Nipa Prodhan
দর্পণে যাহারে দেখি সেই আমি ছায়া,
তারে লয়ে গর্ব্ব করি অপূর্ব্ব এ মায়া॥
09/05/2026
Rangon - রঙন
08/05/2026
আজকের প্রোগ্রামে আমরা...
12/04/2026
পুণ্যাহ থেকে হালখাতা: বাংলা সনের আখ্যান
আগ্রার মহলে তখন চৈত্রশেষের গুমোট গরম। সম্রাট জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর তাঁর খাস দরবারে কিছুটা বিমর্ষ চিত্তে বসে আছেন। সামনে খোলা রাজকীয় কোষাগারের হিসাবের খাতা। সম্রাট লক্ষ্য করলেন, বাংলার সুবে থেকে খাজনা আদায়ের হিসেবে এক বিশাল ব্যবধান।
সম্রাট তাঁর বিশ্বস্ত উজির আবুল ফজলকে ডেকে সুধালেন, "ফজল, বাংলার মাটি তো সোনা ফলায়, তবে সেখানে প্রজারা খাজনা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কেন?"
আবুল ফজল কুর্নিশ জানিয়ে বললেন, "জাঁহাপনা, সমস্যাটা ফসলে নয়, সমস্যাটা আমাদের পঞ্জিকায়। আমরা চলি হিজরি সনে, যা চাঁদের হিসেবে ঘোরে। কিন্তু বাংলার কিষাণ চলে সূর্যের হিসেবে, ঋতুচক্রের সাথে পাল্লা দিয়ে। দেখা যায়, মাঠের ধান এখনো পাকেনি, কিন্তু হিজরি পঞ্জিকা বলছে খাজনা দেওয়ার সময় শেষ। ফসল না বেচতে পেরে কৃষক খাজনা দেবে কোত্থেকে?"
সম্রাট আকবর ভাবনায় ডুবলেন। তিনি চাইলেন এমন এক সমাধান, যা রাজকোষ আর প্রজার হাহাকারের মাঝে সেতু তৈরি করবে। তিনি তলব করলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে। সম্রাট নির্দেশ দিলেন:
"শিরাজী, এমন এক বর্ষপঞ্জি তৈরি করো যা এই হিন্দুস্তানের মাটির সাথে কথা বলবে। যেখানে ঋতু আর রাজস্ব হাত ধরাধরি করে চলবে।"
শিরাজী সাহেব গণিত আর নক্ষত্রের চাল মিলিয়ে এক অদ্ভুত সমন্বয় করলেন। সৌর বছরের দৈর্ঘ্য আর হিজরি বছরের পবিত্রতাকে এক সুতোয় গাঁথলেন তিনি। সম্রাট ৯৬৩ হিজরিতে যখন সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন, সেই সময়টাকেই বাংলা সনের শুরুর বছর (৯৬৩ বঙ্গাব্দ) হিসেবে ঘোষণা করা হলো। ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জন্ম নিল এক নতুন সময়রেখা— 'ফসলি সন', যা আজ আমাদের হৃদয়ের 'বঙ্গাব্দ'।
শুরু হলো নতুন প্রথা। চৈত্র সংক্রান্তির পর যখন বৈশাখের সূর্য উদয় হতো, বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো 'পুণ্যাহ'। সেদিন প্রজারা মলিন বেশ ছেড়ে নতুন পোশাকে জমিদারের আঙিনায় আসত। তাদের হাতে থাকত সারা বছরের পাওনা। কিন্তু সেই পাওনা মেটানোর পরিবেশটা হতো উৎসবের। জমিদাররা প্রজাদের বসিয়ে দই-চিঁড়া আর মিষ্টিমুখ করাতেন। রূপালি মুদ্রা আর ধানের ছড়ায় মেঝের ওপর যে লেনদেন চলত, তাতে তিক্ততা নয়, বরং থাকত কৃতজ্ঞতার সুর।
কালক্রমে সেই জমিদারি জৌলুস আর 'পুণ্যাহ' হারিয়ে গেছে ইতিহাসের ধুলোয়। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে চলেছে আমাদের ব্যবসায়ীদের লাল মলাটের 'হালখাতা'। আজও যখন বৈশাখের ভোরে পান্তা ইলিশ আর হালখাতায় মিষ্টির প্যাকেটে আমরা নতুন বছরকে বরণ করি, তখন অজান্তেই আমরা সেই চারশো বছর আগের মোগল দরবারের সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জয়গান গাই।
বাংলা নববর্ষ তাই কেবল তারিখ পরিবর্তনের উৎসব নয়; এটি সম্রাটের প্রজ্ঞা আর কৃষকের শ্রমের মিশেলে তৈরি এক অমর মহাকাব্য। চৈত্রাবসানের ক্লান্তি ধুয়ে দিয়ে বৈশাখ আসে সেই সোনালি গল্পের বারতা নিয়ে।
© কপিরাইট
Rangon - রঙন
বাড়ি ৩২, রোড ১২, সেক্টর ১০, উত্তরা, ঢাকা।
ফোনঃ ০১৭১১ ০৩৪০১৪, ০১৯৭০ ০৩৪০১৪
23/09/2025
আলোচিত বার্তা... ❤️
30/08/2025
❤️
20/08/2025
স্কুলের প্রোগ্রামে স্যার এবং ম্যাডামের সাথে......
06/08/2025
14/04/2025
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
24/4, Balughat Mastertek Road
Dhaka
1206