SajeeBlog
Everyone is alone in his mirror. Where he/she can judge themselves without any proof.
মীরজাফর সবে মাত্র নবাব হয়েছেন। ইংরেজদের সাথে চুক্তির তিন কোটি টাকা মেটাতে গিয়ে তার তহবিল শূন্য হয়ে গেল। নবাবের সৈন্যবাহিনীর ঘোড়সওয়াররা মাইনে না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠল। ফলে নবাবী সৈন্যবাহিনী ভেঙে পড়ল।
নবাবের সেই দুরবস্থায় সুযোগ বুঝে বহু জমিদার ও ফৌজদারেরা নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল। নবাব তখন বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে ইংরেজ ফৌজ ব্যবহার করতে বাধ্য হলেন।
গোরা ও তেলেঙ্গা সৈন্যদের সমস্ত খরচ নবাবকেই বহন করতে হবে, এই শর্তে ক্লাইভ নবাবকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসলেন। বিদ্রোহীরা তখনকার মত শায়েস্তা হল বটে, কিন্তু যুদ্ধের খরচ মেটাবার জন্য পর্যাপ্ত টাকা ছিল কোথায়? মীরজাফর ‘বর্ধমান’ ও ‘নদীয়া’ জেলার গোটা খাজনা ইংরেজদের নামে লিখে দিতে বাধ্য হলেন।
নবাবের খাজনা আদায়ের শাসনযন্ত্রে সেই যে ইংরাজদের প্রবেশ শুরু হল, এরপরে ধীরে ধীরে সারা ‘দেওয়ানী’ ও ‘নিজামত’ ইংরেজদের হাতে সম্পূর্ণভাবে চলে গেল। তখন থেকেই নবাবী শাসনযন্ত্র ক্রমশঃ অচল হয়ে পড়তে শুরু করল। নবাবের দরবারের সব ওমরাওরা তখন থেকেই উপলব্ধি করতে পারছিলেন যে তাঁদের দিন ক্রমশ শেষ হয়ে আসছে।
পলাশীর ষড়যন্ত্রে যেসব মনসবদারা মীরজাফরকে সাহায্য করেছিলেন, তারা বুঝে গেল যে মীরজাফর ইংরেজদের ‘ঠুটো জগন্নাথ’ মাত্র। তার হাত থেকে তাদের কোন কিছুই প্রাপ্তির কোন সম্ভাবনা নেই। মীরজাফরের এক বন্ধু আশা করেছিলেন যে নতুন নবাব তাকে যথোচিত পুরস্কার দেবেন।
কিন্তু তিনি কিছুই পেলেন না। আশাহত সেই আমীর, নতুন নবাবের নবাবিয়ানা ভেতর থেকে যে কতটা ফাঁপা, সেটা প্রকাশ্য দরবারে বাজিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
ওই ঘটনার আগের দিনই ক্লাইভের লোকজনদের সঙ্গে সেই আমীরের লোকজনদের প্রকাশ্যে হাতাহাতি হয়ে গিয়েছিল। পরের দিন সকালে নবাব মীরজাফর তার পুরনো বন্ধুর দিকে রক্ত চক্ষে তাকিয়ে বলেছিলেন, “জনাব, কর্নেল সাহেবের লোকেদের সঙ্গে কাল আপনার লোকেরা ঝগড়া বাঁধিয়েছিল। জনাবের কি জানা আছে, এই কর্নেল ক্লাইভ কে? জান্নাতের হুকুমে জাহানে তাঁর কি জায়গা?”
নবাবের পুরানো বন্ধু ‘মির্জা শামসুদ্দিন’ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সবার সামনেই উত্তর দিয়েছিলেন, “হুজুর নবাব বাহাদুর, কর্নেলের সঙ্গে ঝগড়া করব আমি? এই আমি? যে রোজ সকালে উঠে তার গাধাটাকে পর্যন্ত তিন বার সলাম না করে কোনো কাজ করে না? তবে কোন সাহসে আমি গাধাটার সওয়ারের সঙ্গে লাগতে যাবো?”
