Tablig Update24
Only news Update of Deen Islam & It's Afford Tablig
16/01/2026
আমরা মুসলিম উম্মাহ দুনিয়ার চাকচিক্যে বিভোর হয়ে আছি অথচ ইহুদী নাসারারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লাগাতার করেই যাচ্ছে আর আমরা বেখবর! দ্বীনি বিষয়ে আমাদের গাফিলতির এই জায়নামাজ টা একটা ছোট্ট প্রমাণ। নকশার ভিতরে খ্রিস্টান ক্রোসের চিহ্ন! মুসলমানদের সাধারণ হওয়া চাই 🫵__বি.বাহার
05/09/2025
মওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. ও শামস তাবরীযী রহ.
এক রাত মওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহ. তাঁর উস্তাদ হযরত শামসুদ্দীন তাবরীযী রহ.-কে ঘরে দাওয়াত দিলেন।
শামস রহ. চলে এলেন। খাবারের সব আয়োজন সম্পন্ন হলে শামস রহ. রুমী রহ.-কে বললেন:
“তুমি কি আমাকে পান করার জন্য মদ এনে দিতে পারো?”
এ কথা শুনে রুমী রহ. বিস্মিত হয়ে গেলেন:
“কি! উস্তাদও কি মদ পান করেন?”
শামস রহ. বললেন: “হ্যাঁ, অবশ্যই।”
রুমী রহ. عرض করলেন: “আমাকে ক্ষমা করুন, আমি এ কথা জানতাম না।”
শামস রহ. বললেন: “এখন তো জেনে গেছো, তাহলে মদ নিয়ে এসো।”
রুমী রহ. বললেন: “এখন রাত গভীর, কোথা থেকে আনব?”
শামস রহ. বললেন: “তোমার কোনো খেদমতগারকে পাঠিয়ে দাও।”
রুমী রহ. বললেন: “আমার নওকরের সামনে আমার মান-সম্মান শেষ হয়ে যাবে।”
শামস রহ. বললেন: “তাহলে তুমি নিজেই গিয়ে নিয়ে এসো।”
রুমী রহ. চিন্তিত হলেন: “পুরো শহর আমাকে চেনে, আমি কিভাবে গিয়ে মদ কিনব?”
শামস রহ. বললেন:
“যদি সত্যিই তুমি আমার শাগরেদ হও, তবে আমার কথামতোই করবে। নতুবা আজ আমি না খাব, না কথা বলব, না ঘুমাব।”
গুরুর প্রেম ও আনুগত্যে রুমী রহ. চাদর জড়ালেন, বোতল লুকালেন এবং খ্রিস্টান পাড়ার দিকে রওনা হলেন।
যতক্ষণ তিনি পথে ছিলেন, কাউকে সন্দেহ হলো না। কিন্তু খ্রিস্টান পাড়ায় ঢুকতেই মানুষ বিস্মিত হলো এবং তাঁর পিছু নিল।
সবাই দেখল যে রুমী রহ. মদের দোকানে ঢুকে একটি বোতল কিনলেন এবং চাদরের নিচে লুকালেন। তিনি বের হতেই আরও বেশি লোক তাঁর পেছনে পেছনে চলল এবং মসজিদ পর্যন্ত এসে পৌঁছল।
মসজিদের দরজায় একজন চিৎকার করে উঠল:
“হে লোকজন! তোমাদের ইমাম, শেখ জালালুদ্দীন রুমী রহ. খ্রিস্টান পাড়া থেকে মদ কিনে ফিরছেন!”
এ কথা বলে সে রুমীর চাদর সরিয়ে দিল এবং বোতল সবার সামনে বেরিয়ে এল।
ভিড় রাগে ফেটে পড়ল। তারা রুমী রহ.-এর মুখে থুতু মারল, তাঁকে প্রহার করল, এমনকি তাঁর পাগড়িও খুলে গেল।
রুমী রহ. নীরব রইলেন, নিজের পক্ষে কোনো সাফাই দিলেন না।
মানুষ আরও নিশ্চিত হলো যে তাঁরা প্রতারিত হয়েছেন। কেউ কেউ তাঁকে হত্যারও ইচ্ছা করল।
ঠিক তখনই শামস তাবরীযী রহ.-এর আওয়াজ ভেসে এল:
“হে নির্লজ্জ লোকজন! তোমরা এক আলেম ও ফকীহ-এর উপর মদ্যপানের অপবাদ চাপিয়েছো। জেনে রাখো, এই বোতলে মদ নয়, বরং ভিনেগার (সিরকা) আছে!”
