিতে নিমজ্জিত ছিলাম।
মন থেকে চাই, আমার সন্তানেরা তেমন না হোক।
"কুশায়ার গায়ে রোদ"
- রুদ্র আজাদ
Copy
বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে তাকে ভালোলাগা। ৭ সেমিস্টারের সিনিয়র। প্রপোজ তো দূরে থাকুক ইন্ট্রোভার্ট আমি কথা বলারই সাহস পেতাম না। দুই সেমিস্টার পরে প্রথম কথা হলো। তাও বাসায় ফেরার পথে শুধুই হাই-হ্যালো। ভালোলাগা কখনোই থেমে ছিলো না বরং হৃদয়-উদগ্রীব হচ্ছিলো আরো প্রবলভাবে। তারপর কোভিড আসলো আমি গৃহবন্দী, তার বিশ্ববিদ্যালয় শেষ। দেখার কোন সুযোগ নেই। কাঁপা হাতে মেসেঞ্জারে নক! টুকটাক কথা শুরু, কোনোটাই প্রেমসুলভ নয়। এভাবেই বছর দুয়েক। হঠাৎ একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম থেকে উধাও। কিছুতেই নাগাল পাওয়া যাচ্ছিলো না। '২৩ এর মার্চে হঠাৎ তাহার নিজ থেকে সরাসরি কল। ভাবতেই পারিনি সে! জিজ্ঞেস করে উড়ুউড়ু আমাকে ঢাকায় নিয়মিত পাওয়া যাবে কিনা! ততদিনে আমি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দেশের এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত ভবঘুরে। কেন জিজ্ঞেস করেছিলো সেটা বুঝলাম পরদিন। দুপুরে হঠাৎ ফোন করে বললো ঘুরতে যাবে। অফিস ফেলে সরাসরি তার দেওয়া ঠিকানায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা শেষে মধ্যরাত্রি। বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর তার কৃতজ্ঞতার বার্তা। চলতে থাকলো প্রায় প্রতিদিন। তিনমাস পর তার পক্ষ থেকেই প্রপোজ! আমার স্বপ্নরা আকাশ ছুঁয়ে ছিলো। সবটুকু উজাড় করে ভালোবাসা। ততদিনে আমি জানি সে আমার প্রগাঢ় ভালোবাসা বুঝতো, জানতো বলেই সময়মতো এসেছে! আমায় আর পায় কে?! বিয়ের কথা চলছিলো, তার পারিবারিক অনুষ্ঠানেও আমার যাত্রা ছিলো। সব যেন আমার মত!
পহেলা জানুয়ারী '২৪ আকাশ ভেঙে পড়লো মাথায়। প্রিয়তমা হাঁটছে অন্য একজনের হাত ধরে, কাঁধে বিভিন্ন উপহার, একগুচ্ছ গোলাপ আর চকলেট নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি আমি! পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। তাদের বসা ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে কত সিগারেট শেষ হলো হিসেব নেই। দু'দিন পর জিজ্ঞেস করতেই আমাদের সব সমাধি। সে জানতো, আমি সব সইতে পারলেও প্রতারণা সইবো না। তাকে হাসিমুখে বিদায় বললাম রাত ৩.২৭ এ, ঠিক সেই সময়টায় যেই সময়টাতে সে কাঁদোকাঁদো কন্ঠে বলেছিলো সারাজীবন জড়িয়ে রাখবে?
আমি রাখতে চেয়েছিলাম, পারিনি! সেই থেকে আজ অব্দি আমি হাসতে পারিনি। এতটাই এলোমেলো জীবন হয়ে গেছে যে, চাকুরী ছেড়েছি, ব্যবসা হারিয়েছি,অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছি। নিজেকে বুঝিয়েছি হাজার বার, হাজার রকম ভাবে। পারিনি, কিছুতেই পারছি না। নিজেকে সামলানোর জন্য খুব শীঘ্রই দেশ ছাড়ছি, হয়তো আর কখনোই ফিরবো না। আমি থাকবো না সেই শহরে যেই শহরে আছো তুমি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, আরো বেশি ভেঙে যাচ্ছি। আমি পরাজিত হচ্ছি।
অথচ এই আমিই তাকে নিয়ে লিখেছিলাম:-
প্রিয়তমা হারায় না যুদ্ধে
হো চি মিনের আত্মগোপনে
লেখা হয় সুনিপুণভাবে
কবিতার পর কবিতার লাইনে
তোমায় খুঁজবো আমি অতন্দ্র প্রহরে
আমার শেষ না হওয়া যৌবণে
জীবনের শেষ ক'টি বেলায়
যখন থাকবে চোখে মোটা চশমার ফ্রেম!
আর লিখতে পারছি না। ভালো থেকো প্রিয়তমা। আমার ভালোবাসা তুমি জানতেও পারবে না। ভালো আছো নিশ্চয়ই। আমি ভালো নেই। এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আমি তোমার স্মৃতি জড়িয়ে আছি অথচ তোমায় জানাতে পারছি না। কাউকেই বলতে পারছি। সমাজ-রাষ্ট্র আমার হাত বেঁধে দিয়েছে, আমি তোমার সামনে দাঁড়াতে পারছি না৷ তোমায় ভূলতে পারছি না। অথচ তোমায় কখনোই পাবো কিনা জানিনা! এ এক অদ্ভুত মায়াজাল। কেন এলে? এ প্রশ্নটাও করতে পারছি না! প্রিয়তমা ইমা, করিও ক্ষমা!
ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোববারের সকল পরীক্ষা স্থগিত।
ঈদ মোবারক 🥰🥰
ব্রেকিং নিউজ
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ শুক্রবার
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের স্বর্ণের মার্কেটের ২য় তলায় আগুন, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট।
16/04/2023
আলহামদুলিল্লাহ, বিদ্যানন্দের বাটপারি আস্তে আস্তে প্রকাশ পাচ্ছে। এক বোনের আইডি থেকে বিষয়টা সামনে আসে।
দেখেন, সেম ব্যাকগ্রাউন্ড, সেম প্রোডাক্ট। শুধু এক্সপোজার কমানো, বাড়ানো।
বিদ্যানন্দ যে জিনিসকে পোড়া কাপড়ে তৈরি অলংকার বলে প্রচার করছে, সেই একই জিনিস মার্চের নয় তারিখেই এক ই-কমার্স গ্রুপে বিক্রির জন্য আপলোড দেয়া হয়। অর্থাৎ এটা বিদ্যানন্দেরই না! ওরা শুধু আবেগ নিয়ে খেলেছে!
এখন সুশীল সমাজের বক্তব্য কী? মানবিক বিদ্যানন্দের অমানবিক বাটপারি, মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলে ফান্ড রেইজ করাটাকে কেমন দৃষ্টিতে দেখছেন?
িদ্যানন্দ
16/04/2023
16/04/2023
সোনার বাংলা Express কুমিল্লার হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন এ ভয়াবহ ভাবে এক্সিডেন্ট করেছে!
আপনাদের কারো আত্মীয় স্বজন এই ট্রেন এ থাকলে দ্রুত যোগাযোগ করুন সেখানে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
Dhaka Division
Dhaka