Abstract AudiBook
|| Abstract AudioBook— Listen with your deep hEARt ||
বই পড়ার অভ্যাস মানুষের হৃদয়কে প্রশস্ত করে তুলে।
- কিন্তু রুটিন বাঁধা দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততায় আপনার বই খুব একটা পড়া হয়ে উঠে না?
- বা, বই হাতে নিয়ে পড়ার চেয়ে একজন শ্রোতা হয়ে কারো মুখ থেকে গল্পের মতো শুনতে ইচ্ছে করে?
তাহলে আমাদের এই আয়োজন আপনার জন্যই! ❣
“মন দিয়ে শুনলে হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়,
গভীর ভাবনায় দিশেহারা তার পথ খুঁজে পায়।”
বাংলা— গল্প-উপন্যাস, (রোমান্টিক, হরর, থ্রিলার, ক্রাইম), ভ্রমণকাহি
একটা ছেলের বয়স যখন ১৭/১৮ হয়ে আসে। তখন তার মধ্যে যৌন খায়েশ সৃষ্টি হতে শুরু করে। অপর লিঙ্গের প্রতি তার তীব্র অনুভূতি সৃষ্টি হতে থাকে।
বিপরীতে একটা মেয়েও ঠিক তেমনি। তার বয়স যখন ১৩/১৪ তখন থেকেই সে বুঝতে শুরু করে। তার যৌনতা সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে পরিণত হয়। তার প্রতিটা পেশী একজন অপর লিঙ্গ চায়।
আসি মূল কথায়- বাংলাদেশে প্রায় ৬২.৯% যুবক যুবতী মাস্টারবেশন এবং পর্ন অ্যাডিক্টেড! এদের মধ্যে ছেলের সংখ্যা বেশি হলেও। মেয়েরাও একটা বৃহত্তম অংশ।
এখন একটা ছেলে যখন ১৭/১৮ বছর বয়সে পৌঁছায়। তখন তাকে তীব্র যৌনক্ষুধা নিয়ে পার করতে হয় আর অনেক বছর। তার মাথার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় সফলতার নামে মিথ্যা ক্যারিয়ারকে। তাকে নসিহত করা হয় নিজের পায়ে আগে দাঁড়াতে। ছেলেটা হালালের খোঁজে যখন বিবাহের কথা বলে। তখন তাকে পরিবার ও সমাজ থেকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়। তাকে বোঝানো হয় বয়স এখনো বাকি। সবে তো ১৮ মাত্র। আগে নিজ পায়ে দাঁড়াও।
তখনই এই যুবকটা নিজের যৌনতার ক্ষুধা নিবারণ করতে বেছে নেয় মাস্টারবেশন ও পর্নোগ্রাফি। লিপ্ত হয় প্রেম ভালোবাসায়। খেয়ে নেয় মেয়েটার সতীত্ব।
এখানে সমাধান থাক! পরে কোনোদিন বলব।
এখনো মূল কথায় আসিনি -
ছেলেদের নিয়ে আমার তেমন একটা ভাবনা নেই আপাতত। আমি বলি আপনার ঘরের বোনের কথা! যে মেয়েটা ১৩/১৪ বছর বয়সে ম্যাচুরিটি হল। যে বুঝতে শুরু করল যৌনতা। অপর লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। তখন তাকে পাঠানো হয় হাই স্কুলে কিংবা মাদ্রাসায়। বোঝানো হয় বয়স এখনো আছে। তোমারও ক্যারিয়ার আছে। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় উন্মুক্ত ভেড়ার পালের মতো।
আর তখন সে তীব্র যৌন ক্ষুধায় লিপ্ত হয় পর্নোগ্রাফি এবং মাস্টারবেশনের মতো ভয়ংকর নির্লজ্জতায়।
আপনি ভাবতে পারেন!? মেয়েরাও মাস্টারবেশন করে। যার তীব্রতা আপনার আমার থেকেও বেশি।
এটা কখন হলো? কেন ঐ নারীকে সঠিক সময়ে বিবাহ দেওয়া হল না? ওই নারীকেও কি নিজ পায়ে দাঁড়াতে হবে? ওই নারীকেও কি পুরুষের মতো ক্যারিয়ার স্থির করতে হবে? ওই নারী কি চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে হবে?
একটা ছেলের মাথায় শত বোঝা থাকে। তবে মেয়েটাকে ঘরে রেখে কেন নষ্ট করল?