একজন বলল: “আমি নিজের চোখে দেখেছি তিনি মদের দোকান থেকে বোতল এনেছেন।”
শামস রহ. বোতল খুললেন এবং কয়েক ফোঁটা লোকদের হাতে দিলেন যাতে তারা শুঁকতে পারে। সবাই বিস্মিত হয়ে গেল যে সত্যিই এটি তো ভিনেগার!
আসলে শামস রহ. আগেই মদের দোকানে গিয়েছিলেন এবং দোকানদারকে বলে রেখেছিলেন—যদি রুমী রহ. বোতল নিতে আসেন তবে তাঁকে মদের পরিবর্তে ভিনেগার দেওয়া হবে।
এখন লোকেরা নিজেদের কপাল চাপড়াতে লাগল এবং লজ্জায় রুমী রহ.-এর পায়ে পড়ে গেল। সবাই ক্ষমা চাইল এবং তাঁর হাত চুমল, তারপর আস্তে আস্তে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল।
রুমী রহ. শামস রহ.-কে عرض করলেন:
“আজ আপনি আমাকে কত বড় পরীক্ষায় ফেললেন, এমনকি আমার মান-সম্মান ও মর্যাদা আমার মুরিদদের সামনে মাটিতে মিশে গেল। এর মানে কী?”
শামস রহ. বললেন:
“যাতে তুমি বুঝতে পারো যে মানুষের দেওয়া সম্মান ও খ্যাতি আসলে এক ভ্রম।
তুমি কি ভেবেছিলে মানুষের এই সম্মান চিরকাল টিকে থাকবে?
তুমি তো নিজেই দেখলে, একটি বোতলের সন্দেহেই তারা তোমার শত্রুতে পরিণত হলো, তোমার উপর থুতু মারল, প্রহার করল, এমনকি প্রায় তোমার জান নিতেই উদ্যত হলো।
এটাই সেই সম্মান যার উপর তুমি গর্ব করছিলে, যা এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল!
আজ থেকে মানুষের সম্মানের উপর নির্ভর করবে না। আসল সম্মান কেবল আল্লাহর কাছে, যা কখনো সময়ের সাথে বদলায় না, মুছে যায় না।
তিনিই ভালো জানেন কে আসলেই মর্যাদাশালী আর কে মিথ্যা সম্মানের লোভী।
অতএব, ভবিষ্যতে তোমার দৃষ্টি কেবল আল্লাহর উপর রাখবে।”
এই ঘটনাটি আমাদের আসলে এই শিক্ষা দেয় যে দুনিয়ার সম্মান ও মানুষের দৃষ্টি মুহূর্তে পাল্টে যায়। আসল সম্মান হল, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়।
20/04/2025
বারান্দায় কাপড় শুকোতে দেয়া আমাদের মা-বোনদের নিত্যদিনের অভ্যাস। বিশেষত শহুরে ফ্ল্যাটে বারান্দা ছাড়া উপায়ও নেই যেন। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকেই মস্তবড় ভুলটি করে বসেন। শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় তারা বারান্দায় কাপড় শুকোতে দিয়ে রাখেন, এমনকি পরিধেয় বিশেষ পোশাকটিও তারা বারান্দায় উন্মুক্তভাবে রোদে দেন। এতে কিছু সমস্যা হতে পারে।
যেমন আশেপাশের ফ্ল্যাট থেকে এসব কাপড়ের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দেয়া হয়। এরপর এটা সীমা ছাড়িয়ে ইভটিজিংয়ে পরিণত হয়। ইভটিজিং না হলেও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিরা এসব কাপড় দেখেই অনেক মাপজোখ করে ফেলে। এরপর থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে বারবার উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে।
এ জন্য উত্তম হলো, বারান্দায় বড় কাপড় দিয়ে পর্দা লাগিয়ে দেয়া। কমপক্ষে গাঢ় কালারের নেট-জাতীয় পর্দা হলেও লাগিয়ে নেয়া যেতে পারে। এরপর বারান্দায় কাপড় শুকানো। অথবা বারান্দায় দুই স্তর করে রশি লাগানো। সামনের দিকে পুরুষদের কাপড় দিয়ে ভেতরের দিকে মহিলাদের কাপড় শুকাতে দেয়া। এতে করে বাইরে থেকে শুধু পুরুষদের কাপড়গুলোই দেখা যাবে।