মীরজাফর ‘আলিবর্দি খানের’ মতো ‘মহাবৎ জঙ্গ’ নামে খ্যাত হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ‘ক্লাইভের গাধা’ নামে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রসিদ্ধি হয়েছিল।
রাজকার্যে বীতশ্রদ্ধ হয়ে মীরজাফর‘ভাঙ’ খেয়ে চুর হয়ে থাকতেন। লোকে তাঁর ছেলে ‘মীরন’কে বলত ‘ছোট নবাব’। যত দিন সেই নিষ্ঠুর নবাবজাদা বেঁচেছিলেন তত দিন প্রকৃতপক্ষে তিনিই মীরজাফরের হয়ে রাজকার্য চালিয়ে গেলেন। তার হুকুমে ‘ঘসেটি বেগম’ ও ‘আমিনা বেগম’ - দুই নবাবনন্দিনীকে জলে ডুবিয়ে মারা হল।
‘ঘসেটি বেগম’ তাঁর সমস্ত লুকানো ধনরত্ন দিয়ে মীরজাফরকে পলাশীর ষড়যন্ত্রে সাহায্য করেছিলেন। শোনা যায় যে, জলে ডুবে মরবার আগে ওই দুই বোন মীরনের মাথায় ‘বজ্রাঘাতের’ অভিসম্পাত করে গিযেছিলেন।
মীরনের সব দুষ্কার্যের সাথী ছিলেন ‘খাদেম হোসেন খান। নয়া জমানায় সেই ‘খাদেম হোসেন খান’ ‘পূর্ণিয়ার ফৌজদার’ হয়ে বসলেন। তারপর মীরন ও খাদেম হোসেন খানের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে গেল। বিদ্রোহী খাদেম হোসেন খানের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে খোলা মাঠে তাঁবুর মধ্যে ‘বজ্রাহত’ হয়ে মীরন মৃত্যুর মুখে পতিত হলেন।
ইংরেজদের টাকা মেটাতে না পারায় মীরজাফর প্রথমে মসনদচ্যুত হলেন। তারপরে আবার ইংরেজদের কৃপায় তিনি মসনদে বসেছিলেন, শেষে মীরজাফর ‘কুষ্ঠ রোগে’ মরেছিলেন। শেষের দিকে তিনি একপ্রকার মরিয়া হয়ে ইংরেজদের একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আপনারা কি ভাবেন টাকার বৃষ্টি হয়?”
পলাশীর অপর নায়ক ছিলেন ‘রায় দুর্লভ’। নতুন নবাব ও তাঁর নতুন দেওয়ানের মধ্যে দু’ দিন যেতে না যেতেই মারাত্মক রেষারেষি শুরু হয়ে গেল। মীরজাফর সন্দেহ করলেন যে, রায় দুর্লভ সিরাজের ছোট ভাই ‘মীর্জা মেহদী’কে মসনদে বসিয়ে নিজে রাজত্ব করবার মতলব আঁটছেন।
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে মীরন সেই নিরাপরাধ তরুণকে হত্যা করেন। এরপর রায় দুর্লভের উপরে চোরা গোপ্তা আঘাত হানবার ফিকির খুঁজতে থাকেন।
ক্লাইভের কৃপায় রায় দুর্লভের প্রাণ রক্ষা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেই মীরন ঢাকার ‘রাজবল্লভ’কে ডেকে এনে রায় দুর্লভকে তার হাতে রাজকার্য তুলে দেবার হুকুম দিলেন। ফলে রায় দুর্লভের দু’ দিনের দেওয়ানী ঘুচে গেল। রায় দুর্লভ কলকাতায় পালিয়ে গিয়ে নিজের ধন প্রাণ বাঁচাতে সমর্থ হলেন।
যদিও তার সঞ্চিত ধন তাঁর উত্তরপুরুষদের ভোগে লাগে নি। ছেলে ‘রাজবল্লভ’ ইংরেজ আমলে ‘রায় রায়ান’ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর একমাত্র সন্তান ‘মুকুন্দবল্লভ’ তাঁর জীবদ্দশাতেই মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ায় রায় দুর্লভের বংশ চিরতরে লোপ পেল।
সিরাজের বিশ্বস্ত প্রধানমন্ত্রী ‘মোহনলাল কাশ্মীরী’কে রায় দুর্লভ বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন। পলাশীর যুদ্ধের ঠিক আগে নিযুক্ত সিরাজের আরেক বিশ্বস্ত কাবুলী সেনাপতি ‘খাজা আবদুল হাদি খান’কে মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করেন। ঢাকার ভূতপূর্ব নায়েব ‘রাজবল্লভ সেন’ পরে ‘পাটনার নায়েব’ হলেন। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত মীরকাশিমের হুকুমে গঙ্গাবক্ষে সলিল সমাধি প্রাপ্ত হলেন।
হুগলীর অস্থায়ী ফৌজদার ‘নন্দকুমার’ পরে মীরজাফরের ‘দেওয়ান’ হয়েছিলেন। তিনিও শেষ পর্যন্ত ‘ওয়ারেন হেস্টিংসের’ ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে ফাঁসিতে প্রাণ দিয়েছিলেন। সিরাজের অতি বিশ্বস্ত গুপ্তচর ও ‘পাটনার নায়েব’ ‘রামনারায়ণ’ নবাব মীরকাশিমের হুকুমে নিষ্ঠুরভাবে নিহত হলেন। অর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধের কুড়ি বছরের মধ্যে প্রায় সমস্ত ‘মহাবৎজঙ্গী’ ওমরাওরা সমূলে বিনষ্ট ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেন।
‘জগৎশেঠ মহাতাব রায়’ ও ‘মহারাজা স্বরূপচন্দের’ পরিণামও ভয়াবহ হল। নবাব মীরকাশিম আরো অনেকের সঙ্গে সেই দুই প্রধান শেঠকে গঙ্গার জলে ডুবিয়ে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় জগৎশেঠ পরিবারের ব্যবসা যে ঘা খেল, সেটা থেকে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারেন নি।
দেওয়ানী হাতে পেয়েই ক্লাইভ রুক্ষভাবে তাঁদের উত্তরাধিকারীর কাছ থেকে রাজকোষের চাবি ছিনিয়ে নিল। রাজকোষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগের ভিত্তিতেই জগৎশেঠের বিশাল ব্যবসা গড়ে উঠেছিল। সেই সংযোগ ঘুচে যাবার পরে তাদের ব্যবসাও আর টিকে থাকে নি। ইংরেজরা অসংখ্য প্রকারে ওই পরিবারের কাছে ঋণী ছিল। সেই ঋণ তারা চরম বেইমানি দিয়েই শোধ করল।
নদীয়ার রাজা ‘কৃষ্ণচন্দ্র’ তলে তলে পলাশীর ষড়যন্ত্রে ইংরেজদের সাহায্য করেছিলেন। ইংরেজরা সে সবও মনে রাখে নি। তিন কোটি টাকার দাবি মেটাতে মীরজাফর লিখে দিয়েছিলেন যে নদীয়া জমিদারীর খাজনা মুর্শিদাবাদে না গিয়ে ইংরেজদের ‘তনখা’ হয়ে কলকাতায় যাবে।
ওই টাকা আদায় করবার জন্য ইংরেজরা কৃষ্ণচন্দ্রকে অশেষ উৎপীড়ন করল। এমন কি সনাতন হিন্দু সমাজের প্রধান ধারক ও বাহক সেই রাজার ‘জাতিনাশ’ করবার ভয় পর্যন্ত দেখানো হল। শেষে বুড়ো বয়সে তাঁর জমিদারী অপরিমেয় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ল। রাজা মারা যাবার পরে তার বংশধরেরাও সেই জমিদারীকে আর রক্ষা করতে পারল না। ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সূর্যাস্ত আইনে’ নদীয়া জমিদারীর প্রায় সব নিলাম হয়ে গেল। © রাজিক হাসান
হয়তো কোনো একদিন হঠাৎ করেই তোমার নামটা আমার স্মৃতি থেকে মুছে যাবে। সেদিন হয়তো তোমার প্রিয় রঙ কিংবা আমাদের কাটানো বিকেল গুলো আর মনে পড়বে না।
মানুষ বলে সময় সব ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু সত্যি বলতে কিছু ভুলিয়ে দেওয়ার পেছনে থাকে কোন এক অপ্রকাশিত আঘাত।
আমি যদি সত্যিই কোনোদিন তোমাকে ভুলে যাই, তবে মনে রেখো-সেটা আমার ইচ্ছাকৃত ছিল না। বরং তোমার দেওয়া আঘাত আর অসম্মান আমাকে বাধ্য করেছে নিজের স্মৃতি থেকে তোমাকে মুছে ফেলতে।
হৃদয়ের যে জায়গাটাতে তুমি ছিলে, সেখানে এখন কেবল একরাশ শূন্যতা। আমার এই ভুলে যাওয়াটা আসলে কোনো জয় নয়, বরং ভালোবাসায় হেরে যাওয়ার এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
সেদিন হয়তো অভিযোগ করার মতো আর কেউ থাকবে না, কিন্তু দায়ভারটা সেদিনও তোমারই থেকে যাবে। কারণ, আগলে রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তুমি আঘাত করে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছিলে।
যাকে ধরলে ক্ষত বাড়ে,
তাকে ত্যাগ করাই শ্রেয়;
নিজেকে বাঁচাতে বিষাক্ত মায়া কাটাতে হয়'
মাঝে মাঝে আমরা
এমন কিছু মানুষকে আগলে ধরে রাখি,
যারা আমাদের প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত করে'
আমরা ভাবি মায়া করলেই বুঝি ভালোবাসা টিকে থাকে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিছু মায়া কেবল যন্ত্রণায় বাড়ায়।
নিজেকে তিলে তিলে শেষ করার চেয়ে
সেই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা অনেক বেশি জরুরী।
মায়া কাটানো হয়তো সহজ নয়,
কিন্তু নিজের মানসিক শান্তি,
আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হয়,
দিনশেষে
নিজেকে ভালোবাসতে শেখাই হলো সবচেয়ে বড় মুক্তি!'🤍🖤
আমি মরে গেলে, আমাকে ভুলে যেতে তোমাদের কতদিন লাগবে? দুনিয়ার মানুষ তো মানুষ ভুলে যায়। তবে কিছু কিছু মানুষ মনে রাখে—প্রয়োজনে হঠাৎ হঠাৎ, কিংবা কোনো পুরোনো ছবির ফ্রেমে আচমকা চোখ পড়লে।
আচ্ছা, সেদিনও কি মসজিদের মাইকে মুয়াজ্জিন সাহেব বলবেন—একটি শোকসংবাদ? সেদিনও কি আমার মৃত্যুর খবর শুনে সবাই বলবে—ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, মিনমিন করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবে লোকটা ভালোই ছিল। আমি জানি, মৃত্যুর পর কেউ খারাপ থাকে না।
প্রচণ্ড শীতে সবার মতো আমার জন্যও কি গরম পানি করা হবে? নতুন সাবান দিয়ে গোসল শেষে, ধপধপে সাদা কাপড় পড়িয়ে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া হবে আমার গায়। আহ, ভাবতেই অবাক লাগে—একদিন আমাকে সবাই এত গুরুত্ব দেবে, এতো যত্ন নিবে।
আচ্ছা, মৃত্যুর পর মানুষের একে এতো গুরুত্ব দেওয়া হয় কেন? কেন মানুষ জিবদ্দশায় অবহেলায় মারা যায়।
আমার কবরখানা কোথায় হবে? কে কাটবে আমার জন্য মাটি? তাকে দেখার আমার খুব ইচ্ছে।
খুব ইচ্ছে মরার আগে মায়ের মুখখানা দেখার, খুব ইচ্ছে বাবাকে একবার জড়িয়ে ধরার।
আমি নিজের সাথে থাকতে শুরু করেছি। নিজের সঙ্গী বানিয়েছি নিজেকেই। আমি উপলব্ধি করেছি, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষটা আমিই। আমার জন্য আমি ব্যতীত আর কেউ নেই।
আমি যতবারই কাউকে সবচেয়ে কাছের ভেবেছি, সেই কাছের বলা মানুষটি থেকে পেয়েছি অগাধ বিষন্নতা, বুকভাঙা যন্ত্রণা। কখনো কখনো পেয়েছি অবিশ্বাস্যরকম ভাবে বদলে যাওয়ার সংকেত।
অবশেষে দেখি আমি সেই লা`শবাহী কফিনের মত একা, যাকে প্রয়োজন ছাড়া কেউ কাছে ডাকে না। আমার আমি ছাড়া এই পুরো মহাবিশ্বে আর কেউ নেই। যারাই ছিলো; তারা আমার পথসঙ্গী, পথ ফুরোলেই যারা নিঃশব্দে হারিয়ে যায়।
প্রেম যদি নিঃশর্ত হয়, তবে সেটা রাজকীয় বিলাসিতা।
কিন্তু যদি সেই মূল্য মুদ্রায় পরিমাপ হয়,
তবে নিশ্চয়ই তা হৃদয়ের চেয়ে সস্তা।
তোমার প্রেম কি মুদ্রার হিসাব বোঝে,
নাকি হৃদয়ের ছোঁয়াতেই তার দর ঠিক হয়?
30/11/2025
কেন ভুল শোকে ভারী করে রাখো বুক..?
ট্রেন ছেড়ে চলে গেছে,,
তবু ষ্টেশনে পায়চারি অহেতুক,,,,!!
29/11/2025
অঘোষিত অদৃশ্য সংবিধানের অদ্ভুত এক ধারাকে অনুসরণ করে, সেই ভোরে ঘুম থেকে মনের শত বাঁধা মাড়িয়ে উঠে নাস্তা করে বা না করে যে যথারীতির নীতি অনুসরণ করি আমরা। কেউ জবে, কেউ ক্যাম্পাসে, কেউ বা ঘরেরই এক কুণ্ঠে বসে কাটাই। আমরা হাসি হাসতে হয় তাই, আমরা কথা বলি বলতে হয় তাই, আমরা কিছু খাই খেতে হয় তাই, আমরা অবাক হই হতে হয় তাই, কারো সাথে পরিচয় হই হতে হয় তাই, কাউকে ভালো বাসতে হয় তাই বাসি, কাউকে হজমই করি করতে হয় তাই। এটা করলে লোকে কি বলবে তাই করিনা, ওটা না করলে লোকজন কি বলবে তাই করি, এটা করতে বাবা মা নিষেধ করেছে, অফিসের বস নিষেধ করেছে, প্রিন্সিপাল সাহেব নিষেধ করেছে, সোশ্যাল নিষেধ করেছে, করতে হবেনা তাই করিনা। সবকিছুই যেনো করতে হয় আর এজন্যেই আমরা এক যান্ত্রিক জীবন পার করি।
আর আমাদের সব কিছুর মাঝে হাতে থাকে একটা ফোন, থাকে সোশ্যাল মিডিয়া আর এসব প্লাটফর্মে আমরা কেমন? হাসি মনের মতো করে, কথা বলি মনে যেমন চায়, অন্যের সাথে ইন্ট্রডিউস হই এক অনবদ্য ভূমিকায়, আমরা গল্প বুনি একেক ভূমিকায়, কল্পনা করি ভিন্নতার সীমারেখায়, মুগ্ধ হই নিজের ভাষায়। কেউ ভালোবাসি সিনেমা, সিনেমার একটা জগৎ তৈরী করি। পছন্দ করি খেলা, খেলার আলাদা জগৎ তৈরী করি। বই আমাদের পছন্দ বইয়ের জগৎ তৈরী করি। আমাদের জগতের সবাই আমাদের সুন্দর ভাবে এপ্রোচ করে, এপ্রিশিয়েট করে, আমরা খুশি হই সেটায়। আমরা ফ্লার্ট করি আমাদের মতো করে, আমরা কাউকে ইম্পর্ট্যান্টস দিই আমাদের যতোটুকু দেওয়া দরকার, আমরা সরে আসি যতোটুকুর পর সরে আসা দরকার। আমরা এখানে গাই, উড়ি ডানা মেলে, আঁকি স্বপ্নের আদতে, এ যেনো এক অন্য অন্য এক কাল্পনিক জগতের এক অন্য আমি।
এই দু'টো ভার্সনই আমি একাই, একটা করতে হয় তাই করি আরেকটা মনে যেমন চায় ঠিক তেমনটা করি। এই দুইটা আলাদা ভার্সনের আমিই হলাম তামাশা। এই তামাশা মুভি প্রত্যেকের মধ্যের এই দুই সত্তাকে আলাদা করে দেখিয়েছে আমাদের। আর ঠিক এই কারণেই এই মুভি এক অনবদ্যতা আঁকড়ে আছে। যে যতো তার এই দুই সত্তাকে অনুধাবন করতে পারবে সে ততো তামাশা মুভিকে নিজের মুভি মনে করতে পারবে। রিলেট করতে পারবে। আর যে তার এহেন দুই সত্তা কে স্পর্শই করতে পারেনি তার কাছে এই মুভিটা জাস্ট একটা ননলেনিয়ার খুবই এভারেজ একটি ফিল্ম।
আমি তামাশাকে ভালোবাসি কারণ আমি নিজেই এর সিনেমার চরিত্র। আমিই ভেদ, আমিই ডন। আমিই দুই।
জীবনে কিছু মানুষ আসে একজোড়া নতুন জুতোর মতো। শুরুতে সবকিছুই নিখুঁত মনে হয়—চকচকে, সুন্দর, নতুন চামড়ার মতো গন্ধ। তখন মনে হয়, এই তো! ঠিক এই মাপের মানুষটাই খুঁজছিলাম। কিন্তু কিছুটা পথ হাঁটার পরেই বোঝা যায়, কোথাও একটা কষ্ট লুকিয়ে আছে। কখনও একটু ঘষে বসে, কখনও অস্বস্তি দেয়। ঠিক তেমনভাবেই কিছু সম্পর্কও প্রথমে সুন্দর লাগে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যাই—এখানে মাপ মিলছে না। জুতো হোক বা মানুষ, মাপ না মিললে দুজনেই কষ্ট দেয়। পার্থক্য শুধু এতটুকু—জুতোর কষ্টটা পায়ের, সেটা দেখা যায়; কিন্তু মানুষের কষ্টটা হৃদয়ের, সেটা শুধু অনুভব করা যায়।
অনেক সময় আমরা সেই মাপ মেলাতে গিয়ে নিজের পা-ই বদলে ফেলি। ভাবি, একটু সহ্য করলেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সম্পর্ক যদি কষ্টের জুতো হয়ে যায়, তাহলে হাঁটতে হাঁটতে একসময় থেমে যেতেই হয়। কারণ কষ্টের মধ্যে কখনও স্থিরতা থাকে না। একটা সম্পর্কের আসল মাপ তখনই বোঝা যায়, যখন তুমি ক্লান্ত, অথচ সে তোমাকে বিশ্রাম দেয়; যখন তুমি ভুল করো, অথচ সে তোমাকে শোনে। মাপের মানুষ মানে কেবল মিল নয়—একটা বোঝাপড়া, একটা নির্ভরতা, একটা নিরাপত্তা।
জীবনের পথে অনেক মানুষ আসবে, কেউ পায়ে কাঁটা হয়ে বিঁধবে, কেউ আবার ঠিক সেই কাঁটাটাই তুলে নেবে নিঃশব্দে। তুমি শুধু এতটাই মনে রেখো—যে মানুষ তোমাকে নিজের মতো হতে দেয় না, তোমার হাসিটাকে নিজের মতো করে বাঁচতে দেয় না, সে কখনোই তোমার মাপের মানুষ নয়। কারণ ভালোবাসা মানে একে অপরকে বদলে দেওয়া নয়, বরং একে অপরের অসম্পূর্ণতাকে জায়গা দেওয়া।
জীবনের পথটা বড় দীর্ঘ। তাই এমন জুতোটাই বেছে নাও, যেটা পরে তুমি দূর হাঁটতে পারবে। আর এমন মানুষকেই কাছে রাখো, যার পাশে হাঁটতে হাঁটতে সময়ের হিসেব ভুলে যাবে। শেষ পর্যন্ত, মাপের মানুষ সেই নয় যে তোমার মতো, বরং সেই—যে তোমার পাশে থেকে তোমাকে নিজের মতো থাকতে দেয়।
09/09/2025
And suddenly, I stop replying to your messages-which is strange, because I used to crumble the moment I saw your name on my screen.
And that's when I realized I no longer felt the same. The excitement, the longing, the pull you once had over me - it was gone. Quietly, without warning, my heart let go.
Once, between us, there bloomed a yearning,
Once, our paths were gently turning.
Once, we shared a silent grace,
Familiar hearts, a known embrace.
Whether you recall, or memories blur,
I remember it all — every whisper, every stir.
Whether you remember or let it go,
Every moment, I still know.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the public figure
Website
Address
Dhaka