যখন বোনেরা মেসেজ করে বলে ভাই সঠিক সময়ে বিবাহ দেয়নি পিতা-মাতা। পরে নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে না পেরে। রিলেশনে লিপ্ত হয়েছি। বয়ফ্রেন্ডের পাল্লায় পড়ে নিজের সতীত্ব ধ্বংস করেছি। এখন আমি কি করতে পারি আমি নিজের মনকে বোঝাতে পারছি না। কে আমাকে বিবাহ করবে। আমি কোন পুরুষের হক নষ্ট করব।
এই প্রশ্নগুলো যখন মেসেঞ্জারে দেখি তখন বিবেক আর ঠিক থাকে না।
এই জাহেল সমাজ আর মূর্খ পিতা-মাতা নিজ হাতে পেলে পুষে মেয়েটাকে বেশ্যা বানালো।
আমার চোখের সামনে এত পরিমাণ ঘটনা ঘটছে। আমি আপনাদের কল্পনা করে বুঝাতে পারব না যে আমি হতভম্ব এগুলো দেখে। মেয়েরা চেয়েছে বিবাহ করতে। কিন্তু তাদের পিতা মাতা বিবাহ দেয়নি। বলেছে আরো ৪-৫ বছর পরে। এই চার-পাঁচ বছরের মধ্যে মেয়েরা নিকৃষ্ট বেশ্যায় পরিণত হয়েছে। একদম আমার চোখে দেখা ঘটনা।
আর তাদের মাস্টারবেশন আর পর্নোগ্রাফি তো রয়েছেই।
আর কাফেরের ডিম ফোটা বাচ্চারা তাগুতের বাচ্চারা বাল্যবিবাহ মারায়। ওদের বাল্যবিবাহ ছবকের নামে শত মেয়ে নষ্ট হচ্ছে।
এই কাফেরের বাচ্চাদের স্লোগানের সাথে তাল মিলিয়ে কিছু মানুষ সুশীলতা করে নারীদেরকে জাহান্নামের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।
আসুন আমরা শপথ করি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। বাল্য বিবাহ করার জন্য। (প্রযোজ্য হলে) একাধিক বিবাহ করার জন্য।
08/04/2024
নেছারত দাদা যে জাহান্নামে যাবে, আমরা সবাই সেটা জানতাম।
জুমার খুতবায় জান্নাতের সার্টিফিকেট পাওয়া দশ সাহাবীর নাম শুনেছিলাম। আর শুনেছিলাম আবু লাহাব, আবু তালিবদের নাম। আবু তালিবের কথা বলতে গিয়ে নজরুল নানা কান্না করে দিতেন। নবিজীরে এতো আদর করলো, এতো ভালোবাসলো, অথচ সেই আবু তালিবকে দেওয়া হবে জাহান্নামে!!
আহারে!আহারে!!
তবে নেছারত দাদার জন্য কেউ চোখের পানি ফেলে নাই। বরং উনি জাহান্নামে যাবে, কথাটা বলার সময় সবাইকে বেশ খুশি খুশিই দেখাতো। যেন কারো জাহান্নামে যাওয়াটা বিরাট আনন্দের ব্যাপার!!
নেছারত দাদাকে আমরা ছোটরা দূর থেকে দেখতাম। জাহান্নামি মানুষ কেমন হয়, দেখার খুব শখ ছিলো কি না!!
সেই নেছারত দাদাই একদিন আমারে হুট করে ডাকলেন, এই সাদিক, এদিক আয়।
ভয়ে আতঙ্কে আমার প্রাণ উড়ে গেল। পা জমে গেল। আমি বিড়বিড় করে আয়াতুল কুরসি পড়ার চেষ্টা করি। পারি না। কেন জানি আয়াতুল কুরসি আমার মনে থাকে না কখনোই।
আমাকে থমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নেছারত দাদা আবার হাঁক দিলেন, কী রে? তোরে আসতে বললাম না?
আমি ধীর পায়ে এগোনো শুরু করলাম। কাছে গিয়ে দেখি উনার হাতে একটা দা। আমারে কেটে কুটে খেয়ে ফেলবে না তো আবার? জাহান্নামি মানুষ, খাইতেও পারে।
উনি ডেকে বললেন, ডাব খাবি? আমি মাথা নাড়ি। যদিও মনে মনে খেতে ইচ্ছে করছিলো, কিন্তু আম্মুর কড়া নির্দেশ, অন্য কেউ কিছু খাইতে দিলে শুরুতেই খাওয়া যাবে না। বেশি জোরাজুরি করলে তখন আবার নিতে হবে। তখন না নেওয়াটা বেয়াদবি।
নেছারত দাদা কোন জোরাজুরি করলেন না। ডাবটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, ঐ যে লোকটা দেখছিস, বসে আছে গাছের নিচে? ওরে যাইয়া ডাবটা দিয়া আয়। আমি যে দিয়েছি, বলবি না।
আমি ডাবটা বুকের সাথে আটকে ধরি। তারপর সেই লোকটার সামনে যাইয়া বলি, নেন, ডাব খান।
লোকটার পাশে একটা লাল রঙের ঝোলা। দেখে বুঝলাম, ফকির। উনি ডাবটা এক চুমুকে শেষ করলেন। তারপর আমার মাথায় হাত দিয়ে দুআ করলেন, আল্লাহ তাআলা রোজ হাশরের দিন তোমার পিপাসা দূর করুক বাবা!!
আমার লজ্জা লাগে। কারণ, ডাবটা আসলে দিয়েছে নেছারত দাদার। বাট জাহান্নামী মানুষের জন্য দুআ কোন কাজে লাগে নাকি? কে জানে!!
২.
এতোদিন আমি জানতাম, ঈদ সবার।
কিন্তু আজকে জানলাম, ঈদ শুধু রোজাদারদের।
মসজিদ কমিটির মিটিং। এই মিটিং থেকেই ঈদের জামাত কখন হবে, কটায় হবে ঠিক করা হয়। যদিও মিটিংটা বড়দের, বাট আমরা ছোটরাও বিপুল উৎসাহে সেই মিটিং এর আশেপাশে ঘুরাঘুরি করি। সাড়ে আটটায় নামাজের কথা উঠতেই মুয়াজ্জিন না না করে উঠলো। আহলে হাদিস হয়েও এতো পরে নামাজ পড়লে হানাফীদের সাথে আমাদের পার্থক্য থাকলো কী? তারচে চলেন, আমরাও হানাফী হয়ে যাই?
আমি তখন আহলে হাদিস হানাফি বুঝি না। শুধু বুঝি নামাজ যত দ্রুত শুরু হয়, ততই মঙ্গল। আমরা ছোটরা হঠাৎই কট্টর আহলে হাদিস হইয়া উঠি।
জব্বার দাদা প্রস্তাবটা রাখলেন। যারা যারা রোজা থাকেনি, তাদের ফিতরা আমরা নেবো না। তাদের সাথে এক ঈদগাহে নামাজও পড়বো না।
শুনে আমি আতকে উঠলাম। মনসুর দাদা পিঠে কিল মেরে অভয় দিলো, আরে গাধা, ছোটদের জন্য এই নিয়ম নাই।
পরে বুঝেছিলাম, নিয়মটা ছিলো নেছারত দাদার জন্য।
মাইকে ঘোষণা করা হলো, যারা যারা রোজা রাখে না, তাদের তাদের ঈদগাহে আসার দরকার নাই।
রোজা এই পাড়াতে একজনই রাখে নাই, সেইটা সবাই জানতো।
মাইকে ঘোষণা শোনার পর মুরব্বিদের মুখে আমি চাপা আনন্দ দেখি। জাহান্নামী লোকজনের সাথে না মিশতে হলে সেটা আনন্দের ব্যপারই বটে। তবে আমার কেন জানি মন খারাপ হয়ে যায়। চোখ বন্ধ করলেই শুনি, এই সাদিক, ডাব খাবি?
৩.
আমাদের মসজিদের ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো খুব ঢাক ঢোল পিটিয়ে।
আবার ইমাম বিদায় করেও দেওয়া হলো ঢাক ঢোল পিটিয়েই।
সালিশ ডেকে রীতিমত অপমান করে ইমাম সাহেবকে বের করে দেওয়া হলো। তার অপরাধ ছিলো, তিনি ফারুক মামার বিরুদ্ধে গীবত করেছেন। অপবাদ দিয়েছেন। ফারুক মামা নজরুল নানার ছেলে। ক্ষমতাবান মানুষ। তার বিরুদ্ধে ইমাম সাহেব কোন অপবাদ দিয়েছিলেন, আমি তখনও বুঝিনি।
তবে কানাঘুষা শুনে যতটুকু বুঝেছিলাম, ফারুক মামাকে নাকি আজাদ কাকার বৌ এর ঘর থেকে রাতের বেলা বের হতে দেখা গেছে। ইমাম সাহেব ঐটা দেখে ফেলেছিলেন।
আম্মুদের ফিসফিস করে এটা নিয়ে কথা বলতে শুনতাম। কিন্তু আমরা ছোটরা গেলেই তারা এই বিষয়ে কথা অফ করে দিতো। কাজেই, বিস্তারিত তেমন কিছু জানি না।
তবে সালিশটা প্রকাশ্যেই হয়েছিলো। স্পষ্ট মনে আছে, ইমাম সাহেব নজরুল নানার পা জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। চাকরি বাঁচানোর জন্য। বয়স্ক একটা মানুষের এমন হাউমাউ কান্নার দৃশ্য দেখে পাথর গলে, তবে নজরুল নানার হৃদয় গললো না।
ইমাম সাহেব গাটকি বোচকা নিয়ে বাইরের বরই গাছের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। নজরুল নানার উপর কথা বলার কেউ ছিলো না।
তবে কথা না শোনার মতো একজনও ছিলো।
নেছারত দাদা সন্ধ্যার ঠিক আগে ইমাম সাহেবকে তার বাসায় নিয়ে গেলেন। এরপর মাস দুয়েক ইমাম সাহেব তার বাড়িতেই ছিলো।
অবশ্য জাহান্নামী মানুষের বাসায় থাকা যাবে কি না, এটা নিয়ে ইমাম সাহেবকে আমি কোনদিন কিছু বলতে শুনিনি।
৪.