কাপড় শুকানোর পর রশিতে তা ফেলে না রাখা। অনেকেই একদিন গোসল করে কাপড় শুকাতে দেয়ার পর পরদিন গোসলের সময় রশি থেকে কাপড় আনতে যান। আবার কেউ কেউ ছাদেও সারারাত ধরে কাপড় ফেলে রাখেন। এতেও বদজিনের আছর পড়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
এ ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাপড় পরার সময় সব সময় বিসমিল্লাহ বলে পরা। পোশাক-আশাক খোলা ও পরিধানের সময় দুআ পড়া। এবং নিরাপত্তার দুআসমূহের ওপর আমল করা।
বই : পর্দা গাইডলাইন
লেখক : মাওলানা তানজীল আরেফীন আদনান
উমেদ প্রকাশ থেকে প্রকাশিত
30/03/2025
ঈদ নিয়ে মিশর-সৌদি আরবের মাঝে আবারো ঝামেলা বেঁধে গেলো। মাঝে সরু Red Sea/লোহিত সাগর রেখে প্রায় পাশাপাশি দুইটি দেশ, সৌদী আরব আর মিশর। এক ঘন্টার সময়ের পার্থক্য মাত্র।
সৌদি আরব চাঁদ দেখার ঘোষণা করেছে। আগামীকাল রবিবার ঈদ। কিন্তু মিশর ঘোষণা করছে, চাঁদ দেখা যায়নি, আগামী সোমবার ঈদ।
পাশাপাশি দুইটি দেশের ক্ষেত্রে এটা প্রায় অসম্ভব যে, এক দেশ চাঁদ দেখবে, আরেক দেশ দেখবে না।
নোট: গত 2019 সালে সেইম ঝামেলা বেঁধেছিলো। পুরো মুসলিম বিশ্ব সৌদিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলো যে, কোনো ভাবেই সৌদির আকাশে চাঁদ দেখা সম্ভব না।কিন্তু সৌদী আরব ঈদ ঘোষণা করেছিলো। আধুনিক মহাকাশের জ্যোতির্বিজ্ঞান, শক্তিশালী Telescope এ Moon Visibility 0% ছিলো।
পরবর্তীতে সৌদি আরব 160 কোটি রিয়াল কাফফারা আদায় করেছিলো।
আজকেও কোনো ভাবে সৌদি আরবের চাঁদ দেখা সম্ভব না। আমার ক্ষুদ্র অনুসন্ধানে বাকি সব ডকুমেন্টস কমেন্ট বক্সে।
কাফফারার তথ্য:
(https://www.jagonews24.com/m/religion/news/506088?fbclid=IwY2xjawJVLmBleHRuA2FlbQIxMQABHdOo6AgiaQGxegAIWRyXca40HV0fR37sucln44EJdCvVEAOCHuX1D5Gfqw_aem_GmDqx_8ivAxII85FlcFYjw)
Inside the Haramain
دار الإفتاء المصرية
তাবলীগ নিয়ে তা?লিবান প্রজ্ঞাপনের নৈপথ্য কাহিনী এবং এতাআতীদের মিথ্যাচার
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম
আ?ফগা?নিস্তানের তাবলীগ জামাত নিয়ে ভুল অনুবাদসহ একটি ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য সহকারে একটি লেখা ফেসবুকে ঘুরছে। এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে অনেকেই আমাকে নক করেছেন। আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে যথাসাধ্য জানার চেষ্টা করেছি এবং এখানে তা পত্রস্থ করছি।
মাওলানা সা’দ সাহেবের অনুসারীরা প্রচার করছে ইমা?রতে ইসলামিয়া তা?লিবান সরকার নাকি আ?ফগানিস্তানে সবাইকে নেজামু্দ্দীনের অধীনে কাজ করার অধ্যাদেশ জারি করেছে। তারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে আনন্দসহকারে এ খবর প্রচার করছে এবং শূরায়ী নেজামের অনুসারীদের হেদায়াতের জন্যে খুব দুআ করছে।
আসলে তা@লিবান সরকার আ@ফগানিস্তানে এমন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কি? সেখানে শূরায়ী নেজাম খতম করে সা’দ সাহেবের ইমারতে সবাই কাজ করার আদেশ করেছে কি?
