The Daily Learning

The Daily Learning

Share

আমার পেজ টা সবাই ফ্লো করবেন। এবং শেয়ার করবেন।

Photos from The Great Bangladesh's post 06/02/2026
06/02/2026

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ। এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ। এর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মোট সাত রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে আলোচনার পর দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পন্নের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় গত ২২ ডিসেম্বর।

জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্থানীয় সময় আজ দুপুরের পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিন আগেই জাপানে পৌঁছেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চারজন কর্মকর্তা। তারা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার। ৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টার ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। অন্যদিকে জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তিস্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে।

চুক্তির অধীনে সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরো ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দলের প্রতিবেদন একযোগে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় উভয় দেশ।

সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯-২৩ মে ঢাকায় প্রথম রাউন্ডের নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিছু অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের কারণে নেগোসিয়েশন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এ চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর ২০২৪ থেকে পুনরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু ও এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডের নেগোসিয়েশন শুরু হয়। ঢাকায় সে আলোচনা হয় ২০২৪ সালের ১০-১৪ ডিসেম্বর। তৃতীয় রাউন্ড নেগোসিয়েশন হয় টোকিওতে। ২০২৪ সালের ১৯-২০ ডিসেম্বর উভয় পক্ষ আলোচনা আরো জোরদার করে। গত বছর ২-৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ রাউন্ডের নেগোসিয়েশন, যা উভয় পক্ষের আলোচনা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের ২০ থেকে ২৬ এপ্রিলে টোকিওতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম রাউন্ডের নেগোসিয়েশনে উভয় পক্ষ জরুরি ভিত্তিতে অগ্রগতি সাধনে উদ্যোগী হয়।

ইপিএর ষষ্ঠ রাউন্ড নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় গত বছরের ২১-২৬ জুন। যেখানে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো স্পষ্ট রূপ নিতে শুরু করে। গত বছর ৩-১২ সেপ্টেম্বর সপ্তম ও চূড়ান্ত রাউন্ড নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয় টোকিওতে। যার মাধ্যমে আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এ ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সাত রাউন্ড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে উভয় দেশ ইপিএ টেক্সট চূড়ান্ত করে।

গত ২২ ডিসেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোতেগি তোশিমিৎশু বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের (বিজেইপিএ) নেগোসিয়েশন সম্পন্নের যৌথ ঘোষণা দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এ প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

জাপান থেকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য আমদানি পণ্যগুলোর মধ্যে আছে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল ডিভাইস, বৈদ্যুতিক মেশিন ও যন্ত্রপাতি, ইস্পাত ও লোহাজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য এবং গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ। জাপানে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক খাদ্য (মাছ ও চিংড়ি), হোম টেক্সটাইলস, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য যেমন তাজা সবজি ও ফল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশ ১৮৭ দশমিক ৪৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপানে ১৪১ দশমিক ১৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে জাপানের পুঞ্জীভূত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বা এফডিআই স্টকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ দশমিক ৯৬ কোটি ডলারে। আর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত জাপানের প্রতিশ্রুত ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ২৩২ কোটি ডলার। একই সময় পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ডলার।

জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা যাচাই করতে গঠিত যৌথ গবেষণা দলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটি হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। তবে পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপান প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সক্ষমতায় অগ্রসর, অন্যদিকে বাংলাদেশ শ্রমঘন শিল্প ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের পরিপূরক। এক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ইপিএ স্বাক্ষরিত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বহু গুণে বাড়বে।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ করবে। এতে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এ প্রেক্ষাপটে একটি ইপিএ বাংলাদেশের রফতানি খাতকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

যৌথ গবেষণা দল আলোচনার জন্য মোট ১৭টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য বাণিজ্য ও বাজার প্রবেশাধিকার, রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণ, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদসংক্রান্ত মান, প্রযুক্তিগত বাধা, সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, প্রতিযোগিতা নীতি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সরকারি ক্রয়, শ্রম ও পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা, অবকাঠামো ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক মান ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থায় দুর্বলতা। অন্যদিকে জাপানের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বিনিয়োগ সুরক্ষা, স্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতি ও স্বচ্ছ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। যৌথ গবেষণা দলের মতে, এ চুক্তি স্বাক্ষর হলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়াবে এবং টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে। তবে বাংলাদেশকে এজন্য অভ্যন্তরীণ নীতি, আইনি কাঠামো ও বাণিজ্য সহায়ক অবকাঠামোতে সংস্কার ও উন্নয়ন আনতে হবে।

