Digital Earning Platform
Online learning and earning Platform
25/05/2025
আপনার হারামের টাকায় কুরবানি হবে না!
গ্রামের নাম ছিল নূরপুর।
শান্ত-নিরিবিলি এক জনপদ। কিন্তু এই গ্রামে যখনই কেউ "হাসান" (ছদ্মনাম) নামটি উচ্চারণ করত, বাতাস থমকে যেত। লোকেরা মুখ নিচু করে ফেলত, শিশুদের কোলে টেনে নিত মায়েরা। হাসান ছিল ধনী, কিন্তু তার সেই সম্পদ ছিল গরিবের হাড় ভেঙে কামানো—ঘুষের বিষে গড়া, সুদের আগুনে পুড়া। একবার কেউ তার কাছে ঋণ নিলে, চিরকাল সে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। কে যেন বলেছিল, তার দালানে সূর্যও ওঠে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে।
ঈদুল আজহার দিন ঘনিয়ে এল।
গ্রামে প্রস্তুতি শুরু হলো আনন্দের। আর হাসান? সে যেন অদ্ভুত উন্মাদনায় ভুগতে লাগল। “এই ঈদে এমন কুরবানি দেব, গ্রামের ইতিহাসে কেউ ভাবতেও পারবে না!” সে বাজার থেকে কিনে আনল এক রাজসিক গরু—সোনালি ত্বক, দাম যেন শত পরিবারের জীবনের উপার্জন। ফুলে, সুগন্ধিতে সাজিয়ে সে মসজিদের ইমামের দরজায় হাজির হল। বুক ফুলিয়ে বলল,
"ইমাম সাহেব, দোয়া করুন—এই গরু আল্লাহ কবুল করুন!"
ইমাম সাহেব তার চোখে তাকালেন।
চোখে ছিল জলে ভেজা আগুন—ক্ষতের ওপর ক্ষত।
তিনি ধীরে বললেন,
"হাসান... কুরবানি শুধু পশুর গলা কাটা নয়। এটা তো নিজের পাপের গলা কাটা। তুমি যদি এই পশু কিনে থাকো গরিবের কান্না, সুদের হাহাকার, ঘুষের আগুন দিয়ে—তবে এই পশুর রক্ত কীভাবে আল্লাহর কাছে পবিত্র হবে?"
হাসান কেঁপে উঠল। তার মুখ পাথরের মতো সাদা।
ইমাম আবার বললেন,
"একবার এক রাজা ছিল, জুলুমে পৃথিবী কাঁপত। ঈদের দিনে সে বিশাল কুরবানি দিল। সেদিন রাতে সে দেখল—তার গরু জান্নাতের দরজায় কাঁদছে। বলছে, ‘হে আল্লাহ! আমাকে কেনা হয়েছে হারামের টাকায়, আমার রক্ত কিভাবে পবিত্র হবে?’ সকালে রাজা জেগে উঠল—ভীত, ভাঙা, কিন্তু তখন সময় পেরিয়ে গেছে..."
হাসানের চোখে তখন অঝোর ধারা।
তার জীবনের সব কুকর্ম যেন সিনেমার পর্দার মতো ভেসে উঠল—
বৃদ্ধা সেই মা, যার একমাত্র গরুটি সে কেড়ে নিয়েছিল...
সেই কিশোরী, যার বাবার ওষুধের টাকা সে সুদের ফাঁদে গিলে নিয়েছিল...
সেই কৃষক, যাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছিল তার শোষণে...
ইমাম সাহেব তার কাঁধে হাত রাখলেন।
কণ্ঠে কাঁপন, কিন্তু শক্তি ছিল ঈমানের।
"হাসান, এখনও দেরি হয়নি। আল্লাহর দরজা খোলা। ফিরে এসো।
হারাম ছেড়ে দাও। ক্ষমা চাও তাদের কাছে, যাদের তুমি ভেঙেছো। তারপর হালাল রোজগারে ত্যাগ করো—তাহলে এই কুরবানি সত্যিকারের হবে।"
সেদিন রাত, হাসানের জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার রাত ছিল।
তার প্রাসাদে শান্তি ছিল না—দেয়াল যেন ফিসফিস করছিল,
"তুমি আমাদের কাঁদিয়েছো… এখন আমাদের কান্না তোমাকে ঘিরে ধরেছে।"
ভোর হতেই হাসান বেরিয়ে এল।
নূরপুরের ময়দানে দাঁড়িয়ে সে কাঁদল—কাঁদল এমনভাবে, যেন বুকের সব পাপ ঝরিয়ে ফেলতে চায়।
"ভাইয়েরা, বোনেরা, আমি এক জালিম ছিলাম... আমি মানুষ ছিলাম না—আমি ছিলাম এক ভয়ংকর পাপ। আমাকে ক্ষমা করো..."
সে তার সম্পদের সিংহভাগ গরিবদের বিলিয়ে দিল,
সুদের দোকান বন্ধ করল, ঘুষের ফাইল আগুনে পুড়িয়ে দিল। সেদিন তার চোখে ছিল কান্না, কিন্তু মনে ছিল শান্তি—
প্রথমবার, সত্যিকারের শান্তি।
ঈদের সকালে,
হাসান একটি ছোট ছাগল নিয়ে এল—হালাল উপার্জনে কেনা।
যখন সে ছাগলের গলায় ছুরি রাখল, তার হাত কাঁপছিল, চোখ বেয়ে নেমে এল অশ্রুধারা।
সে বলল,
"ইলাহি, এই পশু নয়, আজ আমি নিজেকে তোর দরবারে উৎসর্গ করছি। এই রক্ত, আমার অহংকারের—আমার পাপের। আমার তওবাটাই যেন আমার কুরবানি হয়।"
গ্রামবাসীরা কাঁদল। তারা প্রথমবার হাসানকে ভালোবেসে দোয়া করল।
আর হাসান?
সে জীবনে প্রথমবার আল্লাহর সন্তুষ্টি-তে শান্তি খুঁজে পেল।
---
শিক্ষা:
হারামের টাকায় ইবাদত হয় না—ঘুষ, সুদ, জুলুমের টাকায় কুরবানি কবুল হয় না।
তবুও তওবার দরজা খোলা—যে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে আলিঙ্গন করেন।
সত্যিকারের কুরবানি পশুর নয়—নিজের অহংকার, লোভ, পাপের কুরবানি।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী ও আত্মশুদ্ধিকারীদের ভালোবাসেন।"
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)
রাত ১১টা ১৫
NouMuslim Muhammad Raj
মুহাম্মদ রাজ- রিভার্টেড মুসলিম
21/05/2024
# 🇧🇩🇧🇷🇧🇪🇦🇺🇨🇨🇮🇩আসসালামু আলাইকুম রাহমাতুল্লাহ আপনারা যারা অবসরে সময় কাতাছেন ,বেকার,গৃহিনি সকলেই চাইলে এই রিয়েল কাজ করে আয় করতে পারেন, আগ্রহী হলে ইনবক্সে Interested লিখেন
আসসালামু আলাইকুম আশাকরি ভাল আছেন, আপনারা যারা অনলাইন হতে প্রতারিত হয়েচেন তারা শতভাগ রিয়েল কাজ করতে চাইলে ইনবক্সে এসে"Hi লিখেন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Road-5 Block-F Banani
Dhaka
1213