উত্তর হল, না, উপরুক্ত মর্মে তা@লিবান সরকার এমন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। যা প্রচারিত হচ্ছে, তা অপপ্রচার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এতে সত্যের অংশ খুব সামান্যই।
প্রচারিত প্রজ্ঞাপন জারির নৈপথ্য কাহিনী :
মাওলানা সা’দ সাহেবের চিন্তাগত বিচ্যূতি ও কর্মগত স্বেচ্ছাচারিতাকে কেন্দ্র করে তাবলীগবিভক্তির ধারাবাহিকতায় আফগানিস্তানেও এ জামাআত বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মত ওখানেও শূরায়ী নেজামের অনুসারীদের সংখ্যা বেশি, প্রায় ৯০ভাগ। বেশিরভাগ রাজ্যে তাবলীগ শূরার অধীনে চলছে। হাঁ, জালালাবাদ, খোস্ত সহ দু’চারটি রাজ্যে মাওলানা সা’দ সাহেবের অনুসারীদের কিছু প্রভাব রয়েছে। জালালাবাদের একজন প্রভাবশালী তাবলীগী আমীর ছিলেন খান যামান। স্থানীয় রাজনীতিতে তার বেশ প্রভাব রয়েছে। এ খানের মৃত্যুর পর তারপুত্র কারী আগা যামানকে সেখানকার নেজামুদ্দীনের অনুসারীরা আমীর বানায়। কিন্তু অল্পবয়সী আগা যামানের নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ ছিলেন তাদের অনেকেই। তার ইমারতকে চ্যালেঞ্জ করে ইমারতে দাবী করে বসে ভাই রূহুল্লাহ। অর্থাৎ সা’দ সাহেবের অনুসারীদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে জালালাবাদ মারাত্মক দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। স্থানীয় গোত্রীয় রাজনীতিতে যা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং উভয়পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। অবশ্যই এ সংঘর্ষের পেছনে তা@লিবান ও তাবলীগের ঘোর শত্রু আ/ই/এসের ইন্ধন রয়েছে। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্যে আভ্যন্তরীন এ ঝগড়ায় ইনভলব হয়, যদিও তাবলীগের কোনো পক্ষের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তা@লিবান সরকার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথমে কঠিন হস্তে দমনের উদ্যোগ নেয়। এবং প্রত্যক্ষ সংঘর্ষে জড়িতদের অনেককেই গ্রেফতার করে। আমীরদাবিদার রুহুল্লাহসহ তখন অনেকেই জেলে যায় এবং আগা যামানসহ অনেকেই দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। জালালাবাদ মারকায সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসবই হলো গতবছরের সেপ্টেম্বরের ঘটনা।
দ্বিতীয়ত, তাবলীগের কাজের জন্যে তারা নিজ উদ্যোগে বিশ সদস্যের একটি শূরা কমিটি গঠন করে দেয়। যাতে তাবলীগের সব পক্ষের নেতৃস্থানীয়দের রাখা হয়। সা’দ সাহেবের অনুসারী যে দুজন নেতৃত্ব নিয়ে মারামারি করেছিল, তাদের কাউকে ইমারত না দিয়ে তালিবান নিজেদের প্রতিনিধি এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলিম ও মুবাল্লিগ শাইখুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মাদ কাসিমকে জালালাবাদের শূরাপ্রধান ঘোষণা করা হয়। এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে স্থানীয় শূরায়ী নেজামের সাথী ও সা’দ সাহেবের অনুসারী সকলকে এই শূরার অধীনে কাজ করতে বলা হয়। এটাই হলো ওই প্রজ্ঞাপন জারির হাকিকত ও নৈপথ্য কাহিনী।
মোটকথা এবং আরও কিছু কথা :