সোর্স বণিকবার্তা

06/02/2026

পড়ালেখার জন্য কোন সময়টা সবচেয়ে ভালো
রাফিয়া আলম

পড়তে হবে খুব ভোরে, ছোটবেলা থেকে গুরুজনদের কাছ থেকে বরাবর এই কথাই শুনে আসছি। ভোরের শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশে পড়ালেখাটা নাকি মাথায় ‘ঢোকে’ ঠিকঠাক। বাস্তবিকই কি পড়ালেখার এমন কোনো নিয়ম আছে? কেউ কেউ তো দেখি উল্টো কথাও বলেন। বলেন রাত যত গভীর হয়, তত তাঁদের পড়ায় মন বসে বেশি।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শেখার জন্য সর্বোত্তম। দিনের মধ্যভাগ থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সময়টাকে যৌক্তিক চিন্তাধারা কিংবা সমস্যা সমাধানের জন্য সবচেয়ে ভালো বলে মনে করছেন একদল গবেষক। সাম্প্রতিক সময়ের একটি গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতেই তাঁদের এমন সিদ্ধান্ত।

গবেষণার অতসব কচকচানির মধ্যে না গিয়ে সময়ের সঙ্গে পড়ালেখার সম্পর্কটাকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করলেন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের নিউরোমেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. রমা বিশ্বাস। জানালেন, পড়ালেখার জন্য ঠিকঠাক ঘুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৭-৮ ঘণ্টা প্রশান্তির ঘুম হতেই হবে। ঘুম আমাদের মস্তিষ্ককে সতেজ করে। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে কেউ যখন পড়তে বসেন বা কোনো বিষয় শেখার চেষ্টা করেন, মস্তিষ্ক তখন সেটাকে সহজভাবে গ্রহণ করে। তবে মনঃসংযোগের ব্যাঘাত ঘটলে আর তা সম্ভব হয় না। এই যেমন আশপাশের আওয়াজ কিংবা মুঠোফোনই ঘটাতে পারে বিঘ্ন। সঠিকভাবে পড়ালেখার জন্য সুস্থ জীবনচর্চা যেমন সুষম খাদ্যাভ্যাস, খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ, ছোটাছুটি—এসবই আবশ্যক, জানালেন ডা. রমা।

জীবন যখন যেমন

দিনের বেলায়, ক্লাস আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়েন উর্মিতা দত্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের এই এমএস শিক্ষার্থীর অর্জনের তালিকাটা বেশ বড়। ২০০৯-১০ সেশনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দুই জায়গাতেই পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ক্লাসের পর বাসায় গিয়ে বিশ্রাম করে রাত জেগে পড়তেন তখন। স্কুলজীবনে দিবা শাখায় ছিলেন বলে তখনো রাতে পড়তেন। তবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রভাতি শাখায় থাকায় পড়ালেখা করতেন বিকেলে বা সন্ধ্যায়। এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পথে প্রতিটি পেশাগত পরীক্ষাতেই প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন উর্মিতা। ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা ক্যাডারেও প্রথম হন তিনি। সরকারি চাকরিতে পদায়নের আগে অবৈতনিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ছিলেন। The Great Bangladesh

তখন কাজের ফাঁকেই স্নাতকোত্তরের জন্য পড়তেন। সকালে উঠেও পড়তেন। এভাবে পড়ালেখা করেই জেনারেল সার্জারিতে এফসিপিএস প্রথম পর্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, এমএস কোর্সেও সুযোগ পান। উর্মিতা যখন যেভাবে যতটুকু সুযোগ পান, কাজে লাগান।

রাতের নীরবতায় অখণ্ড মনোযোগ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস ফেরদৌস পড়ালেখার জন্য পছন্দ করেন রাতের শান্ত পরিবেশ। আলাদা ঘর, সাজানো-গোছানো টেবিলে পড়ালেখা ভালো হয় তাঁর। টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে নেন পড়ার সময়, আলো পড়ে বইয়ের পাতায়। এভাবে মনোযোগ স্থির রাখতে সুবিধা হয় বলে জানান এই তরুণ। দিনে নানা ব্যস্ততা। তবে একফাঁকে ঘুমিয়েও নেন। পড়তে বসেন রাত আটটা-নয়টায়। রাত দুইটার মধ্যে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলেন, তবে কখনো খারাপ লাগলে পড়া শেষ করার আগেও বিশ্রামে যান।

সু-অভ্যাসের চর্চা

সকাল থেকে ক্লাস। এরপর ল্যাব। বাসায় ফিরতেই বিকেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জয়িতা চক্রবর্ত্তীর পড়ালেখার জন্য রাতের সময়টাই হাতে থাকে। স্কুলজীবনে পড়েছেন প্রভাতি শাখায়। তখন কিন্তু দুপুরবেলাও পড়তেন। কলেজে ওঠার পর থেকেই নিজের পড়ার জন্য রাত ছাড়া আর সময় মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়পর্বে রোজ সমানভাবে না পড়লেও কিন্তু পড়ার অভ্যাসটা ধরে রাখেন তিনি।

পাঠ্যবই, গবেষণাপত্র, গল্পের বই—যেটিই হোক, রোজ অন্তত দুই ঘণ্টা ‘পড়া’র জন্যই বরাদ্দ।

নিজের পড়া, সবার পড়া

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা রহমান হলে থাকেন। গণরুমের আলো নিভে যায় রাত ১২টায়। পড়তে হলে নির্ধারিত ঘরে যেতে হয়। প্রজ্ঞার রাতে পড়ার অভ্যাস। গণরুম থেকে পড়ার ঘরে বারবার বইপত্র বহন করতে অসুবিধা হয় বলে সপ্তাহান্তে ঢাকার বাসায় গিয়ে পড়েন। পরীক্ষার আগে যেকোনো এক বন্ধুর বাসায় সবাই হাজির হন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে খাওয়াদাওয়া, আড্ডা, পড়ালেখা আর একাডেমিক আলোচনা।

দিনে কিংবা রাতে পড়া

একাডেমিক কারণে দিনের অধিকাংশ সময় ঘরের বাইরেই কাটে শিক্ষার্থীদের। শেখার প্রক্রিয়া চলমান সেখানেই। যাঁরা একটু তাড়াতাড়ি ঘুমান, তাঁরা ভোরে উঠে প্রাত্যহিক ক্রিয়াকর্ম সেরে পড়ালেখার জন্য কিছুটা সময় পান। তাঁদের আবার রাত জেগে তেমন পড়া হয় না। আবার সবার ক্ষেত্রেই রাত বাড়লে ক্লান্তিও বাড়ে। ডা. রমা বিশ্বাস তাই বলছিলেন, রাতের একেবারে শেষভাগে পড়ালেখার কার্যকারিতা কম।

ভালোবেসে পড়া

কোনো দুপুরে তোত্তোচান আর তার ক্লাসের অন্য শিশুরা হেঁটে হেঁটে নদীর পার, শর্ষেখেত আর স্থানীয় মন্দির এলাকায় ঘুরে ঘুরে শিখে বিজ্ঞান আর ইতিহাস। জাপানি লেখক তেৎসুকো কুরোয়ানাগির তোত্তোচান বইতে এমনটাই বলা আছে। পড়ালেখা তো হওয়া উচিত এমনই আনন্দময়। কেউ পড়ার সময় পছন্দের গান বাজান মৃদু শব্দে, কেউ নিজে একটু জোরে শব্দ করে পড়েন। কেউ চলন্ত গণপরিবহনেও পড়তে পারেন। বুঝে পড়লে পড়তে খুব বেশি সময়ও লাগে না। পরীক্ষার আগে পড়া ভালো হয় ঠিকই, তবে সব পড়া সেই এক রাতের জন্য জমিয়ে রাখা ঠিক নয়। আগেই স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করে একটা ভিত গড়ে নেওয়া প্রয়োজন। তবে ভালো লাগার জন্য লেখাপড়ার বিষয়টাও হওয়া চাই পছন্দসই। জবরদস্তি পড়ালেখা খুব ভালো ফল বয়ে আনে না।

সোর্স প্রথমআলো

06/02/2026

6-6-6 রুল সফল ক্যারিয়ার ও সুস্থ জীবনের ভারসাম্য
মো. আশিকুর রহমান

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক যুগে ক্যারিয়ারে সফল হতে গিয়ে আমরা প্রায়ই একটি চোরাবালিতে আটকে যাই। দিনরাত এক করে কাজ করাকে আমরা ভাবি সাফল্যের শর্টকাট । কিন্তু শরীর আর মন যখন বিদ্রোহ করে, তখন উপলব্ধি হয় যে আমরা বাঁচার জন্য কাজ করছি, না কি কাজ করার জন্য বাঁচছি? যারা কাজের চাপে নিজের ব্যক্তিগত জীবন হারিয়ে ফেলছেন, তাদের জন্য আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানের এক জাদুকরি সমাধান হলো "৮-৮-৮ রুল'।