আমার নিজের দাদাকে আমি কোনদিন চোখের দেখা দেখিনি।
দাদার স্মৃতি বলতে আমার কাছে ছিলো ঝোপঝাড় ওয়ালা একটা কবর। ছোটবেলা থেকেই গোরস্থান আমি ভয় পাই খুব। খালি, দাদার কবর চেনার পর থেকে আর ভয় লাগে না। মনে হয়, এখানে তো আমার দাদা আছে, আমারে কে কী করবে?
ঈদের খুতবায় নতুন হুজুর বললেন, জান্নাতি মানুষের কবরে অদ্ভুত সুন্দর সাদা রঙের একটা ফুল ফোটে।
নামাজ শেষে আব্বুর সাথে দাদার কবর জিয়ারতের সময় আতিপাতি করে খুঁজেও আমি সাদা ফুল দেখতে পাই নাই। তবে কি আমার দাদার জান্নাত নসিব হয় নাই? আমি আব্বুর দেখাদেখি বিড়বিড় করি, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বানি ইয়ানি সাগিরা....
৫.
ঈদের দিন সবার বাড়িতে হয় আনন্দ।
আর নেছারত দাদার বাড়ি থেকে ভেসে আসে চিৎকার, চেচামেচি।
বুবু মুখ চেপে হাসে। বড় আব্বার কন্ঠে ভালো মানুষের অহংকার, রহমত জিনিসটা আল্লাহ সবার ঘরে দেন না। আল্লাহর সাথে নাফরমানির ফল ভালো হয় না।
আমার বড় আপুর কথা মনে পড়ে। বিয়ের সময় বড় আব্বা জামাইকে বাইক ফ্রিজ উপহার দেওয়ার পরেও বড় আপু এখন আমাদের সাথে থাকে। তিনিও কি নাফরমান? আমি জানি না। শুধু জানি, আপুর মতো সুইট মানুষ আমি এই পৃথিবীতে আর একটাও দেখিনি।
ঝগড়া গন্ডগোল দেখা সবসময়ই আনন্দের।
ঈদের দিন সেই আনন্দ বেড়ে গেল বহুগুণ। আমরা অধীর আগ্রহ নিয়ে নেছারত দাদার ঘরের ভাঙচুর দেখতে লাগলাম।
কাহিনী আর কিছু না। দাদা কোথা থেকে জানি তিনটা সাঁওতাল ছেলে মেয়েকে ঈদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছে। সেই দেখে দাদি চিৎকার চেচামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলেছে। সাঁওতাল মেয়েটা কাচুমাচু হয়ে এক কোণায় বসে আছে।
দাদা শেষপর্যন্ত চাল ডাল মাংস নিয়ে নিজেই রান্না শুরু করলেন। ওদের না নিয়ে উনি খাবেন না।
পুরো গ্রামে সাড়া পড়ে গেল। নজরুল নানা বললেন, যার সাথে যার উঠাবসা, তার সাথেই তার হাশর নাশর হবে।
৬.
মামুন ভাই মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর আমরা অবাক হইনি।
আমাদের স্কুলে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পেলে তার নাম একটা বোর্ডে লিখে রাখা হয়।
মামুন ভাইয়ের নাম ওখানে সবার উপরে লেখা ছিলো। হেডস্যারের রুমে গেলে আমরা ঐ নামের দিকে হিংসার চোখে তাকাইয়া থাকতাম।
সেই মামুন ভাইয়ের ভর্তির টাকা জোগাড় হলো না। নজরুল নানা বললেন, ইচ্ছা করলে টাকা দিতেই পারি। তবে কতদিন? ভর্তির পরেও মেডিকেল পড়ার অনেক খরচ আছে। তোমার ছেলেকে বরং অনার্স পড়াও।
গ্রামের মানুষও আর সামনে আগালো না। নজরুল নানা গ্রামের মাতবর। তার উপর কথা বলার সাহস কারো ছিলো না।
তবে শেষপর্যন্ত মামুন ভাই মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। কীভাবে হয়েছিলেন, টাকা কোথায় পেয়েছিলেন, কেউ জানে না।
শুধু মেডিকেল ভর্তি হওয়ার ঠিক পরদিন নেছারত দাদার তিন বিঘার আম বাগানটা নজরুল নানার হয়ে গেল।
নেছারত দাদার শেষ সম্বল বিক্রি হয়ে যাওয়াতে সবাই হাহা করতে লাগলো।
বড় আব্বা বললেন, বরকত। আল্লাহ তাআলা নজরুলের নসিবে বরকত রেখেছে। নেছারতের নসিবে রাখেনি। নামাজ কালাম না পড়া মানুষের বরকত থাকবে কী করে?
যদিও শেষপর্যন্ত নেছারত দাদা নামাজ পড়েছিলেন।
৭.