১। এ প্রজ্ঞাপন জারির কারণ জালালাবাদে সা’দ সাহেবের অনুসারীদের স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে অন্তর্দ্বনদ্ব ও মারামারি। এর সাথে শূরায়ী নেজামের কোনো সম্পর্ক নেই।
২। এ প্রজ্ঞাপন কেবলই জালালাবাদের জন্যে প্রযোজ্য, সারা আ@ফগানের জন্যে নয়। সারা দেশে আলামী শূরার সাথীসংখ্যাই বেশি এবং বেশিরভাগ মারকায শূরায়ী নেজামের অধীনে পরিচালিত।
৩। এর কারণ, আ@ফগানের তাবলীগ সরাসরি পা@কিস্তানের রাইবেণ্ড মারকাযের অধীনে। আ@ফগানিস্তানের তাবলীগ দেখভালের জন্যে রাইবেণ্ডে স্বতন্ত্র জামাআত রয়েছে। রাইবেন্ড মুরুব্বী মাওলানা নযরুর রহমান হাফি. আফগান তাবলীগের প্রধান ফয়সাল। উনার অনুপস্থিতিতে যথাক্রমে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশিদ হাফি., মাওলানা আহমাদ বাটলা হাফি. ফয়সাল হবেন।
৪। জালালাবাদের জন্য গঠিত এ শূরায় এককভাবে কারও অধীনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। নিজামুদ্দীনের অধিনে ছেড়ে দেওয়ার গুজব সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং ২০সদস্যের এ শূরায় সবপক্ষের লোক রয়েছে। সা’দগ্রুপের উভয়পক্ষ এবং শূরায়ী নেজামের সাথীদের নিয়ে এ শূরা গঠিত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, গত সপ্তাহে ২০ফেব্রুয়ারী তারিখে শবগুজারিতে বয়ান করেছেন রাইবেন্ডের মুকিম মাওলানা আবদুর রহীম সাহেব।।
এই শূরার মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী আলিম মাওলানা শরীফুল্লাহ ও মাওলানা মাদানী সাহেবও রয়েছেন। তারা ওখানকার শূরায়ী নেজামের পরিচিতমুখ। প্রচারিত ভিডিওতে ওই দুইজনের সাক্ষাতকার দিতে দেখা যায়।
৫। শূরার প্রধান শাইখুল হাদীস মাওলানা কাসেম সাহেব সম্পর্কে ওরা প্রচার করছে, তিনি নাকি এতাআতী এবং মাওলানা সা’দ সাহেবের হাতে বায়আত। আমি এর সত্যতা খুঁজে পাইনি। বরং তিনি রাইবেণ্ডের অধীনে সালওয়ালা আলিম এবং শূরায়ী নেজামের জিম্মাদার সাথী বলেই জেনেছি। তাঁকে বিশসদস্যের শূরার আমির হয়েছে। তিনি এতাআতী বলে তাকে শূরাপ্রধান করা হয়নি; বরং তিনি তালিবানদের মুখপাত্র সবপক্ষের মান্য ও শ্রদ্ধেয় আলিমে দীন।
৬। বাংলাদেশে এতাআতীরা প্রচারিত টিভিসংবাদের যে অনুবাদ করেছে, একজন পশতুভাষা বোদ্ধা আমাকে বলেছেন, ভিডিওবার্তার সাথে ওদের অনুবাদ ও ক্যাপশনের বহুলাংশের মিল নেই। অনেক কথাই মনগড়া।
অনুরূপভাবে জালালাবাদের স্থানীয় প্রশাসনের জারিকৃত পরিপত্রের যে অনুবাদ তারা প্রচার করছে, তাতেও অর্ধাঅর্ধি কথা বাড়ানো হয়েছে, তারপর তাদের মন্ত্রণালয়ের সাক্ষর যুক্ত করা হয়েছে। এভাবে তারা তাদের বানোয়াট কথাগুলিকেও তালিবানের ভাষ্যবলে প্রচার করছে, যা স্পষ্ট খেয়ানত। এই পরিপত্রকে সমস্ত আফগানিস্তানের বলা প্রচার করা তো আরও বড় মিথ্যা ও খেয়ানত।
মোটামোটি আমি আমার সামর্থ্যমতে যতটুকু জানতে পেরেছি, তা এখানে উল্লেখ করলাম। আমার উপস্থাপিত তথ্যের পক্ষে আমার কাছে অনেকগুলো অডিও রেকর্ড আছে। আমানত রক্ষার্থে তা পাবলিক করা গেল না। প্রকৃত সত্য আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
সা ই ফু দ্দি ন গা জী
২৬।০২।২৫
ইমামের দশটি অধিকার
এক.