কী এই ৮-৮-৮ রুল
আমাদের প্রত্যেকের হাতে দিনে ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। এই সময়কে তিনটি সমান ভাগে ভাগ করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করাই হলো এই নিয়মের মূল কথা। অর্থাৎ
প্রথমত, ৮ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম (Hard Work), এটি আপনার অফিস, ব্যবসা বা পড়াশোনার সময়।

এই ৮ ঘণ্টা হবে নিরেট কাজ বা 'ডিপ ওয়ার্ক'-এর জন্য। দ্বিতীয়ত, ৮ ঘন্টা প্রশান্তির ঘুম (Good Sleep), সুস্থ মস্তিষ্ক এবং শরীরের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য। এটি আপনার পরের দিনের কাজের জ্বালানি। তৃতীয়ত, বাকি ৮ ঘণ্টা নিজের জন্য (Personal Time), এই শেষ ৮ ঘণ্টাই নির্ধারণ করে আপনি কতটা সুখী মানুষ। এটি ব্যয় হবে পরিবার, শখ, প্রার্থনা, ব্যায়াম এবং সামাজিক কাজে।

The Great Bangladesh
১. প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি : অফিসে অতিরিক্ত সময় কাটালেই বেশি কাজ হয়—এই ধারণাটি ভ্রান্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত পরিশ্রম মানুষের সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়। ৮ ঘণ্টা মন দিয়ে কাজ করলে যে আউটপুট আসে, ক্লান্ত মস্তিষ্কে ১২ ঘণ্টায়ও তা সম্ভব নয়।

২. বার্নআউট থেকে মুক্তি : টানা কয়েক মাস ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করলে 'বার্নআউট' বা মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। ৮-৮-৮ রুল মেনে চললে কাজের প্রতি একঘেয়েমি আসে না এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যারিয়ারে টিকে থাকা সহজ হয়।

৩. শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য : আমরা কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিসর্জন দিই। কিন্তু ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে পৌঁছে যদি শরীর ভেঙে পড়ে, তবে সেই সাফল্যের স্বাদ নেওয়া যায় না। পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের জন্য সময় রাখলে উচ্চ রক্তচাপ বা দুশ্চিন্তার মতো সমস্যাগুলো দূরে থাকে।

এটি বাস্তবায়ন করবেন যেভাবে
অনেকে বলতে পারেন, 'কর্পোরেট চাকরিতে কি আর ৮ ঘণ্টায় কাজ শেষ হয়?' তাদের জন্য কিছু টিপস— > কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করুন : প্রতিদিন সকালে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি কাজ চিহ্নিত করুন এবং সেগুলো ৮ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করুন ।

ডিজিটাল ডিটক্স : অফিস থেকে ফেরার পর ল্যাপটপ বা অফিসের ইমেইল থেকে দূরে থাকুন। বাড়ির ৮ ঘণ্টা সময় যেন অফিসের চিন্তা দখল করতে না পারে।
৩-এফ ও ৩-এইচ ফর্মুলা : নিজের জন্য বরাদ্দ ৮ ঘণ্টাকে আরও অর্থবহ করতে ৩-এফ (Family, Friends, Faith) এবং ৩-এইচ (Health, Hygiene, Hobby)-এর পেছনে ব্যয় করুন।

শেষ কথা ক্যারিয়ারে এই ভারসাম্য কেন জরুরি

বিখ্যাত শিল্পপতি রতন টাটা একবার বলেছিলেন, ‘কাজ জীবনের একটি অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়। আপনার পদবি বা স্যালারি কেবল আপনার ক্যারিয়ারের পরিচয়, কিন্তু আপনার স্বাস্থ্য এবং পরিবারই আপনার জীবনের আসল ভিত্তি। ক্যারিয়ারের সিঁড়িতে ওঠার সময় যদি ভিত্তিটাই নড়বড়ে হয়ে যায়, তবে সেই সাফল্য ক্ষণস্থায়ী। তাই আজ থেকেই শুরু করুন ৮-৮-৮ রুলের চর্চা । নিজের ২৪ ঘণ্টাকে নতুন করে সাজান, দেখবেন সাফল্য এবং সুখ—দুটোই আপনার হাতের মুঠোয়।

সোর্স আশিকুর রহমান
ইত্তেফাক

06/02/2026
Photos from Capstone Education's post 06/02/2026
06/02/2026

#মন ভালো রাখার উপায়.....

Photos from Biddabari's post 31/10/2025
Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka