Rajib Sikdar Rudra
Bangla motivational Video
"অনুভূতির শেষ বিন্দু"
অনেক দিন পর নিজেকে সময় দিতে বের হলাম।বরাবরের মতই রিকশার বামপাশ ফাঁকা। আমার সঙ্গী রিকশা চালক মামা।
আমি প্রথমে রমনা পার্ক গেলাম। রমনা পার্কের সেই দোলনাটা আর নেই তবুও রমনা পার্কে আলাদা একটা অনুভূতি অনুভব করলাম ..তারপর শিশু পার্ক গেলাম ।আমি যখন বছর ছয়েক আগে গিয়েছিলাম তখন বড় একটা বটগাছ ছিলো ।ওখানে অনেক ছবি তুলেছিলাম তখন। আজও বটগাছটা আছে মনে হচ্ছে আগের তুলনায় আরও বড় হয়েছে গাছটা।আজও একটা সেলফি তুলে এলাম।
তারপর সোহরাওয়ার্দী উদ্দান ।এ জাগাটা আমার ভীষন প্রিয়। আমরা একসাথে প্রথম এখানে এসেছিলাম।।সেই ছোট কৃত্রিম দিঘিতে তুমি পা দিয়ে জল খেলা করতে আর আমি ছবি তুলতাম। তবে ওখানে এখন আর জল নেই।হয় তো নতুন কিছু পরিকল্পনা আছে কর্তৃপক্ষের তাই হয় তো জল তুলে ফেলছে।
হঠাৎ একটা মেয়ে ফুল নিয়ে আসলো। আদরের স্বরে বললো ভাইয়া একটা ফুল নেন।আমি বললাম কাকে দিবো আমি? আমি তো একা ..
মেয়েটা বললো ভাইয়া আমাকে কিনে দেন তবুও একটা প্লিজ নেন ফুল।
হঠাৎ করে ৭ বছর আগের কথা মনে পরে গেলো!
আমি বললাম তুমি সেই মেয়েটা তাই না?মেয়েটা বললো কোন মেয়েটা আবার আপনি কি কইতাছেন ভাইয়া ? আমি বললাম একটু অপেক্ষা করো দেখাচ্ছি। আমি গুগোগ ড্রাইভ থেকে ৭ বছর পর ছবি টা অনেক কষ্টে খঁুজে বের করলাম। আমি বললাম এটা তো তুমি তাই না?
ও বললো জি ভাইয়া এটা তো আমি কিন্তু আপনারে কাছে আইলো ক্যামনে। আর পাশের আপাটা কে?মেয়েটাকে বললাম তোমার মনে আছে কখন তুলেছিলম। মেয়েটা বললো না ভাইয়া মনে নেই তবে এটা আমি এটা শিওর...
আমাকে ৫ টা গোলাপ দিয়ে বললো আপনার ফুলের টাকা লাইগবো না আপনি আমার ছবি এত বছর যতন কইরা রেখেছেন যে এই গোলাপের দাম তার থেইকা কম বুঝছেন ।মেয়েটা মুচকি হেসে চলে গেলো ..
সোহরাওয়ার্দী উদ্দানে কত রঙ্গের মানুষ ..অনেক দিন পর এলাম দেখতে ভালোই লাগছে।।
আমি তাকে অনুভব করতে পারছি এই স্থানে এখনও।১০ টাকার বাদাম কিনে খেতে লাগলাম আর পাশে রইলো ৫ টা গোলাপ।
হঠাৎ এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হলাম ,যেটা শুধু কল্পনাতেই ভাবতাম তবে বাস্তবে চিন্তাও করি নি।
আমি যে বেঞ্চে বসে ছিলাম সেই বেঞ্চ বরাবর ৬ টা বেঞ্চ দুরে একটা মেয়ে বসে আছে। দুর থেকে যা বুঝলাম সাদা শাড়ি পরা। চুলগুলো খোপা করা ছিলো না। বাতাসে চুলগুলো উড়ছে এবং চুলোগুলো অনেক লম্বা।।
আমি যেটা মনে মনে ভাবছি আসলেই কি সেটা হতে যাচ্ছে!আসলেই কি তুমি ! আমার বুকের বা পাশ কেঁপে উঠলো। আমি তাকে শাড়িতে কখনও দেখি নাই। চিনতে কষ্ট হচ্ছিলো। সে কিছু সময় পরপর বেঞ্চে বসে সেলফি তুলছিলো বিভিন্ন স্টাইলে আবার চুপ করে বসে থাকে।
আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করবো। যদিও সে আমায় চিনবে না এখন।মুখ ভরা দাড়ি আর আমার লম্বা চুল সে কখনই আমাকে এভাবে দেখে নাই । আবার আগের থেকে একটু মোটাও হয়েছি, দাড়িও দুই একটা পেকেছে।
গোলাপ ফুলগুলো নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। হঠাৎ তার ফোনে কে যেনো ফোন দিলো। সে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পরেছে।সে ফোনে কথা বলছিলো খুব হাসিমুখে ।।তার কন্ঠ শুনে শিওর হলাম এটা সে।মনে হচ্ছিলো স্বর্গ থেকে নেমে আসা এক অপ্সরী। সে যে বঞ্চে বসে ছিলো তার আগের বেঞ্চ পর্যন্ত আমি গেলাম।।তার বেঞ্চ পর্যন্ত যাওয়ার সাহস হলো না আমার। ।ওখানেই 5 টা গোলাপ রেখে ঘুরে চলে এলাম।।
আমি যখন তাঁর ৩/৪ টা বেঞ্চ অতিক্রম করে চলে এলাম তখন পিছন থেকে ডাক শুনতে পেলাম " এই যে শুনছেন হ্যালো এই ফুলগুলো কি আপনার!এগুলো কি আপনি রেখে গেছেন।" আমি আর পিছনে ফেরার সাহস পেলাম না।।
"আমাদের আবারও দেখা হলো কিন্তু নিজেদের দেখে হলো না"।
এভাবেই আমার প্রিয় মানুষটি সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে থেকে গেলো।
পার্ক থেকে বেরিয়ে এলাম ।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেল রাস্তার ধারে দাড়িয়ে রইলাম। হঠাৎ দেখি সেই মামা ,যার রিকশায় আমি আমার প্রিয়জনকে দেখতে এসেছিলাম। আমি মামাকে ডাক দিলাম। মামা বললো দেখছেন মামা আমার নসিবে লেখে ছিলো আপনি তাই আবারও আমার রিকশায় আপনার দেখা হয়ে গেলো।
মামাকে বললাম তোমার সারা দিনের রিকশা ভারা আজ আমি দিবো তুমি আমাকে ঢাকার শহর ঘুরাবে আর তোমার জীবনের গল্প শুনাবে ।।সন্ধায় আমাকে বাসায় পৌছে দিও। ।
মামা আর আমি হাসতে হাসতে অজানা গন্তব্যে যাত্রা করলাম। ।
সিলেটের জাফলং ভ্রমন .....
ফুরোয় নি সময়, হয় নি শেষ ......
কলমে :আইজা
কন্ঠে & ভিডিও : রাজিব
অদ্ভুত তাই না .....
কত দিন তোমার নাম ধরে ডাকি না ......
যাহা আপনার মন খারাপের কারন
তাহা এড়িয়ে চলুন
মন ভালো থাকবে।।
Rajib Sikdar Rudra
আসলেই মাছ ধরতে গেছিলাম ....
Coming soon....
আমাকে খুজোঁ না তুমি বহু দিন ....
🖊জীবনানন্দ দাস
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Address
Dhaka