সেবার রমজানে আমি ফুল মাস রোজা রাখা শুরু করি।
তবে তারচেয়েও অবাক করা ব্যাপার, নেছারত দাদা মসজিদে নামাজ পড়া শুরু করে।
একেকজন অবশ্য একেক কথা বলতো। বয়স হয়েছে, এখন মানুষের যাকাতের টাকার জন্য মসজিদে আসছে, এমন কথাও শুনেছিলাম।
কেউ কুরআন পড়লে পাশে গিয়ে বসতেন। শুনতেন। এইটাও যাকাত খাওয়ার জন্য করেছিলেন কি না, আমি জানি না।
তবে একদিন নামাজ পড়তে পড়তে হুট করে উনি মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। জ্ঞান ফেরার পর মসজিদ ছাড়লেন না। বাকি নামাজটা পড়লেন চেয়ারে।
তবে এরপর উনাকে আমরা আর মসজিদে দেখিনি। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে গেলেন ।
৮.
রমজানের শেষদিকে এসে রোজা ২৯ টা হবে নাকি ৩০ টা, সেই তর্ক চরমে উঠলো।
সবার জোর ধারণা, রোজা এবার ২৯ টাই হবে। আগের তিন বছর টানা ৩০ টা হয়েছে।
আম্মুরা মশলা বাটা, সেমাই বানানো শুরু করলো।
মশলা শুধু হলো না নেছারত দাদার বাড়িতে। দাদা বললেন, রমজান ২৯ না, ৩০ টাই হবে। আমাকে না নিয়ে এই রমজান যাবে না। তোমারা আমাকে শাওয়ালের চাঁদ উঠার আগেই মাটি দিও।
আব্বু বললেন, সব বুজরুকি।
নজরুল নানা বললেন, দুইদিন নামাজ পড়েই নেছারত এখন পীর হতে চায়!!
৯.
বড় নানাদের ছাদ আতিপাতি করে খুঁজেও আমরা কোন চাঁদ পেলাম না।
পরদিন বিকেলে নেছারত দাদা মারা গেলেন।
তিনটার দিকে হইচই শুনে আমরা উনাদের বাসায় দৌড় দিলাম। আমাদের চোখের সামনে লা ইলাহা পড়তে পড়তে দাদা মারা গেলেন।
মাটি দেওয়ার তোরজোর শুরু হলো। এতোদিন উনার কথা কেউ না শুনলেও আজ শুনলো। মরা মানুষের কথার দাম এখানে জীবিত মানুষের চে বেশি।
দাদাকে মাটি দিয়ে এসে আমরা ইফতার করলাম।
১০.
অন্য সময় হলে, রমজানে কেউ মারা গেলে তার সম্মানে ইমাম সাহেব কথা বলতেন। কালিমা পড়তে পড়তে কেউ মারা গেলেও সবাই তাকে হিংসা করতো।
তবে নেছারত দাদার বেলায় সেটা হলো না।
বরং মানুষ আফসোসই করে গেল। নাফরমানির সারাজীবন কি আর ১৫ দিনের নামাজ আর কালিমা দিয়ে শোধ করা যায়?
নজরুল নানা বললেন, কালিমা তো মুনাফিকরাও পড়তো। আমলটাই বড় কথা।
নেছারত দাদার জন্য আমাদের মসজিদে কখনওই কোন দুআ হয় নাই কোনদিন।
১১.
ঈদের নামাজে আমার কাছে সবচে মজা লাগতো তাকবীর।
নামাজে আমার মন থাকতো কম। আমি মনের আনন্দে তাকবীর গুনতাম। আরো বেশি তাকবীর কেন হলো না, নামাজ শেষে সেইটা নিয়ে খুব দুঃখ হতো।।
কোলাকুলির পর্ব সেরে আব্বুর হাত ধরে গোরস্থানে গেলাম।
আব্বু সূরা ফাতিহা, ইখলাস আর দরুদ শরিফ পড়তে লাগলো। আরো অনেক মানুষ জোরে জোরে দুআ পড়ছে, গোটা গোরস্থান পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায় ।
আমি মোনাজাত ধরি।
আব্বুর চোখে পানি। মুখে পড়ে, রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা....
আমি দাদার কবরের দিকে তাকাই। ঝোপ জঙ্গলে অন্ধকার হয়ে আছে। ভেতরটা ভালো করে দেখা যায় না। তবুও আপন আপন লাগে। ওখানেই তো শুয়ে আছে আমার দাদা।
ডানে নেছারত দাদার কবরটা তখনও বাধাই করা হয়নি। বেড়া দেওয়াও হয়নি। সারা রাতের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে উপরের লাল মাটি। সমতল বানিয়ে ফেলেছে কবরের উপরেরটাকে।
সেই সবুজ সমতলে ফুটে আছে অদ্ভুত সুন্দর একটা সাদা রঙের ফুল।
🤍
19/08/2023
রাত ১টার সময় রাফি ওর গার্লফ্রেন্ড আনিকার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে বললো,
-- বাবু, তোমার একটা ন্যূ'ড ভিডিও দাও না!
রাফির কথা শুনে আনিকা কিছুক্ষণ নীরব থেকে তারপর বললো,
-তুমি আবার এই জিনিস নিয়ে কথা বলা শুরু করলে? এই জন্যই আমি তোমার সাথে রাতে কথা বলতে চাই না। তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি এই ধরনের কাজে অভ্যস্থ না। তবুও কেন তুমি বার বার জোর করো?
আনিকার কথা শুনে রাফি কিছুটা রাগ দেখিয়ে বললো,
-- আমার বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড ওর সাথে প্রতি সপ্তাহে রুমডেট করে । আমি কি তোমকে কখনো বলেছি আমার সাথে রুম ডেট করো? শুধু একটা ন্যূ'ড ভিডিও চেয়েছি এতেই তোমার এত আপত্তি?
আনিকা এই মুহূর্তে কী করবে ঠিক বুঝতে পারছে না। কারণ আনিকা প্রচন্ডরকমভাবে ভালোবাসে রাফিকে।
আনিকাকে চুপ থাকতে দেখে রাফি বললো,
-- সত্যি করে বলো তো, তুমি কি আমায় বিশ্বাস করো না?
আনিকা নিচু গলায় বললো,
- করি। খুব বিশ্বাস করি।
রাফি এইবার বার বার রিকুয়েস্ট করতে করতে বললো,
--তাহলে প্লিজ একটু ভিডিও করে দাও। প্রমিস, আমি একবার দেখেই ডিলিট করে দিবো।
রাফির এত রিকুয়েস্ট করা দেখে আনিকা বললো,
-ঠিক আছে দিবো। কিন্তু আমি তো এখন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। রুমে লাইন অন করে ভিডিও করলে আম্মু জেগে যাবে।
রাফি তখন বললো,
-- তুমি তাহলে ওয়াসরুমে গিয়ে ভিডিও করে দাও।
আনিকা অবাক হয়ে বললো,
- ওয়াশরুমে মোবাইল নিয়ে যাবো যদি কেউ দেখে ফেলে!
-- দেখে ফেললে বলবে ভুলে নিয়ে চলে গিয়েছো। নয়তো কিছু একটা মিথ্যা বলে কাটিয়ে দিবে..
২০ মিনিট পর রাফির ইনবক্সে আনিকার ৩মিনিটের একটা ভিডিও আসে। ভিডিও ওপেন করতেই আনিকার ন'গ্ন শরীরটা রাফির চোখের সামনে ভেসে উঠে। অনিকার স্পর্শ কাতর অ'ঙ্গ গুলো দেখার পর রাফি ফোনটা রেখে যখন ওয়াশরুমের সামনে গেলো তখন দেখলো ওর ছোটবোন মোবাইল হাতে নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছে। রাফিকে দেখে ওর বোন চমকে গেলো তারপর নিজ থেকেই আমতা আমতা করে বললো,
~" আসলে ভাইয়া আমি ভুল করে মোবাইল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গিয়েছিলাম! "
রাফি ওর ছোট বোনকে কিছু না বলে চুপচাপ নিজের রুমে চলে আসলো। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয়েছে। হঠাৎ সে শুনতে পেলো কেউ একজন ওর কানে কানে বলছে,
" কি! ভয় লাগছে না কি? তুমি অন্য জনের বোনকে যেটা শিখিয়ে দিয়েছো তেমনি তোমার বোনকেও অন্যজন এই জিনিসটাই শিখিয়ে দিয়েছে। অন্যের বোনের ন'গ্ন শরীর দেখে তুমি যেমন তৃপ্তি পাচ্ছো; তেমনি অন্য কেউ তোমার বোনের ন'গ্ন শরীর দেখে ঠিক সেভাবেই তৃপ্তি নিচ্ছে। মনে রেখো, আমাদের জীবনটা একটা গোলাকার বৃত্তের মত। তুমি যেখান থেকে শুরু করবে ঠিক সেখানে এসেই শেষ হবে। "
ইসলামে বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে সবধরনের প্রেম ভালোবাসা হারাম এবং জিনার অন্তর্ভুক্ত ।
আল্লাহ বলেন,
وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ
"তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।"(সূরা শুরা: ৩০)
আমার আড়াই বছরের ছোট্ট মেয়েটা বারান্দার গাছের পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে তার খেলনার হাঁড়িপাতিলে রান্না করছে l একটু পর ভ্রু কুঁচকে আমার কাছে দৌড়ে চলে এসে জিঞ্জেস করলো - ' আব্বু তা ( চা ) কাবা ( খাবা ) ? '
চা খাবার বদ অভ্যেসটা আমার বেশ পুরনো ! আমি ওর খেলনার বাটিতে চুমুক দিয়ে খুব তৃপ্তির সাথে ওর দিকে তাকিয়ে বল্লাম - ' খুব ভালো হয়েছে মা l '
- ' আর এককাপ কাবা ( খাবা ) ? '
আমি বল্লাম - ' না মা ! বাবা পড়াশোনা করছি l '
- ' তাইলে নিডো কাও ( খাও ) ! ছক্তি ( শক্তি ) হবে ! '
আমি চশমার ফাঁক দিয়ে ওর দিকে তাকালাম ......... আমাকে নিয়ে এমন চিন্তিত চেহারায় আমার গর্ভধারিণী মায়ের পরে আর কখনো কাওকে দেখেছি বলে মনে পড়েনা ! হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নিলাম l ঘাড়ে মাথা দিয়ে ও চুপ করে শুয়ে আছে , ওর মাথার ঘ্রাণ টা আমার চোখে পানি এনে দিচ্ছে ........ !
আহা মা ! আহা বন্ধন !
মাঝে মাঝেই আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে l সব কণ্যার বাবাই হয়তো আমার মতো আবেগে চোখ লুকিয়ে কাঁদেন l
আমার বিয়ের সময় বিদায়বেলায় আমার শ্বশুর তাঁর মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছিলেন , আমার হাত চেপে বলেছিলেন - ' মেয়েটা আমার বড্ডো আদরের , ও কোনো ভুল করলে আমাকে বলবে বাবা , বকাঝকা করো না l ' আমিও তেজী ঘোড়ার মতো কেশর ওয়ালা পাগড়ি নাচিয়ে সুবোধ বালকের মতোই বলেছিলাম - ' ইনশাআল্লাহ বাবা ! '
আমি ওয়াদা রাখিনি ........ সাংসার জীবনের চক্রবাঁকে আরেকজনের কণ্যাকে কাঁদাই , হয়তো বকাঝকাও করি , পুরুষত্বের বাহাদুরী ফলাই !
আমার স্ত্রী আজ আমার সংসার নিয়েই চিন্তিত l
তার বাবার বৃত্তের বাইরে সে আজ তৈরি করেছে আলাদা বৃত্ত বলয় ! এই বৃত্তের কেন্দ্রে শুধুই আমাদের সন্তান আর বদমেজাজি আমি l
কতোটুকু sacrifice একজন নারী করে তার সংসারের জন্য ......... !
আমার ছোট্ট মেয়েটাও একদিন হয়তো আমাকে হাউমাউ করে কাঁদিয়ে আরেক বৃত্তে চলে যাবে ! আমাকেও হয়তো আরেক যুবকের হাত ধরেই সেই একই কথার পুণরাবৃত্তিই করতে হবে !
আমি চাইনা আমার ব্যর্থতা আমার কণ্যাসন্তানকে স্পর্শ করুক ! আমি ক্ষমাপ্রার্থী আর অনুতপ্ত ওয়াদা রাখতে না পারার জন্য l
কণ্যার পিতা হওয়া অনেক কষ্টের .........., কতোটুকু কষ্টের সেটা কণ্যাসন্তানের পিতা হবার পূর্বে অনুভূত হয়না !
আমার চোখের কোণায় পানি গাঢ় হচ্ছে........
আমার ছোট্ট মেয়েটা খুবই অস্হির হয়ে উঠেছে , ভ্রু কুঁচকে পড়ার চেষ্টা করছে এক অপরাধীর জবানবন্দি l ওর চোখেও পানি !
কি জানি ! মেয়েরাই হয়তো বাবার অনুভূতি পড়তে পারে , আল্লাহ সুবাহানাল্লাহ তায়ালা মেয়েদেরকে বাবার অনুভূতি পড়তে পারার এক অদ্ভুত শক্তি দিয়েই পৃথিবীতে পাঠান ll
একজন বাবা তার সন্তানের কাছে কেমন, তা নির্ভর করে তিনি স্বামী হিসেবে তার স্ত্রীর সাথে কেমন আচরন করছেন তার উপর।
সন্তানেরা মায়ের চোখ দিয়েই বাবাকে দেখে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে শ্রদ্ধা করলে, ভালবাসলে... সন্তানেরাও বাবাকে ভালবাসতে শেখে, শ্রদ্ধা করে। একজন স্ত্রী তার স্বামীকে ঘৃণা করলে, সন্তানেরাও তাদের বাবাকে আজীবন ঘৃণার চোখে দেখে।
একজন বাবার মুল্যায়ন নিজের কাজ দিয়ে হয় না। বরং, মা কিভাবে বাবাকে সন্তানদের সামনে উপস্থাপন করছেন তার আলোকেই নির্ধারিত হয়। সন্তানেরা মায়ের চোখ দিয়েই বুঝে নেয়, বাবা কি হিরো নাকি ভিলেন।
তাই, একজন ভাল বাবা হওয়ার আগে, একজন ভাল স্বামী হওয়া খুব জরুরী।
-ডা.আসিফ সৈকত
16/12/2022
Nothing is permanent.
প্রথমবার কারও জন্য ম'রণ কাঁদা কেঁদেছিলাম। সে যখন সম্পর্কটার ইতি টেনে দিলো,সেই দিন বুঝেছিলাম প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানুষ কেনো আ'ত্ম'হ'ত্যা করতে চায়!
মানুষ কিভাবে এমন নিষ্পা'প অসহায়ত্ব আর্তনাদ দেখেও এড়িয়ে যেতে পারে, তা আমার জানা নাই।
এখন আর কাঁদি না! কিন্তু তাঁর কথা মনে হলে চোখ থেকে জল বের হতে সময় লাগে না। জানিনা কেনো,, আজও এতো মায়া হয় তার জন্য। স্মৃতিগুলো মনে হলে ভেতরটা জ্বলে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
মাঝে মধ্যে তারে স্বপ্নে দেখে, ঘুম থেকে জেগে উঠি। মাস যায়,বছর যায়, কত মানুষ আসে যায়, তারে ভুলতে পারি না। সময় যায়, পরিস্থিতিও বদলায় তবুও আমি তারে ভুলতে পারি না।
কত রাত জেগে সৃষ্টিকর্তারে বলতাম, একবার তাঁর মনটা আমার দিকে ফিরাইয়া দাও!!
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে,, আকাশের দিকে কত তাকিয়ে থেকেছি, যন্ত্রণার জীবনের অবসান চেয়েছি!!
তবুও "সে" আমার জীবনের অপূর্ণতা হয়েই থেকে গেলো..!!
"ডোপামিন ডিটক্স" বাংলা অডিওবুক
বিক্ষিপ্ত মনকে প্রশিক্ষিত করে কঠিন কাজকে বশে আনার সহজ কৌশল
17/11/2022
অবশেষে প্রতীক্ষার প্রহর ফুরিয়ে আসতে যাচ্ছে "Dopamine Detox" বইটির বাংলা অডিওবুক।
আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় অডিওবুক হিসেবে আপলোড করা হবে। একইসাথে পাওয়া যাবে ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে।
ইউটিউব চ্যানেল লিংকঃ https://youtube.com/
ঘটনা-১
দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের পর,
রাহার পরিবার জানতে পারে একটা অযোগ্য ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আছে সে।
খোঁজ নিয়ে দেখে ছেলেটি রাহারই সমবয়সী।
একমাত্র আদরের মেয়েকে একটা কম বয়সী, অযোগ্য ছেলের সাথে বিয়ে দিতে স্বভাবতই কোন বাবা-মা ই চাইবে না।
তাই সম্পর্কটা মেনে নেয় নি তারা।
এবং অন্য একজনের সাথে রাহার বিয়ে ঠিক করে ফেলে।
রাহা বিয়েতে অমত পোষণ করলে
বাবা-মা তাকে নানা রকম ইমোশনাল ব্লেকমেইল করতে থাকে।
বাবা মায়ের কথা রাখার জন্য রাহা তখন না পারে অপরিচিত মানুষটিকে আপন করে নিতে,
না পারে তার প্রিয় মানুষটিকে ভুলে যেতে।
আবার দু'জন এক সাথে দূরে কোথাও চলে যাবে তারও কোন সুযোগ নেই।
কারণ বাবা বলে রেখেছে,
এমনটা করলে তার মরা মুখ দেখতে হবে।
স্বভাবতই কোন মেয়েই এমনটা চাইবে না।
বিয়েতে রাহার শত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছুই বলতে পারছে না সে।
এদিকে একজন আরেকজনকে ছেড়ে থাকা কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না তাদের পক্ষে।
তাই দু'জনই একসাথে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
কারণ দুজন দু'জনকে ভীষণ ভালোবাসে।
ঘটনা-২
অচেনা একটা মানুষের সাথে ঘর বাঁধার আশায়,
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বছর খানেক পর
মেয়েটি তার স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পারে!
শত অনুনয় বিনয় করে স্বামীকে ভালো করার চেষ্টা করে যায় সে।
কিন্তু ভালো হওয়ার বদলে দিনের পর দিন অবাধ্য স্বামীর বেড়ে যায় অবহেলা।
ঠিক আগের মতো করে তাকে আর পাওয়া যায় না।
বেড়ে যায় তার অগণিত অত্যাচার!
মেয়েটি তখন মুখ বুঝে সহ্য করে নেয় তার প্রিয় মানুষটির শত অবহেলা,শত অত্যাচার।
স্বামীকে একান্তই নিজের করে কাছে না পাওয়ায় হৃদয়ে বাড়ে কষ্টের হাহাকার!
পরিবার তখন ডিভোর্স দেওয়ার কথা বললেও
সে ডিভোর্স দিতে পারে না,ভয় পায়।
প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ফেলার ভয়।
কারণ এত দিন একই ছাদের নিচে থাকতে থাকতে এই অবাধ্য মানুষটাকে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছে সে!
যদি শত কষ্ট ও হয় তবুও মানুষটাকে ছেড়ে থাকা তার পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
★দিনশেষে মানুষ একটা জিনিসেই ঠেকে যায়,
সেটা হলো ভালোবাসা।
চার অক্ষরের এই ভালোবাসার কাছে
মানুষ বড়ই অসহায়।
ভালোবাসার অসহায়ত্ব
~সানজিদা রহমান আইরিন~
রাত বারোটায় বাস।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে গল্প করার পর হঠাৎ মেয়েটি বলল, "বিশ্বাস করেন, আমি বেঁচে থাকলে আপনার প্রেমে পড়ে যেতাম।" :)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Address
Dhaka