যতযোগ্য ও বুজুর্গই হোক না কেন, ইমামের অনুমতি ছাড়া তার জায়গায় দাড়িয়ে কারো ইমামতি করার অধিকার নেই। ইমাম কাউকে অনুমতি দিলে ভিন্ন কথা।
দুই.
ইমাম না আসা পর্যন্ত বা ইমাম নামাজের জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত নামাজের জন্য মুসল্লিদের দাড়ানো নিষেধ।
তিন.
ইমামের অনুমতি ছাড়া ইকামত দেয়া নিষেধ। কারণ, মুয়াজ্জিন আজানের মালিক আর ইমাম ইকামতের মালিক।
চার.
ইমামের জায়গা সবার আগে। ইমামের আগে দাড়ালে নামাজ হয় না, চাই সে যত বড়ই ব্যক্তি হোক না কেন। হ্যা, মারা গেলে ইমামের সামনে যেতে পারে যেমন, জানাযা।
পাচ.
জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা বডিগার্ড হিসাবে ইমামের নিকটবর্তী দাড়াবে। যাতে ইমামের কোন অসুবিধা হলে, তারা সলব করতে পারে।
ছয়.
নামাজে সকল কাজে ইমামের অনুসরণ বা ইমামের পর করতে বলা হয়েছে এবং ইমামের আগে করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
সাত.
সালাতুল খওফে মুক্তাদি পরিবর্তন হয়, ইমাম নয়।
আট.
ইমামের আমল মুক্তাদিদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়। যেমন, কেরাত সুতরা ইত্যাদি।
নয়.
ইমাম সেজদায়ে সাহু করলে, মুক্তাদিদেরও করতে হয় তাদের ভুল হোক বা না হোক। পক্ষান্তরে মুক্তাদির ভুলের কারণে ইমামের কিছুই করতে হয় না।
দশ.
ইমামের নামাজ নষ্ট হলে, মুক্তাদিদেরও নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মুক্তদির নামাজ নষ্ট হলে ইমামের নামাজে কোন সমস্যাই হয় না।
তাই ইমামের কদর করুন, সর্বজায়গায় তাকে ইমামই রাখুন।
01/02/2025
আলমী শুরার টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় ওলামায়ে কেরামের সাথে দেখা করতে এসেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক জনাব হাসনাত আব্দুল্লাহ।
01/02/2025
আলমী শুরার টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় ১ম পর্বে লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে জুমার নামাজ.Tongi Estema2025
31/01/2025
বিবাহের সময় মেয়েকে লেখা খতিব উবায়দুল হক রহ. এর ঐতিহাসিক চিঠি
==================================
খতিব উবায়দুল হক রহ.- এর বড় মেয়ে রায়হানা হক সিলেটে তার দাদীর কাছে থাকতেন। যখন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো; তখন তিনি মেয়েকে উপদেশমূলক চিঠি লিখেন। সময়টা ছিলো ১৯৭৫ সাল। নিজের মেয়েকে আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে নভেম্বরের ১৬ তারিখে একটি পত্র লিখেছিলেন।
আলেম, লেখক ও সাংবাদিক এহসান সিরাজ এর সৌজন্যে পাঠকের জন্য চিঠিটির আংশিক তুলে ধরা হলো।
স্নেহের…!
রায়হানা
এক বছর থেকে তোমার স্কুল শিক্ষা বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তুমি লেখাপড়া ছেড়ে দিবে। বরং এখন আরো বেশি বেশি পড়া উচিত। লেখার চর্চাও করা দরকার। বিশেষভাবে দীনি কিতাবাদি এবং উর্দু বেহেশতী জেওর নিয়মিত পড়বে। দৈনিক দাদিজানের কাছে বসে বেহেশতী জেওর থেকে তিনি যতটুকু বলবেন ততটুকু পড়বে। তার কাছে জিজ্ঞেস করে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবে।
কিতাব ছাড়াও আরেকটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা অত্যাধিক জরুরী। তা অর্জন করতে না পারলে ডিগ্রি অর্জন করার কোনো মূল্য থাকে না। এ জিনিসটি হচ্ছে ‘ছালিক্বা’ তথা আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা ও নিপুণতা অর্জন এবং গৃহস্থ বিষয়ক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার শিক্ষা গ্রহণ। যে নারী এগুলো খেয়াল করে না, তাকে পদে পদে হোঁচট খেতে হয়। মানুষ তাকে ঘৃণা করে। পক্ষান্তরে যে মেয়ে এগুলো খেয়াল রাখে, লোকে তার তারিফ করে, সম্মান করে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে এগুলো অর্জন হয় না, নিজের বুদ্ধি-বিবেচনার মাধ্যমেই তা শিখতে হয়।
ছালিক্বা কাকে বলে? এর অর্থ কী? ছালিক্বা মানে—
১. প্রতিটি কাজ সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেয়া।
২. নিজ দায়িত্বে ঘরের প্রতিটি কাজ সম্পাদন করা। কারো জন্য বসে না থাকা।
৩. ঘরের ছোট বড় সবার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৪. ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
৫. ঘরের প্রতিটি বস্তু যথাস্থানে হেফাজতে রাখা।
৬. ছোট-বড় সবার মর্জি মোতাবেক খাবার পরিবেশন করা ও তাদের অন্যান্য চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা।
৭. সবার সাথে নম্র ব্যবহার করা।
৮. বড়দের সেবা ও সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা।
৯. ঘরে মেহমান আসলে তাদের সমাদর করা।
১০. ঘরে যা প্রয়োজন হতে পারে আগে থেকেই খেয়াল রাখা। এক সপ্তাহ পর কিসের প্রয়োজন হতে পারে, তা এখনই স্মরণ করিয়ে দেয়া।
১১. যে কাজে একবার দোষারোপ করা হয়, সে কাজে আবার যেন দোষারোপ করতে না হয়।
মোটকথা, ছলিক্বাসমৃদ্ধ মেয়ে সবসময় সুখে থাকবে। অন্যের সন্তুষ্টি পাবে। তার ঘর বেহেশতের নমুনা হবে। এসব বই পড়ে অর্জন করা যায় না। বুদ্ধি দিয়ে শিখতে হয়, আচার ব্যবহার থেকে শিখতে হয়। যার বয়বহার ভালো, তার কাছ থেকে শিক্ষা নিবে, যার ব্যবহার মন্দ, তার অনুসরণ করবে না।
আমার এ পত্রটি বুঝে শুনে দু’তিনবার পড়বে। যা বুঝে আসবে না, দাদী অথবা মাকে জিজ্ঞেস করে বুঝে নেবে। পত্রটি হেফাজত করে রাখবে। উপরোক্ত বিষয় সামনে রেখে নিজের মধ্যে কী কী ত্রুটি আছে, তা ভেবে দেখবে। নিয়মিত নামাজ পড়বে এবং কোরআন তেলাওয়াত করবে। এতে যেন ত্রুটি না হয়। এখানে সবাই ভালো আছে।
ইতি
উবায়দুল হক
১৬/১১/১৯৭৫
ওলামায়ে কেরামের নেগরানিতে আলমী শুরার মাতাহাতে মেলবোর্ন এজতেমা.২৪,২৫,২৬জানুয়ারি২০২৫.অস্ট্রেলিয়া
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka